আল-কুরআনের দৃষ্টিতে আন্দাজ-অনুমান
লিখেছেন: ' সাদাত' @ বুধবার, মার্চ ১০, ২০১০ (৫:১৮ অপরাহ্ণ)
না, নিজে থেকে কিছু বলব না। শুধু আল-কুরআনের কিছু আয়াত তুলে ধরব। খুবই স্পষ্ট আয়াত। আল্লাহপাক আমাদের সঠিক শিক্ষা নেবার তাওফিক দান করুন। আ-মি-ন।
-
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। [4:157]
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। [6:116]
এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল। [6:148]
বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে। [10:36]
যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে। এবং তোমরা অনুমান করবে যে, সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে। [17:52]
অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন; তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে; তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না। [18:22]
আর তাদের উপর ইবলীস তার অনুমান সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। ফলে তাদের মধ্যে মুমিনদের একটি দল ব্যতীত সকলেই তার পথ অনুসরণ করল। [34:20]
তারা বলে, রহমান আল্লাহ ইচছা না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না। এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। তারা কেবল অনুমানে কথা বলে। [43:20]
তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে। [45:24]
অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক, [51:10]
এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে। [53:23]
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়। [53:28]
Processing your request, Please wait....












(৪ভোট, গড়: ৪.৭৫)
২টা ভোট পড়েছে। ১২ বার পঠিত। তার মানে বেশ কয়েকজন পড়েছেন। কিন্তু কমেন্ট করেন নাই।
আমার অনুরোধ, একটু হাত খুলে কমেন্ট করেন, যতদিন না ব্লগটা জমে ওঠে। আমি সাধ্যমত কমেন্ট করছি। আপনারাও করুন।
@সাদাত,
বিজ্ঞান চর্চার অনুমতি আছে, আমি যত দূর জানি, আপনিও খোলাসা করেন।
@ফুয়াদ,
বিজ্ঞান চর্চার বিপক্ষে তো এখানে কিছু নাই।
যাচাই বাচাই না করে শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক না।
বিজ্ঞান তো অনুমান নির্ভর নয়। প্রথমে অনুমান, পরে তার যাচাই বাছাই করা হয়।
@ফুয়াদ,
লক্ষ করুন:
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়। [53:28]
এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। তারা কেবল অনুমানে কথা বলে। [43:20]
শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। [4:157]
কাজেই, কোন বিষয়ে জানা না থাকলে, শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
জ্ঞানের ভিত্তিতে যে অনুমান করা হয়, সেটার কথা কিন্তু এখানে বলা হয়েছে।
@সাদাত,
তার মানে কি হাইপোথিসিস দেওয়া যাবে না ?
আসলে উপরের আয়াত গুলিতে বিজ্ঞানের ব্যাপারে বলা হয়নি, আমি যা এখন পর্যন্ত বুঝেছি।
@ফুয়াদ,
বিজ্ঞান কি “শুধুই” অনুমান? তা তো নয়।
সুতরাং আলোচ্য আয়াতগুলো তো কোনভাবেই বিজ্ঞান চর্চাকে নিরুৎসাহিত করে না।
তবে হ্যাঁ শুধু অনুমানের ওপরই যদি কোন অপবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয়, তাও উক্ত আয়াত সমূহের আওতা বহির্ভূত হবার কথা নয়।
@সাদাত,
আমি এই আয়াত গুলি দিয়ে যা বুঝিছি তা হল, আল্লাহ পাকের ব্যাপারে কিংবা তার ধর্মের ব্যাপারে বা তার বিধানের ব্যাপারে অনুমানের উপর চলা উচিত নয়। হিন্দুরা আল্লাহ পাক কে অনুমান করতে যাইয়াই ছবি মবি আকে। আশা রাখি প্রকৃত মেসেইজ় ধরতে পারবেন। ইনশি-আল্লাহ।
@ফুয়াদ,
এক.
আমি এই আয়াত গুলি দিয়ে যা বুঝিছি তা হল, আল্লাহ পাকের ব্যাপারে কিংবা তার ধর্মের ব্যাপারে বা তার বিধানের ব্যাপারে অনুমানের উপর চলা উচিত নয়।
আমিও ঠিক একটুকুই বুঝাতে চেয়েছি।
দুই.
হাইপোথিসিস আর অনুমান এক না। হাইপোথিসিস এক ধরণের ব্যাখ্যা যাতে অনুমান অবশ্যই আছে, কিন্তু তা শুধুই অনুমানসর্বস্ব নয়। শুধু হাইপোথিসিস থেকেই কোন সিদ্ধান্তে কেউ উপনীত হয় না। বরং হাইপোথিসিস যাচাই বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলেই তা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসেবে গৃহীত হয়।
প্রদত্ত আয়াতগুলোতে সেই অনুমানের সমালোচনা করা হয়েছে:
১.যা অনুমানই অনুমান, যার কোন যাচাই বাছাই নাই “কেবল অনুমান”
“তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।” [6:148]
২.যে বিষয়ে জানা নেই, জ্ঞান নেই সে বিষয়ে “শুধু” অনুমানের ওপর সিদ্ধান্তে আসা।
@ফুয়াদ, আসসালামু আলাইকুম ভাই,
আপনি ”ইনশি-আল্লাহ” কেন লেখেন তা আমার বোধগম্য হল না।
ان ﺷﺎ ﻋ اﷲ – ইনশা-আল্লাহ বা ইনশাল্লাহ লিখতে পারেন কিন্তু ”ইনশি-আল্লাহ” নয়। আপনি কেন এইভাবে লিখেন, বিষয়টি একটু খুলে বলেন তো?
@manwithamission,
যখন-ই আমি আল্লাহ পাকের নাম লিখতে যাই, তখন তার নাম ক্লিয়ার না করলে আমার মন অস্থির হয়ে উঠে, তাই এ রকম হয়, যাইহোক, এখন থেকে ইনশা-আল্লাহ ই লিখব ইনশা-আল্লাহ।
@ফুয়াদ,
ইনশা-আল্লাহ।
আসসালামু আলাইকুম ভাই, চমৎকার ভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ইসলামের কোন বিষয়ে নতুন করে আন্দাজ অনুমানের কোন ভিত্তি নেই, নতুন করে কোন ব্যাখ্যা এমনভাবে দেওয়া যেভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মাহর সৎকর্মশীলরা করেন নি। ইহুদী – খ্রিস্টান ধর্মে প্রায় প্রতিদিনই তাদের ধর্মে কোন না কোন পরিবর্তন সাধিত হয়, কারণ তারা অনুমান আর নিজস্ব প্রবৃত্তি অনুযায়ী সবকিছু বলে এবং করে থাকে। আমাদের মুসলিম ভাইদের আল্লাহ এই অভিশপ্ত এবং পথভ্রষ্ট জাতি দুটোর হাতে পরা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।