লগইন রেজিস্ট্রেশন

চুপ থাকা হলো না আমার

লিখেছেন: ' সাদাত' @ বুধবার, এপ্রিল ৭, ২০১০ (১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ)

বাংলা ব্লগে এসেছিলাম নাস্তিকদের অপপ্রচার রুখতে।
আক্রান্ত না হলে, আক্রমণ আমার সাধারণ অভ্যাসবিরূদ্ধ।
নাস্তিকদের আস্তিকতা বিরোধি তর্কে আমি নেই, কিন্তু কুরআন-হাদিস-ইসলাম নিয়ে টানাটানি করলে ছেড়ে দেবার পাত্রও আমি না।
কুরআন-অনলিরা যদি তাদের বিশ্বাসকে নিজেদের মধ্যে রাখত, অন্ততপক্ষে হাদিস নিয়ে অপপ্রচারে না নামত, তবে তাদের সাথে আমার কোন সংঘর্ষ ছিল না।
শি’আদের আক্বিদা সম্পর্কে আমার যথেষ্ট জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও ঢালাওভাবে শি’আদের কাফির আমি বলি না।
নিজে মাযহাবের অনুসারি হলেও ইচ্ছা ছিল না মাযহাব বিষয়ক কোন তর্কে যাবার। নিজের জন্য মাযহাব অনুসরণকে আমি জরুরী মনে করি, কারণ আমি মুজতাহিদ না। কিন্তু অন্যের জন্য আমার কোন জোরাজোরি নাই। তারটা সে মানুক।
আমি মাদ্রাসা পছন্দ করি, আলিমদের সম্মান করি, শরীয়তের সুফি/আউলিয়াদের ভালোবাসি, আত্মশুদ্ধির জন্য হক্কানি শাইখের সাহচর্যকে উপকারি মনে করি। তাবলিগের মেহনতকে সমর্থন করি। কিন্তু আমার পছন্দকে কারো ওপর চাপাতে চাই না। তবে কেউ যদি আঘাত করেন তবে প্রত্যাঘাতের জন্য তাকেও তৈরি থাকতে হবে।

কিছুদিন হলো একটা বিষয় লক্ষ করছি, আর তা হলো কথায় কথায় ইবনে তাইমিয়া(রহ.) অথবা নাসিরুদ্দিন আলবানি(রহ.) কে টেনে আনা। এরপর দেওবন্দি আলেমদের সাথে তুলনা করা। আর এমন ভাব করা, দেওবন্দি আলেমদের চক্রে পড়ে ঈমান/আক্বিদা হারাবার প্রাক্কালে যেন আসমান হতে নতুন নতুন ত্রাণকর্তা আবির্ভূত হয়েছেন, যারা আমাদের সলফে সালেহিনের পথে পরিচালিত করবেন। আক্বিদার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়কে সামনে এনে বুঝাতে চেষ্টা করা হচ্ছে সবাই কী ভুলের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে।

এহেন পরিস্থিততে চুপ আর থাকতে পারলাম না।

বন্ধুরা, আমায় ভুল বুঝবেন না। নিজেদের ভেতরে কোন্দল আমি চাই না। কিন্তু আমার নীরবতা দুর্বলতা নয়, আমার বিশ্বাস কোন নড়বড়ে ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, একথা মুখ খুলে বলার সময় এখন এসে গেছে। এরপর আর একটি উস্কানিমূলক শব্দও যদি বের হয়, তবে ইনশাআল্লাহ হাজার হাজার শব্দের স্রোতে প্লাবিত হবে ব্লগের প্রতিটি পাতা।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২১২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৮ টি মন্তব্য

  1. আমি এই সব মারিফতি মারপেচে আগে খুব বেশী পরি নাই। পড়েছিলাম, এভাবে না। আমি ব্লগে নাস্তিকতার অন্যায় মূলক কতাবার্তা আর তাদের ভন্ডামি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য-ই লিখা শুরু করেছিলাম। আমি এর আগে ধর্ম নিয়ে খ্রিস্টান হিন্দু এবং বিদেশী নাস্তিকের সাথে ফোরাম গুলিতে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেছি। তাদের দেখি নাই, এভাবে বাংলার নাস্তিকদের মত অপমান মূলক কতাবার্তা বলতে। এই বাংলা নাস্তিক গুলি এভাবে রাসূল সঃ এবং আল্লাহ পাক , আল কুরান কে কু-কথা বলে গালি দিবে ভাবি নাই। তারপর থেকেই লেখা। তার পর এই ব্লগের খুজ পেলাম।

    তারপর কি যে হইলো, মাহজাব, ইমাম, সালাফি, সুন্নি, তুষার(দেওয়ান বাগি) তারপর কুরান আনলি, এর পর আবার সুফি দেখা পাইলাম। এখন দেখি আমরা সবাই, নাস্তিকদের ফেলাইয়া, নিজেরা নিজেরা তর্ক করতেছি। অবস্থা গুরুতর দেখে আমি একটি আর্টিক্যাল এখানে লিখে জানিয়ে দিলাম, ধৈর্য ধরাই ভাল। আর কিছু বলার নেই।

  2. গৌণ বিষয়গুলো নিয়ে মাথা ঘামাতে যেয়েই মনে হয় এই অবস্থা। আমি পারতপক্ষে এগুলোকে এড়িয়ে চলি। গৌণ বিষয়গুলোকে নিজেদের মধ্যে রেখে কুরআন-হাদিস নিয়ে আলোচনা করা যাক। ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচারের জবাব দেয়া যাক। কথায় বলে, নিজ দেশে গুণীর আদর নাই। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের হাতে ইসলামের থিয়লজি আর কুরআনের মতন কোন ধর্মগ্রন্থ না থাকা সত্ত্বেও তারা চালাকি-চতুরীর আশ্রয় নিয়ে নিজেদের ধর্মকে মহান হিসেবে প্রচার করছে। অন্যদিকে আমাদের হাতে ইসলামের থিয়লজি আর কুরআনের মতন ধর্মগ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও গৌণ বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন্দল করছি আর দল বাড়াচ্ছি।

    সাদাত

    @এস.এম. রায়হান,

    নাযাযে রফেইয়াদাইন করা বা না করা, আমিন আস্তে বা জোরে বলা, সম্মিলিত মুনাজাত করা বা না করা,ব্যাপারগুলো আসলেই গৌণ, কিন্তু কেউ কেই এই গৌণ বিষয়গুলোকে মূখ্য হিসেবে দেখেন এবং নিজেরটাই সঠিক এমন ধারণা নিয়ে বসে আছেন। আমি হানাফি মাযহাব অনুসরণ করি, কারো ইচ্ছা হলে অন্য মাযহাব মানুক, ইচ্ছা হলে কোন মাযহাব না মানুক, এতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু কেউ যদি আমারটাকে সুন্নাত বিরোধি বা বিদআত মনে করে তখন নিজের মতকে ডিফেন্ড না করার অর্থ দাঁড়ায় হয় আমারটা ভুল। সেটা মেনে নিতে আমি নারাজ।

    বিষয় এখানেই শেষ না আক্বিদার ক্ষেত্রেও কিছু সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ মতপার্থক্য ইসলামের শুরু থেকেই চলে আসছে, যেমন আশ’আরি ও মাতুরিদি। এই পার্থক্য বেশিরভাগ মানুষ জানে না বা জানা জরুরিও নয়। কিন্তু এই পার্থক্যগুলোও ঘেঁটে ঘেঁটে সামনে আনা হচ্ছে। এগুলোর ভিত্তিতে শিরকের লেবেল লাগানো হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে জেনে বুঝে চুপ কিভাবে থাকি?

    আমার উদ্দেশ্য কাউকে বাতিল, বিদআতি, মুশরিক প্রমাণ করা নয়, কিন্তু বিদআত আর শিরকের মিথ্যা লেবেল লাগিয়ে বেশিরভাগ মানুষকে এমনকি ভ্রান্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা।

    হাফিজ

    @সাদাত,
    নাযাযে রফেইয়াদাইন করা বা না করা, আমিন আস্তে বা জোরে বলা, সম্মিলিত মুনাজাত করা বা না করা,ব্যাপারগুলো আসলেই গৌণ, কিন্তু কেউ কেই এই গৌণ বিষয়গুলোকে মূখ্য হিসেবে দেখেন এবং নিজেরটাই সঠিক এমন ধারণা নিয়ে বসে আছেন। আমি হানাফি মাযহাব অনুসরণ করি, কারো ইচ্ছা হলে অন্য মাযহাব মানুক, ইচ্ছা হলে কোন মাযহাব না মানুক, এতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু কেউ যদি আমারটাকে সুন্নাত বিরোধি বা বিদআত মনে করে তখন নিজের মতকে ডিফেন্ড না করার অর্থ দাঁড়ায় হয় আমারটা ভুল। সেটা মেনে নিতে আমি নারাজ।

    বিষয় এখানেই শেষ না আক্বিদার ক্ষেত্রেও কিছু সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ মতপার্থক্য ইসলামের শুরু থেকেই চলে আসছে, যেমন আশ’আরি ও মাতুরিদি। এই পার্থক্য বেশিরভাগ মানুষ জানে না বা জানা জরুরিও নয়। কিন্তু এই পার্থক্যগুলোও ঘেঁটে ঘেঁটে সামনে আনা হচ্ছে। এগুলোর ভিত্তিতে শিরকের লেবেল লাগানো হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে জেনে বুঝে চুপ কিভাবে থাকি?

    আমার উদ্দেশ্য কাউকে বাতিল, বিদআতি, মুশরিক প্রমাণ করা নয়, কিন্তু বিদআত আর শিরকের মিথ্যা লেবেল লাগিয়ে বেশিরভাগ মানুষকে এমনকি ভ্রান্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা।

    ১০০% সহমত । প্রথমে আমিও এ বিষয়ে কিছু বলিনি । যখন “শাহরিয়ার” বলল “যারা রফে ইয়াদাইন না করা বিদআত” এর অর্থ এযাবৎ যারা এ আমল করে আসছে সবাই বিদআতি , তখন চুপ না থেকে প্রথম এ বিষয়ে লিখেছি ।


    মাজহাবের মধ্যে যেমন গোড়া আছে , তেমন ছালাফীদের মধ্যে গোড়া আছে যাদের কাজ এখন মাজহাব এবং সমস্ত সুফিদের ভ্রান্ত প্রমান করা । এরা দুদলই সমান ।

    আপনার এই লেখাকে আমার পক্ষ থেকে স্বাগতম ।

    মনপবন

    @হাফিজ ভাই, আপনার সাথে তর্ক করে কোন লাভ নেই। শাহরিয়ার ভাই এক জায়গাতেও বলেন নাই যে “রফে ইয়াদাইন না করা বিদআত”। আপনি পুরা পোস্ট এমন কমেন্ট গুলো আবার পড়ে দেখেন। আমি বিশ্বাস করি যে আপনি আল্লাহকে ভয় করেন। আপনি কিছু লেখার সময়-ও আল্লাহকে ভয় করবেন আশা করি।

    হাফিজ

    @মনপবন, ধন্যবাদ । আমি এখানে শাহরিয়ার ভাই এর কমেন্ট তুলে দিচ্ছি ।

    আমরা নেকীর আশায় আজ ভুরি ভুরি বিদ’আত কাজ করে চলেছি, অথচ আমরা সত্যিকারের নেকীকে দুরে ঠেলে আজ কতই না ক্ষতির স্বীকার হচ্ছি তার হিসাব একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই জানেন। ….. …

    আমরা হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ নামাজে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফ’উল ইয়াদাইন করি না। আলিম সমাজ আমাদের মত অধম বান্দাদের বলে থাকেন, এটি নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রথম দিকে করেছেন এবং শেষের দিকে বাদ দিয়েছেন অর্থাৎ মানসুখ হয়ে গেছে। ..

    উপরে শাহরিয়ার ভাই এর কমেন্ট উল্লেখ করলাম । উনি প্রথমে বলেছেন “আমরা নেকীর আশায় আজ ভুরি ভুরি বিদ’আত কাজ করে চলেছি” … তার কিছু পরেই উনি রফে ইয়াদাইন করার দলীল প্রমান করেছেন । এতে কি বোঝা যায় না , উনি এটাকে বিদআত বলেছেন ?

    তামীম

    @সাদাত,
    ১০০% সহমত। কথায় আছে অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী। আমাকে একজন “আহলে হাদিস” বলেছিল যে নামাজে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় লা ইলাহা আসলে হানাফিরা যে একটা আঙুল উর্ধ্বমুখী করে, সেটা না কি বিদাত। নামাজের আরো কিছু ব্যপারে আমাকে বলেছে সেগুলি বিদাত। কারণ সেগুলির নাকি কোন প্রমাণ নেই।
    আমি পরে যখন মুফতি মনসুরুল হক সাহেবের হানাফিদের নামাজের দলীল সংক্রান্ত বইটি সামনে নিয়ে গিয়ে তার সব প্রশ্নের জবাব দেই, তখন সে লা জবাব হয়ে যায়।

    এখানে লক্ষ্যনীয় যে, তিনি জানেন না বলেই সেগুলীকে বিদাত বলতে তার কোনখানেই বাধল না। ভাবটা এমন যে, আমি জানি না, তার মানে ইসলামে নেই। এদের কুপমুন্ডুক কার্যকলাপ দেখে হাসব না কাদব বুঝি না।

    এরা নিজেরাই আছে ধোকার মধ্যে, আর নিজেদের অল্পবিদ্যা জাহির করে সাধারন মুসলমানদেরকের সর্বদা বিভ্রান্ত করতে তৎপর।

  3. আসলে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান সম্ভব। ভেতরে ভেতরে চেপে রাখলে কোন লাভ হবে না। সুতরাং, আমরা কোরআন-হাদিসকে মেনে চলার উদ্দেশ্যেই আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।