লগইন রেজিস্ট্রেশন

মুসলমানদের বর্তমান জীবনধারা ও তার ফলাফল

লিখেছেন: ' Anonymous' @ শুক্রবার, মে ২৫, ২০১২ (৩:২০ অপরাহ্ণ)

মূলঃ মাওলানা মুহাম্মাদ মনযূর নুমানী
অনুবাদঃ মাওলানা ফজলুল বারী

দ্বীন মানা-না মানার বিচারে বর্তমানে মুসলমানদেরকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। অল্প কিছু মানুষ এমন আছেন, যাদের যিন্দেগী প্রকৃতপক্ষে মুসলমানের যিন্দেগী। অর্থাৎ তাঁদের অন্তরে ঈমান আছে। ঈমানের কারণে আখিরাতের ফিকির আছে। আর এ কারণে তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ নিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলেন। কখনো কোনো নাফরমানী হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করেন। তাঁদের জীবন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে ওফাদারির জীবন। কিন্তু এই শ্রেণীর মানুষ বর্তমান সমাজে খুব কম। আমার ধারণা, এক-দুই শতাংশও না। তারপরও প্রতিটি দেশে প্রতিটি এলাকায় আল্লাহর এমন কিছু ওফাদার ও ফরমাবরদার বান্দা আলহামদুল্লিাহ এখনো আছেন। এরাই আসলে খাঁটি মুসলমান। এদের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক মুসলমান এমন আছেন, যারা কেবল বংশগত মুসলমান। ইসলামের সাথে না তাদের জ্ঞানগত সম্পর্ক আছে, না কর্মগত। না তাদের এই চিন্তা আছে যে, আমার কাছে ইসলামের দাবি কী, আর না বাস্তব জীবনে ইসলামের বিধান মোতাবেক চলার সংকল্প আছে। তাদের মুসলমান হওয়ার অর্থ শুধু এটুকু যে, তারা ইসলামকে অস্বীকার করে না। পূর্বপুরুষের ধর্ম ইসলামকে তারা সত্য মনে করে। এর বেশি কিছু তাদের জানাও নেই, জানার ইচ্ছাও নেই। আমি ইতিপূর্বে বলেছি, এরাই এখন মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণী। কেউ হয়তো আমার এ কথাকে ওয়ায়েজের অতিরঞ্জন মনে করবেন, কিন্তু আমার স্থির বিশ্বাস, এতে কোনো অতিশয়তা নেই। কারো সংশয় থাকলে তিনি একটু কষ্ট স্বীকার করে মুসলমানদের বিভিন্ন শ্রেণীর মাঝে যান এবং তাদের দ্বীনদারীর অবস্থা লক্ষ্য করেন তাহলে তার সংশয় দৃঢ় হবে এবং তিনিও আমার সাথে একমত হবেন। তো এই হল দুই শ্রেণী। তৃতীয় শ্রেণীটি হচ্ছে মাঝামাঝি। অর্থাৎ প্রথম শ্রেণীর মুসলমানদের মতো এদের মাঝে দ্বীন মোতাবেক চলার পুরা ফিকির নেই। আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর মতো দ্বীন সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীনও নয়। দ্বীন সম্বন্ধে তাদের কিছু জানা শোনা আছে, দ্বীনের প্রতি কিছু মহববতও আছে এবং দ্বীনের কিছু আহকামের উপর তাদের আমলও আছে। কিন্তু একজন খাঁটি মুসলিমের মতো আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের হুকুমকেই জীবন যাপনের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি। একারণে জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই তারা দ্বীনের বিধি বিধান লঙ্ঘন করে। যেমন তারা নামায পড়ে, কিন্তু পাবন্দীর সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে না কিংবা যাকাত দেয় না। নামায পড়ে কিন্তু ঘুষ নেয়, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে দুর্নীতি করে ইত্যাদি। মোটকথা মুসলিম হয়েও, ইসলামের প্রতি মহববত ও অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও নিজেদেরকে তারা ইসলামী বিধি বিধানের অনুগামী করেনি। একারণে তাদের কিছু কাজ যেমন ইসলামসম্মত তেমনি কিছু কাজ ইসলাম বিরোধী। সংখ্যার দিক দিয়েও মুসলিমসমাজে এদের অবস্থান মাঝামাঝি।

তো দ্বীনদারীর বিচারে মুসলিমসমাজে বর্তমানে তিনটি শ্রেণী রয়েছে। প্রথম শ্রেণীর সংখ্যা নিতান্তই কম, কিন্তু তাঁদের দ্বীনী অবস্থা অনেক ভাল। কুরআন-হাদীসে এ শ্রেণীর মুসলমানদের জন্য আছে আল্লাহর রহমত ও রেযামন্দি এবং জান্নাতের অসংখ্য সুসংবাদ। আল্লাহ তাআলা স্বীয় রহমতে আমাদেরকে এ শ্রেণীর মাঝে শামিল করুন। আমীন।

আর দ্বিতীয় শ্রেণী, যারা দ্বীন পালন করে না আবার দ্বীনকে অস্বীকারও করে না আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন এবং আমাদের এই মহা অপরাধ ক্ষমা করুন যে, আমরা দুনিয়াতে চলাফেরা করছি, আমাদের সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে অথচ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের এত বিরাট সংখ্যা দ্বীন থেকে এত দূরে পড়ে আছে। একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন, ইসলামের সাথে এদের যে নামকেওয়াস্তের সম্পর্ক এটা ভবিষ্যতে কদ্দূর টিকবে। আমি এই শ্রেণী সম্পর্কে এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাই না। কারণ এই মজলিসে সম্ভবত এই শ্রেণীর কেউ নেই। বাকী থাকল মুসলমানদের তৃতীয় শ্রেণীর কথা, যাদের আমি বলেছি, সংখ্যা ও দ্বীনদারী-উভয় দিক থেকে মাঝারি। তারা যদিও দ্বিতীয় শ্রেণীর চেয়ে ভালো, কিন্তু কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এই অবস্থা আল্লাহ তাআলার কাছে পছন্দনীয় নয়। এ অবস্থায় স্থির থাকার অবকাশ নেই। আল্লাহ চান পূর্ণরূপে ইসলামে দাখিল হওয়া। সুতরাং তওবা করে নিজেকে সংশোধন না করলে এ অবস্থাও আল্লাহর আযাব-গযবে মানুষকে নিক্ষেপ করে।

মুহতারাম হাজিরীন! আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে, বর্তমানে সামগ্রিক বিচারে মুসলিমদের শতকরা এক থেকে দুই ভাগ মানুষের অবস্থা এমন যে, তাঁদের প্রতি আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট এবং রহমত ও নুসরত পাওয়ার হকদার। পক্ষান্তরে ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ মানুষের অবস্থা এমন যা আল্লাহর শাস্তি ও অভিশাপ টেনে আনে। মুসলিম উম্মাহর এই অবস্থার ফলাফল হয়েছে তিনটি।
এক. এই উম্মাহ এখন আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মদদ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে। অথচ একসময় মুষ্টিমেয় মুসলমান পুরা দুনিয়ার মোকাবেলায় যথেষ্ট ছিল। পৃথিবীর যে দিকেই তারা অগ্রসর হত আল্লাহর নুসরত তাদের সাথে থাকত এবং সকল ময়দানে নুসরতের ওয়াদা সত্য হতে দেখা যেত।

অথচ এখনকার অবস্থা এই যে, এক এক দেশে কোটি কোটি মুসলমান বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো প্রভাব নেই। বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটি উদাহরন, ইসরায়েলের মোকাবেলায় আরব রাষ্ট্রগুলোর অসহায়ত্ব। যেখানে পৃথিবীর এক বিঘত জমির উপরও ইহুদীদের হুকুমত ছিল না, সেখানে আমেরিকা ও বৃটেন তাদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে আরব রাষ্ট্রগুলোর হৃদপিন্ডে ইহুদী রাষ্ট্রটা কায়েম করেছে অথচ আরব রাষ্ট্রগুলো সকলে মিলেও তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি, আজ পর্যন্ত তারা নিরুপায়।
এ তো একটিমাত্র দৃষ্টান্ত। গোটা মুসলিমজাহানে প্রতিদিন যা কিছু ঘটছে তা পরিষ্কার প্রমাণ করে, এই যুগের মুসলমান জাতি হিসেবে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে। অথচ একটি সময় এমন ছিল যখন ঝড় তুফান মুসলমানদের স্বার্থের অনুকূল হলে আল্লাহর পক্ষ হতে ঝড় তুফান এসে যেত। তদ্রূপ ঝড় তুফান থেমে যাওয়া তাদের স্বার্থের অনুকূল হলে ঝড় তুফান থেমে যেত। বৃষ্টির প্রয়োজন হলে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হত। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দরকার হলে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যেত। বদর ও আহযাবে বৃষ্টি ও তুফানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের নুসরত করেছেন। তা যেমন হাদীস শরীফে আছে তেমনি কুরআনেও আছে। তো মুসলমানদের জীবন যখন আল্লাহর ইতাআত ও আনুগত্যের জীবন ছিল তখন আল্লাহ তাআলা প্রকৃতির শক্তিকে তাদের সহযোগী করে দিয়েছেন। এর ফলাফল কী হত তা আপনারা খাইরুল কুরুনের ইতিহাসে পাঠ করেছেন। পক্ষান্তরে যখন মুসলমানদের মাঝে অন্যায়, অপকর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটল এবং তাদের সামগ্রিক অবস্থা আল্লাহর রহমত ও নুসরতের উপযুক্ত থাকল না তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর শ্বাশ্বত নিয়ম অনুসারে এ জাতিকে তাঁর মদদ থেকে মাহরূম করে দিলেন। ফলে বর্তমান পৃথিবীর সর্বত্র তাদের অবস্থা আমরা দেখতে পাচ্ছি। তো মুসলমানদের এই অধঃপতনের এক শাস্তি হচ্ছে আসমানী নুসরত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাওয়া।

আর দ্বিতীয় শাস্তি মৃত্যুর পর কবর ও হাশরের দুরবস্থা। এরপর আল্লাহ না করুন জাহান্নামের আযাব, যা দুনিয়ার সকল বিপদ ও লাঞ্ছনার চেয়ে হাজার গুণ কঠিন। তবে দুনিয়ায় আযাব আসে উম্মতের সামগ্রিক অবস্থার বিচারে আর আখেরাতের বিচার হবে প্রত্যেকের নিজ নিজ আমলের হিসেবে।
অর্থ: কেয়ামতের দিন তাদের প্রত্যেকে আল্লাহর কাছে একাকী উপস্থিত হবে।- সূরা মারইয়াম : ৯৫

তো আমরা যদি আমাদের অবস্থার সংশোধন না করি এবং আল্লাহর নাফরমানিই আমাদের মাঝে প্রবল থাকে তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের স্পষ্ট ঘোষণা, মৃত্যুর পর প্রতিটি ঘাটিতে আমাদেরকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে, যার এক একটি মুহূর্ত হবে এ দুনিয়ার সকল কষ্ট ও লাঞ্ছনার চেয়েও কঠিন।
আল্লাহ কুরআনে বার বার সতর্ক করে বলেছেন।
অর্থ : আর আখেরাতের আযাব বাস্তবিকই বেশি কঠিন ও অধিকতর স্থায়ী।-সূরা ত্বহা : ১২৭
অর্থ : আর আখেরাতের শাস্তি তো আরও বেশি লাঞ্ছনাকর।-সূরা হা-মীম সাজদা : ১৬

বন্ধুগণ! আল্লাহ পাকের কিতাব ও তাঁর সত্য নবী আমাদেরকে সম্বোধন করেছেন যে, আনুগত্য ও ফরমাবরদারীর পরিবর্তে অবাধ্যতা ও নাফরমানী গ্রহণ করলে তোমাদেরকে দুনিয়াতেও শাস্তি পেতে হবে, আখিরাতেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। দুনিয়ার শাস্তি তো আমরা সচক্ষে দেখছি সুতরাং আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তির বিষয়ে আমাদের কোনো সংশয় থাকা উচিৎ নয়। যা যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বলেছেন সব সত্য হয়ে আমাদের সামনে আসবে। সুতরাং এখনই আমাদের সতর্ক হতে হবে।

মুসলমানদের অধঃপতনের দুটি ফলাফল আমি আপনাদেরকে বলেছি। এবার তৃতীয় বিষয়টি তুলে ধরতে চাই।

আমরা সকলেই বিশ্বাস করি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত সকল জাতি ও সকল মানুষের নবী। জীবদ্দশায় তিনি তাঁর দায়িত্ব পূর্ণরূপে পালন করেছেন। তাঁর পর তাঁর এই মিশনকে সামনে এগিয়ে নেওয়া উম্মতের কর্তব্য। কিন্তু আফসোস, দ্বীনের মিশন নিয়ে যারা সামনে অগ্রসর হবে তারাই এখন দ্বীনের প্রচার ও বিস্তারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানুষের স্বভাব প্রকৃতি সম্বন্ধে যাদের ধারণা আছে তারা জানেন, পৃথিবীতে খুব কম লোকই পড়াশুনা ও গবেষণার মাধ্যমে কিংবা কারো দাওয়াত বা ওয়াজ শুনে কোনো ধর্ম গ্রহণ করেছেন। বরং কোনো ধর্মের অনুসারীদের বাস্তব জীবন যখন এই সাক্ষ্য দেয় যে, তাদের ধর্ম সর্বোত্তম ধর্ম এবং এরাই আল্লাহর সর্বোত্তম বান্দা তখন এক দুজন ব্যক্তি নয়, গোষ্ঠীর পর গোষ্ঠী, দেশের পর দেশ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাদের দ্বীন গ্রহণ করে।

সাহাবায়ে কেরামের যুগে শুধু রাজ্যজয়ের মাধ্যমে ইসলামের বিস্তার ঘটেনি; বরং সাহাবারা যখন কোনো রাজ্য জয় করেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেখানকার মানুষ তাদের সততা ও আমানতদারী দেখেছে তখন ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এই ভারতবর্ষের অধিবাসীরা বড় বড় সুফী, পীর-মাশায়েখদের সাধাসিধা ও পবিত্র জিন্দেগী দেখে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে।

কিন্তু দুঃখজনক সত্য এই যে, মুসলমানদেরকে দেখে ইসলাম গ্রহণ করার এই ধারা শত শত বছর ধরে বন্ধ। মুসলমানদের জীবন এখন আর কারো মনে ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জাগায় না। অমুসলিমরা মুসলিম প্রতিবেশীর সাথে থাকছে। একে অপরকে দেখছে, পরস্পর লেনদেন করছে, স্কুল কলেজে একসাথে পড়াশোনা করছে, অফিস আদালতে একসাথে কাজ করছে, বাসে ট্রেনে একসাথে চলাফেরা করছে, কিন্তু পবিত্রতা, ধার্মিকতা, সততা ও আমানতদারী কোনো কিছুতেই তারা মুসলমানদের আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য দেখছে না। যে সকল দোষ সাধারণ অমুসলিমদের মাঝে আছে তা মুসলিম নাম-পরিচয় বহনকারীদের মাঝেও আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু বেশিই আছে। এ অবস্থায় কীভাবে অমুসলিমরা মুসলমানদের দেখে ইসলামের প্রতি অকৃষ্ট হবে? বরং কখনো কখনো তো এমন হয় যে, কোনো উপায়ে আল্লাহর কোনো বান্দার মনে যদি ইসলামের প্রতি আগ্রহও জাগে তাহলে মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা তার ঐ আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। এ ধরনের অনেক ঘটনা আমার নিজের জানা আছে। কথা যখন এসেই গেল তো শিক্ষা গ্রহণের জন্য একটি ঘটনা আপনাদের শোনাই।

লক্ষ্ণৌর একজন নামকরা ব্যারিস্টার চৌধুরী নাঈমুল্লাহ মরহুম ছিলেন আমার বন্ধু এবং দ্বীনী কাজকর্মের একজন সঙ্গী। দেড় বছর আগে তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেছে। বিলাত ফেরত ব্যারিস্টার হয়েও শুধু নামায রোযারই পাবন্দ ছিলেন না, অনেক গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। বিশেষত দাওয়াত ও তাবলীগের বড় জযবা ছিল। লক্ষ্ণৌ ইউনিভার্সিটির আইনের শিক্ষক ছিলেন। সুযোগ হলেই তিনি অমুসলিমদের সামনে ইসলামের শিক্ষা ও সৌন্দর্য আলোচনা করতেন।

তিনি আমাকে একটা ঘটনা শুনিয়েছিলেন। একবার তার এক হিন্দু বন্ধু, যিনি সম্ভবত লক্ষ্ণৌ ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর ছিলেন, তাকে বললেন, ভাই নাঈমুল্লাহ যখন আমি তোমার কাছে ইসলামের কথা শুনি তখন আফসোস হয়, কোনো মুসলিম পরিবারে কেন আমার জন্ম হল না। কখনো কখনো মনে হয়, যা হয় হবে আমি মুসলিম হয়ে যাব। কিন্তু এরপরও কেন আমি ইসলাম গ্রহণ করি না তা শুনবে? প্রতিদিন আমি গোমতি নদীর তীরে হাঁটতে যাই। কিন্তু যখন দেখি নদীতে স্নান করতে আসা নারীদেরকে যারা আগ্রহ নিয়ে দেখছে তাদের অধিকাংশই হচ্ছে মুসলিম তখন আমার ইসলামের দিকে আগ্রহ থাকে না।

বন্ধুরা! এসব ঘটনা বর্ণনা করাও লাঞ্ছনা ও অপমানের বিষয়। কিন্তু আল্লাহ জানেন কত দুঃখ ও লজ্জা নিয়ে আপনাদের সামনে ঘটনাটি বলেছি। শুধু এজন্য বলেছি যে, আমাদের জানা দরকার, আমাদের বদ আমলের কারণে ইসলাম কতটা অপদস্ত হচ্ছে আর আদমের সন্তানরা কীভাবে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

বন্ধুরা! একটু চিন্তা করুন, আমাদের বিশ্বাস এই যে, ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম, ইসলামের শিক্ষা মানুষের স্বভাবের অনুকূল এবং ইসলামের মাঝে আলাদা আকর্ষণ আছে। তবুও কেন শত শত বছর ধরে মুসলিম-অমুসলিম একই সাথে বসবাস করে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম গত হয়ে যায় কিন্তু কোন অমুসলিমের মনে একথা জাগে না যে, আমার মুসলমান পড়শির ধর্ম ও জীবন-ধারা কত সুন্দর! তাহলে আমি কেন ঐ ধর্ম গ্রহণ করছি না?’

আমি কসম খেয়ে বলছি, মুসলমান যদি তার কর্ম ও আচরণে খাঁটি মুসলমান হত এবং ইসলামের প্রকৃত রূপটি তাদের মাঝে দৃশ্যমান হত তাহলে মুসলমানের অমুসলিম প্রতিবেশী ইসলাম গ্রহণে বাধ্য হয়ে যেত। এক প্রজন্ম না হলে পরের প্রজন্ম হতো। সে প্রজন্ম না হলে তার পরের প্রজন্ম হত। কারণ এ তো হতেই পারে না যে, মানুষ একটি ভালো জিনিস নিজের চোখে দেখতে থাকবে কিন্তু তা গ্রহণ করার ইচ্ছা কখনো তার মনে জাগবে না।

তো সারকথা এই যে, অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হচ্ছে, অধিকাংশ মুসলমানের ইসলাম-বিরোধী জীবন-যাপন। তাদেরকে দেখেই মানুষ ইসলাম সম্পর্কে ধারণা করছে। চিন্তার এই পদ্ধতি আমার আপনার কাছে যতই ভুল ও অযৌক্তিক হোক, বাস্তবতা এটাই।

এবার আপনাদের কাছে আমি আর একটি কথা বলব, যা খুবই তিক্ত তবে বাস্তব সত্য। এজন্য আমি আপনাদের তা বলতে চাই। রাগ না হয়ে ঠান্ডা মাথায় বিষয়টি চিন্তা করুন।
ইসলামের শত্রুরা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের সম্পর্কে অনেক অপপ্রচার করেছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অনেক বিষ ছড়িয়েছে এবং এখনো ছড়াচ্ছে। কোনো দুর্ভাগা যখন ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে বিষোদগার করে তখন আমাদের পক্ষে স্থির থাকা কঠিন হয়ে যায় (নিঃসন্দেহে এটা ঈমানের দাবী)। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন কোন বিষয়টি মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে বেশি বিরূপ করছে-তাদের এই সকল অপতৎপরতা, না স্বয়ং মুসলমানদের বদ আমল ও অপকর্ম?

আল্লাহর ওয়াস্তে বলুন, শত শত বছর ধরে যে পৃথিবীর জাতি গোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ইসলামের দিকে আসছে না এর পিছনে কার ভূমিকা বড়-দুশমনদের অপপ্রচারের না মুসলমানদের অনাচারের? কেন আমাদের নিজেদের প্রতি ক্রোধ জাগে না? কেন আমরা আমাদের ইসলাম বিরোধী জীবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি না?

ইসলামের শত্রুরা ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যে অভিশপ্ত লেখালেখি করেছে তার পাঠক তো বিশেষ শ্রেণীর কিছু মানুষ। তারাও একবার পড়ে রেখে দেয়। কিন্তু মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা এমন এক খোলা বই; বরং বলুন এমন এক পোস্টার, যা প্রত্যেক অমুসলিম প্রতি মুহূর্তে দেখছে এবং পাঠ করছে। মহল্লায়, বাজারে, পথে-ঘাটে, অফিস-আদালতে সবখানে মুসলমানদের এই জীবন-গ্রন্থের পাতা অমুসলিমদের সামনে খোলা রয়েছে এবং তারা তা সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করছে।

সত্যিই যদি ইসলামের প্রতি আমাদের ভালোবাসা থাকে, তাহলে এই অবস্থার পরিবর্তনে আমাদেরকে প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে পারি? এ বিষয়ে আমি একটি আরজ করব। আমরা প্রত্যেকে দুটি সিদ্ধান্ত নেই।
এক. নিজের জীবন ও কর্মকে সংশোধনের চেষ্টা করব।
দুই. সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য ভাইয়ের জন্যও চেষ্টা করব।

নিজের সংশোধন তো কঠিন বিষয় নয়। দ্বীন মানার ক্ষেত্রে এতদিন যে অবহেলা ও ত্রুটি হয়েছে এবং নফস ও শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যে সকল গুনাহ হয়েছে তা থেকে খালেছ দিলে তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া। ভবিষ্যতে ইতাআত ও ফরমাবরদারীর অঙ্গিকার করা। এরপর যদি নফস ও শয়তানের ধোকায় পড়ে কোনো গুনাহ হয়ে যায় তাহলে পুনরায় তাওবার মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরে আসা। এভাবে চলতে পারলেই ধরে নিন আপনার উন্নতি হচ্ছে এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের সাথে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপিত হচ্ছে। কোনো কোনো ভাইয়ের অবস্থা এমন হতে পারে যে, এই মুহূর্তে সকল গুনাহ বর্জনের নিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন কিছু গুনাহয় তারা লিপ্ত যা ছেড়ে দেয়ার ফয়সালা নিজের কম হিম্মতির কারণে করতে পারছেন না। তারা এই মুহূর্তে ঐসব গুনাহ ছেড়ে দেয়ার ফয়সালা করুন যেগুলো এখন থেকেই ছেড়ে দেওয়া সম্ভব। আর যেগুলো এখনই বর্জন করা সম্ভব নয় তার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন, ইয়া আল্লাহ আমাকে এই পরিমাণ সাহস দাও, যার দ্বারা আমি এই গুনাহগুলো পুরাপুরি ছেড়ে দিতে পারি। সাথে সাথে সাধ্যমত চেষ্টা করতে থাকুন। তাহলে আশা করা যায় মেহেরবান আল্লাহ ঐসব গুনাহ ছেড়ে দেয়ারও সাহস দান করবেন।

আমি আপনাদেরকে আরো কয়েকটি পরামর্শ দিব। তাওবার সাথে সাথে এমন কিছু কাজ নিয়মিত করুন, যা আপনাকে তাওবার উপর অটল থাকতে সহায়তা করবে এবং আল্লাহর সাথে আপনার তাআল্লুক দিন দিন বাড়তে থাকবে। ঐ কাজগুলে এই-এক. কালিমায়ে তায়্যিবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, যা বান্দার পক্ষ থেকে তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য এবং আল্লাহর ইবাদত ও রাসূলের ইতায়াতের অঙ্গিকারনামা, এই কালিমা ধ্যান খেয়ালের সাথে এবং সাক্ষ্য ও অঙ্গিকার মনে করে বার বার পড়ুন এবং ঈমানকে তাজা করুন।
প্রথম প্রথম একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা যেমন, একশ বার বা কমপক্ষে দশ বার ঠিক করে নেই এবং সকাল-সন্ধ্যায় পুরা ধ্যান খেয়ালের সাথে তা পড়তে থাকি।

দুই. নামায তো ইনশাআল্লাহ আপনারা সবাই পড়েন। কারো যদি আগে উদাসীনতা থেকেও থাকে তিনিও এখন তওবা করার পর ইনশাআল্লাহ নিয়মিত পড়বেন। এখন সকলেই চেষ্টা করি, আমাদের নামায যেন খুশু খুযু ওয়ালা নামায হয়। যার সর্বনিম্ন স্তর হল নামায পড়ার সময় অন্তরে আল্লাহর ভয় ও বড়ত্ব থাকা এবং এই ধ্যান রাখা যে, আমি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছি, একমাত্র আল্লাহর জন্যই তাকবীর বলছি, তাসবীহ পড়ছি, রুকু সিজদা করছি, আর আমার আল্লাহ আমার নামায পড়া দেখছেন। নামায সম্পর্কে এখন এটুকু কথাই আরজ করছি। আরো বেশী জানার আগ্রহ হলে আমার কিতাব ‘‘নামায কি হাকীকত’’ (‘নামাযের হাকীকত’ নামে বাংলায় অনুদিত, মাকতাবাতুল আশরাফ কর্তৃক প্রকাশিত) পাঠ করুন।

তিন. নিয়মিত কিছু যিকির ও তাসবীহাতের অভ্যাস করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো জিকির ও তাসবীহাতের মধ্যে কালিমায়ে তামজীদ সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও সারগর্ভ জিকির। এতে আল্লাহ তাআলার ছানা-ছিফতের সবদিক বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বড় ফযীলত বয়ান করেছেন। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় কমপক্ষে একশবার করে পড়ুন। এর সাথে একশ বার ইস্তিগফার পড়ুন এবং একশ বার দুরূদ পড়ুন। এটা জিকিরের অতি সংক্ষিপ্ত নেসাব। কেউ এর চেয়ে বেশী করতে চাইলে কোন আল্লাহওয়ালার সাথে পরামর্শ করুন।

মোটকথা জীবন-সংশোধনের ক্ষেত্রে আল্লাহর জিকিরের বিশেষ প্রভাব আছে। তবে শর্ত এই যে, আল্লাহর আযমত ও বড়ত্ব স্মরণ করে ধ্যান খেয়ালের সাথে হতে হবে। যবানের সাথে দিল-দেমাগও হাজির থাকতে হবে।

চতুর্থ ও শেষ বিষয়টি এই যে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে দুই চার মিনিট মৃত্যুর কথা চিন্তা করুন। অন্তরকে সকল চিন্তা থেকে মুক্ত করে একাগ্র চিত্তে এই কথা চিন্তা করুন যে, দুনিয়া থেকে সবাই যেভাবে বিদায় নেয় আমাকেও একদিন বিদায় নিতে হবে, আমার রূহ কবজ করা হবে। তারপর গোসল দেয়া হবে, কাফন পরানো হবে, জানাযা হবে, এরপর কবরে দাফন করে সবাই চলে আসবে। সেই নির্জন কবরে একা আমার কী অবস্থা হবে? এরপর যখন আল্লাহর হুকুমে কিয়ামত কায়েম হবে, আমাকেও পূনরুত্থিত করা হবে, আল্লাহর আদালতে হিসাবের জন্য দাঁড় করানো হবে, আমলনামা সামনে ধরা হবে, তখন আমার কী অবস্থা হবে। ঐ ভয়াবহ অবস্থাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন এবং এমনভাবে চিন্তা করুন, যেন ঐ অবস্থা আপনার সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এরপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন, একমাত্র আল্লাহর রহমতেই মুক্তি পাওয়া যাবে, এরপর গুনাহ থেকে তাওবা পূর্ণ বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সাথে আল্লাহর কাছে মাফ চান এবং রহমত প্রার্থনা করুন।

বন্ধুগণ!
এই যে চারটি কথা আপনাদের সামনে আরজ করলাম। মনে করবেন না যে, এগুলোই হচ্ছে পুরা দ্বীন। বরং এগুলো হচ্ছে এমন কিছু আমল, যেগুলোর উপর পাবন্দির সাথে আমল করতে থাকলে আল্লাহর সাথে আপনার তাআল্লুক ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। দ্বীনদারীর ক্ষেত্রে আপনি অগ্রসর হতে থাকবেন এবং আলোকিত জীবন লাভ করবেন।

বন্ধুগণ!
নিজের ইসলাহের একটি সাধারণ পরামর্শ আমরা পেলাম। কিন্তু উম্মাহর ইসলাহর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক, ও সম্মিলিত মেহনত। এই মেহনতকে নিজের জীবনের অংশ বানাতে হবে। এই মেহনতের কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করার সময় এখন নেই। সংক্ষেপে শুধু এটুকু আরজ করছি যে, দাওয়াত ও তাবলীগের নামে যে মেহনত চলছে, কখনো কখনো তাদের সাথে কিছু সময় ব্যয় করলে ঐ কর্মপদ্ধতি সহজে বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৫৮ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. এই মনজুর নোমানী সম্ভবত একসময় জামাতে ইসলাম করত, পরে তাদের অবস্হা দেখে পরিত্যাগ করেন। উনি অনেক বড় আলেম ছিলেন।

    Anonymous

    @হাফিজ,ভাষাটা ফরম্যাল ও রূচিশীল হল না। এভাবে বললে ভাল হল “মাওলানা মনজুর নোমানী রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহি সম্ভবত একসময় জামাতে ইসলাম করতেন

    যাই হোক। তিনিই মূলতঃ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা। জনাব মওদুদী রহ. ছিলেন জামাতের থিংকট্যাংক। এর বাস্তব রূপকার মাওলানা মনজুর নোমানী রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহি। একটা বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে সাম্যবাদ বা কমিউনিজম। কার্ল মার্কস ছিলেন কমিউনিজমের প্রবক্তা। আর লেনিন ছিলেন কমিউনিজমের বাস্তবরূপ দাতা। অবশ্য তিনি মার্কসের তাত্ত্বিক কমিউনিজম ধরে রাখতে পারেন নি। তিনি নাম দিয়েছেন সমাজতন্ত্র। এটা বলা উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য ছিল বাস্তব উদাহরণ পেশ করা। মাওলানা মনজুর নোমানী রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহি মওদূদীর লেখনীর ক্ষমতায় প্রকাশভংগীর মাধুর্য্যে এতই অভিভূত ছিলেন যে তিনি নিজে ফিকির করে আরও উলামাকেরামদের কনভিন্স করে এই জামাত ফর্ম করেন। তিনি কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও মওদূদীকে তাঁর ওয়াদা সাপেক্ষে এই জামাতের আমীর হিসেবে যোগ্য মনে করেন এবং সাক্ষ্য দেন। যদিও মওদূদী এই পদ নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং মাওলানা মনজুর নোমানী রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহি কে আমীর পদ নেয়ার জন্য আহবান জানান। পরে মাওলানা মনজুর নোমানী রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহির চাপাচাপিতে মওদূদী এই পদ নিতে রাজি হন। কিন্তু পরবর্তীতে মওদূদী নিজেকে সংশোধনের যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ না নেয়ায় তিনি মিথ্যা সাক্ষের এক অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। পরবর্তীতে মওদূদীর সাথে আলাপ করেও আশাব্যন্জ্ঞক কোন জবাব না পাওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করেন। জামাতের মেজর ভুলগুলো তখনও ধরা পড়েনি। এ সম্পর্কে এই কিতাবটি খুব কাজে দিবে

    পরবর্তীতে যখন মেজর ভুলগুলো ধরা পড়ে তখন জামাতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে প্রায় সবাই দল ত্যগ করেন। এদের সংখ্যা ৭০ জনের অধিক ছিল। এব্যাপারে মাওলানা ইসরার আহমেদ রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহি পরবর্তীতে বিস্তারিত লিখেন।