লগইন রেজিস্ট্রেশন

আল কোরানের আলোক বর্তিকা (৬) মুজেযা ও কোরান ।

লিখেছেন: ' আল মাহমুদ' @ সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১০ (১২:৪০ পূর্বাহ্ণ)

পূর্ব কলাম

  • স্বভাব বিরুদ্ধ বিষয়াবলীর প্রকারভেদ :
    এখানে বলে রাখা ভাল যে, ইসলামী স্কলারগন বিশেষত ইমার রাজী সহ অন্যান ফালাসাফী ইমামগন unnecessary Irregular স্বভাব বিরুদ্ধ বিষয়াবলীকে দুই ভাগে ও ৭টি শ্রেনীতে ভাগ করেছেন, যথা :
    (ক) এ প্রকারগুলো মুসলিমদের জন্য:
    ১। ‘ইরহাস’ বা নবীদের জন্মের আগে পৃথীবিতে যে অস্বাভাবিক বিষয় প্রকিতির নিয়ম বহির্ভূত বিষয় ঘটে যেত, যেমন নবী স: এর জন্মের আগে কিসরা কায়সার ও রোম দরবারের ভুকম্পন, ( অথচ অন্য কোন দালানের ক্ষতি সাধন হয়নি যা কেবল রাজপ্রসাদগুলোর হয়েছিল)
    ২। মুজেযা ( নবীদের জন্য ) যার দীর্ঘ বর্ণনা পরবর্তিতে আসবে।
    ৩। ‘কারামাত’ যা মুসলিম পরহেজগার ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর পক্ষথেকে প্রাকৃতিক স্বভাব বহির্ভূত সহযোগীতা মুলক ঘটনা।
    ৪। চোখ লাগা বা অপরের হিংসা বিদ্বেষের কারণে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোন মুসলিমের শারীরিক বা পারিপার্শ্বিক ক্ষতি সাধন হওয়া যাকে আরবীতে ” নযর ” বা উয়ুন বলে ।
    (খ) এ প্রকারগুলো অমুসলিমদের জন্য :
    ৫। ‘ইহানাহ’ লাঞ্চনা করন, যা ভন্ডনবীদের জন্য। যেমন মুসাইলামাতুল কাজ্জাব কোন এক চোখে আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তিকে চোখে হাত বুলিয়ে দিলে তার উভয় চোখই নষ্ট হয়ে যায়, পক্ষান্তরে রসূল স: কোন এক সাহবার পেকে যাওয়া চুলে হাত বুলিয়ে দিলে তা আর ঐ সাহাবীর জীবদ্দশায় সাদা হয় নি। মোট কথা, অমুসলিম ভন্ড নবী দাবীদারদের এমন স্বভাব বিরুদ্ধ অপমান জনক বিষয়কে ইহানাহ বলে।
    ৬। সেহর বা যাদু । যা মানুষ করে থাকে, যাদুর বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে, ইমাম রাযী রহ: তার কিতাবুস সিররীল মাকতুম এ যাদুর প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মোট কথা যাদুর প্রভাবও মানুষের উপর স্বভাব বিরুদ্ধ ভাবেই কাজ করে এবং এই প্রকার স্বভাব বিরুদ্ধ বিষয়টি কাফেররা প্রয়োগ করে থাকে । যেমন রসূল স: এর উপরো ইহুদীরা তা প্রয়োগ করেছিল।
    ৭। কাহানা বা টোনা। শয়তান ও আশররী প্রানীর অনিষ্ট। যা কিনা জ্বীন-ভুতের সহায়তায় মানুষ করে থাকে।
    ———
    ইতিপূর্বে যেমনটি বর্ণণা করেছি যে, ব্যাপকভাবে সকল মুজেযাগুরো দুভাগে বিভক্ত:
    ১। حسي বা সেনসুয়াল ।
    ২। عقلي psychical বা সাইক ।
    প্রথমটি ইন্দ্রিয় শক্তির দিক থেকে অনুভুত হয় দ্বিতীয়টি বুদ্ধি ও বিবেকের দিক থেকে স্বীকৃত হয়।
    ” স্পর্ষণীয় ইন্দ্রিয়ভাবে বোধগম্য মুজেযার উদহারন হলো সালেহ আলাইহেস সালাম এর উষ্ঠ্রী, মুসা (আ:) এর লাঠি, ঈসা মাসীহ (আ:) এর মানুষকে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করণ ইত্যাদি। এ জাতীয় মুজেযাকে ‘হিস্সী’ sensual miracle বা ইন্দ্রীয়ভাবে অনুভুত মুজেযা নাম করনের কারণ হলো এগুলো মানুষের দৃষ্টি ও ষ্পর্ষের আওতায় ছিল।
    আর বুদ্ধি-বিবেকগত দিক থেকে যে সকল মুজেযা হয়ে থাকে তা কোরান অবতরণের পর থেকে কোরান সংশ্লিষ্ট মুজেযা সমূহ যা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের সামনে প্রকাশ পেতে থাকবে এবং মানুষ কোরান ও সেই ঘটনাগুলোর সূত্র খুজেঁপাবে। আর এই সংশ্লিষ্টতা বোধগোম্য বিষয় বলে এ জাতীয় মুজেযাকে “আকলী” psychical বা সাইকোলজিক্যল মিরাকল বলা চলে। ”

    লুয়াই গাজী আত্বীবি এভাবেই বলেছেন:

    فالمعجزات الحسيّة هي كلّ ما أوتيه الأنبياء من آيات قبل نزول القرآن كناقة صالح ، وعصا موسى ، وإحياء الموتى بإذن الله على يدي عيسى عليهم الصلاة والسلام . وسُميّت هذه المعجزات بالحسّية لأنّها انقرضت بانقراض الأجيال المعاصرة لهؤلاء الأنبياء ، فلم يشاهدها بالأبصار إلا مَن حضرها . وأمّا المعجزة العقلية فهي متمثّلة بالقرآن الكريم لأنّها مستمرّة إلى قيام الساعة ، فلا يمرّ عصر من العصور إلا ويظهر فيه شيء يدلّ على صحّة دعواه ، فيبقى معجزة مشاهَدة بعين العقل لكلّ عصر ولكلّ جيل

    - এখানে প্রশ্ন হতে পারে:
    এ ধরনের মা‌কুল বা সাইকলোজিকল তথ্য উপাত্ত যা পরবর্তিতে কোন সময়ে ন্যাচার বা প্রকৃতিতে, কিংবা বিশেষ কোন সময় বা যূগে বা স্থানে পূর্ববৎ কালাম বা ঐশ্বী টেক্সটের সাথে মিলে যায় তা তো কেবল কোরানের জন্য সীমাবদ্ধ নয় বরং বিভিন্ন আসমানী কিতাবের মাঝেই এসব আছে তাহলে কোরানকে কেন আলাদা করে বোধগম্য আলৌকিত্বের ভূষণে দেখা হবে?
    এই প্রশ্নের জবাবে উল্লেখিত লেখক লুয়াই গাজী আত্বীবি বলছেন:
    فنقول : أما الجواب عن السؤال الأول ، فمن عدّة وجوه ، ويكمن أهمّها في الفرق بين المعجزة والرسالة . فقد بعث الله الرسل لهداية أجيال محدّدة ، في أزمان محدّدة ، وفي أماكن محدّدة ، وأيّدهم برسالات لتكون هي منهج الحياة والتشريع ، ثمّ أيّدهم في الوقت نفسه بالمعجزات لتكون دليلاً على صدق دعواتهم . فمعجزات موسى وعيسى عليهما السلام شيء ، ومنهجهما المتمثّل بالتوراة والإنجيل شيء آخر . أمّا خاتم الأنبياء والرسل نبيّنا محمد صلى الله عليه وسلم ، فقد بعثه الله تعالى هدًى ورحمة للعالمين مؤيَّداً بالقرآن العظيم ، ليكون المنهج القويم والتشريع الخالد لأمم العالم أجمعين ، وليكون في الوقت نفسه المعجزة الخالدة إلى يوم الدين ، فهو إذن معجزة ومنهج في آن واحد

    ” আমরা কয়েকভাবে এ প্রশ্নটির উত্তর দিচ্ছি:
    এক: এখানে রিসালাত ও মুজেযার পার্থক্য লক্ষনীয়, রিসালত হলো রিসালত যা বিভিন্ন যূগে আল্লাহ বিভিন্ন নবী রসূলগনের জন্য প্রেরণ করেছেন (মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ব্যাতিত) সে সকল রিসালাতের সময় কাল ও ভৌগলিক অবস্থান নির্দিষ্ট ছিল, অর্থাত কোন নবী কোন দেশের জন্য তার হায়াতের জন্যই সীমাবদ্ধা ছিলেন, কোন নবী কেবল গোত্র ও নির্দিষ্ট জাতির জন্য এবং তাদের মুজেযাগুলো স্বচক্ষে তার জাতির ঐসব লোকেরাই দেখেছে পূর্ব-পর কোন জাতি তা স্বচক্ষে দেখে নি যদিও তার সম্বন্ধে হয়তো লোকমুখে বিক্ষিপ্ত বর্ণনা শুনে থাকতে পারে কিংবা পরবর্তি কোন কিতাবে তা জানিয়ে দেয়া হতে পারে। সুতারং মুসা আ: এর মুজেযা (লাঠি – নীলনদের ঘটনা ইত্যাদি ) এক বিষয় আর তার প্রতি অবতীর্ণ শরিয়ত ও তাউরীত কিতাবটি অন্য বিষয়, দুটি এক বিষয় নয়।
    কিন্তু মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর রেসালাত বা তার প্রতি অবতীর্ণ পয়গাম কেবল তার দেশ কিংবা তার জীবদ্দশার সময়সীমা পর্যন্ত নির্দিষ্ট নয় যেমনটি অন্য নবী রসূলদের ছিল, তাই নবী স: এর এমন কিছু মুজেযাও থাকা বাঞ্ছনীয় যা পরবর্তি যূগের লোকেরাও মুজেযা বা মীরাকল হিসেবে অনুধাবন করতে পারে ।
    ( যদিও রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের জীবনেও পর্যাপ্ত সেনসুয়াল মুজেযাও প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু তা কেবল সে যুগের এবং প্রকাশস্থলের লোকেরাই দেখতে পেয়েছে)

    - দ্বিতীয় প্রশ্নটি আরেকটি প্রশ্ন আসে :
    কোরান মীরাকল তবে তা সাহিত্যগত দিক থেকে কিন্তু প্রযুক্তিগত বিজ্ঞানের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা নেই যেমনটি একদল আলেম দাবী করে থাকেন। যদিও সকল ইসলামী স্কলারগন এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করেন যে আল কোরান সাহিত্যগত দিকথেকে চিরঞ্জীব মুজেযা হয়ে থাকবে ।
    আরো দেখুন : Miracles of Quran
    مدخل إلى الإعجاز في القرآن الكريم
    أنواع الخوارق الرحمانية، والشيطانية ” غاية
    فتاوى العلماء في ( حكم ) الإعجاز العلمي في القرآن

    Processing your request, Please wait....
    • Print this article!
    • Digg
    • Sphinn
    • del.icio.us
    • Facebook
    • Mixx
    • Google Bookmarks
    • LinkaGoGo
    • MSN Reporter
    • Twitter
    ১৪০ বার পঠিত
    1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

    ১ টি মন্তব্য

    1. [...] । ” (لال الدين السيوطي ، الإتقان في علوم القرآن ) (পরবর্তি কলাম পড়তে ক্লিক করুন) ! রিপোর্ট করুন ! Processing your request, Please [...]