লগইন রেজিস্ট্রেশন

সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি : সহীহ মুসলিম

লিখেছেন: ' ABU TASNEEM' @ শুক্রবার, মে ২৫, ২০১২ (৭:০৩ পূর্বাহ্ণ)

HADIS VS OTHERS
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ । কেমন আছেন সবাই । আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম সিজদায়ে সাহু সম্পর্কিত সহীহ মুসলিমের সবগুলো হাদীস । প্রথমে ভেবেছিলাম হাদীসগুলি আমি লিখে না দিয়ে ছবি আকারে দিব । যেমন দিয়েছিলাম সহীহুল বুখারীর ক্ষেত্রে (সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি : সহীহ আল বুখারী কিন্তু এভাবে দিলে পোস্ট লোডিং-এ সমস্যা হচ্ছে । সব হাদীসের ছবি লোড হচ্ছে না । মাঝে মাঝে অন্য রকম ছবিও আসতেছে । তাই সহীহ মুসলিমের ক্ষেত্রে হাদীসগুলি টাইপ করে দিলাম । আমার দেয়া হাদীসগুলি চেক করতে চাইলে রাইট ক্লিক >সেভ এজ > সহীহ মুসলিম দ্বিতীয় খন্ড ডাউনলোড করে চেক করতে পারেন । অবশ্য হাদীসের অবনুবাদের ক্ষেত্রে আমি একটু চেঞ্জ করেছি তা হলো বইতে অনুবাদ করা হয়েছে নামায আমি সেগুলোকে করেছি সালাত ।

তাহলে চলুন হাদীসগুলো দেখা যাক । এখানেও আমাদের আমলের সাথে মিলাতে ভুলবেন না যে , যেভাবে আমরা সাহু সিজদা করি তার পক্ষে কোন একটি হাদীসও আছে কিনা । আর যদি না থাকে তাহলে আসুন আমরা অন্য সকল মতবাদ / সহীহ দলীল বিহীন মাযহাবী মতবাদ ছেড়ে সহীহ হাদীসকে আঁকড়ে ধরি ।
অনুচ্ছেদ – ১৯
সালাত আদায়করতে ভুল করলে সাহু সিজদা করা
হাদীস নং-১১৫৪ : আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন , “তোমরা কেউ যখন সালাতে দাঁড়াও , তখন শয়তান তার কাছে এসে তাকে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে ফেলে দেয় । এমনকি সে কত রাকাত সালাত আদায় করলো তাও স্মরণ করতে পারে না । তোমরা কেউ এরূপ অবস্থা হতে দেখলে যেন বসে বসেই দুটি (অতিরিক্ত) সিজদা করে নাও ।”
সালাতের মধ্যে ভুল করলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে । তা এই হাদীস থেকে বুঝা যায় । সিজদায়ে সাহুতে দুটি সিজদা করতে হবে তাও এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় । তবে সিজদা দুটি কখন করতে হবে তা এই হাদীসে বলা হয়নি ।

হাদীস নং-১১৫৫ : আমর নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না থেকে এবং কুতায়বা ইবনে সাঈদ এবং মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ লাইস ইবনে সাদের মাধ্যমে যুহরী থেকে একই সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন ।

হাদীস নং-১১৫৬ : আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন , “সালাতের আযান শুরু হলে শয়তান পিঠ ফিরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে এবং এত দূরে চলে যায় যে , আর আযান শুনতে পায় না । অতঃপর আযান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে । কিন্তু যে সময় তাক্ববীর দেয়া হয় তখন সে পুনরায় পিঠ ফিরে পালায় । কিন্তু তাক্ববীর শেষ হলে আবার ফিরে আসে এবং মানুষের (মুসল্লির) মনে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দের সৃষ্টি করে । বলে , অমুক কথা এবং অমুক কথা স্মরন করো যেসব কথা কখনো তার স্মরণ করার নয় । অবশেষে সে (মুসল্লি) কত রাকাত পড়লো তা স্মরণ করতে পারে না । এরুপ অবস্থায় তোমরা কেউ যখন স্মরণ করতে পারবে না কত রাকায়াত পড়েছো তখন বসে বসেই দুটি সিজদা করবে ।

হাদীস নং-১১৫৭ : আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন , “যে সময় নামাযে তাক্ববীর বলা হয় সে সময় শয়তান বায়ু নিঃসরণ করতে করতে দৌড়ে পালায় । এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করলেন । তবে এতে এতটুকু কথা অধিক বর্ণনা করলেন যে , সে (শয়তান) তাকে উৎসাহিত করে , আশান্বিত করে এবং যা সে কখনও স্মরণ করতো না তা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় ।

হাদীস নং-১১৫৮ : আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেছেন , (একদিন) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের নিয়ে দুই রাকাআত সালাত আদায় করলেন । (দ্বিতীয় রাকাআতে) তিনি না বসে উঠে দাঁড়ালে লোকজন সবাই তার সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালো । তিনি সালাত শেষ করলে (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাঃ সালাত প্রায় শেষ করলে) আমরা তার সালাম ফিরানোর অপেক্ষায় ছিলাম । এই সময়ে তিনি তাক্ববীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বেই বসে বসে দুটি সিজদা করলেন । এরপর তিনি সালাম ফিরালেন ।

হাদীস নং-১১৫৯ : বনী আব্দুল মুত্তালিবের মিত্র আসাদ গোত্রের আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না আসাদী থেকে বর্ণিত । (তিনি বলেছেন একদিন) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যোহরের সালাতে (দুই রাকাতের পর) না বসেই দাঁড়িয়ে গেলেন । সালাত শেষ করে অর্থাৎ সালাতের শেষ পর্যায়ে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে ভুলে যাওয়া বৈঠকের পরিবর্তে বসে বসেই দুটি সিজদা করলেন এবং প্রতিটি সিজদাতেই তাক্ববীর বললেন । লোকজন সবাই তার সাথে সাথে সিজদা দুটি করলো ।

হাদীস নং-১১৬০ : আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহায়না আযদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । (তিনি বলেছেন) : একদিন সালাতরত অবস্থায় যে দুই রাকাআত পড়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বসতে মনস্থ করেছিলেন সে স্থানে তিনি না বসে দাঁড়িয়ে পড়লেন । তিনি সালাত আদায় করলেন । অবশেষে সালাতে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা করলেন এবং তারপর সালাম ফিরালেন ।

হাদীস নং-১১৬১ : আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : তিন রাকাআত পড়া হলো না চার রাকাআত পড়া হলো – সালাতের মধ্যে তোমাদের কারো এরুপ সন্দেহ হলে সে যে কয় রাকাআত পড়েছে বলে নিশ্চিত হবে সেই কয় রাকাআতকে ভিত্তি ধরে অবশিষ্ট করণীয় করবে । এরপর সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা করবে । (এখন) সে যদি আগে পাঁচ রাকাআত পড়ে থাকে তাহলে এই দুই সিজদা দ্বারা তার সালাতের জোড়া পূর্ণ হয়ে (ছয় রাকাআত) যাবে । আর যদি তার সালাত চার রাকাআত হয়ে থাকে তাহলে (এই) সিজদা দুটি শয়তানের মুখে মাটি নিক্ষেপের শামিল হবে ।

হাদীস নং-১১৬২ : আহমাদ ইবনে আব্দুর রাহমান ইবনে ওয়াহাব তার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব , দাউদ ইবনে কায়েস ও যায়েদ ইবনে আসলামের মাধ্যমে একই (পূর্ব বর্ণিত) সনদের অনুরুপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন । অতঃপর সুলাইমান ইবনে বেলালের মতই বর্ণনা করেছেন যে , সালাম ফিরানোর পূর্বেই দুটি সিজদা করবে ।

হাদীস নং-১১৬৩ : আলকামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন : একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাত আদায় করলেন । বর্ণনাকারী ইবরাহিমের বর্ণনা মতে এই সালাতে তিনি কিছু কম বা বেশী করে ফেললেন । সালাম ফিরানোর পর তাকে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)) জিজ্ঞেস করা হলো , হে আল্লাহর রাসূল ! সালাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম দেয়া হয়েছে ? একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন , নতুন হুকুম আবার কেমন ? তখন সবাই বললো , আপনি সালাতে এরুপ এরুপ করেছেন । একথা শুনে তিনি পা-দুখানী ভাঁজ করে কিবলামুখী হয়ে বসলেন এবং দুটি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন । এরপর আমাদের দিকে ঘুরে বললেন , সালাতের ব্যাপারে কোন নতুন হুকুম আসলে আমি তোমাদেরকে জানাতাম । (এটা তেমন কিছু নয়) বরং আমি তো মানুষ বৈ কিছু নয় । তোমাদের যেমন ভুল হয় আমারও তেমন ভুল হয় । সুতরাং আমি যদি কোন কিছু ভুলে যাই তাহলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও । আর সালাতের মধ্যে তোমাদের কারো কোন সন্দেহ হলে চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে যেটি সঠিক বলে মনে হবে সেটিই করবে এবং এর উপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করবে । অতঃপর দুটি সিজদা করবে ।

হাদীস নং-১১৬৪ : আবু কুরাইব ইবনে বাশারের মাধ্যমে এবং মুহাম্মাদ ইবনে হাতেম ওয়াকির মাধ্যমে , উভয়ে আবার মিসআরের মাধ্যমে মনসুর থেকে একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । তবে ইবনে বাশারের বর্ণনায় “ফাল ইয়ানযুর আহরা যালিকা লিসসাওয়াবি” এবং ওয়াকির বর্ণনায় “ফাল ইয়া তাহাররিস সাওয়াবা” কথাটি উল্লেখিত আছে ।

হাদীস নং-১১৬৫ : আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারেমী ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান ওউহাইব ইবনে খালেদের মাধ্যমে মনসুর থেকে একই সনদে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । তবে মানসুর বলেছেন : সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা সঠিক ধারনাটি গ্রহণ করতে হবে ।

হাদীস নং-১১৬৬ : ইসহাক ইবনে ইবরাহীম উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ উমাওবীর মাধ্যমে একই সনদে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেছেন চিন্তা ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে ।

হাদীস নং-১১৬৭ : মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ও শুবার মাধ্যমে একই সনদে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । তিনি (মানসুর) বলেছেন : চিন্তা ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্তের কাছাকাছি সেটি গ্রহণ করতে হবে ।

হাদীস নং-১১৬৮ : ইয়াহইয়া ইবনে ইযাহইয়া ফুদাইল ইবনে আইয়াদের মাধ্যমে মানসুর থেকে একই সনদে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । মানসুর বলেছেন : চিন্তা ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করবে সেটিই গ্রহণ করবে ।

হাদীস নং-১১৬৯ : ইবনে আবু উমার আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুস সামাদের মাধ্যমে মানসুরর নিকট থেকে তাদের সবার বর্ণিত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । মানসুর বলেছেন : চিন্তা ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ।

হাদীস নং-১১৭০ : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । (তিনি বলেছেন) একদিন নবী (সাঃ) যোহরের সালাত পাঁচ রাকাআত পড়লেন । তিনি যখন সালাম ফিরালেন তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো , সালাতে রাকাআতের সংখ্যা কি বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে ? একথা শুনে নবী (সাঃ) বললেন : এ আবার কেমন কথা ? তখন সবাই বললো , আপনি তো সালাত পাঁচ রাকাআত পড়লেন । একথা শুনে তিনি দুটি সিজদা করলেন ।

হাদীস নং-১১৭১ : ইবনে নুমায়ের ইবনে ঈদরীস ও হাসান ইবনে ওবায়দুল্লাহর মাধ্যমে ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন । ইবরাহীম বলেছেন : একদিন আলকামা (রাঃ) সালাতে ইমামতি করলেন । অন্য সনদে উসমান ইবনে আবী শায়বা জারীর ও হামান ইবনে উবায়দুল্লাহর মাধ্যমে ইবরাহীম ইবনে সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি (ইবরাহীম ইবনে সুওয়াইদ) বলেছেন : একদিন আলকামা আমাদের সাথে সালাত আদায় করতে যোহরের সালাত পাঁচ রাকাআত পড়লেন । সালাম ফিরানোর পর লোকজন তাকে বললো , হে আবু শিবল (আলকামা (রাঃ) এর উপনাম) আপনি সালাত পাঁচ রাকাত আদায় করেছেন । তিনি বললেন : আমি কখনো এরুপ করি নাই । কিন্তু লোকজন সবাই আবারও বললো , হাঁ , আপনি এরুপ করেছেন । ইবরাহীম ইবনে সুওয়াইদ বলেছেন , আমি তখন বালক ছিলাম এবং সবার থেকে দূরে এক কোণে ছিলাম আমিও বললাম হ্যাঁ , আপনি সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করেছেন । তিনি তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন : ওরে কানা , তুমিও তাই বলছো ! আমি বললাম , হ্যাঁ । ইবরাহীম ইবনে সুওয়াইদ বলেন , তখন তিনি দুটি সিজদা করলেন এবং সালাম ফিরানোর পরে বললেন , আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন , একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোন এক সালাত আদায় করতে পাঁচ রাকাআত আদায় করলেন । সালাত শেষে তিনি ঘুরলে লোকজন পরস্পর কানাঘুষা করতে থাকলো । তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন , ব্যাপার কি ? সবাই বললো , হে আল্লাহর রাসূল ! সালাতের রাকাআত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে ? তিনি বললেন , না । তখন সবাই বললো , আপনি তো সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করেছেন । একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘুরলেন এবং দুটি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন । অতঃপর বললেন : আমি তোমাদের মতই মানুষ । আমিও ভুল করি যেমন তোমরা ভুল কর । ইবনে নুমায়ের তার বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে , (সালাতের মধ্যে) তোমাদের কারো ভুল হয়ে গেলে সে যেন দুটি সিজদা করে ।
টিকা : হযরত আরকামা (রাঃ) “ওরে কানা” বলে সম্বোধন করেছিলেন ইবরাহীম ইবনে সুওয়াইদকে । ইবরাহীম ইবনে সুওয়াইদ ছিলেন অন্ধ । তিনি ছিলেন আলকামা (রাঃ) এর ছাত্র । তাই তিনি এভাবে সম্বোধন করেছিলেন । বয়সে ছোট হলে কি এবং মনোকষ্ট বোধ না করলে এভাবে সম্বোধন করায় কোন দোষ নেই ।

হাদীস নং-১১৭২ : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেন : একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোন এক সালাত আদায় করতে পাঁচ রাকাআত আদায় করলেন । আমরা তাঁকে বললাম : হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! সালাত কি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ? একথা শুনে তিনি বললেন , এ আবার কি কথা ? তখন সবাই বললো : আপনি তো সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করেছেন । (একথা শুনে) তিনি বললেন : আমি তোমাদের মতই মানুষ । আমি স্মরণ রাখি যেমন তোমরা স্মরণ রাখো । আবার আমি ভুলে যাই যেমন তোমরা ভুলে যাও । এরপর তিনি দুটি সিজদা দিলেন ।

দীস নং-১১৭৩ : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেন : একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন । কিন্তু তিনি সালাতে কিছু কম বা কিছু বেশী করে ফেললেন । হাদীসের বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেছেন : (তিনি কম করলেন না বেশী করলেন) এই সন্দেহটা আমার নিজের । বলা হলো , হে আল্লাহর রাসূল ! সালাতে কি কিছু বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ? একথা শুনে তিনি বললেন : আমি তোমাদের মত মানুষ বৈ আর কিছু নই । আমারও তোমাদের মত ভুল হয় । সুতরাং সালাতে তোমাদের কেউ কিছু ভুলে গেলে সে যেন বসেই দুটি সিজদা করে ন্য়ে । একথার পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘুরলেন এবং দুটি সিজদা করলেন ।

হাদীস নং-১১৭৪ : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেন : নবী (সাঃ) সালাতের সাহু সিজদার দুটি সিজদা সালাম ফিরিয়ে কথা বলার পর করেছিলেন ।

হাদীস নং-১১৭৫ : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেন : (একদিন) আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পিছনে সালাত আদায় করলাম । (এই সালাতে) তিনি কিছু বেশী বা কম করলেন । (হাদীসের বর্ণনাকারী) ইবরাহীম বলেছেন , আল্লাহর শপথ , এই সন্দেহ (রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাতে কম করলেন না বেশী করলেন) আমার নিজের । তিনি (ইবরাহীম) বলেছেন , আমরা বললাম , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! সালাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম নাযিল হয়েছে ? তিনি বললেন না (নতুন কোন হুকুম নাযিল হয়নি) । তখন (সালাতে) তিনি যা করেছেন আমরা তাঁকে তা বললাম । তিনি বললেন : কোন ব্যক্তি যদি সালাতে কোন কিছু বেশী বা কম করে ফেলে তাহলে (সিজদায়ে সাহুর) দুটি সিজদা করবে । বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেন : এর (এই কথা বলার) পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দুটি সিজদা করলেন ।

হাদীস নং-১১৭৬ : মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেছেন , আমি আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি । একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের সাথে দিবাভাগের দুই ওয়াক্ত সালাতের কোন এক ওয়াক্ত সালাতে অর্থাৎ যোহর কিম্বা আসর সালাত আদায় করলেন । কিন্তু দুই রাকাআত সালাত আদায় করার পরই সালাম ফিরালেন । এরপর তিনি রাগান্বিত মনে মসজিদের ক্বিবলার দিকে স্থাপিত এক বৃক্ষ শাখার উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন । এই সময় সবার মাঝে আবু বকর এবং উমারও ছিলেন । কিন্তু তারা উভয়েই (এই পরিস্থিতিতে) কথা বলতে সাহস পেলেন না । জলদবাজ লোকেরা তো দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলো । তারা বলছিলো সালাত কমিয়ে দেয়া হয়েছে । অতঃপর যুলইয়াদাইন উপনামে পরিচিত এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! সালাত কি কম করে দেয়া হয়েছে – না আপনি ভুলে গিয়েছেন ? একথা শুনে নবী (সাঃ) ডানে বায়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন যুলইয়াদাইন যা বলছে তা কি ঠিক ? সবাই জবাব দিলো , হ্যাঁ সে যা বলেছে সত্য বলেছে । আপনি তো সালাত দুই রাকাআত মাত্র পড়েছেন । তখন তিনি আরো দুই রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন । এরপর তাকবীর বলে সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন । তারপর আবার তাকবীর বলে সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন । এতটুকু বর্ণনা করার পর মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন বললেন , ইমরান ইবনে হুসাইন সম্পর্কে আমাকে বলা হয়েছে যে তিনি বলেছেন , এরপর নবী (সাঃ) সালাম ফিরালেন ।
টিকা : যুলইয়াদাইন অর্থ দুই হাত ওয়ালা । যুলইয়াদাইন বনী সুলাইম গোত্রের খেরবাক ইবনে আমরের উপনাম । তার হাত দুটি অস্বাভাবিক লম্বা হওয়ার কারণে তিনি এই নামে পরিচিত হয়েছিলেন ।

হাদীস নং-১১৭৭ : আবুর রাবীয যাহরানী হাম্মাদ , আইয়্যুব ও মুহাম্মাদের মাধ্যমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি (আবু হুরায়রা (রাঃ)) বলেছেন : একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের সাথে দিবাভাগের দুই ওয়াক্ত সালাতের এক ওয়াক্ত আদায় করলেন । এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি সুফিয়ান বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করলেন ।

হাদীস নং-১১৭৮ : ইবনে আবু আহমাদের আযাদকৃত দাস আবু সুফিয়ান হতে বর্ণিত । তিনি বলেছেন : আমি আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি । একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন । কিন্তু দুই রাকাআত পড়ার পর সালাম ফিরালেন । যুলইয়াদাইন দাঁড়িয়ে বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! সালাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে – না আপনি ভুলে গিয়েছেন ? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন : এসব (সালাত কমিয়ে দেয়া বা আমার ভুল করা) কিছুই হয়নি । একথা শুনে যুলইয়াদাইন বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! কিছু একটা অবশ্যই হয়েছে । তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) লোকদের দিকে ঘুরে বললেন : যুলইয়াদাইনের কথা কি ঠিক ? সবাই বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! সে ঠিকই বলেছে । তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূরণ করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর বসে বসেই দুটি সিজদা (সিজদায়ে সাহু) করলেন ।

হাদীস নং-১১৭৯ : হাজ্জাজ ইবনে শা’এর হারুন ইবনে ইসমাঈল খাযযায , আলী ইবনে মুবারাক , ইয়াহইয়া ও আবু সালামার মাধ্যমে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন । (আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন) একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যোহরের সালাত দুই রাকাআত পড়ে সালাম ফিরালেন । তখন বনী সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে না আপনি ভুল করেছেন ? এতটুকু বর্ণনা করার পর আবু সালামা হাদীসটি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন ।

হাদীস নং-১১৮০ : ইসহাক ইবনে মানসুর , উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা , শায়বান , ইয়াহইয়া ও আবু সালামার মাধ্যমে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন । আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন , আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে যোহরের সালাত আদায় করেছিলাম । কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দুই রাকাআত পড়েই সালাম ফিরালে বনী সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো । এরপর তিনি (শায়বান) হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন ।

হাদীস নং-১১৮১ : ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত । (তিনি বলেছেন) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদিন আসরের সালাত আদায় করতে তিন রাকাআত পড়ার পর সালাম ফিরালেন । এরপর তিনি তার বাড়ীর মধ্যে চলে গেলেন । তখন অস্বাভাবিক দীর্ঘ হাত বিশিষ্ট খিরবাক নামক এক ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ! এরপর সে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যা করেছিলেন তা বর্ণনা করলো । একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রাগান্বিত মনে চাদড় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে আসলেন এবং লোকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন : এ লোকটি কি ঠিক কথা বলছে ? সবাই জবাব দিলো , হ্যাঁ সে ঠিক বলেছে । তখন তিনি আরও এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরালেন । এরপর দুটি সিজদা দিয়ে আবার সালাম ফিরালেন ।

হাদীস নং-১১৮২ : ইমরাম ইবনে হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেছেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদিন আসরের নামায পড়তে তিন রাকাআত পড়ে সালাম ফিরালেন এবং নিজ কামরার মধ্যে প্রবেশ করলেন । তখন লম্বা দুটি হাত বিশিষ্ট এক লোক দাঁড়িয়ে বললো , হে আল্লাহর রাসূল , নামায কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে ? একথা শুনে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাঃ) রাগান্বিত হয়ে বেড়িয়ে আসলেন অতঃপর যে এক রাকাত নামায তিনি ছেড়েছিলেন তা পড়ে সালাম ফিরারেন । এরপর সাহুর দুটি সিজদা করলেন এবং আবার সালাম ফিরালেন ।
HADISER ANUGOTTO

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,৭৭৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. According to the sound view of Hanafis, the prostration of forgetfulness is wajib; according to other sects, it is sunnah. (Ibnul-Humam, Fathul-Qadir, Egypt 1316/1898, I, 355, 374; al-Kasani, Badayiu’s-Sanayi’, Beirut 1394/1974, I,163-179; al-Maydani, al-Lubab, Istanbul n.d., I, 95 et al.; az-Zuhayli, al-Fiqhul-Islami wa Adillatuh, Damascus 1405/1985, I, 87 et al.).

    The evidence that Hanafis base their view on is this hadith reported by Abdullah b. Mas’ud (may Allah be pleased with him): ” If anyone of you is doubtful about his prayer, he should follow what he thinks to be correct and complete his prayer accordingly and finish it and do two prostrations of forgetfulness” (Bukhari, Salat, 31; Muslim, Masajid, 88, 89; Abu Dawud, Salat, 190, 191, 193; Nasai, Sahw, 24, 25; Ibn Majah, Iqama, 132, 133; Malik, Muwatta’, Nida, 61-63; Ahmad b. Hanbal, I, 190, 193, 204-206). Abu Said al-Khudri (may Allah be pleased with him) reports the Messenger of Allah saying: “When any one of you is in doubt about his prayer and he does not know how much he has prayed, three or four (rak’ats). He should cast aside his doubt and base his prayer on what he is sure of, then perform two prostrations before giving salutations. If he has prayed five rak’ats, they will make his prayer an even number for him, and if he has prayed exactly four, they will be humiliation for the devil ” (Bukhari, Sahw, 6, 7; Muslim, Salat, 19, 20; Ahmad b. Hanbal, III, 12, 37, 42).

    ABU TASNEEM

    @আহমাদ, @আহমাদ , আপনার হাদীস দুটো থেকে কি প্রমাণ হয় যে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়ে ডানে সালাম ফিরিয়ে দুটো সিজদা দিতে হবে । তার পর আবার তাশাহুদ , দরুদ , মাছুরা পড়ে সালাম ফিরাতে হবে ।
    পারলে এটার পক্ষে সহীহ দলীল দিন ?