লগইন রেজিস্ট্রেশন

অনুকরণে শীর্ষে যারা: হযরত আবু বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহ ও আরদ্বহ ।

লিখেছেন: ' আল মাহমুদ' @ শুক্রবার, জানুয়ারি ২১, ২০১১ (১২:৪৭ অপরাহ্ণ)

হযরত আবু বকর (রযি:)এর মানবিকগুনাবলি ও ইসলামের চরম মুহুর্তে তার অবদান:

নিসন্দেহে বড়-বড় নবী -রসূলদের জন্য কিছু হাওয়ারী বা সতীর্থ ছিল যারা নবীদের দীক্ষাকে অনুকরণ করে নিজেরাও হয়েছিলেন অনুকরনীয়। মহান আল্লহ তা’‌লা সাহাবাদের অনুকরণের প্রসংঙ্গে বলেন ” হে ঈমানদার গন তোমরা ইমান আনয়ন করো আল্লাহর প্রতি, তার রসূলের প্রতি..” ঈমান ও ইসলামের সঠিক মাপকাঠি হলেন সাহাবাগন। কারণ ইসলাম প্রবর্তন ও পালনের প্রথম ধাপ শুরু হয় এই মহান গোষ্ঠীর অনুকরনের মাধ্যমে। “যখন তাদের বলা হয়, তোমরা ঈমান আনয়ন করো যেভাবে লোকেরা ঈমান এনেছে” আয়াতের লোকদের ব্যাখায় সকল মুফাস্সীরিনগন সাহাবাগনের কথাই বলে থাকেন।

এ পর্বে এই সাহাবাগনের সবচাইতে বেশী মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি হযরত আবু বকর সদ্দীক কুহাফার রদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আরদ্বাহ এর আলোচনা করা যাবে। বলা বাহুল্য কোরানে আবু বকর সিদ্দীক রযি কে রসূল (স:) এর “ছহেব” বা সাথী শব্দে ব্যাবহার করা হয়ছে। মক্বী ও মাদানী জীবনে রসূল স: এর শ্রদ্ধাভাজন বন্ধু ও ইসলামের পরম খেদমতকারী ছিলেন আবু বকর (রযি:) । উম্মাহাতুল মুমিনীন আয়েশা রযি : এর পিতা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অমায়িক, সাবলীল, দৃঢ়, মিতব্যয়ি, দানশীল, স্বাধীনচেতা, ও মনোবলি ব্যক্তিত্ব। কুরাইশদের সর্দার ও প্রথম সাড়ির নেতাও বটে। কেবল ইসলাম গ্রহনের খাতিরে তাকে অন্য কাফের শ্রেনীরা অবাঞ্চিত করেছিল, নতুবা তার বায়োগ্রাফী পর্যবেক্ষন করলে দেখা যাবে জাহেলি অধ্যায়ে সুপুরষ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন ইবনু কোহাফা। হযরত মুহাম্মদ (স) এর ওফাতের পর যে চারজন খলিফা ইসলামের পতাকা অতি উচ্চে তুলে ধরেছিলেন তাদের মধ্যে হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন অন্যতম। তিনি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বাল্যবন্ধু ও খেলার সাথী ছিলেন।
হযরত মুহাম্মদ স যখন ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু করলেন তখই হযরত আবু বকর রা ইলাম ধর্ম গ্রহন করেন। হযরত আবু বকর (রযি:) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইসলামের সেবায় নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেন। হযরত আবু বকর (রযি:) ইসলামের ইতাহাসে একজন ক্ষণজন্মা হিসেবে স্মরনীয় হয়ে থাকবেন। রাসূল (সল:) এর ওফাতের পর হযরত আবু বকর (রা:) খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম খলীফা হিসেবে ইসলামের এক সংকটময় মুহূর্তে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
একদিকে নব্যুয়তের প্রতি ইর্ষান্বিত বেদুইণদের হিংষা, অমুসলিমদের চক্রান্ত, ভন্ড নবীদের প্রাদুর্ভাব,অভ্যন্তরীণ গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও ধর্মদ্রোহী কার্যকলাপ, ভন্গনবীদের আবির্ভার ও বহি:শত্রুর আক্রমন, ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ষড়যন্ত্র ইত্যাদি ইসলাম ধর্ম এবং নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।
অপরদিকে সদ্য গ্রহন করা মুসলিম সমাজ মনোবৃত্তির পাছে পড়ে ইসলামকে বিকৃত ও কাটছাট করার লিপ্সায় লিপ্ত হয়ে জাকাত-ওশর সদকা ইত্যাদিকে অস্বীকার করে বসে। মোটকথা ভিতর ও বাহির থেকে ইসলামের এক চরমযূগসন্ধিক্ষনে হযরত আবু বকর রযি: এর খেলাফাতকাল আরম্ভ হয়। (রসূল সল:) এর অফাতে উৎসাহ পায় চক্রান্তকারী বিধর্মীরা, রোম-পারস্য আর বেদুঈন সর্দারদের অশুভ চক্রান্তের মোকাবিলা করতে হয় খলীফাতুল মুসলিমীন আবু বকর সিদ্দীক (রযি:) কে।
ত্রাণকর্তারূপে সকল বিরূপ পরিস্হিতির মোকাবিল করেন এবং ইসলাম ও মুসলিম জাতিকে মহান আল্লাহর রহমতে অনিবার্য ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা করেন।

হযরত মুহাম্মদ (স) এর ওফাতের পূর্বে হযরত আবু বকরা রা এর অবদান:

হযরত মুহাম্মদ (স:) ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহর নিকট থেকে ঐশীবাণী লাভ করে উদাত্ত কণ্ঠে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্হাপনের জন্য আহ্বান জানালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সর্বপ্রথম আবু বকর রা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি শুধু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেই ক্ষন্ত থাকেনি বরং নবী করীম (স:) এর সাথে ইসলাম প্রচারেও আত্মনিয়োগ করেন। তার প্রচেষ্টায় ওসমান, যুবাইর, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি হযরত মুহাম্মদ (স:) এর মিরাজের ঘটনাকে সর্বাগ্রে এবং নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে ছিলেন। আর তাই তাকে রাসূল (স) “সিদ্দিক” উপাধিতে ভূষিত করেন।

হযরত আবু বকর (রা) কুরাইশদের মধ্যে অন্যতম সম্পদশালী ব্যাক্তি ছিলেন। যিনি তার সমুদয় সম্পদ ইসলামের সেবায় উংৎসর্গ করে “আতিক” উপাধি লাভ করেছিলেন। ধন- সম্পত্তি ইসলামের সেবায় উৎসর্গ করে আবুবকর (রা:) তৃপ্তিবোধ করতেন। এ প্রসজ্ঞে নবী করীম (স:) স্বয়ং বলেছেন, আবু বকরের ধন- সম্পত্তি অপেক্ষা অন্য কারো সম্পদ অধিক উপকারে আসেনি । হযরত আবু বকর (রা) এর সম্পদ সাধারণত যুদ্ধ ব্যয় ও দাসমুক্তির কাজে ব্যয় করতেন।

হযরত আবু বকর (রা) প্রকাশ্যভাবে ইসলাম প্রচারের জন্য কুরাইশদের দ্বারা অসংখ্যবার নির্যাতিত হয়েছেন। তবুও তিনি কখনো নবী করীম (স:) এর সাহচর্য ত্যাগ করেন নি । বরং শত অত্যাচার র্নিযাতন সহ্য করে মহানবী (স:) এর পাশে থেকে তাকে ইসলাম প্রচারে সাহস উৎসাহ জুগিয়েছেন।

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের সময় হযরত আবু বকর (রা) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) এর সংঙ্গী হিসেবে গমন করেন এবং সওর পাগাড়ের গুহায় উভয়ে একত্রে আত্নগোপন করেন। রসূল স: কে রক্ষা করতে তিনি সাপের গুহা নিজ হস্তে আটকে দেবার কথা প্রসিদ্ধ।

রসুল সল্লাল্লহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর আবু বকর রা এর অবদান:

মাহনবী সল: এর মৃত্যু সাহাবা-জীবনে চরম অনাকাংঙ্খিত একটি ঘটনা, এ ঘটনার শোক ও আকাষ্মকিয়তায় সাহাবাদের মধ্যে চরম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অপরদিকে মুনাফিক্ব এবং অমুসলিম সমাজে নুতন ষড়যন্ত্রের পায়তারা দানা বেধে উঠেছিল। তেমনি ভাবে খিলাফতেকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্হার সৃষ্টি হয় । এ অচলাবস্হার ফলে নকল প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র ও ইসলাম ধর্ম চরম হুমকূর সম্মুখীন হয়। এ অবস্হায় হযরত আবু বকর (রা) তার অসাধারণ মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য বিশিষ্ট সাহাবীদের সংঙ্গে নিয়ে অচঅবস্হার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেন। সকলের সম্মতিতে তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে ইসলাম ধর্মও ইসলামী রাষ্ট্রকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন।
হযরত মুহাম্মদ (স) এর মৃত্যু পরবর্তিতে নব্য মুসলিম আরব বাসীদের মধ্যে ধর্মত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। ঐতিহাসিকরা বলেন, সমগ্র উপদ্বীপের লোক স্বধর্মে ফিরে যাওয়া ছিল নব প্রতিষ্ঠিত মদিনা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি একটি বিরাট হুমকি। হযরত আবু কবর (রা) কঠোর এ ব্যাপারে কঠোর নীতি অবলম্বন করে স্বধর্মত্যাগীদের আন্দোলন দমন করেন এবং তাদেরকে ইসলাম ধর্মে ফিরিয়ে আনেন।

আবু বকর (রা) বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে একদল লোক যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে । এমনকি তারা যাকাত বিরোধীতা আন্দোলন শুরু করলে কোনো কোনো প্রভাবশালী লোক যাকাত প্রথা উচ্ছেদের সুপারিশ করেন। কিন্তু দূরদর্শী আবু বকর (রা) শরীয়তের সিদ্ধান্তে অটল থেকে আন্দোরনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ করেন। ফলে তারা যাকাত প্রদানে বাধ্য হয়।

গোত্রা সর্দার প্রভাবশীল ভন্ডনবী মুসায়লামাকে দমন করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করলে ও ৬০০মুজাহিদ শহীদ হন। ওদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন কুরআনে হাফিজ। ফলে ভবিষ্যতে কুরআন সংরক্ষন হুমকির সম্মুখীন হয় । এমতাবস্হায় আবু বকর (রা) হযরত ওমর (রা) এর পরামর্শে জায়েদ বিন সাবিত (রা) কে কুরআনের বাণীগুলো সংগ্রহ করে পুস্তকাকারে লিপিবদ্ধ করার র্নিদেশ দেন। আর এই সংকলতি কোরানকে মুসহাফুল আকবর বা আল জামীও বলা হয়ে থাকে। ইতিপূর্বে লিখিত সকল কোরানের আয়াতকে তিনি যোগ্য সাহাবাদের জামাতের মাধ্যমে একত্রিত ও সংকলিত করেন।

মুহাম্মদ (স) এর ওফাতের পর ভন্ডনবীরা মদিনাভিমুখে অগ্রসর হওয়ার প্রয়াস পেলে আবু বকর (রা) ওদের দমনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন। তিনি তাদেরকে আত্মসর্মপণ করার কঠোর নির্দেশ দান করেন। অন্যথায় যুদ্ধ অনিবার্য বলে ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি নিজে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অপরদিকে ওসমানকে ভন্ডনবী আসওয়াদকে দমনের জন্য সিরিয়া অভিযানের র্নিদেশ দান করেন। আসওয়াদ ছিল আনাস জাতির নেতা সে তার অনুচরদের নিয়ে দক্ষিণ আরবের ইয়েমন নগরে বাস করতো গ্রামের সরদারদের প্রভাবান্বিত করে আসওয়াদ এক বিরাট সৈন্যদল গঠন করে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কিন্তু শেষ র্পযন্ত ওসমানের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে তার মৃত্যু হয়।

আসওয়াদের মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং মুসলমানদের রাজধানী মদিনা অবরুদ্ধ করার প্রয়াস পায়। হযরত আবু কবর (রা) তাই মদিনা নগরীকে সুরক্ষিত করেন এবং সৈন্যবাহিনীকে ১১টি ভাগে বিভক্ত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভন্ডনবি ও ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে তাদের প্রেরণ করে। সেনাপতি খালিদ ৩৫০০ সৈন্য নিয়ে ভন্ডনবী তোলায়হার বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। তোলায়হা বনু তাইম বংশের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু তায়িম বংশের নেতা আদি বিন হাতিম হযরত খালীদের পরার্মশে স্বীয় সম্প্রদায়কে তোলায়হার বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য বলেন। এভাবে খালিদ তোলায়হাকে র্দুবল করে ফেলেন এবং সহজেই পরাজিত করেন। তেলায়হা প্রথমত সাইবেরিয়াতে পলায়ন করে অবশেষে পুনরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

হযরত আবু বকর (রা:) কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলার কারণ:

হযরত আবু বকর (রা) এর আড়াই বছর খিলাফতকাল ইসলামের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মহানবী (স:) এর সহচর হিসেবে এবং মহানবী (স:) এর ওফাতের পর প্রথম খলিফা হিসেবে আবু বকর (রা:) এর অবদান ছিল অপরিসীম। অরাজকতা, প্রতারণা , ভন্ডামি, ধর্ম ও দেশ দ্রেহীদের তিনি যোগ্যতার সাথে মোকাবিলা করে। তিনি মহানবী (স:) এর সাথে বদর, ওহুদ খন্দক, তাবুক এবং অন্যান্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধের ব্যয়ভারের বড় একটা অংশ বহন করেন।

আবু বকর রা এর রাজত্বকালে মদিনা নগরীতে মহনবী হযরত মুহাম্মদ স এর বাণী শিক্ষা দেওয়ার জন্য সর্ব প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপন করেন। হযরত আবু বকর রা অনেক ক্রীতদাসকে নিজের অর্থ দিয়ে ক্রয় করে মুক্ত করে দেন।
আবু বকর রা ভন্যনবীদের পরজিত করে সমগ্র আরব উপদ্বীপে শন্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

ওহুদের যুদ্ধে এবং আবু বকর (রা)এর শাসন আমলে ভন্ডনবী মুসায়লামাকে দমনের সময় ইয়ামামায় যুদ্ধে অনেক কুরআনে হাফিজ শহীদ হন। ফলে ভবিষ্যতে কুরআনে সংরক্ষণে হুমকীর সম্মুখীন হয় এমতাবসআয় হযরত আবু বকর রা হযরত্ওমর রা এর পরা র্মশে জায়েদ বিন সাবিত রা কে কুরআনের বাণীগুলো সংগ্রহ করে পোস্তকাকারে লিপিবদ্ধ করার র্নিদেশ দেন।

স্বাধীনচেতা আরব জাতি ইসলামের কঠোর বিধি নিষেধ, কঠোর নৈতিক অনুশাসন ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। হযরত মুহদাম্মদ (স)এর ইন্তেকালের পর তারা উপর্যুক্তবিধানসমূহের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ বিদ্রোহ করে র্পূবর্বতী জীবন ধারায় ফিরে যায় । খলিফা আবু বকর (রা) তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্হা গ্রহণ করে তাদেরকে ইসলামী জীবনধারায় ফিরিয়ে আনেন।

বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের মতে হযরত আবু বকর (রা)

ঐতিহাসিক p.k. Hetti তার the History of Arab এ হযরত আবু বকর (রা) এর খেলাফত সম্পর্কে বলেন:
If someone in the first third of the seventh Christian century had the audacity to prophesy that within a decade some unheralded, unforeseen power from the hitherto barbarians and little known land of Arabia was to make its appearance, hurl itself against the only two powers of the age, fall heir to the one-the Sassanian, and strip the other, the Byzantine of its fairest provinces, he would undoubtedly be declared a lunatic. Yet that was what happened.”

এইচ, জি ওয়েল হযরত আবু বকর (রা) কে এভাবেই অনুধাবন করেন:

“It (Islam) prevailed because every where it found politically apathetic people, robbed, oppressed, bullied, uneducated and unorganized and it found selfish and unsound governments out of touch with the people.” In their World History, Flenley and Weleh have also held that the political cause of the success of Muslims was that the Persian and Byzantine empires stood exhausted by mutual wars.
খলিফা হিসেবে হযরত আবু বকর (রা) এর অবদান সত্যিই অনবদ্য। অভ্যন্তরীণ বিশৃংঙ্খলা দূর, জাতীয় সংহতি অর্জন এবং ইসলামের প্রভাবসম্প্রসারণের পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করে তিনি পরবর্তী অগ্রগতির পথ সুগম করেন। ইসলামি জীবন ব্যবস্হা ও ইসলামি রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা এবং বহুবিধ কৃতিত্বের জন্য তাকে ইলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।
অধ্যাপক মুরের ভাষায়:” ইসলামের জন্মলগ্নে হযরত আবু বকর (রা) বেদুঈন এবং মুরতাদদের আক্রমণ থেকে ইসলাম কে রক্ষা করেছেন”। পূর্ব সংকলনের কমেন্ট:
post1: [ জানুয়ারি ২০, ২০১১ at ৫:১২ অপরাহ্ণ ]
جزا ك الله اَحسن الجزاء

hafes_alamin
[ জানুয়ারি ২০, ২০১১ at ৬:৩০ অপরাহ্ণ ]
Hi friend’s please writing continue.
Post2: ابو بكر رض هو اول مسلم من الشباب لقب رسول الله صل لله عليه وسلم احسن لقبا ByRasel.
জানুয়ারি ২০, ২০১১ at ৫:১১ অপরাহ্ণ ]
জনাব ধন্যবাদ ।

শিয়ারা যে বলে থাকে “আবু বকর (রা:) ” জোড় করে খেলাফত কেড়ে নিয়েছিল , আসলে এর প্রকৃত হক ছিল “আলী(রা:)”-র , এ বিষয়ে আপনার মত কি ?

rasel ahmed
[ জানুয়ারি ২০, ২০১১ at ৫:৩২ অপরাহ্ণ ]
শিয়াদের এ আকীদা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। আবু বকর (রাঃ) কখনো নিজে খলীফা হতে চাননি বরং বিজ্ঞ সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) উনাকে খলীফা নির্বাচিত করেছিলেন। তাছাড়া রাসূল (সাঃ) অসুস্ত থাকাবস্তায় আবু বকর (রাঃ) নামাযের ইমামতি করেছিলেন এতেও বুঝা যায় আবু বকর (রাঃ) মুসলিম বিশ্বের প্রথম খলীফা হওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য। আর অনেক শিয়ারাতো আলী (রাঃ) কে নবীই মনে করে। نعوذبالله من ذالك

humaid
[ জানুয়ারি ২১, ২০১১ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ ]
আল মুরতাহিল’ @আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার লেখা গুলি আমার খুব ভাল লাগে ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,৪৩৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.০০)

৫ টি মন্তব্য

  1. আরো কিছু মন্তব্য:
    জয়গুরু বলছেন: অনেক কিছু জানলাম, ধন্যবাদ। তবে আপনে যেটা জানেননা সেটা জানিয়ে দেই-
    নবী (সাঃ) এর দেহ ত্যগের পর হযরত আলী (আঃ) এর খলিফা, মুমিনের সর্দার হবার কথা ছিল, এই ওয়াদা নবী সবাইকে দিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আবু বকর সেই ওয়াদা ভুলে নিজে খলিফত্ব কেড়ে নেয়। এই নিয়ে ইতিহাস দেখতে পারেন। সাথে আলী (আঃ) এর নাহজুল বালাগা। আবু বকর এর এই ঘৃন্যতম কাজের কারনেই ইসলামের ভঙ্গ শুরু হয়। তাঁর শাষনামলে তিনি মা ফাতেমার বাগান কবজা করে নেন। নবী বংশের উপর অত্যাচার শুরু হয়। তিনি প্রত্যক্ষ কোথাও না থাকলেও তার ইশারায় অনেক কিছু হয়েছিল। এমনকি আলী (আঃ) কে তার গৃহ হতে রশি বেধে টেনে আনা হয়। সুতরাং যতযাই হোক -বাংলায় একটা কথা-
    “শেষ ভাল যার , সব ভাল তার”-বকরের শেষটা আর ভাল হয়নি। তাই —জানিনা।
    ধন্যবাদ।
    লেখক বলছেন : জয়গুরু, প্রথমত আপনার নিক ও আপনার আলোচনা নিয়ে আমার অবজেকশন, আর তা হলো জয়গুরো নাম নিয়ে আপনি খেলাফাতের কে প্রথম কে পর সে আলোচনার কতটুকো উপযোগিতা রাখেন।
    নাহজুল বালাগাহ কোথায় পেতে পারি জানাবেন ।
    *আর অন্তত নাহজুল বালাগাহ যদি হযরত আলী রযি: এর নিজস্ব কোন রচনা-ই হয়ে থাকবে সেখানে কোন প্যারায় তিনি আবু বকর রযি: এর খেলাফাতের বিরোধীতা করেছেন?
    *হযরত আলী রযি: ই যদি খেলাফাতের জিম্মাদার হয়ে থাকবেন তবে কেন তিনি সিদ্দীকর রযি: এর খেলাফাতের মৌখিক-মৌনিক-বা যে কোন ধরনের বিরোধীতা করেন নি?
    * হযরত আবু বকররের ইমামতিতে কেন এতদ্ব স্বত্বেও তিনি নামাজ পড়তেন?
    * কেন তিনি তার খেলাফাহ জীবনের কোনরুপ বিরোধীতায় জড়িত ছিলেন না?
    * কেন তিনি তার মিশন ও কার্য্যক্রমে আস্থাশীল ছিলেন?
    ——-
    শিয়া-খারেজী রাফেজীসহ বর্তমান পথভ্রষ্ট মুসলিমদের অনেকেই এ বিতর্কে এসব প্রশ্নের কোনই জবাব কেন দিতে পারে না ?
    এসব কি শিয়া-মুসলিমদের নিজেদের দাবি না পরাস্থ মুনাফিক্বদের শিখিয়ে দেয়া বুলি তা মুটিভ দেখলেই বুঝা যায়। অথচ ইতিহাস বলে আবু বকর রযি এর খেলাফাত ছিল সাহাবাদের গনতান্ত্রিক রায়ের ভিত্তিতে । যেখানে অবাধে সকলেই আবু বকর রযি কে সাপোর্ট ও সহযোগীতা করেছেন খোদ আলী: এর ব্যতিক্রম নয়। আর আলী এর নামকরে ছলুল আর উবাইদের গ্রুপরা এসে তিল তাল এক করার ঘোল থেকে আল্লাহ উম্মাহ কে নাজাত দিন এই কামনা রইলো।
    —–
    চারবাক বলছেন : কিছু প্রশ্ন…..।

    হযরত মুহাম্মদ (স) এর মৃত্যু পরবর্তিতে নব্য মুসলিম আরব বাসীদের মধ্যে ধর্মত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়।

    কেনো??????

    হযরত আবু কবর (রা) কঠোর এ ব্যাপারে কঠোর নীতি অবলম্বন করে স্বধর্মত্যাগীদের আন্দোলন দমন করেন এবং তাদেরকে ইসলাম ধর্মে ফিরিয়ে আনেন।

    কি ধরনের কঠোর নীতি?????

    গোত্র সর্দার প্রভাবশীল ভন্ডনবী মুসায়লামাকে দমন করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করলে ও ৬০০মুজাহিদ শহীদ হন।

    মুসায়লামার পক্ষে কত জন মারা যায়? ঐতিহাসিকরা বলেন, প্রায় ১০,০০০ জন। মুসায়লামার
    পক্ষে এতো অনুসারী যোগাড় করা কি ভাবে সম্ভব হল? অনেক ঐতিহাসিক বলেন মুসলমানের চেয়ে মুসাইলামার অনুসারী বেশী ছিল। কেন আরবের লোকজন মোহাম্মদ অপেক্ষা মুসাইলামার অনুসারী হতে বেশী উতসাহ বোধ করত? দয়া করে যদি একটু ব্যাখ্যা করতেন।

    লেখক বলছেন:
    ইসলামকে যারা কেবল বিজয়ের মুহুর্তে হিড়িক পড়ার ধারায় গ্রহন করেছিল তাদের মধ্যে এর সঠিক দীক্ষা না থাকায় আবার স্রোতের পানির মতই মুহাম্মদ স: এর ওফাত পরবর্তি সময়ে মুরতাদ হওয়ায় পর্যবসিত হয়। আর মুরতাদদের এই শাস্তি তখনকার সর্ববৃহৎ মুসলিম সমাজের ঐক্যের ভিত্তিতেই “হারবুল ইরাতেদাদ” বা ইতিহাস খ্যাত রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমেই সংগঠিত হয়েছিল।

    কঠোর নীতি হলো ঐ তরবারী যা মুহাম্মদ স: মানবতার খাতিরে উত্তোলন করেছিলেন এবং মুসলিম যোদ্ধাদের মাধ্যমে তা কেয়ামত পর্যন্ত উত্তলিত হয়ে থাকবে। দেখেছেন ও পড়েছেন ই তো এই তরবারীর বলি কেবল রিদ্দার যুদ্ধেই দশ হাজারের মতো। কোটি কোটি কিংবা অসংখ্যা হলেও কোন পরোয়া নেই।

    কচুরীপনা কেন সাগরে এত বেশী জন্মে সে প্রশ্নের চেয়ে সাগরের জল কত গভীর তা চিন্তা করাই যথেস্ট।

    আশাকরি উত্তর মিলিয়ে নিবেন।

    M M NOUR HOSSAIN

    @আল মুরতাহিল, আপনাকে ধন্যবাদ দিতে পারলাম না । হযরত আবু বকর রাঃ সর্ম্পকে আপনি য়ে মন্তব্য দিয়েছেন, এটা কোন সহি আকিদার মুসলমানের বক্তব্য বলে মনে হয়না । আবু বকর রাঃ শানে জানার জন্য সহি দ্বারার মুসলমানদের ইতিহাস দেখার পরামর্শ রহিল । মুনাফিক এবং ইহুদী নাসারাদের ইতিহাস পড়ে এতবড় একজন সম্মানিত সাহাবির শানে এধরনের বাজে মন্তব্য করা এবং তা এই ওয়েব সাইটে পকাশ করাকে আমি ভাল মনে করি না । আশকরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে আনবেন ।

  2. তথ্যবহুল লেখা , লেখককে ধন্যবাদ ।

  3. নবী রাসূলদের পরে সর্বোত্তম মানুস হযরত সিদ্দিকে আকবার রাঃ । এ মহামনবের শানে তথ্যবহুল গুরুত্বর্পূণ্য লেখার জন্য আপনাকে আল্লাহ পাক উত্তম প্রতিদান দান করুন ।