লগইন রেজিস্ট্রেশন

কেমন ছিলেন হযরত অালী (রাঃ)?

লিখেছেন: ' বাগেরহাট' @ শনিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০০৯ (১২:২৯ অপরাহ্ণ)

“বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।”

নবী (সঃ) এর পর ইসলামের ইতিহাসে যে সকল মহান ব্যক্তিত্ব বিগত
হয়েছেন তাঁদের এমন কোন “চরিত্র বিবরন” কমই বর্ণিত হয়েছে যাতে তাঁদের চিন্তা ও অনুভূতি, মনোভাব ও প্রবনতা এবং স্বভাব-প্রকৃতি ও যোগ্যতার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে, যেমনটি আমরা পাই হযরত আলী (রাঃ)
এর সাথী যিরার ইবন যামুরাহ প্রদত্ত বিবরণে।

“হযরত অবু সালেহ বলেন , মু”আবিয়া (রাঃ) একবার যিরার ইবন
যামুরাহ (রাঃ) কে বলেন , আমাকে আলীর বিবরণ শোনাও।তিনি বললেন, আমাকে কি এ বিষয়ে অব্যাহতি দিতে পারেন? মু”আবিয়া (রাঃ) বললেন, না বরং তাঁর বিবরণ শোনাও । তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে কি এ বিষয়ে অব্যাহতি দিতে পারেন? মু”আবিয়া (রাঃ) বললেন, না তোমার অব্যাহতি নেই। তখন তিনি বললেন তাই যদি হয় তবে শুনুন, আল্লাহর শপথ! তিনি ছিলেন বহুমুখী শক্তির বিশাল ব্যক্তিত্বের এক মানুষ। অকাট্য কথা বলতেন ,ন্যায়ানুগ বিচার করতেন । জ্ঞান ও প্রজ্ঞা যেন তাঁর থেকে শতধারায় উৎসারিত হতো। দুরিয়া ও তার চাকচিক্যের প্রতি অপরিচয় -ভীতি বোধ করতেন এবং রাতের অন্ধকারের নির্জনতার প্রতি অন্তরঙ্গতা বোধ করতেন। আল্লাহর শপথ! সদা অশ্রুবর্ষণ ও চিন্তামগ্নতা ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য। হত নেড়ে অনুতাপ করতেন এবং আত্মতিরষ্কার করতেন। মোটা কাপড় ও মোটা খাবার ছিল তাঁর প্রিয়।

আল্লাহর শপথ! তিনি আমাদেরই মতো সাধারন একজন মানুষ ছিলেন।
প্রশ্ন করলে অম্লানভাবে তার জবাব দিতেন। তাঁর কাছে গেলে নিজে থেকে আমাদের সাথে কথা বলতেন। আমরা দাওয়াত দিলে আমাদের কাছে যেতেন। আল্লাহর শপথ! যদিও তিনি আমাদেরকে সান্নিধ্য দান করতেন এবং আমাদের সান্নিধ্য গ্রহন করতেন তবুও সমীহের কারনে আমরা
আগে বেড়ে তাঁর সাথে কথা বলতে পারতাম না। কখোনা মুচকি হাসলে পরিপাটি মুক্তা যেন প্রকাশ পেত। দ্বীনদারদের ইজ্জত করতেন এবং মিসকীনদের ভালোবাসতেন। সবলকে তাঁর অন্যায় কর্মে প্রশ্রয় দিতেন না এবং দুর্বলকে ন্যায় বিচার থেকে হতাশ করতেন না।

আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, কোন কোন অবস্হায় তাকে আমি দেখেছি, রাত তখন অন্ধকারের পর্দা টেনে দিয়েছিলো এবং তারার প্রদীপ নিভে গিয়েছিলো, তখন তিনি দাড়িয়ে হাত রেখে মেহরাবে দাড়িয়ে আছেন , আর মুমূর্ষ আহত ব্যক্তির মত ছটফট করছেন এবং দুঃখী মানুষের মত অঝোরে কেঁদে চলেছেন। এখোনো যেন আমি শুনতে পাই তাঁর সেই ব্যাকুল রোনাযারী । তিনি বলেছিলেন হায়রে দুনিয়া , আমার পিছু নিয়ছো তুমি।
আমাকে ভোলাতে এমন সাজ সেজেছো তুমি! দূর হও, দূর হও, ধোকা দিতে হলে অন্যত্র যাও। আমি তোমাকে তিন তালাক দিয়ছি। সুতরাং তোমাকে আমি আর ঘরে তুলছি না। কেননা তোমার জীবন ক্ষণস্হায়ী।
আরাম আয়েশ তুচ্ছ অথচ বিপদ ভয়ংকর। হায়, সফরতো বহু দূরের, পথওঅচেনা অথচ পাথেয় কত সামান্য!”

বর্ণনাকারী আবু সালেহ বলেন , তখন মু”আবিয়া (রাঃ) এর চোখ যেন
অশ্রুর বাধ ভাঙ্গা ঢল নামলো এবং দাড়ি ভেসে গেল। উপস্হিত লোকেরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। মু”আবিয়া (রাঃ) তখন বললেন, আবূল হাসানকে আল্লাহ রহম করুন।আল্লাহর শপথ! এমনই ছিলেন তিনি। আচ্ছা যিরার তাঁর মৃত্যুতে তোমার শোক কেমন? তিনি বললেন, কোলের সন্তানকে জবাই করা হয়েছে যে মায়ের , তার মত শোক। তাঁর দুঃখের আহাজারি কি থামতে পারে? তার চোখের পানি কি শুকাতে পারে?

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৩৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৪ টি মন্তব্য

  1. প্রথমত স্বাগতম।
    ধন্যবাদ। অনেক কিছু শিখতে পারলাম।

    কিন্তু ভাই এই লিখাটি কোথায় পেয়েছেন তার সুত্র উল্লেখ করলে ভালো হতো। পারলে সুত্র উল্লেখ করে দিয়েন। (F)

    bagerhat

    @দ্য মুসলিম,
    ধন্যবাদ।
    মূল লেখাটি পাবেন, সাফোয়াতুস সাফোয়া,পৃঃ১২১-১২২।
    এছাড়া দেখতে পারেন হযরত অালী (রাঃ),
    জীবন ো খিলাফত।
    ইসলামিক ফাউন্ডেশন,পৃঃ২১১

  2. স্বাগতম ইসলামী ব্লগে………………….

    ভালই লাগল আপনার লেখা। রেফারেন্স দিতে ভুলবেন না আশা করি।

    bagerhat

    @mamun,
    ধন্যবাদ।
    পরবরতীতে রেফারেন্স দিতে ভুল হবে না।