লগইন রেজিস্ট্রেশন

অন্তর্দ্বন্দে জর্জরিত মুসলিম উম্মাহ ও ঐক্যের সোপান।

লিখেছেন: ' আল মাহমুদ' @ শুক্রবার, মে ২৮, ২০১০ (৬:২২ অপরাহ্ণ)

ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম যার মৌলিক দাবী আল্লাহ এক- তার কোন শরীক নেই; এক ক্বাবাঘর সকল মুসলিমের কেবলা, এক নবীর উম্মত আমরা সবাই , এগুলোতে কোন মুসলিমের বিতর্ক থাকতেই পারে না, কিংবা থাকলে সে নামধারী মুসলিম হতে পারে, কিন্তু জগতের কোন মুসলিম তাকে মুসলিম বলে স্বীকার করে নিবে না। কিন্তু একতা নেই মুসলিমদের কাজ কর্ম ও খুটিনাটি হাজারো বিষয় নিয়ে, আর এই এখতেলাফ আর বিরোধের সূত্রধরে বিধোরীরা আজকে ইসলামকে অযৌক্তিক ও উদ্ভট প্রমান করতে চায়। আমাদের রাজনৈতিক আর প্রথাগত বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধের কথা বাদ দিয়ে আক্বীদা ও বিশ্বাসের কথায় ই আসি, এখানে বিরোধগুলো আমাদেরকে বহুভাগে বিভক্ত করে রেখেছে , একদল আরেকদলকে এসবের ভিত্তিতে কখনো ইসলামের বাইরেই মনে করেন। আবার কখনো বহুপূর্বের বিশ্বাসের জের ধরে সে বিশ্বাসে বিশ্বাসী কারো বংশগত উত্তরসূরীকেও গালমন্দ করেন, অথচ যাচাই বাছাই ই করেন না যে র্পূবসূরীদের বিশ্বাস পরর্বতিরা পোষণ করেন কিনা।
আমাদের বিশ্বাসের মৌলিক অবস্থান যখন পরিষ্কার হয়ে যাবে তারপর আমাদের উচিত হবে যতটুকো সম্ভব একতাবদ্ধভাবে কাজ করা, পৃথীবিতে আজকে মুসলিমদের সংখ্যা মুর্হমূর্হ বৃদ্ধিপাচ্ছে, এটা কেবল আমাদের দাওয়াত বা পয়গামের ফসল তা নয়, বরং অন্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মে সন্তুষ্ট না হতে পেরে, পরিপুর্ণ জীবন-ব্যাবস্থার দিশা না পেয়ে যখন ভিন্ন ধর্ম বিশেষত ইসলাম নিয়ে গবেষনা করতে যায় তখান আল্লাহর কালামের সামাঞ্জস্যতা, পূর্ণতা, ব্যাপকতা, বিশুদ্ধতা, বাস্তবতা অবলোকন করেই ইসলামে আকৃষ্ট হয়। এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এভাবে হেদায়াত দিবেন সত্য পথের।
কিন্তু আমরা মুসলিমরা আমাদের দায়বদ্ধাতা থেকে কি মুক্ত? আজকে ফেসবুকে একটা টপিক এ্যাড করেছি, ” এক ফাদারের সাথেএক দায়ীর দেখা হলো বিমানে, দায়ি প্রশ্ন করলেন : আপনি কোথায় ফিরছেন এবং কতদিন পর ফিরচছন? ফাদার উত্তর করল: আমি ১৪ বছর আফ্রিকায় খৃস্টর্ধম প্রচার কলাম তারপ এখন দেখে ফিরবো- দ্বায়ী আবাক হলেন, এবং ভাবলেন এই ব্যাটা তার মিথ্যা র্ধমের জন্য যে প্ররিশ্রম কর, আমরা মুসলিমরা সত্য্ধম জেনেও ইসলামের জন্য তা করি না। যখন দেখলাম কিতাবুল মাকদাস ও আহুত মাসিহ (দাজ্জালের) রাস্ট্র কায়েম করতে মধ্যপ্রাচ্যে খোদ ইসলামের জন্মভূমে “খোদা! মাসিহ বা দাজ্জালের রাস্ট্র” কায়েমের সম্মিলিত দাওয়াত শুরু করেছে ইহুদী ও খৃষ্টানরা।
কেউ যদি খৃস্টানিটি নিয়ে সমসাময়িক দর্ষনগুলো স্টাডি করেন দেখবেন “মাসিহ”বা খোদা শব্দের ব্যাখায় আজকের সকল ইহুদী ও খৃস্টান একটি কথাই প্রচার করছে যে, তিনি হলেন আল্লাহ বা খোদাপূত্র বা ইহুদীদের ভাষায় খোদার অবয়ব যিনি আবারো পৃথীবিতে অবতরণ করবেন এবং তার রাজ্য কায়েম করবেন, সকল অবিশ্বাসী “দাজ্জাল” বিরোধীদের তিনি খতম করবেন!। অথচ এই এককীকরণ ইহুদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে ছিলনা যা আজকে আমরা দেখছি। ঈসা আলাহিস সালাম এর জন্মের সময় ইহুদীদরা তা মেনে নিতে পারে নি, কারণ বিকৃত তাউরীতের বাতুলতা প্রমান করতে এবং কোরানের আগামবার্তা ও সুসংবাদ বহন করতে তিনি পৃথীবিতে এসছিলেন। তাই তাকে জারজ সন্তান আখ্যা দিয়েছিল এহুদরা, রোমান বাদশাহকে লবিং করে ঈসা আল: কে হত্যা করতে প্ররোচিত করেছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তা অন্যদিকে মোড় নেয়।
এতেও থেমে থাকেনি এহুদীরা, তারা ঈসা আলাইহেস্সালামের দাওয়াতকে বিকৃত করতে খৃস্টানদের পিছনে কাজ করতে শুরু করে, এবং খৃস্টবাদকে বিভিন্ন ধারায় আক্রমন করে, এরই ফলসৃতিতে আজের খৃস্টানরা বহুধরায় বিভক্ত, কিন্তু আপনি আশ্চার্য হবেন ইহুদী ও খৃস্টানদের “মাসিহ” শব্দের ব্যাখা ও সেই মাসিহের নামে যৌথ টিভি,রেডিও ও প্রার্থনার মন্দির দেখে! হ্যা তাই এবং এর চেম্বার হিসবে তারা তেলাবিব ও সাহইউনকে ব্যবহার করে, আপনারা নিশ্চয় দেখছেন পর্থীবির সকল ক্যাথলিক, ব্যপাটপিস্ট, আরো কত কতো দল, ভিন্ন ভিন্ন চার্চ ও ভিন্ন ভিন্ন রাস্ট্র ও দর্শন কিন্দু সবাই ইসলায়েলের খেদমতে একতাবদ্ধ। সকল বিশপরা এখন মাসিহের ব্যাখায় জেরুজালেমের কথিত আহুত ব্যক্তিকেই ব্যাখা করে। তাহলে এ ব্যক্তি যে আমাদের সুন্নাহে বর্নিত দাজ্জাল তাতে আমাদের কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়।

কিন্তু আমরা আছি হাজারো ফুরুয়াত শাখা প্রশাখার বিরোধ আর ব্যাখা নিয়ে, নজলুলের রচনার বিবি তালাকের মাসলাতো আচেই যোগ হয়েছে, তাকলীদ , তাহনীফ ও তাসলীফ সহ আরো কত কী? আমরা কি পারিনা ইউসুফ আলাইহেস সালামের মত ক্ষমার ও মার্জনার কথাটি সকল কালেমায়ে তাউহীদের ভাইদের বলতে ” لا تثريب عليكم اليوم ” আজ প্রতিশোধের সময় নয় , আমাদের অন্তর্দন্দের সমযও নয় সময় হলো একহবার । আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করুন” এ কথায় সাড়া দিতে !
থাকুক না কেউ রাফেদানী করে, কেউ করে না , কেউ কচ্ছপ খায় কেউ খায় না; এমনকি কুফুরী আকবঈদা পোষণ করে এমন গ্রুপগুলোকেও বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের এক করা প্রয়োজন যখন অস্তিত্বের লড়াই য়ে আমাদের নামতে হচ্ছে । ফাসেক মুসলমানকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিন দেখুন : من صلى صلاتنا، واستقبل قبلتنا وأكل ذبيحتنا، فذلك المسلم الذي له ذمة الله وذمة رسوله، فلا تُخفروا الله في ذمته) صحيح البخاري (1/153) رقم (384).”যে আমাদের মত নামাজ পড়ে, আমাদের কেবলাকে কেবলা মানে, আমাদের যবেহ করা জানোয়ার ভক্ষণ করে, সে মুসলিম, আল্লাহ ও তার রসূরের জিম্মায় , তার ব্যাপারে আল্লাহর জিম্মাকে তোমাদের হাতে নিও না” বোখারী ।
“মুসলিমের হাত থেকে মুসলিমের রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত হওয়া চাই যদিও সে ফাসেক বা গোমরাহ এবং এর বিচার আল্লাহ করবেন। حسبنا الله و نعم الوكيل نعم المولي و نعم النصيرلأ

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৯৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. আমি মুসলিম, ইট’স ওকে? আর কিছু কি দরকার আছে? কেন এতো মত, পথ, ঘৃণাপ্রকাশ? মূল ফরজগুলোতে তো মোটামুটি সবাই একমত, এর উপর ভিত্তি করে কি আমরা এগোতে পারি না?

    আমি আমার এখানেও দেখেছি খ্রিস্টানরা কি পরিমাণ দাওয়াহ্‌র কাজ করে, প্রায়ই আমাদের বিভিন্ন লিফলেট, ই-মেইল, এই সেই কতকিছু দেয়, বিভিন্ন রকম প্রোগ্রামেরও আয়োজন করে, নানারকম সহায়তা দেয়। অনেক সাবধানে থাকা লাগে এদেরকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য। অবশ্য সামনে পড়ে গেলেই নিজে যে মুসলিম এবং আমরা কোরআন পড়ি এ কথা খুব দ্রুত জানিয়ে দেই, কিন্তু আমাদের কাছে কোন লিফলেট বা প্রচারপত্র থাকে না যে পাল্টা তাদেরকেও সেটা পড়তে দিব। ই-মেইল কনভার্সেশন একরকম এড়িয়েই চলি, অথচ চাইলে ই-মেইলেই তাদেরকে অনেক ইসলামের দাওয়াত দেয়া যেত। আসলেই আমরা অলস! আর এসব খ্রিস্টান প্রচারণায় আমেরিকা প্রচুর টাকা খরচ করে।

  2. আল্লাহ আমাদের আত্মপলব্ধির মত জ্ঞান দান করুন।