লগইন রেজিস্ট্রেশন

যুদ্ধের ময়দানে অমুসলিমদের সাথে মুসলিমদের ব্যবহার

লিখেছেন: ' বাগেরহাট' @ শনিবার, জানুয়ারি ২, ২০১০ (১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ)

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’

যুদ্ধের এক ময়দান । কাফিরদের সাথে মুসলিমদের ভীষন যুদ্ধ চলছে।
হযরত আলী (রাঃ) জনৈক বিপুল বলশালী শত্রুর সাথে যুদ্ধে মত্ত রয়েছে। বহুক্ষন যুদ্ধ চলার পর তাকে কাবু করেন ভূপাতিত করলেন এবং তাকে আঘাত হানার জন্য তার জুলফিকার উত্তোলন করলেন । কিন্তু আঘাত হানার আগেই ভূপাতিত শত্রুটি হযরত আলী (রাঃ) এর চেহারা মুবারকে থুথু নিক্ষেপ করলো। ক্রোধে হযরত আলী (রাঃ) এর চেহরা রক্তবর্ণ হয়ে উঠলো। মনে হলো এই বুঝি তাঁর তরবারি শত্গুন বেশী শক্তি নিয়ে শত্রুকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে।কিন্তু তা হলো না। যে তরবারি আঘাত হানারজন্য উর্ধে উত্তোলিত হয়েছিল এবং যা বিদ্যুত গতিতে শত্রুর দেহ লক্ষ্যে ছুটে যাচ্ছিল, তা থেমে গেল। শুধু থেমে গেল নয়, ধীরে ধীরে নীচে নেমে এল। পানি যেমন আগুনকে শীতল করে দেয় , তেমনিভাবে আলী (রাঃ) এর ক্রোধে লাল হয়ে যাওয়া মুখমন্ডলও শান্ত হয়ে পড়লো।

হযরত আলী (রাঃ) এর এই আচরনে শত্রুটি বিষ্ময় বিমূঢ়। যে তরবারি এসে তার দেহকে খন্ড-বিখন্ড করে ফেলার কথা, তা আবার কোষবদ্ধ হলো কোন কারনে? বিষ্ময়ের ঘোরে শত্রুর মুখ থেকে কিছুক্ষন কথা সরল না।এমন ঘটনা সে দেখেনি,শোনেও নি কোন দিন।ধীরে ধীরে শত্রুটি মুখ খুলল। বলল,” আমার মতো মহাশত্রুকে তরবারির নীচে পেয়েও তরবারি কোষবদ্ধ কেন করলেন?”

হযরত আলী (রাঃ) বললেন,” আমরা নিজের জন্য কিংবা নিজের কোন খেয়াল খুশী চরিতার্থের জন্য যুদ্ধ করিনা। আমরা আল্লাহর পথে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য যুদ্ধ করি। কিন্তু আপনি যখন আমার মুখে থুথু নিক্ষেপ
করলেন তখন প্রতিশোধ গ্রহনের ক্রোধ আমার কাছে বড় হয়ে উঠলো। এ
অবস্থায় আপনাকে হত্যা করলে সেটা আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য হতোনা। বরং তা আমার প্রতিশোধ গ্রহন হতো। আমি আমার জন্য হত্যা করতে চাইনি বলেই উত্তালিত তরবারি ফিরিয়ে নিয়েছি। ব্যক্তি স্বার্থ এসে আমাকে জিহাদের পূণ্য থেকে বঞ্চিত করুক , তা আমি চাইনি।”

শত্রুটি ভূমি শয্যা থেকে উঠে দাড়িয়ে সাথে সাথে তওবাহ করে ইসলাম
কবুল করল। এমন অদম্য অতুল্য বীরের ক্ষুদ্ধ হৃদয়েও এত বেশী ক্ষমা এবং
স্বস্তিগুণ বিদ্যমান থাকে, এত বড় যোদ্ধা চরম মুহুর্তেও এমন ভীষন শত্রুকে
এতটুকু কর্তব্য বোধে ছেড়ে দিতে পারেন, এত বড় জিতেন্দ্রীয়, এত বড় ক্ষমাশীলের ইতিহাস আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি- একথা শত্রু অকুন্ঠ চিত্তে স্বীকার করে নিল।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৩৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. খুব ভাল লাগলো । রেফারেন্স দিলে আরো ভাল হত । রেফারেন্স সহ দিয়েন প্লিজ ।