লগইন রেজিস্ট্রেশন

দারসুল হাদিস

লিখেছেন: ' আব্দুল্লাহ আল নোমান' @ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০০৯ (১২:০১ পূর্বাহ্ণ)

وعن عبدالله بن مسعود(رض)اي الاعمال احب الى الله وقال رسول الله الصلوة لوقتها ثم اي قال بر الوالدين قلت ثم اي قال الجهاد فى سبيل الله(متفق عليه)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ)হতে বর্ণিত তিনি বলেন আমি একাদা রাসূল (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করলাম যে,আল্লাহ তালার কাছে কোন আমল সবচেয়ে উত্তম?রাসূল (সাঃ) উত্তরে বল্লেন যথা সময়ে সালাত আদায় করা,আমি জানতে চাইলাম তারপর কি?তিনি বল্লেন পিতা মাতার সাথে সদাচরণ আমি আবারও জানতে চাইলাম তারপর কোন আমল আল্লাহর কাছে উত্তম?তিনি বল্লেন আল্লাহর পথে প্রানান্তকর প্রচেষ্টা করা। – - – (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

রাবির পরিচয়ঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের অন্যতম।তিনি আবিসিনিয়া ও পরে মদিনায় হিজরত করেন।তিনি মদিনায় মুয়াজ বিন জাবাল(রাঃ)এর সাথে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হন।রাসূল(সাঃ)এর সাথে তিনি অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।পরবর্তীতে তিনি কুফার ক্বাজী ছিলেন,এবং সে অঞ্চলে ইসলামী জ্ঞানের প্রাণ পুরূষ।তিনি ৮৪৮টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।ইমাম বুখারী মোট২১৫টি হাদিস সহীহ বুখারীতে সংকলণ করেছেন।তিনি উসমানের খেলাফতের সময়ে ৩৩ হিজরীতে ৯ই রমজান ইন্তেকাল করেন।তখন তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।হযরত উসমান (রাঃ) তার জানাজায় ইমামতি করেন।জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। হাদিসের বিশ্লেষণ ঃ আলোচ্য হাদিসে ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর প্রশ্নের উত্তরে রাসূল (সাঃ) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বলেছেন। তার ব্যাখ্যা নিন্মরুপ : الصلوة لوقتها সময়মতো সালাত আদায়করা।সালাত ইসলামের দ্বিতীয় রুকন,ইসলামের অন্যতম খুটি রাসূল (সাঃ) বলেছেন-الصلوة عمادالدين তাই ইমান গ্রহণের পরপরই সালাত ফরজ হয়।পবিত্র কুরআনে প্রায় অর্ধশত বার اقيمواالصلوة বলে সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়েছেন।যেখানে একবার বল্লেই বান্দার উপর আমল করা ফরজ হয় সেখানে প্রায় অর্ধশতবার اقيمواالصلوة বলায় সালাতের গুরুত্ব অন্যান্য যে কোন আমলের চেয়ে অনেক বেশী বলে প্রতিয়মান হয়। সালাত ফরজ হওয়ার বিষয় পরিষ্কার করে আল্লাহ তা’লা বলেছেন।ان الصلاة كانت على المؤمنين كتابا موقوتا নিশ্চয় সালাত নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সালাতকে মুমিনের উপর ফরজ করা হয়েছে।(সুরা নিসা১২০)সকল যুগের নবী-রাসূলের সময়ে সালাতের বিধান ছিল।মুমিনদের জান্নাতে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে বিনয়ের সাথে সালাত আদায় করা।قد افلح المؤمنون,الذين هم في صلاتهم جاشعون অবশ্যই মুমিনরা সফলকাম যারা বিনয়ের সাথে সালাত আদায় করে।(সুরা মুমিনুন১-২)

তবে সালাতের বিধান প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্র পরে কাজ, দেশের শাসনকর্তার দায়িত্ব হলো সামাজিক ভাবে সালাত প্রতিষ্টা করা।আল্লাহ তায়ালা সুরা হজের ৪১ নং আয়াতে বলেন।الذين ان مكناهم فى الارض اقاموا الصلاة واتوا الزكاة واموا بالمعروف ونهوا عن المنكر ولله عاقبة الامور আমি যাদের জমিনে রাজত্ব দান করি তাদের কাজ হলো,সালাত কায়েম করবে,জাকাতের বিধান চালু করবে,ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে এবং অন্যায়কে উৎখাত করবে। ইচ্ছাকৃতভাবে স্ব জ্ঞানে সালাত কাজা বা আদায় থেকে বিরত থাকলে আল্লাহর রাসূল তাকে কাফের হিসাবে সাব্যস্থ করেছেন।তিনি বলেছেন-من ترك الصلوة متعمدا فقد كفر যে ইচ্ছাকৃত সালাত ছেড়ে দিল সে যেন কুফুরী করল।অন্য হাদিসে আসছে যে সালাত ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেয় আল্লাহ তার সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক রাখবেন না। قال رسول(ص)لمعاذ لاتتركن صلوة مكتوبة متعمد فان من ترك صلوة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله عز وجل(رواه احمد) রাসূল (সাঃ) মুয়াজ (রাঃ)কে নসিহত করতে গিয়ে বলেছেন,সাবধান মুয়াজ!সেচ্ছায় কখনো ফরজ সালাত কাজা করবেনা।যে সেচ্ছায় ফরজ সালাত কাজা করবে সে আল্লাহ তা’লার জিম্মা থেকে বের হয়ে যাবে।মূল কথা হল সালাত মুমিনের জন্য আল্লাহর প থেকে ফরজ আর এই সালাতই কাফের আর মুমিনের মাঝে পার্থক্য তৈরী করে।

এছাড়াও পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারা ৩৫,২৩৮, আনকাবুত ৩৫,জুমা ১০ । দ্বিতীয় আমল হলো قال بر الوالدين পিতা মাতার সাথে সদাচরণ করা ঃ হযরত আদম (আঃ) ও হাওয়া(আঃ)এর পর যারাই পৃথিবীতে আগমন করেছেন, প্রত্যেককেই কোন না কোন মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়া মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছেন।পিতা মাতার মাধ্যম ছাড়া কোন সন্তান কল্পনা করা যায়না। সন্তান গর্ভে ধারণ লালন পালন করে বড় করে তোলা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যপার এটা ভুক্তভোগীরাই ভালো জানেন।সময়ের ব্যবধানে মাতা পিতা কর্মম দুর্বল হয় আর দুর্বল সন্তানরা সম আর সবল হয়,তাই সন্তানের অমতা আর দুর্বলতার সময়ে যেমন মাতা পিতা তাদের আদর øেহ ভালবাসা দিয়ে সন্তানদের সম করে তোলেছে, তেমনি মাতা পিতার কর্মম আর দুর্বলতার মূহুর্তে সন্তানরা এগিয়ে আসবে এটাই মাতা পিতার একান্ত কামনা তাই মহান আল্লাহ তা’লা মাতা পিতার প্রতি সদাচরণ করা ফরজ করেছেন।সুরা বনি ইসরাঈলে আল্লাহ বলেন وقضى ربك الا تعبدوا الا اياه وبالوالدين احسانا اما يبلغن عندك الكبر احدهما او كلاهما فلا نقل لهما اْف ولا تنهرهماوقل لهما قولا كريما(سورةالاسراء) আল্লাহর ফয়সালা হলো এই যে তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদাত করা যাবেনা,এবং মাতা পিতার সাথে উত্তম আচরণ করবে, তাদের কেউ বা উভয়ে বার্ধক্যে উপনিত হলে তাদের সাথে এমন আচরণ করবেনা যাতে তারা কষ্ট পেয়ে উফ্ শব্দটি উচ্চারণ করে।তাদের সাথে ধমকের সুরে কথা বলবেনা,বরংসম্মানের সাথে আদবের সাথে কথা বলবে।তাদের সামনে বিনয়ের পাখা মেলে ধরবে।

রাসুল(সাঃ)একাদা বল্লেন তার নাক ধুলায় মালিন হউক সাহাবীরা জানতে চাইলেন কার কথা বলছেন হে আল্লাহ রাসূল তিনি বল্লেন যে পিতা মাতাকে অথবা তাদের একজনকে পাইল অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলো না।হযরত মুয়াজকে ল করে রাসূল (সাঃ) বল্লেন ولا تعقن والديك وان امراك ان تخرج من اهلك وملك(رواه احمد) মুয়াজ!তোমার মাতা পিতার হৃদয়ে আঘাত লাগে এমন আচরণ তুমি করো না,যদিও তারা তোমাকে ঘর থেকে বের করে দেয় কিংবা সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে।সকল অবস্থায় মাতা পিতার অধিকারকে সম্মান দিতে হবে।কারণ সন্তানের জন্য তারাই হলো জান্নাত এবং জাহান্নাম রাসূল (সাঃ) বলেছেন – ابى اْمامة ان رجلا قال يا رسول الله ما احق الوالدين على وٌلدهما قال هما جنتك ونارك-(ابن ماجه) عن এক ব্যাক্তির প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ রাসূল(সাঃ) বলেছেন,তারাই তোমার জান্নাত আর জাহান্নাম, তাই জান্নাতের নিশ্চয়তার জন্য মাতা পিতার প্রতি যথাযথ যতœ নেয়া আবশ্যক।সন্তানের জন্য পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া হারাম হিসাবে ঘষোনা করেছেন আল্লাহর রাসূল(সাঃ)وقال رسول صلى الله عليه وسلم ان الله حرم عليكم عقوق الامهات তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া।তাদের নাজাতের জন্য তাদের কল্যান কামনায় আল্লাহর কাছে দুয়া করতে হবে।দুয়াও আল্লাহ শিখিয়ে দিয়েছেন رب ارحمهما كما ربينى صغيرا হে মাবুদ তুমি আমাদের পিতা মাতার প্রতি রহম কর যেমনি ভাবে তারা আমাদের শিশু অবস্থায় লালন পালন করেছেন। তবে পিতা মাতা যদি কুফর,শিরক ও তাগুতের পে ইসলামের বিপে অবস্থান নিতে বলে তবে তা মান্য করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন।وان جاهداك على ان نشرك بى ما ليس لك يه علم فلا تطعهما وصاحبهما فى الدنيا معروفا যদি পিতা মাতা শিরক করার জন্য চাপ দেয় তবে তা অনুসরণ করা যাবেনা।তারপরও তোমরা তাদের সাথে পৃথিবীর জীবনে উত্তম ব্যবহার করবে।(সুরা লোকমান ১৫) তৃতীয় আমল হলো قال الجهاد فى سبيل الله ঃ-জিহাদ করা বলতে আমাদের সামনে ভয়াবহ চিত্র উপস্থাপন করা হয় মিডিয়াতে একে জঙ্গীবাদ হিসাবে ব্যপক প্রচার করা হচ্ছে।মুসলমানদের শত্র“রাই কিছু অতিউৎসাহী,আবেগী লোকদের জিহাদের অপব্যাখ্যা করে তাদের হাতে অস্র,অর্থ দিয়ে সু কৌশলে জঙ্গী কার্যক্রম চালাচ্ছে^, এবং এই অযুহাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উপর নির্যাতন,মুসলিম দেশ মসূহ পদানত করে চলছে।তাই আমাদের জিহাদ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।জিহাদ অর্থ প্রান্তকর চেষ্টা করা,আর এই প্রচেষ্টা যখন দ্বীন প্রতিষ্টা ও দ্বীনের দাওয়াত সম্প্রসারনের জন্য হয় তখন তাকে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ বলা হয়।দ্বীন প্রতিষ্টার কাজ হত্যা কিংবা সন্ত্রাস দিয়ে নয় বরং দ্বীনের মহত্ব , মানুষের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে জনমতকে আল্লাহ দ্বীনের পথে নিয়ে আসার মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ স¤ভব।এটাই আল্লাহ ও রাসূলের সুন্নাত। আমাদেরকে আল্লাহ দ্বীনে হক দান করেছেন,যাতে নেই কোন সংকির্ণতা নেই কোন কষ্ট,ইসলাম যেমন একজন মুমিনের নিরাপত্তা দিতে পারে তেমনি অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিরাপদ জিবন ,স্বাধীন ভাবে ধর্ম কর্মের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে।সুতরাং জিহাদ হলো সকল প্রকার সংকির্ণতার উর্ধে উঠে ধর্ম,বর্ণ,জাতিভেদ না করে সকল মানূষের স্বার্থে ইসলামের সুমহান বিধান সমাজে রাষ্ট্রে প্রতিষ্টিত করার প্রান্তকর চেষ্টা করা।আল্লাহ সুরা হজের ৭৮নং আয়াতে বলেন-وجاهدوا فى الله حق جهاده هو اجتباكم وما جعل عليكم فى الدين من حرج তোমরা আল্লাহ পথে জিহাদ কর,জিহাদের হক আদায় কর,তোমাদেরকে বাছাই করা হয়েছে দ্বীনে হকের জন্য,যে দ্বীনের মাঝে নেই কোন সংকির্ণতা বা কোন কষ্ট।সুতরাং জিহাদ নাজাতের একটি পথ আল্লাহ তায়ালা সুরা সফের ১০-১২ আয়াতে বলেন- يايها الذين امنوا هل ادلكم على——ذلك الفوزالعظي আমি কি তোমাদের এমন একটি ব্যবসার কথা বলবোনা যা তোমাদের জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি দিবে,তা হলো তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আনবে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে জান ও মাল দিয়ে।আল্লাহ তার বান্দাদের জান্নাতে স্থান দিবেন তবে দুনিয়াতে জিহাদের মতো একটি পরীা নিবেন।এতে উর্ত্তিণ হয়ে জান্নাতে যেতে হবে।আল্লাহ সুরা আলে ইমরানের ১৪২আয়াতে বলেন-ام حسبتم ان تدجلوا الجنة ولما يعلم الله الذين جهدوا منكم ويعلم الصبرينতোমরা কি মনে করো এমনিতেই জান্নাতে যাবে অথচ আল্লাহ জেনে নিবেন না যে কে জিহাদ করতে প্রস্তোত আর কে ধৈর্যশীল।অন্য একটি হাদিসও শরীফে জিহাদকে সর্বোত্তম আমল হিসাবে বর্ননা করা হয়েছে- هن ابى ذر (رض)قال قلت يا رسول الله (ص)ائ الاعمال افضل قال الايمان بالله والجهاد فى سبيل الله(متفق عليه) হযরত আবু যর (রাঃ)হতে বর্ণিত তিনি বলে আমি রাসূল(সাঃ)কে প্রশ্ন করলাম হে আল্লাহর রাসূল(সাঃ)কোন আমল সর্বোত্তম তিনি বল্লেন আল্লাহর উপর ঈমান আনা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা। দারসের শিক্ষা: *সময়মতো সালাক কায়েম করা । *পিতামাতার সাথে সর্বদা উত্তম আচরণ করা। *দ্বীন প্রতিষ্টার কাজে নিয়োজিত রাখা।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪৬০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. ভাই একটু প্যারা প্যারা ভাগ করে লিখলে পড়তে সুবিধা হয়। ধন্যবাদ। (F)

    আবদুল্লাহ

    next bar theke dibo insha-allah (Y)