লগইন রেজিস্ট্রেশন

ধারাবাহিক ফিকহ অধ্যয়ন – ২: [জ্ঞানের গুরুত্ব ও ফযীলত - ১]

লিখেছেন: ' Abu Ibrahim' @ সোমবার, এপ্রিল ২৬, ২০১০ (১২:৫৭ অপরাহ্ণ)

بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان

ইসলামে জ্ঞানের গুরুত্ব:

ধারাবাহিক ফিকহ আলোচনার প্রারম্ভে ইসলামে জ্ঞানের গুরুত্ব ও ফযীলত, জ্ঞানী ব্যক্তির মর্যাদা সম্পর্কে কিছু আলোচনা প্রাসংগিক হবে। আল্লাহ পাক বলেন:

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
“…আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই ভয় করে…” [সূরা ফাতির, ৩৫ : ২৮]

মুফাসসিরগণ ব্যাখ্যা করেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে যত বেশী জ্ঞানী সে আল্লাহকে তত বেশী ভয় করে। আর যারা আল্লাহর ব্যাপারে (خَشْيَة) অর্জন করতে পেরেছে, তারাই আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভে সফল, যেমনটি আল্লাহ পাক বলেন:

رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ
“আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট, এটা [পূর্বোল্লিখিত পুরস্কার] তার জন্য যে তার রবকে ভয় করেছে।” [সূরা আল বাইয়্যেনাহ, ৯৮ : ৮]

আর জ্ঞানের সাথে আল্লাহভীতির সম্পর্কের সমর্থন পাওয়া যায় নবী মুহাম্মাদের(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বক্তব্য থেকে:

إِنَّ أَتْقَاكُمْ وَأَعْلَمَكُمْ بِاللَّهِ أَنَا
“নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক তাক্বওয়া সম্পন্ন এবং আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী হলাম আমি” [বুখারী(২০)]

দ্বীনের জ্ঞান সম্পর্কে নবী মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
“আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।” [বুখারী(৩১১৬)]

অতএব দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হওয়া কল্যাণের লক্ষণ। এই হাদীসের আলোকে কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন: কোন ব্যক্তি যদি দ্বীনশিক্ষা এবং দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট না হয় তবে তার অর্থ এই যে আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করেননি!

একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর জ্ঞানের দ্বারা অন্যকে উপকৃত করার মাধ্যমে অন্যদের আমলের সওয়াব নিজের আমলনামায় যোগ করে নেয়ার দুর্লভ সুযোগ লাভ করেন, নবী মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

« مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا »
“যে হেদায়েতের প্রতি আহবান জানায়, তার জন্য তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে, তবে তা তাদের সওয়াব থেকে কোন কিছু হ্রাস করবে না। আর যে পথভ্রষ্টতার প্রতি আহবান জানায়, তার ওপর তার অনুসারীদের সমপরিমাণ পাপ আরোপিত, তবে তা তাদের পাপ থেকে কোন কিছু হ্রাস করবে না।” [মুসলিম(২৬৭৪)]

তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজে দ্বীনশিক্ষা করতে এবং জ্ঞানের ভিত্তিতে অন্যকে দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দান করতে সচেষ্ট হয়।

চলবে ইনশা আল্লাহ…

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২০৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজে দ্বীনশিক্ষা করতে এবং জ্ঞানের ভিত্তিতে অন্যকে দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দান করতে সচেষ্ট হয়।

    সহমত। (F) (*) (F) (*)

  2. إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
    “…আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই(ওলামা বা আলেম ?) ভয় করে…” [সূরা ফাতির, ৩৫ : ২৮]
    এই আয়াতে الْعُلَمَاء শব্দের অর্থ যদি জ্ঞানী হয় তবে-
    ১।যারাই আল্লাহকে ভয় করে তাদেরকে জ্ঞানী(আলেম বা ওলামা ?) বলা যায় কিনা ?
    ২।দ্বীনি শিক্ষা করে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে আল্লাহকে ভয় না করলেও তাকে জ্ঞানী(ওলামা বা আলেম ?) বলা যাবে কিনা ?

    সম্ভব হলে জানাবেন । ধন্যবাদ।

    Abu Ibrahim

    @দেশী৪৩২,

    الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله

    আপনার জিজ্ঞাসার উত্তর:
    ১। আসলে বাংলায় শব্দের অভাবে খাশইয়া (خَشْيَة) এর অনুবাদ করা হয়েছে ভয়, প্রকৃতি পক্ষে আলেমগণ সাধারণ ভয় নির্দেশসূচক আরবী শব্দ খাওফ(خَوف) আর খাশইয়া(خَشْيَة) এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। খাশইয়া হচ্ছে কারও মর্যাদা ও ক্ষমতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করার ফলে অন্তরে তাঁর প্রতি যে সঠিক মূল্যায়ন তৈরী হয় – তার নাম। আর তাই যারাই আল্লাহকে ভয় করেন, তাঁদেরকেই ঢালাওভাবে জ্ঞানী বলা যায় না, কেননা সেই ভয় কখনও অজ্ঞতাপ্রসূতও হতে পারে, আর সেক্ষেত্রে তাকে খাওফ(خَوف) বলা হবে, খাশইয়া(خَشْيَة) নয়।

    ২। এক্ষেত্রে ঢালাও ভাবে তাকে “আলেম” বলা ঠিক হবে না, কোন একটি বৈশিষ্ট্য যুক্ত করে বলা যেতে পারে, যেমন তিনি “আরবী ভাষার আলেম” ইত্যাদি।

    والله أعلم