লগইন রেজিস্ট্রেশন

মুসলিম৫৫ ভাইয়ের কমেন্ট প্রসঙ্গে

লিখেছেন: ' সাদাত' @ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৮, ২০১০ (১২:২১ অপরাহ্ণ)

মুসলিম৫৫ ভাই এক জায়গায় কমেন্ট করলেন:


আমরা যখন বড় হচ্ছি তখন “বেহেশতী জেওর” আমাদের পরিবারে একটা code book-এর মত ছিল। যে কোন কিছু জানার প্রয়োজন হলে, প্রথমেই ঐ বইটার শরণাপন্ন হতাম আমরা। ঐ বইয়ে দেখবেন ফজরের নামাযের আগে পড়ার জন্য নামাযের নিয়ত দেয়া আছে: “নাওয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া……”। একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে, এই নিয়ত লেখক কোথায় পেলেন তার কোন সূত্র বা দলিল নেই। এখন আরেকটা বইয়ের প্রসঙ্গে আসি – নাসিরুদ্দিন আলবানীর “সালাতুন নাবী” বা বাংলায় যেটা “রাসূলুল্লাহর নামায” নামে পাওয়া যায় – ঐ বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় দেখবেন একটা কুর’আনের আয়াত ও একটা হাদীস রেফরেন্স হিসাবে এসেছে। এর পরে গোটা বইতে দেখবেন কোন একটা মাসালা দলিল ছাড়া উল্লেখ করা নেই। একজন স্বল্প মেধার মুসলিমেরও এই লাইনে চিন্তা করে বুঝতে পারা উচিত যে, আল্লাহর দ্বীন শেখার জন্য যে কোন দুইটি বই বা সূত্রের ভিতর তার কোনটা বেছে নেয়া উচিত।


আপনার কমেন্টের এই অংশটুকু পর্যালোচনা করলে যা পাই:

তুলনামূলক তথ্য:
১. বেহেশতী জেওরে দলিলবিহীন মাসআলা দেওয়া আছে।(মৌখিক নিয়্যত)
২. সালাতুন নাবীতে কোন একটা মাসালা দলিল ছাড়া উল্লেখ করা নেই।

সিদ্বান্তমূলক পরামর্শ:
কাজেই স্বল্প মেধা থাকলেও দ্বীন শিক্ষার জন্য ‘বেহেশতী জেওর’ এর বদলে ‘সালাতুন নাবী’ বেছে নেওয়া উচিত।


আমার বক্তব্য :

জনগণকে সতর্ক করার জন্য যে কোন আলেমের লেখার সমালোচনা করাকে তো আপনি ফরয বা ওয়াজিব মনে করেন। কিন্তু সমালোচনার আগে তাহক্বীক করার কোন প্রয়োজন কি বোধ করেন না? ব্যক্তিবন্দনার সীমারেখা আছে, ব্যক্তিসমালোচনার সীমা নেই? কার সমালোচনা কে করবে এ ব্যাপারে কোন গাইড লাইন নাই?

কোন বই পড়তে গেলে ভালোভাবে পুরোটাই কি পড়া উচিত না?

নিয়্যত প্রসঙ্গ:

বেহেশতী জেওর থানবী(রহ.) এর একটি উর্দু কিতাব।
যেটাকে বাংলাতে অনুবাদ করা হয়েছে।
আসুন দেখি নিয়্যত নিয়ে বইটির অনুবাদে কী বলা হয়েছে:

নামাযের নিয়্যত ফরয এবং শর্ত বটে, কিন্তু মৌখিক বলার আবশ্যক নাই। মনে মনে এতটুকু খেয়াল রাখিবে যে, আমি আজিকার যোহরের নামায পড়িতেছি। সুন্নত হইলে খেয়াল করিবে যে, যোহরের সুন্নত পড়িতেছি। এতটুকু খেয়াল করিয়া আল্লাহু আকবার বলিয়া হাত বাঁধিবে। ইহাতেই নামায হইয়া যাইবে। সাধারণের মধ্যে যে লম্বা চওড়া নিয়্যত মশহুর আছে, উহার বলার প্রয়োজন নাই। (তবে বুযুর্গানে দ্বীন আরবী নিয়্যত পছন্দ করিয়াছেন; তাই আরবীতে নিয়্যত করিতে পারিলে ভাল। নিম্নে আরবী নিয়্যত লিখিয়া দেওয়া হইয়াছে। মূল কিতাবে নিয়্যত লিখা নাই। মুখে বলিলে মন ঠিক রাখা যায়, তাই আরবী ও বাংলা উভয় নিয়্যত লিখা হইল। ইচ্ছামত শিখিয়া লইবে।) – অনুবাদক

কাজেই বুঝা গেল:
১. মূল বেহেশতী জেওরে মৌখিক নিয়্যত নাই।
২. বেহেশতী জেওরের বাংলা অনুবাদে অনুবাদক মৌখিক নিয়্যতকে ঐচ্ছিক হিসেবে সংযুক্ত করেছেন। কিন্তু এটাকে মোটেও জরুরী বলেন নাই। বরং নিয়্যত উল্লেখ করার পর এও বলেছেন:

কেহ কেহ আরবী নিয়্যত মুখস্ত করিতে পারে না বলিয়া নামাযই পড়ে না। ইহা তাহাদের মস্ত বড় ভুল। কেননা, পূর্বেই বলিয়াছি যে, নিয়্যত গদ-বাঁধা আরবী এবারত পড়া ফরজ বা ওয়াজিব কিছুই নহে। ফরয হইয়াছে মনের নিয়্যত।

দলিল প্রসঙ্গ:

অনুবাদক বইয়ের শুরুতেই বলে দিয়েছেন:

মূল কিতাবে প্রত্যেক মাসআলার সঙ্গেই উহার দলীল এবং হাওয়ালা দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু উর্দু বেহেশতী জেওর কিতাব সব জায়গায়ই পাওয়া যায় এবং উর্দু ভাষাও প্রায় লোকেই বুঝে, এই কারণে আমি দলীল বা হাওয়ালার উল্লেখ করি নাই। যদি আবশ্যক বোধ হয়, পরবর্তী সংস্করণে দলীল ও হাওয়ালা দেওয়া হইবে।

কাজেই এত ঝটপট সিদ্ধান্ত নিজে তো নিতে পারেন, অন্যকেও সে ব্যাপারে উৎসাহিত করাটা কতটা যৌক্তিক?

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪৮৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২৬ টি মন্তব্য

  1. আমি শুধু ২ টি বইয়ের নাম বলেছি (প্রথম বইয়ের লেখকের নাম আমি উল্লেখ করিনি) – প্রথম বইটা যে অবস্থায় পাওয়া যায় অর্থাৎ, আজও বাংলাদেশে কেউ “বেহেশতী জেওর” বললে যা বুঝবেন – আমি সেটার কথা বলেছি। আসল উর্দুতে কি আছে I don’t care! বেহেশতী জেওর, নিয়মুল কুর’আন এবং মকসুদুল মু’মিনীন পড়ে দ্বীন শিখি বলেই আজ আমাদের এই দুরবস্থা – দেখতেই তো পাচ্ছেন, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কুর’আনের অসঙ্গতি নিয়ে যুদ্ধেরত তুখোড় বক্তা, মৌখিক নিয়তের মত একটা সর্বজনবিদিত বিদ’আত – যা রাসূল(সা.) কখনোই করেন নি – সেটাকে defend করছেন। আমার আর কিছু বলার নেই। আপনি আপনার মৌখিক নিয়ত পড়তেই থাকুন । ও হ্যাঁ আরেকটা কথা ভুলে গেছি: বেহেশতী জেওরের একটা খন্ডে “আমলে কুর’আনি” বলে একটা অংশ আছে – নানবিধ নক্সা দিয়ে তাবিজ কবজ করার – আপনি হয়তো বলবেন ওটাও সহীহ্ সুন্নাহ্ থেকে এসেছে – ঐ অংশের সহীহ্ আমল করতে ভুলবেন না যেন! জীবনে অনেক কাজে লাগবে!

    সাদাত

    @মুসলিম৫৫,

    বিদ’আতের সংজ্ঞা কী?

    ইমামের পেছনে আমি সূরা ফাতিহা পড়ি না। আমার নামায হয় তো?

    মনপবন

    @সাদাত, খোলা মনে পড়েন, তারপর যা মনে হয় করেন। ht

    হাফিজ

    @মনপবন,

    http://www.askimam.org/fatwa/fatwa.php?askid=189841713d5ac9a2832f103b3facd29d

    মনপবন

    @হাফিজ,আল্লাহু আকবার। আপনিও দলিল দিলেন, আমিও দিয়েছিলাম। আপনারা তো দেখেও দেখবেননা, আল্লাহর ওয়াস্তে দশজন নিরপেক্ষ মানুষকে দলিল দুটা দেখায়েন – মানুষ কোনটাকে ঠিক বলে শুনে নিয়েন।

    হাফিজ

    @মনপবন, নামাজে সুরা ফাতেহা নিয়ে যে বিতর্ক এটা ফিকহী মাসআলা এবং এতে দুপক্ষের দলীল আছে । আমরা হানাফী দলীল অনুসরন করি আর আপনি যেটা দিলেন সম্ভবত শাফেয়ী দলীল। আমরা দুটোকেই দলীল-ভিত্তিক বলি । একটিকে সুন্নত বলে অন্যটিকে বিদআত বলিনা । এবং এটাও বলি যেকোনটাই অনুসরন করা যায় ।

    মনপবন

    @হাফিজ,আমি সুরা ফাতিহা না পড়াকে বিদয়াত বলি নাই।
    আমি কোন মযহাবের দলিল দেই নাই, রসুলের দলিল দিয়েছিলাম –
    narrated by al-Bukhaari in Juz’ al-Qiraa’ah, and by al-Tirmidhi, Ibn Hibbaan and others, from Makhool from Mahmood ibn al-Rabee’ from ‘Ubaadah, that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) stumbled in his recitation in Fajr, and when he finished he said, “Perhaps you recite behind your imaam?” They said, “Yes,” He said, “Do not do that, except for the Opening of the Book (al-Faaithah), for there is no prayer for the one who does not recite it.”
    ভাই হিদায়াত তো আল্লাহর হাতে। আপনারা যারা বলেন দুটোই দলিল ভিত্তিক তারা কখন মযহাব ছাড়া অন্যটা মানেননা। কিন্তু আমি তথা কথিত “আহলে হাদিসের” বাচ্চা হয়েও মাঝে মাঝে চার তকবিরে ইক্বামাত দেই, কারণ আমি এটা সহিহ হাদিসে পেয়েছি। কিন্তু আমি কোন মযহাবি মসজিদে যত ওয়াক্ত নামায পড়েছি কোনদিন বুখারির সহিহ হাদিস অনুসারে দুই তকবিরে ইক্বামাত দিতে দেখিনাই।

    দুঃখজনক ব্যাপার হল আমি আপনার লিঙ্কটা পড়েছি, আপনি আমারটা পড়েছেন কিনা জানিনা। পড়লে দেখতেন মতের পার্থক্য আছে সেটাতে যেখানে ঈমাম জোরে কির’আত পড়েন। ঈমাম আস্তে কির’আত পড়লে সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ হয়না – এটাই ঠিক

    হাফিজ

    @মনপবন, জ্বী আপনি যেমন সহীহ হাদিসের ভিত্তি দিলেন , তেমন “কোরআন” এবং সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে প্রমান করা যায় ইমাম কিরআত পড়ার সময় মুক্তাদি কিরআত না পড়লেও হবে :

    Consider the following two references:

    وَإِذَا قُرِىءَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ .(الأعراف، 204)

    So, when the Qur’an is recited, listen to it, and be silent that you may receive mercy. (Quran 7: 204)

    অনুবাদ “যখন কোরআন পড়া হয়, তোমরা শ্রবন কর” ( ৭:২০৪)

    It is also proved through the Hadith:

    عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : إنما جعل الإمام ليؤتم به فلا تختلفوا عليه فإذا كبر فكبروا وإذا قرأ فأنصتوا…(سنن البيهقي، 2/157، أشرفيه)

    The Prophet (SallAllahu Alayhi WaSallam) says: “For indeed the Imam is to be followed so do not oppose him, if he does Takbir so do as he does and if he recites (Qur’an) remain silent…” (Bayhaqi)

    .. যখন ইমাম কিরআত পড়েন , তখন তোমরা নীরবতা অবলম্বন কর” (বায়হাকী ) ।
    এখানে কিন্তু বলা হয়নি , ইমাম উচ্চস্বরে কিরআত পড়ার সময় পড়তে হবে না কিন্তু নীরবতার সময় পড়তে হবে । বরং বলা হয়েছে ইমাম কিরআত পড়া অবস্হায় নীরবতা অবলম্বন কর ।

    এছাড়াও আরো হাদিস শরীফ আছে যেটাতে বলা হয়েছে । “ইমাম যখন কিরআত পড়বে , তখন ইমামের কিরআতই মুক্তাদির জন্য কিরআত হিসেবে গন্য হবে” ।
    এর ভিত্তিতেও প্রমান করা যায় , জামাআতে নামাজ পড়ার সময় , ইমামের কিরআতই যথেষ্ট । মুক্তাদির আলাদা ফাতিহা পড়ার প্রয়োজন নেই ।

    সুতরাং এটা বলা যাবে না , হানাফীদের এই আমলের পিছনে কোন দলীল নেই ।

    হাফিজ

    @মনপবন,

    আপনারা যারা বলেন দুটোই দলিল ভিত্তিক তারা কখন মযহাব ছাড়া অন্যটা মানেননা।

    জ্বী এটা সঠিক এবং এর পিছনে অনেক যুক্তি আছে । চার মাজহাবের পিছনে তাবেয়ীনদের সময় থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার , লাখ লাখ ইসলামিক স্কলার কাজ করে গেছেন এবং যাচ্ছেন । ইসলামিক জুরিসপ্রডেন্স এর ক্ষেত্রে এগুলো অসংখ্যবার যাচাই বাছাই হয়ে গেছে ।
    আর কোন মাজহাব নেই যেটাতে এত কাজ হয়েছে । সুতরাং আমাদের জন্য এটা অনুসরন করা নিরাপদ । আপনি নতুন একটি মাজহাব বলবেন যেটাতে কারো কোনো রিসার্চ ওয়ার্ক নেই , সেটা আমার আপনার দুজনের জন্যই অনুসরন করা নিরাপদ নয় ।

    তামীম

    @হাফিজ,
    এই সহজ কথাটাই আপনি লা-মাজহাবীদের বুঝাতে পারবেন না। :(

    হাফিজ

    @মনপবন,

    কিন্তু আমি তথা কথিত “আহলে হাদিসের” বাচ্চা হয়েও মাঝে মাঝে চার তকবিরে ইক্বামাত দেই, কারণ আমি এটা সহিহ হাদিসে পেয়েছি। কিন্তু আমি কোন মযহাবি মসজিদে যত ওয়াক্ত নামায পড়েছি কোনদিন বুখারির সহিহ হাদিস অনুসারে দুই তকবিরে ইক্বামাত দিতে দেখিনাই।

    ১) “আহলে হাদিসের” বাচ্চা হয়েও এটা বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন আমি বুঝিনি ।

    ২) চার তকবিরে ইক্বামাত দেই কখন ইকামত দ্যান , একটু বুঝিয়ে বলবেন কি ?

    সাদাত

    @মনপবন,

    ধন্যবাদ ভাই, নিশ্চয়ই উপকারের নিয়্যতেই লিংকটা দিয়েছেন। আপনি হয়ত ভেবেই বসে আছেন, আপনাদের এসব দলিল সম্পর্কে আমার ধারণা নাই। ধারণাটা ঠিক না। কিন্তু ফাতিহা না পড়ার যে দলিল গুলো আছে সেগুলো হয়ত আপনার জানা নাই। হাফিজ ভাই যে লিংক দিয়েছেন সেখানে সব দলিল দেওয়া হয় নাই, মাত্র একটা করে দলিল দেওয়া হয়েছে। তার মানে এই না দলিল এই কয়টাই। যদি আন্তরিকতার সাথে এই বিষয়ে তর্ক করতে চান, তবে আমি অন্যান্য দলিলগুলো পেশ করবো।

    দ্য মুসলিম

    @মুসলিম৫৫,
    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
    আজও বাংলাদেশে কেউ “বেহেশতী জেওর” বললে যা বুঝবেন – আমি সেটার কথা বলেছি। আসল উর্দুতে কি আছে I don’t care!

    সাদাত ভাই যেটা বললেন তাতে বোঝা যায় যে, বেহেশতী জেওরে কোন সমস্যা নাই। সমস্যা হলো অনুবাদকের মধ্যে, যদিও অনুবাদক ব্যপারটা খোলাসা করে দিয়েছেন। তারপরও কেউ যদি বেহেশতি জেওরকে ভুল ভাবেন তাহলে তো তাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট অংশটুকু কোট করে বলা দরকার। দেখুন ভাই, আপনি নিজেই বলেছেন বেহেশতি জেওর বাংলাদেশের ঘরে ঘরে একটি কোড বুক এর মতো। বেহেশতি জেওর-এ যদি প্রচুর পরিমাণে ভুল-ভ্রান্তি, শিরক, বেদআত বা কুফর ইত্যাদি থাকে তাহলে আর দেরি না করে এখনই সবাইকে সতর্ক করা উচিত। আমার ম্যাসে, বাসায়, নানার বাসায় ইত্যাদি স্হানে একটি একটি করে বেহেশতি জেওর আছে। বেশীর ভাগই সেটা থেকে মাসআলা পড়ে থাকেন। এটা আমার এবং আপনার এবং সকলেরই ঈমানি দায়িত্ব যে, সবাইকে এই বই সম্বন্ধে সতর্ক করা। কিন্তু দলিল ছাড়া কিভাবে করবো? আমার সাধ্য নেই যে এধরণের কার্য সম্পাদন করি। আপনাদের সকলের সাহায্য ছাড়া এটা প্রায় অসম্ভব। don’t care! কেয়ার করলে সকলকে বোঝাবে কে? যে বইটি বাংলাদেশের সকল মানুষের হৃদয়ে আসন গেড়ে বসে আছে, সেটিকে তো আর এমনিতেই টান দিয়ে বের করে নিয়ে আসা যাবে না! এই কাজটি করতে হলে তাদেরকে প্রতিটি ভুল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে।

    ঢালাও ভাবে কোন বই বা মাদ্রাসা বা গোষ্ঠিকে আসুন আমরা সকলে মিলে নির্দিষ্ট ভুলটিকে কোট করি। তারপর দলিল-উপাত্ত ইত্যাদি দিয়ে প্রমাণ করি যে সেটা ভুল। তাহলেই আমাদের (বিশেষ করে আমার) ব্লগিং করা সার্থক হবে। তা না হলে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই সময়টুকুর ব্যপারে কি জবাবদিহি করবো? সত্য আসার পরও কেউ যদি তা অস্বীকার করেন, তো আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সরল সঠিক পথের দিশা দান করুন। আমিন।

  2. মতভিন্নতা ইসলামে ছিল, আছে থাকবে। আপনি সালাফি স্কুল ফলো করেন, আপনি আপনারটা নিয়ে থাকেন। যে হানাফি স্কুল ফলো করে, তাকে সেটা নিয়ে থাকতে দেন। আপনার বিদ’আতের সংজ্ঞার সাথে আমারটা নাও মিলতে পারে। কিন্তু এই কাজটা আপনারা পারেন না। যেটা পারেন সেটা হলো, আপনাদের মতের বাইরে হলেই বিদ’আত আর শিরক বলা।

    আমরা (হানাফি ফিকহের অনুসারিরা) মৌখিক নিয়্যতকে জরুরী মনে করি না, কিন্তু কেউ যদি মনের নিয়্যতকে জোরদার করার জন্য মুখে উচ্চারণ করে, সেটাকে বিদ’আত বলি না। কাজেই, বেহেশতী জেওরকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সরাসরি হানাফি মাযহাবকে প্রতিপক্ষ বানালেই তো পারেন। তাতে সবার জন্য বুঝা সহজ হয়।

    অনুবাদক পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন:

    ১। নামাযের নিয়্যত ফরয এবং শর্ত বটে, কিন্তু মৌখিক বলার আবশ্যক নাই। মনে মনে এতটুকু খেয়াল রাখিবে যে, আমি আজিকার যোহরের নামায পড়িতেছি। সুন্নত হইলে খেয়াল করিবে যে, যোহরের সুন্নত পড়িতেছি। এতটুকু খেয়াল করিয়া আল্লাহু আকবার বলিয়া হাত বাঁধিবে। ইহাতেই নামায হইয়া যাইবে।
    ২।সাধারণের মধ্যে যে লম্বা চওড়া নিয়্যত মশহুর আছে, উহার বলার প্রয়োজন নাই।
    ৩।কেহ কেহ আরবী নিয়্যত মুখস্ত করিতে পারে না বলিয়া নামাযই পড়ে না। ইহা তাহাদের মস্ত বড় ভুল। কেননা, পূর্বেই বলিয়াছি যে, নিয়্যত গদ-বাঁধা আরবী এবারত পড়া ফরজ বা ওয়াজিব কিছুই নহে। ফরয হইয়াছে মনের নিয়্যত।

    এরপরও বিদআতের ফতোয়া লাগালেন!

    হাফিজ

    @সাদাত,

    মৌখিক নিয়ত যদি সার্বজনীন বিদআত হয় , যেহেতু রসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহয়ে ওয়া সাল্লাম ) এর সময় ছিল না , তাহলে মাইকে নামাজ পড়ানো সেটা তো বিদআত হবার কথা ? কি বলেন ?

    তামীম

    @হাফিজ,ভাল পয়েন্ট ধরেছেন। মসজিদে হয়ত ফ্যান লাগানোও বিদাত। কেননা তখন হয়তবা ফ্যান ছিল না। [ভুল বললাম নাকি!]

    মনপবন

    @ হাফিজ, তামীম ভাই – এই কথা বহুবার বলা হয়েছে বহু লিঙ্ক দেয়া হয়েছে , আপনারা কি ইচ্ছা করে পড়েননা নাকি মনে করেন এক কথা বহুবার বললে সেটা ঠিক হয়ে যায়?
    বিদয়াত সেই “ইবাদাতের” নাম যার উদ্দেশ্য আল্লাহকে খুশি করা। মসজিদে মাইক,ফ্যান লাগানোর উদ্দেশ্য আল্লাহকে খুশি করা না, মানুষের সুবিধা করা। তবে কেউ যদি এই ধারণা করে যে মাইক না লাগালে নামাজ হবেনা তবে সেটা বিদয়াত কারণ এমন কোন বর্ণনা রসুল (সাঃ) থেকে আমরা পাইনা। কিন্তু যেহেতু এমন ধারণা এখন কেউ করছেনা সেহেতু বার বার মাইক, ফ্যান ইত্যাদির কথা তুলে আনার মানে আমি বুঝিনা।

    মু’আমালাত হল মানুষের মধ্যকার আচার-আচরণ,লেনদেন ইত্যাদি। এখানে রসুল যা নিষেধ করেছেন তা মানবো আর বাকি সব কিছু করবো। রসুল উটের পিঠে চড়েছেন আমরা প্লেনে চড়ি – কারণ তিনি মানা করেন নাই। কিন্তু আমি প্যান্টের নিচের কাপড় গোড়ালির নিচে রাখিনা কারণ রসুল (সাঃ) মানা করেছেন।
    ভাইরে বিদয়াত বুঝা কি এত কঠিন?

    হাফিজ

    @মনপবন,

    বিদয়াত সেই “ইবাদাতের” নাম যার উদ্দেশ্য আল্লাহকে খুশি করা।

    আপনার কথাটা বুঝলাম না । সব ইবাদতই তো আল্লাহ সুবহানাহুকে সন্তষ্ট করার জন্য করা উচিত । আপনি কি অন্য কিছু বুঝাতে চেয়েছেন ?

    আমাকে শুধু দুটো সংজ্ঞা দিন

    ১) ইবাদত কি ?
    ২) বিদআত কি ?

    মনপবন

    @হাফিজ, আমালে সালিহ বা ঠিক ইবাদাত হল যা আল্লাহকে খুশি করার জন্য করা হয় এবং তাতে রসুল(সাঃ) এর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
    বিদয়াত হল যা আল্লাহকে খুশি করার জন্য করা হয় কিন্তু তাতে রসুল(সাঃ) এর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়না।

    হাফিজ

    @মনপবন, এখন মনে করুন আমি ধর্ম প্রচার করব , যেটা পূন্যের কাজ । এই উদ্দেশ্যে আমি যদি ব্লগকে বেছে নিই যদিও এটা রসুলের শিখানো পদ্ধতির মধ্যে পড়ে না তাহলে আপনার সংজ্ঞা অনুযায়ী সেটা বিদআত হতে বাধ্য ? নয় কি ?

    তামীম

    @হাফিজ, (Y)

    হাফিজ

    @সাদাত, আপনি কি জানেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) হযরত আনাস (রা:) কে তাবীজ দিয়েছিলেন ?

    মনপবন

    @সাদাত,মুসলিম৫৫ কে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি হানাফি মযহাব অনুসরণ করেন। সাদাত ভাই আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম যেদিন থেকে ইসলাম বুঝে মানি সেদিন থেকে “আমার মত” বলে কিছু নাই। আল্লাহর যা মত, আল্লাহর রসুলের যা মত – তাই আমার মত। আমি ক্লাসিকাল মিউসিক এর খুব ভক্ত ছিলাম, যখন বুঝলাম যে এটা আল্লাহর মতে ঠিক না, আমার সব যুক্তি উঠায় নিছি, আল্লাহর মত মেনে নিয়েছি। মিউসিক থেকে বের হতে আমার সময় লেগেছে অনেক কিন্তু যদি আমি আল্লাহর রসুলের মতের কাছে আত্মসমর্পণ না করতাম তবে আজো তা ছাড়া হতনা। আল্লাহর মতে, রসুলের সংজ্ঞায় যা শিরক, যা বিদয়াত তাকে শিরক আর বিদয়াত বলতে হবে, ঐ জিনিসটা যে শিরক আর বিদয়াত – এটা আল্লাহ আমাকে জানানোর পর থেকে আল্লাহ আমার উপর কর্তব্য করে দিয়েছেন সবাইকে জানানো। কিন্তু আবার বলি – মানা না মানা আপনাদের ব্যাপার।

  3. সাদাত ভাই, আসলে আমাদের কারো সাধ্য নাই যে অন্যকে দিয়ে কিছু করায়। আমরা বলতে পারি বড়জোর। তাও বলি কারণ যদি একজনও সঠিক পথে আসেন তাহলে সেজন্য আমরা আল্লাহর কাছে বিনিময় পাবো। একজন নাস্তিকের জবাব আপনারা যে কারণে দেন তেমনি একই কারণে কারো আক্বিদায় ভুল থাকলে আমরা বলি, কোথাও শিরক দেখলে আমরা বলি।
    // মূল কিতাবে নিয়্যত লিখা নাই।// – অনুবাদক তার অনুবাদে যে আরবি নিয়ত ঢুকালেন তিনি কি তার দলিল দিবেননা? মূল বইয়ে সব কিছুর দলিল আছে এই কথা দিয়ে কি তার এই আরবি নিয়তের দলিল হয়ে গেল? একজন সাধারণ পাঠক যে উর্দু পড়তে পারেনা সে কি আশ্রাফ আলি থানভির মত আলিমের লেখা বই – “বেহেশতি জেওর” কে ঠিক জেনে মুখে আরবি নিয়ত পড়বে না?

    তামীম

    @মনপবন,ভাই, বইটা হানাফিদের জন্য। আর বাংলাদেশের সাধারন মুসলমানরা (৯০%) কোন আলেমকে হক্কানী মনে হলে তার কথা অনুসরন করেন। দলীল খুজে না। এটা আপনি মানুন আর নাই মানুন, এটাই বাস্তব।

    দলীল খুজার চক্রে পরে বিভ্রান্ত হয়ে আমার পরিচিত একজন মাযহাবের অনুসারী লা-মাজহাবী হয়েছেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে নামাজে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় লা ইলাহা আসলে হানাফিরা যে একটা আঙুল উর্ধ্বমুখী করে, সেটা না কি বিদাত। নামাজের আরো কিছু ব্যপারে আমাকে বলেছেন সেগুলি বিদাত। কারণ সেগুলির নাকি কোন প্রমাণ নেই।

    আমি পরে যখন মুফতি মনসুরুল হক সাহেবের হানাফিদের নামাজের দলীল সংক্রান্ত বইটি সামনে নিয়ে গিয়ে তার সব প্রশ্নের জবাব দেই, তখন তিনি উত্তর দিতে পারেন নাই। শুধু বলেছেনঃ আমি আর মাজহাবে ফিরর না। একটা পথ অনুসরন করলেই হল।

    আমি শুধু একটাই পরিবর্তন করতে পেরেছি, সেটা হল তার কথায় কথায় হানাফীদের বিদাত বলা বন্ধ করা।

    যাই হোক, পোষ্টের মূল বক্তব্য থেকে অনেকটাই সরে এসেছি।

    মূল বক্তব্য তো সাদাত ভাই বইটি থেকে উদ্ধৃতি করেই দিয়েছেনঃ

    নামাযের নিয়্যত ফরয এবং শর্ত বটে, কিন্তু মৌখিক বলার আবশ্যক নাই। মনে মনে এতটুকু খেয়াল রাখিবে যে, আমি আজিকার যোহরের নামায পড়িতেছি। সুন্নত হইলে খেয়াল করিবে যে, যোহরের সুন্নত পড়িতেছি। এতটুকু খেয়াল করিয়া আল্লাহু আকবার বলিয়া হাত বাঁধিবে। ইহাতেই নামায হইয়া যাইবে। সাধারণের মধ্যে যে লম্বা চওড়া নিয়্যত মশহুর আছে, উহার বলার প্রয়োজন নাই। (তবে বুযুর্গানে দ্বীন আরবী নিয়্যত পছন্দ করিয়াছেন; তাই আরবীতে নিয়্যত করিতে পারিলে ভাল। নিম্নে আরবী নিয়্যত লিখিয়া দেওয়া হইয়াছে। মূল কিতাবে নিয়্যত লিখা নাই। মুখে বলিলে মন ঠিক রাখা যায়, তাই আরবী ও বাংলা উভয় নিয়্যত লিখা হইল। ইচ্ছামত শিখিয়া লইবে।) – অনুবাদক

    একপর আর কোন কথা থাকতে পারে না।

    সাদাত

    @মনপবন,

    আপনার লেখা ভালোই লাগে। কিন্তু আপনারা একটা সহজ বিষয় মেনে নিতে পারেন না। আর তা হলো, মতভিন্নতা ইসলামে একটা স্বাভাবিক বিষয়। নিজের মতে দৃঢ়তা থাকা ভালো তবে, অন্যের মতকে ভুল বলা ঠিক না।

    অযুতে পা ধোয়া ফরয না মাছেহ করা ফরয? আমি বলব ধোয়া ফরয, আপনিও বলবেন ধোয়া ফরয। কিন্তু খোদ কুরআনের এক কিরাআত দ্বারা সাব্যস্ত করা যায়, পা মাছেহ করা ফরয, ধোয়া না। এমনকি কিছু কিছু পূর্ববর্তী আলিমরা এই মত সাপোর্ট করতেন।

    মনে করুন,
    একটি বিষয়ে ক মাযহাবে বিদআত খ মাযহাবে বিদআত নয়।
    ক মাযহাবের লোকদের উচিত নিজ মাযহাবের লোকদের এ ব্যাপারে নিষেধ করা। কিন্তু খ মাযহাবের কেউ যদি সেটা করে তবে তাকে বিদআতি বলবে না।
    এটাই হচ্ছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উপায়।

    আমি মুজতাহিদ না, কাজেই আমি মুজতাহিদ আলিমের তাক্বলিদ করি। সাধারণের জন্য প্রত্যেক মাসআলার রেফারেন্স জানা জরুরী নয়, সম্ভব ও নয়। তবে রেফারেন্স কেউ জানতে চাইলে, রেফারেন্সসহ কিতাবেরও তো অভাব নেই।