লগইন রেজিস্ট্রেশন

সূরা ইব্রাহীম

লিখেছেন: ' বেদুইন' @ শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০০৯ (৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ)

১ম পর্ব

পাঠক! আজকের আসরে আমরা সূরা ইব্রাহীমের উপর আলোচনা করবো । সূরা ইব্রাহীম পবিত্র কুরানের ১৪তম সূরা । এই সূরায় মোট ৫২ টি আয়াত রয়েছে । এই সূরার অধিকাংশ আয়াত হিজরতের আগে মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়েছে । এতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে বলে এর নামকরণ করা হয়েছে সূরা ইব্রাহীম ।
আজকের আসরে আমরা এই সূরার ১ থেকে ৩ আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবো । তো দেখা যাক প্রথম আয়াতটিতে কি বলা হয়েছে, “আলীফ লাম রা , এটি ঐশি গ্রন্থ যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি , যাতে আপনি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে অন্ধকার (অজ্ঞতা) থেকে আলোকে (ঈমান ) বের করে আনেন । তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসারযোগ্য ।”

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে নবী-রাসুল এবং ঐশি গ্রন্থ প্রেরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষকে কুপ্রবৃত্তির শৃংখল থেকে মুক্ত করা এবং তাদেরকে খোদাদ্রোহী তাগুতি শাসকের হাত থেকে উদ্ধার করা । এছাড়া সমাজ থেকে কুসংস্কার ও ভ্রান্ত প্রথা অপসারন করাও নবী-রাসুলদের বড় একটি দায়িত্ব । এই বিষয়গুলো যে সমাজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে সেখানে একত্ববাদী বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে এবং মানুষ অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত হবে ।
এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে , পবিত্র কুরআনের সর্বত্র জুলুমাত অর্থাৎ অন্ধকার শব্দটি বহুবচন এবং নূর বা আলো শব্দটি একবচন ব্যবহৃত হয়েছে । এর দ্বারা হয়ত এটা বুঝানো হয়েছে যে, শের্ক, কুফুরী এবং কপটতার মত ভ্রান্ত পথ যা মানুষকে অন্ধকারের দিকে পরিচালিত করে তার সংখ্যা একাধিক কিন্তু সত্য বা আলোর পথ একটিই , যা নবী-রাসুলগণ প্রদর্শন করে গেছেন ।
এই আয়াত থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, মানুষকে সুপথে পরিচালিত করার জন্য শুধু ঐশি গ্রন্থ যথেষ্ট নয় । এজন্য নবী- রাসুল বা ধর্মীয় নেতৃত্বেরও প্রয়োজন । যারা মানুষের জন্য বাস্তব আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবেন ।
এছাড়া ঐশি ধর্মগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, পাপাচার ,অজ্ঞতা ও অনৈক্যের অন্ধকার থেকে মানুষকে মুক্ত করে তাকওয়া, মৈত্রী এবং জ্ঞানের নূরের দিকে পরিচালিত করা ।

এবার এর পরের আয়াকের দিকে নজর দেবো। দেখা যাক এই আয়াতে কি বলা হয়েছে -
“তিনিই আল্লাহ, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছুই তাঁর । অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন শাস্তির দুর্ভোগ রয়েছে ।”

এই সূরার প্রথম আয়াতে মানুষের জন্য ঐশী গ্রন্থের অপরিহার্যতার কারণ ব্যাখ্যা দেয়ার পর এই আয়াতে বলা হচ্ছে , তিনিই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে । তিনি প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান মানুষের জন্য প্রেরণ করেছেন ।
বিষ্ময়ের বিষয় হচ্ছে মানুষের মধ্যে অনেকেই স্বীয় স্রষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার চেষ্টা করে । এমন কি কেউ কেউ স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাপারেই সন্দিহান, তারা ঐশী বিধানকেও অস্বীকার করে ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই শ্রেণীর মানুষের কথায় কোন যুক্তি নেই । তাদের কথা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর প্রতিষ্ঠিত নয় । তারা নফস বা কুপ্রবৃত্তির প্রভাব দ্বারা আচ্ছন্ন । কাজেই এটা সুস্পষ্ট যে কুপ্রবৃত্তি মানুষকে পাপাচারে লিপ্ত করে যার পরিণতিতে ব্যাক্তি বা সমাজ জীবণে তারা নানা দূর্যোগে নিপতিত হয় ।

এই আয়াতের শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে , আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের পরিবর্তে মানব রচিত বিধান উপস্থাপন করা কুফরীর শামিল ।
আল্লাহকে অস্বীকার করলে এতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হয় না, যেমন সূর্য্যকে অস্বীকার করা হলে তাতে সূর্য্যে অস্তিত্ব বিপন্ন হয় না ।

যাই হোক এবার তিন নম্বর আয়াতের দিকে নজর দেয়া যাক ।
“যারা পার্থিব জীবনকে পরকালীন জীবণের উপর প্রাধান্য দেয়, (মানুষকে) আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করে এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করে তারাই তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে ।

এই আয়াতে নবী-রাসুলদের সাথে কাফেরদের বিরুদ্ধাচরণের কারণ উল্লেখ করে বলা হয়েছে , প্রবৃত্তির দাসত্ব এবং দুনিয়ার জীবনের প্রতি প্রচন্ড মোহের কারণে কাফের মুশরেকরা ঐশী গ্রন্থ বা আল্লাহ প্রদত্ত বিধান মেনে নিতে পারে না । তাদের কাছে পার্থিব সুখ ও সচ্ছলতাই মূখ্য । ফলে তাদের কাছে দ্বীন বা ধর্মীয় অনুশাসন খুব কঠিন মনে হয় । দ্বীনি অনুশাসনকে তারা তাদের ভোগ বিলাসিতার জন্য অন্তরায় মনে করে । ধর্মীয় অনুশাসন লাগামহীন ভোগ বিলাসিতাকে প্রশ্রয় দেয় না । কাজেই আত্মকেন্দ্রীক স্বার্থপর ভোগবাদীরা যে ধর্মীয় অনুশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)