লগইন রেজিস্ট্রেশন

নাসিরুদ্দীন আলবানী-সম্বন্ধে কয়েকটি প্রশ্ন

লিখেছেন: ' Anonymous' @ রবিবার, মার্চ ১৮, ২০১২ (১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ)

[এই লেখাটি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রশ্ন উত্তর পর্বে লেখা হয়েছিল। গুরুত্ব বহন করায় এটা আমি পোস্ট আকারে দেয়াটা জরুরী মনে করছি।]

নাসিরুদ্দীন আলবানী-সম্বন্ধে আমার কয়েকটি প্রশ্ন ছিল।
১/ সে যে পদ্ধতিতে হাদিস যাচাই বাছাই করেছে সেটা সঠিক কিনা ?
২/ সে অনেক সহীহ হদীসকে যঈফ এবং যঈফ হাদীসকে সহীহ বলেছে একথা সত্য কিনা?
৩/ সে একই রাবীকে কোন সময় সিকাহ বা গ্রহনযোগ্য এবং অন্য কোন সময় ‘‘বাতিল’’ বা অগ্রহনযোগ্য বলেছে একথা সত্য কিনা?
জুলাই. ১৯, ২০১০ by জুলকারনাইন

১ নং প্রশ্নের উত্তরঃ-

ভিন্ন চিন্তা চেতনার অধিকারী আলবানী সাহেব কোন প্রতিষ্ঠানে বা কোন উস্তাদের নিকট পড়া লেখা করেন নাই, নিজস্ব গবেষনার মাধ্যমে সুন্দর বিন্নস্ত আকারে অনেক গবেষনা মূলক বই পুস্‌তক পাঠকবর্গকে উপহার দিয়েছেন।
তাই এতে তিনি হাদীস যাচাই বাছাইয়ে হাদীস শাস্ত্রের বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও তাদের প্রনীত মূলনীতির পরোয়া না করে নিজ মতাদর্শকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করেছেন। একারণে বিচক্ষন উলামায়ে কেরামের নিকট হাদীসের মান নির্ধারনে আলবানী সাহেবের গবেষনায় অনেক ক্ষেত্রে মতবিরোধ হয়েছে, এমন কি হাদীস গবেষনার জগতের বিজ্ঞ উলামাগন আলবানী সাহেবের ভূলত্রুটি একত্র করে ৫০ টির অধিক পুস্‌তক রচনা করেছেন।
তাম্মধ্যে
১। তানাফুজাতে আলবানী- গ্রন্থকারঃ- হাসান ইবনে আলী আস সাক্কাফ,
প্রকাশনায়ঃ-দারুল ইমাম বিন নবুবী- (উমাম- উর্দুন) এবং
২। তানবীহুল মুসলিম ইলা তাযাদ্দী আলবানী-গ্রন্থকারঃ- মাহমুদ সাইদ মামদুহ-
প্রকাশনায়ঃ মাকতাবা-আল ইমাম শাফী-(রিয়াজ-সৌদী)
বিষেশ ভাবে উল্লেখ যোগ্য।

২নং প্রশ্নের উত্তরঃ-

তিনি অনেক সহীহ হাদীসকে যঈফ এবং যঈফ হাদীসকে সহীহ বলেছেন। প্রথমে আমরা দেখব নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব কিভাবে সহীহ হাদিসকে যঈফ বলেছেন , তার উদাহরন :

আবু হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত রাসুল (সাঃ) বলেনঃ- যখন তোমাদের কেহ রাত্রিতে নামাযের জন্য দাড়ায়, তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত ভাবে দুই রাকাতের মাধ্যেমে আপন নামাযকে শুরু করে।
হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয়গ্রন্থ সহীহ মুসলিম (১/৫৩২) পৃষ্টায় উল্লেখ করেন । এ ছাড়াও আল ইহসান ফি তাকরিবে সহীহ ইবনে হিববান-(৬/৩৪০) আল মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল-(৯/১২৯) শরহুস সুন্নাহ লিল ইমাম বগবীতে (৪/১৭) উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদীসটিকে যুগ শ্রেষ্ট হাদীস গবেষকগন গবেষনার মাধ্যমে বিশুদ্ধ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তম্মেধ্যে উল্লেখ যোগ্য ,

আল্লামা শুয়াইব আরনাউত (রহঃ) মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ(১৫/৯৮)-
ইমাম বগবী (রহঃ) স্বীয় কিতাব শরহুস সুন্নাতে (৪/১৭)
হামজা আহমাদ যাইন (রহঃ) মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদে (৯/১২৯) বিশুদ্ধ হাদীস বলে ঘোষনা করেছেন।

উল্লেখিত হাদীসটিকে আলবানী সাহেব স্বীয় কিতাব ‘‘যইফুজ জামে ও যিয়াদাহ’’ নামক গ্রন্থে (১/২১৩-) উল্লেখ করে বলেন, হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম (রহঃ) এবং ইমাম আহমাদ (রহঃ) আবু হুরাইরা (রাঃ) এর সুত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি (যঈফ) মর্যাদার দিক দিয়ে দুর্বল।

এবার আমরা দেখব নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব কিভাবে যঈফ হাদিসকে সহীহ বলেছেন , তার উদাহরন :

হযরত উমায়ের ইবনে সাইদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস তিনি বলেন তোমরা মোয়াবিয়া (রাঃ) কে ভাল ভাবেই স্মরণ কর, কেন না আমি রাসুল (সাঃ) থেকে শুনেছি রাসুল (সাঃ) বলেছেন হে আল্লাহ তুমি মোয়াবিয়াকে হেদায়েত দাও। (সুনানে তিরমিজি-৫/৬৪৫)

হাদীসটিকে আলবানী সাহেব সহীহ সাব্যস্ত করে স্বীয় কিতাব সহীহ সুনানে তিরমিজি (৩/২৩২) তে উল্লেখ করেছেন। অথচ হাদীসটির সূত্রের উপর গবেষনার দ্বারা দেখা যায় হাদীসটি মানগত ভাবে অত্যন্ত দুর্বল।
সূত্রের একজন রাবী-আমর ইবনে ওকেদ ইনার ব্যাপারে উলামাদের বক্তব্য,
১। হাফেজ ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন (মাতরুক) ইনি পরিত্যাজ্য।
(তাকরিব-আত তাহজীব-৪২৮পৃঃ)
২। ইমাম বুখারি ও তিরমিজি (রহঃ) বলেন (মুনকারুল হাদীস) ইনি এমন রাবী যাদের হাদীস গ্রহন করা হয় না।
৩। আল্লামা মারওয়ান (রহঃ) বলেন (কাজ্জাব) মিথ্যাবাদী।
৪। ইমাম নাসায়ী,দারাকুতনী, এবং ইমাম বুবকানী (রহঃ) এনারা এই রাবীর ব্যাপারে একমত হয়ে বলেন (মাতরুকুল হাদীস) ইনি এমন রাবী যাদের হাদীস পরিত্যাজ্য। (তাহজীবত তাহজীব (৮/৯৮)

সূত্রের রাবী আমর ইবনে ওকেদ সম্পর্কে উল্লেখিত ইমামদের বক্তব্যের দ্বারা একথা সুস্পষ্ট হল হাদীসটি কোন অর্থেই সহীহ হতে পারে না।
এমন কি আলবানী সাহেব এই রাবীকে দুর্বল সাব্যস্ত করে ওনার কিতাব ‘‘জয়ীফা’’ তে (২/৩৪১) উল্লেখ করেছেন। স্বয়ং তিরমিজি (রহঃ) উল্লেখিত হাদীসটি (যঈফ) দুর্বল হিসেবে ইংগীত করে স্বীয় কিতাব সুনানে তিরমিজিতে (৫/৬৪৫) বর্ণনার শেষে বলেন, আমর ইবনে ওকেদ দুর্বল রাবীদের অন্তর ভুক্ত।

৩ নং প্রশ্নের উত্তরঃ-

আলবানী সাহেব একই রাবীকে কখনও সিকাহ বা গ্রহনযোগ্য এবং অন্যসময় যঈফ বা অগ্রহনযোগ্য বলেছেন। এ বিষয়টি উনার গবেষনার জগতের ভুল ত্রুটির অন্যতম একটি অংশ। উদাহরন স্বরূপ একটি ঘটনা নিম্নে তুলে ধরা হল।

আবু উমামা (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন তোমরা মুমিন ব্যক্তির অন্তদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাক, কেননা সে আল্লহ তা’লার নূরের দ্বারা দৃষ্টি করে থাকেন। (মুজামুল আওসাত-৩/৪৪৫)
উল্লেখিত হাদীসটির সূত্রের এক জন রাবী হলেন আবু সালেহ আব্দুল্লহ ইবনে- সালেহ । হাদীসটি আলবানী সাহেবের মতাদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারনে তিনি আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহকে দুর্বল আখ্যায়িত করে হাদীসটি অগ্রহনযোগ্য হিসাবে স্বীয় কিতাব ‘‘সিলসিলাতুল আহাদীস আজ যইফাতু মওযুয়া,, (৪/২৯৯) তে উল্লেখ করেছেন।

অথচ আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ-এই একই রাবীর মাধ্যমে ইমাম তিরমিজি (রহঃ) স্বীয় কিতাব সুনানে তিরমিজিতে ইবনে মুররা (রাঃ)এর সূত্রে হাদীস উল্লেখ করেছেন রাসুল (সাঃ) বলেন হুসাইন আমার থেকে আর আমি হুসাইনের থেকে-, যে ব্যক্তি হুসাইনকে ভালবাসে সে আল্লাহ তা’লাকে ভালবাসে। হুসাইন আমার পরবর্তি-বংশধর।
সূনানে তিরমিজি-(৫/৬১৮)
হাদীসটিকে আলবানী সাহেব সহীহ হিসাবে স্বীয় কিতাব সিলসিলাতুল আহাদিস আস সহীহা (৩/২২৯) তে উল্লেখ করেন। এবং বলেন হাদীসটির সনদ উৎকৃষ্ট মানের আবু আব্দুল্লা ইবনে সালেহ এর ব্যপারে দৃর্বলতার যেই কথা রয়েছে তাহা কোন ক্ষতিকারক নয়।

উপরের উদাহরন দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম , একই রাবী আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহকে আলবানী সাহেব কখনও দুর্বল আবার কখনও গ্রহনযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন।

উত্তর দাতা
মোঃ ফরিদুল ইসলাম
উচ্চতর হাদীস গবেষনা বিভাগ
বসুন্ধরা ঢাকা।

পরীক্ষিত এবং অনুমোদিত
মুফতী রফিকুল ইসলাম
হাদিস এবং তফসীর বিভাগের প্রধান
ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার
বসুন্ধরা , ঢাকা – ১২১২
বাংলাদেশ ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩,১২৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

২৭ টি মন্তব্য

  1. সুন্দর গবেষনমুলক লেখা উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।আশা করি ভবিষ্যতে বিম বাজ ও সৌদী বর্তমান প্রধান মুফতি সম্পর্কেও আরো লেখা আশা করছি।সৌদী বাদশাহদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন তাও জানাবেন ইনশাআল্লাহ।

  2. আমি আল্লামা নাসির উদ্দীন আলবানীর বেশ কয়েকটি বই পড়েছি । তার ভিতরে বিশেষভাবে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে আজকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে রচিত যঈফ ও জাল হাদীস সিরিজ ১-৩ খন্ড । আমার বই টিকে খুবই ভাল মনে হয়েছে । তিনি কোন হাদীস নিয়ে আলোচনা করার সময় কখনই শুধু নিজের মতামত দিয়ে একটি হাদীসকে যঈফ / জাল বলেননি অথবা প্রথমেই নিজের মতামত দেননি । তিনি প্রথমে অতীতের বড় বড় মুহাদ্দীসদের মতামত এনেছেন হাদীসটির উপরে তার পর সেগুলোকে বিশ্লেষণ করে নিজের মতামত দিয়েছেন । এ কারণে এ গ্রন্থটিকে একটি সংকলন গ্রন্থ বলা চলে । গ্রন্থটি সবার পড়া উচিত বলে আমি মনে করি ।

    তিনি ‘জামঈয়াতুল ঈসআফ আল খায়রী’ নামক সিরিয়ার একটি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন । তখনকার মাদ্রাসার অবস্থা বেশী ভাল না হওয়ার কারনে তার পিতা তাকে নিজের দায়ীত্বে পড়াশুনা করান । কারণ তিনি ছিলেন একজন বড় আলেম । এছাড়াও তিনি মুহাম্মাদ সাঈদ বুরহানী এবং মুহাম্মাদ বাহযাতুল বায়তার নামক দুজন শিক্ষকের কাছে উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন ।

    সবচেয়ে বড় কথা তিনি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মদীনা ইসলামীক ইউনিভার্সিটির হাদীস বিভাগের প্রধানের দ্বায়ীত্ব পালন করেছেন । তার পড়াশুনার অবস্থা যদি শোচনীয় হয় আর তিনি যদি হাদীসের ব্যাপারে এরকম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এতবড় দায়ীত্ব পান কি করে ?

    Anonymous

    @ABU TASNEEM,আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে শুধু আলবানী সাহেবের নামায বিষয়ক বইটিই পড়েছি। বইটি পড়ার পর প্রথমতঃ অনুবাদ দুর্বল মনে হয়েছে এবং নিরপেক্ষ অনুবাদ মনে হয়নি। দ্বিতীয়তঃ মূল কিতাবও নিরপেক্ষ মনে হয়নি। তিনি নিরপেক্ষভাবে কোন গবেষণা করেছেন বলে মনে হয়নি। বরং নিজে একটি মতামত দাড় করতে চেয়েছেন। এজন্য তিনি ঐ কিতাবে বেশ কিছু রেওয়ায়েতের রেফারেন্স টেনেছেন যা তার রেফারেন্স মত পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুরুষ ও মহিলাদের নামাযের পার্থক্য সম্বলিত হাদিসগুলো তিনি উল্লেখ করেননি। একই ভাবে উনি যে উপসংহার টেনেছেন তার পক্ষে তেমন দলীল পেশ করতে পারেন নি। একইভাবে নামাযের অন্যান্য রুকনগুলোর ব্যপারেও একই পথে হেটেছেন। এমন একজন অনিরপেক্ষ লেখকের আর কোন কিতাব পড়ে নিজেকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে দেয়ার ঝুকি নেই নি। যেকোন নিরপেক্ষ পাঠক উনার একটা কিতাব পড়লেই বুঝতে পারবেন উনার লেখা ও গবেষণা কত নিম্নমানের। পরবর্তীতে দেখেছি কিছু লোক উনাকে নিয়ে খুব হইচই করছে। উনি এযুগের সর্বশেষ্ঠ ……. ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন মনে হয়েছে এটা কোন ষড়যন্ত্রের অংশ। এমন এক লোককে নিয়ে এত হইচই। উনার বিপরীতে অন্য যেকোন কথা যাতে মানুষ গ্রহন না করে এজন্য সকল আলেমদের আকীদার উপর মিথ্যা অপবাদ চাপানো হচ্ছে এই বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে।

    এই পোস্টের স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করা হয়েছে কিভাবে উনি হাদিস বিশ্লেষণে ভুল করেছেন। একই ভাবে রাবীর ব্যপারে কিভাবে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন। (আমি জানিনা এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত। তাই উনার নিয়তের উপর হামলা করলাম না।) আপনি একজন সালাফী হিসেবে নিজেকে দাবী করেন সালাফের দাবীদার হিসেবে আলবানীর গবেষণার উপর আপনার আস্থা রাখার কথা নয়। কেননা আপনি হাদিস কুরআন সরাসরি অনুসরণ করেন। আলবানী একজন গবেষক উনি হাদিস কুরআন গবেষণা করেছেন নিজে সহিহ হাদিসের উপর আমাল করার জন্য। আপনি নিজেকে মুকাল্লিদ মনে না করলে এবং সালাফী মনে করলে আপনারও উচিত আলবানীর গবেষণার উপর নির্ভর না করে নিজে সরাসরি হাদিস গবেষণা করে আমাল করা এবং অন্যকে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা। কিন্তু দুঃখ জনক আপনি অন্যের গবেষণার উপর অন্ধের মত নির্ভর করছেন এবং অন্যকেও অন্ধ ভাবে ঐসব গবেষকদের অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। এটাই অন্ধ মুকাল্লিদ। কিন্তু দুঃখজনক এই অপবাদ আপনারা অন্যের উপর চালান। আলবানী বা মতিউরদেরই অনুসরণ করতে হবে অন্যদের করা যাবে না! কেন উনারা কি নবী নাকি উনাদের ব্যপারে বুখারী শরীফে কোন হাদিস পেয়েছেন? আপনাদের অন্ধত্ব কত বেশী একটু চিন্তা করুন। উপরের পোস্টে আলবানীর ভুল সম্পর্কে কিছু প্রমান দেয়া হয়েছে এবং কিছু কিতাবের নাম উল্লখ করা হয়েছে। ওগুলোর ব্যপারে কোন মন্তব্য না করে শুরু করলেন আলবানীর গুনকীর্তন। আর যে ক্ষেত্রে গুন পান না সেক্ষেত্রে শুরু করেন গালাগালি। যেমন মতিউর রহমানের ভুলগুলো একজনে আলোচনা করলে আপনি এদেশের সকল আলেমদের একরাশ গালাগালি করেছেন আগের এক পোস্টে। আগের দিনে দেখতাম ভন্ড পীরের মুরিদরা এমন করে থাকে। আপনাদের এই আচরণ আপনাদের তথাকথিত শায়েখদের পরিচয় প্রকাশের জন্য যথেষ্ট।

    সিরিয়ার যে মাদ্রাসার কথা বললেন তার পরিচয় চাই এবং উনি ওখানে পড়াশুনা করেছেন এর প্রমাণ চাই। একই সাথে আপনি যেহেতু উনার অন্ধ ভক্ত তাই আপনার কাছ থেকে উনার শিক্ষা জীবনের বিস্তারিত জানার আশা রাখি।

    একই ভাবে উনি মাদীনা ইউনিভার্সিটির বিভাগীয় প্রধান ছিলেন এর প্রমাণ চাই। ধরে নিই ছিলেন, তাতেই বা কি প্রমাণ হয়? যে উনার সব কাথাই ঠিক উনার বাইরে সব ভুল? উনি সমস্ত ভুল ত্রুটি উর্দ্ধে? উনি অন্ধভাবে অনুসরণযোগ্য? বিভাগীয় প্রধান একটি পদ, এটা কোন যোগ্যতার মাপকাঠি নয়। এ পদ পাওয়া নির্ভর করে নিয়োগদাতার মানসিকতার উপর। যেমন একজন সফল ইন্জিনিয়ার মেডিকেল কলেজের প্রধান হতে পারেন না। এছাড়া মাদীনা ইউনিভার্সিটি নিরপেক্ষ নয় ওটা বায়াস্ড (biased) লোকদের কারখানা। কাজেই মাদীনা ইউনিভার্সিটিও কোন মাপকাঠি হতে পারে না।

    ABU TASNEEM

    @Anonymous, আমি মতিউর রহমান মাদানী অথবা নাসির উদ্দীন আলবানী কারও অন্ধ অনুসরন করি না । তারাও মানুষ তারাও ভুল করতে পারে । যেমন , সিজদায় যওয়ার সময় আগে হাত রাখতে হবে না আগে হাটু রাখতে হবে এটা নিয়ে তিনি তার নামাযের বইতে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন । এবং তিনি আগে হাত রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন । আর হাফেয ইবনুল কাইয়্যেম ও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং আগে হাটু রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন । আমার কাছে হাফেয ইবনুল কাইয়েমের মতামতকেই বেশী দলীল ভিত্তিক মনে হয়েছে এবং আমি সেটাই পালন করি ।

    কিন্তু কিছু ভুলের জন্য তার সকল খেদমত বাতিল করতে হবে এটা যুক্তিযুক্ত নয় । আর আমি আলেমদের গালাগালি করিনি । আপনাদের ব্যবহৃত শব্দ আপনাদেরকে ফেরত দিয়েছি । ধন্যবাদ আপনার দীর্ঘ কমেন্টের জন্য ।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM,এই পোস্টে আপনি গালগালি করেননি আমি স্বীকার করছি। কিন্তু পুর্বের এক পোস্টে করেছেন। আলবানীর ভুল অনেক, কেননা উনি যে সেক্টরে হাত দিয়েছেন তার যোগ্যতা উনার ছিল না। অযোগ্যতা নিয়ে কেউ কোন কাজ করলে তার ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক। উনার ভুলগুলো নিয়ে আরব বিশ্বেই প্রচুর লেখালেখি হয়েছে। ঐ লেখার গুলোর খন্ডনে এখনও তেমন প্রামাণ্য কোন লেখা বের হয়নি। আর উনি যে ভুল গুলো করেছেন হাদিস শাস্ত্রে এসব ভুল অমার্জনীয়। উনি একই রাবীকে কখনও গ্রহনযোগ্য বলেছেন কখনও অগ্রহনযোগ্য বলেছেন। হাদিস যে জামানায় সংকলন হয়েছে ঐ জামানায় এমন ভুল কেউ করলে তাকে মিথ্যাবাদী বলা হত এবং তার সকল রেওয়ায়েত জাল হিসেবে বাতিল করা হত। তাই উনাকে অনুসরণ করা নিরাপদ নয়। বস্তুত আপনি তো নিজেকে আহলে হাদিস হিসেবে দাবী করেন। তাই আপনার তো কারও অনুসরণ করার দরকার নেই। আপনার উচিত হাদিসে সকল সংকলন গুলো সংগ্রহ করা এবং একে একে সব কয়টি হাদিসের সনদ ও রাবী গবেষণা করা। এরপর সহিহ হাদিস খুজে নিয়ে আ’মাল করা। কেননা আপনদের সংজ্ঞানুসারে আহলে হাদিস মানে হল যে কাউকে অনুসরণ করে না, সরাসরি হাদিস অনুসরণ করে। আপনি তো সরাসরি হাদিস অনুসরণ করছেন না, আপনি আলবানী বা হাফেয ইবনুল কাইয়্যেম রহমাতুল্লহ আ’লাইহির via হয়ে অনুসরণ করছেন। তাহলে তো আপনাদের সংজ্ঞানুসারে আপনিও একজন মুকাল্লিদ। আমিও তাই করি। আমি আমার উস্তাদদের via হয়ে সহিহ হাদিস অনুসরণ করে থাকি। এটাকে আপনারা হানাফী মাযহাব বলে থাকেন এবং গালাগালি করে থাকেন। অথচ আমি নিজে বা আমার উস্তাদ কাউকে কখনও হানাফী হিসেবে পরিচয় দিতে শুনিনি। সবাই নিজেকে মুসলমান এবং মুহা’ম্মাদ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

    হানাফী মাযহাবের সব দলীলই সহিহ হাদিস ভিত্তিক। আপনাদের কাছে সহিহ মনে হয় না আপনাদের নীতির ভুলের কারণে।

    আমি কখনও আপনাদের গালিগালাজ করি নি। আমি বলেছি কুরআনের আয়াতের বিপরীতে মতিউর রহমান কে পেশ করা আপনাদের ভাষ্যমতেই শিরক। কেননা ফাযায়েলে আ’মালে বর্ণিত এক হাদিস (ওখানে সূত্রও আছে, যদিও আপনি বলেছেন সূত্র ছাড়া) আপাত দৃষ্টিতে কুরআনের কিছু আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক (যদিও সাংঘর্ষিক ছিল না, আপনার কাছে মনে হয়েছে সাংঘর্ষিক, এটা আপনার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা) মনে হওয়ায় আপনি শিরকের তুহমাত দিয়েছিলেন। আমিও কুরআনের আয়াতের বিপরীতে ওগুলোর কোন ব্যাখ্যা বা অন্য আয়াত আশা করেছিলাম। কিন্তু আপনি পেশ করলেন মতিউর। এটা আপনাদের ভাষ্যমতেই শিরক। মতিউর যে কথাগুলো বলেছে তা ঐ পোস্টে উল্লেখ করার পরই খন্ডন করা হয়েছিল। তাই আবারও মতিউরকে পেশ করাটা চর্বিত চর্বন।

    আপনাকেও ধন্যবাদ।

    ম্যালকম এক্স

    @Anonymous, সহমত।

    Fiqriyatu Fiddin

    @Anonymous,এবং যারা আলবানির education এর detail জানতে চেয়েছিলেন – AsSalaamu ‘Alaikum.

    There are many who often say that Shaykh Albani had neither any teacher nor any Izajah; rather, he was auto-directed & self-taught especially in the field of Hadith. Around us, there are some scoundrels with serpentine instincts & tendencies, fond of lies & art of tampering, and with little actual knowledge but much flimflamming, who also add to this propaganda, despite their apparent virtual worship of Sk Albaanee (only on issues complying to their Hawa).

    For years, I was searching for the fact about the matter as well as something concrete that can clarify the matter once & for all. I am not yet done up to my full satisfaction in that quest, but I feel I gathered few information that can be shared with you.

    Before you believe, verify them to your level best.

    Here they are:

    Did Shaykh Al-Albaani Has No Teacher/Shaykh?

    [1] Shaykh Al-Albani was born in 1914 in Ashkodera, the former capital of Albania. His first Shaykh was his father, Nuh Najjatee, who himself had completed Shariah studies in Istanbul, returning to Albania as one of its Hanafi scholars. Under his father’s guidance, Shaykh Al-Albani studied Qur’an, Tajwid, Arabic language as well as Hanafi fiqh.

    [2] He (Shaykh Al-Albani) further studied Hanafi fiqh and Arabic language under Shaykh Sa’eed al-Burhan. He would also attend the lectures of Sk Abdul-Fattaah and Shaykh Tawfiq al-Barzah.

    [3] He has Ijaza in hadith from the late Allamah Shaykh Muhammad Raghib at-Tabaagh with whom he studied hadith sciences, gaining authority to transmit from him. The Shaykh himself refers to this Ijaza in Mukhtasar al-Uluw (p.72) and in Tahdir as-Sajid (p.63).

    [4] He has a further Ijaza from Shaykh Bahjatul Baitaa (through whom his isnad stretches back to Imam Ahmad). These are mentioned in the book Hayat Al-Albani (the Life of Al-Albani) by Muhammad ash-Shaibaani. This sort of Ijaza is given only to those who have excelled in hadith and can be trusted to accurately convey a hadith. A copy of the Ijaza is in the possession of his student, Ali Hassan al-Halabi.

    So it is incorrect to say that the Shaykh (Shaykh Al-Albani) is totally self-taught from books, without teachers &/or Ijaza.

    In this connection, it would be prudent to mention a few snippets from Shaykh Al-Albani’s life and career to further emphasize his great prodigy in the science of Hadith as well as the homage paid to him by other scholars. One or two brief mails can not suffice the purpose; however, the readers might find this information both encouraging and worthy of complacence:

    [a] Shaykh Al-Albaani met the late Hadith master, Shaykh Ahmad Shaakir, with whom he participated in knowledge based discussions on Hadith and its research.

    [b] He met the late Indian Hadith scholar, Shaykh Abdus-Samad Sharf ad-Deen, who himself had referenced the Hadith in the first volume of An-Nasa’ee’s Sunan al-Kubra as well as Al-Mizzi’s monumental Tuhfatul-Ashraf, and they continued to exchange letters on matters of knowledge. In one such letter, Shaykh Abdul-Samad expressed his trust that Shaykh Al-Albani was the greatest Hadith scholar of the time.

    [c] He would correspond with numerous scholars, particularly those from India and Pakistan, discussing matters related to Hadith and the religion in general, including Shaykh Muhammad Zamzami from Morocco and Ubaydullah Rahmani from South Asian subcontinent.

    [d] His skill in Hadith is attested to by a host of qualified scholars, past and present, including Dr. Amin al-Misri, head of Islamic Studies at Madinah University who considered himself to be one of the Shaykh’s students; also Dr. Subhi as-Salah, former head of Hadith Sciences at the University of Damascus; Dr. Ahmad al-Asaal, head of Islamic Studies at Riyadh University; the late Pakistani hadith scholar, Allamah Badiudeen Shah as-Sindee; Shaykh Muhammad Tayyib Awkeej, former head of Tafsir and Hadith at the University of Ankarah in Turkey; {Shaykh Al-Busarih from Tunisia;} not to mention the likes of Shaykh Muqbil ibn Hadee, Ibn Baz, Ibn al-Uthaymeen and many others in later times.

    [e] Shaykh Al-Albani began his formal work in the field of Hadith by transcribing Al-Hafidh al-Iraqi’s monumental Al-Mughni ‘an Hamlil Asfar, being a study of the various Hadith and narrations contained in Al-Ghazali’s famous Ihya Ulum ad-Din. This work alone contains some 5000 hadith.

    [f] The Shaykh was famous for attending the Zahiriyyah library in Damascus, and was eventually given his own set of keys due to his frequent and lengthy study there. On one such occasion, an important folio was missing from a manuscript in use by the Shaykh and this led Shaykh Al-Albani to painstakingly catalogue all the hadith manuscripts in the library in an endeavour to locate the missing folio. Consequently, he gained in-depth knowledge of 1000s of Hadith manuscripts, something that was attested to years later by Dr. Muhammad Mustafa Azami in the introduction to Studies in Early Hadith Literature where he said: ‘I wish to express my gratitude to… Shaikh Nasir al-Din al-Albani, who placed his extensive knowledge of rare manuscripts at my disposal.’

    [g] After carrying out an analysis of the Hadith in Ibn Khuzaymah’s Sahih, the Indian hadith scholar, Muhamamd Mustafa Azami (head of Hadith Science in Makkah), chose Shaykh Al-Albani to verify and re-check his analysis and the work is currently published in 4 volumes containing both their comments. This is an indication of the level of confidence placed in Shaykh Al-Albani’s Hadith ability by other scholars.

    [h] In their edition of the well known Hadith compilation, Mishkat al-Masabih, the Maktaba al-Islamee publishing house requested Shaykh Al-Albani to edit the work before publication.The publisher wrote in the introduction: ‘We requested that the great Hadith scholar, Shaykh Muhammad Nasir ad-Deen al-Albani, should help us in the checking of Mishkat and take responsibility for adding footnotes for any ahadith needing them, and researching and reproducing their sources and authenticity where needed, and correcting any deficiencies…’

    [i] After a number of his works appeared in print, the Shaykh was chosen to teach Hadith at the new Islamic University of Madinah for three years from 1381 to 1383H where he was also a member of University board. After this he returned to his former studies and work in the Zahiriyyah library. His love for Madinah University is evidenced by the fact that he bequeathed his entire personal library to the University.

    [j] In recognition of his knowledge of Hadith, he was commissioned as far back as 1955 by the Faculty of Shariah at Damascus University to carry out detailed analysis and research into Hadith related to buying and selling and other business related transactions.

    [k] He would hold study circles twice a week whilst in Damascus which were attended by numerous students and university lecturers. In this way, the Shaykh completed instruction in the following classical and modern works:

    ü Fathul-Majid of Abdur-Rahman ibn Husain ibn Muhamamd ibn Abdul-Wahhab
    ü Rawdah an-Nadiyah of Siddiq Hasan Khan
    ü Minhaj al-Islamiyyah of Muhammad Asad
    ü Usul al-Fiqh of Al-Khallal
    ü Mustalah at-Tarikh of Asad Rustum
    ü Al-Halal wa al-Haram fil-Islam of Yusuf al-Qardawi
    ü Fiqh as-Sunnah of Sayyid Sabiq
    ü Ba’th al-Hathith of Ahmad Shakir
    ü At-Targhib wa at-Tarhib of Al-Hafidh al-Mundhiri
    ü Riyadh as-Saliheen on Imam an-Nawawi
    ü Al-Imam fi Ahadith al-Ahqam of Ibn Daqeeq al-‘Eid

    [l] The Shaykhs printed works, mainly in the field of Hadith and its sciences, number some 112 books. He left behind him in manuscript form at least a further 70 works.

    [m] During the course of his life the Shaykh has researched and commented on over 30,000 individual chains of transmission (Isnad) for countless hadith, having spent 60 years in the study of the books of the Sunnah and being in the company of, and in contact with, its scholars.

    ADOPTED FROM:
    Abu Hudhayfah’s mail/post.

    বলে রাখা ভালো – আমি একজন হানাফই।

    Anonymous

    @Fiqriyatu Fiddin,হানাফী হিসেবে পরিচয় দেয়াটা দুঃখজনক এবং সন্দেহজনক। মুসলমানই আমাদের একমাত্র পরিচয়। ইতিমধ্যেই আলবানীর (র.) এর শিক্ষাজীবন সম্পর্কে একটি পোস্ট দিয়েছি। পরবর্তীতে আরো দেয়ার ইচ্ছা আছে।

    Fiqriyatu Fiddin

    @Anonymous, হানাফী হিসেবে পরিচয় দেয়াটা দুঃখজনক এবং সন্দেহজনক। মুসলমানই আমাদের একমাত্র পরিচয়.

    – ইমান আনার পর থেকে মুসলমাই আমার পরিচয় আর উসুল,আকাইদ,ফিকহ এর নিদেশনা ইমাম আবু হানীফার নীতিমালা মেনে। সনেদহ একটা রোগ, এর নিরাময় ইসলামেই আছে।শেখ আলবানী কে নিয়ে Bangladesh পাওয়া জেশব বই আছে তার বেশীর ভাগই সুনদর ভাষায় গালাগাল, খোদ জাজিরাতুল আরাব এ জেসব রাদ লেখা হয়েছে – ঐসব কিতাব highly scholarly. Only Sheikh Hammoud At Tuwaijri is enough for the refutation & correction of Sheikh Alabani.

  3. আমিও জনাব নাসির উদ্দিন আলবানির কয়েকটি বই পড়েছি। ভালই মনে হয়েছে। তবে তার বইতে ভুল থাকতেই পারে। কারন তিনি নবী বা রাসুলের মত অহী পাননি। তার ইজতিহাদ ভুল হতেই পারে। তিনি কি উদ্দেশ্য নিয়ে বই লিখেছেন সেতি আমি বা আপনি কেউই জানি না। আল্লাহ তার মনের অবস্থা জানেন এবং সেই অনুজায়ী তার বিচার করবেন। আমার বা আপনার কাছে যদি তার কন কথা ভুল মনে হয় তাহলে তা আমাদের অন্য ভাইদের জানানো আমার বা আপনার দায়িত্ব যদি বিষয়টি এমন হয় যে তার মতামত সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। তবে আমরা তার ইজতিহাদের নিয়াত না জেনে তার বিচার করতে পারি না।

    ম্যালকম এক্স

    @Saifullah Mujaheed, এনোনিমাস নিয়তের আলোচনা করেননি। ইজতিহাদের যোগ্যতা নাসিরুদ্দিন আলবানীর আছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। কিছুদিন পড়াশোনা করেই যদি ইজতিহাদের যোগ্যতা অর্জন করা যায়, সেটা ভুল ধারণা।

    তার হাদিস এবং ফেকার ওস্তাদের নাম জানতে চাই? কেউ জানেন কি?

    Saifullah Mujaheed

    @ম্যালকম এক্স, ভাই ইসলাম কি এতই কঠিন। আল্লাহ কুরআনে একটা আয়াত ৪ বার উল্লেখ করেছেন।

    “আর আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহনের জন্য সহজ করে দিয়েছি, এমন কি কেউ আছে জেউপদেশ গ্রহন করবে?”
    আল কামার

    সুতরাং কুরআন বুঝার জন্য আমিই নিজেই কি যথেষ্ট নই। আল্লাহ বলেছেন কুরআন সহজ করে দিয়েছেন। তাহলে শিক্ষকের প্রয়োজন কোথায়?

    ম্যালকম এক্স

    @Saifullah Mujaheed, ভাই আপনার কথা যদি সঠিক হয়, তাহলে বলতে হয় রসুলের প্রয়োজন নেই, যেহেতু আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন, তাই কি?

    Saifullah Mujaheed

    @ম্যালকম এক্স,তাহলে এই আয়াতের ব্যাখ্যা কি? আল্লাহ কি আমাদের কে সান্ত্বনা দেবার জন্য মিথ্যাচার করেছেন(নাউজুবিল্ললাহ)? আর রাসুল (সা) নিজেই শিক্ষক হয়ে আমাদের কুরআন শিখিয়ে গেছেন? তিনি নিজেই শিক্ষক। আমরা রাসুলকে ((সা) সম্মান করি কেন? কারন আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাদেরকে সচেতন করেছেন। আর আল্লাহ কুরআন কে সহজ করেছেন রাসুলের (সা) মাধ্যমে। কুরআন আল্লাহ শুধুমাত্র সহজ করে দেননি, রাসুলের জীবনে তার প্রতিচ্ছবিওআমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। এখন কি আমার কাছে আল্লাহর কুরআন আর রাসুলের(সা) আদর্শ নাই।

    হাফিজ

    @Saifullah Mujaheed, আপনি একবার বলছেন শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, আবার বলছেন তিনি নিজেই শিক্ষক!!! ব্যাপারটা বুঝলাম না।
    কোনটা সঠিক?

    Saifullah Mujaheed

    @হাফিজ, চলুন আমরা আলচনা করছিলাম ইজতিহাদের যোগ্যতা নিয়ে। আমি আবারও বলছি যে কুরআন বুঝার জন্য আপনি বা আমি নিজেই যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদের বলছেন যে তিনি উপদেশ গ্রহনের জন্য কুরআন সহজ করে দিয়েছেন। কিন্তু কিভাবে। রাসুলের(সা) এর মাধ্যমে। রাসুল (সা) কে শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে। তিনি এসে আমাদের সামনে কুরআন কে উপস্থাপন করলেন এবং শেখালেন। আমরা তার মাধ্যমে আল্লাহ এবং কুরআন কে জানলাম। আমার কথা হল এখন যেহেতু আমার সামনে রাসুল(সা) এর জীবন আদর্শ আছে, তাই এখন কুরআন কে বুঝার জন্য শিক্ষক কি দরকার নেই। কারন তার জীবনাদর্শ আর কুরআন দুইটাই আমার কাছে আছে। কারন আল্লাহ কুরআন কে সহজ করে উপদেশ গ্রহণযোগ্য করে দিয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ত্তাই নয় কি?

    হাফিজ

    @Saifullah Mujaheed, যাক আপনি প্রথমে বলেছিলেন শিক্ষকের প্রয়োজন নেই, এখন আপনি যেটা বললেন সেটাতে আমারও একমত যে রসুল (সা:) আমাদের শিক্ষক। এখন রসুল (সা:) যেভাবে কোরআন বুঝতে, শিখতে বলেছেন সেভাবে আমাদের বুঝতে শিখতে হবে, এ ব্যাপারে আপনার কোনো দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না, কি বলেন?

    Anonymous

    @Saifullah Mujaheed, “আমি আবারও বলছি যে কুরআন বুঝার জন্য আপনি বা আমি নিজেই যথেষ্ট” আপনার এই বাক্যই প্রমাণ করে যে শিক্ষকের প্রয়োজন আছে। আলোচ্য আয়াতের কোন তাফসীর কি এমন আছে যেখানে বলা হয়েছে এই আয়াত দ্বারা শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা রহিত করা হয়েছে? এবং আল্লহর রসুল সল্লাল্লহু আ’লাইহি ইয়া সাল্লামই শেষ শিক্ষক? আল্লহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা সুরা নিসায় উল্লখ করেছেন “يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّـهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ” হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং উলিল আমর। এখানে উলিল আমর কথাটা গুরুত্বপুর্ণ।

    রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ইয়া সাল্লামের আদর্শ আপনার কাছে পৌঁছেছে হাদিসের সংকলণের মাধ্যমে। এর আগ পর্যন্ত কিভাবে উম্মতের কাছে পৌঁছত? তখনতো কুরআন ছিল এরপরও কেন মানুষ আবদুল্লহ ইবনে আব্বাস বা উবাই ইবনে কাব রদিয়াল্লহু আ’নহুমদের মজলিসে বসত? বস্তুত শিক্ষকের কাছে সশরীরে হাজির হয়ে ইলম শেখা এটাই ইলম শেখার মাসনুন তরীকা। সাহাবাহ কেরামও নিজে যে জানে তাঁর কাছে হাজির হয়ে শিখতেন। এমন অনেক ঘটনা সাহাবাহদের জীবনীতে পাবেন। হাদীসের সংকলক কাউকে কি কখনও বলেতে শুনা গেছে যে এখন হাদিস সংকলিত হয়ে গেছে তাই এখন আর শিক্ষকের প্রয়োজন নেই? ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি কি বুখারী শরীফ লেখা হয়ে যাওয়ার পর হাদিসের দরস বন্ধ করে দিয়েছিলেন? কখনও বলেছেন যে এখন আর আমার মজলিসে আসার প্রয়োজন নেই? কিতাব দেখে নাও? উনার ছাত্ররা কেউ দরস বন্ধ করেছিলেন? পরবর্তী কোন জামানায় শিক্ষকের আর প্রয়োজন নেই এমন কোন ফতওয়া কেউ দিয়েছে? উনাদের কিতাব লেখার উদ্দেশ্য কি শিক্ষকের প্রয়োজনকে বিদায় জানানো ছিল নাকি ইলম সংরক্ষন ছিল? বুখারী শরীফের এত বড় বড় ব্যাখ্যাগ্রন্থ কেন? এত তাসফসীরগ্রন্থই বা কেন? আর আপনি যে অর্থ বুঝা বলেছেন ঐ অর্থ অনেক তাফসীর কারক হিফজ করাও করেছেন? বস্তুত উলামাকেরাম থেকে সাধারণ মানুষকে বিছিন্ন করার এক সুদূরপ্রসারী যড়ষন্ত্র চলছে। সাধারণ মানুষ অনেক কিছুই বুঝবেনা আর অনেক কিছু ভুল বুঝবে যদি উস্তাদের কাছে না শিখে। ফলে তাদের মধ্যে বিশৃংখলা দেখা দিবে, নিজেরাও বিরোধে লিপ্ত হয়ে যাবে।

    “আমরা আলচনা করছিলাম ইজতিহাদের যোগ্যতা নিয়ে” আপনি পোস্টটা ভালভাবে পড়লেই বুঝবেন যে আলবানীর যোগ্যতা ছিল কিনা? উনি যে ভুল গুলো করেছেন হাদিস শাস্ত্রে এসব ভুল অমার্জনীয়। উনি একই রাবীকে কখনও গ্রহনযোগ্য বলেছেন কখনও অগ্রহনযোগ্য বলেছেন। হাদিস যে জামানায় সংকলন হয়েছে ঐ জামানায় এমন ভুল কেউ করলে তাকে মিথ্যাবাদী বলা হত এবং তার সকল রেওয়ায়েত জাল হিসেবে বাতিল করা হত। মুলত এটা যোগ্যতা না থাকার কারণেই হয়েছে। ইজতিহাদ কারা করবে এই ব্যপারে আগের দিনের উলামাকেরাম অনেক মাপকাঠী নির্ধারণ করে গেছেন। এই ব্যপারে এই ব্লগেই বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। দেখে নিবেন আশা করি। এছাড়া ভালো কোন আলেমকে জিজ্ঞাসা করলেও পাবেন।

    Anonymous

    @Saifullah Mujaheed,ভাই কুরআন তো শুধু একটা আয়াতের সমষ্টি নয়, একই ভাবে দ্বীনও ক্ষুদ্র নয়। এজন্য এক আয়াতের দ্বারা কোন conclusion পৌঁছা যায় না। এই কুরআনেই এক জায়গায় আছে এই কুরআন অনেক কে হেদায়েত দিবে অনেক কে গোমারাহ করবে। আমি যেন কুরআন থেকে গোমারাহ না হয়ে যাই এজন্যই কোন নির্ভরযোগ্য উস্তাদের কাছ থেকে কুরআনের ইলম হাসিল করা।

    মুজতাহিদ হওয়ার অনেক যোগ্যতার কথা আগের দিনের উলামাকেরাম লিখে গেছেন। এইজন্যই ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি থেকেও কোন কোন ব্যাপারে তাকলীদের নজীর পাওয়া যায়। আসলে অন্ধ তাকলীদ সবযুগেই নিন্দনীয় ছিল। কিন্তু যোগ্য লোকের তাকলীদতো সাহাবাহ কেরআম রদিয়াল্লহু আ’নহুমদের থেকেও পাওয়া যায়। আর যে জানে না সে যেন সে জানে তার কাছ থেকে শিখে নেয়, এটাতও রসুল স. এর নির্দেশ।

  4. ভাই আবু তাসনীম, আপনি বেশ confidently এবং bold অক্ষরে লিখেছেন, “সবচেয়ে বড় কথা তিনি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মদীনা ইসলামীক ইউনিভার্সিটির হাদীস বিভাগের প্রধানের দ্বায়ীত্ব পালন করেছেন । তার পড়াশুনার অবস্থা যদি শোচনীয় হয় আর তিনি যদি হাদীসের ব্যাপারে এরকম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এতবড় দায়ীত্ব পান কি করে ?” আমি এরপক্ষে প্রমাণ চেয়েছিলাম, আপনি এখন পর্যন্ত না দেয়ায় নেটে কিছু ঘাটাঘাটি করেছিলাম। এই লিংকটি পেলাম। আপনি যেহেতু উনার সম্পর্কে জানেন তাই সত্যায়নের ভার আপনার উপরেই ছেড়ে দিলাম। একটু verify জানাবেন মেহেরবানী করে। এখানে একটি কথা লেখা আছে–
    “After a number of his works appeared in print, Al-Albani started to teach Hadith at the Islamic University of Madinah, for three years (from 1381 to 1383H) where he was also a member of the University board. Later he would return to his studies and work in the Az-Zahiriyah library, leaving his shop in the hands of one of his brothers.”

    এখানে Al-Albani started to teach Hadith at the Islamic University of Madinah, for three years (from 1381 to 1383H) কথাটি আপনার দেয়া confidently এবং bold অক্ষরের তথ্যের বিপরীত। আপনার তথ্যের মধ্যে ছিল “সবচেয়ে বড় কথা তিনি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মদীনা ইসলামীক ইউনিভার্সিটির হাদীস বিভাগের প্রধানের দ্বায়ীত্ব পালন করেছেন“। এখানে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত, বিভাগের প্রধানের দ্বায়ীত্ব শব্দগুলো মিথ্যা বা অসত্য।

    যে কোন তথ্য দেয়ার আগে একটু verify করবেন please.

    Anonymous

    বাংলা ইংরেজীর mixing সমস্যা করে এই সাইটে। আমি আবার উল্লেখ করলাম। তাই formatting বাদ দিয়ে আবার উল্লখ করলাম।

    “After a number of his works appeared in print, Al-Albani started to teach Hadith at the Islamic University of Madinah, for three years (from 1381 to 1383H) where he was also a member of the University board. Later he would return to his studies and work in the Az-Zahiriyah library, leaving his shop in the hands of one of his brothers.”

  5. উপরের পোস্টের তিন নম্বর প্রশ্নে আমরা দেখেছি শায়খ আলবানী রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহি কখনও একই রাবী কে গ্রহণযোগ্য কখনও অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। এখানে দুটি লিংক দিলাম। এখানে আপনারা দেখবেন উনি কিভাবে একই হাদিসকে সহীহ কখনও জঈফ বলেছেন। এমন প্রায় ২১০ হাদিসের ক্ষেত্রে উনি করেছেন। এগুলো হাদিস বিশ্লষণে ভুল। আর ফিকাহ ও অন্যান্য সক কিছু মিলে ভুলের সংখ্যা প্রায় ১২০০। আমার সময় থাকলে আমি বাংলায় অনুবাদ করে দিতাম। পরে সময় পেলে করব ইনশা আল্লহ।
    লিংক ১
    লিংক ২

  6. SHEIKH ALBANI’R moto alem’r shomalochona korte holee unar moto alem hote hobe.ajkal jodu modhu o unar shomalochona kore……uni jal daef hadith’r je boi liksen nijer kon montobbo ta korechen?uni purber alem der reference tene ene hadith’r shomalochona korechen…..unar boi valo kroe porun…….uni nijer boi e bolechen,onek shomoy ami kono hadith ke durbol boli,kintu kintu onno boi e hasan boli karon rabi’r karone.abar onek shomoy durbol hadith onek howar karone oi hadith ke hasan porjaiye bole feli……hadith sciecne a pore unar shomalochona korun…..andaje kotha bole manusher matha khaben na…….ami arab a achi..arab sheikh ra unake onek respect kore………….unar moto muhaddith Allah’r ek neyamot

    Anonymous

    @badru,উনার মত আলেম হওয়া সম্ভব নয়। একই হাদিসকে কখনও জঈফ কখনও সহীহ, একই রাবীকে কখনও গ্রহণযোগ্য কখনও অগ্রহনযোগ্য বলা, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের হাদিসকে জঈফ বলা, বিভিন্ন মিথ্যা রেওয়াত দেয়া, অসংখ্য সহীহ হাদিসকে অস্বীকার করা, অসংখ্য প্রতিস্ঠিত জঈফ হাদিস কে সহীহ বলা, পুর্বেকার সালফে সালেহীনদের প্রতিষ্ঠিত আ’মালকে বিদআত বলা, যে আ’মাল পুর্বেকার সালফে সালেহীনরা নিধেষ করে গেছেন তাকে জরুরী বলা এমন আলেম হওয়া সম্ভব নয় ভাই।