লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইসলামের সঙ্গে সেক্যুলারিজমের কোনো সম্পর্ক নেই : শাহ আব্দুল হান্নান

লিখেছেন: ' বেদুইন' @ বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৫, ২০১০ (১১:৩১ পূর্বাহ্ণ)

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাবার মাধ্যমে দেশটিকে আবারো একটি সেক্যুলার রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তো সেক্যুলারিজম সম্পর্কে আমরা কথা বলেছি বাংলাদেশের সাবেক সচিব এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী শাহ আব্দুল হান্নানের সাথে। তাঁর পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো :

রেডিও তেহরান : সেক্যুলারিজম একটা মতবাদ। বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে সেক্যুলারিজমকে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও ‘৭২ এর সংবিধানে ফিরে গিয়ে দেশে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন। ফলে সেক্যুলারিজম নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তো সেক্যুলারিজম মতবাদটা আসলে কী এবং এই মতবাদের মূল বক্তব্যটা কী সংক্ষেপে একটু বলবেন?

শাহ আব্দুল হান্নান : প্রথমেই আমি সেক্যুলারিজমের ব্যাক গ্রাউন্ড উল্লেখ করছি। বিশ্বে সব সময়ই ধর্ম রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল । যেমন ধরুন, রাসুল ( সাঃ)’র যে শাসনব্যবস্থা ছিল সেটা ছিল ইসলামভিত্তিক । সেখানে ইসলামী আইন এবং ধর্ম বিচ্ছিন্ন ছিল না। সেখানে অমুসলিমদেরও অধিকার ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সুলতানী আমল পর্যন্ত শাসক যদিও বাদশাহী শাসন ছিল তারপরও ইসলামী আইন সে সময় বহাল ছিল। অর্থাৎ সেক্যুলারিজম ছিল না । তারপর খ্রিস্টান ওয়ার্ল্ডেও মূলত রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল খ্রিস্ট ধর্ম বা খ্রিস্টান নৈতিকতা । অশোকের শাসনামলে ছিল বৈদ্ধ ধর্ম।
যাইহোক, রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই অবস্থার পরিবর্তন হয় ঊনবিংশ শতাব্দির প্রথম দিকে বা এইটিনথ সেঞ্চুরির শেষ দিকে ইউরোপে যখন ‘এনলাইটেনমেন্ট মুভমেন্ট ‘ হয় । সে সময় তাদের মূল কথা ছিল ডিভিনিটি । রাষ্ট্রের সাথে ডিভাইন কোনো সম্পর্ক নেই । আর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি ছিল সেটি হচ্ছে, যুক্তির মাধ্যমে চলবো। তাছাড়া আরো অনেক কথা ছিল ঐ পরিবর্তনের ধারায়। তবে ডিভাইন কোনো কিছুর সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক থাকবে না এবং যুক্তির ভিত্তিতে চলা এটিই ছিল তাদের মূল কথা। পরবর্তীকালে এই আইডিয়াগুলো সেক্যুলারিজম নামে প্রসার লাভ করে। ফলে সেক্যুলারিজিমের মূল বক্তব্য এই যে, রাষ্ট্রের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। আর ধর্ম হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইউরোপের বহু জায়গায় যখন সেক্যুলারিজম রাষ্ট্রের আদর্শে পরিণত হলো তখন একটা দুঃখজনক ঘটনা দেখা যায়। আর সেটি হচ্ছে তারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কলোনি বিস্তার করে এবং সেখানে সেক্যুলারিজম ছড়িয়ে দেয়। এর আগ পর্যন্ত কিন্তু এমনটি ছিল না।
যাইহোক, এখন আমি সেক্যুলারিজমের মূল কথায় আসবো। ইতিহাস এবং বুৎপত্তিগতভাবে সেক্যুলারিজম মানে ধর্মনিরপেক্ষতা নয় ; এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ‘ধর্ম বর্জন’ । রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ধর্ম বর্জনই হচ্ছে সেক্যুলারিজম । ফলে সেক্যুলারিজমের বিষয়টি বাংলাদেশে যারা ব্যবহার করে তারা এর প্রকৃত অর্থ সবসময় বুঝে আমি তা বলবো না । কারণ তারা সেক্যুলারিজমকে তারা অনুবাদ করেছে ধর্মনিরপেক্ষতা হিসেবে। এর ফলে বিষয়টি সম্পূর্ণ কনফিউজড হয়ে যায়। তারা আসলে বুঝতেই পারে না যে, বিষয়টি আসলে কি ? আসল বিষয় হচ্ছে, সেক্যুলারিজমে রাষ্ট্রের সাথে ধর্মের, কোরআনের ও ইসলামের কোনো যোগ থাকবে না। আর সেক্যুলারিজম প্রসঙ্গে এই যে, পরিস্থিতি সেটা ১৯৭২ সালে শেখ সাহেবের সময়ে সংবিধানে আনা হয়। অথচ আমরা যদি একটু ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন যেটা হয়েছিল সেই স্বাধীনতা আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটি আওয়ামী লীগ দাবী করেছে । আমি আওয়ামীলীগের ওয়েব সাইটে ভিজিট করেছি, সেখানে বলা হয়েছে,In the name of almighty Allah- তারপর লেখা হয়েছে – আমি স্বাধীনতার ঘোষণা করছি এবং বাংলাদেশের সৈন্যদেরকে যুদ্ধ করতে বলছি । তো এখানেও কিন্তু In the name of almighty Allah দিয়ে শুরু করা হয়েছে। তারপর মুজিব নগর সরকারের যে ডিক্লেয়ারেশন ; এ বিষয়ে গুগলে গিয়ে সার্চ করলে দু’তিন পাতার ছোট্ট যে ডিক্লেয়ারেশন সেখানে দেখতে পাবেন যে সেক্যুলারিজম ছিল না। পরে ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে সেক্যুলারিজম ঢুকানো হলো তা ছিল মূলত একটি নতুন বিষয়-যার সাথে স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বাধীনতার ঘোষণার বা মুজিব নগর সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল না । তাহলে এটা কোথা থেকে আসলো ? হয়তো তখনকার মার্ক্সিজমের প্রভাবে বা তখনকার অত্যন্ত ইন্টেলেকচুয়াল সেক্যুলার যারা ছিল তাদের প্রভাবে অথবা ভারতের যেসব ইনটেলেকচুয়াল বাংলাদেশের মুভমেন্টের সাথে সম্পৃক্ত ছিল তাদের প্রভাবে এটি হয়ে থাকবে। তবে এর সাথে জনমনের খুব একটা সম্পর্ক ছিল না। জনগণ এ ব্যাপারে নিরব ছিল । কিন্তু ‘৭৫ সালের পট পরিবর্তনের ফলে যারা ক্ষমতায় আসলেন তারা দেখলেন যে, জনগণ তো সেক্যুলারিজম চায় না । তখন তারা রেফারেন্ডাম দিয়ে চতুর্থ সংশোধনী বাতিল করলেন, একদল বাতিল করলেন; বাকশাল ব্যবস্থা বাতিল করলেন । তারা নতুন ধারা সংযোজন করলেন, সেখানে সেক্যুলারিজমকে বাদ দিয়ে ‘আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা’র বিষয়টি আনলেন । তাছাড়া বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম সংযোজন করলেন। সেখানে বলা হলো, আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রধান নীতি। আর এ বিষয়টি কিন্তু ধর্মীয় দিক। এ সময় সেক্যুলারিজমকে জনগণ পুরোপুরি রিজেক্ট করে এবং ধর্মের এই বিষয়গুলো আনা হয় । পরবর্তীকালে এ বিষয়টি পার্লামেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত হয় ৫ম সংশোধনীতে ।
যাইহোক আমি বলবো যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে এবং ইসলামের সঙ্গে সেক্যুলারিজমের কোনো সম্পর্ক নেই । ইসলাম এবং সেক্যুলারিজম দুটো বিপরীত জিনিস । আমরা যদি রাসুলের সময়ের সমাজ বা রাষ্ট্র দেখি তাহলে দেখব ইসলামী আইন সেই সমাজ বা রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে, কোরআন-সুন্নাহ তার ভিত্তি হবে, বিচার ব্যবস্থা হবে স্বাধীন ও ইসলামী আইন মোতাবেক। সেখানে সেক্যুলারিজমের অবকাশ কোথায় ? ইসলামতো এমন কথা বলে না যে, তার একটি অংশ মানো এবং একটা অংশ বাদ দাও। পবিত্র কোরআনের আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ‘ তোমরা কি আল্লাহর কিতাবের একাংশ বিশ্বাস কর আর অপর অংশকে কর অবিশ্বাস? জেনে রেখো, তোমাদের মধ্যে যারাই এ ধরনের আচরণ করবে তাদের জন্য রয়েছে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমান আর পরকালের জীবনে কঠিন আযাব। তোমরা যা কিছুই কর আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর নন।’-[আল-বাকারা : ৮৫] অথবা আল্লাহতায়ালা যখন বলেন – ‘ নিশ্চয়ইআমার জীবন, আমার হায়াত, আমার মৃত্যু সব কিছুই আল্লাহর জন্য।’ তখন সেক্যুলার হওয়ার অবকাশ কোথায় ? সুতরাং আমার মনে এখন যদি নতুন করে সেক্যুলারিজম করার চেষ্টা করা হয় তাহলে এটা আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিরোধী কাজ হবে, ইসলামের ইতিহাস বিরোধী কাজ হবে। তাছাড়া গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার দিয়েছিল তাতে বলেছিল যে, কোরআন এবং সুন্নাহর খেলাপ কোন কিছু তারা করবে না।

রেডিও তেহরান : সেক্যুলারিজমকে বাংলায় অনুবাদ করা হয় ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ। অনেকেই মনে করেন এই অনুবাদটা যথাযথ নয়। আপনি কী মনে করেন?

শাহ আব্দুল হান্নান : এ বিষয়ে আমি শুধু এটুক বলবো যে ‘সেক্যুলা’র আন্দোলনের যে ভিত্তি দেখছি, সেখানে আল্লাহর ওহি বাদ অর্থাৎ কোনো ওহি নেই, রাষ্ট্রের ভিত্তিতে ডিভাইন কোনো ইন্সপিরেশন থাকবে না । ফলে এ রকম একটা বিষয়কে আপনি কিভাবে বলবেন যে সে ধর্ম সম্পর্কে নিরপেক্ষ ! এখানে স্পষ্ট যে সেক্যুলারিজম ধর্ম সম্পর্কে নিরপেক্ষ না ; সে আসলে ধর্ম বিরোধী । সেক্যুলারিজম বলছে, আল্লাহ মাইনাস ; আল্লাহর ইন্সট্রাকশান বাদ, সকল ধর্মের নির্দেশাবলী বাদ । এটি কোনো ধর্মের পক্ষে নয়; সব ধর্মের বিপক্ষে সেক্যুলারিজমের অবস্থান। তবে কিছু লোক যদি বলে সেক্যুলারিজমের অর্থ আমাদের কাছে টলারেন্স। তো সেই টলারেন্স তো ইসলামী শিক্ষার অংশ ।

রেডিও তেহরান : তো বাস্তবতাবাদ হচ্ছে, এর অর্থ ধর্মহীনতাবাদ ।

শাহ আব্দুল হান্নান : হ্যাঁ, আমি একে ধর্মহীনতা বলবো অথবা আমি যেটা অনুবাদ করেছি সেটি বলবো। সেক্যুলারিজমের অনুবাদ আমি করেছি এভাবে যে, ধর্ম বর্জনবাদ । রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ধর্ম বর্জনবাদ। আমার মনে হয় এটিই যথার্থ । আমি আরো বলবো, যারা সেক্যুলারিজম সৃষ্টি করেছিল তারা কি চায় যে তার অর্থ বদল করে দেয়া হোক । তারা তো তা চান না । তাহলে আমরা কেন এর অর্থ বদল করবো ?

রেডিও তেহরান : সেক্যুলারিজমের সাথে ইসলামের কি কোনো বিরোধ আছে? অর্থাৎ আমি জানতে চাচ্ছি যে মুসলমানদের কি সেক্যুলারিজম গ্রহণ করার প্রয়োজন আছে?

শাহ আব্দুল হান্নান : অবশ্যই সেক্যুলারিজমের সাথে ইসলামের বিরোধ আছে । আর মুসলমানদের সেক্যুলারিজম গ্রহণ করার কোনো প্রয়োজন নেই । নেই এই জন্য যে, যদি কেউ রাসুল (সাঃ) এর দিকে বা তার রাষ্ট্র মদীনার দিকে তাকায় বুঝতে পারব যে, তাঁর রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি ছিল কোরআন এবং সুন্নাহ। পরবর্তীকালে খেলাফায়ে রাশেদীন ছিল। তবে পরবর্তীকালে যে খলিফারা ছিলেন তারা আদর্শ ছিলেন না। কিন্তু তারা তো রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ইসলামী শরিয়াহ রেখেছিলেন। ইসলামী আইনের উপরই তো রাষ্ট্র পরিচালিত হতো তাদের সময়ে। সুতরাং যে রাষ্ট্রের ভিত্তি ইসলামী আইন সেটি কি সেক্যুলার রাষ্ট্র হলো ? সেক্যুলারিজম বলে ধর্মকে রাষ্ট্রের মধ্যে আনা যাবে না। তুমি ব্যক্তিগতভাবে তোমার ধর্ম পালন করো। কিন্তু মুসলমানরা কিভাবে ধর্ম পালন করবে, মুসলমানদের ধর্মতো রাষ্ট্রভিত্তিক। মুসলমানদের ধর্মের ৫০/৬০ ভাগ রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল। মুসলমানদের আইন- অর্থাৎ মুসলিম ল, ক্রিমিনাল ল, সোসাল ল , ব্যবসায়িক ল এসবই তো রাষ্ট্রের উপর নির্ভর করে। সুতরাং কোনোভাবেই মুসলমানদের সেক্যুলারিজমকে সমর্থ করার প্রশ্নই ওঠে না। একথা শুধু আমি বলবো না, আপনি যদি মুসলিম যে কোনো মেজর স্কলারের বই পড়েন, যেমন আপনি সাইয়েদ কুতুব,হাসান আল বান্না, ইউসুফ আল কারাদাভী, আবুল আলা মওদুদী, আবুল হাসান নদভী বা ইমাম খোমেনীর বই পড়েন,তাঁরা কেউই তো সেক্যুলারিজমকে সমর্থন করেনি।

রেডিও তেহরান : কোনো মুসলমান যদি এই মতবাদকে নিজের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে ধর্মীয় দিক থেকে কি কোনো অসুবিধা আছে?

শাহ আব্দুল হান্নান : ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থাৎ ইসলামের দৃষ্টিতে আমি এটাকে অগ্রহণযোগ্য বলবো । আমি এ ব্যাপারে কঠোর শব্দ ব্যবহার না করে শুধু বলবো তা অগ্রহণযোগ্য । এরকম কেউ করলে তাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। আল্লাহ তাকে কিভাবে দেখবেন তা আল্লাহই জানেন । আমি যদি ইসলাম বুঝে থাকি তাহলে অবশ্যই তা অগ্রহণযোগ্য । তারপরও যদি কেউ সেক্যুলার হয় তার জবাব সে আল্লাহর কাছে দেবে । তার রিলিজিয়াস স্ট্যাটাস নিয়ে আমি অবশ্য কোনো ফতোয়া দিতে পারবো না ।

রেডিও তেহরান : ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ যদি সকল ধর্মে বিশ্বাসীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হয় তাহলে ইসলামও তো সে কথাই বলে। ফলে সেক্যুলারিজম আর ইসলাম তো একই কথা বলছে। কাজেই মুসলমানরা সেক্যুলারিজম গ্রহণ করলে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেন অসুবিধা হবে?

শাহ আব্দুল হান্নান : দেখুন সেক্যুলারিজমের উপর আপনি কি এমন ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেবেন, যে ব্যাখ্যা সেক্যুলারিজমের অংশ নয়? সেক্যুলারিজম এ কথা বলেনি যে, সকল ধর্মের প্রতি বিশ্বাস থাকবে। সেক্যুরাজিমের বক্তব্য হচ্ছে, সকল ধর্মকে দূরে রাখো। ইনফ্যাক্ট সেক্যুলারিজম ইজ ক্লোজ টু এথিজম। তারা আল্লাহ নাই এ কথা বলেনি। এসব বিষয়ে সেক্যুলারিজমের প্রবর্তকরা নিরব থেকেছে । এনলাইটেনমেন্ট মুভমেন্টে সার্চ দিলে যে কেউ দেখতে পাবেন যে, এন্ড অফ এইটিনথ সেঞ্চুরীতে যারা সেক্যুলারিজমের ফাউন্ডার ছিলেন তাদের বেশীরভাগই এথিস্ট ছিলেন। তারা সরাসরি একথা বলেনি যে, এথিজম রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে। তারা বল্লেন যে, ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে মাইনাস করো। ফলে এই ইতিহাস থেকে বেরিয়ে গিয়ে যদি সেক্যুলারিজমের ব্যাখ্যা করতে চায় তাহলে সেটি কি হবে ! ধরুন- ইসলামকে যদি কেউ ব্যাখ্যা করতে চায় এবং সে বলে ইসলাম অর্থ মার্ক্সিজম,ইসলাম মানে কম্যুনিজম- সেক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি?

রেডিও তেহরান : তারমানে সকল ধর্মের স্বাধীনতা অর্থে যে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয় সেটি একটি প্রতারণা ?

শাহ আব্দুল হান্নান : হ্যাঁ, অবশ্যই এটি একটি প্রতারণা । আমি আবারও বলছি সেক্যুলারিজমের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। সেক্যুলারিজমের মূল তত্ত্বের সাথে এ কথার কোনো সম্পর্ক নেই বরং আমরা দেখেছি খ্রিস্টান পণ্ডিতরা অনেকে বলে থাকেন, সব ধর্মকেই তার সুযোগ দিতে হবে এমনকি ভারতের যে লিডারশিপ তারা কিন্তু সেখানে বলছেন না যে, মুসলিমরা তাদের ধর্ম প্রাকটিস করতে পারবেন না । আর ইসলামে তো একথা একদমই নেই । মদীনার সনদের যে কথা আমি আগে বলছিলাম সেখানে বলা হয়েছে,ইহুদীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে অটোনমি ছিল এমনকি তাদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থাও তাদের উপর ছিল। রাসুলের সনদে ছিল সকল মুসলিমরা একটি উম্মাহ আবার এ কথাও ছিল যে, ইহুদী এবং মুসলমানরা মিলে একটি উম্মাহ। ওখানে দু’ধরনের অর্থ ছিল । একটি হচ্ছে জাতিগত বা টেরিটোরিয়াল অর্থে, অন্যটি আইডিওলজিক্যাল অর্থে । রাসুল (সাঃ) যখন ঐ ডকুমেন্টে বল্লেন, মুসলমানরা একটি উম্মাহ, তারমানে একটি ইউনিভার্সাল সোসাইটি। তার কোনো বর্ডার নেই। আবার যখন বল্লেন, ইহুদী মুসলমানরা সবাই মিলে একটি উম্মাহ তখন এটি একটি পলিটিক্যাল দিক নির্দেশ করলেন ।#
Tehran Bangla Radio

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)