লগইন রেজিস্ট্রেশন

প্রসঙ্গ আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান এবং কথিত আহলে হাদীসদের ভ্রান্ত আক্বিদা

লিখেছেন: ' Anonymous' @ রবিবার, মার্চ ১৮, ২০১২ (১০:৩২ পূর্বাহ্ণ)

দুঃখিত এটা মৌলিক লেখা নয়। এখানে থেকে নেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান

কথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায় প্রচার করে থাকে, আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান নয়। তারা দলিল হিসেবে পেশ করে থাকে সূরা হাদীদের ৩ নং আয়াত। যেখানে ঘোষিত হয়েছে আল্লাহ তায়ালা আরশে সমাসিন। ওরা একটি আয়াত দিয়ে আরো অসংখ্য আয়াতকে অস্বিকার করে নাউজুবিল্লাহ। যেই সকল আয়াত দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান।
এক আয়াতকে মানতে গিয়ে আরো ১০/১২টি আয়াত অস্বিকার করার মত দুঃসাহস আসলে কথিত আহলে হাদীস নামী ফিতনাবাজ বাতিল ফিরক্বাদেরই মানায়।
অসংখ্য আয়াতে কারীমাকে অস্বিকার করে আল্লাহ তায়ালাকে কেবল আরশে সীমাবদ্ধ করার মত দুঃসাহস ওরা দেখাতে পারলেও আমরা পারি না। আমরা বিশ্বাস করি-আল্লাহ তায়ালা আরশেও আছেন, আছেন জমিনেও, আছেন পূর্বেও। আছেন পশ্চিমেও। আছেন উত্তরেও। আছেন দক্ষিণেও। উপরেও আছেন। নিচেও আছেন। আল্লাহর গোটা রাজত্বের সর্বত্র তার সত্তা বিরাজমান।
কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা দেহধারী সত্তার বৈশিষ্ট। আল্লাহ তায়ালার মত নিরাকার সত্তার জন্য এটা শোভা পায় না। এই আহলে হাদীস বাতিল ফিরক্বাটি এতটাই বেয়াদব যে, আল্লাহ তায়ালার দেহ আছে বলে বিশ্বাস করে। দেহ থাকাতো সৃষ্টির বৈশিষ্ট। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সকল সৃষ্টির স্রষ্টার জন্য দেহ সাব্যস্ত করা এক প্রকার সুষ্পষ্ট শিরক। এই শিরকী আক্বিদা প্রচার করছে ইংরেজ সৃষ্ট কথিত আহলে হাদীস সম্র্যদায়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই ভয়াবহ মারাত্মক বাতিল ফিরক্বার হাত থেকে আমাদের দেশের সরলমনা মুসলমানদের হিফাযত করুন। বক্ষমান প্রবন্ধে আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান নিয়ে একটি দলিল ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হল। পরবর্তী প্রবন্ধে আল্লাহ তায়ালা যে দেহ থেকে পবিত্র, আল্লাহ তায়ালার দেহ সাব্যস্ত করা সুষ্পষ্ট শিরকী, এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা প্রকাশ করা হবে ইনশআল্লাহ।

১-

ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
অতঃপর তিনি আরশে সমাসিন হন {সূরা হাদীদ-৩}

২-

قوله تعالى {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ}
আর যখন আমার বান্দা আমাকে ডাকে, তখন নিশ্চয় আমি তার পাশেই। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে ডাকে। {সূরা বাকারা-১৮৬}

৩-

قوله تعالى {وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِن حَبلِ الوَرِيدِ} [ق 16]
আর আমি বান্দার গলদেশের শিরার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}

৪-

فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ (85)
অতঃপর এমন কেন হয়না যে, যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক। এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা {সূরা ওয়াকিয়া-৮৩,৮৪,৮৫}

৫-

{ وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115]
পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

৬-

قوله تعالى { وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ } [ الحديد - 4 ]
তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন {সূরা হাদীদ-৪}

৭-

وقال تعالى عن نبيه : ( إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا (التوبة من الآية40
যখন তিনি তার সাথীকে বললেন-ভয় পেয়োনা, নিশ্চয় আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন {সূরা হাদীদ-৪০}

৮-

قوله تعالى مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلاَّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلاَّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلاَّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ( المجادلة – 7 )
কখনো তিন জনের মাঝে এমন কোন কথা হয়না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন, এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা কিছু করত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন {সূরা মুজাদালা-৭}

৯-

وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ
আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান হলে আকাশের দিকে কেন হাত উঠিয়ে দুআ করা হয়?

আদবের জন্য। যদিও আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান। তিনি ডান দিকেও আছেন, বাম দিকেও আছেন, উপরেও আছেন, নিচেও আছেন। সামনেও আছেন। বাম দিকেও আছেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার শান হল উঁচু, তাই আদব হিসেবে উপরের দিকে হাত উঠিয়ে দুআ করা হয়।
যেমন কোন ক্লাশরুমে যদি লাউডস্পীকার ফিট করা হয়। চারিদিক থেকে সেই স্পীকার থেকে শিক্ষকের আওয়াজ আসে। তবুও যদি কোন ছাত্র শিক্ষকের দিকে মুখ না করে অন্যত্র মুখ করে কথা শুনে তাহলে শিক্ষক তাকে ধমক দিবেন। কারণ এটা আদবের খেলাফ। এই জন্য নয় যে, অন্য দিক থেকে আওয়াজ শুনা যায় না। তেমনি আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান থাকা সত্বেও উপরের দিকে মুখ করে দুআ করা হয় আল্লাহ তায়ালা উুঁচু, সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই আদব হিসেবে উপরের দিকে হাত তুলে দুআ করা হয়।

জিবরাঈল উপর থেকে নিচে নেমে আসেন মানে কি?

এর মানে হল-যেমন পুলিশ এসে কোন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে কারণ বলে যে, উপরের নির্দেশ। এর মানে কি পুলিশ অফিসার উপরে থাকে? না সম্মান ও ক্ষমতার দিক থেকে যিনি উপরে তার নির্দেশ তাই বলা হয় উপরের নির্দেশ? তেমনি আল্লাহ তায়ালা ফরমান নিয়ে যখন জিবরাঈল আসেন একে যদি বলা হয় উপর থেকে এসেছেন, এর মানেও সম্মানসূচক ও পরাক্রমশালীর কাছ থেকে এসেছেন। তাই বলা হয় উপর থেকে এসেছেন। এই জন্য নয় যে, আল্লাহ তায়ালা কেবল আরশেই থাকেন।

আল্লাহ তায়ালা কি সকল নোংরা স্থানেও আছেন? নাউজুবিল্লাহ

এই উদ্ভট যুক্তি যারা দেয় সেই আহমকদের জিজ্ঞেস করুন। তার কলবে কি দু’একটি কুরাআনের আয়াত কি সংরক্ষিত আছে? যদি বলে আছে। তাহলে বলুন তার মানে সীনায় কুরআনে কারীম বিদ্যমান আছে। কারণ সংরক্ষিত সেই বস্তুই থাকে, যেটা বিদ্যমান থাকে, অবিদ্যমান বস্তু সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তো সীনায় যদি কুরআন বিদ্যমান থাকে, সেটা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া কিভাবে জায়েজ? কুরআন নিয়েতো টয়লেটে যাওয়া জায়েজ নয়। তখন ওদের আকল থাকলে বলবে-কুরআন বিদ্যমান, কিন্তু দেহ থেকে পবিত্র কুরআন। তেমনি আমরা বলি আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমান। কিন্তু তিনি দেহ থেকে পবিত্র। সেই হিসেবে সর্বত্র বিরাজমান। সুতরাং কুরআন যেমন সীনায় থাকায় সত্বেও টয়লেটে যেতে কোন সমস্যা নেই। কুরআনে কারীমের বেইজ্জতী হয়না, সীনায় সংরক্ষিত কুরআনের দেহ না থাকার কারণে, তেমনি আল্লাহ তায়ালার দেহ না থাকার কারণে অপবিত্র স্থানে বিদ্যমান থাকাটাও কোন বেইজ্জতীর বিষয় নয়।

যেই সকল নির্বোধের দল আল্লাহ তায়ালা সর্বত্র বিরাজমানতাকে অস্বিকার করে আল্লাহ তায়ালাকে নির্দিষ্ট স্থানে সমাসিন বলে আল্লাহ তায়ালার সত্তার বেয়াদবী করছে ওদের অপপ্রচার থেকে, বাতিল আক্বিদা থেকে আমাদের আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করুন। আমীন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,৬৭২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৪১ টি মন্তব্য

  1. আমি কিছু দিন পরেই এই বিষয়ে একটি পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করব । আপাততঃ এই লিংক আল্লাহ কোথায় ? লেকচারটি শুনুন ।

  2. আমি কিছু দিন পরেই এই বিষয়ে একটি পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করব । আপাততঃ এই লিংক আল্লাহ কোথায় ? লেকচারটি শুনুন । সকল প্রশ্নের জবাব এতে পাওয়া যাবে ইনশা-আল্লাহ ।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, এ নিয়ে আপনাদের ঘরানার লোকদের থেকে এ ব্লগে আগেও লেখালেখি হয়েছে। এর বিপরীতে দলীল ভিত্তিক অনেক কমেন্টও এসেছিল কিন্তু মূল ব্লগারের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য কোন উত্তর পাওয়া যায় নি। এজন্য আপনাকেও আর নতুন করে কোন পোস্ট দিতে হবে না। উপরের কুরআনের আয়াতগুলো পারলে খন্ডন করুন। একই সাথে বিভিন্ন পোস্টে আপনার কাছে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছিল, মেহেরবানী করে নতুন বিতর্ক উত্থাপন করার আগে ওগুলো উত্তর দিন। এখানে কোন প্রশ্ন করার হয় নি বরং আপনাদের মিথ্যাচারের জবাব কুরআন থেকে দেয়া হয়েছে।

    আর যে কোন ব্যপারে মতিউর রহমানের ভিডিও দেখান কেন? মতিউর রহমান ছাড়া আর কোন আলেম নেই? মতিউর রহমান তার লেকচারে তিনি নিজে বাদে সকল লোককে গোমারাহ, আকীদায় সমস্যা খুজে পান। এক সময় দেখতাম ভন্ড পীররা এমন করত, তিনি নিজে বাদে সব খারাপ। অন্য কিছু বাদ দিয়ে শুধু দেওবান্দীদের ব্যাপারে বলি। উনি দেওবান্দীদের বিভিন্ন বায়বীয় আকীদার কথা উল্লেখ করে বলেছেন দেওবান্দীরা স্বীকার করবে না যে এগুলো তাদের আকীদা। কি চমৎকার! দেওবান্দীরা যে গুলো নিজেদের আকীদা হিসেবে স্বীকার করে না উনি সেগুলোই দেওবান্দীদের উপর চাপিয়ে দিতে চান। একইভাবে বেরেলভীদের অনেক আকীদা উনি দেওবান্দীদের আকীদা হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন। তিনি রেফারেন্স হিসেবে এমন সব কিছু কিতাবের নাম উল্লখ করেছেন যা পাওয়া যায় না। তাই সাধারণ মানুষের পক্ষে তাহকীক করারও উপায় নেই। একই ভাবে কখনও তিনি কিছু দেওবান্দীদের আকীদা ভুল প্রমান করতে গিয়ে ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছেন, কখনও আংশিক উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যেমন দেওবান্দীরা নাকি বলে যারা মাযহাব ওয়াজিব। সাধারণ মানুষের কাছে উনারা প্রশ্ন রাখেন তাহলে নাবীদের মাযহাব কি ছিল? সাহাবাদের মাযহাব কি ছিল? সাধারণ মানুষও এসব কথায় বিভ্রান্ত হয়। অথচ দেওবান্দীদের কথা হল যাদের ইস্তিহাদের যোগ্যতা নেই তাদের জন্য কোন না কোন মুস্তাহিদের তাকলীদ করা ওয়াজিব। তিনি বলেছেন, দেওবান্দীরা নাকি বলে আল্লহ নিরাকার? এটা এক ডাহা মিথ্যা কথা। বরং আল্লহকে দুনিয়াতে দেখা যায় না কিন্তু জান্নাতে দেখা যাবে। এটাই সহিহ আকীদা।

    আসল কথা হল মতিউর রহমান সাহেব এদেশের সাধারন মানুষের সাথে আলেমদের সম্পর্ক নষ্ট করার এক সুদুর প্রসারী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। কেননা উলামাকেরামদের সাথে জনসাধারণের সম্পর্ক নষ্ট হলে এলেমের সাথে জনসাধারণের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আর এলেমের সাথে জনসাধারণের সম্পর্ক নষ্ট হলে দ্বীনের সাথে জনসাধারণের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আর এটাই উনাদের মিশন, উম্মত গোমরাহ হয়ে যাক। তাই মতিউর রহমানের মত একপেশে, অপনিরপেক্ষ biased, অসত্য তথ্য প্রদানকারী লোকদের ভিডিও আর না দেয়ার জন্য অনুরোধ। একই ভাবে নিজেও হেদায়েত পেতে চাইলে এমন লোকদের অন্ধ অনুসরণ বাদ দিন। এতগুলো কুরআনের আয়াত পেশ করার পর আপনি এর বিপরীতে মতিউর রহমানকে পেশ করলেন। ব্যপারটা শিরক হল না? এমন কিছু যুক্তিতে (যদিও ফালতু যুক্তি ছিল) কয়েক দিন আগে ফাযায়েলে আমাল তুলোধুনা করলেন।
    কুরআনের এতগুলো আয়াতের বিপরীতে মতিউর রহমান! মতিউর রহমানকে আল্লহর উপরে স্থান দেয়া হল না?

  3. মুলকথা হোলো, আল্লাহপাক যে সর্বত্র বিরাজমান এটা কুদরতীভাবে, স্বত্বাগতভাবে নয়।

    Anonymous

    @ম্যালকম এক্স, হ্যা আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার স্বত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা আছে।

  4. মু‘আবিয়া বিন আল-হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
    ‘আমার একজন দাসী ছিল। ওহুদ ও জাওয়ানিয়্যাহ (ওহুদের নিকটবর্তী একটি স্থান) নামক স্থানে সে আমার ছাগল চরাত। একদিন দেখি, নেকড়ে আমাদের একটি ছাগল ধরে নিয়ে গেছে। আমি একজন আদম সন্তান (সাধারণ মানুষ)। তারা যেভাবে ক্রদ্ধ হয় আমিও সেভাবে ক্রদ্ধ হই। কিন্তু আমি তাকে এক থাপ্পড় মারি। অতঃপর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট আসলে একে আমি সাংঘাতিক (অন্যায়) কাজ বলে গণ্য করি। তাই আমি বলি যে, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি কি তাকে আযাদ করব না? তিনি বললেন, তাকে আমার নিকট নিয়ে আস। আমি তাকে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে আসলাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আসমানে। তিনি (ছাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? তখন সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তাকে মুক্তি দিয়ে দাও, কারণ সে একজন ঈমানদার নারী’।(ছহীহ মুসলিম হা/৫৩৭ ‘মসজিদ সমূহ ও ছালাতের স্থানসমূহ’ অনুচ্ছেদ।)

    কুরআনের সবচেয়ে বড় ব্যাখ্যাকারী হচ্ছে মুহাম্মাদ (সাঃ) । তিনি কোন হাদীসের মাধ্যমে এই আক্বীদা দিয়ে যাননি যে , আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান । এই হাদীস অনুযায়ী দাসী যদি বলত আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান । তাহলে সে পাস করত কি ? নাকি আল্লাহর রাসূল তার ঈমানদারীত্বেন মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন ?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM,৯ নং পয়েন্ট দেখুন উত্তর দেআ আছে। এই হাদিস দ্বারা প্রমানিত আল্লহ আসমানে। শুধুই আসমানে অন্য কোথাও নেই একথা প্রমাণ হয় না। মুলতঃ আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার আরশ আসমানে। তাই সাধারণভাবে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা আসমানে এটা বলা হয়। কিন্তু এর দ্বারা প্রমানিত হয় না যে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা অন্য কোথাও নেই। কুরআনের সবচেয়ে বড় ব্যাখ্যাকারী হচ্ছে মুহাম্মাদ (সাঃ) । কিন্তু মুহা’ম্মাদ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামি কি কখনও বলেছেন যে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা শুধু আসমানেই আছেন আর কোথাও নেই?

  5. বিদায় হজ্জের ভাষণে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ছাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তোমরা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, তখন কি বলবে? ঐ সময় উপস্থিত ছাহাবীগণ বলেছিলেন, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি আপনার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন। একথা শুনার পর আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) তাঁর হাতের আঙ্গুল আসমানের দিকে উত্তোলন করে বলেছিলেন, হে আল্লাহ! তাদের কথার উপর সাক্ষি থাক’।(ছহীহ মুসলিম হা/১২১৮ ‘হজ্জ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৯।)

    আল্লাহ যদি সর্বত্র বিরাজমান হতেন তাহলে আসমানের দিকে ইশারা করার কোন প্রয়োজন ছিল কি?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, কেন আল্লাহ যদি সর্বত্র বিরাজমান থাকেন তাহলে আসমানে নেই?

  6. আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন,
    ‘যয়নব (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণের উপর গর্ব করে বলতেন যে, তাঁদের বিয়ে তাঁদের পরিবার দিয়েছে, আর আমার বিয়ে আল্লাহ সপ্ত আসমানের উপর থেকে সম্পাদন করেছেন’।(বুখারী হা/৭৪২০ ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২০।)

    উম্মুল মুমিনিন এর কথায় আল্লার রাসূলের শিখানো আক্কীদাই প্রকাশ পেয়েছে । তাই নয় কি ?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, কি আকীদাহ শিখিয়েছেন? আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা আসমান বাদে কোথাও নেই?

  7. সালাফে ছালেহীন থেকে আমরা যা পাই তা হচ্ছে, আল্লাহ আসমানের উপর আরশে অবস্থান করছেন। আবুবকর (রাঃ) থেকে আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর ওফাত হয়, আবু বকর (রাঃ) এসে তাঁর (ছাঃ) কপালে চুমু খেয়ে বলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনি জীবনে ও মরণে উত্তম ছিলেন। এরপর আবু বকর (রাঃ) বলেন, হে মানব জাতি! তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ইবাদত করতে, তারা জেনে রাখ যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর ইবাদত কর তারা জেনে রাখ যে, আল্লাহ আকাশের উপর (আরশে)। তিনি চিরঞ্জীব।(বুখারী, আত-তারীখ, ১ম খন্ড, পৃঃ ২০২; ইবনুল ক্বাইয়িম, ইজতিমাউল জুয়ূশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃঃ ৮৩-৮৪; আর-রাহীকুল মাখতূম, পৃঃ ৪৭০।)

    আবু বকর রাঃ কি ভ্রান্ত আক্বীদা পোষন করতেন ?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ
    আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, আবু বাকর রদিয়াল্লহু আ’নহু ভ্রান্ত আক্বীদা পোষন করতেন না। এই হাদীসে আবু বাকর রদিয়াল্লহু আ’নহু এর আকীদার বিস্তারিত বিবরণও নেই। এখানে আছে “আর তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর ইবাদত কর তারা জেনে রাখ যে, আল্লাহ আকাশের উপর। তিনি চিরঞ্জীব।” এটা সহীহ আক্বীদাহ। আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা আকাশের উপরেও আছেন। এবং তিনি চিরঞ্জীব।

  8. ইমামদের মতামত গুলিও দেখুন :
    ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন, ‘যে বলবে যে, আল্লাহ আসমানে আছেন, না যমীনে তা আমি জানি না, সে কুফরী করবে। কেননা আল্লাহ বলেন, রহমান আরশে সমাসীন। আর তার আরশ সপ্ত আকাশের উপর।(ইজতিমাউল জুয়ূশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃঃ ৯৯। )

    ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, ‘আল্লাহ আকাশের উপর এবং তাঁর জ্ঞানের পরিধি সর্বব্যাপী বিস্তৃত। কোন স্থানই তাঁর জ্ঞানের আওতার বহির্ভূত নয়’।(ঐ, পৃঃ ১০১।)

    ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) বলেন,
    ‘সুন্নাহ সম্পর্কে আমার ও আমি যেসকল আহলেহাদীছ বিদ্বানকে দেখেছি এবং তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছি যেমন সুফিয়ান, মালেক ও অন্যান্যরা, তাদের মত হল এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া কোন (হক্ব) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহর রাসূল। আর আল্লাহ আকাশের উপর তাঁর আরশে সমাসীন। তিনি যেমন ইচ্ছা তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হন এবং যেমন ইচ্ছা তেমন নীচের আকাশে অবতরণ করেন’।(ঐ, পৃঃ ১২২।)

    ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-এর পুত্র আব্দুল্লাহ বলেন,
    ‘আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করা হ’ল যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি থেকে দূরে সপ্তম আকাশের উপরে তাঁর আরশে সমাসীন। তাঁর ক্ষমতা ও জ্ঞানের পরিধি সর্বত্র বিস্তৃত। এর উত্তরে তিনি (ইমাম আহমাদ) বলেন, হ্যাঁ! তিনি (আল্লাহ) আরশের উপর সমাসীন এবং তাঁর জ্ঞানের বহির্ভূত কিছুই নেই।(ঐ, পৃঃ ১৫২-১৫৩।)

  9. ফেরাঊন নিজেকে আল্লাহ দাবী করেছিল। সে কাফের হওয়া সত্ত্বেও তার বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহ আরশের উপর আছেন। ফেরাঊন বলল, ‘হে হামান! তুমি আমার জন্য এক সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরী কর, যাতে আমি অবলম্বন পাই আসমানে আরোহণের, যেন আমি দেখতে পাই মূসা (আঃ)-এর মা‘বূদকে (মুমিন ৪০/৩৭-৩৮)।

    মুসা আঃ এর আক্বীদাও একই রকম ছিল । তাই তো ফেরাউন আল্লাহকে দেখার জন্য আসমানে উঠতে চেয়েছিল ।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, ফেরাউন আল্লাহকে দেখার জন্য আসমানে উঠতে চেয়েছিল কিন্তু মুসা আ’লাইহিস সালাম আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার সাথে কথা বলতে এবং কিতাব আনতে কোথায় গিয়ে ছিলেন?

  10. ইসরা ও মি‘রাজ-এর ঘটনায় আমরা লক্ষ্য করি যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে যখন একের পর এক সপ্ত আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল নবী-রাসূলগণের এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের জন্য সপ্ত আসমানের উপর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর যখন আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) পঞ্চাশ ওয়াক্ত ছালাত নিয়ে মূসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন মূসা (আঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে বলেছিলেন, তোমার উম্মত ৫০ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করতে সক্ষম হবে না। যাও আল্লাহর নিকট ছালাত কমিয়ে নাও। এরপর কমাতে কমাতে পাঁচ ওয়াক্ত হয়। এরপর মূসা (আঃ) আরও কমাতে বলেছিলেন, কিন্তু রাসূল (ছাঃ) লজ্জাবোধ করেছিলেন।(মুত্তাফাক্ব আলাইহ; মিশকাত হা/৫৮৬২।) এ সময় আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ছালাত কমানোর জন্য সপ্ত আকাশের উপর উঠতেন। আবার ফিরে আসতেন মূসা (আঃ)-এর নিকট ষষ্ঠ আসমানে। এ দ্বারা বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপরে আছেন।

    আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান হলে মিরাজের জন্য সপ্ত আসমানে যওয়ার কি প্রয়োজন ছিল ?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, কি প্রমাণ করলেন, বুঝা গেল না। মুসা আ’লাইহিস সালাম আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার সাথে কথা বলেছেন কোথায়?

  11. প্রত্যেক রাতে আল্লাহ তা‘আলার দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি আরশের উপর সমাসীন। এর প্রমাণ রাসূল (ছাঃ)-এর নিম্নোক্ত হাদীছ :
    আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছ যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দিব? কে আছ যে আমার কাছে কিছু চাইবে আর আমি তাকে তা দান করব। কে আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দিব’।(বুখারী হা/১১৪৫; মুসলিম হা/৭৫৮; আবুদাঊদ হা/১৩১৫; ইবনু মাজাহ হা/১৩৬৬; মিশকাত হা/১২২৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘তাহাজ্জুদের প্রতি উৎসাহিতকরণ’ অনুচ্ছেদ।)

    আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান হলে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসার তো প্রয়োজন থাকে না । থাকে কি?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, তার মানে আপনি স্বীকার করলেন আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা শুধু আরশেই নয় দুনিয়ার আকাশেও আসেন। তার মানে অন্যান্য জায়গাতেও আসতে পারেন? তাহলে ওয়াদাতুল ওজুদে সমস্যা কি?

  12. আমরা দো‘আ করার সময় দু’হাত উত্তোলন করে আল্লাহর নিকট চাই। এতে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ আরশের উপর আছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
    সালমান ফারেসী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জাশীল ও মহানুভব। যখন কোন ব্যক্তি তাঁর নিকট দু’হাত উত্তোলন করে দো‘আ করে, তখন তাকে শূন্য হাতে ব্যর্থ মনোরথ করে ফেরত দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন’।(তিরমিযী হা/৩৫৫৬, ইবনু মাজাহ হা/৩৮৬৫, হাদীছ ছহীহ।)

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, ৯ নং পয়েন্ট দেখুন। আরেক হাদিসে আছে বান্দা সিজদাহ অবস্থায় আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে।

  13. আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপরে আছেন, এর প্রমাণে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ-
    আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন আল্লাহ মাখলূক সৃষ্টির ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন তাঁর কাছে আরশের উপর রক্ষিত এক কিতাবে লিপিবদ্ধ করেন- অবশ্যই আমার করুণা আমার ক্রোধের উপর জয়লাভ করেছে’।(বুখারী হা/৩১৯৪ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১; মিশকাত হা/২৩৬৪ ‘দো‘আ’ অধ্যায়, ‘আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা’ অনুচ্ছেদ।)

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ
    আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

    { وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115]
    পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

  14. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিছু সৃষ্টিকে উপরে উঠিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘বরং আল্লাহ তাকে (ঈসাকে) নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন’ (নিসা ৪/১৫৮)। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন, ‘স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করছি এবং আমার নিকট তোমাকে তুলে নিচ্ছি’ (আলে ইমরান ৩/৫৫)।

    আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান হলে নিজের দিকে কোন দিক ?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, { وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115]
    পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

  15. এবার কুরআন থেকে দেখুন :

    আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। অথচ মহান আল্লাহ বলছেন, তিনি আরশের উপর সমাসীন। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে ৭টি আয়াত বর্ণিত হয়েছে।(ইমাম ইবনু তায়মিয়া, মাজমূউ ফাতাওয়া ৩/১৩৫।)
    রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)ও বলেছেন যে, আল্লাহ আসমানে আছেন। ছাহাবী (রাঃ) এবং তাবেঈগণ সকলেই বলেছেন আল্লাহ আসমানে আছেন। তাছাড়া সকল ইমামই বলেছেন, আল্লাহ আসমানে আছেন। এরপরেও যদি বলা হয়, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান তাহ’লে কি ঈমান থাকবে এবং আমল কবুল হবে?

    আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান- একথা ঠিক নয়, বরং পবিত্র কুরআন বলছে, আল্লাহ আরশে সমাসীন। এ মর্মে বর্ণিত দলীলগুলো নিম্নরূপ-
    (১) আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হচ্ছেন সেই আল্লাহ যিনি আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন’ (আ‘রাফ ৭/৫৪)।
    (২) ‘নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন’ (ইউনুস ১০/৩)।
    (৩) ‘আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমন্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত- তোমরা এটা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হ’লেন’ (রা‘দ ১৩/২)।
    (৪) ‘দয়াময় (আল্লাহ) আরশে সমাসীন’ (ত্ব-হা ২০/৫)।
    (৫) ‘তিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেন; অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনিই রহমান, তাঁর সম্বন্ধে যে অবগত আছে তাকে জিজ্ঞেস করে দেখ’ (ফুরক্বান ২৫/৫৯)।
    (৬) ‘আল্লাহ তিনি, যিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন’ (সাজদাহ ৩২/৪)।
    (৭) ‘তিনিই ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন’ (হাদীদ ৫৭/৪)।

    উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা আরশে সমাসীন আছেন। কিভাবে সমাসীন আছেন, একথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, ‘ইসতেওয়া বা সমাসীন হওয়া বোধগম্য, এর প্রকৃতি অজ্ঞাত, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ‘আত’।(শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া, আর-রিসালা আত-তাদাম্মুরিয়্যাহ, পৃঃ ২০।)

    আল্লাহ তা‘আলা আসমানের উপর আছেন। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন,
    ‘তোমরা কি (এ বিষয়ে) নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আকাশের উপর রয়েছেন তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন না? আর তখন ওটা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী বঞ্ঝাবায়ু প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী’? (মুলক ৬৭/ ১৬-১৭)।

    আশা করি আপনার বধোদয় হবে ।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ
    আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

    { وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115]
    পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}

    আরও দেখুন

    আস-সালামু আলাইকুম,
    আল্লাহপাক আরশের ওপর ইসতাওয়া হলেন , একথার অর্থ কি ? আল্লাহ পাকের এই বিষয় সম্বন্ধে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকীদা কি ?
    জুন. ১২, ২০১০ by julkarnaine
    উত্তর : উল্লেখিত স্পর্শকাতর আয়াতটির অর্থ বা ব্যাখ্যার ব্যাপারে উলামায়ে কিরাম থেকে বিভিন্ন ধরনের মতামত রয়েছে । তবে অধিকাংশ মতই কোরআন ও হাদিসের কাঠগড়ায় ভ্রান্ত ও পরিত্যাজ্য ।
    সত্য অন্বেষনকারী আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে এক্ষেত্রে দুটি মত প্রসিদ্ধ :

    ১। আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর ইসতাওয়া হলেন , এর অর্থ হচ্ছে স্বীয় শান অনুসারে আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন ।
    কথাটির উপর বিশ্বাস রাখা ঈমানী কর্তব্য , সালফে সালেহীনগন বিষয়টিকে কোনো ব্যাখ্যা বিশ্লেষন ব্যতীতই মেনে নিতেন , এবং কিভাবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন সে পদ্ধতি নিয়ে অনুসন্ধানকে অবৈধ মনে করতেন ।
    এ ব্যাপারে জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্নিত আছে যে , এক ব্যক্তি ইমাম মালেক (রহ:) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন – “আল্লাহপাক আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন” এ কথাটির স্বরূপ বা তাৎপর্য কি ? ঐ ব্যক্তির এই প্রশ্ন শ্রবন মাত্র ইমাম মালেক (রহ:) ঘর্মাক্ত হলেন , ভীত সন্ত্রস্হ হলেন , এবং প্রায় সংজ্ঞাহারা হওয়ার অবস্হা হোলো , যখন হুশ ফিরে আসলো তখন তিনি বললেন “আল্লাহপাকের আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়ার স্বরূপ মানুষের বোধ শক্তির উর্ধে । আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়ার তাৎপর্য মানুষের অজানা , তবে তার উপর ঈমান আনা ওয়াজিব । আর এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বেদআত । ”

    ২। পরবর্তীতে অনেক উলামায়ে কিরাম সাধারন মানুষকে বুঝানোর জন্য আল্লাহপাকের এসব গুনাবলীর বিভিন্ন ব্যাখ্যা পেশ করেছেন । যথা : আরশের উপর ইসতাওয়া হওয়ার অর্থ হচ্ছে (রূপক অর্থে ) আল্লাহ তায়ালা সাত তবক আসমান জমীনের কর্তৃত্ব হাতে নিলেন ( আল্লাহ পাকের হাত বলতে শক্তি ইত্যাদি উদ্দেশ্য )
    এমতটি অনেক আহলে হক উলামায়ে কিরামের , তবে প্রথম মতটিই অধিক গ্রহনযোগ্য এবং জমহুর উলামায়ে কিরামের মত ।

    মুলত বিষয়টি অনেক ব্যাখ্যা সাপেক্ষ , তাই এ বিষয়ে বই পুস্তকের স্নরনাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন ।

    তথ্যসূত্র :

    ১। তফসীরে রুহুল মাআনী – খন্ড ৫ , পৃষ্ঠা : ৬২
    ২। তফসীরে আবি সাউদ – খন্ড ৩ , পৃষ্ঠা : ২১০
    ৩। তফসীরে আত তাবারী – খন্ড ১ , পৃষ্ঠা : ২২৯
    ৪। তফসীরে নুরুল কোরআন – খন্ড ১১ , পৃষ্ঠা : ১৩৮

    উত্তর দিয়েছেন :

    মাওলানা ফরীদুল ইসলাম
    উলুমুল হাদীস – ২য় বর্ষ ।

    পরীক্ষিত এবং অনুমোদিত
    মুফতী রফিকুল ইসলাম
    হাদিস এবং তফসীর বিভাগের প্রধান
    ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার
    বসুন্ধরা , ঢাকা – ১২১২
    বাংলাদেশ ।

  16. (৩) মহান আল্লাহ বলেন,
    ‘তুমি কি লক্ষ্য কর না, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসাবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসাবে তিনি থাকেন না। তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ (জ্ঞানের দিক দিয়ে) তাদের সাথে আছেন। অতঃপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত’ (মুজাদালাহ ৫৮/৭)।

    এ আয়াত দ্বারা অনেকে যুক্তি পেশ করে বলেন যে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। তাদের এ দাবী ভিত্তিহীন। কারণ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, افتتح الآية بالعلم، واختتمها بالعلم. ‘মহান আল্লাহ আয়াতটি ইলম দ্বারাই শুরু করেছেন এবং ইলম দ্বারাই শেষ করেছেন’।(তাফসীর ইবনে কাছীর, ৮/১২-১৩; ইমাম আহমাদ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃঃ ৪৯-৫১। ) এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের সাথে আছেন।

    ইমাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, ‘উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, আল্লাহর জ্ঞান তাদের সঙ্গে’। তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপর এবং তাঁর জ্ঞান তাদের সব কিছু অবহিত’। ( মাজমূঊ ফাতাওয়া ৫/১৮৮-৮৯। )

    Anonymous

    @ABU TASNEEM,হ্যাঁ এভাবে আপনি যে হাদীসগুলো পেশ করেছেন এগুলোও অনেক ব্যাখ্যা আছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহমাতুল্লহ আ’লাইহি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এটাই অহাদাতুল অজুদ। আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার স্বত্ত্বা নিয়ে চিন্তা করতে নিষেধ করা আছে হাদীসে। আসল কথা হল আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার কুদরত সর্বব্যাপী। এই কথাটাই দেওবান্দীরা বলে থাকে এজন্য আপনারা বলেন তাদের আকীদায় সমস্যা আছে। বাস্তবে আপনারাও জানেন এটাই সহিহ আকীদাহ এরপরও শুধু আমজনতাকে দ্বীন থেকে গাফেলরাখার উদ্দেশ্যেই দেওবান্দীদের উদ্দেশ্যে বায়বীয় অভিযোগ এনে প্রপাগান্ডা চালান।

  17. আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান বলে অনেকে নিম্নের আয়াত পেশ করে যুক্তি দেয়- ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন- তিনি (জানার দিক দিয়ে) তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা দেখেন’ (হাদীদ ৫৭/৪)। আপনার দেয়া রেফারেন্স ৬ ।

    ইয়াহ্ইয়া বিন ওছমান বলেন, ‘আমরা একথা বলব না, যেভাবে জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় বলে যে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, সবকিছুর সাথে মিশে আছেন এবং আমরা জানি না যে তিনি কোথায়; বরং বলব আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং আরশের উপর সমাসীন, আর তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা, দেখা-শুনা সবার সাথে। এটাই উক্ত আয়াতের অর্থ। ইবনু তায়মিয়া বলেন, যারা ধারণা করে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান তাদের কথা বাতিল। বরং আল্লাহ স্বয়ং আরশের উপরে সমাসীন এবং তাঁর জ্ঞান সর্বত্র রয়েছে। (মাজমূঊ ফাতাওয়া ৫/১৯১-৯৩।)

    উক্ত আয়াতের (হাদীদ ৪) ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেছেন,
    ‘অর্থাৎ তিনি তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের কার্যসমূহের সাক্ষী। তোমরা ভূভাগে বা সমুদ্রে, রাতে বা দিনে, বাড়িতে বা বিজন মরুভূমিতে যেখানেই অবস্থান কর না কেন সবকিছুই সমানভাবে তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর শ্রবণ ও দৃষ্টির মধ্যে আছে। তিনি তোমাদের কথা শোনেন, তোমার অবস্থান দেখেন এবং তোমাদের গোপন কথা ও পরামর্শ জানেন’।(তাফসীর ইবনে কাছীর, ৭ম খন্ড, পৃঃ ৫৬০।)

    উছমান বিন সাঈদ আর-দারেমী বলেন,
    ‘তিনি আরশের উপরে থেকেই প্রত্যেক গোপন পরামর্শ ও প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে উপস্থিত থাকেন। কেননা তাঁর জ্ঞান তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তাঁর দৃষ্টি তাঁদের মধ্যে ক্রিয়াশীল আছে। তাঁর জ্ঞান ও দৃষ্টি থেকে কোন কিছুই আড়াল করতে পারে না এবং তারা তাঁর নিকট থেকে কোন কিছুই গোপন করতে পারে না। তিনি তাঁর পূর্ণ সত্তাসহ তাঁর সৃষ্টি থেকে দূরে আরশের উপরে সমাসীন আছেন। তিনি গোপন ও সুপ্ত বিষয় জানেন (ত্ব-হা ৭)। তিনি আরশের উপরে থেকেই তাদের কারো নিকট ঘাড়ের শাহ রগ অপেক্ষা নিকটে অবস্থান করেন। তাঁর জন্য এমনটি হওয়ার বিষয়ে তিনি সক্ষম। কারণ কোন কিছুই তাঁর থেকে দূরে নয় এবং আকাশমন্ডলী ও যমীনের কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন থাকে না। তিনি গোপন পরামর্শের সময় চতুর্থ জন, পঞ্চম জন ও ষষ্ঠজন হিসাবে আবির্ভূত হন। তবে তিনি স্বয়ং তাঁর সত্তাসহ তাদের সাথে পৃথিবীতে বিরাজমান নন’।(উছমান বিন সাঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, তাহকীক : বদর বিন আব্দুল্লাহ বদর (কুয়েত : দারু ইবনিল আছীর, ২য় সংস্করণ, ১৯৯৫), পৃঃ ৪৩-৪৪। )

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, আপনি যে ব্যাখ্যা গুলো দিয়েছেন এগুলোই ওয়াদাতুল ওজুদ। জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় বিশ্বাস করত আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা স্বত্ত্বাগতভাবে সর্বত্র বিরাজমান। কিন্তু এখন উলামা কেরাম একমত আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা স্বত্ত্বা সম্পর্কে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লাই ভাল জানেন। এটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা কেবল আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার কুদরত নিয়েই চিন্তা করতে পারি। আর কুদরতীভাবে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা সর্বত্র বিরাজমান। আরও সহজ কথায় আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার কুদরত সর্বত্র বিরাজমান। এটাই সহীহ আক্বীদাহ। এটা যারা স্বীকার না করাই গলদ আকীদাহ। অথচ আপনারা দেওবান্দীদের উপর শিরকের তুহমাত দিয়ে থাকেন। কেউ স্বত্ত্বাগতভাবে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা সর্বত্র বিরাজমান বলেছেন কোন প্রমাণ দিতে পারবেন?

  18. ‘আমি তার ঘাড়ের শাহ রগ অপেক্ষাও নিকটতর’ (ক্বাফ ৫০/১৬)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না’ (ওয়াক্বি‘আহ ৫৬/৮৫)। যারা এ আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করে বলেন, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান তাদের ধারণা ঠিক নয়।

    এখানে উভয় আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে- আল্লাহ তা‘আলার ফেরেশতারা মানুষের নিকটবর্তী। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী’ (হিজর ৯)।

    এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে- আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিক্রমে জিবরীল (আঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট পবিত্র কুরআন পৌঁছে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে ফেরেশতাগণ আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিক্রমে ও তাঁর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মানুষের ঘাড়ের শাহ রগ অপেক্ষা নিকটতর। আর মানুষের উপর ফেরেশতার যেমন প্রভাব থাকে, তেমনি শয়তানেরও।

    রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
    ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার জিন সহচর অথবা ফেরেশতা সহচর নিযুক্ত করে দেয়া হয়নি। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সাথেও কি হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, আমার সাথেও, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছেন। ফলে সে আমার অনুগত হয়ে গেছে। সে আমাকে কেবল ভাল কাজেরই পরামর্শ দেয়’।(মুসলিম, মিশকাত হা/৬৭ ‘ঈমান’ অধ্যায়।) অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের মধ্যে তার রক্তের ন্যায় বিচরণ করে থাকে’।(মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬৮ ‘ঈমান’ অধ্যায়, ‘কুমন্ত্রণা’ অনুচ্ছেদ।)

    এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘স্মরণ রেখো, দুই গ্রহণকারী ফেরেশতা তার ডানে ও বামে বসে তার কর্ম লিপিবদ্ধ করে’ (ক্বাফ ৫০/১৭)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে’ (ক্বাফ ১৮)।

    আমরা যা কিছু বলি সবই ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই রয়েছে তোমাদের জন্য তত্ত্বাবধায়কগণ, সম্মানিত লেখকবর্গ, তারা জানে তোমরা যা কর’।(ইনফিতার ৮২/১০-১২; তাফসীর ইবনে কাছীর, ৭ম খন্ড, পৃঃ ৪০৪।)
    আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন বলেন, উভয় আয়াতে নিকটবর্তী বুঝাতে ফেরেশতাদের নিকটবর্তী হওয়া বুঝাচ্ছে। অর্থাৎ এখানে উভয় আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে ফেরেশতাগণ।

    (১) প্রথম আয়াতে (ক্বাফ ১৬) নিকটবর্তিতাকে শর্তযুক্ত (مقيد) করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, ‘আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার প্রবৃত্তি তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তা আমি জানি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটতর। স্মরণ রেখো, দুই গ্রহণকারী ফেরেশতা তার ডানে ও বামে বসে তার কর্ম লিপিবদ্ধ করে; মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে’ (ক্বাফ ৫০/১৬-১৮)। উল্লিখিত আয়াতে إِذْ يَتَلَقَّي শর্ত দ্বারা বুঝা যায় যে, দু’জন ফেরেশতার নিকটবর্তিতাই এখানে উদ্দেশ্য।

    (২) দ্বিতীয় আয়াতে (ওয়াকি‘আহ ৮৫) নিকটবর্তিতাকে মৃত্যুকালীন সময়ের সাথে শর্তযুক্ত (مقيد) করা হয়েছে। আর মানুষের মৃত্যুর সময় যারা তার নিকট উপস্থিত থাকেন তারা হলেন ফেরেশতা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন আমার প্রেরিত দূতগণ তার প্রাণ হরণ করে নেয় এবং তারা কোন ত্রুটি করে না’ (আন‘আম ৬/৬১)।
    উল্লিখিত আয়াতে বুঝা যাচ্ছে যে, তারা হচ্ছেন ফেরেশতা। তারা সেখানে একই স্থানে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাই না। ( আল-কাওয়াইদুল মুছলা ফী ছিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা, পৃঃ ৭০-৭১।)

    এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায় যে, যদি আয়াত দু’টিতে ফেরেশতাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহ’লে আল্লাহ নিকটবর্তিতাকে নিজের দিকে কেন সম্পর্কিত করলেন? এর জবাবে বলা যায় যে, ফেরেশতাদের নিকটবর্তিতাকে আল্লাহ নিজের দিকে সম্পর্কিত করেছেন। কারণ তার নির্দেশেই তারা মানুষের নিকটবর্তী হয়েছে। আর তারা তার সৈন্য ও দূত। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি উহা পাঠ করি তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর’ (ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৮)। এখানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট জিবরীল (আঃ)-এর কুরআন পাঠ উদ্দেশ্য। অথচ আল্লাহ পাঠকে নিজের দিকে সম্পর্কিত করেছেন। আল্লাহর নির্দেশে যেহেতু জিবরীল রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট কুরআন পাঠ করেন সেহেতু আল্লাহ কুরআন পাঠকে নিজের দিকে সম্পর্কিত করেছেন। ( ঐ।)

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, ‘আমি তার ঘাড়ের শাহ রগ অপেক্ষাও নিকটতর’ (ক্বাফ ৫০/১৬)। এখানে আমি দ্বারা ফেরেশতা উদ্দেশ্য কোথায় পেলেন এমন ব্যাখ্যা? আপনাদের অবস্থা হয়েছে বেরেলভীদের মত। অন্যের উপর শিরকের তোহমাদ দিতে গিয়ে নিজেরাই শিরকে পতিত হয়েছেন। বেরেলভীরা দেওবান্দীদের উপর রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বেয়াদবীর তুহমাত দিতে গিয়ে রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উপর এমন সিফাত আরোপ করল যা আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার শানে ব্যবহার করা হয়। আপনিও আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার জবানে আমি শব্দের অর্থ ফেরেশতা করলেন। আপনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে আমি শব্দের অর্থ ফেরেশতা বুঝা যায় না।

  19. আবু তাসনীম, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আপনি অনেক কষ্ট করেছেন দলীল সংগ্রহের জন্য। আপনি কিছু হাদীস পেশ করেছেন এরপর নিজ থেকে কিছু মন্তব্য করেছেন। আপনার হাদিসগুলো থেকে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার আরশের অস্তিত্ব সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত। এবং তিনি আরশে আছেন এটাও প্রমাণিত। তিনি আসমানে আছেন এটাও প্রমাণিত। এরপর আপনি নিজে থেকে বলেছেন আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা আসমান বাদে আর কোথাও নেই। একথা হাদিস থেকে প্রমাণিত নয়। আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব পোস্টেই দেয়া ছিল। অনেক প্রশ্নের জবাব আমি দিয়েছি। পোস্টে কিছু করআনের আয়াতও ছিল। যার দ্বারা প্রমাণিত হয় আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা আমাদের নিকটেও আছেন। তাহলে বুঝা গেল আল্লহ আসমানেও আছেন, আমাদের কাছেও আছেন।

    প্রসংগটা উঠেছিল দেওবান্দীদের আকীদা নিয়ে। এদেশের প্রায় সব মাদ্রাসাই দেওবান্দী মাদ্রাসা। তাই কেউ যদি তার ছেলেমেয়েদের আলেম বানাতে চান তাহলে দেওবান্দী মাদ্রাসার আশ্রয় নিতে হয়। এখন দেওবান্দীদের আকীদায় যদি (বায়বীয়) গলদ দেখানো যায় তাহলে আমজনতা আর তাদের ছেলেমেয়েদের দেওবান্দী মাদ্রাসায় পড়াবে না। যেহেতু দেওবান্দী মাদ্রাসা ছাড়া আর মাদ্রাসা নেই তাই স্কুলে দিবে। একটা সময় আসবে যখন তারা ইলমশুণ্য হবে এবং দ্বীনহারা হবে। ইসলামের শত্রুরা তাই কিছু দুনিয়াদার আলেম ভাড়া করল। যারা টাকার বিনিময়ে ইলম বিক্রি করে আর ইসলামের শত্রুদের সেবা করে। তারা আবিষ্কার করল দেওবান্দীরা বলে, আল্লহ সবখানে আছেন। অথচ এতা কুদরতীভাবে। স্বত্ত্বাগত ভাবে নয়। দেওবান্দী কোন আলেম কোনদিনও বলেছেন যে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা স্বত্ত্বাগতভাবে সর্বত্র বিরাজমান। কোন প্রমাণ দিতে পারবেন। হ্যা যদি কেউ বলে থাকেন তাহলে আমরাও তাকে গোমারাই বলব। বরং এই ব্যপারে সকল জামানার সকল উলামা কেরাম একমত আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা কুদরত, শক্তি, জ্ঞান, সিফাত সর্বত্র বিরাজমান। এইকথার উপর দৃঢ় ইয়াকীন হওয়াটাই অহাদাতুল অজুদ। এটা ঈমানের এমন এক স্তর যখন বান্দা অনুভব করে, আমার আল্লহ (কুদরতী ভাবে) সব খানে আছে। তিনি সবদেখেন, সবজানেন, সবশুনেন। তখন তার পক্ষে আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার নাফরমানী করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আসল ব্যপার হল যখন মানুষ আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা থেকে গাফেল হয়ে যায় তখনই গুনাহ করে। মেহনত করতে করতে যখন এমন এক অবস্থায় উপনিত হয় যে সে আর কখনওই আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা থেকে গাফেল হয় না এটাকেই অহাদাতুল অজুদ। এটা আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেন। এরমধ্যে শিরকের গন্ধ খুজে পাওয়াটা গোমহারীর আলামত।

    আসল ব্যপার হল এদেশে ইংরেজ শাসন কায়েম হওয়ার পর তারা একেরপোর এক দ্বীনী প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে ছিল তখন এদেশে কিছু আলেম উলামা দ্বীনকে টিকিয়ে রাখার জন্য দেওবান্দে এক মাদ্রাসা কায়েম করেন যা দেওবান্দ মাদ্রাসা হিসবে পরিচিত। ঐ সময় ঐ মাদ্রাসা কায়েম না হলে আমাদের অবস্থাও আজ স্পেন, সিরিয়া, আলবেনিয়া, উজবেকিস্তান, তুর্কিস্তানের মত হত। ইসলামের শত্রুরা এই লালসা আজও ছাড়ে নাই এজন্যই দেওবান্দ মাদ্রাসার বিরূদ্ধে কিছু ভাড়াটে দুনিয়াদার আলেম লেলিয়ে দিয়েছে। এদেশে এবং হেযাযে নামধারী আহলে হাদিস এদেরই সৃষ্টি। আমরা ভয় করিনা। কেননা আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা যত দিন চাইবেন দ্বীন ততদিনই টিকবে। আমরা শুধু পরকালের নাযাতের আশায় এবং আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লার কাছ থেকে পুরষ্কারের আশায় চেষ্টাই করতে পারি যতটুকু তিনি সামর্থ দেন।

  20. আকায়দ শাস্ত্রে যারা জ্ঞান রাখেন, ওনারা এমন পরস্পরবিরোধী আয়াতের এভাবে সমাধান দিয়েছেন। যে আয়াত বা হাদিস শরীফে আল্লাহ পাকের এমন কোনো বৈশিষ্ট বর্ননা এসেছে যেটাতে কোনো সৃষ্টির সাথে আল্লাহপাকের মিল দেখা যায়, সেটাকে রূপক বর্ননা হিসেবে ধরা হবে। কেননা আল্লাহ পাক অন্য আয়াতে বলেছেন “আল্লাহপাক কোনো কিছুর মতো নন”। সেখানে দুনিয়ার কোনো কিছুর সাথে ওনার মিল কল্পনাই করা যায় না। একমাত্র এই ব্যাখ্যার দ্বারাই সবগুলো আয়াত , হাদিস শরীফের মধ্যে সামন্জস্য রক্ষা করা যায়।

  21. সমগ্র জাহানের প্রতিপালক ও সংরক্ষক মহান আল্লাহ্ তা’আলা সপ্তাকাশের উপর অবস্থিত সুমহান আরশের উপর সমুন্নত, তিনি সর্বস্থানে বিরাজিত নন। তাঁর ক্ষমতা অসীম ও সর্বব্যাপী। তিনি সব কিছু দেখেন ও শোনেন। কোনকিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। তিনি আরশেআ’যীমে থেকেই সব কিছু সুচারুরূপে পরিচালিত করেন।
    ১) মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেন:
    (ان ربكم الله الذي خلق السموات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش)
    অর্থ:‘ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্, যিনি আকাশ সমূহ এবং পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টিকরেছেন। অতঃপর তিনি আরশে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।’ (সূরা আরাফ-৫৪)
    ২) আল্লাহ্ তা’আলা আরও বলেন:
    الرحمن على العرش استوى
    অর্থ: ‘রহমান (আল্লাহ্) আরশে সমুন্নত।’ (সূরাত্বহা-৫) এ কথায় কোনই সন্দেহ নেই যে আরশ আসমান রয়েছে জমিনে নয়।
    ৩) তাই মহান আল্লাহ্ অন্যস্থানে বলেন:
    أأمنتم من في السماء أن يخسف بكم الأرض
    অর্থ: ‘তেমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছো যে, যিনি আকাশে অবস্থিত রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন না।’ (মূলক-১৬)
    এ ছাড়া বহু আয়াতে আল্লাহ্ পাক নিজের পরিচয়ে বলেছেন যে, তিনি আকাশের উপর মহান আরশেই রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে অধিক প্রমাণের জন্য নিম্ন লিখিত আয়াত গুলো দেখা যেতে পারে। ( ইউনুস-৩, রা’দ-২, ফুরক্বান- ৫৯, সাজদাহ্-৪, হাদীদ-৪) ৪) হাদীছে রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
    ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء يأتيني خبر السماء صباحاً ومساءً -متفق عليه
    অর্থ: ‘তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে কর না, অথচ যিনি আসমানে আছেন আমি তাঁর আমানতদার। আমার কাছে আসমানের খবর সকাল-সন্ধ্যায় আসে।” (বুখারী ও মুসলিম) আসমানে যিনি আছেন নিশ্চয় তিনি মহান আল্লাহ্। কোন সন্দেহ আছে কি ?
    ৫) হযরত মুয়াবিয়া বিন হাকাম আস্ সুলামী (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক দাসীকে প্রশ্ন করেছিলেন : ‘আল্লাহ্ কোথায়?’ উত্তরে সে বলেছিল : আল্লাহ্ আসমানে। তিনি বললেন , আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহ্র রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মনিবকে বললেন: তাকে আজাদ করে দাও। কেননা সে ঈমানদার। (ছহীহ মুসলিম) দাসীটি যদি উত্তরদাতা মাওলানা সাহেবের মতবাদ অনুযায়ী জবাব দিত তবে নির্ঘাৎ সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট অমুসলিম সাব্যস্তগ হত। কেননা তার ঈমান পরীক্ষা করার জন্যই তাকে তিনি অনুরূপ প্রশ্ন করেছিলেন।
    ৬) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন:
    (ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء )
    অর্থাৎ-‘ যারা জমিনে আছে তোমরা তাদের প্রতি দয়াশীল হও যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়াশীল হবেন।’ (তিরমিযী, হাদীছ ছহীহ)
    ৭) সুপ্রসিদ্ধ মে’রাজের ঘটনা বুখারী -মুসলিম সহ বহু হাদীস গ্রন্থে রয়েছে।
    হে বিবেকবান মুসলিম ভাই! আল্লাহ্ যদি সর্বত্র সবকিছুতেই বিরাজিত থাকেন, তবে মে’রাজের কি দরকার ছিল? মে’রাজের রাত্রে বোরাকে চড়ে সপ্তাকাশের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্র দরবারে গমনই তো প্রমাণ করে যে মহান আল্লাহ্ সাত আসমানের উপর অবস্থিত আরশেই রয়েছেন। নতুবা মে’রাজ অর্থহীন হয়ে যায়না কি?
    এ ক্ষেত্রে সালফে সালেহীনের আকীদা বা কিছু উক্তি:
    ৮) ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ্আরশে আছেন একথা বিশ্বাস করে, কিন্তু সন্দেহ করে যে আর্মস আসমানে আছে না জমিনে তবে সে কাফের বলে গণ্য হবে। (দ্র: আল্ ফিকহুল আবসাত)
    ৯) ইমাম আওযায়ী বলেন: আমরা তাবেয়ীগণের উপস্থিতে বলতাম, নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ তাঁর আরশের উপর রয়েছেন। তাঁর গুণাগুণ সম্পর্কে যে বর্ণনা এসেছে আমরা সবই তা বিশ্বাস করি। (ইমাম যাহাবী প্রণীত মুখতাছার উলু দ্রষ্টব্য)
    ১০) ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন : ( الله في السماء وعلمه في كل مكان لا يخلو منه شيء ) ‘আল্লাহ্ রয়েছেন আসমানে এবং তাঁর ইলম সর্বাস্থানে পরিব্যপ্ত, তার জ্ঞান থেকেকোন স্থান খালি নেই।
    ১১) ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন: আমি যে তরিকার উপর প্রতিষ্ঠিত ও যাদেরকে ঐ তরিকার উপর পেয়েছি যেমন সুফিয়ান সাওরী, মালিক প্রমখগণ তা হল- এ কথার স্বীকৃতদেয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন হক মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র রাসূল আর আল্লাহ্ তিনি আসমানে আরশের উপর রয়েছেন। তিনি তার বান্দার নিকটবর্তী হন যে ভাবে ইচ্ছা করেন এবং যে ভাবে চান ঠিক সেভাবেই দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন …।
    ১২) ইমাম আহমাদ (রাহ) কে জিজ্ঞেস করা হল: আল্লাহ্ সপ্তাকাশে আরশের উপর রয়েছেন। সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক আছেন এবং তার কুদরত ও ইলম সকল স্থানে পরিব্যাপ্ত। উত্তরে তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি স্বীয় আরশে রয়েছেন এবং কোন বস্তু তার ইলমের বাইরে নয়।
    ১৩) ইমাম ইবনে খুযাইমা বলেন: (من لم يقر بأن الله على عرشه استوى فوق سبع سماواته بائن من حلقه فهو كافر يستتاب فإن تاب وإلا ضربت عنقه وألقي على مزبلة لئلا يتأذى بريحه أهلالقبلة وأهل الذمة
    ) ”যে ব্যক্তি স্বীকার করে না যে আল্লাহ্ তা’আলা সপ্তাকাশে স্বীয় আরশে সমুন্নত, সৃষ্টি জগত হতে সম্পূর্ণ আলাদা-সে কাফের। তাকে তওবা করার নির্দেশ দিতে হবে। তওবা না করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। অতঃপর তার লাশ ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করতে হবে যাতে করে কিবলা ওয়ালা মুসলমানগণ এবং কর প্রদানকারী অমুসলিমগণ তার দূর্গন্ধে কষ্ট না পায়। (ইমাম যাহাবীপ্রণীত মুখতাছার উলু দ্রষ্টব্য)
    ১৪) বড় পীর হিসেবে খ্যাত হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) স্বীয় ‘গুনিয়াতুত্ তালেবীন’ নামক গ্রন্থে বলেন: ‘আল্লাহ্ পাক আরশে সমুন্নত রয়েছেন। রাজত্ব নিজ আয়ত্তে রেখেছেন। সমস্ত বস্তুকে বেষ্টন করে রেখেছেন। ….. আর এ ভাবে তাঁর পরিচয় দেয়া জায়েজ নয় যে, তিনি প্রত্যেক স্থানে বিরজমান; বরং বলতে হবে তিনি আসমানে আরশের উপর রয়েছেন যেমনটি তিনি (নিজেই) বলেছেন: الرحمن على العرش استوى “রহমান (আল্লাহ্) আরশে সমুন্নত”। (ত্বা-হা/৫) একথা স্বাভাবিক ভাবেইবলতে হবে কোন প্রকার অপব্যখ্যা করেনয়। তিনিযে আসমানে আছেন একথা নবী-রাসলদের প্রতি নাযিলকৃত প্রত্যেক কিতাবেই লিখিত আছে। তবে আরশে তিনি কিভাবে রয়েছেন তার পদ্ধতি কারো জানা নেই।’
    ১৫) মানুষের সৃষ্টিগত ফিৎরাতও একথা স্বীকার করে যে, আল্লাহ্ তায়ালা আসমানেই রয়েছেন সব স্থানে নয়। এর প্রমাণে আপনি আপনার স্নেহের কচি শিশুকে প্রশ্ন করুন- আল্লাহ্ কোথায়? দেখবেন তার পবিত্র মুখ থেকে জবাব বেরুবে, ‘উপরে’। বা সে তার কচি আঙ্গুল উঠিয়ে উপর দিকেই ইশারা করবে, অর্থাৎ তিনি (আল্লাহ্) আকাশে রয়েছেন, সব জায়গাতে নয়। আরও বহু আয়াত ওহাদীস রয়েছে যেগুলো দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় আল্লাহ তায়ালা সব জায়গায় বিরাজমান নন। বরং তার ক্ষমতা, রাজত্ব, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, জ্ঞান, দৃষ্টি ইত্যাদিসর্বত্র ও সব কিছুতে বিরাজমান। কিন্তু তিনিস্বত্বাগতভা বে অবস্থান করেন, সাত আসমানের উপর আরশে আযীমে।
    সম্মানিত পাঠক! এই হল কুরআন-হাদীস এবং সালফে সালেহীনের আকিদাহ্ ও বিশ্বাস যা সংক্ষেপে উদ্ধৃত করা হল। যার সার সংক্ষেপ হল- মহান আল্লাহ্ আরশে রয়েছেন তিনি সর্বত্র সবকিছুতে বিরাজিত নয়। আর এটাই হল বিশুদ্ধ আকীদা। অথচ এধরণের আকীদার অধিকারীদেরকেমাও লানা মুহিউদ্দীন উত্তর দিতে গিয়ে ‘অকাট মূর্খ অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক বা গোমরাহ ফেরকার গোপন এজেন্ট’ রূপে গরালাগালী করেছেন।

    Anonymous

    @badru,নফসপুজারী আহলে নফসদের অতি পুরানো টেকনিক। খন্ডন করা বিষয়গুলোকেই আবার পেশ করেছেন। উপরের পোস্ট ও মন্তব্যগুলো পড়ুন ও বুঝার চেষ্টা করুন।

  22. আল্লাহর ওয়াস্তে একটু খেয়াল করেনঃ

    বরং এ ব্যাপারে জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্নিত আছে যে , এক ব্যক্তি ইমাম মালেক (রহ:) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন – “আল্লাহপাক আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন” এ কথাটির স্বরূপ বা তাৎপর্য কি ? ঐ ব্যক্তির এই প্রশ্ন শ্রবন মাত্র ইমাম মালেক (রহ:) ঘর্মাক্ত হলেন , ভীত সন্ত্রস্হ হলেন , এবং প্রায় সংজ্ঞাহারা হওয়ার অবস্হা হোলো , যখন হুশ ফিরে আসলো তখন তিনি বললেন “আল্লাহপাকের আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়ার স্বরূপ মানুষের বোধ শক্তির উর্ধে । আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়ার তাৎপর্য মানুষের অজানা , তবে তার উপর ঈমান আনা ওয়াজিব । আর এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বেদআত । ”

    আমাদের প্রচলিত ভুলঃ
    আরশ মাখলুক বা সীমাবদ্ধ তাই বিরাজমান সর্বত্র বলছি। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্থান‍ কাল সময় – সব হতে পবিত্র। আপনি এর পক্ষে একজন খায়রুল কুরূনের আলেমে দ্বীনের ও দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন যিনি বলেছেন বিরাজমান সর্বত্র (বা কুদরতীভাবে) না বলেছেন হাকীকতে আসমানে?

    তথাকথিত সালাফী ভাইদের ভুলঃ

    আল্লাহপাকের আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়াকে ধরে নিয়ে বলছে অধিষ্ঠিত হওয়ার স্বরূপ মানুষের বোধ শক্তির উর্ধে ।

    এটাও বিচ্যুতি….কারন তা সৃষ্টির সিফাতের সাদৃশ্যের নিকটবর্তী।

    সহীহ আক্বীদাঃ

    (আল ইমরানঃ ৭) না তিনি সর্বত্র বিরাজমান, না তিনি হাকীকতে বা বাহ্যিক অর্থে আসমানে? তিনি সবকিছু হতে পবিত্র। আল্লাহপাকের আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়া ও অধিষ্ঠিত হওয়ার স্বরূপ উভয়ই মানুষের বোধ শক্তির উর্ধে ।

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের বিচ্ছিন্নতা ও বিচ্যুতি হতে হিফাযত করেন।
    আমীন