লগইন রেজিস্ট্রেশন

রাফয়ে ইয়াদাইন নিয়ে কিছু কথা………….

লিখেছেন: ' আবদুস সবুর' @ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১২ (৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ)

আজকাল কিছু ভাই রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে এমন কিছু কথা ছড়াচ্ছে যা সাধারন মুসলমানদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে। কিন্তু তারা (সাধারন মুসলমান) কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন না এবং স্বভাবতই তারা অনেকেই বিভ্রান্তির স্বীকার হচ্ছেন। তাই উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু বলা নিজের ঈমানী দায়িত্ব মনে করছি।

নিচে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা সম্পর্কিত দলীলগুলো পেশ করা হল :—

প্রথম দলীল : নবী স.-এর নামায

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন আমি কি তোমাদের কে হুজুর সাঃ এর নামাজ সম্পর্কে অবগতি দেব না? এ কথা বলে তিনি নামাজ পড়ে দেখালেন এবং নামাজে তাকবীরে তাহরীমার সময় একবার রাফয়ে ইয়াদাইন করলেন। নামাজে আর কোথাও তিনি রফঈ ইয়াদিন করলেন না। (প্রমান: তিরমিযী ১;৩৫, সহীহ নাসায়ী শরীফ, হাদিস নং ১০৬১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ, প্রকাশকাল- মে, ২০০২)

মুহাদ্দিস আহমদ শাকির এ হাদীস সম্পর্কে বলেন-
“ইবনে হাযম ও অন্যান্য হাফিজুল হাদীস উপরের হাদীসটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন।”

আল্লামা ইবনুত তুরকামানী (রহ) বলেন,
“এই হাদীসের সকল রাবী সহীহ মুসলিমের রাবী”
(আল-জাওহারুন নাকী : ২/৭৮)

স্মর্তব্য যে, ইমাম তিরমিযী রহ. “সুনান” গ্রন্থে ইবনুল মুবারক রহ. এর যে মন্তব্য উল্লেখ করেছেন তা এই বর্ণনা সম্পর্কে নয়, অন্য আরেকটি বর্ননা সম্পর্কে, যা নিন্মোক্ত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে-
‘রসুল স. শুধু প্রথমবার হাত উঠিয়েছেন।’

এ দুই বর্ণনার মধ্যে প্রভেদ না করায় অনেক আলেম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছেন কিংবা অন্যকে বিভ্রান্ত করেছেন। (দেখুন : নাসবুর রাযাহ : ১/৩৯৪)

এজন্য সুনানে তিরমিযীর বিভিন্ন নুসখায় দ্বিতীয় বর্ণনাটি ভিন্ন শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইবনুল মুবারকের মন্তব্যও রয়েছে সেখানে। অতএব তার মন্তব্য আলোচ্য হাদীস সম্পর্কে নয়।
(জামে তিরমিযী, তাহক্বীক আহমদ শাকির ২/৪১)

এখানে মুহাদ্দিস আহমদ শাকিরের পর্যালোচনা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি লেখেন-
‘রাফয়ে ইয়াদাইন’ বিষয়ে (একশ্রেনীর মানুষ) জয়ীফ হাদীসকে সহীহ ও সহীহ হাদীসকে জয়ীফ সাব্যস্ত করার প্রয়াস পেয়ে থাকে। তাদের অধিকাংশই নীতি ও ইনসাফ বিসর্জন দিয়ে থাকে।’

দ্বিতীয় দলীল : রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীসের বারণ

হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ … আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন। আর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ীই যেহেতু রফইয়ে ঈয়াদিন স্থিরতা-পরিপন্থী তাই আমাদের কর্তব্য হল, নবী স.-এর নিদেশমতো স্থিরতার সঙ্গে নামায পড়া।

তৃতীয় দলীল : হযরত উমর রা.- এর আমল

আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
‘আমি হযরত ওমর রা.-কে দেখেছি, তিনি শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, পরে করতেন না।’ (তাহাবী: ১/১৬৪)

আল্লামা যায়লায়ী রহ. এই হাদীসকে ‘সহীহ’ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী।’

ইমাম তাহাবী রহ. বলেন, ‘হযরত ওমর রা. এর আমল এবং এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর কোনরূপ বিরোধিতা না থাকায় প্রমাণ করে যে, সেই সঠিক পদ্ধতি এবং এ পদ্ধতির বিরোধিতা করা কারও জন্য উচিত নয়।’
(তাহাবী : ১/১৬৪)

চতুর্থ দলীল : হযরত আলী (রা) এর আমল

“হযরত আলী (রা) নামাযে প্রথম তাকবীরে হাত উঠাতেন এরপর আর হাত উঠাতেন না।” (সুনানে বায়হাকী : ২/৮০)

আল্লামা যায়লায়ী রহ. বর্ণনাটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। সহীহ বুখারীর অপর ভাষ্যকার আল্লামা আইনী রহ. বলেন, “এ সনদটি সহীহ মুসলিমের সনদের সমমানের।’
(নাসবুর রায়াহ : ১/৪০৬, উমদাতুল কারী :৫/২৭৪, দিরায়াহ : ১/১১৩)

পঞ্চম দলীল : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর আমল

মুজাহিদ রহ. বলেন-
‘আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পিছনে নামায পড়েছি। তিনি প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না।’
(তাহাবী : ১/১৬৩, ইবনে আবী শাইবা : ২/৪১৮ হাদীছ নং ২৪৬৭ [শায়খ আওয়ামা দা.বা. তাহক্বীকৃত নুসখা)

আল্লামা তুরকুমানী রহ. বলেছেন, ‘এ বর্ণনার সনদ সহীহ’
(আল-জাওহারুন নাকী)

ষষ্ঠ দলীল : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আমল

আসওয়াদ রহ. বলেছেন-
‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, এরপর আর করতেন না।’
(জামউল মাসানীদ)

সপ্তম দলীল : খুলাফায়ে রাশেদীন ও রাফয়ে ইয়াদাইন

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা নামাভী রহ. খুলাফায়ে রাশেদীনের কর্মধারা বিষয়ক বর্ণনাগুলো পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে-
‘খুলাফায়ে রাশেদীন শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন। অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন বলে প্রমান পাওয়া যায় না।’
(আছারুস সুনান)

খুলাফায়ে রাশেদীন হলেন আম্বিয়ায়ে কেরাম আ.-এর পর মানবজাতির মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী। তাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহর সত্যিকারের অনুসারী। রাসূলুল্লাহ স. তাদের সুন্নাহকেও নিদের সুন্নাহর মতো অনুসরণীয় ঘোষনা করেছেন। কেননা, তাদের সুন্নাহ ছিল নবীর সুন্নাহ থেকেই গৃহীত। তাই তারা যখন নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোন স্থানে হাত উঠাতেন না তখন একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, তাদের কাছেও নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোন স্থানে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম। আর এটি নবী স.-এর সুন্নাহ।

অষ্টম দলীল : সাহাবায়ে কেরামের কর্মধারা

ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন-
‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর (রাফয়ে ইয়াদাইন না করা সংক্রান্ত) হাদীস ‘হাসান’ পর্যায়ে উত্তীর্ণ এবং অনেক আহলে ইলম সাহাবা-তাবেয়ীন এই মত পোষন করতেন। ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহ. ও কুফাবাসী ফকীহগণ এই ফতোয়া দিয়েছেন।
(জামে তিরমিযী : ১/৩৫)

আল্লামা ইবনে আবদুল বার রহ. রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান বর্ণনা করেছেন-
“হযরত হাসান রা. সাহাবায়ে কেরামের কর্মনীতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে যারা রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন তারা রাফয়ে ইয়াদাইন পরিত্যাগকারীদের উপর আপত্তি করতেন না’।
এ থেকে বোঝা যায়, রাফয়ে ইয়াদাইন জরুরি কিছু নয়।”
(আত-তামহীদ : ৯/২২৬)

এ উদ্বৃতি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই একাধিক কর্মধারা ছিল। কেউ নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কিছু স্থানেও রাফয়ে ইয়াদাইন করা উত্তম মনে করতেন। কেউ তা মনে করতেন না। তবে এ বিষয়ে তাদের অভিন্ন কর্মনীতি এই ছিল যে, যারা রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন তারা অন্যদের সম্পর্কে আপত্তি করতেন না।

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা এবং যারা রাফয়ে ইয়াদাইন করেন না তাদেরকে আপত্তি ও সমালোচনার নিশানা বানানো প্রকারান্তরে সাহাবীদেরই নিন্দা ও সমালোচনা করা।

বলাবাহুল্য, এ শ্রেণীর মানুষ সাহাবায়ে কেরামের নীতি ও পথ থেকে বিচ্যুত।

নবম দলীল : মদীনাবাসী ও রাফয়ে ইয়াদাইন

উস্তাযুল মুহাদ্দিসীন ইমাম মালিক রহ. জন্মগ্রহন করেন ৯৩ হিজরীতে। ইলমের অন্যতম কেন্দ্রভূমি মদীনা মুনাওয়ারায় তাঁর জীবন কেটেছে। সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং হাদীস শরীফের বিশাল ভান্ডার তার সামনে ছিল। তিনি শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে মদীনাবাসীর কর্মকে বুনিয়াদী বিষয় বলে মনে করতেন।

তাঁর প্রসিদ্ধ সাগরিত আল্লামা ইবনুল কাসিম রহ. রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গে তাঁর যে সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছেন তা এই-
“ইমাম মালিক রহ. বলেছেন, “নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য তাকবীরের সময়, নামায়ে ঝুঁকার সময় কিংবা সোজা হওয়ার সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করার নিয়ম আমার জানা নাই।”

ইবনুল কাসিম রহ. আরো বলেন,
“ইমাম মলিক নামাযের প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে রাফয়ে ইয়াদাইন করার পদ্ধতিকে (দলীলের বিবেচনায়) দুর্বল মনে করতেন।”
(আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা)

দশম দলীল : ইবরাহীম নাখায়ী রহ.-এর ফতোয়া

ইবরাহীম নাখায়ী রহ. বলেন-
“নামাযের শুরু রাফয়ে ইয়াদাইন করার পর অন্য কোথায় রাফয়ে ইয়াদাইন করো না”
(জামিউস মাসানীদ : ১/৩৫৩)

সারকথা :

উপরোক্ত দালীলিক আলোচনা থেকে যে বিষয়গুলো প্রমাণিত হচ্ছে তা নিন্মরূপ:

১. নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।

২. রাসূলুল্লাহ স. স্ববাস-প্রবাসের সার্বক্ষণিক সহচর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত সহীহ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী স. নামাযের শুরুতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, এরপর আর করতেন না।

৩. হযরত জাবির রা.-এর হাদীস থেকে জানা যায়, স্বয়ং নবী স. নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন করতে নিষেধ করেছিলেন।

৪. দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা. এবং চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা. সম্পর্কে বিশুদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে যে, তাদের কাছেও রাফয়ে ইয়াদাইন না করাই অধিক শুদ্ধ ও অগ্রগণ্য। আর এ সম্পর্কে অন্যান্য সাহাবীদের দ্বিমত বর্ণিত না হওয়া থেকে প্রমান হয় যে, অধিকাংশ সাহাবী এ নিয়ম অনুসরণ করতেন।

৫. খুলাফায়ে রাশেদীন নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোথাও রাফয়ে ইয়াদাইন করেছেন এমন প্রমান নেই।

৬. নবী স.-এর পুণ্যযুগের অব্যবহিত পরেই ছিল খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ। তাদের রাফয়ে ইয়াদাইন না করা প্রমান করে যে, তাদের মতেও নামাযে রাফফে ইয়াদাইন না করাই ছিল হুজুর স.-এর সর্বশেষ আমল।

৭. নামাযের ভিতরে রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের যুগেও একাধিক নিয়ম ছিল। তবে দলীল-প্রমানের আলোকে তাদের নিয়মই অগ্রগণ্য যারা রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম মনে করতেন।

৮. সহীহ সনদে এসেছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। তিনি রাফয়ে ইয়াদাইন প্রসঙ্গ ও তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত ছিলেন।

অতএব রাফয়ে ইয়াদাইন করণীয় প্রমানের জন্য আবদুল্লাহ ইবনে উপর রা. ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের সূত্র বর্ণিত রেওয়ায়েত উপস্থাপন করা উচিত নয়।

আল্লাহ সুবানুহুতা’য়ালা আমার কুরআন ও হাদীস মোতাবেক সহী আমল করার
এবং যারা বিভ্রান্তমূলক কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তাদের বিভ্রান্তির হাতে থেকে তাদের এবং আমাদের বাঁচার তৌফিক দান করুন। আমীন।

সহায়ক গ্রন্থ :
নবীজির নামায
ড. শাইখ মুহাম্মদ ইলিয়াস ফয়সাল
মদীনা মুনাওয়ারাহ

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৯৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২৮ টি মন্তব্য

  1. আমি আপনার দেয়া দ্বিতীয় দলীল খুঁজে পাইনি । আবু দাউদেও না , নাসাঈতেও না । তার পরিবর্তে রাফে-ঈয়াদাইন এর পক্ষে হাদীস পেয়েছি দুটি গ্রন্থেই । আবু দাউদে (প্রথম খন্ড) পৃঃ নং-৩৯৪-এ হাদীস নং ৭২৬ , পৃঃ নং-৩৯২-এ হাদীস নং ৭২২,৭২৩ , পৃঃ নং-৩৯১-এ হাদীস নং ৭২১ । আর নাসাঈতে (দ্বিতীয় খন্ড) পৃঃ নং-৯৮-এ হাদীস নং ১০২৭ , পৃঃ নং-৯৯-এ হাদীস নং ১০২৮ দুটি গ্রন্থের প্রকাশক ইসলামিক ফাউন্ডেশন ।

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,

    এখানে আপনার সকল প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে………..

    http://www.peaceinislam.com/asksumon007/11620/

  2. ভাই ইমাম মালিক তার মুওয়াত্তা ইমাম মালিক গ্রন্থের রাফে ইয়াদাঈন এর পক্ষে হাদীস উল্লেখ করেছেন । দেখুন ই।ফা । বা । প্রকাশিত মুওয়াত্তা ইমাম মালিক প্রথম খন্ড পৃঃ ১২৮ রেওয়ায়েত নং ১৬ , পৃঃ ১২৯ রেওয়ায়েত নং ২০ । আর বর্তমানে মদীনা বাসীরা রাফে ইয়াদাঈন করে । তাহলে কিভাবে প্রমাণ হয় যে , আগে মদীনা বাসী রাফে ইয়াদাঈন করতেন না । ভাই সিহাহ সিত্তার প্রত্যেকটি হাদীস গ্রন্থেই রাফে ইয়াদাঈনের পক্ষে হাদীস আছে । এই সমস্ত মুহাদ্দিসরাও কি নীতি ইনসাফ বিসর্জন দিয়েছিলেন ?

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,
    এখানে কোথায় বলা হয়েছে মুয়াত্তা মালেকে রফে ইয়াদাইনের পক্ষে হাদীস নেই ???

    বর্তমানে করে সেটা দ্বারা কিভাবে প্রমানিত হল অতীতে করতেন !!!

    রেফারেন্স কি দেখেননি নাকি না দেখার ভান করছেন ???

  3. দশম দলীল : ইবরাহীম নাখায়ী রহ.-এর ফতোয়া । কিন্তু ভাই তার নাতি ছাত্র , ইমাম আবু হানীফার বিখ্যাত দুই ছাত্র , ইমাম মুহাম্মাদ ও ইমাম আবু ইউসুফ দুই জনের ফতোয়া রাফে ইয়াদাঈন করার পক্ষে । তারা সঠিক দলীলের ভিত্তিতেও তাদের উস্তাদ ও উস্তাদের উস্তাদ – এর ফতোয়া বতিল করেছিলেন । বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন যঈফ ও জাল হাদীস সিরিজ – ২য় খন্ড – আল্লামা নাসির উদ্দীন আলবানী ।

  4. অষ্টম দলীল : সাহাবায়ে কেরামের কর্মধারা
    ভাই রাফে ইয়াদাঈনের পক্ষে আশারায়ে মুবাশশারা সহ প্রায় ৫২জন সাহাবীর বর্ণিত হাদীস আছে । তাদের কর্মনীতি অবশ্যই তাদের বর্ণনার বিপরীত ছিল না । বরং রাফে ইয়াদাঈন না করার পক্ষে একমাত্র আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর হাদীস ছাড়া সকল হাদীসই যঈফ ও জাল । আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর হাদীস সহ অন্য সকল হাদীসের ব্যাপারে বিস্তারিত পর্যালোচনা জানতে দেখুন যঈফ ও জাল হাদীস সিরিজ – ২য় খন্ড – আল্লামা নাসির উদ্দীন আলবানী ।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, ভাই দয়া করে আস্ত বই ধরিয়ে দিবেন না। তাও মহাবির্তকিত আলবানীর বই। অনুগ্রহ করে বলুন কোন ৫২ জন এবং রেওয়ায়েত উল্লখ করুন। একই ভাবে রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আরও যে লাখের অধিক সাহাবী ছিলেন তাদের ব্যপারে আপনার ফয়সালাও একটু জানতে ইচ্ছা হয়।

    একই সাথে আশারায়ে মুবাশশারা কি ও কেন রেওয়ায়েত সহ এই শব্দ দুটি কোন রেওয়ায়েতে আছে কিনা, নাকি ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইলিং এর এক টেকনিক, একটু মেহেরবানী করে জানাবেন।

  5. নবী স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্বলিত হাদীস থেকে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন না করা উত্তম।

    আর এই অনুত্তম কাজটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) করেছেন । সুতরাং প্রমাণিত হয় যে , রাফে ইয়াদাঈন করাই উত্তম । বিস্তারিত জানতে দেখুন ইমাম বুখারীর লিখা বই “প্রতিদিন আমরা কি পরিমাণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হচ্ছি” ।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, হেহে কি সুন্দর শব্দ চয়ন। এইসব আহলে নফসরা অত দলীল প্রমাণের ধার ধারে না। সুন্দর সুন্দর শব্দ চয়নে পটু। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কোন দিনও রফেইয়াদাইন ছাড়েন নাই এমন কোন প্রমাণ দিতে পারবেন? যদি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম রফে ইয়াদাইন ছেড়ে থাকেন তাহলে তো আপনার ভাষ্যমতে রফেইয়াদাইন ছাড়াই উত্তম।

  6. @ABU TASNEEM,
    হুজুর পাক সারা জীবন রফে ইয়াদাইন করেছেন। একদম শেষে এসে রাফে ইয়াদাইন করতে নিষেধ করেছেন। যাহা সারা জীবন পালন করেছেন তাহার হাদিস বেশী হবেই। আর আপনি তো জানেন : হাদিস হা বাচক ও না বাচক একত্রিত হলে, না বাচক প্রধান্য, আবার হাদিস কথা এবং কাজ একত্রিত হলে, কথার হাদিস প্রধান্য।

    আবার শেষ জীবনের হাদিস প্রথম জীবনের হাদীস কে রহিত করে দেয়।

    এবার হাদিস খানা দেখেন।

    হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাঃ বলেন , নামাজের মুহুর্তে হুজুর সাঃ আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? নামাজের মধ্যে শান্ত ধীর হও। (প্রমানঃ … আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)”

    হাদিস প্রধান্য হওয়ার তিনটি পদ্ধতি উপরে উল্লেখ করেছি, দেখেন এই হাদিসের তিনটি দিক আছে।

    ১। এ হাদিস না বাচক।
    ২। এ হাদিস কওলি।
    ৩। এ হাদিস শেষ জীন্দিগিতে বর্ননা করেন।

    তাই এই হাদিস প্রধান্য। আমরা বলিনি রফে ইয়াদাইনের পক্ষের হাদিস ভুল বা জাল। বরং আমরা বলেছি সর্বশেষ আদেশ হলো রফে ইয়াদাইন না করা।

    মনে করেন। জায়েদ একটা প্রতিষ্ঠান চালায়, ওখানে ইংলিশ শিক্ষকের বেতন ৭০০০ টাকা। সারা জীবন উনি ৭০০০ টাকা বেতনে কাজ করে আসচেন। জায়েদ মারা যাওয়ার পূর্বে উনার বেতন ১০০০০ করলেন। পরে যিনি প্রতিষ্ঠান চালানোর দায়িত্ব নিলেন তিনি যদি বলেন ইংলিশ শিক্ষক কে জায়েদ সারা জীবন ৭০০০ টাকা বেতন দিয়েচে পরে ১০০০০ করেছে। এখন ৭০০০ এর বর্ণনা বেশিী।

    এখন কি আপনি তাকে ৭০০০ বেতন দেবেন না কি ১০০০০ বেতন দিবেন ???

    ABU TASNEEM

    @আবদুস সবুর, রাফে ঈয়াদাইন এর ব্যাপারে জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিসরা তো এমন কথা বলেন না । তারা এর পক্ষে মতামত দেন । যেমন (আলবানীর কথা নাই বা বললাম – কারণ সে আপনাদের চোখের বালি) ইমাম বুখারীর একটি বইয়ের কথা আমার পূর্বেবর্তী কমেন্টে উল্লেখ করেছি , হফেয ইবনুল কাইয়্যেম , ইমাম ইবনে তাইমিয়া , ইমাম আয যাহাবী সহ সউদী আরবের উলামায়ে কেরাম । মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববীর ইমামরাও রাফে ইয়াদাঈন করেন । সুতরাং আপনাদের কথা পরিত্যাহ্য ।

    আর আপনারা মানুষকে ভ্রান্ত কাহিনী শুনান । যার অস্তিত্ত হাদীসে পাওয়া যায় না । যেমন – আগে সাহাবী রা বগলের নিচে মুর্তি নিয়ে আসত । তাই নবী (সাঃ) আগে রাফে ইয়াদাঈন করতেন । এর কোন প্রমাণ দেখাতে পারবেন । অথবা আপনার এই দাবী হাদীস থেকে প্রমাণ দিতে পারবেন যে নবী (সাঃ) প্রথম জীবনে রাফে ইয়াদাঈন করেছেন শেষ জীবনে করেননি । দেখাতে পারলে গ্রন্থের নাম , অধ্যায় নং (নাম) হাদীস নং সহ লিখুন । যেমন আমি আমার কমেন্ট গুলিতে দিয়েছি ।

    আর ((প্রমানঃ … আবু দাউদ ১;১০৯ নাসায়ী ১;১১৭)” ) বলতে কি বুঝিয়েছেন ? আমার প্রথম কমেন্টে বলেছিলাম – আপনার দেয়া এই প্রমাণ আমি খুঁজে পাইনি । আবু দাউদেও না , নাসায়ী তেও না । হাদীসের পরিচয় আরো ক্লিয়ার ভাবে লিখুন অধ্যায় – অনুচ্ছেদ – নং সহ ।

    আর সঠিক পথে আসুন । নবী (সাঃ) কে ভালবাসা মানে তাঁর সুন্নাতকে ভালবাসা , তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করা । সুন্নাতে রাসূলের (সাঃ) প্রতি বিরোধীতা রেখে আপনি কখনই খাঁটি মুমিন হতে পারবেন না । আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসূল (সাঃ) এর সহীহ সুন্নাতের অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন । আমীন !

    Anonymous

    @ABU TASNEEM,”আর আপনারা মানুষকে ভ্রান্ত কাহিনী শুনান । যার অস্তিত্ত হাদীসে পাওয়া যায় না । যেমন – আগে সাহাবী রা বগলের নিচে মুর্তি নিয়ে আসত । তাই নবী (সাঃ) আগে রাফে ইয়াদাঈন করতেন ।” এই গল্প কার কাছে শুনলেন? অন্যদের ঘায়েল করার জন্য এমন বানোয়াট গল্প বানানোর অভ্যাস আপনাদের অতি পুরানো।

    আপনি ঝগড়া কেন করতে চাচ্ছেন বুঝা যাচ্ছে না। রফে ইয়াদাইনের পক্ষে অনেক সহিহ হাদিস আছে এটাতো অস্বীকার করা হচ্ছে না। কিন্তু না করার পক্ষের যে হাদিস আছে তা অস্বীকার করছেন কার স্বার্থে? আপনি রফে ইয়াদাইন করতে চান করুন, কিন্তু যারা করছে না তাদের গালাগালি করছেন কেন? দেখুন আপনার অন্ধ গুরু আলবানীই বলেছেন (আপনার ভাষ্য মতে) রফে ইয়াদাইন না করার হাদিস সহিহ। তাহলে আর কথা কেন?

    আপনি হাদিস খুজে না পাওয়ার কারণ স্পষ্ট। আপনার চোখ আলবানীর বইতে। ইলিয়াস ফয়সাল দামাত বারাকাতুহুম রচিত কিতাবটি পড়ুন। খুজে পাবেন।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM,আপনি এক জায়গায় বলেছেন ” কোন হাদীস সহীহ হাদীসের বিপরীত বক্তব্য পেশ করলে সে হাদীস বাতিল বলে গন্য ।” আবার আপনি এখানে বলেছেন, ” বরং রাফে ইয়াদাঈন না করার পক্ষে একমাত্র আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর হাদীস ছাড়া সকল হাদীসই যঈফ ও জাল । ” অর্থ্যাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর পক্ষ থেকে একখানা সহিহ হাদীস পাওয়া যায়। তাহলে আপনার পূর্ববর্তী বক্তব্য অনুসারে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর পক্ষ থেকে বর্ণিত সহিহ হাদীসে বিপরীতে যত রেওয়ায়েত পাওয়া যায় সবই বাতিল বলে গন্য। দেখুন কথা প্যাচানোর চেষ্টা করবেন না। আপনি কিন্তু বলেছেন “কোন সহীহ হাদীস” এবং আলবানীর জবানে স্বীকার করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর পক্ষ থেকে বর্ণিত হাদীস সহিহ।

    এটাই আপনাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। নিজেদের জালে নিজেরাই ধরা পড়েন। এমন সীমিত জ্ঞান নিয়ে মাযহাবের ইমামদের ভুল ধরার দুঃসাহস করেন।

    আবদুস সবুর

    @আবদুস সবুর,
    প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টা পাল্টা বকছেন কেন ???

    উপরের হাদীসের আলোকে আর কথা বলার সামর্থ না থাকার কারনেই কি উল্ট-পাল্টা বকা…….

    সহজ প্রশ্ন করেছি। প্রশ্নের দিন……….

    এখন কি আপনি তাকে ৭০০০ বেতন দেবেন না কি ১০০০০ বেতন দিবেন ???

    chymohammad

    @আবদুস সবুর, কিন্তু ভাই এখানে যে কাজটি উল্টো হয়ে গেলো। আল্লাহ তা’আলা প্রথমে রাফুল ইয়াদাঈন করতে বললেন যাতে প্রতিবার ১০ নেকী পাওয়া যেত আর পরে সেটা কমিয়ে দিলেন। আমার মনে হয় আপনার দলীলগুলো আবার দেখা দরকার আর ঘুড়ার লেজের হাদিসটি সাহাবীরা সালাম ফিরানোর সময় যে হাত নেড়ে ইশারা করতেন সে সম্পর্কের সেটাও বুঝা দরকার।

    আবদুস সবুর

    @chymohammad,
    আপনার কথাটি আর একটু তাহক্বীক করুন জনাব…

    ইমাম তিরমিযী রহ. “সুনান” গ্রন্থে ইবনুল মুবারক রহ. এর যে মন্তব্য উল্লেখ করেছেন তা এই বর্ণনা সম্পর্কে নয়, অন্য আরেকটি বর্ননা সম্পর্কে, যা নিন্মোক্ত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে-
    ‘রসুল স. শুধু প্রথমবার হাত উঠিয়েছেন।’
    এ দুই বর্ণনার মধ্যে প্রভেদ না করায় অনেক আলেম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছেন কিংবা অন্যকে বিভ্রান্ত করেছেন। (দেখুন : নাসবুর রাযাহ : ১/৩৯৪)

    এজন্য সুনানে তিরমিযীর বিভিন্ন নুসখায় দ্বিতীয় বর্ণনাটি ভিন্ন শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইবনুল মুবারকের মন্তব্যও রয়েছে সেখানে। অতএব তার মন্তব্য আলোচ্য হাদীস সম্পর্কে নয়।
    (জামে তিরমিযী, তাহক্বীক আহমদ শাকির ২/৪১)

    এখানে মুহাদ্দিস আহমদ শাকিরের পর্যালোচনা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
    তিনি লেখেন-
    ‘রাফয়ে ইয়াদাইন’ বিষয়ে (একশ্রেনীর মানুষ) জয়ীফ হাদীসকে সহীহ ও সহীহ হাদীসকে জয়ীফ সাব্যস্ত করার প্রয়াস পেয়ে থাকে। তাদের অধিকাংশই নীতি ও ইনসাফ বিসর্জন দিয়ে থাকে।’

    chymohammad

    @আবদুস সবুর, ঘুরে ফিরে এটাই বলতে চাচ্ছেন যে রাসূল (স।) প্রথম জীবনে নিজে দুষ্টু ঘূড়ার লেজ নাড়ানোর মত রাফুল ইয়াদাঈন করতেন। পরে নিজে ছেড়ে দিয়ে সাহাবীদের প্রশ্ন করতে শুরু করলেন যে ” তোমাদের কি হল যে তোমাদের কে দেখতে পাচ্ছি তোমরা রাফয়ে ইয়াদাইন করছ দুর্দান্ত ঘোড়ার লেজের ন্যায়? ” ও আল্লাহ আমাদের জ্ঞান দাও, আমাদের জ্ঞানপাপীদের অন্তর্ভুক্ত করোনা।

    আবদুস সবুর

    @chymohammad,
    এখানে কি আমার কথা বলেছি নাকি মুহাদ্দিসদের কথা বলেছি !!!

    এখন মদ খাওয়া জায়েয ছিল। পরবর্তীতে হারাম করা হয়।
    এখন কি বলবেন হুজুর স. প্রথমে একটি বিষয়কে হালাল পরে একটি বিষয়কে হারাম বললেন !!!

    যথসম্ভব কথা এদিক-ওদিক না ঘুরিয়ে পোষ্টের আলোকে কথা বলুন।

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
    « فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِىِّ السُّؤَالُ ».
    ‘নিশ্চয় অজ্ঞতার চিকিৎসা হলো জিজ্ঞাসা’। [আবূ দাঊদ : ৩৩৬]

    আল্লাহ আমাদের জ্ঞান দাও, আমাদের নিজেরদের কিয়াস থেকে বেচে থেকে সলফে-সালেহীনদের পথ অনুসরনের তৌফিক দান কর।
    আমিন

    আবদুস সবুর

    কারেকশন :
    এখন মদ খাওয়া জায়েজ ছিল
    হবে
    ইসলামের প্রথম যুগে মদ খাওয়া জায়েজ ছিল

    chymohammad

    @আবদুস সবুর,/এখানে কি আমার কথা বলেছি নাকি মুহাদ্দিসদের কথা বলেছি !!// কোন কথাটি?? ঘুড়ার লেজের কথা? এক মুহাদ্দীস একটি কথা বললেন আর তিন মুহাদ্দীস আরেকটা মত দিলেন আর আপনি চারটি থেকে বেছে নিলেন যে অই এক মুহাদ্দীসই সঠিক ভাই আপনার অনেক জ্ঞান।

    //এখন মদ খাওয়া জায়েয ছিল। পরবর্তীতে হারাম করা হয়।
    এখন কি বলবেন হুজুর স. প্রথমে একটি বিষয়কে হালাল পরে একটি বিষয়কে হারাম বললেন !!!//

    মদ খাওয়া জায়েয ছিলো যা পরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, মদ পান করা শিখিয়ে পরে নিষিদ্ধ করা হয়নি। রাফুল ইয়াদাঈন আগেকার জায়েয বিষয় নয়। এটি আল্লাহ সুব্‌হানা ওয়াতা’আলা শিখিয়ে দিয়েছেন। শিখিয়ে আবার নিষেধ করে দিলেন? আমি সারাজিবন একটি কাজ করলাম আপনাদেরও শিখালাম আর হঠাৎ এসে বলা শুরু করলাম এই এসব কি করছ??

    আর মদ যে হারাম করা হয়েছে এ বিষয়টি স্পষ্ট। রাফুল ইয়াদাঈন নিষিদ্ধ করার একটিও সহীহ হাদীস আছে?? কিছু হাদীস আছে যা থেকে পাওয়া যায় রাফুল ইদাঈন করা হয়নি তাই বলে এটি নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়ে যায়?

    //আল্লাহ আমাদের জ্ঞান দাও, আমাদের নিজেরদের কিয়াস থেকে বেচে থেকে সলফে-সালেহীনদের পথ অনুসরনের তৌফিক দান কর।//

    এই যে সারাজীবন করা একটি কাজ একবার দুবার না করায় এটিকে নিষিদ্ধ বলা হলো এটিই হল নিজেদের কিয়াস। কেউ যদি একদিন দাঁড়িয়ে পেশাব করা দেখে বলে বসে পেশাব করা রহিত হয়ে গেছে, মান্‌সুখ্‌ হয়ে গেছে এটি হল নিজেদের কিয়াস।

    হাদীসের অনুবাদ পরিবর্তন করে, স্থান পরিবর্তন করে, সালাম ফিরানোর অধ্যায়ের ঘুড়ার মত হাত দিয়ে ইশারা করার হাদীস এনে রাফুল ইয়াদাঈনের যায়গায় বসিয়ে নিজের মতবাদকে, দলকে, কর্মকে টিকিয়ে রেখে কেউ তর্কে জয়ী হতে পারে, নিজের ভুলকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করতে পারে তবে জাহান্নাম থেকে বাচঁতে নয়। আল্লাহ সঠিক জিনিস মানার মনমানসিকতা দান করুন আমাদের। আমীন।
    তাল গাছ আমার, তাল গাছ আমার ছেড়ে আমাদের সঠিক জিনিসের অনুসরণ করা উচিত।

  7. আসসালামুয়ালাইকুম! কিছু বুঝলাম না। সালাত তো আল্লাহ তা’আলা জীব্রাঈল (আ।) এর মাধ্যমে নাবী (স।) কে শিক্ষা দিলেন। তা প্রথমে সারা জীবন নাবী (স।) নিজে সারা জীবন ঘুড়ার লেজের মত রাফুল ইয়াদাঈন করলেন আল্লাহ তা’আলাও শিখিয়ে দিলেন আর শেষে কিনা নিজে ছেড়ে দিয়ে উল্টো সবাইকে বলতে লাগলেন যে উনি আগে ঘূড়ার লেজ লাড়ানোর মত কাজ করতেন সালাতে? আর আল্লাহ তা’আলাও সালাতের নিয়ম পরিবর্তন করে দিলেন??

    আবদুস সবুর

    @chymohammad,
    কেন আল্লাহ তায়ালা চাইলে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন না ???

    chymohammad

    @আবদুস সবুর, ভাই আপনার কথা শুনে এক খ্রিষ্টানের কথা মনে পড়ে গেল। ও আমাকে প্রশ্ন করেছিলো ” কেন, আল্লাহ চাইলে সন্তান নিতে পারেন না?”

    আবদুস সবুর

    @chymohammad,
    যদি আপনি খৃষ্টান হন তবে এখানে কমেন্ট না করলেও পারতেন।

    আবদুস সবুর

    @chymohammad,
    যদি আপনি মুসলিম হন তবে প্রশ্ন …

    কেন আল্লাহ তায়ালা চাইলে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন না ???

    chymohammad

    @আবদুস সবুর, আল্লাহ তা’আলা চাইলে মানুষ হয়ে পৃথিবীতে আস্‌তে পারেন না??

    কেউ একজন বলল আপনি একটি মানুষকে হত্যা করেছেন, আপনি বললেন আমি যে হত্যা করেছি তার প্রমাণ কি? আর অ উত্তরে বলল কেন আপনি কি চাইলে হত্যা করতে পারেন না? এটি কোন উত্তর হল??

    কথা হল আল্লাহ সালাতের নিয়ম পরিবর্তন করেছেন কিনা? আপনি বলে দিলেন কেন চাইলে কি পারেন না? এটি তো কোন উত্তর হয়না ভাই। আমি যদি বলি কাফেরেরাও জান্নাতে যাবে। আপনি বললেন প্রমাণ কি? আমি বললাম কেন আল্লাহ চাইলে পারবেননা নাকি? উত্তর দিন প্লিজ।

  8. এখন আর কোন জবাব আসবে না……… :)

    আবদুস সবুর

    @sakibmufidul,
    কর্মজীবি মানুষ আমি। কাজ করে খেতে হয়। তাই কাজের ফাকে ফাকে নেটে আসি।
    ধন্যবাদ।