লগইন রেজিস্ট্রেশন

রমজানের ফজিলত সম্পর্কে একটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হাদীস অথচ শুদ্ধ নয়

লিখেছেন: ' Abdullah shahid' @ বুধবার, অগাষ্ট ১৮, ২০১০ (৪:১৪ অপরাহ্ণ)

হাদীসটি হল:
. . . রমজানে কেহ একটি ফরজ আদায় করলে সে যেন সত্তরটি ফরজ আদায় করল। কেহ একটি নফল আদায় করলে সে যেন একটি ফরজ আদায় করল। রমজানের প্রথম দশ দিন রহমত। দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত ও তৃতীয় দশদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ . . .।
হাদীসটি সহীহ ইবনে খুযাইমা, বাইহাকী, কানযুল উম্মাল, আত তারগীব ইত্যাদি কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এ হাদীসটি আমাদের সমাজে রমজানের ফজিলত সম্পর্কিত হাদীসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রসিদ্ধ। অথচ এটা কোন সহিহ হাদীস নয়।
সনদ-সূত্রের দিক দিয়ে হাদীসটি শুদ্ধ নয়। আবার বক্তব্যের দিক দিয়েও হাদীসটি অশুদ্ধ।

প্রথমত: সনদের দিক দিয়ে হাদীসটি শুদ্ধ নয়, দু কারণে :
এক. হাদীসটি সবগুলো বর্ণনায় দেখা যায়, হাদীসটি সালমান ফারেসী রা. থেকে সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়াব বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়েবের সাথে সালমান ফারেসীর দেখা-সাক্ষাত যে হয়নি তা সকলের জানা।
দুই. হাদীসটির সকল বর্ণনায় দেখা যায় এর মধ্যে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নাম আলী বিন যায়েদ ইবনে জাদআন।
তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। যারা তাকে দুর্বল বলেছেন, তারা হলেন: হাফেজ ইবনে হাজার. ইবনে মুয়ীন, ইমাম আহমাদ, ইমাম নাসায়ী, ইবনে খুযাইমা, জুযযানী প্রমূখ। (দেখুন : সিয়ার আলাম আন নুবালা)
অপরদিকে অন্যান্য হাদীস বিশারদগণ হাদীসটিকে মুনকার (প্রত্যাখ্যাযোগ্য) বলে মত দিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন, আল্লামা আইনী, আবু হাতেম আর রাযী, শাযখ আলবানী রহ. প্রমুখ।
(দেখুন : উমদাতুল কারী ২০/৯) সিলসিলাতুল আহাদীস আল মাওদুআহ ওয়াদ দয়ীফাহ খন্ড ২, নং ২৬২)
আরো আশ্চর্য কথা হল, ইবনে খুযাইমা এ হাদীসটিকে তার সহীহ নামক কিতাবে উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন : ইন সাহহাল খবর (যদি হাদীসটি সহী হয়।)
কিন্তু পরবর্তী সংকলকগণ, ইন শব্দটা দেখেননি। ফলে তারা শুধু সাহহা শব্দটি উদৃত করেছেন। যার অর্থ হাদীসটি সহীহ। এ বিভ্রান্তির কারণে অনেকে মনে করেছেন, ইবনে খুযাইমা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আসলে তা নয়।

হাদীসটি বক্তব্যের বিষয়বস্তু থেকেও দুর্বল।
কারণ:
এক. এ হাদীসে রহমত-কে প্রথম দশকে, মাগফিরাত-কে দ্বিতীয় দশকে আর মুক্তিলাভ-কে তৃতীয় দশকে আবদ্ধ করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাত ব্যাপক-বিস্তৃত। এটা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তাই আল্লাহ তাআলার ব্যাপকবিস্তৃত বিষয়কে সংকীর্ণ করে ফেলার অধিকার আমাদের নেই। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, রমজানের প্রতিটি দিন রহমত, মাগফিরা, বরকত ও নাজাত দিয়ে সমৃদ্ধ।

দুই. তিরমিজী বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে :
রমজান মাসের প্রথম রজনীর যখন আগমন ঘটে তখন শয়তান ও অসৎ জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, এ মাসে একটি দরজাও খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এ মাসে তা আর বন্ধ করা হয় না। প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ঘোষণা দিতে থাকে যে, হে সৎকর্মের অনুসন্ধানকারী তুমি অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের অনুসন্ধানকারী তুমি থেমে যাও! এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।
এ হাদীসে আমরা দেখতে পেলাম, জাহান্নাম থেকে মুক্তি রমজানের প্রতি রাতেই ঘটে।
তাই এ মুক্তিকে শুধু শেষ দশকের সাথে খাছ করা ঠিক হবে না।

তিন. এ মাসে একটি ফরজ আদায় করলে সত্তরটি ফরজ আদায় করার সওয়াব পাওয়া যাবে আর একটি নফল আদায় করলে একটি ফরজ আদায়ের সওয়াব পাওয়া যাবে।
এ বক্তব্যটি সহীহ হাদীসের আলোকে সঠিক নয়।
নফল কখনো ফরজের সমতুল্য হতে পারে না। প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশতগুণ ও তারচেয়ে বেশী দেয়া হবে বলে সহীহ হাদীসে এসেছে। কিন্তু রোজার সওয়াব আল্লাহ তাআলা নিজেই দেবেন। যত ইচ্ছা তত দেবেন। এ বক্তব্য সহীহ হাদীসে কুদসী দ্বারা প্রমাণিত। তাই এটা নির্দিষ্ট করা ঠিক হতে পারে না।
আমাদের কর্তব্য হল: এ হাদীসটি প্রচার ও প্রসার না করা কর্তব্য। কেননা, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন : যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে ইচ্ছা করে মিথ্যা কথা বলে সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।
যদি আপনি হাদীসটির ব্যাপারে প্রক্যাত মুহাদ্দিসীনদের কথা না মেনে হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে মনে করেও থাকেন, তবুও সতর্কতার দাবী হল এটা প্রচার না করা।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক পথের দিশা দিন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩,৩১৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)