লগইন রেজিস্ট্রেশন

৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করা হাদীস মোতাবেক সম্পূর্ণ সহীহ

লিখেছেন: ' আবদুস সবুর' @ রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১২ (২:০৬ অপরাহ্ণ)

সম্মানিত পাঠক/পাঠিকাবৃন্দ। এই ফাতওয়াটি একদল কথিত আহলে হাদীস কর্তৃক প্রকাশিত ঈদের নামাযের ৬ তাকবীর নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক একটি লিফলেটের জবাবে লিখা। ফাতওয়াটি তৈরী করেন ঐতিহ্যবাহী মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার ইফতা বিভাগ। জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়ার ওয়েব সাইটের পাঠকদের জন্য ফাতওয়াটি প্রশ্নসহ প্রকাশ করা হল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কথিত আহলে হাদীসের ফিতনা থেকে হিফাযত করুন।

প্রশ্ন : (ক) ঈদের নামাজে ছয় তাকবীর ওয়াজিব। এর পক্ষে সহীহ কোন হাদীস আছে কি না?
থাকলে তার প্রমাণসহ জানতে চাই।
(খ) এক শ্রেণীর আলিম বলে থাকেন যে, “ঈদের নামাজে ছয় তাকবীর ওয়াজিব” একথাটা ভিত্তিহীন। সাথে সাথে তারা ঈদের নামাজে বার তাকবীরের পক্ষে বেশ কিছু হাদীসও ওলামায়ে কেরামের আমল পেশ করে থাকেন। যেমন-তাদের কিছু বক্তব্য প্রশ্নের সাথে সংযোজন করা হল। এর জবাব কি? বিস্তারিত জানতে চাই।
১।

قال الشافعي سمعت سفيان بن عيينة يقول سمعت عطاء ابن ابي رباح يقول سمعت عبد الله بن عباس يقول اشهد علي رسول الله صلي الله عليه وسلم انه كبر في صلاة العيدين في الأولي سبعا سوي تكبيرة الاحرام وفي الثانية خسما سوي تكبيرة القيام ـ وهذا اصح اسنادا ـ واوثق رجالا واثبت لفظا لانه جاء بقوله سمعت اخرجه الشافعي في الام ـ
অর্থঃ ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বলেন- আমি সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন ঃ আমি আতাআ বিন আবু রাবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ বিন আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি দু’ঈদের সালাতের প্রথম রাকআতে তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সাত তাকবীর দিয়েছেন এবং দ্বিতীয় রাকআতে দাঁড়ানোর তাকবীর ব্যতীত পাঁচ তাকবীর দিয়েছেন।
এ হাদীসের সনদ অধিক ছহীহ এবং রাবীগণ অধিক নির্ভরযোগ্য এবং অধিক প্রতিষ্ঠিত শব্দে বর্ণিত কেননা এ হাদীস সামিতু (আমি নিজে শুনেছি) শব্দ-দ্বারা এসেছে (কিতাবুল উম, ১ম খন্ড, ২৩৬ পৃঃ)।
২।
عن كثير بن عبد الله عن ابيه عن جده ان النبي صلي الله علي وسلم كبر في العيدين في الاولي سبعا قبل القراءة وفي الاخرة خسما قبل القراءة.
অর্থঃ হযরত কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ তাহার পিতা-আব্দুল্লাহ হতে, তিনি তাহার পিতামহ (আমর ইবনে আওফ মুযানী) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম (সঃ) উভয় ঈদের নামাযেই প্রথম রাক’আতে কেরাত পাঠের পূর্বে সাতবার তাকবীর বলেছেন এবং দ্বিতীয় বা পরবর্তী রাক’আতে কেরাআত পাঠের পূর্বে পাঁচ বার তাকবীর বলেছেন (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ ও দারেমী, মিশকাত, আলিম ক্লাসের পাঠ্য আরাফাত প্রকাশনী ২য় খন্ড হাঃ নং- ১৩৫৭)।

৩।
عن نافع انه قال شهدت الاضحي والفطر مع ابي هريرة فكبر في الركعة الاولي سبع تكبيرات قبل القراءة وفي الاخرة خمس تكبيرات قبل القراءة ـ قال مالك وهو الامر عندنا ـ
অর্থঃ নাফি (রহঃ) বলেন ঃ আমি আবু হুরায়রা (রাঃ) এর সাথে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে উপস্থিত হয়েছি। তিনি কিরাতের পূর্বে প্রথম রাকাআতে সাতটি তাকবীর ও দ্বিতীয় রাকআত পাঁচটি তাকবীর বলেছেন। ইমাম মালিক বলেন-আমাদের নিকট ইহাই (শরয়ী) হুকুম (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, ১ম খন্ড, ২৩৯ পৃঃ হাঃ নং ৯ইঃ ফাঃ)।
নোট : উপরে বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে স্বণামধন্য হানাফী মুহাদ্দিস আল্লামা আঃ হাই লক্ষেèৗভী ইমাম মোহাম্মদের মুয়াত্তার টিকায় লিখিয়াছেন-هذا لا يكون رايا الا توقيفا يجب التسليم له অর্থঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) ১২ তাকবীরের উপর আমল করেছেন। এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত নয় বরং তা হল নবী (সঃ) এর নির্দেশ। যার উপর আমল করা অপরিহার্য কর্তব্য (আততালিকুল মুমাজ্জাদ, ১৪১ পৃঃ।

৪।
عن عمر بن الخطاب انه صلي صلاة العيد فكبر في الاولي سبعا وفي الثانية خمسا يرفع يديه مع كل تكبيرة ـ
উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ঈদের সালাত পড়েছেন। প্রথম রাক’আতে তিনি সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিয়েছেন এবং প্রত্যেক তাকবীরে দু’ হাত উত্তোলন করেছেন (বায়হাকী, ৩য় খন্ড, ৪১২ পৃঃ)।

৫।
عن عائشة ان النبي صلي الله عليه وسلم كان يكبر في العيدين سبعا و خمسا قبل القراءة.
হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সঃ) দু’ ঈদের সালাতে কিরাতের পূর্বে প্রথম রাকআতে কিরাআতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিতেন (মুসনাদে আহমদ, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৬৫ পৃঃ)।

৬।
عن عمرو بن العاص (رض) قال قال النبي صلي الله عليه وسلم التكبير في الفطر سبع في الاولي وخمس في الاخرة القراءة بعدهما كلتيهما ـ
আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেন ঃ ঈদুল ফিতরের প্রথম রাকাআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচ তাকবীর এবং উভয় রাকাআতে তাকবীরের পরেই কিরাত পাঠ করতে হয় (আবু দাউদ, ২য় খন্ড, হাঃ নং-১১৫১ ইঃ ফাঃ)।

৭।
عن عبد الله بن فروخ قال صليت خلف عثمان العيد فكبر سبعا وخمسا ـ
আব্দুল্লাহ বিন ফুরুখ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ঃ আমি উসমান (রাঃ) এর পিছনে ঈদের সালাত পড়েছি। তিনি প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিলেন (মুসনাদে আহম্মদ, ১ম খন্ড, ৭৩ পৃঃ)।

৮।
عن عائشة ان رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يكبر في الفطر والاضحي في الاولي سبع تكبيرات وفي الثانية خمساً ـ
হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ঃ রাসুলুল্লাহ (সঃ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযের প্রথম রাক’আতে সাত এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচবার তাকবীর বলতেন (আবু দাউদ, ২য় খন্ড, হাঃ নং-১১৪৯ ইঃ ফাঃ)।
(৯) عن علي (رض) كبر في العيدين سبعا و خمسا وجهريا القراءة ـ
৯। হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি দু’ঈদের সালাতে প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন এবং উচ্চঃস্বরে কিরাত পড়তেন (ইমাম শাফেয়ী, কিতাবুর রিসালা, ১ম খন্ড, ২০৯ পৃঃ)।
(১০) عن ابن عمر قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم التكبير في العيدين في الركعة الاولي سبع تكبيرات وفي الاخرة خمس تكبيرات ـ
১০। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্র্ণিত, তিনি বলেন ঃ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দু’ ঈদের সালাতে তাকবীর হল প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর (দারাকুতনী ১ম খন্ড, ১৮১ পৃঃ)।
(১১) عن ابن عباس انه كبر في العيد في الركعة الاولي سبعا ثم قرأ وكبر في الثانية خمسا ـ
১১। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ঈদের সালাতে প্রথম রাকআতে সাত তাকবীর দিয়েছেন। অতপর কিরাত পড়েছেন এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিয়েছেন (বায়হাকী, ৩য় খন্ড, ৪০৭ পৃঃ)।

(১২)
عن سعد (موذن رسول الله صلي الله عليه وسلم) ان رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يكبر في العيدين في الاولي سبعا قبل القراءة وفي الاخرة خمسا قبل القراءة ـ
অর্থঃ রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর মুয়াযযিন সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দুই ঈদের সালাতের প্রথম রাক’আতের কিরাআতের পূর্বে সাত তাকবীর এবং শেষ রাক’আতে কিরাতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর বলতেন। ইবনে মাযাহ ১ম খন্ড হাঃ নং-১২৭৭, ইঃ ফাঃ।
(১৩)
عن جعفر بن محمد عن ابيه قال كان علي (رض) يكبر في الفطر والاضحي سبعا في الاولي وخمسا في الاخرة ويصلي قبل الخطبة ويجهر بالقراءة قال وكان رسول الله صلي الله عليه وسلم وابو بكر وعمر وعثمان يفعلون ذلك .
অর্থ : জাফর বিন মুহাম্মদ হতে বর্ণিত ঃ তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করে বলেন, আলি (রাঃ) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার সালাতে প্রথম রাকআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন আর খুৎবার পূর্বে সালাত আদায় করতেন এবং উচ্চঃস্বরে কিরাত পাঠ করতেন।
রাবী (বর্ণনাকারী) বলেন , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), উসমান (রাঃ) ঐ রূপই ১২ তাকবীর দিতেন (মুসন্নাফে আব্দুর রায্যাক, ৩য় খন্ড, ৮৫ পৃঃ)।
বিঃ দ্রঃ হাদীসের কিতাব সমূহের মধ্যে বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ও নাসাঈ শরীফ এ তিনটি কিতাবে ঈদের সালাতের তাকবীর সম্পর্কে কোন হাদীস নেই। অবশিষ্ট সব হাদীসের কিতাবগুলোতে ১২ তাকবীর সম্পর্কে ১৫২টিরও অধিক হাদীস রয়েছে। আমরা তার থেকে মাত্র ১৩টি হাদীস আপনাদের খিদমতে পেশ করলাম, যার মাধ্যমে ঈদের সালাতের বাড়তি তাকবীর সংখ্যা মাত্র (৭+৫) বার প্রমাণিত হল। কিন্তু দুঃখের বিষয় ছয় তাকবীরের কোন অস্তিত্ব হাদীসের কিতাবে এমন কি ফিকহের কিতাবেও খুঁজে পাওয়া যায় না।

অতএব, ঈদের সালাত ছয় তাকবীরের পক্ষে কোন ব্যক্তি যদি ছহীহ, মারফু, মুত্তাসিল একটি মাত্র হাদীস দেখাতে পারেন তবে তাকে এক লক্ষ টাকা (১,০০,০০০) পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার লাভের জন্য নি বর্ণিত শর্ত অবশ্যই মানতে হবে।
১। যে সকল হাদীসের সনদে হাদীস শাস্ত্রের ইমামদের কোন একজন আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন এমন কোন হাদীস দয়া করে পাঠাবেন না।
২। কোন ছাহাবী বা ইমাদের ব্যক্তিগত আমল ও উক্তি দয়া করে পাঠাবেন না, যেই আমল বা উক্তির সাথে নবী (সঃ) এর সুন্নাতের কোন মিল নাই কারণ আমরা চেয়েছি মারফু হাদীস।
৩। এমন কোন হাদীস বা আসার পাঠাবেন না যে হাদীসের মধ্যে ৬ শব্দটি উল্লেখ নেই। কারণ আমরা চেয়েছি ছয় তাকবীরের ছহীহ মারফু, মুত্তাসিল হাদীস। যেমন-নি¤েœ বর্ণিত কয়েকটি হাদীস যার ছনদ ছহীহ নয়, এবং ৬ তাকবীরের শব্দও যার মধ্যে উল্লেখ নাই।
عن سعيد بن العاص قال سالت ابا موسي وحذيفة كيف كان رسول الله صلي الله عليه وسلم يكبر في الاضحي والفطر فقال ابو موسي كان يكبر اربعا تكبيرة علي الجنائز فقال حذيفة صدق ـ
অর্থ ঃ হযরত সাঈদ ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি একবার হযরত আবু মুছা আশয়ারী ও হুযাইফা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করিলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) ঈদুল আযহার ও ঈদুল ফিতরে কিভাবে (কতবার) তাকবীর বলিতেন? তখন হযরত আবু মুছা আশয়ারী (রাঃ) বলিলেন- তিনি চার চার তাকবীর বলিতেন। যেইরূপ তিনি জানাযার তাকবীর বলতেন। ইহা শুনিয়া হযরত হুযাইফাহ (রাঃ) উহার সমর্থন করিয়া বলিলেন যে, তিনি সত্য কথা বলিয়াছেন (আবু দাউদ, মিশকাত আলিম ক্লাসের পাঠ্য আরাফাত প্রকাশনী, ২য় খন্ড, হাঃ নং ১৩৫৯)।
উপরে বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন-
واسناده ضعيف لان ابا عائشة المذكور غير معروف كما قال الذهبي ـ
অর্থ ঃ উপরে বর্ণিত হাদীসের সনদ যঈফ, কারণ উক্ত হাদীসটি বর্ণনাকারী রাবী আবু আয়েশার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি (লোকটি মুসলিম না ইহুদী ভাল না মন্দ কিছুই জানা যায়নি। আর আল্লাহর নবী এমন লোকের হাদীস গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন) দেখুন-মিশকাত, আলবানির তাহকীক সহ, ১ম খন্ড ৪৫৩ পৃঃ।
عن عبد الله بن مسعود قال التكبير في العيدين خمس في الاولي واربع في الثانية
অর্থ ঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুই ঈদের সালাতে তাকবীর সংখ্যা হল প্রথম রাক’আতে পাঁচ তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতে চার তাকবীর (বায়হাকী, ৩য় খন্ড, ৪১০ পৃঃ; মুসান্নাফে ইবনে আমি শায়বা, ২য় খন্ড, ৭৮ পৃঃ)।
নোট ঃ উপরে বর্ণিত হাদীস দ’ুটিতে কোথাও ছয় শব্দ উল্লেখ নেই বরং প্রথম হাদীসটিতে চার তাকবীরের বর্ণনা আছে এবং দ্বিতীয় হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ব্যক্তিগত উক্তি যার সাথে রাসুলের সুন্নাতের কোন সম্পর্ক নেই। এ হাদীসটিতে ৯ তাকবীরের উল্লেখ আছে, ছয় তাকবীরের অস্তিত্ব কোন হাদীসের কিতাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। এর পরেও যদি কোন ব্যক্তি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ব্যক্তিগত উক্তিই আমাদের দলীল, তাকে আমরা বলব তাহলে কেন আপনি সুরা নাস ওফালাক্বকে কুরআনের অংশ মনে করেন?
অথচ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ সুরা নাস ও ফালাক্বকে কুরআন মনে করতেন না। দেখুন- তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৪র্থ খন্ড, ৭৪২ পৃঃ; তাফসীরে রুহুল মায়ানী, ১৫তম খন্ড, ৩২২ পৃঃ; তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, ৫ম খন্ড, ৬২২ পৃঃ; তাফসীরে ফাতহুল বায়ান, ১ম খন্ড, ৩৬৩ পৃঃ; তাফসীরে দুররে মানসুর, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৪১৬ পৃঃ; তাফসীরে কুরতুবী, ১০ম খন্ড, ১৭ পৃঃ।
* হানাফী ইমাম ও অন্যান্য আলিমদের ১২ তাকবীরের উপর আমল।
عن ابي يوسف انه يكبر ثنتي عشرة تكبيرة سبعا في الاولي وخمسا في الثانية ـ
অর্থঃ আবু ইউসুফ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ঈদের সালাতে ১২ তাকবীর দিতেন। প্রথম রাক;আতে সাত তাকবীর দিতেন এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন (বাদায়িউস সানায়ী, ১ম খন্ড, ৪২০ পৃঃ)।
عن اي يوسف ومحمد فانهما فعلا ذلك لان هارون امرهما ان يكبرا ـ
অর্থঃ আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা উভয়ই এরূপ করতে অর্থাৎ ১২ তাকবীরে ঈদের সালাত পড়তেন। কেননা বাদশা হারুন-অর-রশিদ তাঁদের দু’জনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁরা যেন ১২ তাকবীর দেয় (রদ্দুল মোহতার, দুররে মুখতার, শামী, ৩য় খন্ড, ৫০ পৃঃ)।
ভারতগুরু শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) বলেন ঃ
السنة صلاة العيدين ان يبدأ بالصلاة من غير اذن ولا اقامة يجهر فيها القرأة يكبر في الالي سبعا قبل القراءة والثانية خمسا قبل القرأة ـ
অর্থঃ দু’ঈদের সালাতের সুন্নাত হল-সালাত, আযান ও ইকামাত ব্যতীত শুরু করা এবং কিরাত জোরে পাঠ করা এবং প্রথম রাক’আতে কিরাতের পূর্বে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে কিরাতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দেয়া (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা, ২য় খন্ড, ৩১ পৃষ্ঠা)।
মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকারক ইমাম নববী বলেন-
والسنة ان يكبر في الاولي سبع تكبيرات سوي تكبيرات الاحرام وتكبيرة الركوع وفي الثانية خمسا سوي تكيرة القيام والركوع ـ شرح المهذبة ـ
অর্থঃ সুন্নাত হল প্রথম রাক’আতে তাকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তাকবীর ব্যতীত সাত তাকবীর দেয়া এবং দ্বিতীয় রাক’আতে দাঁড়ানোর ও রুকুর তাকবীর ব্যতীত পাঁচ তাকবীর দেয়া (ইমাম নববী, শরহুল মুহায্যাব, ৫ খন্ড, ২০ পৃঃ)।
وقد روي عن النبي صلي الله علي وسلم من طرق كثيرة حسان انه كبر في العيد سبعا في الاولي وخمسا في الثانية ولم يروي عنه من وجه قوي ولا ضعيف خلاف هذا وهو اولي فاعمل به ـ
অর্থঃ নবী (সঃ) থেকে অনেক উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সঃ) ঈদের সালাতের প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। এর বিপরীতে কোন সবল কিংবা দুর্বল সনদে কোন হাদীস নবী (সঃ) থেকে বর্ণিত হয়নি, আর ১২ তাকবীরই হল সর্বোত্তম এবং এটার উপরই আমল করা হবে (আল-মুগনী, ৩য় খন্ড, ২৭২ পৃঃ)।
আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষৌভী হানাফী বলেন ঃ هذا الا يكون رايا الا توقيفا يجب التسميم له অর্থঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) ১২ তাকবীরের উপর আমল করেছেন। এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত নয় বরং তা হল নবী (সঃ) এর নির্দেশ যার উপর আমল করা অপরিহার্য কর্তব্য (আত-তালিকুল মুমাজ্জদ, ১৪১ পৃঃ)।

ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান:

(ক) দু’ঈদের নমাযে অতিরিক্ত ৬ তাকবীর ওয়াজিব হওয়ার বিধান সম্পূর্ণ হাদীস সম্মত। মারফু এবং মাওকুফ উভয় প্রকারের হাদীস দ্বারা তা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে সহীহ-শুদ্ধ হাদীস গ্রন্থাদিতে বহু হাদীস পাওয়া যায়। উদাহরণ স্বরূপ কয়েকটি হাদীস নিম্নে পেশ করছি।

১নং হাদীস:

أن القاسم ابا عبد الرحمن حدثه قال حدثني بعض اصحاب رسول الله صلي الله عليه وسلم قال صلي بنا النبي صلي الله عليه وسلم يوم عيد فكبر اربعاً واربعاً ثم اقبل علينا بوجهه حين انصرف فقال لا تنسوا كتكبير الجنائز واشار باصابعه وقبض ابهامه ـ فهذا حديث حسن الاسناد ـ

নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ তাহাবী শরীফের বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে যে, আবু আব্দুর রহমান বলেন, আমাকে কতিপয় সাহাবা রাযি. বলেছেন যে, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে ঈদের নামায পড়ে ছিলেন। তাতে তিনি চার চার তাকবীর বলেন। অত:পর নামায শেষে হুযুর (সা.) আমাদের কে লক্ষ্য করে বললেন, ভুলে যেও না, ঈদের নামাযের তাকবীর জানাযার নামাযের তাকবীরের অনুরূপ। সাথে সাথে হুযুর (সা.) বৃদ্ধাঙ্গুলী মুষ্ঠিবদ্ধ করে অবশিষ্ট চার আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে দেখালেন (তাহাবী শরীফ, ২/৪০০পৃ । বর্ণিত হাদীসের সনদকে ইমাম তাহাবী রহ. হাসান বলেছেন। আর হাসান হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে সহীহ হাদীসের মত (তাদরীবুর রাবী, ১/৯৬ পৃ । বর্ণিত হাদীসে দু’ রাকাতে চার চার তাকবীর বলা হয়েছে। এদ্বারা বুঝা যায় মোট আট তাকবীর। যথা: প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা সহ চার তাকবীর আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীর সহ চার তাকবীর। অর্থাৎ দুটি আসল ৬টি অতিরিক্ত বলা যেতে পারে।

২নং হাদীস:

أن سعيد بن العاص سأل أبا موسي الاشعري وحذيفة بن اليمان كيف كان رسول الله صلي الله عليه وسلم يكبر في الاضحي والفطر فقال ابو موسي كان يكبر اربعا تكبيرة علي الجنائز فقال حذيفة صدق فقال ابو موسي كذلك كنت اكبر في البصرة ـ
বিশুদ্ধ হাদীসগ্রন্থ আবু দাউদ শরীফের এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, সাঈদ ইবনে আস রাযি. একদা আবু মূসা আশয়ারী ও হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে কিভাবে তাকবীর বলতেন? জবাবে আবু মূসা রাযি. বললেন জানাযার নামাযের মত প্রতি রাকাতে চার চার তাকবীর বলতেন। হুযায়ফা রাযি. সমর্থন করে বললেন আবু মূসা সত্য বলেছে। আবু মূসা রাযি. বললেন আমিও বসরা দেশে এভাবেই তাকবীর বলতাম (আবু দাউদ, ১/১৬৩ পৃ:; মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, ৪/২১৩ পৃ ।

উভয় হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাযের তাকবীর প্রতি রাকাতে চার চার করে সর্ব মোট আট বলেছেন। অর্থাৎ দু’টি আসল ৬টি অতিরিক্ত। প্রশ্ন হতে পারে, হাদীসে তো তাকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তাকবীরের কথা উল্লেখ নেই? তার জবাবে বলতে চাই যে, হুযুর (সা.) ঈদের তাকবীরকে জানাযার তাকবীরের সাথে তুলনা করেছেন। তা থেকে বুঝা যায় যে, যেমন জানাযার ৪ তাকবীরের মধ্যে প্রথম তাকবীরে তাহরীমা অপর ৩টি অতিরিক্ত তদ্রুপ ঈদের নামারের চার চার তাকবীরের মধ্যে ও একটি আসল অপর ৩টি অতিরিক্ত। এটা কোন মনগড়া ব্যাখ্যা নয় বরং বহু মাওকুফ হাদীস দ্বারা প্রমানিত সত্য। একথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে, হাদীসে মাওকুফ যদি ইজতেহাদী বিষয় না হয় এবং কুরআনের কোন আয়াত বা হাদীসে মারফুর সাথে সাংঘর্ষিক না হয় তখন হাদীসে মারফুর মত শরীয়তের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ যোগ্য হবে (জফরুল আমানী, ১/১৯০ পৃ ।

২নং হাদীসের সনদের তাহকীক: বার তাকবীর সমার্থকগণ আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত হাদীসের সনদকে যয়ীফ বলতে চায়। কারণ উক্ত সনদে একজন রাবী হলেন আবু আয়শা তিনি মাজহুল। তাদের এই দাবী সঠিক নয়, কারণ আবু আয়শা হতে দু’ জন বর্ণনাকারী পাওয়া যায় একজন মাকহুল দ্বিতীয়জন খালিদ ইবনে মা’দান (তাহযীবুত তাহযীব, ১২/১৪৬ পৃ । আর রিজাল শান্ত্রের উসূল হল, যে রাবীর দু’জন ছেকাহ ছাত্র থাকবে সে কখনে মাজহুল থাকে না (মুকাদ্দামায়ে ইবনে সালাহ, ৯০ পৃ:; তাদরীবুর বাবী, ১/২২০ পৃ । হাফেজ আসকালানী রহ. আবু আয়শা কে মাকবুল বলেছেন, অতএব তার হাদীস গ্রহণযোগ্য হবে (তাকরীবুত তাহযীব, ১/৪২৬ পৃ ।

সাহাবাদের আমল

এ ছিল ৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামাযের সমর্থনে মারফু হাদীসের আলোচনা। এবার দেখা যাক, ৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামাযের প্রসঙ্গে হাদীসে মাওকুফ বা সাহাবায়ে কেরামের আমল কি ছিল?

أن إبن مسعود رضـ كان يكبر في العيدين تسعا اربع قبل القرأة ثم يكبر فيركع وفي الثانية يقرأ فاذا فرغ كبر اربعاً ثم ركع ـ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে ঈদের নামাযের নিয়ম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তিনি ঈদের নামাযে ৯টি তাকবীর বলতেন। ৪টি কেরাতের পূর্বে। অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমা সহ ৪টি। অত:পর কেরাত পড়ে তাকবীর বলে রুকু করতেন। দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর ৪টি তাকবীর বলতেন এবং চতুর্থ তাকবীরের সাথে রুকু করতেন (তিরমিজী শরীফ, ১/১২০ পৃ:; ই’লাউস সুনান, ৮/১০৬ পৃ:; তাহাবী শরীফ, রায়াহ, ২/৪০১ পৃ: মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৪/২১৬পৃ. নাসবুর রায়াহ, ২/২২২ পৃ.)।
আল্লামা হাফেজ ইবনে হাযম জাহেরী (রহ.) এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন যে, এটি অতীব সঠিক এবং এটিই ইমাম আবু হানিফা রহ. এর অভিমত (আল-মুহাল্লা, ৫/৮৩ পৃ ।
অনুরূপ হাফেজে হাদীস আল্লামা ইবনে হাযার আসকালানী রহ. বলেন যে, এ হাদিসটি হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক সহীহ সনদে বর্ননা করেছেন (আদদিরায়াহ, ১/ ১৭৩ পৃ ।
ছয় তাকবীরের সাথে ঈদের নামাযের এই নিয়মটি হযরত ইবনে মাসউদ ব্যতীত হযরত ওমর, হুযায়ফ, আবু মূসা আশয়ারী, আনাস, জাবির, আবু মাসউদ আনসারী, ইবনে আব্বাস ও আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রাযি.) প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম থেকেও বর্ণিত আছে (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৪/২১৪-২১৯ পৃ:; তাহাবী শরীফ, ২/৪০০ পৃ ।
সার কথা উপরের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল যে, ঈদের নামায তাকবীরাতে জাওয়ায়েদে ছিত্তা অর্থাৎ অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে আদায় করা নির্ভরযোগ্য ও সহীহ হাদীস সম্মত এবং অনেক সাহাবায়ে কেরামের স্বতঃসিদ্ধ আমলও তা। সুতরাং ঈদের নামাযের প্রচলিত নিয়ম অর্থাৎ ছয় তাকবীরে আদায় করাকে হাদীসের পরিপন্থী বা বিদআত বলার কোন অবকাশ নেই।
পূর্বেও বলা হয়েছে যে,সাহাবাদের আমল সহীহ হাদীসের বিপরীত না হলে তা নির্দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে খোলাফায়ে রাশেদ হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. ও হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. এর মত হাদীস বিশেষজ্ঞ সাহাবীদের আমল হলে তা দলীল হওয়াতে মোটেই দ্বিধা সংশয় না হওয়া চাই। বলা যেতে পারে যে, এখানে হাদীস সাহাবাদের আমল ১২ তাকবীরের পরিপন্থী? তার উত্তরে বলবো যে,সেই হাদীস গুলো দূর্বল প্রকৃতির। আর দূর্বল হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লামা হাফেজ ইবনে হাযম যাহেরী বলেন, ১২ তাকবীরের হাদীসগুলো মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় (আল মুহাল্লা, ৫/৮৪)।
অনুরূপ হাফিজে হাদীস ইমাম তাহাবী রহ. তাহাবী শরীফের ২/৩৯৯ পৃষ্ঠায় বলেন যে, বিরুদ্ধপক্ষের হাদীস অর্থাৎ ১২ তাকবীরের হাদীস গুলো যয়ীফ হওয়ার কারণে অপ্রমাণযোগ্য। একথার বাস্তব প্রমাণ হিসেবে নিুম্নে ১২ তাকবীরের সমর্থনকারীদের উপস্থাপিত কিছু হাদীসের তাহকীক পেশ করছি। যে হাদীসগুলি তারা সরলমনা মুসলমানদের কে ধোকা দেওয়ার অপমানসে লিফলেট আকারে প্রকাশ করে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করছে।

(খ) লিফলেটে প্রচারিত ১২ তাকবীরের হাদীসের তাহকীক:

১নং হাদীস: قال الشافعي سمعت سفيان بن عيينة يقول سمعت عطاء بن ابي رباح يقول سمعت عبد الله بن عباس يقول اشهد علي رسول الله صلي الله عليه وسلم انه كبر في صلاة العيدين في الاولي سبعا سوي تكبيرة الاحرام وفي الثانية خمسا سوي تكبيرة القيام ـ
হাদীসটি উল্লেখ করে বলা হয়েছে এ হাদীসের সনদ অধিক ছহীহ এবং রাবীগণ অধিক নির্ভরযোগ্য এবং অধিক প্রতিষ্ঠিত শব্দে বর্ণিত কেননা এ হাদীস সামিতু (আমি নিজে শুনেছি) শব্দ দ্বারা এসেছে। (কিতাবুল উম্ম ১ম খন্ড ২৩৬ পৃ
তাহকীক: অত্যন্ত দু:খ জনক বিষয় হল এখানে কিতাবুল উম্ম এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ উল্লিখিত সনদের কোন হাদীস কিতাবুল উমে নেই। শুধু তাই নয় ছহীহ হাদীসের যত কিতাব রয়েছে কোন একটি কিতাবে এমন সনদে বর্ণিত হাদীস দেখাতে পারবেন না। কিতাবুল উমের উদ্বৃতি দিয়ে মাওলানা সাহেব সাধারণ মানুষকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিতাবুল উমে ঈদের তাকবীর সংক্রান্ত যে সকল হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তার কোন একটি হাদীস আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত নয়।
দ্বিতীয়ত: সনদের দিকে দেখলেও বুঝে আসে যে, সনদটি সম্পূর্ণ বানানো। কারণ সুফিয়ান বিন উয়াইনা আতা বিন আবি রাবাহ এর ছাত্র নন। রিজাল শাস্ত্রের কোন কিতাবে ছাত্র হিসেবে উল্লেখ করেননি। আর ছাত্র হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। কারণ সুফিয়ান বিন উয়াইনার জন্ম ১০৭ আর আতা বিন আবি রাবাহ এর মৃত্যু ১১৪ হিজরী। অতএব এত অল্প সময়ে মক্কার এক উস্তাদের কুফি এক ব্যক্তি ছাত্র হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
২নং হাদীস:عن كثير بن عبد الله عن ابيه عن جده أن النبي صلي الله عليه وسلم كبر في العيدين في الاولي سبعاً قبل
القرأة وفي الاخرة خمساً قبل القرأة ـ
ঈদের নামাযের তাকবীরে জাওয়ায়েদ ১২টি হওয়ার পক্ষে বর্ণিত হাদীসকেই মূল হাদীস হিসেবে পেশ করা হয়। তবে হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দূর্বল বা যয়ীফ। কারণ সনদে এক রাবী হলেন কাসীর বিন আব্দুল্লাহ তার সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, هو ركن من اركان الكذب অর্থাৎ কাসীর বিন আব্দুল্লাহ মিথ্যুকদের অন্যতম। ইবনে হিব্বান বলেন يروي عن ابيه عن جده نسخة موضوعة لا يحل ذكره في الكتب অর্থাৎ কাসীর বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা এবং তার পিতা তার দাদা থেকে যে সনদ বর্ননা করে এটি একটি মওজু তথা বানাওয়াট সনদ। এমন সনদ কোন হাদীসের কিতাবে উল্লেখ করা অনুচিৎ (তোহফাতুল আহওয়াজী, ৩/৬৫ পৃ:; তাওযীহুল আফকার, ১/১৬৯ ইমাম বুখারী রহ. বালেন, منكر الحديث অর্থাৎ কাসীর বিন আব্দুল্লাহ এর হাদীস অপ্রমাণযোগ্য। ইমাম নাসায়ী বলেন متروك অর্থাৎ পরিত্যক্ত (তাহযীবুত তাহযীব, ৮/৪১৭; আল-কামেল ফিজ-জোয়াফা, ৭/২০০ পৃ ।
উল্লিখিত হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম তিরমিজী বলেন, আমি হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম বুখারীর রহ. কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এটাই ঈদের তাকবীর সম্পর্কে সর্বোচ্চ সহীহ হাদীস (তোহফাতুল আহওয়াযী, ৩/৬৬ পৃ ।
উপরের আলোচনাকে মিলালে সর্ব সাধারণের আর বুঝতে বাকী থাকবে না যে, একজন মিথ্যুক রাবীর হাদীস যদি সর্বোচ্চ হয়। তাহলে ১২ তাকবীর সংক্রান্ত বাকী হাদীসগুলির গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?
৩, ৯ ও ১১ নং হাদীস: ৩নং হাদীসে হযরত আবু হুরাইরা রাযি. ৯নং হাদীসে হযরত আলী রাযি. ও ১১নং হাদীসে হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এর আমল বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা ইতঃপূর্বে বার বার বলেছি, হাদীসে মাওকুফ তথা সাহাবাদের আমল দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হল হাদীসে মারফু সহীহর খেলাফ না হওয়া। আর বর্ণিত হাদীসগুলো ৬ তাকবীরের হাদীসে মারফু সহীহর খেলাফ। অতএব এমন হাদীসে মাওকুফ আমলযোগ্য নয়। এখানে এমন প্রশ্ন করা অবান্তর যে, বার তাকবীরের পক্ষেও তো হাদীস পাওয়া যায়। কারণ পূর্বের আলোচনা প্রমাণ করেছে যে, ১২ তাকবীরের সমস্ত হাদীস যয়ীফ হওয়ার কারণে অগ্রহণযোগ্য।
৪ নং হাদীস ঃ عن عمر بن الخطاب انه صلي العيد فكبر في الاولي سبعاً وفي الثانية خمساً يرفع يديه مع كل تكبير
ـ البيهقي ص ৩/৪১২
এখানেও মাওলানা সাহেব ওমর রাযি. এর আমল বয়ান করার ক্ষেত্রে বায়হাকী শরীফের উদ্বৃতি দিয়ে অসত্যের আশ্রয় নিয়েছেন। কারণ এমন হাদীস বায়হাকী শরীফে নেই (বায়হাকী শরীফ, ৫/৬৬-৭০ পৃ. দ্রষ্টব্য)
আর তাহাবী শরীফের একটি লম্বা হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওমর রাযি. এর যুগে ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর ৬টি হওয়ার উপর ইজমা সংগঠিত হয়েছে (তাহাবী শরীফ, ১/২৮৬ পৃ.)।
৪নং হাদীসের জবাবে ঐ আলোচনা ও প্রযোজ্য হবে যা ৩নং হাদীসে বলা হয়েছে।
৫ ও ৮ নং হাদীস ঃ حدثنا ابو سعيد مولي بني هاشم حدثنا ابن لهيعة عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة عن
عائشة ان رسول الله صلي الله عليه وسلم ……. الحديث .
হাদীসটি যয়ীফ, কারণ হাদীসটির সনদে একজন রাবী হলেন আব্দুল্লাহ বিন লাহীয়া। আর আব্দুল্লাহ বিন লাহীয়া সম্পর্কে অধিকাংশ মুহাদ্দিসীন বলেছেন তিনি যয়ীফ। ইমাম তিরমিজী রহ. বলেন لا يحتج به অর্থাৎ ইবনে লাহীয়ার হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে না (তিরমিজী, ২য় খন্ড, কিতাবুল ইলাল, ২৩৫ পৃ.)।
ইমাম নাসায়ী বলেন, তিনি যয়ীফ (মিজানুল ইতিদাল, ৪/১৬৬ পৃ.)। আল্লামা শাওকানী বলেন, ইবনে লাহীয়া যয়ীফ (নাইলুল আওতার, ৩/৩১২ পৃ.)।
ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন বলেন, ইবনে লাহীয়া ـ ضعيف الحديث ـ হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। তার হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করা যাবে না। আলী ইবনে মাদীনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি আমাকে বিশির ইবনে ছারী বলেছেন-لو رأيت ابن لهيعة لم تحمل عنه حرفاً অর্থাৎ তুমি যদি ইবনে লাহীয়াকে দেখতে তার থেকে একটি হরফও গ্রহণ করতে না। ইয়াহইয়া বিন মায়ীনকে বলা হল যে, ইবনে লাহীয়ার কিতাব পুড়ে গিয়েছিল। ইয়াহইয়া জবাবে বলেন, সে কিতাব পোড়ার আগের থেকে যয়ীফ। ইমাম সা’দী বলেন, ইবনে লাহীয়ার হাদীস শিক্ষা করা, তার হাদীস থেকে দলীল পেশ করা, তার হাদীস হিসেবে গণনা করা কোনটাই ঠিক না (আল-কামেল ফিয-যোয়াফা ৫/২৩৭-২৩৯ পৃ.)।
৬ নং হাদীস ঃ حدثنا مسدد حدثنا المعتمر قال سمعت عبد الله بن عبد الرحمن الطائفي يحدث عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال قال نبي الله صلي الله عليه وسلم التكبير في الفطر سبع ………….
ابو داؤد . ১/১৬৩
বর্ণিত হাদীসে এক রাবী পাওয়া যায়, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী তিনি বিতর্কিত রাবী। ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন একবার বলেছেন صويلح আবার বলেছেন যয়ীফ। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, فيه نظر অর্থাৎ তার ব্যাপারে সমস্যা আছে। ইমাম নাসায়ী বলেন সে মজবুত রাবী নয়। আলী ইবনে মাদীনি ও ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীনের ন্যায় মত ব্যক্ত করেছেন (মিজানুল ই’তিদাল, ৪/১৩৪ পৃ.; তাহযীবুত তাহযীব, ৫/২৯৮ পৃ.; একমালু তাহযীবিল কামাল, ৮/৩৬; আল কামেল ফিয যোয়াফা, ৫/২৭৫ পৃ.)।
৭নং হাদীস ঃ
حدثنا عبد الله حدثني سريح بن يونس حدثنا محبوب بن محرز بياع القوارير عن ابرايهم بن عبد الله بن فروخ عن ابيه قال صليت خلف عثمان العيد فكبر سبعا و خمساً.
মুসনাদে আহমদের বর্ণিত হাদীসের টিকায় বলা হয়েছে, হাদীসটি নিতান্ত যয়ীফ, কারণ এর সনদে মাহবুব ইবনে মুহরিজ একজন রাবী রয়েছে যিনি যয়ীফ। তদরুপ আর এক রাবী হলেন ইব্রাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ফররুখ তিনি মাজহুল। মাহবুব ইবনে মুহরিজ সম্পর্কে ইমাম দারা কুতনী বলেন, তিনি যয়ীফ (মিজানুল ই’তিদাল, ৬/২৮ পৃ ।
১০ নং হাদীস ঃ حدثنا عثمان بن احمد الدقاق حدثنا احمد بن علي الخزار حدثنا سعد بن عبد الحميد حدثنا فرج بن فضالة عن يحي بن سعيد عن نافع عن ابن عمر قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم التكبير في العيدين في
الركعة الاولي سبع تكبيرات وفي الأخرة خمس تكبيرات ـ
সুনানে দারা কুতনীর টিকায় বলা হয়েছে হাদীসটি যয়ীফ। কারণ ফরজ ইবনে ফুজালা ذاهب الحديث অর্থাৎ যয়ীফ। ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. বলেন منكر الحديث ইমাম নাসায়ী বলেন যয়ীফ। ইবনে যারীন বলেছেন তিনি যয়ীফ। এছাড়া আরও অনেকে যয়ীফ বলেছেন (দারা কুতনী, ২/৩৮৮ পৃ; তাকরীবুত তাহযীব ২/৮ পৃ. তাহযীবুত তাহযীব, ৮/২৬০ পৃ.)।
১২ নং হাদীস ঃ حدثنا هشام بن عمار حدثنا عبد الرحمن بن سعد بن عمار بن سعد مؤذن رسول الله صلي الله عليه وسلم حدثني ابي عن ابيه عن جده ان رسول الله صلي الله عليه وسلم كبر في العيدين سبعاً في الاولي وخمسا في
الاخرة ـ
ইবনে মাজা শরীফের টিকায় বলা হয়েছে হাদীসটির সনদ যয়ীফ কারণ সনদে একজন রাবী হলেন আব্দুর রহমান বিন সামাদ তিনি যয়ীফ। ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন তাকে যয়ীফ বলেছেন (সুনানে ইবনে মাজা, ২/১০২ পৃ.; তাহযীবুত তাহযীব, ৬/১৮৩ পৃ.; তাহযীবুল কামাল, ৬/১৪৫ পৃ.; খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল, ২/১৬৩ পৃ.)।
১৩ নং হাদীস ঃ عبد الرزاق عن ابي يحي عن جعفر بن محمد عن ابيه قال كان علي يكبر في الفطر والاضحي
والاستسقاء سبعا في الاولي ………… الحديث
হাদীসটি নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যায় যে, মুহাদ্দিস মুহাম্মদ রহ. প্রথমে হযরত আলী রাযি. এর আমল বর্ণনা করেছেন এরপর রাসূলুল্লাহ (স.) সহ আরো কিছু সাহাবাদের আমল বর্ণনা করেছেন। অথচ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ রহ. আলী রাযি. সহ হাদীসে বর্ণিত সাহাবাদের কাউকেও দেখেননি। ফলে সনদের মধ্যে এনকেতা পাওয়া গেছে। আর সনদে এনকেতা পাওয়া গেলে হাদীস মুনকাতে হয়। মুনকাতে হাদীস যয়ীফ এবং অপ্রমাণযোগ্য হয়।

৬ তাকবীরের হাদীসের গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য আরোপিত শর্তের জবাবঃ

১. লিফলেটে বলা হয়েছে, যে সকল হাদীসের সনদে হাদীস শাস্ত্রের ইমাদের কোন একজন আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন এমন কোন হাদীস দয়া করে পাঠাবেন না। এর জবাবে বলবো উপরের আলোচনার দ্বারা সর্ব সাধারণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা ১২ তাকবীরের পক্ষে যতগুলি হাদীস পেশ করেছে প্রত্যেকটি হাদীসের সনদে ইমামুল হাদীসগণ শুধু আপত্তি করেছেন তাই নয় বরং প্রত্যেকটি হাদীস যয়ীফ ও অপ্রমাণযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে। অতএব ৬ তাকবীরের হাদীসের জন্য এমন শর্ত আরোপ করার যৌক্তিকতা কি?
২. কোন সাহাবীর আমল ছয় তাকবীরের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না বলা হয়েছে। অথচ তারা ১২ তাকবীরের পক্ষে ১৩টি হাদীস পেশ করেছে তার মধ্যে ৬টি হাদীস সাহাবাদের আমল সম্বলিত।
৩. তাকবীরাতে ঈদাইন অর্থাৎ ঈদের নামাযের অতিরিক্ত ৬ তাকবীর প্রমাণিত হওয়ার জন্য হাদীসে সরাসরি ৬ শব্দটি উল্লেখ থাকতে হবে এমন কথা বলা, আমি মনে করি নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ। কারণ অনেক হাদীসে দেখা যায় শরীয়তের কোন একটি বিধান বর্ণনা করতে গিয়ে একটি সংখ্যা বলা হয়েছে অথচ ঐ বিধানের ক্ষেত্রে ঐ সংখ্যাই নির্ধারণ করা হয় না। যেমন বিতিরের নামাযের রাকাতের ব্যাপারে হাদীসে ১৩, ১৫, ১৭ পর্যন্ত সংখ্যা পাওয়া যায় অথচ বিতিরের নামাজ ১৩, ১৫, বা ১৭ রাকাত এমন কেহ বলেননি (তিরমিজী শরীফ ১/১০৩ পৃ.) ।
অতএব বুঝা গেল ঈদের তাকবীর ৬টি প্রমাণ হওয়ার জন্য ৬ শব্দ হাদীসে সরাসরি উল্লেখ পেতে চাওয়া অবান্তর। ৮ বা ৯ সংখ্যা দ্বারাও ৬ তাকবীর প্রমাণ হতে পারে। ৮ থেকে যে ২ বিয়োগ হলে ৬ হয় এ অংক যারা বুঝে না তাদের সাথে কিসের আলোচনা।

ইবনে মাসউদ রাযি. এর হাদীসের উপর আপত্তির জবাব:

লিফলেটে বলা হয়েছ হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাযি.) এর হাদীস কে যদি দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হয় তাহলে সুরা নাস ও ফালাককে কুরআন শরীফ থেকে বাদ দিতে হবে, কারণ এ দ’ুটি সুরাকে ইবনে মাসউদ রাযি. কুরআনের অংশ মনে করেন না। এক্ষেত্রে তাফসীরে ইবনে কাসীর ও তাফসীরে রুহুল মাআনী সহ কয়েকটি তাফসীরের কিতাবের উদ্বৃতি পেশ করা হয়েছে। প্রথমত: আমরা পূর্বেই বলেছি সাহাবাদের উক্তি যদি হাদীসে মারফুর বিপরীত না হয় তখন দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হবে। অতএব এক্ষেত্রে যেহেতু ইবনে মাসউদ রাযি. এর উক্তি ইজমায়ে সাহাবার বিপরীত অতএব সূরা নাস ও ফালাক কুরআনের অংশ হওয়ার ব্যাপারে ইবনে মাসউদ (রাযি.) এর মত দলীল হওয়ার প্রশ্নই আসে না। দ্বিতীয়ত: মাওলানা সাহেব স্বার্থ হাসীলের জন্য শুধু لا تقربوا الصلاة ই দেখেছেন وأنتم سكري আর দেখেননি। অর্থাৎ তিনি শুধু তাফসীরে ইবনে কাসীর ও তাফসীরে রুহুল মাআনীতে এটাই দেখেছেন যে, ইবনে মাসউদ (রাযি.) সূরা নাস ও ফালাককে কুরআনের অংশ মনে করেন না। তিনি ইহা আর দেখলেন না যে, তার পরে বলা হয়েছে ইবনে মাসউদ রাযি. এর নিকট সহীহ সনদে প্রথমে সূরা নাস ও ফালাক না পৌঁছার কারণে এমন উক্তি ব্যক্ত করেছেন। অতএব যখন সহীহ সনদে জানতে পারলেন যে, সুরা নাস ও ফালাক ও কুরআনের অংশ তখন প্রথম উক্তি থেকে ফিরে এসে জমহুরে সাহাবাদের মত গ্রহণ করেছেন। অতএব এখন আর কোন সংশয় বাকী রইল না (তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৪/৭৪৪ পৃ:; তাফসীরে রুহুল মাআনী, ১৫/৬৫৩ পৃ ।

হানাফী ইমাম ও অন্যান্য আলিমদের আমলের জবাব:

* লিফলেটে বলা হয়েছে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. বার তাকবীরের সাথে আমল করেছেন। এর জবাবে আমরা বলবো মাওলানা সাহেব এক্ষেত্রেও সর্ব সাধারণ কে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছেন। তার কারণ তিনি এক্ষেত্রে বাদায়িউস সানায়ে, রদ্দুল মুখতার, দুররুল মুখতার ও শামীর হাওয়ালা দিয়েছেন। এখন আমরা মাওলানা সাহেবের কাছে প্রশ্ন করতে চাই, আপনি যেই রদ্দুল মুখতার, দুররুল মুখতার ও শামীর উদ্বৃতি দিয়েছেন সেখানে কি এ কথা উল্লেখ নেই যে, وبه اخذ ائمتنا الثلاثة অর্থাৎ ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর ৬টি, এটা ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসূফ ও মুহাম্মদ রহ. এর যৌথ মত। এর পরে বলা হয়েছে ففعلا ذلك امتثالا له لا مذهباً অর্থাৎ ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর ১২ তাকবীরের উপর আমল মাযহাব হিসেবে নয়, কেবল নির্দেশ পালনার্থে। এর পর বলা হয়েছে وعن أبي يوسف أنه رجع إلي ذلك অর্থাৎ ইমাম আবু ইউসূফ উক্ত আমল থেকে ফিরে এসে ৬ তাকবীরের আমল গ্রহণ করেছেন (রদ্দুল মুখতার, দুররুল মুখতার ও শামী ৩/৫৩-৫৪ পৃ।
* অতএব এক্ষেত্রে ইমাম আবু ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর আমল দ্বারা দলীল পেশ করার কোন অবকাশ নেই। কারণ এটা তাদের চিরাচরিত আমল বা মত ছিল না। তারা আজীবন ৬ তাকবীরের সাথেই আমল করেছেন এবং উক্তি পেশ করেছেন।
* হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা ও আত্তালিকুল মুমাজ্জাদ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী ও আব্দুল হাই লক্ষেèৗভী রহ. ১২ তাকবীরে পক্ষে মত পোষণ করেছেন। এর জবাবে বলতে চাই যে ক্ষেত্রে লাখো হানাফী আলেম ৬ তাকবীরের সাথে রায় ব্যক্ত করেছেন, সেক্ষেত্রে দু’এক জন হানাফী আলিম ১২ তাকবীরের সাথে রায় পেশ করলেই কি লাখো হানাফী ওলামা কেরামের রায় কে পরিত্যাগ করতে হবে? দু’এক মাসআলায় এরকম দু’এক জনের মতবিরোধ থাকতেই পারে। আসল কথা হলো সহীহ দলীল প্রমাণে যেটাই প্রমাণিত হবে সেটাই সকলে গ্রহণ করতে বাধ্য। ৬ তাকবীরের হাদীস যেহেতু অধিকতর সহীহ প্রমাণিত হল তাই সকল হানাফী ওলামা কেরাম সেটা গ্রহণ করেছেন।
* ইমাম নববী ও আল্লামা ইবনে আব্দুল বার রহ. এর উক্তি দ্বারা দলীল পেশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বলবো তারা যখন ভিন্ন মাযহাব অবলম্বী তাই তারা ১২ তাকবীরের পক্ষে উক্তি ব্যক্ত করতেই পারেন কারণ তাদের মাযহাবে এই আমল চালু আছে। অতএব তাদের উক্তি ৬ তাকবীরের বিরুদ্ধে দলীল হওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।

সার কথা: সুদীর্ঘ আলোচনার দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করা সম্পূর্ণ হাদীস মোতাবেক ও সহীহ। এটাকে হাদীস পরিপন্থী বা বিদআত বলার কোন অবকাশ নেই।
আল্লাহ সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন॥

এখান থেকে নেয়া-

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৫৮৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২০ টি মন্তব্য

  1. এখান থেকে নেয়া………
    http://jamiatulasad.com/?p=854

    কারো যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে উপরের লিঙ্কে করুন।

  2. সিহাহ সিত্তায় ১২ বার তাকবীরের এত হাদীস কেন বুঝিনা । আল্লাহ তুমি আমাদের সত্যের পথে পরিচালিত কর , সত্যকে বুঝার তৌফিক দান কর । রাসূলের সহীহ সুন্নাহকে আমাদের সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত কর । আমীন!

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,
    আসসালামু আলাইকুম।

    আপনার সকল প্রশ্নের জবাব এই বইয়ে আছে…………… পড়ুন এবং অনুধাবন করুন।

    আপনি বলেছেন,
    সিহাহ সিত্তায় ১২ বার তাকবীরের এত হাদীস কেন বুঝিনা।

    জনাব আলবানী সাহেব (ওনার কথা বললাম কারন আপনারা ওনাকে খুব মানেন) বুখারী-মুসলিমের অসংখ্য হাদীসকে জয়ীফ বলেছেন। প্রমাণ দেখুন………..

    1. Hadith: The Prophet (Sall Allahu alaihi wa Aalihi wa Sallim) said: “Allah says I will be an opponent to 3 persons on the day of resurrection: (a) One who makes a covenant in my Name but he proves treacherous, (b) One who sells a free person (as a slave) and eats the price (c) And one who employs a laborer and gets the full work done by him, but doesn’t pay him his wages.” [Bukhari no 2114-Arabic version, or see the English version 3/430 pg 236].

    Al-Albani said that this Hadith was DAEEF in “Daeef al-Jami wa Ziyadatuh, 4/111 no. 4054″.

    Little does he know that this Hadith has been narrated by Ahmad and Bukhari from Abu Hurayra (Allah be pleased with him)!!

    2. Hadith: “Sacrifice only a grown up cow unless it is difficult for you, in which case sacrifice a ram.”
    [Muslim no. 1963-Arabic edition, or see the English version 3/4836 pg. 1086].

    Al-Albani said that this Hadith was DAEEF in “Daeef al-Jami wa Ziyadatuh, 6/64 no. 6222.”

    Although this Hadith has been narrated by Imam’s Ahmad, Muslim, Abu Dawood, Nisai and Ibn Majah from Jaabir (Allah be pleased with him)!!

    3. Hadith: “Amongst the worst people in Allah’s sight on the Day of Judgement will be the man who makes love to his wife and she to him, and he divulges her secret.” [Muslim no. 1437- Arabic edition].

    Al-Albani claims that this Hadith is DAEEF in “Daeef al-Jami wa Ziyadatuh, 2/197 no. 2005.”

    Although it has been narrated by Muslim from Abi Sayyed (Allah be pleased with him)!!

    4. Hadith: “If someone woke up at night (for prayers) let him begin his prayers with 2 light rak’ats.”
    [Muslim no. 768].

    Al-Albani stated that this Hadith was DAEEF in “Daeef al-Jami wa Ziyadatuh, 1/213 no. 718.”

    Although it is narrated by Muslim and Ahmad from Abu Hurayra (may Allah be pleased with him)!!

    ABU TASNEEM

    @আবদুস সবুর , আমি হানাফি পরিবারের ছেলে । তবে আমি কারো অন্ধ অনুসরণ করি না । আলেম বা নেতাদের আনুগত্যের জন্য সুরা নিসা/৫৯ এর মূলনীতি অনুসরণ করি । আপনার দেয়া বইটি দেখলাম , এবার এই লিংক থেকে আমার দেয়া বইটি দেখুন । আমি শুধু বই পড়েই ভুলে যাই না । মূল গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখি , মিলিয়ে দেখি ইসলামের উৎসভূমির আমলের সাথে । আর আল্লাহর কাছে কামনা করি “ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলুব সাব্বিত ক্বালবি ‘আলা দ্বীনিকা” ।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, দুর্ভাগ্য আবারো এই ব্লগে কমেন্ট পাল্টা কমেন্ট শুরু হয়ে গেল। আমার জানা মতেই কেউই যারা বুঝে শুনে দ্বীন মানতে চায় তারা কেউই অন্ধ অনুসরণ করেন না, তথাকথিত আহলে হাদিস (বাস্তবে এরা আহলে নফস) গোষ্ঠী ছাড়া। এরা অন্ধ ভাবে কিছু চিহ্নিত লোকের কথাই শুধু মানে, যেমন আলবানী। আলবানী যদি বলেন, বুখারী শরীফের কোন হাদিস জঈফ, বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিবে। কিন্তু কথা বলার সময় ” আমি হানাফি পরিবারের ছেলে । তবে আমি কারো অন্ধ অনুসরণ করি না । আলেম বা নেতাদের আনুগত্যের জন্য সুরা নিসা/৫৯ এর মূলনীতি অনুসরণ করি । ” এমন কিছু মুখস্থ কথা শুনিয়ে দিবে। মনমত না হলে বাকি যে কারও কোন কথা যে কোন মূল্যে জঈফ বা জাল প্রমাণের চেষ্টা করবে। যদি না পারে তাহলে কোন ভাবে কথার মারপ্যাচ দিয়ে প্রমাণ করবে উনার আকীদা খারাপ যদি উনি সাহাবীও হন। তাই উনার কোন কথাই নেয়া যাবে না। এবং তাদের মনমত না হলে কোন আলেমের প্রতি ন্যুনতম শ্রদ্ধাও তারা দেখায় না। এদের বহু কিতাবে আব্দুল্লহ ইবনে মাসউদ রদিয়াল্লহু আ’নহুর ব্যপারে বহু মিথ্যা শেকায়েত পাবেন। এদের বহু কিতাবে এমন বহু রেয়ায়েত পাবেন যা মূল কিতাবে নেই। যেমোন উপরের পোষ্টে দেখুন

    “১নং হাদীস: قال الشافعي سمعت سفيان بن عيينة يقول سمعت عطاء بن ابي رباح يقول سمعت عبد الله بن عباس يقول اشهد علي رسول الله صلي الله عليه وسلم انه كبر في صلاة العيدين في الاولي سبعا سوي تكبيرة الاحرام وفي الثانية خمسا سوي تكبيرة القيام ـ
    হাদীসটি উল্লেখ করে বলা হয়েছে এ হাদীসের সনদ অধিক ছহীহ এবং রাবীগণ অধিক নির্ভরযোগ্য এবং অধিক প্রতিষ্ঠিত শব্দে বর্ণিত কেননা এ হাদীস সামিতু (আমি নিজে শুনেছি) শব্দ দ্বারা এসেছে। (কিতাবুল উম্ম ১ম খন্ড ২৩৬ পৃ
    তাহকীক: অত্যন্ত দু:খ জনক বিষয় হল এখানে কিতাবুল উম্ম এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ উল্লিখিত সনদের কোন হাদীস কিতাবুল উমে নেই। শুধু তাই নয় ছহীহ হাদীসের যত কিতাব রয়েছে কোন একটি কিতাবে এমন সনদে বর্ণিত হাদীস দেখাতে পারবেন না। কিতাবুল উমের উদ্বৃতি দিয়ে মাওলানা সাহেব সাধারণ মানুষকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিতাবুল উমে ঈদের তাকবীর সংক্রান্ত যে সকল হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তার কোন একটি হাদীস আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত নয়।”

    এবং

    ৪ নং হাদীস ঃ عن عمر بن الخطاب انه صلي العيد فكبر في الاولي سبعاً وفي الثانية خمساً يرفع يديه مع كل تكبير
    ـ البيهقي ص ৩/৪১২
    এখানেও মাওলানা সাহেব ওমর রাযি. এর আমল বয়ান করার ক্ষেত্রে বায়হাকী শরীফের উদ্বৃতি দিয়ে অসত্যের আশ্রয় নিয়েছেন। কারণ এমন হাদীস বায়হাকী শরীফে নেই (বায়হাকী শরীফ, ৫/৬৬-৭০ পৃ. দ্রষ্টব্য)

    এমনি ভাবে এরা বহু বানোয়াট দলীল পেশ করে সধারণ মানুষদের বোকা বানিয়ে সম্মানিত আলেমদের ব্যপারে খারাপ ধারণা তৈরী করে। এটা কাফের, ইসলামের দুশমনদের একটা বড় ষড়যন্ত্র। আলেমদের থেকে আওয়ামদের বিচ্ছিন্ন করা যাতে আওয়ামদের ঈমান হরণ করা সহজ হয়।

    Anonymous

    দু:খিত ভুলে অসমাপ্ত ভাবে পোষ্ট হয়ে গেছে। এইসব আহলে নফসরা নিজেদের নফসের চাহিদা পুরা করার জন্য কখনও একই হাদিসকে জঈফ বলেছে কখনও সহিহ বলেছে। আলবানী এই কাজ বহুবার করেছেন। এব্যপারে মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব উনার আলকাউসার মাসিকে বেশ কয়েক পর্বে লিখেছেন। সম্ভব হলে পুরানো কপিগুলো সংগ্রহ করে পড়বেন। সাধারণত: আহলে নফসরা এটা করে না। তারা তদের গুরু যাদেরকে তারা অন্ধ ভাবে অনুসরণ তাদের কাছে গিয়ে জিগ্গাসা করবে মাওলানা আব্দুল মালেকের (সাহেব শব্দও এরা বলবে না। কারণ এরা নফস পূজারী ছাড়া কাউকে সম্মান করে না) উপর গলদ আকীদার কোন তোহমত দেয়া যায় কিনা। গুরুরাও বিনা বাক্য ব্যয়ে বলবে, সে (উনি বলবে না) দেওবন্দী, দেওবন্দীদের আকীদা ভাল না। তাই এদের কোন কথা পড়াও যাবে না।

    এদের আরেকটি মুখস্থ কথা “মূল কিতাব, মূল উৎসভূমি”। মনে রাখতে হবে কিতাব দ্বীন নয় দ্বীনের সহায়ক। যারা কিতাব লিখেছেন তারাও কিতাব লিখে বসে থাকেন নি, কিতাবের তালীম দিয়েছেন। উনাদের ছাত্ররাও শুধু কিতাবের উপর ভরসা করেননি। বরং কিতাব লেখক, পরবর্তীতে উনার নির্ভরযোগ্য কোন ছাত্র বা অন্য কোন নির্ভরযোগ্য আলীমের কাছে ঐ কিতাব বা অন্যান্য আরো কিতাব পড়েছেন। একই ভাবে উৎসভূমি এটা একটা ভাওতাবাজি। সাধারণ মানুষদের ধোকা দেবার এক অস্ত্র। ইমাম বুখারী রহ’মাতুল্লহ আ’লাইহি যাকে সামনে রেখে আযুহাত বানিয়ে এরা নফসের পূজা করে এবং এদের পরম পূজনীয় আলবানী সাহেব কেউই উৎসভূমির লোক নন।

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, “আমি হানাফি পরিবারের ছেলে” এটা আহলে নফসদের কমন ডায়লগ। ধোকা দেয়ার এক পুরানো মাধ্যম। হানাফি বলতে কোন পরিবারের অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। এদেশে কাউকে হানাফি হিসেবে কখনও পরিচয় দিতেও শুনিনি। এদেশের মানুষ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে। এদেশের উলামা কেরাম কুরআন ও হাদিসের উৎসমূল নিয়ে গবেষণা করেন যাতে নিজেদের ও আওয়ামদের ঈমান আকীদা ও আমাল সহিহ হয়। একশ্রেণীর মানুষ এটা চায় না। এজন্য প্রতিষ্ঠিত মাসায়ালার বিপরীতে কিছু জঈফ হাদিস কে উত্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যেমন উপরের পোষ্টে দেখুন।

    Mujibur Rahman

    @ABU TASNEEM, শুকরিয়া, মুজাফ্ফর বিন মহসিন সাহেবের লেখা বইটির লিংক দেয়ার জন্য। ৬ তাকবিরের কোন হাদিস পেলে দয়া করে জানাবেন।

    আবদুস সবুর

    @Mujibur Rahman,

    মুজিবর রহমান ভাই আপনাকে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তর পেলাম না……………

    এই লিঙ্ক (৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করা হাদীস মোতাবেক সম্পূর্ণ সহীহ) বইটির পি ডি এফ ফাইল পাবেন

    http://allislamicbd.blogspot.com/2012/02/blog-post_27.html

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,
    আপনার সকল প্রশ্নের জবাব এই বইয়ে আছে…………… পড়ুন এবং অনুধাবন করুন।

    http://allislamicbd.blogspot.com/2012/02/blog-post_27.html

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,
    এখানে কিছু স্ক্যান করা কপি আছে।
    দেখতে পারেন…………

    http://www.mediafire.com/imageview.php?quickkey=kggr02auh4iofbx

    Anonymous

    @ABU TASNEEM, অন্ধত্ব কাহাকে বলে! এই লোকগুলোই বড় বড় উলামাদের উপর অন্ধ তাকলীদের তোহমত দিয়ে বেড়ায়। এতগুলো দলীল পেশ করার পরও বলে কিনা “সিহাহ সিত্তায় ১২ বার তাকবীরের এত হাদীস কেন বুঝিনা”? সিহাহ সিত্তা শব্দগুলো কি হাদীস কুরআনে কোথাও আছে? বরং বলা যায় কুতুবে সিত্তা। এই কিতাবগুলি নিঃসন্দেহে শরীয়তের দলীল কিন্তু একথা নয় যে এই কিতাবে থাকলেই অন্ধ ভাবে মেনে নিতে হবে, এই কিতাবের বাইরে আর কিছু নেয়া যাবে না।

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,

    এই লিঙ্ক (৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করা হাদীস মোতাবেক সম্পূর্ণ সহীহ) বইটির পি ডি এফ ফাইল পাবেন

    http://allislamicbd.blogspot.com/2012/02/blog-post_27.html

  3. আপনারা তো আমার দলীল ভিত্তিক কমেন্ট প্রকাশ হতে দেন না । যেমন প্রকাশ হতে দেননি , রাফে ঈয়াদাইন সস্পর্কে আমার পাঁচটি কমেন্ট । তবে একটি বইয়ের লিংকসহ উপরের কমেন্টটি প্রকাশ হতে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ । আমি অন্যান্য পাঠকদেরকেও বইটি পাঠ করে দেখার জন্য অনুরোধ করছি । আর দয়া করে উক্ত বইয়ের লিংক ডিলিট করে দিবেন না । ধন্যবাদ ।

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,
    আপনি বলেছেন,
    আপনারা তো আমার দলীল ভিত্তিক কমেন্ট প্রকাশ হতে দেন না

    আপনারা কারা ???

    আমি প্রকাশ হতে দেইনি ???

    এখানে কিছু স্ক্যান করা কপি আছে।
    দেখতে পারেন…………

    http://www.mediafire.com/imageview.php?quickkey=kggr02auh4iofbx

    আবদুস সবুর

    @ABU TASNEEM,
    আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর পাইনি এবং

    এই লিঙ্ক এ বইটির পি ডি এফ ফাইল পাবেন

    http://allislamicbd.blogspot.com/2012/02/blog-post_27.html

  4. ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি পোস্ট দেয়ার জন্য। আপনার একটু সাহায্য প্রয়োজন, আমার একটি পোস্ট pending দেখাচ্ছে , প্রথম পাতায় দেখাচ্ছে না.

    আবদুস সবুর

    @Tarek000,
    আপনি মডারেটদের সাথে যোগাযোগ করুন।

  5. শুকরিয়া, জাযাকাল্লাহ। (F) (F) (F)

    আবদুস সবুর

    @এম এম নুর হোসেন,
    জাযাকাল্লাহ খাইর………

    এই লিঙ্ক এ বইটির পি ডি এফ ফাইল পাবেন

    http://allislamicbd.blogspot.com/2012/02/blog-post_27.html