লগইন রেজিস্ট্রেশন

বিজ্ঞানে মুসলিম মনীষি এবং বিজ্ঞান ও কোরান ।

লিখেছেন: ' আল মাহমুদ' @ সোমবার, নভেম্বর ২৩, ২০০৯ (১২:২৩ পূর্বাহ্ণ)

http://www.peaceinislam.com/fuad/1662/ ফুয়াদ ভাইয়ের লেখাটি আসলে শিরোনামে একটু অন্যরকম লাগছিলো তাই আবারো এখানে দিলাম।
বিজ্ঞান বলতে আমরা আজ মনে করি এমরিকার নাসা, রাশিয়র নভোথিয়েটার, আর চীন জাপানরে ইলেক্ট্রিক্যাল উত্পাদন। অথচ এ সবই কিন্তু মুসলমানদের সৃষ্ট – বিজ্ঞানের মৌলিক তত্বথেকে গবেষনা করে নেয়া হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিশেষত এশিয়ার উন্নয়নশীল রাস্ট্রগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা আজ অনেকটাই যেন পাশ্চাত্যের সেই ক্যামব্রীজ আর অক্সফোর্ডের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। এমনকি আমাদের দৈনন্দিন ব্যাবহার্য্য ইলেকট্রিকল জিনিষ-পত্রের উত্পাদন-বিপনণ ও প্রচার প্রচারণা শিখতেও লন্ডন এমেরিকার ইঞ্জিনিয়ার, ইকোনোমিস্ট ও পন্ডিত ছাড়া সম্ভব নয় ভাবছি, ঠিক চিকিত্সা- আইন- এডমিনিস্ট্যাসন ও সকল গুরুত্বপূর্ন ক্ষেত্রেই আমরা আজ পাশ্চাত্য পড়ুয়াদের উপর নির্ভর করি। অথচ পাশ্চাত্য ধার নিয়েছিল আমাদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং শাস্ত্র । ধরা যাক বিজ্ঞানের মৌলিক উপাত্ব থিওরিকাল নিয়ম কানুনের দর্শন-বিজ্ঞান বা ফিলোসফির কথা যার মূল সূচনা ছিল খৃষ্টপূর্ব দুই হাজার বত্সর পূর্বে। (আনুমানিক এবং কাছাকাছি)
Philoshophy فلسفة এটা কোন নাস্তিকের উদ্ভাবিত শাস্ত্র নয়, প্লেটো যার আরবী নাম أفلطون আপ্লাতুন সে ইদরীস আ: এর সহীফায় বিশ্বস করতো, Aristotal ارسطاطاليس বা এরিস্টোটল ছিলেন রিতীমত তার প্রচারক, আর নব্যযূগের এই আধুনা বিজ্ঞান এখনো ৫০০-৭০০হি: শত্বাদীর উপসংহার, কম্পিউটার সাইন্স, চিকিত্সা, এস্ট্রেলজি, জিওলজিক, সব শাস্ত্র এখনো জাবের, কিন্দি, ইবনে সিনা, খলদুন এবং বত্তুত্বার কাছ থেকে নেয়া ধার করা জ্ঞান নিয়ে চলে, আর আধুনা বিগত তিন চার শতকে ইংলিশদের যেসব পন্ডিত গজাইছে এবং নিজে কিছু থিওরি রচণা করছে তা একেবারেই ভুল বলে তারাই আবার প্রমান করতে শুরু করছে, যেমন ডারউইন, আইন্সটন, অমুক সমুক। পক্ষান্তরে তাদের মৌলিক বিজ্ঞানের যেসব রেফারেন্স কখনোই তারা অস্বীকার করে না তার বেশীর ভাগই হল ৫০০-৭০০ হি: মুসলমানদের পন্ডিতদের রচিত।
মজার বিষয় হল ১১০০হি: থেকে পৃথীবিতে মুসলমানদের ব্যাপক পরাজয়, পদস্খলন এবং অনৈতিকতার ফলে ইংরেজ, গ্রীক এবং পাশ্চাত্যের এসব বিজ্ঞানী!রা প্রচার শুরু করলো যে আমরাই বিজ্ঞানের মহারাজা, এবং বৃটেনের সম্রাজ্যবাদী পায়তারা ইরেজী প্রতিষ্ঠিত হল একটি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে, আর আমাদের শিক্ষিত! সমাজ সেই ইংরেজী শিক্ষায় ধ্বর্ষিত হয়ে ভাবতে লাগল আজকের এই বিজ্ঞান কেবলই পাশ্চত্যের সৃষ্টি।
মজার বিষয় স্পেনে যখন মুসলমানরা ঘরে ঘরে লাইব্রেরী- মসজিদ মাদ্রাসা তৈরি করেছিল, মাদ্রিদ-গ্রানাডার মত ইতিহাস খ্যত উন্নত শহর প্রতিষ্ঠা করেছিল ঠিক এমেরিকায় তখনো মানুষ হারিকেন জ্বালাতো আর গুহায় বাস করতো, কাচা খাবার খেত, তারা কাঠ কেটে মশাল জ্বালাতো আর স্পেন তখন ছিল জ্ঞন বিজ্ঞানের মশাল, পার্থিব ও আখেরাতের সকল সফলতাই তাদের ছিল। এইসবই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবউজ্জল ইতিহাস যারা ছিলেন সিংহ পুরুষ আমরা তাদের উত্তরসূরি বটে! কিন্তু দীর্ঘদিন ছাগলদের সাথে বাস করতে করতে আমাদের বোধ-বুদ্ধির ঢেকুর শিক্ষিত! সমাজ আজ ভুলেই গেছেন যে তারা ছিলেন সিংহশাবক, তারাতো এখন রিতীমত আমাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন যে আমরা সিংহ নই, বরং ছাগল ছানা। আমাদের আধুনা শিক্ষিতরা আজ খারেজমী, জাবের আর ইবনে সিনার অবদার নিয়ে তুষ্ট নয় তারা ডারউইন, আইনেস্টনদের শিক্ষা নিয়েই গর্ব ও তর্ক করে, !!! ধিক !
প্রতিক্ষায় সেই সময়ের যখন দর্পনে তারা নিজের চেহারা দেখে বলবেন না আমরা ছাগলছানা নই সিংহ শাবক। আল্লাহ সবার দৃষ্টি খুলে দিন। আমীন
বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ” মুসলমানদের অধপতনে বিশ্ব কী হারালো” সায়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪৬৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ১.০০)

৭ টি মন্তব্য

  1. পিস ইন ইসলামের মেইল থেকে কপি পেস্ট করলাম ।

    ** Binomial Theorem এর আবিষ্কারক হিসেবে Newton কে বলা হলেও তারো ৭০০ বছর আগে ওমর খৈয়াম এটার প্রকৃত আবিষ্কারক ।
    ** জীব্রাল্টার প্রনালী এসেছে মুসলিম বিজ্ঞানী “জাবির-আল-তারিক” এর নাম থেকে,

    ** Theory of Formulation এর আবিষ্কারের জন্য প্রশংসা আল-বেরুনীর প্রাপ্য Newton এর নয় ।

    ** Computer Scientist -গন দিনের পর দিন যে Algorithm নিয়ে কাজ করে সেটা প্রথম আবিষ্কার করেন “আল-খারেজমী” যেটার উল্লেখ আমরা দেখতে পাই Donald Knuth এর The Art of Computer Programming বই এর প্রথম পৃষ্ঠায় ।

    ** তেমনিভাবে গ্যালিলিওর পরিবর্তে “হাসান” কে দুরবীনের উদ্ভাবক , উইলিয়াম হার্ভের পরিবর্তে ইবনে সিনাকে রক্ত সন্ব্চালক প্রক্রিয়ার উদ্ভাবক , Analytical Geometry , non-Eucledean Geometry, দোলনের সমকালিতা , Aljebra ইত্যাদি সবকিছু আজ ইতিহাসের নীচে চাপা পরে আছে যেগুলো মুসলিম Scientist এর কীর্তিগাথায় মুখরিত ।

  2. এইসবই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবউজ্জল ইতিহাস যারা ছিলেন সিংহ পুরুষ আমরা তাদের উত্তরসূরি বটে! কিন্তু দীর্ঘদিন ছাগলদের সাথে বাস করতে করতে আমাদের বোধ-বুদ্ধির ঢেকুর শিক্ষিত! সমাজ আজ ভুলেই গেছেন যে তারা ছিলেন সিংহশাবক, তারাতো এখন রিতীমত আমাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন যে আমরা সিংহ নই, বরং ছাগল ছানা। আমাদের আধুনা শিক্ষিতরা আজ খারেজমী, জাবের আর ইবনে সিনার অবদার নিয়ে তুষ্ট নয় তারা ডারউইন, আইনেস্টনদের শিক্ষা নিয়েই গর্ব ও তর্ক করে, !!! ধিক !

    সহমত। (Y) (F)

  3. @বাংলা মৌলভী,
    ধন্যবাদ ।

    প্লেটো যার আরবী নাম أفلطون আপ্লাতুন সে ইদরীস আ: এর সহীফায় বিশ্বস করতো, Aristotal ارسطاطاليس বা এরিস্টোটল ছিলেন রিতীমত তার প্রচারক

    এটার রেফারন্স দিলে আমার জন্য ভাল হত আমি এ ব্যপারটা নিয়ে চিন্তা করতেছি । আর ইবনে সিনা কে কি আপনি মসুলমান মনে করেন ? অথবা জাবির ইবনে হাইয়ান যে শিয়া ছিলেন তাকে কি আপনি মসুওলমান মনে করেন ? কারন কেঊ কেঊ শিয়াদের কে কাফির অথবা মুরতাদ বলে ।

    হাফিজ

    @fuad,
    ভাই ফুয়াদ , এখানে আমার একটি কথা আছে । ইমাম আবু হানিফা (রহ:) বক্তব্য হলো কেউ যদি কোনো আকিদা পোষন করে তাহলে তার ব্যাখ্যা নিতে হবে (মুল ভাবটা বললাম ) । ইবনে সিনা (রহ:) এর কিছু আকীদা ওবজেকশন থাকলেও ইন জেনারেল তাকে সবাই মুসলমান হিসেবেই মনে করে।
    আর শিয়াদের মধ্যে অনেক গ্রুপ আছে । একমাত্র প্রকৃত “ইশনে আশারিয়া” কেই আলেমরা কুফরী আকিদার মনে করে , বাকীদের সাধারনভাবে মুসলমানই মনে করা হয়।

    সেইজন্য আমরা যদি শুনি একজন “শিয়া” যেমন আপনি বলেছেন “জাবির” এর ক্ষেত্রে এর উপর ভিত্তি করে “কাফের” বলাটা ঠিক হবে না ।

    fuad

    @হাফিজ,
    ধন্যবাদ , কিন্তু আমাদের অনেক আলেম তো ইবনে সিনা কে কাফির বলে । আমাকে নিয়ে সমস্যা নাই । আমি কিছু মনে করি না । আমি কিছু বলিও না । তবে ইবনে সিনা জীবনের শেষ তিন দিন শুধু কোরান পাঠ আর শুনে কেটে ছে । তাই আমি তাকে মসুলমান মনে করি । তবে তার কোন কোন লেখা যদি সত্যি ই তার আকিদা হয় তাহলে তাকে কাফির বলতেই হবে । তাওকায়াল তুল ফালাসয়াফি তে ইমাম গাজ্জালি উনার বিরুদ্ধে আর ইবনে তাই মিয়াও ঊনার বিরুদ্ধে ।

    হাফিজ

    @fuad,
    ব্রাদার ধন্যবাদ , আমাদের কিছু আলেম আছে কাউকে কাফের বলার জন্য সবসময় রেডি হয়ে থাকে :) সেটা আলাদা ।

    আর আগেকার আলেমরা যেটা করতেন , কারো যদি কুফরী আকিদা থাকত ওনারা সাধারনত বলত “আকিদাটা কুফরী” , কিন্তু সাধারনত তারা তাকে কাফের বলতেন না ।

    তাওকায়াল তুল ফালাসয়াফি তে ইমাম গাজ্জালি উনার বিরুদ্ধে আর ইবনে তাই মিয়াও ঊনার বিরুদ্ধে ।

    তুহফাতুল ফালাসিফাতে ইমাম গাজ্জালী (রহ:) ইবনে সিনা সম্বন্ধে ঠিকই বলেছেন, তবে ব্যাপারটা হলো ওগুলো দর্শনের জটিল বিষয় । সেটা ইমাম গাজ্জালি (রহ:) পারেন , যেহেতু ওনার কাছে এগুলো পানি ছিল।
    আর আমিও জানি ইবনে সিনার কিছু আকিদাগত সমস্যা ছিল । তবে কাফের বলার মতো কিছু না ।

    তবে ইবনে সিনা জীবনের শেষ তিন দিন শুধু কোরান পাঠ আর শুনে কেটে ছে ।
    উনি কোরানে হাফেজ ছিলেন ।