লগইন রেজিস্ট্রেশন

মাযহাবের সকল ফাতাওয়ারই তাকলীদ করা কী আসেলই সম্ভব?

লিখেছেন: ' বাগেরহাট' @ মঙ্গলবার, মে ১১, ২০১০ (১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ)

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ”

শরীয়াতের পরিভাষায় তাকলিদ মানে অন্ধানুসরন । আসলেই কি তা সম্ভব? আমার বিশ্বাস সকল ক্ষেত্রে সম্ভব নয় ।
নীচে কয়েকটি ফাতাওয়া আপনাদের সকলের শেয়ার করার জন্য দিলাম ।
১) রসুল (সঃ) বলেছেন, ” যদি ইদুর পড়া ঘি পানির মত তরল হয় তাহলে তোমরা তার নিকটেও যেওনা ।”
কিন্তু মাযহাব মতে, ” দুধ,মধু ,ঘি,আঙ্গুরের রস এবং তেলে ঐ জাতীয় প্রাণী পড়ে গেলে তাকে আগুনে গরম করতে হবে এবং তিনবার উতলে উঠলেই সেগুলো পাক হয়ে যাবে ।” (দুররে মুখতার ১ম খঃ ২৪৫ পৃ)
২) শরীরের কোন স্থানে অপবিত্রতা স্পর্শ করলে, পেশাব, পায়খানা ,বীর্য লেগে গেলে পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করলেই তা পবিত্র হয়ে যায় । হাদিসের ফায়সালা এটাই ।
কিন্তু মাযহাব মতে , ” হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি এবং ( মেয়ে লোকের ) স্তন অপবিত্র হয়ে গেলে তিনবার জিহ্বা দিয়ে চাটলেই তা পাক ও পবিত্র হয়ে যায় ।” (দুররে মুখতার ১ম খঃ ২২৬ পৃঃ দারুল কুতুব মিশর মূদ্রন)
৩)রসুল (সঃ) বলেছেন , “রমাযান মাসে নিজ স্ত্রীর সাথে দিবাভাগে সঙ্গম করলে তাকে একটা গোলাম আযাদ অথবা একাদিক্রমে দুমাসের রোজা অথবা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ায়ে কাফফারা দিতে হবে ।” বুখারী , মুসলিম ।
কিন্তু মাযহাব মতে , “মৃত মহিলার সাথে রোজার দিনে সঙ্গম করলে যদি বীর্যপাত হয় তাহলে তার রোজার শোধ দিতে হবে কিন্তু কাফফারা দিতে হবে না ।” দূররে মুখতার ২য় খঃ ১১৩পৃ, ঐ ”
“অল্প বয়ষ্কা মেয়ের সাথে ধর্ষন করলে যদি বীর্যপাত হয় তাহলে রোজার শোধ দিতে হবে কাফফারা দিতে হবে না ।” ঐ ।
“চতুষ্পদ পশুর সাথে ধর্ষন করলে যদি বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজার শোধ দিতে হবে কিন্তু কাফফারা দিতে হবে না ।” ঐ ।
” কিন্তু রোজার দিনে যদি উক্ত পাপকাজগুলো করার সময় বীর্যপাত না হয় , তাহলে রোজাও নষ্ট হবেনা এবং কাফফারাও দিতে হবে না।” ঐ
আমি ইসলামের কোন স্কলার নই । তাই সহজে যে বিষয়গুলো মানতে কষ্ট হয় সেগুলোই সাধারনত তুলে ধরি । নিজের বোঝার সীমাবদ্ধতা অবশ্যই স্বীকার করি, তাই ব্যাখ্যা নিস্প্রয়োজন ।
এ প্রসঙ্গে শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রঃ) এর একটা উক্তি দিয়েই শেষ করব ইনশাআল্লাহ ।
তিনি বলেছেন ,” আমি তাদের অনেকের ধারনা জানি , তারা মনে করেন যে, ফিকাহর বড় বড় পুস্তকগুলোতে কেবলমাত্র ইমাম আবু হানিফা (রঃ) ও তাঁর শিষ্যদের মতামতই আছে। অথচ একথাটা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা । বাস্তবে সমস্ত মাসআলাগুলো ওদেরা নয় ।”
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা ১ম খঃ ১২৮ পৃঃ ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩,৩০৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ২.৫৭)

৯১ টি মন্তব্য

  1. @বাগেরহাট ভাই,

    এই সমস্যাটা আজকাল অনেক সময়ই দেখা যায় । কোনো একটি হাদিস গ্রন্হ পড়ে একটি হাদিস দেখা যায় যেটা প্রচলিত “মাজহাবের” আমলের বিপরীত । সাথে সাথে তারা সিদ্ধান্ত আসে “সহীহ হাদিসের ওপর আমল করতে হবে , মাজহাবের এই আমল যেহেতু সহীহ হাদিসের বিপরীত তাই এটা অনুসরন করা যাবে না” । নীচের প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবুন :

    ১) আপনি কি ১০০% নিশ্চিত যে মাজহাবের এই আমলের দলীল সাপেক্ষে অন্য কোনো সহীহ হাদিস নেই ?
    ২) আপনার কাছে কি এই নির্দিষ্ট আমল সংক্রান্ত পৃথিবীর সমস্ত হাদিস কালেকশনে আছে , যার ভিত্তিতে আপনি বলতে পারেন মাজহাবের এই আমলের সাপোর্টিং কোনো সহীহ হাদিস নেই ?
    ৩) আপনি কি নিশ্চিত মাজহাবের এই আমলের সাপোর্টিং হিসেবে সাহাবীদের কোনো আমলে নেই ?
    ৪) আপনি যে হাদিসকে সহীহ বলছেন সেটা পরবর্তিকালে “রহিত/মনসুখ” হয়নি এ বিষয়ে কি আপনি নিশ্চিত ?

    উপরের প্রশ্নগুলো নিজেকে করুন , তাহলে আপনা-আপনিই এর সমাধান পেয়ে যাবেন । এমন অনেক পরিস্হিতি হতে পারে যেগুলোর সমাধান এত সহজে করা যায় না ।

    ABU TASNEEM

    @হাফিজ , এই সমস্ত প্রশ্ন করেই অন্ধ মাযহাবীদের কাবু করে রাখে । কারণ আহাম্মক অন্ধ মাযহাবীরা কখনই ১০০% নিশ্চিত ভাবে বলতে যাবে না যে , এর পক্ষে কোন সহীহ হাদীস নেই । আপনার জেনে রাখা দরকার যে সহীহ হাদীসের মাঝে কোন বিরোধ নেই । বিরোধ সৃষ্টি করেছে মাযহাবীরা । আর তা থেকে উত্তোরণের একমাত্র পথ হচ্ছে কুরআন এবং সহীহ হাদীস মেনে নেয়া । সুরা নিসা ৫৯ । আর এজন্য পৃথিবীর সমস্ত হাদীস কালেকশনে থাকার দরকার হয়না ।

  2. সহীহ হাদিস সরাসরি অনুসরন করতে গেলে কি কি সমস্যায় পড়তে পারেন সেটা নীচের লিংকে দেখুন :

    http://www.peaceinislam.com/hafiz/5617/

    বাগেরহাট

    @হাফিজ,
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এজন্য যে হাদিসের ব্যাখ্যা হাদিস দ্বারা দিয়েছেন ।এ ব্যাখ্যা কী আপনার নিজের নাকী কোন মুজতাহিদ আলেমের?
    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ হাদিস যে সহীহ সে বিষয়ে কী আপনি নিশ্চিত? আর এ হাদিসগুলো যে উক্ত হাদিস গ্রন্থগুলোতে আছে তারই বা কোন প্রমান আছে?

  3. একটা কথা বলে রাখি। আমাদের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে কিন্তু ছিয়া ছিত্তার সকল কিতাবই পড়ানো হয়। আমাদের আহলে হাদিস (তথা কথিত) ভাইয়েরা অনেকেই মানে হয় এই সত্য কথাটা জানেনা। এরপরও ঐসব আলীমরা কেন তাদের নিজ নিজ মাযহাবের উপর আমাল করেন? এই প্রশ্ন আমার আগে প্রায়ই জাগতো। আসলে তারা তাদের মাযহাবের পক্ষে প্রচুর সহিহ হাদিস পেয়েছেন বলেই তারা তাদের মাযহাবের আস্থা রাখতে পেরেছেন। আমরা জানি কম বলেই দু একটি হাদিস দেখেই আমাদের সন্দেহ ও অবিশ্বাস জন্মে যায়। রসুলুল্লহর নামায (আলবানী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি লিখিত) বইতে প্রচুর সহিহ হাদিস থেকে রেফারেন্স দিয়েছেন। তাতে আমারও মনে হয়েছিল হানাফী মাযহাবের নামাযের দলীলগুলো কি কি? পরবর্তীতে মাদীনা ইউনিভারসিটিরই অন্য একজন হাদীস বিশারদ শায়খ ইলিয়াস উনার নবীজীর নামায কিতাবে সহিহ হাদিস থেকে আমাদের নামাযের রেফারেন্স গুলো দিয়েছেন। আমি অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় সবই বুখারী শরীফ সহ অন্যান্য সহিহ হাদিসের কিতাব থেকে। এই হাদিসগুলো আমাদের আহলে হাদিস (?) ভাইদের চোখে পড়েনা কেন?

    হাফিজ

    @Anonymous,


    এরপরও ঐসব আলীমরা কেন তাদের নিজ নিজ মাযহাবের উপর আমাল করেন? এই প্রশ্ন আমার আগে প্রায়ই জাগতো। আসলে তারা তাদের মাযহাবের পক্ষে প্রচুর সহিহ হাদিস পেয়েছেন বলেই তারা তাদের মাযহাবের আস্থা রাখতে পেরেছেন। আমরা জানি কম বলেই দু একটি হাদিস দেখেই আমাদের সন্দেহ ও অবিশ্বাস জন্মে যায়।

    সহমত ।

    হাফিজ

    @Anonymous,


    পরবর্তীতে মাদীনা ইউনিভারসিটিরই অন্য একজন হাদীস বিশারদ শায়খ ইলিয়াস উনার নবীজীর নামায কিতাবে সহিহ হাদিস থেকে আমাদের নামাযের রেফারেন্স গুলো দিয়েছেন। আমি অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় সবই বুখারী শরীফ সহ অন্যান্য সহিহ হাদিসের কিতাব থেকে।

    ভাই, বইটি কি বাংলায় অনুবাদ হয়েছে ?

    Anonymous

    @হাফিজ, হ্যাঁ, আমি পরবর্তীতে আপনাকে বিস্তারিত জানাব। কিতাবটি মাওলানা মালেক দামাতবারকাতুহুম এর মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে প্রকাশিত।

    হাফিজ

    @Anonymous, ওহ মারকাযুদ দাওয়াহ !! , হ্যা আরো একজন বলেছিল বইটি নাকি খুব ভালো ।

    Anonymous

    @হাফিজ,
    নবীজীর নামায ড.শাইখ মুহাম্মাদ ইলিয়াস ফয়সাল
    মুমতায লাইব্রেরি মুহাম্মাদ হাবিবুর রাহমান খান
    ইসলামী টাওয়ার,৬তলা ১১ বাংলাবাযার,ঢাকা-১১০০
    ০১৭১১১৪১৭৬৪
    দাম ৩৪০ লেখা আছে আমি ২০০ দিয়ে কিনেছিলাম মনে পড়ছে।
    বায়তুল মোকাররম মার্কেট থেকে কিনেছিলাম

    হাফিজ

    @Anonymous,ধন্যবাদ ।

    বাগেরহাট

    @হাফিজ,
    আমার জানামতে হানাফী মাযহাবের সবচাইতে ভাল বইগুলো হল আল মুখতাসারুল কুদূরী, আল হিদায়া ( হানাফী মাযহাবের বিশ্বকোষ),
    কান যুদ্দাকায়েক, শরহে বিকায়া,মুসনাদ-ই-ইমাম আযম,রাদ্দুল মুহতার, ফতোয়ায়ে আলমগীরী, তহাবী শরীফ, তানবিরুল আবসার ।
    ড.শাইখ মুহাম্মদ ইলিযাস ফয়সালের লেখা বইটি কী এগুলোর চেয়েও ভাল ? যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে লেখকের পরিচয় দিলেন লেখকের
    বইটিতে যদি ঐ মদীনায় রসুল (সঃ) এর যে মাসজিদটি আছে সেই মাসজিদে যে সলাত চালু আছে তার বর্ণনা করা হয়ে থাকে তাহলে আমি মোটামুটি আমার স্বল্পজ্ঞানের আলোকে আশা করতে পারি বইটি অবশ্যই ভালো বই ।

    Anonymous

    @বাগেরহাট, আমার জানামতে হানাফী মাযহাবের সবচাইতে ভাল বইগুলো হল আল মুখতাসারুল কুদূরী, আল হিদায়া ( হানাফী মাযহাবের বিশ্বকোষ),
    কান যুদ্দাকায়েক, শরহে বিকায়া,মুসনাদ-ই-ইমাম আযম,রাদ্দুল মুহতার, ফতোয়ায়ে আলমগীরী, তহাবী শরীফ, তানবিরুল আবসার ।

    আপনি কি এই কিতাবগুলি পড়ে দেখেছেন? না পড়ে পুরো মাযহাবের উপর মন্তব্য করে ফেলেন, ভালোই তো আপনার কান্ডজ্ঞান! আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি আরও অনেক কিতাব আছে। ভালো হয় ভাল কোন আলীমের সাথে আলাপ করলে।

    ড.শাইখ মুহাম্মদ ইলিযাস ফয়সালের লেখা বইটি কী এগুলোর চেয়েও ভাল ?
    উপরের কিতাবগুলো আলীমদের জন্য। এইটি সাধারণ মানুষের জন্য লেখা। আপনারা দেখা যায় সাধারণ মানুষকে সত্য জানার অধিকার টুকুও কেড়ে নিতে চান। কেউ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচাতে চাইলে আপনারা বিনা দলীলে এর গ্রহণযোগ্যতা কে খাট করে ফেলতে চান।

    যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে লেখকের পরিচয় দিলেন লেখকের
    বইটিতে যদি ঐ মদীনায় রসুল (সঃ) এর যে মাসজিদটি আছে সেই মাসজিদে যে সলাত চালু আছে তার বর্ণনা করা হয়ে থাকে

    কোন একটা জিনিস প্রমাণের জন্য কি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র হাদিস যথেষ্ট নয়? কোন এক মাসজিদের ইমামের (যে কিনা এক সরকারের কর্মচারী এবং ঐ সরকার ইসলামী সরকার নয় (অনেক সালাফী আলীমদের মতে) এবং ঐ সরকারের অনৈসলামিক কর্মকান্ডের বাধা প্রদান বা সমালোচনা করার হিম্মতও যার নেই) আমাল কি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র হাদিস থেকেও মূল্যবান হয়ে গেল? পাল্টা প্রশ্ন–আলবানীর রহমাতুল্লহ আ’লাইহি ঐ কিতাবে যে নামাযের উল্ল্রেখ আছে হুবহু ঐ নামাযই কি মাদীনার মাসজিদে চালু আছে? তাহলে কি আপনি সত্যায়ন করছেন যে আলবানীর ঐ কিতাবটি ভালো নয়?

    বি দ্রঃএখানে আমি মাদীনার সম্মানিত ইমাম ও খতীবদের অসম্মান করতে চাইনি। আমি চেয়েছি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র মুখ নিস্রিত কথার মূল্য বুঝাতে।

    বাগেরহাট

    @Anonymous,
    ভাইজান দয়া করে একটু তালিকা দিবেন কোন কোন বইগুলো আলীমদের জন্য আর কোন কোন বইগুলো সাধারন মানুষের জন্য?
    আল কুরআন এবং হাদীস গ্রন্থগুলো পাঠ করার ক্ষেত্রেও কী এরকম কোন শর্ত আছে নাকি, থাকলে দয়া করে জানাবেন । আর জানা না থাকলেও বলবেন , আমি চেষ্টা করব জানাতে মাযহাবের দৃষ্টিতে আল কুরআন এবং সহীহ হাদিস পাঠ করার শর্তসমূহ কী কী?

    Anonymous

    @বাগেরহাট,তর্কের খাতিরে তর্ক করে ফায়দা কি? আপনি যে কিতাবগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন ওগুলো বড় কিতাব। কোনটা ফিকাহের কিতাব, কোনটা মাসায়ালার কিতাব। ওগুলোতে নামায ছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রসঙ্গ আছে। তাই ওগুলো থেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে আপনাদের মিথ্যাচারের সুরাহা করা সম্ভব নয়। এজন্যই শুধু নামায বিষয়ে ঐ কিতাবটি সংকলন করার হয়েছে।

    বাগেরহাট

    @Anonymous,
    ভাইজান রেগে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়।
    আমি কিন্তু আপনাদের বইয়ের রেফারেন্স ছাড়া কোন নিজস্ব মত দেইনি,আর আপনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের
    অভিযোগ তুলছেন কোনরুপ রেফারেন্স ছাড়াই । মাথা ঠান্ডা রেখে চিন্তা করুন । যারা মুজতাহিদ তারা কিন্তু তাদের সর্বোচ্চ
    চেষ্টা করে গেছেন । কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে ইজতিহাদের ফলাফল দুইরকমই হতে পারে । এত ভূল হলেও ইজতিহাদকারী
    তার ভুলের জন্যও নেকী লাভ করবেন । কিন্তু ভুল জানার পরও যারা ভুলের অনুসরন করবেন তাদের জন্যও নেকী লাভ করা সম্ভব?
    অথবা কোন একটা মাসআলা ভুল কীনা এটা কেউ জানতে চাইলেই কী সে অপরাধ করে ফেলল ?

    ABU TASNEEM

    @বাগেরহাট, ভাই উনাদের কাছে উনাদের ইমামদের ভুলকে ভুল বলাটাই পাপ । একজনের ভুলের কারণে আরও হাজার মানুষ ভুল করুক তাতে কোন দোষ নেই । ভুলকে সংশোধন করাই দোষের । আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন ।

    Anonymous

    @Anonymous, দুঃখিত, আব্দুল মালেক দামাতবারকাতুহুম

    বাগেরহাট

    @Anonymous,
    “আমি অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় সবই বুখারী শরীফসহ…..”
    ভাইজান আমি ইসলামিক ফাঃ এর ২য় খঃ বুখারী শরীফ হাতে নিয়েছি খুজলাম আপনার কথামত সবগুলো তো দূরের কথা সলাতের ক্ষেত্রে
    এমন একটা হাদিসও পেলাম না । সলাতের ক্ষেত্রে বিরোধগত ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনাদের মাযহাবের পক্ষে সব না অন্তত দুখানা হাদিসও দেখাতে পারেন (বুখারী শরীফ)আমাকে একটু জানাবেন আমি আপনার প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকব ।

    Anonymous

    @বাগেরহাট, আপনি আবারও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। বুখারী শরীফ ভালো ভাবে পড়ুন। ঐ কিতাবটিও পড়ুন। দুটি কেন আরও বেশি পারেন। আর আমি সবগুলি বুখারী শরীফ থেকে বলিনি। ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি ফিকাহগত দিক থেকে ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি ঘরানার। উনার অধিকাংশ উস্তাদও তাই ছিলেন। এজন্য উনার কিতাব থেকে হানাফী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর নামাযের দলীল খোজ করা বৃথা। আপনারা যে নামায পড়েন তা কি হুবহু বুখারী শারীফের নাযায? ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর কিতাবের সবগুলো হাদীসই সহীহ তাই বলে এই নয় উনিই সবগুলো সহীহ হাদীস সংগ্রহ করেছেন। একই ভাবে উনার সংগৃত হাদীসের বিপরীতে অন্য কোন হাদীস থাকলে ঐ হাদীসকে দূর্বল বা অপেক্ষাকৃত কম সহীহ বলার যুক্তি নেই। ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর হাদীসগুলি সবই সহীহ এই ব্যাপারে উলামা কেরাম মোটামুটি একমত (দুই একটির ক্ষেত্রে বিরাাাাাট স্কলার(?) আলবানীর দ্বিমত আছে :) ) কিন্তু ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর হাদীসগুলিই একমাত্র সহীহ অথবা ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর হাদীসগুলিই সবচেয়ে সহীহ এমন দাবী উনি নিজেও কোনদিন করেননি। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে আমাল করেছেন কিন্তু কোন আমালটা সর্বশেষ ছিল এ ব্যাপারে সব ক্ষেত্রে ইতিহাসের দলীল পাওয়া যায় নি। এটাই হাদীস বিপরীতমুখী হওয়ার কারণ। এছাড়া আরও কিছু কারণ আছে। এসব ক্ষেত্রে যে কোন হাদীস অনুসরণ করলেই চলবে। এ ব্যাপারে প্রায় সবই ইমাম ও ফিকাহবিদগণ একমত (আপনাদের মত অতিশয় জ্ঞানী বাদে)

    Anonymous

    @Anonymous, এজন্য উনার কিতাব থেকে হানাফী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর নামাযের দলীল খোজ করা বৃথা। কথাটি এই ভাবে পড়তে হবে ‘এজন্য উনার কিতাব থেকে হানাফী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর নামাযের দলীল খোজ করলে কম হাদীস পাওয়া যাবে এইটাই স্বাভাবিক। তবে এরপরও পুরাপুরি খালি নয়।’

    ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি ফিকাহগত দিক থেকে ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি ঘরানার। উনার অধিকাংশ উস্তাদও তাই ছিলেন।
    মুফতি মান্সুরুল হক দামাতবারাকাতুহুম উনার একাধিক কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর ফিকাহ অনুসরণ করতেন।

    বাগেরহাট

    @Anonymous,
    ভাইজান সহজ উত্তর সহজ করে দেন । ইসলামিক ফাঃ কর্তৃক অনুবাদকৃত মুখবন্দটুকু পড়ুন , সেখানে অথবা ইমাম বুখারী (রঃ) এর জীবনীও পড়ুন । দেখুন তো তাঁর সর্ম্পকে আপনার মত কেউ বলেছেন কীনা ইমাম বুখারী (রঃ) নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অনুসারী ছিল ।
    আমি আপনার কাছে সব না মাত্র দুটি হাদিস জানতে চেয়েছিলাম আপনাদের পদ্ধতিতে সলাত আদায়ের হাদিস জানানোর জন্য । এখন বলছি দুটি না মাত্র একটি হাদিসের সন্ধান দেন । আর আপনার মন্তব্যটা একটু ভাল করে পড়ুন তাহলে দেখবেন” আমি অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় সব বুখারী শরীফসহ……” ।এই হাদিসগুলো আহলে হাদিসদের চোখে পড়েনা ? এটা আপনিই লিখেছেন । আমার চোখে একটাও পড়েনি । আপনার চোখে কোনগুলো পড়েছে দয়া করে একটু বলবেন কী?

    হাফিজ

    @বাগেরহাট,

    আমি আপনার কাছে সব না মাত্র দুটি হাদিস জানতে চেয়েছিলাম আপনাদের পদ্ধতিতে সলাত আদায়ের হাদিস জানানোর জন্য ।

    আমাদের পদ্ধতি বলতে আপনি কি বুঝাচ্ছেন ? হানাফী মাজহাবের নামাজ সম্পর্কে ? নামাজের তো অনেকে রুকন আছে ? যেকোন একটি দিলেই হবে ?

    বাগেরহাট

    @হাফিজ,
    আপনি অন্যের কমেন্টের উত্তর দিতে চাচ্ছেন । তো সেক্ষেত্রে আমাদের আলোচনাগুলো অন্ততঃএকটু ভালোভাবে পড়ুন।তাহলে আর আমার
    একই প্রস্তাব দুবার দিতে হবে না।
    আমি অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় সবই বুখারী শরীফ সহ .অন্যান্য সহিহ হাদিসের কিতাব থেকে। এই হাদিসগুলো আমাদের আহলে হাদিস (?) ভাইদের চোখে পড়েনা কেন?
    ….এটাই ছিল উনার প্রশ্ন ।
    “আমি অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় সবই বুখারী শরীফসহ…..”
    ভাইজান আমি ইসলামিক ফাঃ এর ২য় খঃ বুখারী শরীফ হাতে নিয়েছি খুজলাম আপনার কথামত সবগুলো তো দূরের কথা সলাতের ক্ষেত্রে
    এমন একটা হাদিসও পেলাম না । সলাতের ক্ষেত্রে বিরোধগত ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনাদের মাযহাবের পক্ষে সব না অন্তত দুখানা হাদিসও দেখাতে পারেন (বুখারী শরীফ)আমাকে একটু জানাবেন আমি আপনার প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকব ।

    Biplobi

    @বাগেরহাট, (F)

    ABU TASNEEM

    @Anonymous, আমাদের কওমী মাদ্রাসা গুলোতে কুতুবুস সিত্তার সকল হাদীস গ্রন্থই পড়ানো হয় । কিন্তু গুরুত্বের সাথে নয় , শুধুমাত্র বরকত লাভের জন্য , আমল করার জন্য নয় । হাদীস গ্রন্থগুলির জন্য যে সময় দেয়া প্রয়োজন ছিল /উচিত ছিল , তা দেয়া হয় না । আগেই ছাত্রদের ফিকাহ ১০ বছর পর্যন্ত পড়িয়ে ব্রেইন ওয়াস করা হয়ে যায় যে তার কোন সমস্যায় কি করতে হবে । শেষ বছরে এসে বড় বড় ছয়টি হাদীস গন্থ একসাথে এক বছরে সিলেবাসে দেয়ায় তারা রিড়িং পড়ারই সময় পায় না তো বুঝবে কি ? আর আমলে আসবেই বা কি করে ?

  4. ১) রসুল (সঃ) বলেছেন, ” যদি ইদুর পড়া ঘি পানির মত তরল হয় তাহলে তোমরা তার নিকটেও যেওনা ।”

    => ইদুর থেকে তাতৃকালীন সময়ে মারাত্তক ভয়ংকর মহামারী প্লেগ ছড়াই তো। আমার মনে হয়, এই হাদিস ঐ দিকটাই নির্দেশ করছে। কিন্তু তিনবার গরম করলে, যে জীবানু মুক্ত হবে তা বলা গেলেও, কেউ ভয় করতে পারে।
    => আপনার মাথায় কেউ আপেল রেখে বন্দুক দিয়ে আপেলে গুলি করবে। তার হাত খুবই শক্ত তাই গুলি মিস হয় না। তবুও কি আপনি আপেল নিয়ে দাড়াইবেন? মনে হয় না।

    => তাই এই ক্ষেত্রে আমি সহী হাদিসকেই গুরুত্ব দিব। কিন্তু মাহজাব যেহেতু কোন রেফারেন্স ছড়া কথা বলে না। সেহেতু মাহজাবের বর্নিত ব্যাক্ষায় ও নিশ্চই কোন দলিল আছে। যা আমি জানি না। তাই, যারা এই ক্ষেত্রে মাহজাব অনুষরন করতেছে, তাদের আমি কখনই ভুল বলবনা। আমি এখানে যে ব্যাক্ষা দিয়েছি, তা আমার নিজের। কিন্তু কোন একটি বিষয়ে গভীর জ্ঞান না থাকলে সমাধানে যাওয়া কঠিন। তাই জ্ঞানী ব্যাক্তি কে প্রশ্ন করতেই হবে, মানে মাহজাব থেকে জেনে নিয়ে করলে ভাল হয়।

    ফুয়াদ

    আপনার দুই এবং তিন নম্বর পয়েন্টের কোন কাহিনী বুঝলাম না। আরেকটী জিনিস বুঝলাম না, যে মাহজাব মানে কি আপনি আমি বুঝলাম কি না। মাহজাবের এক বইয়ে একটা কিছু লিখা থাকলেই ঐটা ঐ মাহজাবের শেষ সিদ্ধান্ত সেটা আপনাকে কে বলল। মাহজাব তো ফিকাহ এর ভিন্ন ভিন্ন দল। প্রত্যেক দল নিজেদের টেকনিক অনুযায়ী চলে। তাতে ভুল শুদ্ধ দুই হতে পারে। কিন্তু শেষ কথা কিভাবে আসবে। আজকে আমি কিছু দলিলের ভিত্তিতে ফতোয়া দিলাম, কালকে আরেকজন আরো বেশী দলিলের ভিত্তিতে দিল। এভাবেই তো চলছে। হানীফী মাহজাব এর ইমাম দের প্রশ্ন করে, এব্যাপারে তাদের বর্তমান মতামত কি? ১০০ বছর আগের কোন বই থেকে পুরাতন মতামত উল্লেখ করে কাউকে ছোট করা উচিত না।

    ফুয়াদ

    তবে ভালর জন্য হলে, তা সম্মানের সাহিত হলেই ভাল। শেষ মেষ আমিও ভুল বলতে পারি।

  5. এ প্রসঙ্গে শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রঃ) এর একটা উক্তি দিয়েই শেষ করব ইনশাআল্লাহ ।
    তিনি বলেছেন ,” আমি তাদের অনেকের ধারনা জানি , তারা মনে করেন যে, ফিকাহর বড় বড় পুস্তকগুলোতে কেবলমাত্র ইমাম আবু হানিফা (রঃ) ও তাঁর শিষ্যদের মতামতই আছে। অথচ একথাটা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা । বাস্তবে সমস্ত মাসআলাগুলো ওদেরা নয় ।”
    হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা ১ম খঃ ১২৮ পৃঃ ।

    রেফারেন্স গুলো একটু এই লিঙ্কটির মত করে প্রকাশক ও প্রকাশনার তারিখ সহ দিলে ভাল হয়।
    দেখুন হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা আমাদের উপমহাদেশের হানাফী উলামা কেরামদের নিকটও খুবই জনপ্রিয় কিতাব। মাওলানা যাকারিয়া রহমাতুল্লহ আ’লাইহি উনার ফাযায়েলে আমাল কিতাবে হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা থেকে বেশ কিছু রেফারেন্স দিয়েছেন। এই কিতাবটির বাংলা নির্ভরযোগ্য কোন অনুবাদের খোঁজ কেউ জানালে উপকৃত হতাম।

    এই পর্যায়ে আমি ধরে নিচ্ছি উপরোক্ত কোটেশন বাস্তবিকই হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা থেকে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তো কথাটা আমার কাছে মোটেই হানাফী মাযহাবের বিরূদ্ধে যাচ্ছে না। বরং আমি এটাকে কিছু আত উৎসাহী লোকদের বিরূদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনাই বলব। আসল কথা হল আমার জানা মতে কোন হানাফী আলীমই কেবলমাত্র হানাফী মাযহাবের কিতাবগুলোকেই বড় বড় কিতাব মনে করেন না। বরং সমস্ত মাযহাবের কিতাব গুলোকেই তারা সহীহ ও গ্রহণযোগ্য মনে করেন। দেখুন মাযহাব অর্থ হল মতামত। হাদিস থেকে মানুষের চলার পথের পাথেয় সংগ্রহ করতে গিয়ে ফুকাহা কেরাম বিভিন্ন ইস্যুতে একমত হতে পারেন নি। তাই এই সব মাযহাবের উৎপত্তি। এই সব মতবিরোধ ইসলামের প্রধান প্রধান ইস্যুগুলোতে ছিলনা বরং কিছু ছোট খাট ইস্যুতে ছিল। হ্যাঁ অল্প কিছু বড় ইস্যুও ছিল। সবচেয়ে বেশি মতভেদ হয়েছে এমন সব ইস্যু নিয়ে যেগুলো নতুন অর্থাৎ সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের যামানায় যা ছিল না এগুলো নিয়ে। আর জরুরী কথা হল তাঁদের এই মতবিরোধ কখনই তাঁদের অন্তরের বিরোধ ঘটায় নি, তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কখনই অভাব হয়নি। কেউ কারও মতকে অসত্য, বানোয়াট বা বিদয়াত, কুরফ, শিরক বলে অভিহিত করেননি। পরবর্তীতে তাঁদের অনুসারীগণ কখনও অন্য মাযহাবের ইমাম বা আলীমদের কাফের, বিদয়াতী হিসেবেও আখ্যায়িত করেন নি। দুঃখের বিষয় অধুনা আমাদের দেশে আহলে হাদিস (?) নামধারী কিছু মূর্খ এই কাজটিই করছে। আজও বিভিন্ন মাযহাবে লোক অন্য মাযহাবের ইমামদের নাম পরম শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন। এক মাযহাবের অনুসারী অন্য মাযহাবের অনুসারীদের উপর খুবই সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল।

    আরও একটি জরুরী কথা হল মাযহাব যেহেতু মতামত তাই এটা ৪এর মধ্যে সীমিত ছিল না। আমি আলীমদের নিকট শুনেছি প্রায় ২০টিও অধিক প্রতিষ্ঠিত মাযহাব ছিল। এর মধ্যে ইমাম হাসান বসরী এবং ইমাম সুফিয়ান সাওরীএর মাযহাব বেশ জনপ্রিয় ছিল। এছাড়াও আর কিছু মাযহাব ছিল যাদের অনুসারী কম ছিল। পরবর্তীতে অনুসারী এবং উত্তরসূরীর অভাবে এই চারটি মাযহাব বাদে বাকিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। যদিও মক্সুদুল মুমিনিন, নেয়ামুল কোরআন টাইপের কিছু কিতাবে (আফসোস কিছু মুর্খ বেহেশতী জেওর কেও তাহকীক ছাড়াই এই কাতারে ফেলে দিয়েছে) চার মাযহাব ফরয বলে উল্লেখ করেছে। এটা তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা।

    শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহমাতুল্লহ আ’লাইহি উপমহাদেশে ইলম চর্চার গোড়াপত্তন করেন। এর আগে সীমিত পর্যায়ে কিছু জ্ঞান চর্চা ছিল কিন্তু ব্যাপক ইলম চর্চা তিনিই শুরু করেন। আমাদের বর্তমান আলীম সমাজ এবং দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ তারই উত্তরসূরী। আমাদের থানভী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি, মানানী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি প্রমূখ আকাবির গণ তাঁরই মেহমতের ফসল। যদিও অনেকে তাঁর কিতাব সমূহের ভুল উপস্থাপনা করে পানিঘোলা করার চেষ্টা করে আসছে।

    মাযহাব সমূহ অনেক প্রতিষ্ঠিত। এগুলো প্রতিষ্ঠান বলা চলে। তাই পরিচিত কোন হাদিসের বিপরীত হলেই মাযহাবের উপর সন্দেহ তোলা ঠিক নয়। বিনা দলীলের কোন জিনিস শত শত বছর ধরে টিকোথাকতে পারে না। তাই কারও সন্দেহ থাকলে উচিত ঐ মাযহাবের কোন আলীমের সাথে পরমর্শ করা। স্বল্প জ্ঞান নিয়ে মাযহাবের ইমামদের উপর আংঙ্গুল তোলা চরম পর্যায়ের মূ্র্খতা। হানাফী মাযহাব শুধু ইমাম আবু হানিফাই রহমাতুল্লহ আ’লাইহি নয় বরং যুগের পর যুগ হাজারো উলামা কেরামের মেহনত ও গবেষণার ফসল। অন্য মাযহাব গুলোও তাই। নিজের জ্ঞান কে শত শত বছরের, হাযারো বরং লাখো ফুকাহা কেরামদের সমালোচনার যোগ্য মনে করাটা মূর্খতাটাকে ফুটিয়ে তোলে। আশা করি পরবর্তীতে এই জাতীয় পোস্টিং এর আগে একটু বুঝে শুনে তাহকীক করে দিবেন।

    জাযাকাল্লহু খইরন

    হাফিজ

    @Anonymous, মাজহাব এর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে আলাদা পোস্ট দিলেই তো পারেন, যেহেতু এ বিষয়ে আপনার পড়াশুনা আছে ।

  6. শরীয়াতের পরিভাষায় তাকলিদ মানে অন্ধানুসরন ।
    আমি নিশ্চিত নই আসলেই শারিয়াতের পরিভাষা এমন কিনা। যদি হয়ে থাকেও সেক্ষেত্রে আমি এখন পর্যন্ত কোন মাযহাবের আলীম বা মোটামুটি বুঝ সম্পন্ন কাউকে তাকলীদ করতে দেখিনি। তবে আমি আহলে হাদিস (?) নাম ধারী কিছু আজব(!?) লোককে দেখেছি তারা অন্ধ ভাবে আলবানী, বিন বায প্রমূখ আলীমদের অনুসরণ করে থাকেন। উনারা যদি কোন হাদিস সহীহ বলে থাকেন তবে এই সব লোক আর তাহকীক বা খুজে দেখার প্রয়োজন বোধ করে না। উনারা যদি কারও উপর কোন সন্দেহ করেছেন তাহলে এরাও আর তাহকীক বা যাচাই করে দেখার প্রয়োজন বোধ করে না। এই সব লোক কখনই এই আলীমদের ভিন্ন মত সহ্য করতে পারে না। কেউ উনাদের কোন মতের ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করলে তার তুলোধুনো করে ছাড়ে। এই আলীমদের বিপরীতে এরা কোন হাদীস কুরআনের ধার ধারে না। কেউ কিছু বললে এদের যুক্তি বিন বায ভুল বলবে কেন? উনিতো গ্রান্ড মুফতি, বলে আলবানীর বিরুদ্ধে কেন আল্লহ তায়া’লা ও রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধেও তো কত লোক কত কথা বলে। যেন বিন বায আর আলবানী ভুল ত্রুটির উর্ধে চলে গেছেন তাই যেন তাদের কোন ভিন্ন মতই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি উনারদের অসম্মান করছি না। আমি বলছি বাংলাদেশের কিছু মুর্খদের আচরণের কথা। আমি জানিনা বাংলাদেশের বাইরেও এদের মত অন্ধ কেউ আদৌ আছে কিনা। মজার ব্যাপার হল এরা আবার অন্যদের তাকলীদের সংজ্ঞা শিখায়। আপনি একটু খোঁজ নিলে আপনার আশেপাশেই এদের দেখতে পাবেন। আমি আমাদের এই ব্লগেও এমন কিছু আজব মাখলুক দেখেছি।

  7. আমি আশা করেছিলাম আপনার গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে পয়েন্ট ধরে ধরে ব্লগের ইসলামী বিশেষজ্ঞরা মূল্যবান দরস দিবেন। কিন্তু না তেমন কেউ এলেন না। আর যে তিনজন মন্তব্য করলেন তা থেকে দুইজনের মন্তব্য আমার মাথার উপর দিয়ে গেছে। এখন আশায় আছি কেউ অবশ্যই পয়েন্ট টু পয়েন্ট এই বিষয়ে আলোকপাত করবেন।

    আমি অবশ্যই কোন কওমী মাদ্রসা বা সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র নয়। তাই উভয় মাদ্রাসা পড়ুয়া ভাইয়েরা আমার কথা শুনে তেড়ে আসবেন না।

    ১)ক। রসুল (সঃ) বলেছেন, ” যদি ইদুর পড়া ঘি পানির মত তরল হয় তাহলে তোমরা তার নিকটেও যেওনা ।”

    খ। মাযহাব মতে, ” দুধ,মধু ,ঘি,আঙ্গুরের রস এবং তেলে ঐ জাতীয় প্রাণী পড়ে গেলে তাকে আগুনে গরম করতে হবে এবং তিনবার উতলে উঠলেই সেগুলো পাক হয়ে যাবে ।” (দুররে মুখতার ১ম খঃ ২৪৫ পৃ)

    এখানে আমার মনে ঘটিত ঘটনা দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে ঘটেছিল। আর ইদুর কোন হারাম প্রাণী কিনা তা আমি জানিনা। তবে মক্কার লোকেরা যখন দূর্ভিক্ষের কবলে পড়তো তখন তারা ইদুর ধরেও খেত। এখানে মৃত পচে যাওয়া ইদুর না জ্যান্ত ইদুরের কথা বলা হচ্ছে তাও স্পষ্ট নয়। আমার মনে হয় প্রথম টি বোধ মরে পচে যাওয়া ইদুর মিশ্রিত ঘির কথা বলা হয়েছে।

    ২)ক। শরীরের কোন স্থানে অপবিত্রতা স্পর্শ করলে, পেশাব, পায়খানা ,বীর্য লেগে গেলে পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করলেই তা পবিত্র হয়ে যায় । হাদিসের ফায়সালা এটাই ।

    খ। মাযহাব মতে , ” হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি এবং ( মেয়ে লোকের ) স্তন অপবিত্র হয়ে গেলে তিনবার জিহ্বা দিয়ে চাটলেই তা পাক ও পবিত্র হয়ে যায় ।” (দুররে মুখতার ১ম খঃ ২২৬ পৃঃ দারুল কুতুব মিশর মূদ্রন)

    প্রথমটি তো প্রচলিত । ২য়টিতে শুধু কনিষ্ঠ আঙ্গুল ও মেয়েলোকের স্তনের কথা বলা হয়েছে। তবে নিশ্চয় এই অপবিত্রতা পেশাব, পায়খানা ,বীর্য দ্বারা সংঘটিত নয়। কারণ ঐ সব পেশাব, পায়খানা ,বীর্য জিহ্বা দিয়ে চাটার কথা ইসলাম বলতে পারেনা। সেই কারণে এই প্রশ্নের সমাধাণ খুঁজতে হলে আমাদেরকে ঐ অপবিত্রতা বলতে কোন অপবিত্রতা বুঝাচ্ছে তা জানতে হবে।

    ৩)ক। রসুল (সঃ) বলেছেন , “রমাযান মাসে নিজ স্ত্রীর সাথে দিবাভাগে সঙ্গম করলে তাকে একটা গোলাম আযাদ অথবা একাদিক্রমে দুমাসের রোজা অথবা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ায়ে কাফফারা দিতে হবে ।” বুখারী , মুসলিম ।

    খ। মাযহাব মতে , “মৃত মহিলার সাথে রোজার দিনে সঙ্গম করলে যদি বীর্যপাত হয় তাহলে তার রোজার শোধ দিতে হবে কিন্তু কাফফারা দিতে হবে না ।” দূররে মুখতার ২য় খঃ ১১৩পৃ, ঐ ”

    ভাই, এটি আমার বুঝে আসছেনা। একেতো রমজানের দিনে সঙ্গম নিষিদ্ধ তদূপরি মৃত মহিলার সাথে একজন মুমিন কেমন করে সঙ্গম করতে পারে?

    গ।“অল্প বয়ষ্কা মেয়ের সাথে ধর্ষন করলে যদি বীর্যপাত হয় তাহলে রোজার শোধ দিতে হবে কাফফারা দিতে হবে না ।” ঐ ।

    জিনা (মানে ২জন নর এবং নারী পরস্পর মর্জিতে বিবাহ ছাড়া সঙ্গম) যেখানে মৃত্যুদন্ড যুক্ত অপরাধ সেখানে ধর্ষণের মত জগণ্য অমানবিক ইসলামি বইতে কেমন করে স্থান পায়?

    “চতুষ্পদ পশুর সাথে ধর্ষন করলে যদি বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজার শোধ দিতে হবে কিন্তু কাফফারা দিতে হবে না ।” ঐ ।
    ” কিন্তু রোজার দিনে যদি উক্ত পাপকাজগুলো করার সময় বীর্যপাত না হয় , তাহলে রোজাও নষ্ট হবেনা এবং কাফফারাও দিতে হবে না।” ঐ

    এই সব আবজাব যে ইসলামী স্কলার এই বইতে সংকলন করে গেছেন তিনি যে বিবেক বুদ্ধিহীন একজন অন্ধ তাকলিদ পন্থী ছিলেন তা উনার সংকলনের এইসব সংকলিত দেখলে বুঝায়।

    মাহমুদ

    @মুনিম, এখানে মৃত পচে যাওয়া ইদুর না জ্যান্ত ইদুরের কথা বলা হচ্ছে তাও স্পষ্ট নয়। আমার মনে হয় প্রথম টি বোধ মরে পচে যাওয়া ইদুর মিশ্রিত ঘির কথা বলা হয়েছে।
    আমারও তাই মনে হয়।দেখুন- ‘যদি ইদুর পড়া ঘি পানির মত তরল হয়…..’। বাগেরহাট ভাই সূক্ষ চাতুরি করছেন বলে মনে হয়।
    তবে ইদুর হারাম প্রাণী।
    ২নং এর ব্যাপারে- এই প্রশ্নের সমাধাণ খুঁজতে হলে আমাদেরকে ঐ অপবিত্রতা বলতে কোন অপবিত্রতা বুঝাচ্ছে তা জানতে হবে।
    আপনার সাথে একমত।

    ৩নং এর ব্যাপারে- একেতো রমজানের দিনে সঙ্গম নিষিদ্ধ তদূপরি মৃত মহিলার সাথে একজন মুমিন কেমন করে সঙ্গম করতে পারে?
    এই সব আবজাব যে ইসলামী স্কলার এই বইতে সংকলন করে গেছেন তিনি যে বিবেক বুদ্ধিহীন একজন অন্ধ তাকলিদ পন্থী ছিলেন তা উনার সংকলনের এইসব সংকলিত দেখলে বুঝায়।

    ভাই মুনিম, আইনশাস্ত্রে সম্ভাব্য অপরাধ ও তার শাস্তি লিপিবদ্ধ থাকতে হয়। সকল ফিক্বহ বা আইনশাস্ত্রের কিতাবেই তা আপনি পাবেন। তবে এখানে(৩নং) বাগেরহাট ভাই তথ্যগত চাতুরি করেছেন।

    মুনিম

    @মাহমুদ, ভাই মুনিম, আইনশাস্ত্রে সম্ভাব্য অপরাধ ও তার শাস্তি লিপিবদ্ধ থাকতে হয়। সকল ফিক্বহ বা আইনশাস্ত্রের কিতাবেই তা আপনি পাবেন।

    তাতো, তাতো থাকতে হবে। এই থাকার বিষয়ে আমার দ্বি-মত নেই। এবং তিনি যে বিবেক বুদ্ধিহীন একজন অন্ধ তাকলিদ পন্থী ছিলেন বলার কারণ হলো – আমার বিবেক বলছে এই বর্ণিত আইনগুলো- লঘু অপরাধে গুরু দন্ড আর গুরু অপরাধে লগুদন্ডের মত।
    যেখানে আমার আইনসিদ্ধ বউয়ের সাথে শারীরিক উত্তেজনায় মূহুর্ত্যে যৌন সঙ্গম করলে বির্যপাত হোক বা না হোক রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে আর তার জন্য আমাকে এবং আমার বউয়ের উপর একাধারে ৬০টি শাস্তি মূলক রোজা ওয়াজিব হয়ে যাবে। অথচ অবৈধ ভাবে ধর্ষণ করা হলে তা আবার পশু কিংবা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে (আর ইসলামি আইনে শুধু মাত্র ৯ বছরের নিচের শিশুদের বেলা প্রযোজ্য) সাথে তার জন্য কোন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা থেকে রেহাই দেওয়া হলো? যে ইনসাফের কথা ইসলাম বলে এই বর্ণিত আইনে কি সেই ইনসাফের দেখা মিলে?

    আমার দৃষ্টিতে সে তিনটি জগণ্য অপরাধ করেছে। ১। রমজানে রোজা ভঙ্গকরা ২। শিশু বা পশুর সাথে সঙ্গম করা। ৩ । ধর্ষণ করা। এখন যদি কোন একজন রমজানে বৈধ স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের অপরাধে শাস্তিমূলক ৬০টি রোজা রাখতে হয় তাহলে তিনটি বেআইনী কার্য করার জন্য অবশ্যই ১৮০ টি শাস্তিমূলক রোজা তার উপর ওয়াজিব হওয়া উচিত ছিল নয় কি?

    আর মৃত মহিলার বিষয়। যে কোন মৃত ব্যাক্তিকে সম্মান করার জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। এমন কি নিজের স্ত্রী মারা গেলে সে না কি বিবাহ দ্বারা বৈধতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেহেতু যিনি রোজারদার অবস্থায় স্ত্রী মৃত জেনেও সেই স্ত্রীর সাথে যৌনকর্ম সম্পাদন করে বসেন তার অপরাধ তো আরো জগণ্য। সে অবস্থায় তিনি কেমন করে আইন থেকে বেঁচে যাবেন?

    এখানে দেখেছি আর কয়েক জন আমার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অনেক ধরণের কথাবার্তার অবতারণা করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য বলছি, আপনারা সেই সব দিনের কথা ভুলে যান। হুজুররা যা বলতেন তা জি হুজুর জি হুজুর করে মেনে নেওয়া হত। এখন তা আর হবেনা। এখনকার মানুষ পানিকে পানি বললেই মানবেনা। পানি কি উপাদানে তৈরি সেটিও জানতে চাইবে।

    যাই হোক আপনাদের অবগতির জন্য বলছি, আমি কোন সদ্য তরুণ উত্তির্ণ কোন যুবক নই। এখন আমি ৫০টি বছর পেরিয়ে এসেছি। কাজেই আমার মধ্যে কোন ধরণের রোমান্টিকতা বা চোখে ঠুলি পরে কোন কিছু ভাবনার বয়স পার করে এসেছি। তাই কেউ আমাকে লম্বা সফরের কিচ্ছা শুনিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন না। ধন্যবাদ।

    Anonymous

    @মুনিম, দেখুন আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি এখন আমি ৫০টি বছর পেরিয়ে এসেছি। আপনি গত ৫০ বছরে অনেক মণিমাণিক্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি অনেক আবর্জনাও সঙ্ঘ করেছেন। আমরা ৩০ বছরে আপনার চেয়ে কম মণিমাণিক্য সংগহ করেছি এটা যেমন সত্য তেমনি এটাও সত্য আপনি গত ৫০ বছরে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি আবর্জনা সংগ্রহ করেছেন। তাই আপনার কথা থেকে হীরা জহরতের পাশাপাশি দুর্গন্ধের আসবাব বের হবে এইটাই স্বাভাবিক। এ পর্যায়ে আপনি দুর্গন্ধই ছড়াচ্ছেন।

    ইসলামে যে হুদুদের বিধান আছে সেটা কাউকে শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে নয় বরং আখেরাতে আল্লহ তায়া’লার বড় শাস্তি থেকে রেহাই দেয়ার জন্য এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমানোর জন্য। আল্লহ তায়া’লার শাস্তি থেকে রেহাই দেয়ার জন্য রজমই একমাত্র উপায় নয়। দেখুন এক ব্যক্তিকে যিনা করার অপরাধে রজম করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি দৌড়ে পালাতে চাইলে সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম তাকে ধরে এনে রজম করলেন। পরবর্তীতে রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ব্যাপারটা তোলা হলে তিনি বলেছিলেন তোমরা তাকে ছেড়ে দিতে। হতে পারে সে তওবা করে নিত। রজমের জন্য চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন পড়ে। অন্যথায় যারা অভিযোগ উত্থাপন করে তাদের উপরই হুদুদ বর্তায়। সাদা চোখে দেখলে বিধানটি হাস্যকর মনে হয় না? যে বা যারা যিনা করে তারা কি সাক্ষী রেখে করে? (ইদানিং কাফেরদের দেশে জনসমক্ষে যিনা করাটা একটা ফ্যাশান ও গৌরব :( ) আসলে উপরের দুটিই মুল ভিত্তি হুদুদের জন্য। তবে আরও আছে। দেখুন কেউ যদি গোপনে কোন গুনাহ করেই ফেলেই এবং রজমের শাস্তি মাথায় নেউয়ার মত তার হিম্মত নেই তবে কি তার জন্য তওবার রাস্তা বন্ধ? (যদি হ্যাঁ বলেন সেক্ষেত্রে আপনি কুরআনের আয়াত ও অসংখ্য হাদিসের মুনকির। আপনার সাথে আর কথা না) এখন মনে করুন কেউ রোযা অবস্থায় এমন কাজ করে ফেলল তখন তার জন্য কি রোযার আর কোন বিধান থাকবে না? শুধূ তওবার দ্বারা কি কাজা কাফফারা মাফ হয়ে যায়? তওবা দ্বারা ঐটাই মাফ হয় যা শুধরানোর আর কোন উপায় বান্দার তহাতে নেই। যেমন যিনা করা। রোযা সময় মত না রাখা। ইত্যাদি। কিন্তু রোযা রাখার সুযোগতো তার আছে। কাজেই এক্ষেত্রে বিধান থাকা আবজাব নয় বরং আপনার মুর্খতা।

    এখন কাফফারার বিধান। দেখুন কুরআনের আয়াত এবং হাদিসে বহু জায়গায় সহজ করার কথা এসেছে। কঠিন করতে বারন করা হয়েছ। হযরত আবুযার রদিয়াল্লহু আ’নহু কে খুলাফায়ে রাশেদার যামানায় অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল এই কারণে।আমি সাহাবাহ রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের খাটো করছি না (নাউযুবিল্লাহ) প্রসঙ্গক্রমে আসল। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও সহজ করেছেন। দেখুন। এক সাহাবী যিনার কথা স্বীকার করলে তিনি কতভাব তাকে পার করার চেষ্টা করেছেন। একইভাবে সহজ করার জন্য যিনার সংজ্ঞাও সহজ ভাবে দেয়া হয়েছে। অন্য কোন ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। আমি আলীম নই। তাই এখানে পানিঘোলা না করে কোন আলীমদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমিও খুব শিগগিরই করব ইনশাআল্লাহ। পোটা দাতা যে রেফারেন্স দিয়াছেন তা আদৌ সত্য কিনা কে জানে। কোন গ্রহণযোগ্য বাংলা অনুবাদের সন্ধান দিতে কৃতজ্ঞ হতাম। সহজ করা ইসলামের হুকুম কিন্তু অধিক সতর্ক্তার জন্য কঠিনটার উপর আমাল করার জন্য সবসময়েই উৎসাহিত করা হয়েছে। এই কারণে যদি ষাটটি রোযা রাখতে হয় তাহলে অনেকি ইসলাম থেকে দূরে সরে যারে। আর আগ্রহী হবে না।

    দেখুন সহীহ হাদীস আগের দিনের ফুকাহা কেরাম কম জানতেন না। তাঁরা অনেক সহীহ হাদিস সমন্বয় করেই ফতওয়া গুলো একত্রিত করেছেন। তবে এটাই চুড়ান্ত নয়। গবেষণা কখনওই থাকেনি। তাই “সহীহ হাদিস” এই শব্দ দুটির অপব্যবহার করবেন না। কম চিন্তাশীল ও কম জ্ঞানী মানুষ এভাবেই সরাসরি সহিহ হাদিস থেকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যান্য সহিহ হাদিসের অবমাননা করে থাকেন আর তারা নিজেদের মু্র্খতার কারণে জানেনও না। এই জন্যই মাযহাবের অনুসরণ সেফ। আপনি ইস্তেহাদী যোগ্যতা সম্পন্ন হলে আপনি সরাসরিও আমাল করতে পারেন। কিন্তু তা না হলে অবশ্যই অনধিকার চর্চা করছেন হাদিসের উপর এবং এই জন্য ধরা খেয়ে যাবেন হাশরের ময়দানে।

    তাই আমি বলব পোস্টদাতা এই পোস্টের আমাদের ইমামদের চরিত্র হননের জন্য জঘন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন। উম্মতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার এই অপচেষ্টা এই প্রথম নয়। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানাতেই কিছু মুনাফিক উম্মতের মধ্যে ফাটল ধরাতে চেয়চছিল। এই অপচেষ্টা পরে হয়েছে। কখনও কখনও তারা সফলও হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজও কিছু লোক এই অপচেষ্টায় লিপ্ত। আল্লহ তায়া’লা হিফাযত করেন।

    কোন ধরণের রোমান্টিকতা বা চোখে ঠুলি পরে কোন কিছু ভাবনার বয়স পার করে এসেছি।
    জ্বী আপনি ঐ বয়স পার করে এসেছেন কিন্তু ঐ বয়সে যে ঠূলি পড়েছেন তা আর খোলার সুযোগ পাননি। আজও ওটা আপনার চোখেই আছে। মেহেরবানী করে খুলে ফেলুন ওটা। মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লহ।

    আমার বিবেক বলছে
    আপনার বিবেকের গল্প আর শুনাবেন না মেহেরবানী করে। আপনাদের বিবেক তো আলবানী টাইপের কিছু অর্ধ শিক্ষিত আলীমদের কাছে বন্দি। (দেখুন আলবানীকে রহমাতুল্লহ আ’লাইহি খাটো করতে চাইনি। আপনাদের গোঁড়ামী উনার গ্রহণযোগ্যতাকে খাটো করে ফেলেছে। এই জন্য দায়ী আপনারাই। উনি কখনো কোন আলীমদের চরত্র হননের মত জঘন্য কাজে লিপত চছিলেন বলে আমার জানা নেই।)

    Anonymous

    @Anonymous, আপনাদের মত আধা শিক্ষিত লোক এই ১৪০০ বছর পড়ে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তুলছে। আর আগের দিনের ফুকাহা, উলামা কেরাম কি বসে বসে ফিডার খাচ্ছিলেন?

    বাগেরহাট

    @Anonymous,
    আপনি প্রমান করতে পারবেন শ্রদ্ধেয় ইমাম আবু হানিফা (রঃ) ই প্রচলিত হানাফী মাযহাবে স্রষ্টা ? অথবা তাঁর নামে যে মাযহাব প্রচলিত
    তার সব ফাতোয়াই তাঁর নিকট থেকে পাওয়া? মাযহাবের কিতাবগুলো দেখুন দেখবেন অসংখ্য জায়গায় ইমাম আবু হানিফা (রঃ) এর শিষ্যরা তাঁর বিপক্ষে ফাতোয়া দিয়েছেন । এর ফয়সালা করার মূলনীতি কী ইমাম আবু (রঃ) করে রেখে গিয়েছিলেন ? রাগের মাথায় নয়,
    মাথা ঠান্ডা করে উত্তর দিবেন আশা করি ।

    হাফিজ

    @বাগেরহাট,

    আপনি প্রমান করতে পারবেন শ্রদ্ধেয় ইমাম আবু হানিফা (রঃ) ই প্রচলিত হানাফী মাযহাবে স্রষ্টা ? অথবা তাঁর নামে যে মাযহাব প্রচলিত
    তার সব ফাতোয়াই তাঁর নিকট থেকে পাওয়া?

    কেউ কি দাবী করেছে হানাফী মাজহাবের সব ফতোয়া ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এর ? এটা তো কেউ কখনও দাবী করেনি ।
    হানাফী মাজহাব বলতে বুঝায় “মাসআলা” বের করার যে মুলনীতি সেটা ইমাম আবু হানিফা (রহ:) বের করেছেন এবং আরো অনেক তৎকালীন মাসআলা উনি এবং ওনার হাজার হাজার ছাত্র ( যাদের অনেকেই মুজতাহিদ ছিলেন ) মিলে সম্মিলিত ভাবে পর্যালোচনা করে বের করেছেন ।

    বাগেরহাট

    @হাফিজ,
    দেখুন মাযহাব সর্ম্পকে সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষে কী বল আছে…
    “সুক্ষভাবে বিচার করলে প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম মালিক (রঃ) এবং ইমাম আবু হানিফা (রঃ) কেহই কোন মাযহাবী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন নাই ।…….অসাধারন ব্যাক্তিত্ব,বিদ্যাবত্ত্বা এবং কৃতিত্বের কারনে এই দুই ইমামের নাম দুই মাযহাবের সহিত যুক্ত হইয়া যায় কিংবা তাঁহাদের শিষ্যগণ যুক্ত করিয়া দেন । তবে শিষ্যগণ, বিশেষত আবু হানিফা (রঃ) এর শিষ্যগণ সর্ব বিষয়ে তাঁহাদের উস্তাদের সহিত একমত হইতে পারেন নাই ; বরং ভিন্নমত পোষন করিয়াছেন এবং কখনও ভিন্ন মাযহাবের সহিত একমত হইয়াছেন ।
    সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ,২য় খঃ ইসঃ ফাঃ পৃঃ ১৬৮ ।
    শ্র্রদ্ধেয় ইমাম আবু হানিফা (রঃ) যে মাযহাব তৈরী করেন নি , সেই মাযহাবের বিরোধগত মাসআলার দায়ভার কী কেয়ামতের দিন ইমাম সাহেব নিবেন? দায়িত্বভার তো নিবেনই না কারন তিনি বলে গেছেন, “যখন কোন সহীহ হাদিস পাবে যেনে রেখো সেটাই আমার মাযহাব।”
    শামী ১/৪৬ পৃঃ ।
    কোনটা মানবেন শিষ্যদের যুক্ত করে দেওয়া মাযহাব নাকী ইমাম আবু হানিফা (রঃ) এর নির্দেশ দিয়ে যাওয়া সহীহ হাদিসের মাযহাব ?
    শিষ্যদের তৈরী করা মাযহাবের কিতাব থেকে কিছু সহীহ হাদিস আপনাদের তাকলীদের জন্য পেশ করলাম ঃ

    ১) “কেবলমাত্র নিকাহ হয়েছে এবং বর-কন্যা এখোনো বিদায় হয় নাই , মজলিসেই আছে ইতিমধ্যে শোনা গেল যে, কন্যার একটি সন্তান প্রসব হয়েছে। ঐ সন্তানকে বর্তমান স্বামীর সন্তান বলতে হবে । ঐ সন্তান হারামের সন্তান নয় ।” বেহেশতী জেওর উর্দ্দু, ৪র্থ খঃ মাসালা ৯, পৃঃ ২৫৬ ।
    ২)” স্বামী যদি বহু বছর ধরে বিদেশে থাকে আর এদিকে যদি বছর বছর স্ত্রীর সন্তান হতে থাকে ,ঐ সকল সন্তানকে হারামীর সন্তান বলা যাবে না। স্বামীর সন্তান বলতে হবে ।” ঐ, পৃঃ ২৫৫ ।
    ৩) ” কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে দুবছরের মধ্যে যদি মহিলার সন্তান হয় তাহলে সে সন্তান মৃত্যু স্বামীর সন্তান বলে অবিহিত হবে ।”
    ঐ, পৃঃ ২৫৫ ।

    Biplobi

    @বাগেরহাট, (F) (F)

    হাফিজ

    @বাগেরহাট,

    ব্রাদার আপনাকে একটি প্রশ্ন , উত্তর দিলে খুবই খুশী হবো :

    আপনি নামাজ কিভাবে পড়েন ? অর্থ্যাৎ কোনো সিস্টেমে পড়েন ?

    বাগেরহাট

    @Anonymous,
    পোষ্টের ব্যপারে কী আর কোন আলোচনা নেই ?
    আপনাদের আলোচনা থেকে আমি আমার পোষ্টের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্তে আসতে পারি?
    অর্থাৎ প্রচলিত হানাফী মাযহাবের কিতাবে যত ফাতাওয়া আছে সব ফাতাওয়ারই কী তাকলীদ করা সম্ভব?
    ঐ অল্প বয়স্কা মেয়েটা যদি আপনার মেয়ে হত বা বোন বা নিকট আত্মীয় হত তাহলেও ধর্ষককে কোন কাফফারাই দিতে হবে না এটা বীনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিতেন?
    তারপরও বলছি নিজের সলাতের সিস্টেমটা দলীলসহ আগে দিন তারপর না হয় আমি আমার সলাত পড়ার পদ্ধতি প্রমানসহ আপনাকে দিব্ ।

    Anonymous

    @Anonymous,দুঃখিত, গবেষণা কখনওই থাকেনি। এইভাবে পড়তে হবে “গবেষণা কখনওই থেমে থাকেনি।” এরকম আরও কিছু বানান ভুল আছে একটু কারেকশন করে নিয়েন।
    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দিয়েন। এই মাসায়ালার বিরোধ অনেক দিনের। এই নিয়ে এখানে পোস্ট না দিলেই কি নয়। কত জরুরী ইস্যু আছে। ঈমানী কোন আলোচনাও দেখি না আমাদের ব্লগে। অথচ ঈমানী আলোচনা বা ঈমানী মেহনত সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের মূল মেহনত ছিল।

    সাহাবাহ কেরাম থেকে চলে আসছে এই ভিন্নমত। দেখুন ভিন্নমত কিন্তু মতবিরোধ নয়। ভিন্নমত ছিল কিছু একে অপরকে কখনো খাটো করতে চাননি। নিজের মত চাপিয়ে দেয়ার জন্য অন্যের মতগুলোকে ভুয়া বা ভুল প্রমাণিত করার জন্য উঠে পড়ে লাগেনি। অবশ্য মেজর ভুল থাকলে তা বিরোধিতা করতে পিছ পা হননি। এইজন্যই কাদরিয়া, মারজিয়া,খারেজী এরা পাত্তা পায়নি। আর যে ভিন্নমত গুলো চলে আসছে তা দলীল আছে বলেই টিকে আছে। এনিয়ে অনেক লম্বা আলোচনার ব্যাপা। এত সময় বের করাও মুশকিল। কিন্তু আমরা এই বষয়ে একমত হতে পারি কিনা যে আমরা নিজেদের মতাত্মত প্রচার করব কিন্তু কারও মতামত আমাদের পু্র্বব্তী খাটো করব না। এজন্য ইতি মধ্যেই অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়ে গছে। এর দ্বারা কোন কিছু সমধান হয় না। শুধুই কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। ইসলাম সম্পর্কে কম জানা বা অনাজা কেউ যদি ইসলামের পিপাসা নিয়ে এই ব্লগে এসে এই কাদা ছুড়াছুড়ি দেখে সে ইসলামের কি সবক হাসিল করবে? সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম উনারা বিরোধ বড় ভয় পেতেন। উনারা বিরোধ এড়িয়ে যেতেন যেকোন মূল্যে। দেখুন।

    যাই হোক আমরা এই আলোচনা বনধ করে দিই।

    মুনিম

    @Anonymous, @মুনিম, দেখুন আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি এখন আমি ৫০টি বছর পেরিয়ে এসেছি। আপনি গত ৫০ বছরে অনেক মণিমাণিক্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি অনেক আবর্জনাও সঙ্ঘ করেছেন। আমরা ৩০ বছরে আপনার চেয়ে কম মণিমাণিক্য সংগহ করেছি এটা যেমন সত্য তেমনি এটাও সত্য আপনি গত ৫০ বছরে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি আবর্জনা সংগ্রহ করেছেন। তাই আপনার কথা থেকে হীরা জহরতের পাশাপাশি দুর্গন্ধের আসবাব বের হবে এইটাই স্বাভাবিক। এ পর্যায়ে আপনি দুর্গন্ধই ছড়াচ্ছেন।

    মিস্টার/মিসেস Anonymous, কথায় বলে বৃক্ষের পরিচয় তার ফলে। আপনারও পরিচয় মিলেছে উপরের কথা থেকে। প্রথমতঃ ভার্চুয়াল জগত হলেও বেনামী নিকের কারো সাথে আমি কখনও কথা বলতে চাইনা। সেহেতু আপনার করা কমেন্টে আমি কোন উত্তর দেই নাই।
    এখানে একজন ব্লগার শরীয়তী আইনের কয়েকটি শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে আমার বিবেকে যা ভাল মনে করেছি তা বলেছি। জোর করে তা আপনার গলায় ঢেলে দেই নাই। যা আপনার পাকস্থলীতে গিয়ে বদমহজম করবে।

    ব্লগ হলো মুক্ত ভাবে কথা বলার জায়গা। তাই এখানে তালেবানী কায়দায় ঝাপিয়ে পড়া উচিত নয়। এখানে পোস্টদাতার যে কিছু উল্লেখ করেছেন তা আপনার আলোচনা থেকে প্রমাণিত যে আপনি সে বিষয়ে জ্ঞান নাই। তাই এই বিষয়ে প্রধাণ সাবজেকটকে পাস কাটিয়ে যাবার জন্য জিলাবীর মত না প্যাচায়ে চুপ থাকাই ভাল।

    আমিতো বলেছি আমি কোন মাদ্রাসার ছাত্র না। তবে জীবনের ২৫ বছর মুসলিম বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে কাটিয়ে এসেছি। ঐ দেশের মুসলমান তারা আরবী কাজেই তারা অনারী মুসলমান থেকে ইসলাম সম্পর্কে বেশি জানবে তা স্বাভাবিক। মনে বিদেশে ঐ সময় শুধু খাদমা দেই নাই গভীর ভাবে ওদের সাথে মিশেছিও। কাজেই আমার অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে আমি আবর্জনা মনে করিনা। বরং যারা পুথিগত জ্ঞান নিয়ে তালেবানী কায়দায় মানুষত্বকে অপমান করে তাদের জ্ঞানকেই আবর্জনার স্তুপ বলে ভাবলে এরজন্য কি আমার অপরাধ হবে?

    শুনেন ধর্মের বিষয়ে আমার বিশেষ কোন এলার্জি নেই, আমি নিজকে, ওয়াবী, হানিফী, আলবানী, তালেবনী বা কোন জামাত ভুক্ত মনে করিনা। তবে জনাব ইউসূফ কারযাভী সাহেবের লেখার সাথে নিজকে একাত্বতা বোধ করি।

    ফুয়াদ

    @মুনিম,

    ভাল বলেছেন, কিন্তু আপনি মহামারী প্লেগ এর বিষয় ই তো আনলেন না। প্লেগ ইদুর থেকেই আসত, আমি যতদূর পড়েছি।

    মুনিম

    @ফুয়াদ, এখানে বিষয় প্লেগের নয়। এক কঠিণ জীবন যাপিত মানুষদের সময়ের আইন নিয়ে এখানে কথা হচ্ছে ভাই। এই প্রেট্টোডলারের মালিক হবার আগ পর্যন্ত ওরা ফকির দুনিয়ার লোকছিল । সে সময়ে ওরা জীবন ধারণের জন্য ইঁদুরও খেত। এখনও মধ্য এশিয়ার মুসলমানরা ইঁদুর খেয়ে থাকে।

    Anonymous

    @মুনিম, আমি আশা করেছিলাম আপনার গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে পয়েন্ট ধরে ধরে ব্লগের ইসলামী বিশেষজ্ঞরা মূল্যবান দরস দিবেন।
    এটাই আমাদের সমস্যা। আমরা দ্বীনের ব্যাপারে সর্টকাট রাস্তা খুঁজি আর দুনিয়া কামানোর জন্য বছরের পর বছর বরং যুগের পর যুগ বিদেশে বিভুঁইয়ে পড়ে থাকি। এমনকি অনেকে চিরজীবনের জন্য হিযরত করছেন। আর সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম এই কাজগুলো দ্বীনের জন্য করতেন। পরবর্তীতে তাবেয়ীন ও সালফে সালেহীনদের জামাতও তাঁদের অনুসরণ করেছেন। হযরত ইবনে আ’ব্বাস রদিয়াল্লহু আ’নহুমা একটি হাদিস শেখার জন্য সুদূর সিরিয়া গিয়ে ছিলেন মাদীনা থেকে। আর যাঁর কাছে গিয়েছিলেন তিনি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুহাব্বাতের খাতিরে হলেও খবর পেলে নিজেই যেতেন; তাও ইবনে আ’ব্বাস রদিয়াল্লহু আ’নহুমা পছন্দ করেননি বরং নিজেই গিয়েছেন। ইলম থেকে ফায়দা পাবার জন্য এবং ইলমথেকে সহীহ দ্বীনের সবক হাসিল করার জন্য এবং ইলম থেকে আল্লহ তায়া’লার নৈকট্য ও মারেফাত হাসিলের জন্য সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুমদের এই ব্যবস্থার বিকল্প নেই। আর আমরা আশা করে রেখেছি ঘরে বসে ইন্টারনেটে বসেই সব ইলম শিখে ফেলব। এইজন্যই দেখা যায় আমরা হাদিসের ইলম হাসিল করা সত্ত্বেও ওগুলোর উপর আমাল করতে শেখার পরিবর্তে অন্যমত পোষণ কারীদের গালিগালাজ করতে শিখি।

    এখন প্রশ্ন আলীমরা (বিশেষতঃ আমাদের দেশিয় আলীমরা) ইন্টারনেটে আসেননা কেন? খুবই স্বাভাবিক বাংলাদেশের দ্বীনী প্রতিষ্ঠান গুলোর অবকাঠামো এখনও উন্নত করা যায়নি। আর্থিক সংকট এবং পারস্পরিক দলাদলি এর পিছনে বড় কারণ। অনেক মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যারা টিকে আছে তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এই উলামা কেরামদের প্রচুর তাকাজায় ব্যস্ত থাকতে হয়। মাদ্রাসার খেদমত, মাসজিদের খিদমত, দাওয়াতী খিদমত, কিতাব লেখা, গবেষণা, বিভিন্ন ফিতনার মোকাবেলা, প্রকাশনা, সামাজিক সংস্কার, নিজেদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জরুরত ইত্যাদি। এই সমস্ত জিনিসগুলো সামাল দেয়ার মত লোক খুবই কম; বিশেষতো প্রয়োজনের তুলনায়। এরপরও কিছু আলীম আসছেন অনলাইনে। আস্তে আস্তে পরিস্থিতি আরও উন্নতিও হবে আশা করি। আমাদের এই ব্লগে যারা আছেন আমার মনে হয় তারা কেউই আলীম নন। এখানকার লোকজন মোটামুটি সৌখিন দায়ী’ বলা যেতে পারে। আর জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ইলম শেখার চেষ্টায় মগ্ন।

    এই সব আবজাব যে ইসলামী স্কলার এই বইতে সংকলন করে গেছেন তিনি যে বিবেক বুদ্ধিহীন একজন অন্ধ তাকলিদ পন্থী ছিলেন তা উনার সংকলনের এইসব সংকলিত দেখলে বুঝায়।
    দেখুন আপনার এই কথাটি আপনার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা বরং আমি বলব আপনার মূর্খতার প্রমাণ দেয়। আমি বরাবরই বলে আসছি এই ভাবে কোন লেখাথেকে আধা প্যারা তুলে দিবেন না। এতে মূলভাব অস্পষ্ট থেকে যায়। যিনি দুররে মুখতার লিখেছেন উনি তো রেফারেন্স ছাড়া লিখেন নি। আগে উনার রেফারেন্স উল্লেখ করতে হবে। এরপর ঐ রেফারেন্সকে হাদিস কুরআনের ভিত্তিতে কাটতে হবে। একটা সাংঘর্ষিক হাদিস উল্লেখ করবেন আর লেখক কে বিবেকহীন অনদধ বলে উল্লেখ করবেন এটা রীতিমত জুলুম। কামরান মির্জার কথা মনে আছে? কুরআন শরীফের মধ্যে অনেক কন্ট্রাডিকশন বের করছিল। সাদা চোখে দেখলে আসলেই কন্টাডিকশন। কিন্তুওগুলোর ব্যাখ্যা আছে। একই ভাবে হাদিসেও অনেক কিছুই এমন কিন্তু ব্যাখ্যা আছে। ব্যাখ্যা না জেনে, রেফারেন্স না জেনে ধমাধম বিবেখীন বলবেন এটা আপনার বিবেক কেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

    দেখুন একটা জিনিস কবিরা গুনাহ, হত্যা যোগ্য অপরাধ, তাই বলে এরজন্য অন্য কোন আমালের সম্পর্কোথাকবে না? যেমন গিবাত করা, যিনার চেয়েও বড় অপরাধ োাই বলে কি এতে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। যিনা হত্যাযোগ্য তাই বলে রোযার জন্য ভিন্ন মাসায়ালা থাকবে না? অদ্ভুত আপনাদের যুক্তি। আমি রুরর মুখতারের কথা বলছি না। আরো অনেক কিতাব আছে। এটাই চুড়ান্ত কিতাব নয়। কোন সংগতি থাকলে অবশ্যই প্রতিবাদ করবেন কিন্তু এর জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ে আছে। এভাবে গালাগালি উম্মতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য কি?

  8. বাগেরহাট ভাই যে হাদীসগুলো উল্লেখ করেছেন, তা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। উনি সবাইকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন।
    ১ম ও ২য়টির ব্যাখ্যা মুনিম ভাই যেভাবে দিয়েছেন সেভাবে হতে পারে, আবার অন্য ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। আর ৩য়টি বাগেরহাট ভাই যে হাদীস উল্লেখ করেছেন সেটি“নিজ স্ত্রীর” ব্যাপারে কিন্তু মাযহাবের মত উল্লেখ করেছেন “মৃত মহিলা, অল্প বয়ষ্কা মেয়ে, চতুষ্পদ পশু” সংক্রান্ত। এখানে হাদীসের বিরোধীতা কোথায়? তিনি সূক্ষ চাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন।

    স্পষ্টত:ই বাগেরহাট ভাই সবাইকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন।

    বাগেরহাট

    @মাহমুদ,
    মাহমুদ ভাই, “স্পষ্টতই বাগেরহাট ভাই সবাইকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন” আমাকে দায়ী করার আগে প্রথমেই আপনার উচিত ছিল এটা প্রমান করা যে আমি যে পোষ্ট দিয়েছি এবং তাতে বিষয়গুলোর গুলোর জন্য যে রেফারেন্স দিয়েছি সেটা ভুল । অথবা উক্ত বক্তব্যগুলো সঠিক হলে তারও যে গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা আছে সেটা প্রমান করা । তা না করে সবাই যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তার উৎস হল.. আমার মনে হয়,
    শুনেছি, মুফতী সাহেবদের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে , আমার নিজস্ব ব্যাখ্যা ইত্যাদি । কী অদ্ভুদ সব উৎস ?
    এই ধরনের উৎস ব্যবহারের আগে আপনাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ আল হিদায়ার কিছু বানী মনে রাখার জন্য অনুরোধ করছি ।
    ” অপ্রতিদ্বন্দীতার দিক থেকে কুরআনের মতই আল -হিদায়া গ্রন্থ রচিত হয়েছে । শরীয়াতের বিষয়ে এর আগে এ ধরনের কোন কিতাব কেউ রচনা করেন নি ।” আল – হিদায়া, ইসঃফাঃ পৃঃ ১০ । একটু খেয়াল করুন শরীয়াতের কত উচুমানের কিতাব যেখানে কুরআনের আগে “আল ” শব্দটি পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়নি অথচ হিদায়ার ক্ষেত্রে “আল ” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে । এ গ্রন্থের যে রেফারেন্স দেওয়ার জন্য প্রসংগ টানলাম সেটা হলো এখানে ইমাম থেকে শুরু করে বর্তমানের আলেমদের কে সাতটি স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে ।সেখানে বর্তমানের আলেমরা হল সপ্তম স্তরের মুকাল্লিদ । এই মুকাল্লিদদের জন্য এই গ্রন্থে করনীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে ” সপ্তম স্তর হলো নিছক মুকাল্লিদীনের স্তর । তাঁরা ফিকাহর নির্ভরযোগ্য কোন কিতাবের অনুসরনে মাসলা- মাসায়েল বর্ণনা করেন ।” পৃঃ ষোল । তাই নিজের থেকে কোন কিছু ব্যাখ্যা না করে ফিকাহর কোন নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা করবেন সকলে এই আশা নিশ্চয়ই করতে পারি ।
    উপরের পোষ্টের মতগুলো হয়ত ব্যাখ্যা সাপেক্ষ তাই কম ব্যাখ্যা সাপেক্ষ কয়েকটি মত ফিকাহর কিতাব থেকে বর্ণনা করলাম আশা করি এগুলোর তাকলীদ করতেও কোন সমস্যা হবে না ।
    ১) “কেবলমাত্র নিকাহ হয়েছে এবং বর-কন্যা এখোনো বিদায় হয় নাই , মজলিসেই আছে ইতিমধ্যে শোনা গেল যে, কন্যার একটি সন্তান প্রসব হয়েছে। ঐ সন্তানকে বর্তমান স্বামীর সন্তান বলতে হবে । ঐ সন্তান হারামের সন্তান নয় ।” বেহেশতী জেওর উর্দ্দু, ৪র্থ খঃ মাসালা ৯, পৃঃ ২৫৬ ।
    ২)” স্বামী যদি বহু বছর ধরে বিদেশে থাকে আর এদিকে যদি বছর বছর স্ত্রীর সন্তান হতে থাকে ,ঐ সকল সন্তানকে হারামীর সন্তান বলা যাবে না। স্বামীর সন্তান বলতে হবে ।” ঐ, পৃঃ ২৫৫ ।
    ৩) ” কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে দুবছরের মধ্যে যদি মহিলার সন্তান হয় তাহলে সে সন্তান মৃত্যু স্বামীর সন্তান বলে অবিহিত হবে ।”
    ঐ, পৃঃ ২৫৫ ।
    আপাতত এইটুকু । তবে খেয়াল করবেন আপনারা সকলে আপনাদের কিতাবের ভাষায় সপ্তম স্তরের মুকাল্লিদ ।

    Anonymous

    @বাগেরহাট, শুনেছি, মুফতী সাহেবদের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে , আমার নিজস্ব ব্যাখ্যা ইত্যাদি । কী অদ্ভুদ সব উৎস ?
    যে জানে না সে যে জানে তার কাছে জিজ্ঞাসা করবে না তো কার কাছে জিজ্ঞাসা করবে? আপনারা কি চাচ্ছেন মানুষ না জানুক? যাতে কিনা আপনাদের মতামত গ্রহণ করা ছাড়া উপায় না থাকে? এখন আপনিই বলুন আপনি কোন স্তরের মুকাল্লিদ আমাদের বানাতে চান? যে জিনিসটা জানা নেই তা আলীমদের কাছ থেকে নােজেনে আপনাদের মত মুর্খদের কাছ থেকে জানতে বলতেছেন? এতে করে তো সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম যে আশংকা করেছিলেন তা খুব তাড়াতাড়িই বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। (ইলম মুর্খদের হাতে চলে যাবে)

    ” অপ্রতিদ্বন্দীতার দিক থেকে কুরআনের মতই আল -হিদায়া গ্রন্থ রচিত হয়েছে । শরীয়াতের বিষয়ে এর আগে এ ধরনের কোন কিতাব কেউ রচনা করেন নি ।” আল – হিদায়া, ইসঃফাঃ পৃঃ ১০ । একটু খেয়াল করুন শরীয়াতের কত উচুমানের কিতাব যেখানে কুরআনের আগে “আল ” শব্দটি পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়নি অথচ হিদায়ার ক্ষেত্রে “আল ” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ।

    এটা একজনের মতামত। এটা দিয়ে মাযহাবের গ্রহণযোগ্যতার উপরে প্রশ্নতোলা কতটুকু যৌক্তিক? “আল” এটা লেখকের ভুল। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যাই হোক ভুল নিয়ে রাজনীতি করার মানে কি?

    এই মুকাল্লিদদের জন্য এই গ্রন্থে করনীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে ” সপ্তম স্তর হলো নিছক মুকাল্লিদীনের স্তর । তাঁরা ফিকাহর নির্ভরযোগ্য কোন কিতাবের অনুসরনে মাসলা- মাসায়েল বর্ণনা করেন ।”
    আপনার মিথ্যাচারের আরেকটী নমূনা এটা। যেস্তরের কথা বলা আছে তা সাধারণ স্তরভেদ। কিন্তু ফিকাহ, হাদীস, কুরআন নিয়ে গবেষণা কোথাও নিষেধও করা হয়নি। এবং থেমেও থাকেনি। আমাদের বাংলাদেশেই অনেক মাদ্রাসায় উচ্চ গবেষণা কেন্দ্র আছে। হ্যাঁ দুঃখের বিষয় পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষোকতার অভাবে অনেক লিমিটেশন তাদের আছে। ভাল ছাত্রও সব সময় পাওয়া যায় না। কিন্তু থেমে নেই। আলহা’মদুলিল্লাহ বেশ কিছু যোগ্যতা সম্পন্ন আলীম তৈরীও হচচছে। ইনশাআল্লহ সামনে আরও হবে। এইজন্যই আপনাদের গ্রাত্রদাহ। আপনারা আগে কখুব সহজেই মানুষকে ধোঁকা দিতে পারতেন। এখন আর পারছেন না।

    আপনি যে গুলো উল্লেখ করচছেন ওগুলো আদৌ আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি থেকে থাকে োার ব্যাখ্যাও নিশ্চয়ই আছে। (আব্দুল) হাফিয ভাই আগেই এব্যাপারে উল্লেখ করেছেন। রেফারেন্স জেনে এর পর প্রশ্ন তুলবেন।

  9. প্রথমত, মাযহাব হচ্ছে মানদন্ড।
    দ্বিতীয়ত, মাযহাবের কোন মাসআলা যদি কুরআনের আয়াত বা রাসূলের হাদীস মাযহাবের বিপরীত প্রমাণিত হয় তবে তার অর্থ তাভীল করা হবে অর্থাৎ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এমনভাবে করা হবে যাতে মাযহাবের সাথে খাপখাওয়ানো যায়।
    তৃতীয়ত, মাযহাবের কোন মাসআলা যদি সহীহ হাদীসের বিরুধী হয় তাহলে প্রথমে সহীহ হাদীসটিকে যঈফ প্রমাণের চেষ্টা করতে হবে আর তা যদি না হয় তাহলে সেই হাদীসটিকে মানসুখ বলে প্রচার করতে হবে- বলতে হবে হাদীসটি মানসুখ হয়ে গেছে।

    মাযহাব প্রমাণ করার নীতি এভাবেই হয়ে আসছে সেই হিজরী তৃতীয় শতক থেকে। এখানে যে বিতর্ক হচ্ছে তা নতুন কিছু নয়। এই মূলনীতি তিনটি হানাফী মাযহাবের বড় নেতা আবুল হাসান আল-কারখী (২৬৪-৩৪০ হিঃ) এর জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যা ইমাম যাহাবী ‘সিয়ারে নুবালা’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন।(অসূলে কারখী অসূলে বায়দাভীসহ মুদ্রিত, ছাপা করাচী নূর মুহাম্মদ প্রেস (৩৭৩-৩৭৫) পৃষ্ঠা।)

    মাহমুদ

    @manwithamission, বুঝলাম, আপনি শুধু তর্ক করার জন্যই তর্ক করেন আর এ কারনেই আপনার ব্লগে আসা। অপরের মতকে রেসপেক্ট করার মত মানসিকতা আপনার অন্তত তৈরি হয়নি। আপনি যেভাবে বর্ননা করলেন তার মধ্যে বিদ্বেষভাব সুস্পষ্ট। “মূলনীতি তিনটি”- যদি গ্রন্থটিতে হুবহু আপনি যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেভাবে না থাকে তাহলে আপনি মিথ্যা বললেন, মিথ্যা অপবাদ দিলেন, ধোকাবাজী করলেন। আপনার বিবেকের কাছে আপনি সচ্ছ আছেন তো !

    Anonymous

    @মাহমুদ, সামহোয়ারে উনার একটি পোস্টে দেখেছিলাম একটি হাদিস উনি কিভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন। মাদীনার পূর্ব দিক হইতে একটি জামাত হাজির হবে…………। অথচ প্রতিষ্ঠিত মত হল এই হাদিসে যে জামাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটা সাবায়ীদের জামাত (মুনাফিক আ’ব্দুল্লহ বিন সাবা এর জামাত) যারা উসমান রদিয়াল্লহু আ’নহু এর হত্যাকান্ডের উস্কানি দাতা ছিল। একাধিক সাহাবী রদিয়াল্লহু আ’নহুম এদের ব্যাপারেই এই হাদিস উল্লেখ করেছেন। আশ্চর্য আজও এই হাদিস নিয়ে কিছু আহলে নফস পানি ঘোলা করার চেষ্টা করে। মজার ব্যাপার হল উনি বিশাল এক হাদিস বর্ণনা করেছেন সেখানে। অথচ মূল হাদিস উনার বর্ণনা করা হাদিসের এক তৃতীয়াংশ। ওখানে এক ভাই ঐ হাদিস উল্লেখ পূর্বক তার এই মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছেন। উনি এর গ্রহণযোগ্য কোন প্রতিউত্তর করতে পারেন নি।

    এদের বৈশিষ্ট্যই এটা যে কিছু মিথ্যা কথা, কিছু বিকৃত উপস্থাপনার দ্বারা সাধারণ, কম চিন্তাশীল মানুষদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে কেউ এর জবাব দিলে উহার যথার্থ উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে নতুন বিতর্ক উত্থাপন করেন। আসলে এদের কাছে জবাব থাকলে না জবাব দিবে।

    এব্যাপারে আমি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদিস উল্লেখ করতে চাই। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম মুনাফিকদের ৩ টি আলামত বলেছেন, এর মধ্যে একটি হল এরা যখনই কথা বলে মিথ্যা বলে। আমি আমাদের এই ব্লগে এমন কিছু লোক দেখেছি যারা বিভিন্ন পোস্টে প্রচুর মিথ্যাচার করেছেন। আল্লহ তায়া’লাই ভাল জানেন, হতে পারে এরা রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানার ঐ জামাতের উত্তরসূরী যারা ইসলামের ভিতরে ঢুকে মুসলমান সেজে ঘুনে পোকার মত ইসলামের কাঠামো ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল।

    আল্লহ তায়া’লা হিফাযত করেন।

    Anonymous

    @manwithamission,হেহে ভাইজান ভাল আছেন তো? বেশ কিছু দিন পড়ে আপনার ফিরে আসা। সরি আমার জন্য আপনাকে ব্যান করা হয়েছিল। আমি কিন্তু ঐ প্রশ্নগুলোর উত্তর পাইনি। আবার নতুন কিছু মূলনীতির গল্প শুনলাম। ভালো! ভালো!! আপনাদের মত কিছু ভাইদের কল্যাণে আমরা নতুন নতুন জ্ঞান হাসিল করতে পারতেছি। আল্লহ তায়া’লা আপনাদের মঙ্গল করেন। সঠিক রাস্তা দেখান।

    manwithamission

    @Anonymous, আল্লহ তায়া’লা আপনাদের মঙ্গল করেন। সঠিক রাস্তা দেখান।

    সুন্দর একটি দোয়া করার জন্যে শুকরান, জাজাকাল্লাহ।

    Anonymous

    @manwithamission, :) আসুন শত্রুতা ভুলে যাই।

    Biplobi

    @manwithamission, (F)

  10. এমন বিষয় সামনে আনলেন সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা ব্লগারদের পক্ষে কষ্টসাধ্য, অনেক ক্ষেত্রে দু:সাধ্য।
    এক.
    দয়া করে হাদিসগুলোর রেফারেন্স দেন।

    দুই.
    আপনি যে প্রতি পয়েন্টে দু ধরণের বর্ণনা দিলেন, আসুন সেগুলো একটু ভালো করে দেখি:

    পয়েন্ট ১:
    ১ম বর্ণনা: “যদি” ইদুর পড়া ঘি “পানির মত তরল হয়” তাহলে তোমরা তার নিকটেও যেওনা ।
    বিশ্লেষণ: বর্ণনাটা শর্তযুক্ত। এই শর্ত না পাওয়া গেলে তখন কী করতে হবে? [পোস্টদাতা জানাবেন আশা করি]

    ২য় বর্ণনা: দুধ,মধু ,ঘি,আঙ্গুরের রস এবং তেলে ঐ জাতীয় প্রাণী পড়ে গেলে তাকে আগুনে গরম করতে হবে এবং তিনবার উতলে উঠলেই সেগুলো পাক হয়ে যাবে।
    বিশ্লেষণ: বর্ণনাটা সাধারণ/ব্যাপক। শর্তযুক্ত করে এর ব্যাপকতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলার স্কোপ রয়েছে।

    যদি ১ম বর্ণনা ইঁদুর ঘি-তে পড়ে মরে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়[সম্ভাবনা সেটারই বেশি]
    আর ২য় বর্ণনা ইঁদুর ঘি-তে পড়েছে শুধু মরে নাই এই ক্ষেত্র প্রযোজ্য হয়, তবে দুটো বর্ণনার মধ্যে কোন বিরোধ থাকে না।

    যেমন ধরুন:
    যদি উভয় বর্ণনা একসাথে এভাবে বলি;
    দুধ,মধু ,ঘি,আঙ্গুরের রস এবং তেলে ঐ জাতীয় প্রাণী পড়ে গেলে তাকে আগুনে গরম করতে হবে এবং তিনবার উতলে উঠলেই সেগুলো পাক হয়ে যাবে। কিন্তু “যদি” ইঁদুর পড়া ঘি “পানির মত তরল হয়” তাহলে তোমরা তার নিকটেও যেওনা ।

    সেক্ষেত্রে কোন বিরোধ থাকে না।

    পয়েন্ট ২:

    ১ম বর্ণনা: শরীরের কোন স্থানে অপবিত্রতা স্পর্শ করলে, পেশাব, পায়খানা ,বীর্য লেগে গেলে পানি দিয়ে “ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করলেই” তা পবিত্র হয়ে যায় ।
    বিশ্লেষণ:
    ২.১.১ এখানে পবিত্রতার একটি উপায়(স্বাভাবিক উপায়) বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এটাকে একমাত্র উপায় বলা হয় নাই। আরো উপায় থাকার স্কোপ রয়ে গেছে।
    ২.১.২ বর্ণনাটা ব্যাপক যে অঙ্গের জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ কোন অঙ্গের জন্য এই উপায়ের বাইরেও উপায় থাকার অবকাশ আছে।

    ২য় বর্ণনা:হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি এবং স্তন অপবিত্র হয়ে গেলে তিনবার জিহ্বা দিয়ে চাটলেই তা পাক ও পবিত্র হয়ে যায় ।
    বিশ্লেষণ:
    ২.২.১ এখানে পবিত্রতার একটি উপায়(যা স্বাভাবিক নয়) বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এটাকে একমাত্র উপায় বলা হয় নাই। আরো উপায় থাকার স্কোপ রয়ে গেছে।
    ২.২.২ বর্ণনাটা ব্যাপক নয়, বিশেষ অঙ্গের জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ কোন অঙ্গের জন্য এই উপায়ের বাইরেও উপায় থাকার অবকাশ আছে।

    হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি এবং স্তন অপবিত্র হয়ে গেলে ধুয়ে ফেললে যে পবিত্র হবে, প্রথম বর্ণনা থেকে তা যেমন নিশ্চিত, ২য় বর্ণাতেও তার বিপরীত কোন বক্তব্য নাই।
    প্রশ্ন হল কারো কনিষ্ঠাঙ্গুলি অপবিত্র হলো, তিনি ভুলে গেলেন। এরপর কিছু একটা খেয়ে কনিষ্ঠাঙ্গুলি তিনবার চাটলেন। এরপর তার মনে হলো যে তার কনিষ্ঠাঙ্গুলি অপবিত্র ছিল। এখন এই কনিষ্ঠাঙ্গুলি পাক করার জন্য তাকে পানি দিয়ে ধুতে হবে কিনা?

    আবার ধরুন কারোস্তন অপবিত্র হয়ে গেলে

    সাদাত

    @সাদাত,

    [প্রথম কেমন্ট শেষ করার আগেই অনিচ্ছাকৃত ভাবে প্রকাশ হয়ে গেছে। পরের অংশ...]

    আবার ধরুন কারো স্তন অপবিত্র হয়ে গেল, তিনি ভুলে গেলেন। এরপর তার বাচ্চা স্তন তিনবার চাটল। এরপর তার মনে হলো যে তার স্তন অপবিত্র ছিল। এখন এই স্তন পাক করার জন্য তাকে পানি দিয়ে ধুতে হবে কিনা?

    এই প্রশ্নের উত্তরে দ্বিতীয় মতে তিনবার চাটার দ্বারা পাক হওয়া যেমন নিশ্চিত, তেমনি প্রথম বর্ণনাতেও তার বিপরীত কোন বক্তব্য নাই।

    পয়েন্ট ৩:

    ১ম বর্ণনা : রমাযান মাসে নিজ স্ত্রীর সাথে দিবাভাগে সঙ্গম করলে তাকে একটা গোলাম আযাদ অথবা একাদিক্রমে দুমাসের রোজা অথবা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ায়ে কাফফারা দিতে হবে ।
    বিশ্লেষণ: রোযা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গম করলে রোযার কাফফারা দিতে হবে। কিন্তু যদি এমন কারো সাথে সঙ্গম করা হয় যে সঙ্গমের উপযুক্ত না সে ক্ষেত্র কী হবে?

    ২য় বর্ণনা : মৃত মহিলার সাথে রোজার দিনে সঙ্গম করলে যদি বীর্যপাত হয় তাহলে তার রোজার শোধ দিতে হবে কিন্তু কাফফারা দিতে হবে না ।অল্প বয়ষ্কা মেয়ের সাথে ধর্ষন করলে যদি বীর্যপাত হয় তাহলে রোজার শোধ দিতে হবে কাফফারা দিতে হবে না ।
    চতুষ্পদ পশুর সাথে ধর্ষন করলে যদি বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজার শোধ দিতে হবে কিন্তু কাফফারা দিতে হবে না ।
    বিশ্লেষণ: রোযা অবস্থায় যদি এমন কারো সাথে সঙ্গম করা হয় যে সঙ্গমের উপযুক্ত না (মৃত/নাবালেগা/পশু) সেক্ষেত্রে রোযার কাফফারা দিতে হবে না।

    কাজেই বর্ণনা দুটোয় দুইটি ভিন্ন সঙ্গমপক্ষের আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিরোধ খোঁজার যৌক্তিকতা কোথায়?

    [আমার এই কমেন্ট নিতান্তই পোস্টদাতা প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে। এখানে আমি কোন মাসআলা নিরূপণ করি নাই। তা করার যোগ্যতাও আমার নাই। কাজেই মাসআলা জানতে হলে অবশ্যই বিজ্ঞ মুফতির শরণাপন্ন হোন।]

    Anonymous

    @সাদাত, (F)

    Anonymous

    @সাদাত,

    [আমার এই কমেন্ট নিতান্তই পোস্টদাতা প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে। এখানে আমি কোন মাসআলা নিরূপণ করি নাই। তা করার যোগ্যতাও আমার নাই। কাজেই মাসআলা জানতে হলে অবশ্যই বিজ্ঞ মুফতির শরণাপন্ন হোন।]

    পোস্টদাতার তথ্যগুলো যথেষ্ট গোঁজামিল সম্পন্ন। কোন পুর্নাঙ্গ রেফারেন্স দেননি। একই সাথে পুরা মাসায়ালাটাও উল্লেখ করেননি। আদৌ দুররে মুখতারে আছে কিনা কে জানে?

    দেশী৪৩২

    @Anonymous, একজন সাধারন মোসলমান যে বিষয়গুলি কল্পনাও করতে পারে না সেই বিষয়ের ফতোয়া কুথ্থেকে যোগার করে মাযহাবকে অসার প্রমান করার চেষ্টা।এই হলো ওহাবিদের কর্মের জলজ্যন্ত উদাহরন।এক চাটিং রোমে সউদি থেকে পড়ে আসা এক লোক নিজ মায়ের সাথে জেনার ফতোয়া দিয়ে মাযহাবের অসারতা প্রমান করার চেষ্টা করলো।তাই কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ এধরনের লেখকদের বে্ন্ড করার জন্য।যারা মোসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্ত ছরানোর কাজে নিয়োজিত।

    মাহমুদ

    @সাদাত, (Y)

  11. একজন সাধারন মোসলমান যে বিষয়গুলি কল্পনাও করতে পারে না সেই জঘন্য ও নিকৃষ্ট অস্লীল বিষয়ের ফতোয়া কুথ্থেকে যোগার করে মাযহাবকে অসার প্রমান করার চেষ্টা।এই হলো ওহাবিদের কর্মের জলজ্যন্ত উদাহরন।এক চাটিং রুমে সউদি থেকে পড়ে আসা এক লোক নিজ মায়ের সাথে জেনার ফতোয়া দিয়ে হানাফি মাযহাবের অসারতা প্রমান করার চেষ্টা করলো(নাউযুবিল্লাহ)।তাই কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ এই জঘন্য ও নিকৃষ্ট অস্লীল লেখাটি শীঘ্র মুছে ফেলে ও এধরনের লেখকদের বে্ন্ড করার জন্য।যারা মোসলমানদের মধ্যে অস্লীলতা ও বিভ্রান্ত ছরানোর মাধ্যমে মোসলমানদের ইমান হারানোর কাজে নিয়োজিত।

    বাগেরহাট

    @দেশী৪৩২,
    ভাইজান আমাকে বেশী না বলে প্রথমে আপনি প্রমান করুন উক্ত পোষ্টের তথ্যগুলোর রেফারেন্স দূররে মুখতারে আদৌ নেই অথবা ঘোষনা করুন দূররে মুখতার হানাফী মাযহাবের কোন কিতাব না । সম্ভব হলে মাযহাবের কিতাবগুলোর তালিকাটা দিবেন যাতে করে সেখানে একটু খুজে দেখব এ ধরনের ফতোয়া সেখানেও আছে কিনা ?
    আপনি কী এটা প্রমান করতে পারবেন শ্রদ্ধেয় ইমাম আবু (রঃ) এধরনের ফতোয়াকে তাঁর মাযহাবের জন্য অনুমোদন করে গেছেন অথবা প্রচলিত হানাফী মাযহাব তিনিই তৈরী করে গেছেন এরকম কোন দাবী তিনি কোথাও করেছেন ? জানা থাকলে দয়া করে তথ্য ভিত্তিক উত্তর দিবেন । নিজেদের মত গুলো সত্যের মানদন্ড রসুল(সঃ) এর পবিত্র মুখ নিসৃত বানীর আলোকে আগে প্রমান করুন , তারপর না হয় যা বলার বলবেন ।

    দেশী৪৩২

    @বাগেরহাট,তার আগে বলেন এই অতি নিকৃষ্ট ও অশ্লীল কাজের ফতোয়া গুলি বাগেরহাট ও ওহাবিদের ছাড়া আর কাদের কাজে লেগেছে ? অপচয় কারী শয়তানের ভাই ।তাই কথা গুলি বললাম।

    বাগেরহাট

    @দেশী৪৩২,
    আপনার কাছে কোন তথ্য আছে এ ব্যপারে ? আমি যতগুলো তথ্য দিয়েছি আপনাদের মাযহাবের কিতব থেকে দিয়েছি ।
    আপনারা যতজন উত্তর দিলেন তাদের মধ্যে থেকে একজনও পেলাম যিনি রেফারেন্স ভিত্তিক এর প্রতিবাদ করেছেন যে, রসুল (সঃ)
    এই কারনে এগুলোকে জায়েজ করেছেন । যা বলেছেন তাতে পোষ্টের তথ্যগুলো সহীহ হাদিসের আলোকে না খন্ডাতে পেরেছেন না
    অস্বীকার করতে পেরেছেন যে ঐ তথ্যগুলো মাযহাবের কিতাবে নেই । মাঝখানে যা পারলেন তাহল পোষ্টদাতা ওহাবী, মিথ্যাবাদী ইত্যাদি । আপনাদের যা বলার বলতে পারেন কিন্তু আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আপনার ইমাম কে অথবা আপনার মাযহাব কী , তাহলে তার
    উত্তর হল আমার ইমাম আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ইসলামী শরীয়াত প্রনেতা মুহাম্মদ (সঃ) এবং আমার মাযহাব হল মুহাম্মাদী মাযহাব ।
    মাযহাবের আইন স্ব-স্ব মাযহাবের অনুসারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়, একথাটা অস্বীকার করতে পারেন ? যদি না পারেন তাহলে নিশ্চয়ই
    এ সমস্যাগুলো আপনাদের মধ্যে ছিল বলেই না বুঝতে পেরেছেন যে, এগুলো সুরাহার জন্য এ ধরনের আইন প্রয়োজন । উপরের দিকে রাগ করে থুথু ছুড়েন না ভাই, তাহলে সে থুথুর উদ্দেশ্য আমি হলেও আমার গায়ে পড়বে না ।

    Anonymous

    @দেশী৪৩২, (Y)

  12. @বাগেরহাট,
    আর ৩য়টি বাগেরহাট ভাই যে হাদীস উল্লেখ করেছেন সেটি“নিজ স্ত্রীর” ব্যাপারে কিন্তু মাযহাবের মত উল্লেখ করেছেন “মৃত মহিলা, অল্প বয়ষ্কা মেয়ে, চতুষ্পদ পশু” সংক্রান্ত। এখানে হাদীসের বিরোধীতা কোথায়? তিনি সূক্ষ চাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন।

    এ ব্যাপারেও কিছু বলুন।

  13. বাগেরহাট ভাই,
    আমার আগের প্রশ্নটির উত্তর পাইনি।
    আপনি হাদীস উল্লেখ করেছেন সেটি “নিজ স্ত্রীর” ব্যাপারে কিন্তু মাযহাবের মত উল্লেখ করেছেন “মৃত মহিলা, অল্প বয়ষ্কা মেয়ে, চতুষ্পদ পশু” সংক্রান্ত। এখানে হাদীসের বিরোধীতা কোথায়?
    আপনি কী সূক্ষ চাতুরির আশ্রয় নেননি?

    বাগেরহাট

    @মাহমুদ,

    মাহমুদ ভাই আপনি কী সম্পূর্ন সুস্থ অবস্থায় থেকে উক্ত প্রশ্ন করেছেন?
    কারন মহান আল্লাহ বলেছেন, “মু’মিন দিগকে বল , তাহারা যেন তাহাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযাত করে; ইহাই তাহাদের জন্য উত্তম ।..” সূরা নূর ৩০ । যদি আপনি প্রকৃত মুকাল্লীদ হয়ে থাকেন তাহলে এবার নিশ্চয় বলবেন, এখানে আল কুরআনের এ আয়াতের সাথে “মৃত মহিলা, অল্প বয়স্কা মেয়ে, চতুস্পদ পশুর” সাথে সঙ্গম করলে বরন করা কোথায়? আমি আপনাকে বলতে চাই কোথায়
    আপনি এগুলো করার অনুমতি পেয়েছেন? কে আপনাকে এটা করার অনুমতি দিয়ে মহামতি ইমামের মাযহাবের নামে চালিয়ে দিল, এ প্রশ্ন কী একবারও আপনার মনের মধ্যে আসেনা ? যাই হোক অন্তত এ বিষয়টাকে আপনি হয়ত হাদিসের বিরোধী হিসাবে মানতে পারছেন না, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি “মৃত মহিলা বা চতুস্পদ পশু”র ক্ষেত্রেও আপনার মুকাল্লীদ পরিচয়ে মেনে নিতে কোন অসুবিধা হবে না , কিন্তু মহান আল্লাহ না করুন ঐ “অল্প বয়স্কা মেয়ে”টা যদি আপনার মেয়ে বা আপনার বোন বা আপনার কোন নিকট আত্নীয় হয়ে যায়, সেদিন আপনি ভাল একজন মুকাল্লীদ হিসাবে অবশ্যই নীরব থাকতে পারবেন না।আমার অল্প বয়স্কা মেয়ে ধর্ষনের শিকার হচ্ছে আর ধর্ষকের কোন কাফফারা দিতে হবে না ( সে সঙ্গমের উপযুক্ত হয়নি বলে), আমার মাযহাবের নেতা জনাবে মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সঃ) এ বানী আমাদের কাছে কম্মিনকালেও প্রচার করেনি, তাই এ জীবনে যত ব্যাখ্যাই দেন না কেন সে ব্যাখ্যা যদি রসুলের(সঃ) ব্যাখ্যার সাথে না মেলে তা মানার কোন প্রশ্নই ওঠে না ।

    দ্য মুসলিম

    @বাগেরহাট,

    কিন্তু মহান আল্লাহ না করুন ঐ “অল্প বয়স্কা মেয়ে”টা যদি আপনার মেয়ে বা আপনার বোন বা আপনার কোন নিকট আত্নীয় হয়ে যায়, সেদিন আপনি ভাল একজন মুকাল্লীদ হিসাবে অবশ্যই নীরব থাকতে পারবেন না।আমার অল্প বয়স্কা মেয়ে ধর্ষনের শিকার হচ্ছে আর ধর্ষকের কোন কাফফারা দিতে হবে না ( সে সঙ্গমের উপযুক্ত হয়নি বলে)

    ঠিক বলেছেন। এর একটা ব্যাখ্যা থাকা উচিত। হয়তো আছে অথবা নেই। যদি থাকে তো ভালো। আর যদি না থাকে তাহলে এক্ষেত্রে মাজহাবের উক্ত মাসআলা অনুসরণের কোন যৌক্তিকতা নেই।

    মাহমুদ

    @দ্য মুসলিম, বাগেরহাট ভাই সব গুলিয়ে ফেলেছেন। আমার নীচের কমেন্ট দেখুন।

  14. অনেক দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনার পরে উভয় পক্ষের কাছেই আমার কিছু অনুরোধ থাকবে:
    ১। রেফারেন্সগুলো অনলাইন লাইব্রেরীর সাহায্যে দিবেন, এখন আলহামদু লিল্লাহ অনলাইন লাইব্রেরীগুলো অতিস্বয়ংসম্পুর্ন, বহুল রেফারেন্সকৃত সকল কিতবাই আজকাল অনলাইনে প্রকাশ হয়েছে। বিশেষত মৌলিক রেফারেন্সের আরবী কিতাবগুলো।
    ২। অনুবাদের ক্ষেত্রে কার অনুবাদ এবং প্রকাশনা সূত্র বা স্থানীয় কোন লাইব্রেরী বা ব্যক্তির সংগ্রহ থেকে অনুবাদ রেফারেন্স দিচ্ছেন তা কোড করবেন, যাতে মূল কিতাবে না থাকা স্বত্বেও অনুবাদ কপিতে সেই দাবী কিভাবে আসে এবং কিভাবে এই বিকৃত সাধন হয় তা অনুসন্ধান করা যায়।
    ৩। ব্যক্তি আক্রমন না করে কেবল তথ্যগত আক্রমন করুন, মহান আল্লাহর কথা ” তোমরা একদল আরেকদলকে খাট করো না, হয়তো তারা তোমাদের চাইতে উত্তম হতে পারে” আলহুজরাত ।
    ৪। তৃতীয় ব্যক্তি বা কেউকে ভুল আখ্যা দেয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট দলীল উপস্থাপন করুন, এবং ভেবে দেখুন সেই দলীল আপনার কাছে ১০০% নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসেছে কিনা। শুধুমাত্র প্রথাগত, ও নিজস্ব মানসিকতার প্রতিফলন ঘটানোর আগে আরেকটু যাচাই করুন এবং যে দল বা ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে তার দাবী ও খন্ডন এবং সর্বশেষ বিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত খুঁজে দেখুন। কেবল ধারণার বশবর্তী হয়ে কোন সাধারন মানুষকে গোমরাহ বলা উচিত হবে না, কারণ তা বাস্তব না হলে শরীয়া অনুযায়ী আপনি সাক্ষীর অনুপযুক্ত হবেন। সূরা নূরে দেখুন আল্লাহ ঐ সকল মুমিনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যারা কেবল আবছা ধারনার বশবর্তি হয়ে হযরত আয়েশা রযি এর ব্যাপারে অপবাদ রটনা করেছিল।

    বাগেরহাট

    @বাংলা মৌলভী,
    ধন্যবাদ আপনাকে যেহেতু কথাগুলো আপনি সকলের উদ্দেশ্যেই বলেছেন ।
    তারপরও কী কথা থেকে যায় না? ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যেমেই তো অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়, নাকী ?
    অনলাইন লাইব্রেরীর তথ্য কিভাবে পাওয়া যায় এটা আমার ভালো জানা নেই এবং আমি যে কিতাব থেকে রেফারেন্সগুলো দিয়েছি
    যদি সেই কিতাবগুলো অনলাইনে পাওয়া যায় দয়া করে আমাকে তার ঠিকানা দিবেন কী ?
    ভাইজান পোষ্টের ব্যপারে এখনও কী হ্যা অথবা না এরকম কোন উত্তর দেওয়া যায় না?
    ধন্যবাদ আপনাকে ।

    deshibhai007

    @বাগেরহাট,আপনার লিখা ভালো লেগেছে। দয়া করে নিচের লিংক এ কিছু বলুন:

    http://www.peaceinislam.com/abu-ibrahim/6094/

    ধন্যবাদ।

    দ্য মুসলিম

    @বাংলা মৌলভী,

    সহমত।

  15. @বাগেরহাট, আমার ব্যক্তিগত কালেকশানে একটি লাইব্রেরী সিডি আছে “আল মাকতাবাতুশ শামেলা” অনলাইন লাইব্রেরীতে না থাকলেও এখানের পাচঁলক্ষ রেফারেন্স কিতাবের কালেকশান আছে, কিন্তু আপানর সতর বা লাইন ভাঙ্গা জোরাতালি ও সূত্রগুলো এমন যে এই লাইব্রেরীতে ঐ মাসলা আপনার দাবীর মতই লেখা আছে কিনা তা খুজে মিলানো অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার যেহেতু আপনি বাংলায় লিখছেন আর কিতাবগুলো আরবীতে । যাই হোক আমি ব্যক্তিগত ভাবে মাজহাব পন্থী এবং আমি সকল মাজহাবের ব্যাপারেই এ ধারণা রাখি যে, তা হক্ব এবং কোরান সুন্নাহের আলোকে।
    আপনি যে আপত্তিগুলো তুলেধরেচেন আহলে যাহেরদের অনেকেই এমন অসংখ্য আপত্তি করেন, দীর্ঘ গবেষনার পরে যদিও তা টিকে থাকে না। আপনি জেনে আনন্দিত হবার কথা যে, হাটাজারী মাদ্রাসার মত তাকলীদ পন্থী মাদ্রাসাতেও দাওরা হাদীসের পরে পোস্ট ডক্টরেল লেভেলের ৩থেকে ছয় বত্সর মেয়াদী তাখাস্সুস ফীল উলুমূল আহাদীস আন নাবাভী বিভাগ চালু হয়েছে।
    আমি এসব জুযইয়্যাত নিয়ে আপতত বিতর্কে যেতে চাইনা বলে এসব নিয়ে কোন কথা তুলিনি, কিন্তু আপনাদের পারস্পারিক আক্রমনের স্টাইল পসন্দ হয়নি বলে নসিহত স্বরুপ দুটো কথা বল্লাম।

    হাফিজ

    @বাংলা মৌলভী, আপনার বক্তবের জন্য ধন্যবাদ , সুন্দর বলেছেন ।

    আপনাকে একটি প্রশ্ন , লা-মাজহাবীদের আমি বহুবার এই প্রশ্ন করেছি , কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি ।
    ১) তারা নামাজ কিভাবে পড়ে
    ২) তারা রোজা কিভাবে করে
    ৩) হজ্ব কিভাবে করে ।

    এগুলো কোন্‌ দলীলের ভিত্তিতে করে । আপনার কি জানা আছে কেনো তারা এর উত্তর দেয় না ।

    এই ব্লগের সিডো-সালাফীদের একই প্রশ্ন করেছিলাম , এখানেও বাগেরহাটকে এই প্রশ্ন করেছি , কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি ।

  16. কিন্তু মহান আল্লাহ না করুন ঐ “অল্প বয়স্কা মেয়ে”টা যদি আপনার মেয়ে বা আপনার বোন বা আপনার কোন নিকট আত্নীয় হয়ে যায়, সেদিন আপনি ভাল একজন মুকাল্লীদ হিসাবে অবশ্যই নীরব থাকতে পারবেন না।আমার অল্প বয়স্কা মেয়ে ধর্ষনের শিকার হচ্ছে আর ধর্ষকের কোন কাফফারা দিতে হবে না ( সে সঙ্গমের উপযুক্ত হয়নি বলে)

    বাগেরহাট ভাই, ধর্ষকের কোন কাফফারা দিতে হবে না- এখানে “কাফফারা” বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন? তার নিজের ৬০টি রোজা নাকি আদালত কতৃক তাকে প্রদত্ত শাস্তি। আমার মনে হয় আপনার বোঝার ভুল হচ্ছে।

    আদালত কতৃক তাকে শাস্তি দিতে মনে হয় কোন মাযহাবেই নিষেধ করবেনা।

  17. বাগেরহাট ভাই, আপনি প্রলাপ বকা শুরু করেছেন।

    আমি বললাম কী আর আপনি বুঝলেন কী। আমি বলেছি- এখানে হাদীসের বিরোধীতা কোথায়? অর্থ্যাৎ মাযহাবের মতের সাথে হাদীসের বিরোধীতা কোথায়?(৩নং এর ব্যাপারে) আর আপনি বললেন-

    আমি আপনাকে বলতে চাই কোথায় আপনি এগুলো করার অনুমতি পেয়েছেন? কে আপনাকে এটা করার অনুমতি দিয়ে মহামতি ইমামের মাযহাবের নামে চালিয়ে দিল, এ প্রশ্ন কী একবারও আপনার মনের মধ্যে আসেনা ? যাই হোক অন্তত এ বিষয়টাকে আপনি হয়ত হাদিসের বিরোধী হিসাবে মানতে পারছেন না, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি “মৃত মহিলা বা চতুস্পদ পশু”র ক্ষেত্রেও আপনার মুকাল্লীদ পরিচয়ে মেনে নিতে কোন অসুবিধা হবে না , কিন্তু মহান আল্লাহ না করুন ঐ “অল্প বয়স্কা মেয়ে”টা যদি আপনার মেয়ে বা আপনার বোন বা আপনার কোন নিকট আত্নীয় হয়ে যায়, সেদিন আপনি ভাল একজন মুকাল্লীদ হিসাবে অবশ্যই নীরব থাকতে পারবেন না।আমার অল্প বয়স্কা মেয়ে ধর্ষনের শিকার হচ্ছে আর ধর্ষকের কোন কাফফারা দিতে হবে না ( সে সঙ্গমের উপযুক্ত হয়নি বলে), আমার মাযহাবের নেতা জনাবে মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সঃ) এ বানী আমাদের কাছে কম্মিনকালেও প্রচার করেনি, তাই এ জীবনে যত ব্যাখ্যাই দেন না কেন সে ব্যাখ্যা যদি রসুলের(সঃ) ব্যাখ্যার সাথে না মেলে তা মানার কোন প্রশ্নই ওঠে না ।

    মাযহাব কি ঐ অপকর্মগুলো করার অনুমতি দিয়েছে? “কাফফারা” জিনিসটা কী তাই দেখছি আপনি বোঝেন না !!!

    মৃত মহিলার সাথে, অল্প বয়ষ্কা মেয়ের সাথে, চতুষ্পদ পশুর সাথে সঙ্গম করলে তার জন্য আদালত কতৃক শাস্তি, আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তি সবই রয়েছে। কিন্তু এতে তার যে রোজা নষ্ট হল এজন্য শুধু তার রোজার কাযা করতে হবে, রোজার কাফফারা ৬০টি রোজা রাখা লাগবেনা। কারন ঐ অপকর্মগুলো অস্বাভাবিক কার্য, যেমন হস্তমৈথুনে বীর্যপাত ঘটলে রোজা ভঙ্গ হয়, এতে কাযা করতে হয়, কাফফারা করা লাগেনা।

    কিন্তু রমাযান মাসে নিজ স্ত্রীর সাথে দিবাভাগে সঙ্গম করলে তার জন্য আদালত কতৃক শাস্তি নেই(কারন এটিস্বাভাবিক কার্য)। কিন্তু এতে যে রোজা ভঙ্গ হল, এজন্য আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তি এড়াতে রোজার কাযার পাশাপাশি কাফফারা স্বরুপ ৬০টি রোজা রাখা লাগবে।

  18. মৃত মহিলা, অল্প বয়ষ্কা মেয়ে, চতুষ্পদ পশুকে ধর্ষন সংক্রান্ত হাদীসগুলো উল্লেখ করবেন দয়া করে, দেখি মাযহাবগুলোর মতের সাথে এর বিরোধিতা কোথায় !

    বাগেরহাট

    @মাহমুদ,
    মাহমুদ ভাই, আপনার লেখাগুলোর উত্তর আমি আমার বুঝমত দেওয়ার চেষ্টা করিয়াছি, কিন্তু সব লেখাগুলো কেন যে ক্রসফায়ারে চলে গেল, কতৃপক্ষের নিকট অনেক জানার চেষ্টা করিয়াছি কিন্তু কোন উত্তর পাইনি । তাই এখন আর লিখতে ইচ্ছে করে না। আপনার লেখা প্রকাশ হচ্ছে আর আমার টা প্রিভিউতে (ক্রসফায়ারে) চলে যাচ্ছে , কী অভিযোগ এখনও বুঝতে পারছি না । নুতন পোষ্টও ক্রসফায়ারে
    পড়ে গেছে ।
    তারপরও আপনাকে বলছি যে,চাকরীর জন্য এম. এ পাশ শর্ত হলে যে ব্যক্তি এম, এ পাশ করেছে তার তৃতীয় বিভাগের জন্য যদি কতৃপক্ষ তার চাকরীর দরখাস্তকে অগ্রাধিকার না দেয়, সেক্ষেত্রে এস,এস,সি পাশের সার্টিফিকেটধারীর দরখাস্তের কি অবস্থা হবে চিন্তা করা যায়? বিবাহিত স্ত্রী তো বৈধ তারক্ষেত্রে যদি এই সিদ্ধান্ত হয় কাফফারার, সেক্ষত্রে যে অবৈধ তারজন্য কি হতে পারে আপনি দয়া করে সহীহ হাদিসের আলোকে দেখাবেন কী ?

    ইবনে হাবীব(মাহমুদ)

    @বাগেরহাট,
    চাকরীর জন্য এম. এ পাশ শর্ত হলে যে ব্যক্তি এম, এ পাশ করেছে তার তৃতীয় বিভাগের জন্য যদি কতৃপক্ষ তার চাকরীর দরখাস্তকে অগ্রাধিকার না দেয়, সেক্ষেত্রে এস,এস,সি পাশের সার্টিফিকেটধারীর দরখাস্তের কি অবস্থা হবে চিন্তা করা যায়? বিবাহিত স্ত্রী তো বৈধ তারক্ষেত্রে যদি এই সিদ্ধান্ত হয় কাফফারার, সেক্ষত্রে যে অবৈধ তারজন্য কি হতে পারে

    আপনি এই যুক্তি ওখানে খাটাচ্ছেন? তাহলে শুনুন-

    একবার জনৈক ব্যক্তি ইমাম আবু হানীফাকে বলল- আপনি নাকি হাদীসের উপরে আপনার কিয়াসকে অগ্রধিকার দেন? আর সেই মোতাবেক মাসআলা দেন।
    ইমাম আবু হানীফা তাকে বললেন- আচ্ছা বলুন তো প্রস্রাব নাকি বীর্য বেশী নাপাক?
    ব্যক্তিটি বলল- অবশ্যই প্রস্রাব।
    ইমাম আবু হানীফা তখন বললেন- আমি যদি হাদীসের উপরে আমার কিয়াসকে অগ্রধিকার দিতাম তবে প্রস্রাব করার পর গোসল করতে বলতাম আর বীর্যপাতের পর ওযু করতে বলতাম।
    ব্যক্তিটি লাজবাব হয়ে গেল। ঘটনাটি অনেকদিন আগে একটি বইয়ে পড়েছিলাম, এখন বইটির নাম মনে নেই।

    হাফিজ

    @ইবনে হাবীব(মাহমুদ), ইমাম জাফর সাদেক (রহ:) কে উনি এটা বলেছিলেন। এই ব্যাখ্যার পর ইমাম জাফর সাদেক (রহ:) আবু হানিফার (রহ:) এর ওপর প্রসন্ন হন।

    বাগেরহাট

    @ইবনে হাবীব(মাহমুদ),
    আমার মনে আপনিই এককথায় আমার এ পোষ্টটির উত্তর দিয়ে দিতে পারেন ।
    আমার পোষ্টের শিরোনাম ছিল ‘মাযহাবের সকল ফাতোয়ারই তাকলীদ কী আসলেই সম্ভব ?” ।
    সাথে যে রেফারেন্সগুলো দিয়েছিলাম সেগুলোর ব্যপারে আপনাদের সংক্ষিপ্ত মতামত হতে পারত যে হ্যাঁ অবশ্যই করি ।
    তা না করে রেফারেন্সগুলো সম্পর্কে কোন ধরনের রেফারেন্স ছাড়াই নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে থাকলেন । আমি কোন কথাই রেফারেন্স ছাড়াই বলেছি এটা আশা করি দেখাতে পারবেন না। সর্বশেষ যেটা করেছি সেটা প্রশ্ন কেবলমাত্র। কোন সিদ্ধান্ত নয় ।
    আমি যে তথ্যগুলো দিয়েছি এগুলোর পক্ষে নুতন করে ব্যাখ্যা দেওয়া আমার মনে হয় হাস্যকর । যেটা এখনও পর্যন্ত আপনার সবাই করে যাচ্ছেন ।এগুলোর ইজতিহাদতো শ্রদ্ধেয় ইমাম সাহেবরাই করে গেছেন, সমস্যা হলো এই তথ্যগুলো ই আপনাদের অনেকেরই জানা নেই ।
    তাই যার যার মত ব্যাখ্যা কোন গ্রহনযোগ্য কিতাব সম্মত হচ্ছেনা ।
    যাইহোক , সকল ফাতোয়ারই তাকলীদ করেন কী করেন না এটাই আমার প্রশ্ন।
    যদি করেন তাহলে এগুলোর ক্ষেত্রেও কী আপনার একই মত?
    ১) “কেবলমাত্র নিকাহ হয়েছে এবং বর-কন্যা এখোনো বিদায় হয় নাই , মজলিসেই আছে ইতিমধ্যে শোনা গেল যে, কন্যার একটি সন্তান প্রসব হয়েছে। ঐ সন্তানকে বর্তমান স্বামীর সন্তান বলতে হবে । ঐ সন্তান হারামের সন্তান নয় ।” বেহেশতী জেওর উর্দ্দু, ৪র্থ খঃ মাসালা ৯, পৃঃ ২৫৬ ।
    ২)” স্বামী যদি বহু বছর ধরে বিদেশে থাকে আর এদিকে যদি বছর বছর স্ত্রীর সন্তান হতে থাকে ,ঐ সকল সন্তানকে হারামীর সন্তান বলা যাবে না। স্বামীর সন্তান বলতে হবে ।” ঐ, পৃঃ ২৫৫ ।
    ৩) ” কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে দুবছরের মধ্যে যদি মহিলার সন্তান হয় তাহলে সে সন্তান মৃত্যু স্বামীর সন্তান বলে অবিহিত হবে ।”
    ঐ, পৃঃ ২৫৫ ।

    ইবনে হাবীব(মাহমুদ)

    @বাগেরহাট,
    আপনি সাওমের মাসআলার ভিতর কিসাস, হদ, ব্যভিচার, ধর্ষনের মাসআলা নিয়ে আসছেন।

    বিবাহিত স্ত্রী তো বৈধ তারক্ষেত্রে যদি এই সিদ্ধান্ত হয় কাফফারার, সেক্ষত্রে যে অবৈধ তারজন্য কি হতে পারে

    সেক্ষেত্রে ধর্ষকের জন্য আদালত কতৃক শাস্তি, আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তি সবই রয়েছে। তবে আদালত কতৃক শাস্তি কার্যকর হলে আল্লাহ তাকে পরকালে এ ব্যাপারে শাস্তি নাও দিতে পারেন।

    বাগেরহাট

    @ইবনে হাবীব(মাহমুদ),
    আপনি এই যুক্তি ওখানে খাটাচ্ছেন? তাহলে শুনুন-

    একবার জনৈক ব্যক্তি ইমাম আবু হানীফাকে বলল- আপনি নাকি হাদীসের উপরে আপনার কিয়াসকে অগ্রধিকার দেন? আর সেই মোতাবেক মাসআলা দেন।
    ইমাম আবু হানীফা তাকে বললেন- আচ্ছা বলুন তো প্রস্রাব নাকি বীর্য বেশী নাপাক?
    ব্যক্তিটি বলল- অবশ্যই প্রস্রাব।
    ইমাম আবু হানীফা তখন বললেন- আমি যদি হাদীসের উপরে আমার কিয়াসকে অগ্রধিকার দিতাম তবে প্রস্রাব করার পর গোসল করতে বলতাম আর বীর্যপাতের পর ওযু করতে বলতাম।
    ব্যক্তিটি লাজবাব হয়ে গেল। ঘটনাটি অনেকদিন আগে একটি বইয়ে পড়েছিলাম, এখন বইটির নাম মনে নেই।

    ধন্যবাদ আপনাকে ।
    এই তথ্যগুলোও একটু পড়েন ।
    ” মোজার উপর মাসেহ করা ইমাম আবু হানিফা (রঃ) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রঃ) এর মতে নাজায়েজ, কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ (রঃ) এর মতে জায়েজ ।” ( ১৪০১ হিঃ, হিদায়া আশরাফী হিন্দ ছাপার ১ম খন্ডের ৬১ পৃঃ )
    হযরত আলী (রাঃ) বলেন , “দীন যদি রায়ের ভিত্তিতে হতো তাহলে মোজার উপর অপেক্ষা নীচে মাসেহ করাই যুক্তি সঙ্গত হতো ।”

  19. বর্তমানে সারাবিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা আড়াইশো কোটিরও বেশী। পৃথিবীর প্রত্যেক তিনজন ব্যাক্তির মধ্যে একজন মুসলমান। অমুসলিমদের কাছে আমরা অর্থাৎ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা মুসলমান বলে পরিচিত হলেও মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে অনেক নামে পরিচিত। যেমন, হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী প্রভৃতি। এই নাম গুলি আল্লাহ বা মুহাম্মাদ _____ এর দেওয়া নয় এমনকি যাঁদের নামে এই মাযহাব তৈরি করা হয়েছে তারাও এই নাম গুলো দেয়নি।

    মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত চারটি মাযহাব, দল বা ফিকাহ ইসলামের কোনো নিয়ম বা বিধান মেনে তৈরি করা হয়নি। কারন ইসলাম ধর্মে কোনো দলবাজী বা ফিরকাবন্দী নেই। মুসলমানদের বিভক্ত হওয়া থেকে এবং ধর্মে নানা মতের সৃষ্টি করা থেকে কঠোরভাবে সাবধান করা হয়েছে। এই মাযহাবগুলো রসুল (যা) এবং সাহাবাদের (রা) সময় সৃষ্টি হয়নি। এমনকি ঈমামগনের সময়ও হয়নি। চার ইমামের মৃত্যুর অনেক বছর পরে তাঁদের নামে মাযহাব তৈরি হয়েছে। কোরআন হাদীস ও চার ইমামের দৃষ্টিতে মাযহাব কি, কেন, মাযহাব কি মানতেই হবে, মাযহাব মানলে কি গোনাহ হবে?

    মাযহাব তৈরিতে আল্লাহর কঠোর নিষেধাজ্ঞা
    মুসলমানেরা যাতে বিভিন্ন দলে আলাদা বা বিভক্ত না হয়ে যায় সে জন্য আল্লাহ পাক আমাদের কঠোরভাবে সাবধান করেছেন। যেমন আল্লাহ তা’আলা কুরআনের সূরা আন-আমর এর ১৫৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন ‘যারা দ্বীন সন্বন্ধে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন, দলে বিভক্ত হয়েছে হে নবী! তাদের সাথে তোমার কোনও সম্পর্ক নেই; তাদের বিষয় আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত করবেন। একটু থামুন। উপরের আয়াতটা দয়া করে বারবার পড়ুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন, চিন্তা করুন। আল্লাহ তা’আলা সরাসরি বলেছেন যারা দ্বীন বা ধর্মে অর্থাৎ ইসলামে নানা মতগের সৃষ্টি করেছে এবং বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আমাদের নবী মহাম্মাদ (সা) এর কোনো সম্পর্ক নেই। যার সাথে নবীজীর (সা) কোনো সম্পর্ক নেই সে কি মুসলমান? সে কি কখনো জান্নাতের গন্ধও পাবে। আমরা মুসলমান কোরআন হাদীস মাননে ওয়ালা এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। আল্লাহ বলেন এবং তোমাদের এই যে জাতি, এতো একই জাতি; এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব আমাকে ভয় করো। (সূরা মুউমিনুন ২৩/৫২)। তাহলেই বুঝতেই পড়েছেন ফরয, ওয়াজীব ভেবে আপনারা যা মেনে চলছেন আল্লাহ তা মানতে কত কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন তবে শুধু এইটুকুই নয় আল্লাহ আরও অনেক আয়াতে এ ব্যাপারে মানুষকে সাবধানবানী শুনিয়েছেন। যেমন সূরা রূমের একটি আয়াত দেখুন যেখানে আল্লাহ পাক বলছেন ‘….. তোমরা ঐ সকল মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা নিজেদের দ্বীনকে শতধা বিচ্ছিন্ন করে বহু দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক দল নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়ে খুশি’ – (সূরা রুম ৩০/৩১-৩২)। বর্তমানে আমাদের সমাজের অবস্থাও ঐ মুশরিকদের মতো। ইসলামকে তারা (মাযহাবীরা) বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছে এবং তাদের নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়েই তারা খুশি। তাদের সামনে কোনো কথা উপস্থাপন করলে তারা বলেনা যে কুরআন হাদীসে আছে কি না। তারা বলে আমাদের ইমাম কি বলেছে। এরা কুরয়ান হাদীসের থেকেও ইমামের ফিকাহকে অধিক গুরুত্ব দেয়। অথচ ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে কুরআন হাদীস। তা ছাড়া অন্য কিছু নয়। উপরের আযাতে আল্লাহ তা’আলা আমাদের উপদেশ দিয়েছেন তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না; তোমরা ইসলামে মাযহাবের সৃষ্টি করো না। অথচ আমরা কুরআনের নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে দ্বীনে দলের সৃষ্টি করেছি এবং নিজেকে হানাফী, মালেকী বা শাফেরী বলতে গর্ব অনুভব করছি। আল্লাহ বলেন ‘হে ইমানদারগন তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রগামী হয়ো না, এবং আল্লাহকে ভয় করো; আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী (সূরা হুরুরতে/০১)

    Rokon Sikder

    আমার প্রিয় মাযহাবী ভাইয়েরা! এরকম কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশ জানার পরও কি আপনারা মাযহাবে বিশ্বাসী হবেন এবং নিজেকে মাযহাবী বলে পরিচয় দেবেন। যারা জানে না তাদের কথা আলাদা। আল্লাহ বলেন ‘বলো, যারা জানে এবং যারা জানেনা তারা কি সমান? (সূরা যুমার ৩৯/০৯)। তাই আজই তওবা করে সঠিক আব্বীদায় ফিরে আসুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলাম বোঝার তোফিক দিন। আমীন!

    ইমামরা মাযহাব সৃষ্টি করেননি

    ভারতবর্ষের বিখ্যাত হাদীসশাস্ত্রবিদ ও হানাফীদের শিক্ষাগুরু যাকে হানাফীরা ভারতবর্ষের ‘ইমাম বুখারী’ বলে থাকেন সেই শাহ আলিউল্লাহ মুহাদ্দিসদেহেলভী (রহ) বলেছেন – ‘ই’লাম আন্না না-সা-কা-নু ক্কারলাল মিআতির রা-বিআতি গাইরা মুজমিয়ীনা আলাত্‌-তাকলীদিল খা-লিস লিমায় হাবিন্‌ ওয়া-হিদিন্‌ বি-আইনিহী’ অর্থাৎ তোমরা জেনে রাখো যে, ৪০০ হিজরীর আগে লোকেরা কোন একটি বিশেষ মাযহাবের উপর জমে ছিল না’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ; ১৫২ পৃষ্ঠা)। অর্থাৎ ৪০০ হিজরীর আগে নিজেকে হানাফী, শাফেরী বা মালেকী বলে পরিচয় দিতো না। আর চারশো হিজরীর অনেক আগে ইমামরা ইন্তেকাল করেন। ইমামদের জন্ম ও মৃত্যুর সময়কালটা একবার জানা যাক তাহলে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

    · তাহলে মাযহাব কে সৃষ্টি করল।

    ইমামের নাম
    জন্ম
    মৃত্যু
    আবু হানীফা (রহ)
    ৮০ হিজরী
    ১৫০ হিজরী
    ইমাম মালেক (রহ)
    ৯৩ হিজরী
    ১৭৯ হিজরী
    ইমাম শাকেরী (রহ)
    ১৫০ হিজরী
    ২০৪ হিজরী
    আহমদ বিন হাম্বাল (রহ)
    ১৬৪ হিজরী
    ২৪১ হিজরী

    বিশিষ্ট হানাফী বিদ্বান শাহ ওলিউল্লাহ দেহেলভী (রহ) এর কথা যদি মেনে নেওয়া যায় যে ৪০০ হিজরীর আগে কোনো মাযহাব ছিল না, এবং ৪০০ হিজরীর পরে মানুষেরা মাযহাব সৃষ্টি করেছে, তার মানে এটা দাঁড়ায় যে আবু হানীফার ইন্তেকালের ২৫০ বছর পর হানাফী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে। ইমাম মালেকের ইন্তেকালের ২২১ বছর পর মালেকী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে। ইমাম শাফেরীর ইন্তেকালের ১৯৬ বছর পরে শাফেরী মাযহাব এবং ইমাম আহমাদের ইন্তেকালের ১৫৯ বছর পর হাম্বলী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ ইমামদের জীবিত অবস্থায় মাযহাব সৃষ্টি হয়নি। তাঁদের মৃত্যুর অনেকদিন পরে মাযহাবের উদ্ভব হয়েছে। আর একবার চিন্তা করে দেখুন মাযহাব বা দল সৃষ্টি করাতে কোরআন ও হাদিসে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহামান্য ইমামরা ছিলেন কোরআন হাদীসের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসারী এবং ধর্মপ্রান মুসলিম। তাঁরা কি কোরআন হাদীসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মাযহাব তৈরি করবেন যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এটা কখনো হতে পারে? যারা বলে ইমামরা মাযহাব সৃষ্টি করেছেন তারা হয় মুর্খ নয় বেইমান। তারা ইমামদের প্রতি অপবাদ দেয়।

    মাযহাব সৃষ্টি হল কিভাবে

    ফারসীতে একটি প্রবাদ আছে ‘মান তোরা হাজী গো ইয়াম তু মোরা হাজী বোগো’ অর্থাৎ একজন লোক আর একজনকে বলছে, ভাই! যদিও তুমি হাজী নও তথাপি আমি তোমাকে হাজী সাহেব বলছি এবং যদিও আমি হাজী নই তুমি আমাকে হাজী সাহেব বলো। এভাবে একে অপরকেহাজী সাহেব বলে ডাকার ফলে আমরা দু-জনেই হাজী সাহেব হয়ে যাবো।

    এভাবেই আবু হানীফার অনুসারীদের অথবা তাঁর ফতোয়া মান্যে ওয়ালাদের অন্যেরা হানাফী একইভাবে ইমাম মালেকের ফতোয়া মাননে ওয়ালাদের মালেকী বলে ডাকাডাকির ফলে মাযহাবের সৃষ্টি হয়েছে। আজ যা বিরাট আকার ধারন করেছে। আবু হানীফা (রহ) বা তাঁর শিষ্যরা কখনো বলেননি আমাদের ফতোয়া যারা মানবা তারা নিজেদের পরিচয় হানাফী বলে দিবা। অথবা ইমাম মালেক বা শাফেয়ীও বলে যাননি যে আমার অনুসারীরা নিজেকে মালেকী বা শাফেয়ী বলে পরিচয় দিবা। ইমামরা তো বটেই এমনকি ইমামদের শাগরেদরা কিংবা তাঁর শাগরেদদের শাগরেদরাও মাযহাব সৃষ্টি করতে বলেননি। যখন আমাদের মহামতি ইমামরা মাযহাব সৃষ্টি করেননি এবং করতেও বলেননি তখন উনাদের নামে মাযহাব সৃষ্টি করার অধিকার কেন দিল?

    হাদীস বিরোধী বক্তব্যের ব্যাপারে ইমামদের রায়

    মাযহাবীদের মধ্যে কিছু লোক দেখা যায় যারা ইমামদের তাক্কলীদ করে অর্থাৎ অন্ধ অনুসরন করে। তারা ইমামদের বক্তব্যকে আসমানী ওহীর মতো মানে। কোরআন-হাদিস বিরোধী কোনো রায় হলেও তাতে আমল করে। তাই সেই সব লোকদের জন্য হাদীস অনুসরনের ব্যাপারে ইমামদের মতামত এবং তাদের হাদীস বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে তাদের কয়েকটি উক্তি দেওয়া হল। ইনশাল্লাহ্‌! মাযহাবী ভাইয়েরা এ থেকে অনেক উপকারিত হবেন।

    আবু হানীফা (রহ)

    ১) যখন হাদীস সহীহ হবে, তখন সেটাই আমার মাযহাব অর্থাৎ হাদীস সহীহ হলে সেটাই আমার মাযহাব। (ইবনুল আবেদীন ১/৬৩; রাসমুল মুফতী ১/৪; ঈক্কামুল মুফতী ৬২ পৃষ্ঠা)

    ২) কারো জন্য আমাদের কথা মেনে নেওয়া বৈধ নয়; যতক্ষন না সে জেনেছে যে, আমরা তা কোথা থেকে গ্রহন করেছি। (হাশিয়া ইবনুল আবেদীন ২/২৯৩ রাসমুল মুফতী ২৯, ৩২ পৃষ্ঠা, শা’ রানীর মীথান ১/৫৫; ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৩০৯)

    ৩) যে ব্যাক্তি আমার দলিল জানে না, তার জন্য আমার উক্তি দ্বারা ফতোয়া দেওয়া হারাম। (আন-নাফিউল কাবীর ১৩৫ পৃষ্ঠা)

    ৪) আমরা তো মানুষ। আজ এক কথা বলি, আবার কাল তা প্রত্যাহার করে নিই। – (ঐ)

    ৫) যদি আমি এমন কথা বলি যা আল্লাহর কিবাব ও রাসুলের (সা) হাদীসের পরিপন্থি, তাহলে আমার কথাকে বর্জন করো। (দেওয়ালে ছুড়ে মারো)। (ঈক্কাবুল হিমাম ৫০ পৃষ্ঠা)

    ইমাম মালেক

    ১) আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আমার কথা ভুল হতে পারে আবার ঠিকও হতে পারে। সুতরাং তোমরা আমার মতকে বিবেচনা করে দেখ। অতঃপর যেটা কিতাব ও সুন্নাহর অনুকুল পাও তা গ্রহন কর। আর যা কিতাব ও সুন্নাহর প্রতিকুল তা বর্জন করো। (জানেউ বায়ানিল ইলম ২/৩২, উসুলুল আহকাম ৬/১৪৯)

    ২) রাসুলুল্লাহ (সা) এর পর এমন কোনো ব্যাক্তি নেই যার কথা ও কাজ সমালোচনার উর্ধে। একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা) ই সমালোচনার উর্ধে। (ইবনু আবদিল হাদী, ১ম খন্ড, ২২৭ পৃষ্ঠা, আল ফতোয়া – আসসাবকী, ১ম খন্ড ১৪৮ পৃষ্ঠা, উসুলুল আহকাম ইবনু হাযম, ষষ্ঠ খন্ড ১৪৫ – ১৭৯ পৃষ্ঠা)।

    ৩) ইবনু ওহাব বলেছেন, আমি ইমাম মালেককের উয়ব মধ্যে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার বিষএ এক প্রশ্ন করতে শুনেছি। তিনি বলেন লোকদের জন্য এটার প্রয়োজন নীই। ইবনু ওহাব বলেন, আমি মানুষ কমে গেলে তাঁকে নিরিবিলে পেয়ে বলি ‘তাতো আমাদের জন্য সুন্নাহ। ইমাম মালেক বলেন, সেটা কি? আমি বললাম, আমরা লাইস বিন সাদ, ইবনু লোহাইআ, আমর বিন হারেস, ইয়াবিদ বিন আমার আল-মা আফেরী, আবু আবদুর রহমান আল হাবালী এবং আল মোস্তাওরাদ বিন শাদ্দাদ আল কোরাশী এই সুত্র পরম্পরা থেকে জানতে পেরেছি যে, শাদ্দাদ আল কোরাশী বলেন, আমি রাসুল (সা) কে কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করতে দেখেছি। ইমাম মালেক বলেন, এটা তো সুন্দর হাদীস। আমি এখন ছাড়া আর কখনো এই হাদীসটি শুনিনি। তারপর যখনই তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, তখনই তাঁকে পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার আদেশ দিতে আমি শুনেছি। (মোকাদ্দামা আল জারাহ ওয়াত তা দীল- ইবনু হাতেমঃ ৩১- ৩২ পৃষ্ঠা)

    ইমাম শাফেরীঃ-

    ১) হাদীস সহীহ হলে সেটাই আমার মাযহাব। (মাজমু ১/৬৩; শা’রানী ১/৫৭)

    ২) আমি যে কথাই বলি না কেন অথবা যে নীতিই প্রনয়ন করি না কেন, তা যদি আল্লাহর রাসুল (সা) এর নিকট থেকে বর্ণিত (হাদীসের) খিলাপ হয়, তাহলে সে কথাই মান্য, যা রাসুল (সা) বলেছেন। আর সেটাই আমার কথা। (তারীখু দিমাশ্‌ক; ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৩৬৬,৩৬৪)

    ৩) নিজ ছাত্র ইমাম আহমাদকে সম্বোধন করে বলেন) হাদীস ও রিজাল সম্বন্ধে তোমরা আমার চেয়ে বেশি জানো। অতএব হাদীস সহীহ হলে আমাকে জানাও, সে যাই হোক না কেন; কুকী, বাসরী অথবা শামী। তা সহীহ হলে সেটাই আমি আমার মাযহাব (পন্থা) বানিয়া নেবো। (ইবনু আবী হাতীম ৯৪-৯৫ পৃষ্ঠা; হিলয়াহ ৯/১০৬)

    ৪) আমার পুস্তকে যদি আল্লাহর রাসুল (সা) এর সুন্নাহের খেলাপ কে কথা পাও, তাহলে আল্লাহর রাসুল (সা) এর কথাকেই মেনে নিও এবং আমি যা বলেছি তা বর্জন করো। (নাওয়াবীর মা’জমু ১/৬৩; ইলামূল মুওয়াক্কিঈন ২/৩৬১)

    ৫) যে কথাই আমি বলি না কেন, তা যদি সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থি হয়, তাহলে নবী (সা) এর হাদীসই অধিক মান্য। সুতরাং তোমরা আমার অন্ধানুকরন করো না। (হাদীস ও সুন্নাহর মুল্যমান ৫৪ পৃষ্ঠা)

    ৬) নবী (সা) থেকে যে হাদীসই বর্ণিত হয়, সেটাই আমার কথা; যদিও তা আমার নিকট থেকে না শুনে থাকো। (ইবনু আবী হাতীম ৯৩-৯৪)

    ইমামা আহমাদ

    ১) তোমরা আমার অন্ধানুকরন করো না, মালেকেরও অন্ধানুকরন করো না। অন্ধানুকরন করো না শাফেরীর আর না আওয়ারী ও ষত্তরীব বরং তোমরা সেখান থেকে তোমরা গ্রহন কর যেখান থেকে তারা গ্রহন করেছেন। (ইলামুল মোয়াক্কিঈন ২/৩০২)

    ২) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা) এর হাদীস প্রত্যাখ্যান করে, সে ব্যক্তি ধ্বংসোন্মুখ। (ইবনুল জাওযী ১৮২ পৃষ্ঠা)

    ৩) আওযাঈ; ইমাম মালেক ও ইমাম আবু হানীফার রায় তাদের নিজস্ব রায় বা ইজতিহাদ। আমার কাছে এসবই সমান। তবে দলিল হল আসার অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেঈগনের কথা। (ইবনু আবদিল বার-আল-জামে, ২ খন্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা)

    ইমামদের এই সকল বক্তব্য জানার পর আমরা বলতে পারি প্রকৃতই যারা ইমামদের ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, মান্য করেন তারা ইমামদের কথা অনুযায়ী চলবেন এবং সহীহ হাদীসকেই নিজের মাযহাব বানাবেন। তাক্কলীদ করবেন না। সরাসরী সেখান থেকে গ্রহন করবেন যেখান থেকে ইমামরা করেছেন অর্থাৎ সরাসরী হাদীস কোরয়ান থেকে। ইমামরা কোনো বিষয়ে ভুল ফতোয়া (সহীহ হাদীস তাঁদের কাছে না পৌছানোর কারনে) দিয়ে থাকলে তা প্রত্যাখ্যান করা এবং সহীহ হাদীসের উপর আমল করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলাম বোঝার ও গ্রহীহ হাদীসের উপর আমল করার তৌফিক দিন। আমীন!