লগইন রেজিস্ট্রেশন

বিদআতের সংজ্ঞা কী?

লিখেছেন: ' সাদাত' @ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১, ২০১০ (৫:০৩ অপরাহ্ণ)

প্রশ্ন:বিদআত কাকে বলে? আপনি কী জানেন।
আপনি নিজে যা জানেন/বুঝেন/মানেন সেটা বলুন।
অনুরোধ:
এই পোস্টে দয়া করে কেউ কোন লিংক ব্যবহার করবেন না। ইংরেজি ব্যবহার করবেন না।
শর্ত:
আমরা এই পোস্টের বাইরে অন্য কোন পোস্ট বা সাইটে যাব না।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৫৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৩৩ টি মন্তব্য

  1. শুধু মাত্র নুতুন ইবাদত, ই বিদাত।

    কিন্তু কোন কৌশল কখন বিদাত নয়। আগে তলোয়ার ব্যাবহার করা হত, এখন ট্যাংক হলে তা বিদাত হবে কেন?

    দ্য মুসলিম

    @ফুয়াদ,

    কিন্তু কোন কৌশল কখন বিদাত নয়। আগে তলোয়ার ব্যাবহার করা হত, এখন ট্যাংক হলে তা বিদাত হবে কেন?

    এগুলো তো ইবাদতের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। সুতরাং বিদআতও হবেনা।

    সাদাত

    @ফুয়াদ,

    ইবাদাত কাকে বলে?
    কোন্ কোন্ কাজ ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, কোন্ কোন্ কাজ ইবাদাতের বাইরে?

  2. ইবাদতের ক্ষেত্রে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত। কিন্তু যেগুলো তিনি নির্দিষ্ট করে দেননি বা করার কথা বলেছেন কিন্তু কতটুকু করতে হবে তা নির্দিষ্ট করে দেননি, সেগুলো কেউ যদি বেশী বেশী করে থাকে তাহলে তাকে বিদআতি বলা যাবেনা।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,

    ইবাদাত কাকে বলে?
    কোন্ কোন্ কাজ ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, কোন্ কোন্ কাজ ইবাদাতের বাইরে?

    দ্য মুসলিম

    @সাদাত,

    ভাই, এসবতো অনেক জটিল বিষয়। লিখতে গেলে খেই হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই ক্ষান্ত দিলাম। বিদআত নিয়ে আলাদা একটি পোষ্ট দেয়া হয়েছে। চলুন সেখান থেকে ঘুরে আসি।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,
    সেটা অনেক আগেই ঘুরে এসেছি।
    আপনি দয়া করে আপনার উত্তরটা দিন। খেই হারানোর কিছু নাই। আপনি যা জানেন, মানেন তাই বলেন।

  3. বিষয়টি আসলে অনেক বড়, অনেক বোঝার ব্যাপার আছে, তাই আপনার শর্ত ভঙ্গ করে নতুন একটি পোস্ট দিয়েছি, একদম উপরে লিংক দেওয়া আছে ডাউনলোড করে পড়ে নিতে পারেন কিংবা পোস্টটি পড়তে পারেন।

    সাদাত

    @manwithamission,
    শর্ত ভঙ্গ করলেও ধন্যবাদ।

    আপনার সংজ্ঞা হল:
    শরীয়তের পরিভাষায়,
    অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর পক্ষে শরীয়তের কোন ব্যাপক ও সাধারণ কিংবা খাস ও সুনির্দিষ্ট দলীল নেই।
    এ সংজ্ঞাটিতে তিনটি বিষয় লক্ষণীয় :
    ১. নতুনভাবে প্রচলন অর্থাৎ রাসূল ﷺ ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না এবং এর কোন নমুনাও ছিল না।
    ২. এ নব প্রচলিত বিষয়টিকে দ্বীনের মধ্যে সংযোজন করা এবং ধারণা করা যে, এটি দ্বীনের অংশ।
    ৩. নব প্রচলিত এ বিষয়টি শরীয়তের কোন ‘আম বা খাস দলীল ছাড়াই চালু ও উদ্ভাবন করা।
    সংজ্ঞার এ তিনটি বিষয়ের একত্রিত রূপ হল বিদআত

    —–
    সংক্ষেপে এবার বলুন:
    দ্বীন কী?
    কোন্ কোন্ কাজ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, কোন্ কোন্ কাজ দ্বীনের বাইরে?

    তামীম

    @সাদাত,
    ভাল প্রশ্ন। (Y)

  4. প্রথমে আমরা দেখব হাদিস শরীফে বিদআত সম্বন্ধে কি বলা আছে ।

    যে ব্যক্তি ( দ্বীন ইসলামে ) এমন কোনো নতুন জিনিস উদ্ভাবন করবে , যা মূলত এ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় , তাই প্রত্যাখান হবে । ( বুখারী , মুসলিম )

    এর উত্তরে অনেকে বলেন “দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু প্রবেশ করানো বিদআত কিন্তু দ্বীনের বাহিরে হলে সমস্যা নেই” ? সত্য কি তাই ? দেখুন দ্বীনের মধ্যে অনেক কিছু প্রবেশ করানো হয়েছে , কিন্তু পৃথিবীর কেহ তাকে বিদআত বলেন নাই । কোরআন শরীফ ৩০ পারায় বিভক্ত করা , নোকতা সহ কোরআন শরীফ লেখা , ফেকাহর মাসআলা বই আকারে প্রকাশ করা , হাদিসকে সহিহ, জঈফ , হাসান বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা , আরবী ব্যাকরন এগুলো কি দ্বীনের মধ্যে নয় ? এটা কি সম্পূর্ন নতুন আবিস্কার নয় ? অবশ্যই দ্বীনের অংশ এবং নতুন আবিস্কার । তারপরেও এটাকে কেউ বিদআত বলছেন না । । তাহলে দেখা যাচ্ছে সাহাবী , তাবেয়ীনদের সময় থেকেই দ্বীনে নতুন আবিস্কার হয়েছে যেটাকে কেউ বিদআত বলছে না , অথচ অন্য কোনো নতুন জিনিস এখন চালু হলেই সেটাকে আমরা বিদআত বলছি ।

    তারাবীর ২০ রাকাআত নামাজ চালুর পর উমর (রা:) বলেছিলেন “নিআমাতুল বিদআতে হাজিহি” ( এতো বড় ভালো বিদআত ) । দেখুন ওমর (রা:) নিজেই নিজের কাজকে বিদআত বলছেন এবং বলছেন এটা উত্তম । এটা কিভাবে সম্ভব রসুলুল্লাহ যে কাজকে পথভ্রষ্টতা বলছেন সেটা ওমর (রা:) বলছেন “উত্তম” । না এটা হতেই পারে না । কেননা খোলাফায়ে রাশীদিন ( এমনকি সমগ্র সাহাবাকে ) কে অনুসরন করার ব্যাপারে হাদিস শরীফে স্পষ্ট তাগিদ দেয়া আছে , তাই উমর (রা:) এর এ কাজটি কোনমতেই বিদআত হতে পারে না যেটা নবীজি বলেছেন । তাহলে আমাদেরকে নবীজির হাদিস এবং উমর (রা:) এর কওল এই দুটোর মধ্যে যদি সমন্বয় করতে পারি তাহলে দেখবেন সকল সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে ।

    আসলে রসুলুল্লাহ (সা:) এর হাদিসের আমরা নিজস্ব যে ব্যাখ্যা দিই সেটাতেই গলদ । আসুন এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বিশ্ববরেন্য আলেমরা কি বলেছেন সেটা দেখি । এবং এমন ব্যাখ্যা যেটাতএ উভয়ের মধ্যে সামন্জস্য বিধান হয়:

    আল্লামা কাজী ইয়াজ এ হাদিসের অর্থে বলেছেন :

    “যে লোক ইসলামে এমন কোন মত বা রায় প্রবেশ করাবে – ইসলাম বলে চালিয়ে দিবে , যার অনুকুলে কোরআন এবং হাদিসে কোনো স্পষ্ট বা প্রচ্ছন্য দলিল নেই কিংবা প্রকাশযোগ্য কোনো সনদ বর্তমান নেই , তাই প্রত্যাহার যোগ্য । আর এটার নামই বিদআত । ”

    আল্লামা কান্দলভী লিখেছেন :

    “বিদআত বলতে বোঝায় এমন জিনিস , যা দ্বীনের ক্ষেত্রে অভিনব , শরীয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই, মৌলিক সমর্থন নেই, সেটাই বিদআত ।

    দেখুন উপরের হাদিসে কিন্তু দ্বীন বলা হয়নি , বলা হয়েছে “মুহদাসাতুল উমুর” যার ব্যাখ্যায় আল্লামা আহমাদুল বান্না বলেছেন :

    মুহদাসাতুল উমুর বোঝায় এমন জিনিস ও বিষয়াদি যা কুরআন , সুন্নাহ এবং ইজমা কোনো দিক দিয়েই শরীয়তের বিধিবদ্ধ নয় । আর এ হচ্ছে বিদআত ।
    হযরত আয়েশা (রা:) বর্নিত উপরের হাদিসটি মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত হয়েছে এ ভাষায় :

    যে লোক এমন আমল করল , যার অনুকুলে ও সমর্থনে আমার উপস্হাপিত শরীয়ত নেই ( অর্থ্যাৎ যা শরীয়ত মুতাবিক নয় ) সে আমল প্রত্যাখান যোগ্য ।

    তার মানে বোঝা গেল , নতুন হলেই সেটা বাতিল নয় যদি সেটার সপক্ষে শরীয়তের দলীল মজুদ থাকে । আসলে কোনো বিষয়ে শরীয়তের দলীল থাকা মানে সেটা আর নতুন থাকলে না । উদাহরন দিয়ে বোঝা যাক :

    যেমন ধরুন :

    উদাহরন ১: কেউ বিশ্বাস করল ইমামগন নিস্পাপ এবং তাদের সংখ্যা ১২ । শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই । তাই এটা বিদআত ।
    উদাহরন ২: কেউ বলল নামাজ ৬ ওয়াক্ত ফরজ । শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই । তাই এটা বিদআত ।
    উদাহরন ৩: ধরুন একজন মুসল্লি সন্ধার পর নফল নামাজ পড়ে আর একজন মুসল্লি ঠিক সুর্যোদয়ের পর নফল নামাজ পড়ে । এখন যেহেতু সন্ধার পর নফল নামাজ নিষেধ নেই, তাই সেটা জায়েজ , আর সুর্যোদয়ের সাথে সাথে যেহেতু নিষেধ তাই সেটা বিদআত । এখন সন্ধার পর যদি এমন প্রমান থাকে রসুল (সা:) পড়েননি তারপরও সেটা বিদআত হবে না , কেননা এটাকে নিষেধ করা হয়নি ।
    আবার মনে করুন সন্ধার পর বা মাগরিবের নামাজের পর নফল নামাজ জায়েজ হলেও কেউ যদি মনে করে তাকে এটা পড়তেই হবে তাহলে তার এই আমলটি বিদআত হবে । কেনান যেটা ফরজ নয় , সেটাকে ফরজ মনে করাও একটি বিদআত ।
    উদাহরন ৪: জুমার নামাজ পড়া ফরজ । এখান কেউ যদি এটাকে নফল ভাবে সেটাও বিদআত । কেননা ফরজকে ঐচ্ছিক এবং ঐচ্ছিক কে ফরজ ভাবাও বিদআত ।
    উদাহরন ৫: মনে করুন আপনি পোলাও খাবেন । খাবারের ক্ষেত্রে উসূল হোলো , নিষেধ খাবার ইসলামে সব বলে দেয়া হয়েছে । যেহেতু এটা নিষেধের মধ্যে পড়ে নাই তাই এটা বিদআত নয় ।
    উদারহন ৬: একটি ইসলামিক রাষ্ট্র বিধর্মিদের থেকে সামরিক টেকনোলোজি গ্রহন করতে পারবে কিনা ? দেখুন রসুলুল্লাহ ( সা:) খন্দকের সময় সালমান ফারসির (রা:) এর পরামর্শ অনুযায়ী বিধর্মিদের একটি টেকনোলোজি গ্রহন করেছিলেন । তাই এই পদ্ধিতি বিদাআত নয় ।

    বিভিন্ন ধরনের ৬ টি উদাহরন দেবার উদ্দেশ্য হোলো এটা প্রমান করা , চাই কি নামাজ , রোজা , ইত্যাদি ইবাদতই হোক , কিংবা খাবার গ্রহন , সামরিক বিষয় যেটাই হোক , কোরআন হাদিস এর দলীল দিয়েই আমাদের প্রমান করতে হবে সেটা বিদআত নাকি , বিদআত নয় ?

    তার মানে বুঝে না বুঝে যেকোনো কাজকে বিদআত বলাও একটি বিদাআত । কোনো আমল বিদআত কিনা সেটা একমাত্র ইসলাম বিষয়ে যার গভীর জ্ঞান আছে সেই সমস্ত আলেমগন বলতে পারবে ।
    ইসলামে প্রতিটি আমলের আলাদা ধরন আছে । সেই ধরনগুলো বা ফর্মেশন এর ওপর বুৎপত্তি সম্পন্ন জ্ঞান যাদের আছেন , সেই সমস্ত আলেমদের কাজ এগুলো বের করা । আমার কোনোটা পছন্দ হোলো না সেটাকে বিদআত বলা মুর্খতা ।

    আর কোনো ধরনের আলেমকে আপনি অনুসরন করবেন , সেটা আজকের বিষয় নয় , তাই আলোচনা করা হোলো না ।

    আর শেষ কথা : একজন মুসলমানের কথা , কাজ , ইবাদত সবকিছু দ্বীনের মধ্যে । দ্বীনের মধ্যে এবং দ্বীনের বাহিরে বলে কিছু নেই । ববরং সমস্ত ইবাদত আমরা স্রষ্টার জন্য করি , তার কিছু সরাসরি
    স্রষ্টার সাথে সম্পর্কিত ( যেমন নামাজ রোজা ইত্যাদি ) , কিছু ব্যবহারিক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ( খাওয়া , হালাল রিজিক , বিবাহ ইত্যাদি ) , কিছু স্রষ্টা এবং স্ৃষ্টি উপয়ের সাথে সম্পর্কিত ( যাকাত , দান খয়রাত ইত্যাদই ) ।

    আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সঠিক বিষয়ে জ্ঞাত ।

    সাদাত

    @হাফিজ,

    লম্বা উত্তরের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
    আচ্ছা, “পীর” শব্দ তো হাদিসে নেই, “ইউনিভার্সিটি” “ড:” উপাধি এগুলো কি হাদিস আছে? এগুলো কী?(বিদআত????)

    হাফিজ

    @সাদাত,


    আচ্ছা, “পীর” শব্দ তো হাদিসে নেই, “ইউনিভার্সিটি” “ড:” উপাধি এগুলো কি হাদিস আছে? এগুলো কী?(বিদআত????)

    যেসকল আলেম বলেছেন “কোরআন , হাদিস , ইজমা , কিয়াস” কিংবা বলতে পারেন শরীয়তের দলীল দ্বারা যদি কোনো বিষয় নিষিদ্ধ প্রমান না করা যায় সেটা বিদআত নয় । আমি এদের মত সমর্থন করি । তাই উপরোক্ত শরীয়তের দলীল দ্বারা প্রমান করা সম্ভব নয় যে “পীর” শব্দটি বিদআত ।

    আর হাদিসে না থাকলে সেটা বিদআত , এটার দলীল কোথায় ? এই কথাটাই তো বিদআত ।

    হাফিজ

    @সাদাত,

    লম্বা উত্তরের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    রাগ করলেন নাকি ? আসলে অনেক চেষ্টা করেও এর চেয়ে ছোট করে উত্তর দিতে পারিনি ।

    সাদাত

    @হাফিজ,
    মোটেও না, বরং অবাক হয়েছি, এত কষ্ট করে উত্তর দেবার জন্য। তাই অ—নে—ক ধন্যবাদ দিয়েছি।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,

    ভালো বলেছেন। সহমত।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,

    কিন্তু উনার উত্তরের সাথে আপনার উত্তরের ফারাক অনেক। তারপরও সহমত?

    দ্য মুসলিম

    @সাদাত,

    আমি হয়তো মনের কথা ভালো ভাবে লিখে বোঝাতে পারিনি। তাছাড়া দুই লাইনে লিখে কতটুকুই বা বোঝানো যায়।
    উপরের লিখাটুকু আমি ভালোভাবে পড়েই সহমত দিয়েছি। আপত্তিকর কিছু থাকলে কোট করে সহমত দিতাম।

    দ্য মুসলিম

    @সাদাত,

    আবার ঘুরে এলাম উপর থেকে। ফারাক পাইনি।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,

    আপনার বক্তব্য:
    ইবাদতের ক্ষেত্রে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত।

    হাফিজ ভাইয়ের বক্তব্য;
    বিভিন্ন ধরনের ৬ টি উদাহরন দেবার উদ্দেশ্য হোলো এটা প্রমান করা , চাই কি নামাজ , রোজা , ইত্যাদি ইবাদতই হোক , কিংবা খাবার গ্রহন , সামরিক বিষয় যেটাই হোক , কোরআন হাদিস এর দলীল দিয়েই আমাদের প্রমান করতে হবে সেটা বিদআত নাকি , বিদআত নয় ?

    আপনি বিদআতকে ইবাদতের সাথে খাস করেছেন, উনি করেন নাই।

    দ্য মুসলিম

    @সাদাত,

    এর উত্তরতো আপনি নিজেই নিচে দিয়ে দিয়েছেন।
    একজন মুসলমানের কথা , কাজ , ইবাদত সবকিছু দ্বীনের মধ্যে।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,

    আপনার সংজ্ঞাটা পরিষ্কার করে বুঝার জন্য দয়া করে ২টা প্রশ্নের উত্তর দেন।
    ইবাদাত কাকে বলে?
    কোন্ কোন্ কাজ ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, কোন্ কোন্ কাজ ইবাদাতের বাইরে?

    দ্য মুসলিম

    @সাদাত,

    নিজ ভাষায় উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি।
    যে বিষয় গুলো মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুমে, রাসুল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করে থাকি কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়, সেগুলোই ইবাদত। এভাবে বললে হয়তো পুরোপুরি ক্লিয়ার হওয়া যায় না। সবচাইতে বড় কথা হলোঃ কোন কোনটি ইবাদত এটা ইসলামে সুস্পষ্ট।
    এছাড়া জীবন ধারণের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় অপরিহার্য বা পরিপূরক সেগুলোকে এক কথায় মোয়ামেলাতও বলা যায়, যেমনঃ খাওয়া, ঘুম, বিয়ে, ব্যবসা ইত্যাদি যখন মনগড়া মতে করবে তখন সেগুলো ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হবেনা। হ্যাঁ, যদি প্রতিটি বিষয় হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণে বা আদেশ পালনার্থে, একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে তখন সেগুলোও ইবাদত বলে গন্য হবে।

    এখন ধরুন,
    আমরা জানি ভাত খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত। কেউ যদি বিসমিল্লাহ না বলে তাহলে সে গুনাহগার হবেনা কিন্তু প্রচুর পরিমান ফজিলত-বরকত থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু কেউ যদি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই সুন্নাতকে পরিবর্তন করতে চায় বা সওয়াবের উদ্দেশ্যে আরো বেশী কিছু করতে চায়, যেমন- সে খাওয়ার আগে সবসময় মোনাজাত করে, বা কোরান তেলাওয়াত করে, তখন তা বিদআত বলে গন্য হবে।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,

    আপনি বলেছেন:
    ইবাদতের ক্ষেত্রে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত।

    আরেকটু কষ্ট করে উত্তর দিন:
    ১. মুআমালাত/মুআশারাত এর ক্ষেত্রে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত হবে কি?
    ২. হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন বলতে আপনি শুধু হাদিসকে বুঝেন, নাকি ইজমা কিয়াস ও বুঝেন?

    দ্য মুসলিম

    @সাদাত,

    ১. মুআমালাত/মুআশারাত এর ক্ষেত্রে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত হবে কি?
    হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলোকে নির্দিষ্ট করেছেন, সেটা যদি নফল হয় এবং সেটাকে যদি বেশী সওয়াবের নিয়তে বাড়ানো বা কমানো হয় তাহলে সেটা বিদআত হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে নিয়তের উপর নির্ভর করে।
    আর সেটা যদি ফরজ বা ওয়াজিব হয় তখন পরিবর্তন করা কবীরাগুনাহ হবে।

    ২. হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন বলতে আপনি শুধু হাদিসকে বুঝেন, নাকি ইজমা কিয়াস ও বুঝেন?
    এখানে আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিসকে বুঝিয়েছি। যেহেতু ইজমা ও কিয়াস সমালোচনার উর্ধ্বে নয় এবং এর বিপক্ষেও প্রসিদ্ধ আলিমগণের মতামত রয়েছে, তাই এক্ষেত্রে ইজমা ও কিয়াস ধর্তব্য নয়।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,
    এক.
    তাহলে আপনার সংজ্ঞাটা কি একটু পরিবর্তন করা দরকার নয়?

    সংজ্ঞাতে বলেছেন:
    ইবাদতের ক্ষেত্রে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত।
    >>>> ক্ষেত্র শুধু ইবাদত

    এখন স্বীকার করলেন:
    ১. মুআমালাত/মুআশারাত এর ক্ষেত্রে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত হবে কি?
    হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলোকে নির্দিষ্ট করেছেন, সেটা যদি নফল হয় এবং সেটাকে যদি বেশী সওয়াবের নিয়তে বাড়ানো বা কমানো হয় তাহলে সেটা বিদআত হবে।

    >>>> ক্ষেত্র : মুআমালাত/মুআশারাত

    দুই.
    এখানে আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদিসকে বুঝিয়েছি।

    তাহলে আপনার সংজ্ঞাকে আমি কি এভাবে বলতে পারি:

    ইবাদত, মুআমালাত,মুআশারাত তথা যেকোন আমলের ক্ষেত্রে হাদিসে যেগুলো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত।

    দ্য মুসলিম

    @সাদাত,

    ইবাদত, মুআমালাত,মুআশারাত তথা যেকোন আমলের ক্ষেত্রে হাদিসে যেগুলো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেগুলোকে বাড়ানো বা কমানো বা কোন ধরণের পরিবর্তন করা বিদআত।
    ঠিক বলেছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়তটা গুরুত্বপূর্ণ।

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম, সব ক্ষেত্রে একজন মুসলমানের জন্য “নিয়ত” গুরুত্বপূর্ন ।

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,

    হাফিজ ভাইয়ের মতে:

    যে আমলের পক্ষে কুরআন-হাদিস-ইজমা-কিয়াসের কোন দলিল নাই, তাই বিদআত।

    এবার বলূন আপনার মতের সাথে হাফিজ ভাইয়ের মত কি সহমত হয়?

    সাদাত

    @হাফিজ,

    একটা বিষয় ক্লিয়ার করেন:

    একজন মুসলমানের কথা , কাজ , ইবাদত সবকিছু দ্বীনের মধ্যে

    যে কোন কথা বা কাজ আল্লাহপাকের হুকুম আর সুন্নাহ মুতাবিক হলে সেটা কি ইবাদত বলে গণ্য হবে না?

    তাহলে কথা , কাজের পর আবার পৃথকভাবে ‘ইবাদত’ বলার অর্থ কী? তাহলে কি কথা, কাজ ইবাদত নয়?

    হাফিজ

    @সাদাত,

    যে কোন কথা বা কাজ আল্লাহপাকের হুকুম আর সুন্নাহ মুতাবিক হলে সেটা কি ইবাদত বলে গণ্য হবে না?

    অবশ্যই । শরীয়ত মোতাবেক একজন মুসলিম বিবাহ করলে সেটাও ইবাদত বলে গন্য হবে । আর শুধু “ইবাদত” দ্বারা আমি আসলে “হক্কুল্লাহ” বা যে ইবাদতগুলো নির্দিষ্টভাবে শুধুমাত্র আল্লাহসুবহানাহু তাআলার জন্য নির্দিষ্ট সেগুলোকে বুঝিয়েছি (যেমন নামাজ, রোজা ইত্যাদি ) । অন্য কোন ভাষা পাইনি তাই এভাবে বলেছি । মুল হোলো

    যে কোন কথা বা কাজ আল্লাহপাকের হুকুম আর সুন্নাহ মুতাবিক হলে সেটা কি ইবাদত বলে গণ্য

    সাদাত

    @হাফিজ,

    তাহলে আপনার সংজ্ঞাকে আমি কি এভাবে বলতে পারি:

    যে আমলের পক্ষে কুরআন-হাদিস-ইজমা-কিয়াসের কোন দলিল নাই, তাই বিদআত।

    হাফিজ

    @সাদাত, জ্বী বলতে পারেন ।