লগইন রেজিস্ট্রেশন

রসূলকে মান্য করা বা অনুসরন করা।(উৎসর্গ জ্ঞানপিপাসু)

লিখেছেন: ' ফারুক' @ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৭, ২০১০ (৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ)

সর্বশক্তিমান বলেছেন : “আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।” (৩:১৩২)। তিনি আরো বলেছেন : “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের।”(৪:৫৯)।

আমাদের ধর্মে কয়জনের আনুগত্য বা মান্য করার আদেশ করা হয়েছে? এক জনের , দুই জনের নাকি তিন বা ততোধিকের? আসলেই আমরা এক জনকেই মানতে বাধ্য , তিনি আল্লাহ। আমারা পালন করি আল্লাহ্‌র বানীকে বা আদেশকে , যা রসূল উচ্চারন করেন এবং রসূলের মৃত্যুর পরে যে বা যারা আল্লাহ্‌র বানী উচ্চারন করেন , তাদের। কোরানের মূল নীতি অনুযায়ী , আল্লাহ্‌র বানী অমান্য করে , এমন কাউকে বা আল্লাহ্‌কে অমান্য করার কোন আদেশ মানা যাবে না। নবী যখন জীবিত ছিলেন , তখন তাকে মান্য করা বা আনুগত্য করা অত্যাবশ্যকীয় , যখন তাহার সকল কাজ ও বাণীর উৎস আল্লাহ। এটা আমরা বুঝতে পারি নিম্নের আয়াত থেকে। “ও নবী, যদি তোমার কাছে মুমিন নারীগণ আসিয়া বয়াত করিল যে, তাহারা আল্লাহর সহিত কোন কিছুর শরীক করিবে না, চুরি, জেনা ও সন্তান হত্যা করিবে না, অথবা নিজেদের হাত পার মধ্যে মিথ্যা সৃষ্টি ( বানাইয়া মিথ্যা বলা) করিবে না বা তোমাকে অমান্য করিবে না যখন তুমি সঠিক নির্দেশ দাও, তবে তাহাদিগকে বয়াত কর ও তাহাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু।” ৬০:১২।

লক্ষ্য করুন , উপরের আয়াতে বলা হয়েছে ” ও নবী”। নবী ও রসূলের মধ্যে মূলগত কিছু পার্থক্য আছে। রসূল মুহম্মদ ও কোরান বা আল্লাহ্‌র বানী সমার্থক। কোরানের বানীকেও রসূল বলা হইয়াছে। যেকারনে রসূলকে মান্য করা বাধ্যতামূলক। রসূলের বাইরে ও মানুষ মুহম্মদের একটি জীবন আছে , সেই মানুষ মুহম্মদকেই নবী বলা হয়। এই নবী মুহম্মদের ভুল ত্রুটির কথা কোরানে উল্লেখ করা হইয়াছে। এ সম্পর্কে পরে কোন পোস্টে আলোচনা করা যাবে। উপরের আয়াত থেকে আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি যে , আল্লাহ নবীকে মানার ব্যাপারে কিছু বিধি নিশেধ আরোপ করেছেন। নবী যখন সঠিক নির্দেশ দেন , তখন তাকে মানা বাধ্যতামূলক। বেঠিক নির্দেশ না মানলে ও চলবে। কোন নির্দেশ সঠিক আর কোন নির্দেশ বেঠিক , তা নির্নয়ের মাপকাঠি কোরান।

আল্লাহ বলেছেন: “বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়।(৪:৬৪)”।
“যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে , তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।(৪:৮০)”। একারনেই প্রতিটি নবী এসেছিলেন রসূলরুপে আল্লাহ্‌র বানীকে মানুষের কাছে প্রচারের উদ্দশ্যে এবং এই বানীর উপরে ভিত্তি করেই মানুষকে অনুরোধ করেছেন তাকে অনুসরন করার জন্য। “আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত রসূল। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।” (২৬:১০৭/১০৮ এবং ১২৫/১২৬ ও ১৬২/১৬৩)। উনারা বলেন নি , আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত নবী। রসূলকে মান্য করার অর্থই হলো কোরানকে মান্য করা, যা আল্লাহ রসূলের কাছে প্রকাশ করেছেন। কোরানই রসূল , যা আমাদের মাঝে বর্তমান আছে।

“অনুসরন কর সে আলোকে , যা তার কাছে নাযিল হয়েছে।”

মুসলমানদেকে মানুষ মুহম্মদকে নয় বরং আল্লাহ্‌র বানীকেই বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে। “আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে মুহাম্মদের প্রতি অবতীর্ণ সত্যে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কর্মসমূহ মার্জনা করেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করে দেন।(৪৭:২)”

আমরা মানুষ মুহম্মদকে অনুসরন করি না ; আমরা অনুসরন করি সেই আলো’কে , যা মুহম্মদের কাছে এসেছে। অর্থাৎ কোরানকে। কোরান নিজেই এ ব্যাপারে বলেছে : “সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।৭:১৫৭”
লক্ষ্য করুন এই আয়াতে মুহম্মদকে অনুসরন করতে না বলে সেই নূরের অনুসরন করতে বলা হয়েছে , যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে। যদি আয়াতটি এমন হইত “সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তার অনুসরন করেছে” তাহলে কোরানকে অনুসরন না করে মুহম্মদকেই অনুসরন করতে হতো।

মুহম্মদ প্রথম ব্যাক্তি , যিনি সকলের আগে কোরানকে অনুসরন করেছেন। আল্লাহ তাকে আদেশ করেছেন – “আপনি তাই অনুসরণ করুন, যার আদেশ পালনকর্তার পক্ষ থেকে আসে।৬:১০৬” এবং “আর তুমি চল সে অনুযায়ী যেমন নির্দেশ আসে তোমার প্রতি এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন আল্লাহ।১০:১০৯” এবং “আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়, আপনি তার অনুসরণ করুন।৩৩:২” এবং “অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।৭৫:১৮” । রসূলকে বলতে বলা হয়েছে (সহী হাদীস) – ” বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।৪৬:৯” এবং “…আপনি বলে দিন, আমি তো সে মতেই চলি যে হুকুম আমার নিকট আসে আমার পরওয়ারদেগারের কাছ থেকে।৭:২০৩”

রসূল মুহম্মদ যখন কোরানকে অনুসরন করতেন, তখন তার উম্মত হিসাবে আমাদেরও কোরানকেই অনুসরন করা উচিৎ। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদেরকে ও নবীকে একি সাথে উদ্দেশ্য করে বলেছেন : “এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ। তোমরা সকলে অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না। আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। ৭:২-৩” “আল্লাহকে বাদে অন্য সাথীদের অনুসরন করো না”, অনেকেই এর অর্থ করেছেন এভাবে – কোরানকে বাদে অন্য কিছু অনুসরন করতে নিশেধ করা হয়েছে। আল্লাহকে অনুসরন করা সম্ভব একমাত্র কোরানকে অনুসরনের মাধ্যমে। আল্লাহর আদেশ নির্দেশ একমাত্র কোরানেই লিপিবদ্ধ আছে। কোরানের বাইরে অন্য কিছুকে অনুসরনের মানেই দাড়ায় , অন্য সাথীদের অনুসরন করা। কোরানের বাইরে অন্য কিছুকে অনুসরন করার মানেই দাড়ায় , সেই অন্য কিছুকে কোরানের সমকক্ষ করা , প্রকারান্তরে আল্লাহর সমকক্ষ করা , যা শির্ক। এটা আল্লাহ্‌র তরফ থেকে আদেশ এবং এনিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই।

স্বভাবতই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে , তাই যদি হয় , তাহলে নবীকে কিভাবে অনুসরন করব? সহজ উত্তর হলো – নবী যখন কোরানকে অনুসরন করতেন , তখন কোরানকে অনুসরন করলেই নবীকে অনুসরন করা হবে। আর কোরানকে অনুসরন করলে রসূলকেও অনুসরন করা হবে , কারন কোরান ও রসূল সমার্থক।

বেশিরভাগ মুসলমান আজ কোরান ছাড়া বা কোরানের পাশাপাশি অন্য কিছু ও অনুসরন করে। তারাই সংখ্যায় ভারী। সংখ্যায় ভারী হলেই যে তারা সত্যপথে আছে এটা ভাবার কোন কারন নেই। কোরানের বানীই সত্য , বেশিরভাগ লোক কি বল্লো তাতে কিছুই যায় আসে না। “আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।৬:১১৬”

“আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর” , এই বাক্য দ্বারা আল্লাহ মানুষের স্বাভাবিক চরিত্রের কথাই বলেছেন।

রসূলের দায়িত্ব শুধু পৌছিয়ে দেওয়া। আল্লাহ জানেন, যা কিছু তোমরা প্রকাশ্যে কর এবং যা কিছু গোপন কর। বলে দিনঃ অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে বিস্মিত করে। অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় কর-যাতে তোমরা মুক্তি পাও। ৫:৯৯-১০০”

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৯৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২৫ টি মন্তব্য

  1. এই ব্লগ যারা ইসলামী বিষয়ে পন্ডিত ব্যক্তিবর্গকে অনুরোধ করব ফারুক ভাইয়ের এই পোষ্টে কিছু বলার জন্য। কারণ এখানে যা বলা হয়েছে তা আমাদের প্রচলিত বিশ্বাসের পরিপন্থী। তবে পোষ্ট দাতা কোরানের আয়াতকে দলিল পেষ করে উনার নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়েছেন।কাজেই আমি জানিনা মেরিনার ভাই না বোন তবে উনার কাছে আশা করছি এই বিষয়ে একটি যুক্তি সঙ্গত জবাব দিবেন।

    আর পিস ইন কর্ভৃপক্ষের কাছে নিবেদন আপনাদে বি ই আর সি থেকে এই বিষয়ে একটি জবাব আশা করছি। কারন এই পোষ্টটি যথার্থ ফারুক ভাইকে উপযুক্ত জবাব দেবার। সালাম।

    মালেক_০০১

    @মুনিম, আমার মনে হয় ফারুক সাহেবকে নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়ে গিয়েছে। এখন উনার জন্য দোয়া করা ছাড়া কোন উপায় দেখি না।
    অবশ্য ফারুক সাহেবেও আমাদের জন্য চেষ্টা ও দোয়া চালিয়ে যাচ্ছেন!!!!!!!
    আল্লাহ আমাদের কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তৌফিক দান করুন।

    মুনিম

    @মালেক_০০১,সাহেব বেয়াদবি নেবেন না। এটি ফারুক সাহেবের জন্য নয়। এটি সম্পর্কে আমিও জানতে চাই। আপনি যে জবাব দিয়েছেন এটি আমার কাছে মনে হচ্ছে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। একটি জিনিস মনে রাখবেন এখন সে সময় আর নেই যে বলবেন মায়ের পেটে কি আছে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা? ঘোড়া নিয়ে যুদ্ধ করার জন্য কোরানের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও এখন কেউ ঘোড়া নিয়ে যুদ্ধ করতে যাবেনা। তাই এখন মানুষকে বলবেন, এটি পানি আর পানিকে পানি বলে মেনে চলতে হবে। সে দিন কি আর আছে? এখনকার মানুষ পানি যে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের সমষ্টি তা বের করে কান্ত হয়নাই আর গভীরে যাচ্ছে।

    মুসলমানদের পাশ কাটিয়ে যাবার রাস্তা ইসলাম এলাউ করেনা। ভাল ভুল বললে ক্ষমা করবেন।

    মালেক_০০১

    @মুনিম,আপনার অন্যান্য লেখা পড়লেতো মনে হয় না এটি সম্পর্কে আপনিও জানতে চান। যাইহোক , ফারুক সাহেবের সাথে মূল দ্বন্দ্বতো সহীহ হাদিস নিয়ে, তাই না? এখন সহীহ হাদিস ছাড়া প্রমাণ করুন যে, Suratul-Wilaayah কোরানের অংশ নয়।
    আর মায়ের পেটে কি আছে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা- এই আয়াতে যে লিংগ শব্দটির উল্লেখ নেই বরং তা অনেক অনুবাদকের পক্ষ থেকে লাগানো তা আশা করি জানেন।আর “ডি.এন.এ” ও “ক্রোমোজম” ম্যাপিং যে এখনও থিওরি লেভেলেই হিমশিম খাইতেছে সেটাও আশা করি জানেন। ধন্যবাদ।

    আব্দুল্লাহ

    @মুনিম ভাই, মাকাসিদ আশ শারিয়াহ বলে একটা ব্যপার আছে যার মানে শরীয়তের উদ্দেশ্য। সে সময় যেটা উত্তম অস্ত্র ছিল তাই নিয়ে যুদ্ধে যেতে বলা হয়েছে। এখনকার সময়ের উত্তম অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে যাব,ঘোড়া নিয়ে না। ঘোড়া সম্পর্কিত কোন আয়াতের কথা আপনি বলতে চেয়েছেন বুঝিনাই তবে আন্দাজ করলাম যে আপনি সুরা আল-আনাম এর ৬০ নম্বর আয়াতের কথা বলতে চেয়েছেন। দারুস-সালাম থেকে প্রকাশিত নোবেল ক্বুরান এর অনুবাদ তুলে দিলাম –
    “And make ready against them all you can of power, including steeds of war (tanks, planes, missiles, artillery, etc.) to threaten the enemy of Allah and your enemy, and others besides whom, you may not know but whom Allah does know. And whatever you shall spend in the Cause of Allah shall be repaid unto you, and you shall not be treated unjustly.”
    http://www.dar-us-salam.com/TheNobleQuran/

    মালেক_০০১

    @আব্দুল্লাহ , “আল-আনাম” নয় “আল-আনফাল” -এর ৬০ নম্বর আয়াত হবে। ধন্যবাদ।

    মুনিম

    @মালেক_০০১,ভাই মালেক আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি যে প্রশ্নটি করেছি এটি শুধু জানার জন্য নয়। এখানে একটি বিরাট কিন্তু আছে। আপনারা হয়তো জানেন যে আমি ব্লগীং জগতে এক যুগের বেশী সময় ধরে আছি। যখন বাংলা ব্লগ কি বাঙ্গালী অনেকেই ভার্চুয়াল জগত কি জানতনা। সেই সময় থেকে বিশ্ব ব্যাপি অনেক ইসলামি ব্লগ দেখেছি যাতে বিধর্মীরা ঢোকে এমন সব ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করে যা আমাদের ইসলামি ভার্চুয়াল ব্যক্তিরা দিতে অক্ষম। বা দিতে চান না।
    যুক্তি যুদ্ধে মুসলমানরা সব সময় পিছনে থাকেন। তাহলে কি ইসলামে কোন যুক্তি নেই। তাহলে আমরা কি শুধু বিশ্বাস নিয়ে আছি? তাহলে প্যাগানদের থেকে আমরা কতটুকু ভিন্ন? তারাওতো এই ভাবে বংশ পরমপরায় প্রাপ্ত রীতি নীতিকে ঈমান মানে?

    আমরা মুসলমান মুসলমানের মধ্যে মারামারি করি কেন? কেউ কি কোরান নিয়ে মারা মারি করি? না রাসুল নিয়ে করি? যারা মুসলমান তারা সবাই তো লাইলাহা ইল্লাললাহু মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ বলে থাকেন এবং বিশ্বাস ও করেন।
    আমরা মারামারি করি শুধু ব্যাখ্যার কারণে। কোরান কিংবা রসুল সঃ কারণে নয়। কারো ব্যাখ্যা মানা না মানা কি ইসলামে অবলিগেটর? বহু হাদিসে তো আছে রাসুল নির্দেশ দিয়েছেন যে শুধু লা ইলাহা ইল্লাললাহু শাহাদা দিবে সেও কিন্তু মুসলমানের কাছে নিরাপদ থাকবে যতখন না সে প্রকাশ্যে সালাত সিয়াম হজ যাকাত বা কোরানে নির্দেশিত স্পষ্ট হুকুমের

    মুনিম

    @মালেক_০০১, আগের জবাব শেষ হবার আগে কেমন করে ক্লিক পড়ে পোষ্ট হয়েগেছে। যাক যেটি বলতে চাই যতক্ষণ না সে ঐ সবে প্রকাশ্যে বিরুদ্ধে যাবে। একটু বুঝার চেষ্টা করুন, আজ যদি বিশ্বের সর্ব কালে সর্ব শ্রেষ্ঠ শিক্ষক দয়াল নবী সঃ আমাদের মধ্যে থাকতেন তাহলে যে কোন ব্যাখ্যার মানুষ উনার কাছে যেত এবং বিনা বাক্যে উনার ব্যাখ্যা মেনে নিত।
    যেহেতু উনি নেই। তাই উনার ব্যাখ্যার নামে যে গুলো আমাদের সামনে এখন আছে, সে গুলোর মধ্যে খুব কমই ব্যাখ্যা আছে যে বিগত ১৪শত বছরের আমাদের গুজরে যাওয়া হাক্কানি উলামায়ে কেরামগণ এক বাক্যে মেনে নিয়েছেন। কেউ একটি মানে অন্যজন নাকচ করে দিয়েছেন। কিন্তু কেন? কেন এমন হলো? এমন হবার তো কথা ছিলনা? যেখানে যেখানে রসুল কি বলেন আর কি করেন শতশত লোক তা সংগ্রহ করত মুখস্ত করতো এবং ঐ গুলো করাকে ঈমানে অঙ্গ বলে এর মশাল এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়েছেন? তাহলে আজ কেন এত বিভ্রান্তি?

    শুনেন এই মত পার্থক্য এই ২১ শতকে নয় সেই সাহাবে কেরামদের মধ্যেও এই বিভ্রান্তির ভ্রুণ ছিল। কোরানে একটি আয়াতের ব্যাখ্যা হযরত ওমর রাঃ যে ভাবে দিতেন তার ভিন্ন ভাবে হযরত আব্বাস রাঃ দিতেন। ইবনে ওমর যে ভাবে দিতেন আয়শা রাঃ অন্য ভাবে দিতেন। এবং ঐ সময় সাহাবিরা জীবিত থাকতেই আয়শা রাঃ ঐ সময়ের মুসলমানদের অবস্থা দেখে আফসুস করতেন। কিন্ত কেন রাসুলের ওফাতের পরপর ওভাবে হলো কেন? আমরা না সেই যুগের মানুষদেরকে সর্ব শ্রেষ্ঠ উম্মত বলি?

    আসলে আমি জানি আপনরা আমাকেও ফারুকের সাথে সাথে এই ব্লগে চাইবেন তারপরও বলছি, কোন সময়ই রাসুল ছাড়া ইসলামকে পূর্নাঙ্গ ভাবে কেউ দেখেন নাই তিনি যেই হন নাকেন,মানে কারো দেখার ক্ষমতা ছিলো না। যেমন অন্ধরা বিশাল হাতির যে অঙ্গ স্পর্শ করে সেই অংশকে একমাত্র হাতি মনে বিশ্বাস করে। এটি স্বাভাবিকই ছিল কারণ সে প্রযুক্তি কারো কাছে ছিলনা। ছিলনা বলেই সেই ভ্রুণ এখন মুসলমান জাতীর সামনে বিভেদের পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই বিভেদ থেকে আমাদের মুক্তির পথ তালাশ করতে হবে। আর তালাশ করতে গেলে সব মুক্ত মনে করতে হবে সহনশীল হতে হবে। শক্তি আপনার আছে আমাকে জিন্দিক বলে আমার গর্দান উড়াতে পারবেন কিন্ত পারবেন না আমার জানার অদম্য প্রশ্নের উত্তর দিতে! কিন্তু আমার গর্দানের সাথে সাথে আমার প্রশ্নও ভেনিস হবেনা যুগে যুগে ফিরে আসবেই আসবে। ধন্যবাদ।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    শুনেন এই মত পার্থক্য এই ২১ শতকে নয় সেই সাহাবে কেরামদের মধ্যেও এই বিভ্রান্তির ভ্রুণ ছিল। কোরানে একটি আয়াতের ব্যাখ্যা হযরত ওমর রাঃ যে ভাবে দিতেন তার ভিন্ন ভাবে হযরত আব্বাস রাঃ দিতেন। ইবনে ওমর যে ভাবে দিতেন আয়শা রাঃ অন্য ভাবে দিতেন।

    আপনি কি সাহাবীদের (রাঃ) ঈমান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন? নাকি বর্তমান যমানার নামধারী মুসলমানদের সাথে সাহাবীদের তুলনা করছেন? আপনার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু সাহাবী (রাঃ) দের সম্পর্কে নিজস্ব উক্তি দিতে গেলে একটু সাবধাণতা অবলম্বনের অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।

    দ্য মুসলিম

    @মুনিম,

    আমরা না সেই যুগের মানুষদেরকে সর্ব শ্রেষ্ঠ উম্মত বলি?

    এ ব্যপারে সন্দেহ প্রকাশ করা কি উচিৎ হবে?

    ফারুক

    @মুনিম,আপনার মতো আমিও অপেক্ষায় থাকলাম।

  2. আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথ দেখান। আমীন

    ফারুক

    @মামুন, আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথ দেখান।

  3. আমি এতদিন বিরতীহিন ভাবে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি এবং আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আমার উধারনের ভিত কত মজবুত ছিল তা পিছনের লিখা বা কমেন্ট গুলি দেখলেই বুঝবেন। আপনার লিখার উত্তর আমি দিতে পারতাম, কিন্তু এদানিং নিজেকে অযোগ্য মনে হচ্ছে, তাই আপনার লিখার উত্তর দিলাম না, আশা করি এখনে আমার চেয়ে জ্ঞানি যারা আছেন, তারা আপনাকে বঞ্চিত করবেন না। তখন অবাক হই, যখন দেখি মানুষ, আল-কুরানকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করে, একবারো ভেবে দেখেনা যে, আল-কুরানে কি আছে, যা আল্লাহ বলেছেন, চিন্তাশীলদের জন্যে কুরানে আছে বহু নিদর্শন। অথচ অমুসলিমরা এই কুরান নিয়ে চিন্তা ভাবনা, গবেষনা করে মুসলিমদেরকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। দেখুন জ্ঞানি ভায়েরা কি উত্তর দেয়। ধন্যবাদ।

    ফারুক

    @জ্ঞান পিপাষু, দেখি জ্ঞানি ভায়েরা কি উত্তর দেয়। তবে পোস্ট টি যেহেতু আপনাকে উৎসর্গ করা , আপনার উত্তরটা পেলে ভালো লাগত।

    মুনিম

    @জ্ঞান পিপাষু, দেখুন জ্ঞানি ভায়েরা কি উত্তর দেয়। আমিও বসে আছি দেখি ভাগ্যে এ জবাব পাবো কিনা। ধন্যবাদ।

  4. এই লেখাটা এত ক্বুরানবিরোধী যে উত্তর দেয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি। লেখক বললেন –

    “আসলেই আমরা এক জনকেই মানতে বাধ্য ,তিনি আল্লাহ।”

    অথচ আল্লাহ বললেন – “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের।”(৪:৫৯)। “
    এইখানে লেখক যে আল্লাহকে “জন” বানায় সরাসরি তার আয়াতের বিরোধিতা করলেন এইটাকি obvious না?
    যে পথ দেখতে চায়না তাকে পথ দেখান যায় না। এর উত্তর দেয়ার পর উনি আরো কিছু আয়াতের অপব্যখ্যা করে আরেকটি লেখা লিখবেন এবং আবার উত্তর দাবি করবেন – এত তো সম্ভব নয়। যদি মূলনীতি ঠিক না হয় তবে কোন জবাবই কাজে লাগবেনা। যারা মুসলিম তাদের ক্বুরান পড়া ও মানার মূলনীতি হল –
    ১। ক্বুরানের ব্যখ্যা ক্বুরান দ্বারা।
    ২। ক্বুরানের ব্যখ্যা রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কথা দ্বারা।
    ৩। ক্বুরানের ব্যখ্যা রসুলুল্লাহ (সাঃ)এর সাহাবিদের দ্বারা।
    ৪। ক্বুরানের ব্যখ্যা রসুলুল্লাহ (সাঃ)এর সাহাবিদের তাবেয়িদের দ্বারা।
    ৫। ক্বুরানের ব্যখ্যা রসুলুল্লাহ (সাঃ)এর তাবেয়িদের তাবেয়িনদের দ্বারা।
    ৬। ক্বুরানের ব্যখ্যা সাতটি ক্বিরাতের অন্যান্যগুলো দ্বারা।
    ৭। আরবি ভাষার জ্ঞান দ্বারা।

    আমি বাংলায়/ইংরেজিতে ক্বুরানের অনুবাদ পড়ে বা আরবি পড়েও এমন কিছু বুঝে গেলাম যা প্রথম তিন যামানার কেউ বুঝে নাই তাহলে আমি যা বুঝছি তা ভুল, তাঁরাই ঠিক -এরই নাম আসলামতু -নিজেকে সমর্পণ করা । যে করে সেই মুসলিম। যে করে না তাঁর ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন –

    “তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।৬:১১৬”

    উনি যে আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন তা সব ঠিক কিন্তু যা ব্যখ্যা করেছেন সব ভুল। যেমন –
    “কোরানই রসূল ,যা আমাদের মাঝে বর্তমান আছে। ” অথচ আমরা ইসলাম গ্রহণ করলাম কালিমা পড়ে – “লা ইলাহা ইল্লালাহ, মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ” মুহাম্মাদ যে আল্লাহর রসুল এইটা বুঝা কি এত কষ্ট?

    এই আয়াতগুলোর সঠিক তাফসির জানতে ইবনে কাসির পড়ুন -এটির অনুবাদ বাংলায় সহজলভ্য। সত্য পথের সন্ধান পাবেন। নিজেকে সমর্পণ করুন – আমার আমিত্ব কে ত্যাগ করুন – এটাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহর কাছে হিদায়াত চান,সত্য পথ চান। নিজেকে absolutely correct ভাববেন না, তাহলে তর্ক করে আর নিজের সপক্ষে যুক্তি খুঁজে জীবন শেষ হয়ে যাবে – পরকালে খালি হাতে যেতে হবে।

    ফারুক

    @আব্দুল্লাহ,

    আমাদের ধর্মে কয়জনের আনুগত্য বা মান্য করার আদেশ করা হয়েছে? এক জনের , দুই জনের নাকি তিন বা ততোধিকের? আসলেই আমরা এক জনকেই মানতে বাধ্য , তিনি আল্লাহ। আমারা পালন করি আল্লাহ্‌র বানীকে বা আদেশকে , যা রসূল উচ্চারন করেন এবং রসূলের মৃত্যুর পরে যে বা যারা আল্লাহ্‌র বানী উচ্চারন করেন , তাদের। কোরানের মূল নীতি অনুযায়ী , আল্লাহ্‌র বানী অমান্য করে , এমন কাউকে বা আল্লাহ্‌কে অমান্য করার কোন আদেশ মানা যাবে না। নবী যখন জীবিত ছিলেন , তখন তাকে মান্য করা বা আনুগত্য করা অত্যাবশ্যকীয় , যখন তাহার সকল কাজ ও বাণীর উৎস আল্লাহ।

    এ অংশটুকু ভালো করে পড়ুন।

    আব্দুল্লাহ

    @ফারুক,জী পড়েছি,আপনি আয়াতটি ভাল করে পড়ে বলুন কেন আল্লাহ তাঁর পরে রসুলুল্লাহ (সাঃ) এবং “উলিল আমর” দেরকে সংযোজন করেছেন? বললেই হত শুধু ক্বুরান/আমাকে মান। আপনি আমার লেখাটা আবার পড়ুন, যদি মূলনীতি না মানেন তাহলে তর্ক করে কোন লাভ নেই, কারণ আপনি আপনার ব্যখ্যা অনুসারে ক্বুরান মানেন, আমি মানিনা। আমি কি মানি সেটা স্পষ্ট করে লিখে দিয়েছি।

    ফারুক

    @আব্দুল্লাহ,আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত করুন।

  5. “And make ready against them all you can of power, including steeds of war (tanks, planes, missiles, artillery, etc.) to threaten the enemy of Allah and your enemy, and others besides whom, you may not know but whom Allah does know. And whatever you shall spend in the Cause of Allah shall be repaid unto you, and you shall not be treated unjustly.”
    সুরা আল-আনফাল (৮-৬০)
    মালেক ভাই আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক,আমাকে শয়তান ভুল করায় দিয়েছে।

    মুনিম

    @ আব্দুল্লাহ ভাই,, মাকাসিদ আশ শারিয়াহ বলে একটা ব্যপার আছে যার মানে শরীয়তের উদ্দেশ্য। সে সময় যেটা উত্তম অস্ত্র ছিল তাই নিয়ে যুদ্ধে যেতে বলা হয়েছে। এখনকার সময়ের উত্তম অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে যাব,ঘোড়া নিয়ে না। ঘোড়া সম্পর্কিত কোন আয়াতের কথা আপনি বলতে চেয়েছেন বুঝিনাই তবে আন্দাজ করলাম যে আপনি সুরা আল-আনাম এর ৬০ নম্বর আয়াতের কথা বলতে চেয়েছেন। দারুস-সালাম থেকে প্রকাশিত নোবেল ক্বুরান এর অনুবাদ তুলে দিলাম –

    আমি তো এই পয়েন্টে আসার জন্য এই আয়াত নিয়ে এসেছি এই আয়াত বা এই আয়াতের মত আরও অনেক আয়াত কিংবা হাদিশ আছে যে গুলো শুধু মাত্র কোরান নাজিলের সময়ের মানুষের জ্ঞান যে স্তরে ছিলো সে ভাবে সেই উপকরন উপমা সহকারে নাজিল হয়েছিল যাতে কোরানের আয়াত বা হাদিসের নির্দেশ সে সময়ের মানুষ জন সহজে বুঝতে পারে।

    এখন আপনি আয়াতকে এ যুগে উপযোগি করার জন্য বলছেন মাকাসিদ আশ শারিয়াহ
    কথা। যেটি আমার মত নাদানরা বলে যে কোরানের আক্ষরিক বক্তব্যকে প্রাধাণ্য নাদিয়ে তার অন্তরনিহিত বক্তব্যকে প্রাধাণ্য দিতে। এবং আমি যত কথা এই ব্লগে বলেছি বলে এসেছি এই সত্যকে প্রতিষ্ঠ করতেই বলে এসেছি। ঐ ঘোড়া যদি জ্যাম্বু জেট বা মিশাইলে রূপান্তরিত হতে পারে তাহলে অন্যান্য আয়াতের উপমার রূপান্তর নিশ্চয় দোষনিয় নয়। কি বলেন আব্দুল্লাহ ভাই? মা আসসালাম। আল্লাহ হাফেদ।

    আব্দুল্লাহ

    @মুনিম ভাই, ততক্ষণ পর্যন্ত দোষনীয় নয় যতক্ষণ আপনি একজন বড় মাপের আলিমের কাছ থেকে ব্যপারটা বুঝে নিচ্ছেন। কিন্তু আপনি যদি ক্বুরান/হাদিস নিজের মত করে ব্যখ্যা করেন তাহলে বিভ্রান্তির অবকাশ আছে। আমি কোন ব্যক্তিকে খাট করে দেখছিনা খালি এ ব্যপারটা বুঝাতে চাচ্ছি যে ইসলাম শিক্ষাটা একটা সিলসিলার মত ব্যাপার, রসুলুল্লাহ (সাঃ) যা বুঝেছেন, তাঁকে দেখে সাহাবিরা যা বুঝেছেন, তাবেয়িরা যা বুঝেছেন এই বুঝটা আমরা মেনে নিব, আমরা যা বুঝলাম তা ছেড়ে দিব। বড় আলিমের সুবিধাটা হল এখানে যে তিনি এই সব বুঝগুলো জানেন তাই তিনি একটা আয়াত ব্যখ্যার সময় আমাদের থেকে ভাল ব্যখ্যা করতে পারেন। আপনি/আমি যদি অন্তর্নিহিত মানে বুঝতে যাই তাহলে সমস্যা। এই আয়াতের মাকাসিদ বুঝেই ড. মুহসিন খান ও ড. তাকিউদ্দিন হিলালি এই অনুবাদটা করেছেন, অন্য আলিমরা তাদের এই অনুবাদকে ঠিক বলেছেন এই বুঝের পরিপ্রেক্ষিতে। আপনি ইসলাম নিয়ে সিস্টেমেটিকালি পড়াশোনা করেন, এরপর আপনি একটা তাফসির করেন, এই তাফসিরটা বড় আলিমরা মেনে নিক, আল্লাহর কসম আমার মেনে নিতে কোন আপত্তি নাই। কেউ একজন সারাজীবন ফ্লুইড মেকানিক্স পড়ল, পড়াইল, রিটায়ার করে ইসলামি ফাউন্ডেশন বা আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলির অনুবাদ পড়ে আমাকে বুঝাবে যে হাদিস দরকার নাই, ক্বুরান এই সব আছে তাহলে আমি নাই। কারণ ইসলাম টোটালারিয়ায়ান ভিউ সাপোর্ট করে ফ্র্যাগমেন্টেড ভিউ না। ইসলাম পুরাটা না বুঝে খন্ডিত বুঝ নিয়ে অনেক মানুষ নিজে বিভ্রান্ত হয়, অন্যদের বিভ্রান্ত করে ও সমস্ত মুসলিমদের বিপদে ফেলে। বিন লাদেনের জিহাদের আয়াতের ব্যখ্যার চোটে আফগানিস্তান আর ইরাক এক সাথে কাত! উনি হয়ত আল্লাহকে খুশি করার জন্য সন্ত্রাসকে বেছে নিয়েছেন কিন্তু বিন বাযের মত আলিম কে কাফির ঘোষণা দিয়ে তাদের পরামর্শ না শুনে মুসলিম উম্মাহর কি ক্ষতি করেছেন চিন্তা করে দেখেছেন? আল্লাহর রসুলের (সাঃ) সুন্নাত উপেক্ষা করায় এইকাজের জন্য তিনি পাপ কামাই করেছেন, পূণ্য না।
    ফারুক ভাইয়ের সমস্যা আর মারাত্মক, বিন লাদেনের ভুল ব্যখ্যায় দু’টো দেশ শেষ, উনার ব্যখ্যায় পুরো ইসলাম শেষ হয়ে যাবে, কারণ কোন একটি ব্যপারে রসুলের (সাঃ) সুন্নাত উপেক্ষা সাধারণ পাপ, কিন্তু অন প্রিন্সিপাল তাঁর সব সুন্নাহ উপেক্ষা করা কঠিন কুফরি, উনার দেয়া আয়াতগুলোই তার প্রমাণ।

  6. @ দ্য মুসলিম আপনি কি সাহাবীদের (রাঃ) ঈমান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন? নাকি বর্তমান যমানার নামধারী মুসলমানদের সাথে সাহাবীদের তুলনা করছেন? আপনার কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু সাহাবী (রাঃ) দের সম্পর্কে নিজস্ব উক্তি দিতে গেলে একটু সাবধাণতা অবলম্বনের অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ। বাহ সব জায়গায় শুধু ফারুক দেখেন তাই না? আমি যে সব পয়েন্ট বলছি তা মিথ্যা বলছি তা প্রমাণ করুন। তারপর আপনি অভিযোগ করেন।

    কেন ? আমি কি ভাবে সাহাবে কেরামগণের ঈমান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছি? আপনি কি সাহাবে কেরাম গণকে রাসুল তুল্য করে নিচ্ছেন? কোথায় কার সাথে কোন সাহাবিদের তুলনা করেছি? অসাবধানে কিছু বলে ফেললে আল্লাহ মাফ করেন কারণ আমার ইনটেশন তাদেরকে অসম্মান করা নয়। তাছাড়া বাধিত হবো যদি টু দ্যা পয়েন্ট ধরিয়ে দেন কোথায় সাহাবে কেরামগণের শানে বেয়াদবী হয়েছে।

  7. কেউ কি Suratul-Wilaayah সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলবেন? ধন্যবাদ।