লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইমাম আবু হানীফা রহঃ কি কোন কিতাব লিখে যান নি?

লিখেছেন: ' আবদুস সবুর' @ বুধবার, মে ৯, ২০১২ (১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ)

প্রশ্ন:

খান প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ডাঃ জাকির নায়েক ও আমরা নামক আহলে হাদিসদের একটা বইতে দাবী করা হয়েছে যে, হযরত ইমাম আবু হানিফা (র) কোন কিতাব লিখে যাননি। বরং তিনি তার লোকদেরকে মাসলা-মাসায়িল মুখে মুখে শিক্ষা দিতেন। এই কথা সত্য কি না?

জবাব :

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রথমেই ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর ইলমী মাকাম সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারণা থাকলে এ উদ্ভট প্রশ্নটির উত্তরটি সহজ হয়ে যাবে।
১-
قال شيخ الإسلام يزيد بن هارون-كان ابو حنيفة نقيا تقيا زاهدا عابدا عالما صدوق اللسان احفظ اهل زمانه، (مناقب ابى حنيفة لمحمد ضميرى)
শাইখুল ইসলাম ইয়াযিদ বিন হারুন বলেন-ইমাম আবু হানীফা রহঃ অত্যন্ত মুত্তাকী, পবিত্র সাধক, ইবাদত গুজার, আলিম, সত্যভাষী, এবং সমসাময়িক সকলের চেয়ে হাদীসের বড় হাফেজ ছিলেন। {মানাকেবে ইমাম আবু হানীফা রহঃ মুহাম্মদ জমিরী রচিত}

২-
قال الحفظ ابو نغيم الإسفحانى عن يحيى بن يصر بن حجر- دخلت على ابى حنيفة رح فى بيت مملوكتها، فقلت- ما هذه؟ قال هذه احاديث كلها، وما حدثت به الا اليسير الذى منتفغ به- (الخيرات الحسان-211 بحوالة مناقب ابى حنيفة للمرقف المكى-85)
হাফেজ আবু নুয়াইম ইসফাহানী রহঃ ইয়াহইয়া বিন নাসর বিন হাজার এর সূত্রে বর্ণনা করেন-আমি কিতাবে ভরপুর একটি গৃহে ইমাম আবু হানীফা রহ এর নিকট প্রবেশ করলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম এ কিতাবগুলো কিসের? উত্তরে তিনি বললেন-এ সবই হাদীসের কিতাব। এর সামান্য কিছুই আমি বর্ণনা করেছি। যার থেকে যথেষ্ট পরিমাণে উপকৃত হওয়া যায়। {আল খাইরাতুল হিসান-২১১}

৩-
قال يحيى بن نصر سمعت ابا حنيفة رح يقول- عندى صناديق من الحديث ما اخرجت منها الا اليسير الذى ينتقع به- (عقود الجواهر المنيفة-1/23، مناقب ابى حنيفة للمرفق المكى-85)
ইয়াহইয়া বিন নাসর রহৎ বলেন-আমি ইমাম আবু হানীফা রহঃ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন- আমার নিকট হাদীসের সিন্দুক আছে। আমি তা থেকে উপকারজনক অল্প কিছুই প্রকাশ করেছি। {উকুদুল জাওয়াহিরুল মুনীফাহ-১/২৩}

মুহাদ্দিসীনে কিরামের এরকম অসংখ্য বর্ণনা প্রমাণ করে ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর কাছে হাদীসের এক বিশাল ভান্ডার ছিল। তিনি সেসব হাদীসের আলোকেই ফাতওয়া প্রদান করতেন। আর তার ছাত্ররা তা লিপিবদ্ধ করতো। তারপর তাকে পরে দেখিয়ে ভুলত্রুটি শুধরে নিতেন।
হাদীসের ভান্ডার থাকা ব্যক্তিত্ব কোন কিতাব সংকলন করেন নি। পৃথিবী বিখ্যাত এমন ফক্বীহের কোন লিখিত কিতাব নেই এমন দাবী করাটা আহমকী ছাড়া কিছু নয়।
মৌলিকভাবে তার রচিত কিতাবকে দুইভাবে ভাগ করা যায়। তথা-
১- তার সহস্তে সংকলিত কিতাব।
২-ছাত্রদের দ্বারা লিখিত কিতাব। অর্থাৎ তিনি বলতেন আর তার ছাত্ররা তা লিপিবদ্ধ করতেন। যেহেতু তার কথাই ছাত্ররা লিখতেন, তাই সেসব কিতাবও তার লিপিবদ্ধ করাই বলা যায় নির্ধিদ্ধায়।

স্বহস্তে লিখা কিতাব

১-কিতাবুল আসার
قال الحسن بن زياد قد انتخب ابو حنيفة “كتاب الأثار” من اربعين ألف حديث، (الخيرات الحسان-211 بحوالة مناقب ابى حنيفة للمرقى-84)
হাসান বিন যিয়াদ রহঃ বলেন-ইমাম আবু হানীফা রহঃ চল্লিশ হাজার হাদীস থেকে বাছাই করে “কিতাবুল আসার” নামক গ্রন্থটি সংকলন করেন। {আল খাইরাতুল হিসান-২১১}

قال الشيخ ابو الوفا اول كتاب ألف فى الحديث النبوى واثاره مرتبا على الأبواب كتاب الأثار للامام الأعظم- (علم المسلمين-5/291)
শায়েখ আবুল ওয়াফা রহঃ বলেন-রাসূল সাঃ এর হাদীস ও আসারে সাহাবাকে বিভিন্ন অধ্যায়ে সুবিন্যস্ত করে সর্ব প্রথম কিতাব হল ইমাম আযম রহঃ রচিত “কিতাবুল আসার”। {ইলমুল মুসলিমীন-৫/২৯১}

২-মুসনাদে ইমাম আবু হানীফা রহঃ।

এ কিতাবটি বর্তমানে পৃথিবী বিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রহঃ এর তাহকীক সহ বর্তমানে পাওয়া যায়।

৩-আল ফিক্বহুল আকবার

এ গ্রন্থটিও মোল্লা আলী ক্বারী রহঃ এর ব্যাখ্যাসহ মার্কেটে পাওয়া যায়।

এছাড়াও তার রচিত গ্রন্থাবলী হল-

৪-রিসালাতু আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম।
৫-রিসালাতু ইলা উসমান আল বাত্তী।
৬-কিতাবু আর রাদ্দু আলাল ক্বাদরিয়া
৭-আল ইলমু শারকান ও গারবান ওয়া বাদান ওয়া কারবান।

এছাড়াও আরো অনেক গ্রন্থের নাম ওলামাদের বক্তব্যে এসেছে। এছাড়াও ইমাম আযম রহঃ এর লিখা আরো গ্রন্থ ছিল ফিক্বহের উপর। কিন্তু মূলত তাতারী বর্বরতা “বায়তুল হিকমাহ” রাজকীয় গ্রন্থাগার ও বাগদাদ নগরী ধ্বংসের সময় এ অমূল্য কিতাবসমূহরে পান্ডুলিপি দুর্লভ ও বিরল হয়ে পড়ে।

ছাত্রদের দ্বারা লিখিত কিতাব

ইমাম বুখারী যেমন তার সংকলিত বুখারী শরীফের পান্ডুলিপি লিখিয়েছেন তার ছাত্র মুহাম্মদ বিন ইউসুফ ফারাবরী রহঃ এর দ্বারা। তারপর থেকে বর্তমানে পাওয়া বুখারী শরীফ মূলত মুহাম্মদ বিন ইউসুফ ফারাবরী রহঃ এর লিখিত বুখারী শরীফের নাম। অথচ কিতাব বলা হয় ইমাম বুখারী রহঃ এরই। কারণ এর মূল সংগ্রাহক হলেন ইমাম বুখারী রহঃ। যদিও লিখেছেন তার ছাত্র ফারবরী। তারপরও তা ইমাম বুখারী রহঃ এর নামেই পরিচিতি পেয়েছে। অধিকাংশ মানুষ লিপিবদ্ধকারী ফারাবরী রহঃ এর নামই জানে না।

তেমনি ইমাম আবু হানীফা রঃ এর বলা ও উদ্ভাবন করা মাসআলাই তার ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ, ইমাম হাসান বিন যিয়াদ রহঃ, ইমাম কারখী রহঃ, তাদের কিতাবে সংকলিত করেছেন। তাই তাদের রচিত কিতাব মূলত ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর লিখিত কিতাবই।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা
ইমেইল-jamiatulasad@gmail.com
lutforfarazi@yahoo.com

এখান থেকে নেয়া – http://jamiatulasad.com/?p=1063

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৬১ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. আহলে হদসদের কথা বলে আর লাভ নেই, বর্তমানে এরাই সবচেয়ে বড় ফেতনা।

  2. শুকরিয়া ,জাযাকাল্লাহ। ওদের কাজ হল মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।আলেম ওলামাদের দায়িত্ব হল মানুষওক সহেতন করা। শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। (F) (F) (F)

  3. শুকরিয়া ,জাযাকাল্লাহ। ওদের কাজ হল মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।আলেম ওলামাদের দায়িত্ব হল মানুষওক সহেতন করা। শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।