লগইন রেজিস্ট্রেশন

হাদীসের ইমামগণ তাকলীদ করতেন না কেন?

লিখেছেন: ' বাগেরহাট' @ শনিবার, এপ্রিল ৩, ২০১০ (৩:৩২ অপরাহ্ণ)

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’
গত কয়েকদিন ধরে যে বিষয়টি পিস ইন ইসলামে পড়ছি সেটা হলো তাকলিদ।
আসলেই কী তাকলীদ করেতই হবে । আর আমরা যারা সাধারনরা আমাদের অবস্থানই বা কোথায় ?
আসুন দেখি তাকলিদ মানে কী এবং ইমামদের অবস্থান এ ব্যাপারে কী ?
তাকলীদের শব্দগত মানে হলো ‘জানোয়ারের গলায় রশি বাধার পর তাকে রশি ধরে টানা এবং রশির টানে টানে চলা ।’(আল মুনজিদ ৬৪৯পৃ,মিসবাহ ৭০২) । শরীয়াতের পরিভাষায় তাকলিদ হল-’বিনা দলীলে কারো কথার উপর চলা।’ (মুসাল্লামুস-সুবুত ৬২৪পৃ,নল কিশোরী)
‘দলীল ব্যতীত কারো কথা গ্রহন করাকে বলা হয় তাকলীদ।” (শরহে কাসী দায়ে আমালি -মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী ৩৪পৃ ইউসুফী প্রেস,দিল্লী )

শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী বলেন, “একমাত্র রসুল (সঃ) ছাড়া আর কারো কথা বিনা দলীলে মানা যাবে না ; (কারন রসুল সঃ নিজেই দলীল) এ ব্যাপারে কোন মত বিরোধ মুসলমান এবং মুজতাহিদ আলেমের মধ্যে কোন কালেই ছিল না।” হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা ১ম ১৫২-১৫৩ পৃ, রশিদীয়াহ দিল্লী) ।
শাহ সাহেব আরো বলেন, “তাকলীদ করার মানে হলো সহাবা, তাবেয়িন,তাবে তাবেয়িন অথবা গোটা মুসলিম উম্মার বিরুদ্ধচারন করে অমুসলিমদের পথ অনুসরন করা।” হুজ্জাত ১৫৫। এছাড়া তিনি আরো বলেন,” সহাবা ,তাবেয়ি,তাবে তাবেয়িন তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলেই একমত ছিলেন যে, কোন মানুষ কোন মানুষের তাকলীদ করতে পারে না। তাই তারা কঠোরভাবে তাকলীদ করতে নিষেধ করেছেন। ” হুজ্জাত ১৫৪পৃঃ । হাদীসের ইমামগণ এজন্য তাকলীদ করেন নাই যে, তারা গোটা উম্মতের বিরুদ্ধচারন করে অমুসলিমদের পথ ধরতে চান নাই ।” ঐ-১৫৫ পৃঃ ।
ইমাম আবু হানীফা (রঃ) বার বার বলেছেন, “আমি কোন দলীলে কথা বলেছি, সেই দলীল না জেনে আমার ফতোয়া মুতাবিক যদি কেউ ফতোয়া দেয় তাহলে তা হবে হারাম ।” (মিযান-শারানী ১ম ৫১পৃঃ ।) তিনি আরো বলতেন , “হে আমার ছাত্র এবং ভক্তগণ ! তোমরা মানুষের ইজমা বা সম্মিলিত মতামত কখনো মানবেনা বরং তা থেকে সর্বোতভাবে দূরে থাকবে।” ( মিযান-শারানী ১ম ৫২ পৃঃ)। ” তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে কারো কিয়াস মানবে না, তোমরা অবশ্যই হাদীস মেনে চলবে । যারা হাদীস বর্জন করে অন্য কিছু মানবে তারা ভ্রষ্ট হবে।” ঐ-৫১পৃঃ । ” তোমরা অবশ্যই মানুষের মতামত বর্জন করে চলবে এবং আহলে হাদীসদের পথের অনুসরন করে চলেব ।” ঐ-৫৩ পৃঃ।

ইমাম আহমদ (রঃ) বলেন,” তুমি আমার অন্ধ অনুসরন করো না এবং ইমাম মালিক, শাফেয়ী,আোযায়ী এবং ছাোরী প্রমুখের অন্ধ অনুসরন করোনা বরং তাঁরা যেখান থেকে গ্রহন করেছেন তুমিো সেখান হতে গ্রহন করো ।” ( ইমাম ইবনুল কাইয়ূম-ই’লামুল মু’আককিঈন-২/৩০২ পৃঃ) ।
ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বলেন, আমি যেসব ফতোয়া দিয়েছি এর বিপরীত নাবী (সঃ) হতে সহীহ হাদীস প্রমানিত হলে নাবী (সঃ) এর হাদীসই গ্রহনযোগ্য এবং প্রাধান্য পাবে, অতএব আমার কোন অন্ধানুকরন করো না ।” ( ইবনু আবি হাতিম-আদাবুশশাফেয়ী-৯৩ পৃঃ) ।
ইমাম মালিক (রঃ) বলেন, আমি একজন মানুষ মাত্র । চিন্তা গবেষনায় ভুল ো হয় আবার সঠিক ো হয়। সুতরাং তোমার আমার অভিমত পরীক্ষা করে দেখ, আমার যে অভিমত কুরআন এবং সুন্নাহর অনুকূলে পাো তা গ্রহন করো ।আর যেঅভিমত কুরআন এবং সুন্নার অনুকূলে নেই তা প্রত্যাখান করো ।” ( ইবনু আব্দিল বার-আল জামি-২/৩২পৃঃ) ।

আমরা যারা মাযহাবের অনুসরন করি, তারা যদি আমরা স্ব-স্ব ইমামের কথাগুলোকে সঠিকভাবে মেনে চলতাম ,তাহলে আমাদের মধ্যে এত পার্থক্য থাকত না । আমি মনে করি প্রত্যেক মাযহাবের গোড়া অনুসারীরাই এর জন্য মূখ্যভাবে দায়ী । মহান আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন । আমীন ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৫১৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৭ টি মন্তব্য

  1. (F)

    আমাদের সমস্যা হচ্ছে: বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার!

    বাগেরহাট

    @মুসলিম৫৫,
    অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ।
    আমি কী এটুকু আপনার কাছ থেকে আশা করতে পারি যে, মাঝে মাঝে আপনি আমার ই-মেইলেও আপনার লেখা পাঠাবেন।
    bunan2005@yahoo.com

  2. প্রশ্নঃ
    বাংলাদেশে যারা আরবীর অর্থ জানেন না, শুধু অক্ষর পড়তে জানেন, তারা কিভাবে তাকলীদ না করে চলবে? যারা অন্ধ, তারা কিভাবে পথ চিনবে? আর সব মাযহাবের কাছেই দলীল আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দুটো বিপরীত দলীল হলেও দেখা যায় যে দুটোই ঠিক, সুতরাং আপনি কিভাবে নির্ধারন করবেন যে কোনটার অনুসরন করতে হবে ?

    বাগেরহাট

    @তামীম,
    ধন্যবাদ আপনাকে ।
    যারা আরবীর অর্থ জানেনা বা যারা অন্ধ তাদের কথায় না হয় একটু পরে আলোচনা করি ।যারা এ দুটোর কোনটাই নয় তাদেরে জন্য কী তাহলে তাকলীদের দরকার নেই, আপনি কী তাই বুঝাতে চাচ্ছেন ? আপনি যে মাযহাবের পক্ষের দলীল আছে বললেন,তা আপনি পেয়েছেন নিশ্চয়ই কারো কাছে জিজ্ঞেসা করে যে মাযহাবের কোন দলীল আছে কীনা? দলীল কী বা দলীল আছে কীনা এধরনের কোন প্রশ্নই তাকলীদ আপনাকে করতে অনুমতি দেবে না ,কারন দলীল জিজ্ঞাসা না করাই হলো তাকলীদ ।
    ভালো হতো , আপনি যদি তাকলিদের কোন একটা সংজ্ঞা দিতেন ।
    চাইলে আরো আলোচনা করা যেতে পারে ।
    আসসালামু’আলাইকুম ।

  3. হাদীসের ইমামগণ তাকলীদ করতেন না কেন?
    যারা নিজেরাই ডাক্তারি জ্ঞান রাখেন, তাদের আরেক ডাক্তারের কাছে না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করার পিছনে কি উদ্দেশ্য আছে বুঝতে পারলাম না!

    বাগেরহাট

    @তামীম,
    ধন্যবাদ আপনাকে ।
    আপনি চাইলে এ নিয়ে আরো একটু মতবিনিময় করা যাবে , ইনশাআল্লাহ ।
    তো আপনার কাছে আপাতত একটা প্রশ্ন করছি । ধরুন আপনি একজন ডাক্তার ( ডেন্টিষ্ট) , আর আপনার শরীরে ক্যান্সার রোগ ধরা পড়েছে । আপনি এখন কী করবেন? আপনার ভাষ্যমতে আপনার ডাক্তারী জ্ঞান আছে , তাহলে কী একজন ডেন্টিষ্ট হয়ে আপনি কী ক্যান্সার রোগেরও চিকিৎসা শুরু করে দিবেন ? নাকি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?
    জবাব দেবেন আশা করি ।
    আসসালামু’আলাইকুম ।