লগইন রেজিস্ট্রেশন

সুনান আবু দাউদ হতে চয়িত “হাদীস সংকলন” – ৩

লিখেছেন: ' দেশী৪৩২' @ শুক্রবার, জুলাই ৩০, ২০১০ (৮:০০ অপরাহ্ণ)

৫০। মালিক ইবনুল হুয়ায়রিছ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় হাত উঠাতে দেখেছি। আমি তাঁকে রুকূতে গমনকালে এবং তা হতে উঠার সময় স্বীয় হস্তদ্বয় কানের উপরিভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। ( রাফউল ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীস) (হাদীস নং-৭৪৫)

৫১। আলকামা (রহ•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা•) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায সম্পর্কে শিক্ষা দেব না? রাবী বলেন, অতঃপর তিনি নামায আদায়কালে মাত্র একবার হাত উত্তোলন করেন। ( রাফউল ইয়াদাইন না করা সম্পর্কে হাদীস) (হাদীস নং-৭৪৮)

৫২। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফরয অথবা নফল নামাযের প্রথমে, মাঝে বা শেষে যে কোন সময়ে দু‘আ পাঠ করা যায়। (হাদীস নং-৭৬৯)

৫৩। আম্মার ইবন ইয়াসির (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এমন অনেক লোক আছে যারা নামায পড়ে কিন্তু তাদের নামায পুরাপুরি কবুল না হওয়ায় পরিপূর্ণ ছওয়াব প্রাপ্ত হয় না। বরং তাদের কেউ ১০ ভাগের ১ ভাগ, ৯ ভাগের ১ ভাগ, ৮ ভাগের ১ ভাগ, ৭ ভাগের ১ ভাগ, ৬ ভাগের ১ ভাগ, ৫ ভাগের ১ ভাগ, ৪ ভাগের ১ ভাগ, তিনের- একাংশ বা অর্ধাংশ ছওয়াব প্রাপ্ত হয়ে থাকে। (হাদীস নং-৭৯০)

৫৪। আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সম্ভবতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতে অধিক লোকের শরীক হওয়ার সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন। (হাদীস নং-৮০০)

৫৫। উবাদা ইবনুস সামিত (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজরের নামাযের জামায়াতে শরীক ছিলাম। নামাযে কুরআন পাঠের সময় তার পাঠ তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নামায শেষে তিনি বলেন, সম্ভবতঃ তোমরা ইমামের পিছনে কিরাআত পাঠ করেছ। আমরা বলি, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি বলেন, তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার নামায হবে না। (হাদীস নং-৮২৩)

৫৬। আল-বারাআ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা, রুকু ও দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে প্রায় একই পরিমাণ সময় ব্যয় করতেন। (হাদীস নং-৮৫২)

৫৭। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায যেরূপ সংক্ষেপে কিন্তু পরিপূর্ণভাবে আদায় করতেন, আমি এরূপ নামায আর কারো পেছনে পড়ি নাই। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর এত দীর্ঘক্ষণ দন্ডায়মান থাকতেন যে, আমাদের মনে হত হয়ত তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদা করতেন এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে এত বিলম্ব করতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি হয়ত দ্বিতীয় সিজদার কথা ভুলে গেছেন। (হাদীস নং-৮৫৩)

৫৮। আবু মাসউদ আল-বদরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রুকু হতে উঠার পর সোজা হয়ে দাঁড়াবে না এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী বিরতির সময় সোজা হয়ে বসবে না তার নামায যথেষ্ট হবে না। (হাদীস নং-৮৫৫)

৫৯। আবদুর রহমান ইবন শিবলী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাকের ঠোকরের ন্যায় (অর্থাৎ তাড়াতাড়ি) সিজদা করতে, চতুষ্পদ জন্তুর মত বাহু বিছাতে এবং মসজিদের মধ্যে উটের মত নির্দিষ্ট স্থান বেছে নিতে নিষেধ করেছেন। (হাদীস নং-৮৬২)

৬০। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ সিজদাকালীন সময়ে বান্দা আল্লাহ তা’য়ালার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়। অতএব তোমরা এ সময় অধিক দু‘আ পাঠ করবে। (হাদীস নং-৮৭৫)

৬১। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা যখন নামাযে এসে আমাদের সিজদারত অবস্থায় পাবে, তখন তোমরা সিজদায় শামিল হয়ে যাবে। তবে উক্ত সিজদা নামাযের রাকাত হিসাবে গণ্য করবে না। যে ব্যক্তি রুকু পেয়েছে, সে নামাযও পেয়েছে (অর্থাৎ ঐ রাকাত প্রাপ্ত হয়েছে)। (হাদীস নং-৮৮৯)

৬২। আনাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সঠিকভাবে সিজদা করবে এবং কুকুরের ন্যায় হস্তদ্বয়কে যমীনের সাথে মিলাবে না । (হাদীস নং-৮৯৭)

৬৩। যায়েদ ইবন খালিদ আল-জুহানী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করে একাগ্র চিত্তে নির্ভুলভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (হাদীস নং-৯০৫)

৬৪। আবু যার (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বান্দা নামাযের মধ্যে যতক্ষণ এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর দৃষ্টি তার দিকে থাকবে। অপরপক্ষে যখন সে এদিক-ওদিক খেয়াল করবে, তখন আল্লাহও তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবেন। (হাদীস নং-৯০৯)

৬৫। ওয়াইল ইবন হুজর (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ওয়ালাদ্দাল্লীন” পাঠ করার পর জোরে “আমীন” বলতেন । (হাদীস নং-৯৩২)

৬৬। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন ইমাম আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যে ব্যক্তির আমীন শব্দ ফেরেশতার আমীন শব্দের সাথে মিলবে তার পূর্ব জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে । (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)। ইবন শিহাব (রহ•) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা•)ও ‘আমীন’ বলতেন। (হাদীস নং-৯৩৬)

৬৭।হযরত আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ নামাযের মধ্যে ইমামের কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে এবং স্ত্রীলোকেরা হাতের উপর হাত তালি মেরে শব্দ করবে। (হাদীস নং-৯৩৯)

৬৮। হযরত আবু যার (রা•) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (স•) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযে রত হয়, তখন তার সম্মুখভাগ হতে রহমত নাযিল হয়। অতএব নামাযী ব্যক্তি যেন সম্মুখ ভাগের পাথর (ইত্যাদি) অপসারণ না করে। (হাদীস নং-৯৪৫) (নাসাঈ, ইবন মাজা, তিরমিযী)। অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা নামাযে রত অবস্থায় (সিজদার স্থান হতে) কিছু অপসারিত করবে না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে একবার পাথরকণা সরিয়ে সমতল করতে পার। (হাদীস নং-৯৪৬)

৬৯। ইবন আব্বাস (রা•) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (স•) তাশাহুদের পর এই দু‘আ পাঠ করতেনঃ

اللهم انى اعوذ بك من عذاب جهنم واعوذ بك من عذاب القبر واعوذ بك من فتنة المحيا والممات واعوذ بك من شر فتنة المسيح الدجال.

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন আযাবে জাহান্নাম ওয়া আউযু বিকা মিন আযাবিল কাবরে, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাত ওয়া আউযু বিকা মিন শার্‌রী ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।”

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট পানাহ চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে, পানাহ চাই জীবন ও মৃত্যুর যাবতীয় ফেতনা থেকে এবং পানাহ চাই মাসীহি দাজ্জালের ফেতনা থেকে। (হাদীস নং-৯৮৪)

৭০। আবু উবায়দা (রহ•) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা ইবন মাসউদ) বলেন, নবী করীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দুই রাকাত নামাযের পর বৈঠক এত সংক্ষেপ করেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন কোন গরম পাথর বা পাথরের টুকরার উপর বসেছিলেন। (হাদীস নং-৯৯৫)

৭১। আল-আরযাক ইবন কায়েস (রহ•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমাদের ইমাম আবু রিমছা (রা•) জামাআতে নামায শেষে বলেনঃ একদা আমি এই ফরয নামায নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আদায় করি। নামাযে হযরত আবু বাকর ও উমার (রা•) রাসূলুল্লাহ (স)-এর ডানপাশে সামনের কাতারে দণ্ডায়মান ছিলেন। ঐ সময়ে অন্য একজন সাহাবীও তাকবীরে উলা বা প্রথম তাকবীরের সময় উপস্থিত ছিলেন। ইমাম হিসাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে ডান এবং বামদিকে এরূপভাবে সালাম ফিরান যে, আমরা তাঁর গালের শ্রুভ্র অংশ অবলোকন করি। অতঃপর তিনি (স•) স্বীয় স্থান হতে উঠে দাঁড়ান, যেমন আবু রিমছা (রাবী স্বয়ং) উঠে দাঁড়ালেন। ঐ সময় প্রথম তাকবীর প্রাপ্ত ব্যক্তি নফল নামায আদায়ের জন্য উক্ত স্থানেই দণ্ডায়মান হন। তখন হযরত উমার (রা•) দ্রুত তাঁর নিকট গমন করে তার কাঁধে হাত দিয়ে তাকে একটু ঝাঁকুনি দিয়ে বলেনঃ বস, পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তারা ফরয ও নফলের মধ্যে কোনরূপ ভেদাভেদ করত না। ঐ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহ তোমার দ্বারা সঠিক কাজ করিয়েছেন। (এতে বুঝা যায় যে, মসজিদে ফরয নামায আদায়ের স্থান হতে সরে অন্যত্র অন্য নামায আদায় করা উত্তম এবং নবীর সুন্নাত। (হাদীস নং-১০০৭) ।

৭২। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযে দণ্ডায়মান হয়, তখন শয়তান তার নিকট এসে তাকে ধোঁকা দিতে দিতে এমন পর্যাযে পৌঁছে দেয় যে, সে কয় রাকাত আদায় করেছে- তা স্মরণ করতে পারে না। তোমাদের কারো যখন এমন অবস্থা হবে, তখন সে যেন বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা দেয়। (হাদীস নং-১০৩০)

৭৩। মুগীরা ইবন শোবা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন ইমাম (তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে) দুই রাকাত আদায়ের পর না বসে দণ্ডায়মান হওয়া কালে সম্পূর্ণ সোজা হওয়ার পূর্বে এটা তার স্মরণ হয়; তখন তিনি সাথে সাথেই বসবেন এবং যদি তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকেন তখন তিনি আর না বসে নামায শেষে দুইটি সাহু সিজদা করবেন। (হাদীস নং-১০৩৬)

৭৪। যায়েদ বিন ছাবিত (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ফরয নামায ব্যতীত যে কোন ধরনের নফল নামায আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী) হতে ঘরে পড়াই শ্রেয়। (হাদীস নং-১০৪৪)

৭৫। হযরত আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যেসব দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই উত্তম। ঐ দিনেই হযরত আদম (আ•) সৃষ্টি হয়েছিলেন, ঐ দিনই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়, ঐ দিনই তাঁর তওবা কবুল হয় এবং ঐ দিন তিনি ইনতিকাল করেন। ঐ দিনই কিয়ামত কায়েম হবে, এই দিন জিন ও ইনসান ব্যতীত সমস্ত প্রাণীকুল সুবহে সাদেক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত অনুষ্টিত হওয়ার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে। এই দিনের মধ্যে এমন একটি সময় নিহিত আছে, তখন কোন মুসলিম বান্দাহ নামায আদায়ের পর আল্লাহর নিকট যা প্রার্থনা করবে তাই প্রাপ্ত হবে।

হযরত কাব (রা•) বলেন, এইরূপ দু‘আ কবুলের সময় সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক দিন। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, বছরের একটি দিন নয়, বরং এটা প্রতি জুমুআর দিনের মধ্যে নিহিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর হযরত কাব (রা•) তার প্রমাণস্বরূপ তাওরাত পাঠ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল (স•) সত্য বলেছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা•) বলেন, অতঃপর আমি বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রা•)- র সাথে সাক্ষাত করি (যিনি ইহুদীদের মধ্যে বিজ্ঞ আলিম ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করি। এই সময় হযরত কাব (রা•)- ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রা•) বলেন, দু‘আ কবুলের সেই বিশেষ সময় সম্পর্কে আমি জ্ঞাত আছি। তখন আবু হুরায়রা (রা•) বলেন, আমাকে ঐ সময় সম্পর্কে অবহিত করুন। আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রা•) বলেন, তা হল জুমুআর দিনের সর্বশেষ সময়। আমি বললাম, তা জুমুআর দিনের সর্বশেষ সময় কিরূপে হবে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে কোন বান্দাহ নামায আদায়ের পর উক্ত সময়ে দু‘আ করলে তার দু‘আ কবুল হবে। অথচ আপনার বর্ণিত সময়ে কোন নামায আদায় করা যায় না। আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রা•) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, কোন ব্যক্তি নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকলে- নামায আদায় না করা পর্যন্ত তাকে নামাযে রত হিসাবে গণ্য করা হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি বলেনঃ তা ঐ সময়টি । (হাদীস নং-১০৪৬)

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৪৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. আলহামদোলিললাহ।অনেক অনেক সুকরিআ।