লগইন রেজিস্ট্রেশন

৮ টি মুসলিম দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টা

লিখেছেন: ' বেদুইন' @ শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০০৯ (৩:৫১ পূর্বাহ্ণ)

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে, উন্নয়নশীল আটটি মুসলিম দেশের জোট বা ডি-এইটের শীর্ষ সম্মেলন। আটই জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এই তিন দেশের শীর্ষ নেতা ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, তুরস্ক ও নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগিতার ব্যাপারে আলোচনা করেন। উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইট ১৯৯৭ সালে তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন আরবাকানের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় গঠিত হয়। মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্লক গড়ে তোলাই ছিল ডেভেলপিং-এইট বা ডি-এইট জোট গঠনের লক্ষ্য।

উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইট ইসলামী সম্মেলন সংস্থার জন্য একটি শক্তিশালী বাহু হতে পারে। কারণ, এ আটটি দেশের রয়েছে প্রায় ১০০ কোটি জনসংখ্যাসহ প্রভুত সম্পদ ও অমিত সম্ভাবনা। খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশগুলো কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রেও ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যেও এই ৮ টি দেশের রয়েছে মোটামুটি ভালো অবস্থান।
বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক হওয়ায় বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে জাতিগুলো নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বে মার্কিন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার হবার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের জোট গঠনের প্রচেষ্টাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোট গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থগুলো ভালোভাবে অর্জন করা যায় এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়ানো যায়। তবে এজন্য এ জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য এ ধরনের জোটভুক্ত দেশগুলোর ঐক্য ও শক্তিও জরুরী। তাই উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইট পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য আরো বেশী প্রচেষ্টা চালাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বৃটিশ অধ্যাপক শেকসপীয়ার বলেছেন, বর্তমানে কোনো কোনো পরাশক্তির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অসৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বব্যবস্থা পরিচালিত হওয়ায় বিশ্বে কিছু কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইট ব্যাপক সম্ভাবনা নিয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ডি-এইট শীর্ষ সম্মেলনে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বা বিশ্ব ব্যবস্থা মানবীয় ও খোদায়ী মূল্যবোধগুলো থেকে দূরে সরে যাওয়ায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেছেন, বর্তমান অবস্থায় উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইট বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সংকটগুলো মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ডি-এইটের দেশগুলো মুসলিম দেশ হওয়ায় তারা পবিত্র ইসলাম ধর্মের আলোকে উন্নয়নের মডেল তুলে ধরতে পারে। নিঃসন্দেহে, এ ধরনের মডেলে জাতিগুলোর মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও লুন্ঠনের কোনো স্থান হবে না এবং সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধাগুলো সুষমভাবে বণ্টিত হবে।

এ পর্যন্ত উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইটের ছয়টি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জোটের পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনটি হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ায়। ঐ বৈঠকে ডি-এইটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক লেনদেন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ঐসব সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবের মধ্যে বৃহত্তর ইসলামী বাজার এবং পর্যটনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কথাও গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়াও ডি-এইটের পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে পরস্পরকে শুল্ক ক্ষেত্রে সুবিধা দেয়া, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং মুক্ত বাণিজ্য বিস্তারের কথা বলা হয়েছিল। তবে যে কোনো জোটের মূল শক্তি বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইটের অনেক প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়িত হয় নি। তাই প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী বা নিশ্চয়তার পথ উদ্ভাবন করা এ জোটের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইটের সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলন বা কুয়ালালামপুর বৈঠকে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমত, খাদ্য সংকট ও দ্বিতীয়তঃ জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈষম্যমূলক নীতিই যে এসব সংকটের জন্য দায়ী তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমানে চাহিদা বা প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাপক মাত্রায় জ্বালানী তেল উৎপাদিত হওয়া সত্ত্বেও পরাশক্তিগুলোর অসুস্থ ও বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণেই জ্বালানী তেলের দর অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিমা সরকারগুলোর নীতির কারণেই যে বিশ্বে দারিদ্র বাড়ছে তা এসব সরকার স্বীকার করেছে। এই দেশগুলো ব্যাপক ওয়াদা দেয়া সত্ত্বেও গরীব দেশগুলোকে পর্যাপ্ত মাত্রায় সাহায্য করে নি।

উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইটের সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলন বা কুয়ালালামপুর বৈঠকে দশসালা পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ডি-এইটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বিনিময়ের বর্তমান হার শতকরা ৫ ভাগ থেকে বাড়িয়ে শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত করা হবে। কুয়ালালামপুর বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো, এ বৈঠকে ডি-এইটের প্রকল্পগুলোকে সহায়তা দেয়ার জন্য একটি অভিন্ন বিনিয়োগ ফান্ড গড়ে তোলার ব্যাপারে ইরানের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়াও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারেও এ সম্মেলনে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, জ্বালানী তেলের দাম ও খাদ্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিই আমাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা এবং ডি-এইটভুক্ত দেশগুলো নিজ অর্থনীতিকে কৃষি উৎপাদনকেন্দ্রীক করতে সম্মত হয়েছে।

উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইটের সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলন বা কুয়ালালামপুর বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এ জোটের সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির প্রতি ডি-এইটের সমর্থন। এই সমর্থনের ফলে ডি-এইটের অন্য সাতটি দেশই শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ডি-এইটভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ইরানের সদস্য পদ লাভের প্রতিও সমর্থন ঘোষণা করেছে। পাশ্চাত্যের সরকারগুলো, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীতার কারণে ইরান এখনও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য পদ লাভ করতে পারে নি।

উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের জোট ডি-এইটের প্রতিটি দেশই নিজ নিজ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ শক্তি বা সুবিধার অধিকারী। আর তাই তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা পরিকল্পিত ও কার্যকরীভাবে অব্যাহত থাকলে এই জোট অন্য মুসলিম দেশগুলোর জন্য উন্নয়নের আদর্শ দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। #

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৮৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. Good sign for Muslims.Really the mail cause of defeat for Muslim, only lack of unity.But we believe to Allah and for the reason we are not hopeless.Once we will see the win Insallah.