লগইন রেজিস্ট্রেশন

কিছু বিষয়ের জবাব দিবেন? @উমর ভাই, মুসলিম৫৫, মেরিনার, দা মুসলিম, মালেক, সাদাত।

লিখেছেন: ' রাতদিন' @ সোমবার, এপ্রিল ৫, ২০১০ (১:২১ অপরাহ্ণ)

জ্ঞান পিপাসুর মত আমার ও এই ব্লগ ছেড়ে চলে যেতে হবে বলে মনে হইতেছে। আগেই ভাল ছিলাম।

মাহজাব মানা নাকি ফরজ? এখান কার এক ব্লগার এই বিষয় উত্থাপন করলেন? আপনাদের এই ব্লগে আসলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। আপনারা শুধু নুতুন নুতুন ভয়ের কারন বের করে নিয়ে আসেন। সবাই শেষে এক কথাই বলেন, আল্লাহ পাক আপনাকে সঠিক বুঝ দান করেন।

আমি আমার ফিলসফি মুটামুটি তুলে (যে বিষয় গুলিতে আপনারা অভিযোগ করতে পারেন) ধরতেছি। এখন, আপনারা বলবেন, আমি কি ঠিক আছি কি না?

আমি আল কুরানের তফসীর সহ পরি কিন্তু অধিকাংশ সময় শুধু আল কুরান পড়ি(তেলোয়াত করি না বুঝে)। এ অনুযায়ী চলি।
আমি প্রায় পুরো বুখারি শরীফ পড়েছি এবং মিশকাত আর মুসলিম শরীফ সম্পর্কে আমার ভাল ধারনা আছে।
আমি নবীদের আঃ জীবনি পড়েছি, যদিও তা বাইবেলিক।
আমি রাসূল সঃ এর বিভিন্ন লেখকের লেখা জীবনি পড়েছি।
আমি একশত এর অধিক সাহাবীর রাঃ জীবনি পড়েছি।
আমি সাধারনত হানীফি মাহজাব অনুষারে চলি, কিন্তু নিজেকে কখন হানিফি, কিংবা সুন্নি বলি না, শুধু মুসলিম এছাড়া কিছুই বলি না। এবং মাহজাব মানা বাধ্যতা মূলক ও মনে করি না।
বিদাত সম্পর্কিত বই পড়েছি এবং কিতাবুল তাওহিদ, কিয়ামে সাদাত, এই বইগুলি সম্পর্কে ধারনা আছে।
আমি কোন মুসলিমের কষ্টের কারন নই, এবং তবলিক বলেন বা অন্য মুসলিম দল বলেন, তাদের কষ্টের কারন হইনা, এবং তাদের কাজে বাধা ও ্দেই না, বলা যায় সহায়তা করি।
আমি আমার প্রশ্ন গুলি তুলে ধরি, এতে কেউ রাগ করলেও, আমি এখানেও করেছি। আপনারা দেখেছেন।
আমি কাউকে কাফির বলা অত্যান্ত ঘৃনা করি।
আমি নারীদের সম্মানের কথা ভাবি, এবং আমি মনেকরি, তাদের শিক্ষা এবং জ্ঞান চর্চা এবং যেকোন বিষয়ে গবেষণা করার পূর্ন অধিকার আছে।
আমি ইমাম দের সম্মানের পক্ষে কথা বলি, যে কোন মুসলিমের সম্মানের পক্ষে কথা বলি। যেমন ডাঃ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে কথা গুলির জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ইবনে তাইমিয়ার রঃ বিরুদ্ধে কথা গুলির জবাবের চেষ্টা করেছি।
আমি কোন ইমামকেই ভুল ত্রূটির উর্ধে মনে করি না, আমি মনে করি তারা সব বিষয়ে, সকল ব্যাপারে সঠিক নন। কিন্তু আমি তাদের ঠিক-ই সম্মান করি।
আমি ৭২ দলের হাদিস আকিদা দ্বারা বিবেচনা করি, মানে যাদের আকিদা ঠিক, তারাই ঠিক আছে, ফিকাহ ভিন্ন হলে সমস্যা আমার কাছে নেই। এ জন্য সে ভুল সে ঠিক, এসব নিয়ে ঝগরা করি না।
গীবত সম্পর্কিত বই পড়েছি, এবং সতর্ক থাকি (আল্লাহ পাকের রহমতে)।
আমার হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদী , নাস্তিক(জন্ম সূত্রে) বন্দু আছে। কিন্তু তারা অবশ্য-ই আমার নিকট বন্দু নয়, কিংবা সাহায্যকারী বা প্রতিরক্ষাকারী নয়, এভাবে বললে ভাল হয়, যা সাথী বা মেইট শব্দ। যেমন খেলার সাথী, স্কুলের সহপাঠী, প্রতিবেশী, কাজের সাথী, ইন্টারনেটের সাথী, গবেষনার সাথী ইত্যাদি। এরা কখন-ই আমার মুসলিম বন্দুদের মত, এত নিকট নয়।
আমি আকিদার ব্যাপারে কোন কম্প্রমাইজ করি না, অর্থ্যাত যাই করি না কেন, আকিদা সম্পর্কে খোজ রাখি, এবং যত পারি ঠিক করে নেই। যেমনঃ আমার মনের ভিতরের একটি কথা, আমি আল্লাহ পাকে বিশ্বাস করি, এবং আমি জানি না তিনি কেমন, তিনিই ভাল জানেন তিনি কেমন।

আপনারা যাই বলুন না কেন, আমি একটি বিষয় ঠিক করে ফেলেছি, নিজে পাগল হওয়ার চেয়ে, নিজে যতটুকু ইসলাম বুঝি এই নিয়ে পালন করতে থাকি জ্ঞান অর্জন করতে থাকি, সেটাই ভাল। চিন্তা করেছি, আরবি ভাষাটি-ই একদিন শিখে নিব ইনশা-আল্লাহ, তাহলে আর কোন দিন অনুবাদ পড়ে ভুল বুঝতে হবে না। আর পাগল হবার ইচ্ছা নেই। বেশ কিছু দিন আগে আমি বেশ কেদেছিলাম, মনে মারাত্তক আঘাত ও পেয়েছিলাম। ঘটনা তেমন কিছু নয়, একজন কট্টর ইসলামি, যার কড়া বক্তব্যে হতবাক, তার নিজের দোকানে গিয়ে দেখি মদ আছে। তারপর থেকে আস্তে আস্তে ঠিক করে নিয়েছি, ভরসা করলাম আল্লাহ পাক, এবং তার রাসূলের সঃ বক্তব্যের উপর আর কোন ব্যাক্ষা নয়, আর কোন বক্তব্য নয়। যদিও আমি ব্যক্ষা পড়ব জানার জন্য, কিন্তু আর কোন আলেমের ব্যাক্ষা অন্ধভাবে ফল করবো না। সে যত বড় আলেম ই হোক। আমি আল্লাহ পাকে এবং তার রাসূলের সাথেই আছি, এবং থাকব। আমার আর কারো দরকার নেই। সবাই ভাল থাকবেন। আল্লাহ পাক আপনাদের ভাল রাখবেন আমিন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৮২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১১ টি মন্তব্য

  1. আস সালামু আলাইকুম ভাই ফুয়াদ!

    আপনার সাথে আমার “ব্লগীয়” পরিচয় অনেক দিনের। আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন আমি সাধারণত আপনাদের ব্লগীয় বিতর্কে অংশ নেই না। আপনাদের বলতে, আপনি, জ্ঞান পিপাসু বা অন্যান্যরা যে রকম সব বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে আসেন – যেমন ধরুন রজমের যে বিতর্কটা হলো কিছুদিন আগে। যারা এসবে অংশগ্রহণ করেছেন – তাদের প্রায় কারোরই এসব নিয়ে কথা বলার কোন যোগ্যতা নেই। এই “ইসলাম ইসলাম” খেলাটা খুব ভয়ঙ্কর। আমি অনেক বার বলতে চেয়েছি যে, আমাদের সবার একদম বেসিক থেকে দ্বীন শিক্ষা করা উচিত – না হলে আমরা কেবল “ব্লগীয় প্যাঁচাল” পাড়বো আর confused হতেই থাকবো। আমি শুধু শুরুতে “ফারুক” নিককে ব্যান্ড করার ব্যাপারে খুব শক্ত ভূমিকা রাখি – ঈমানী দায়িত্ব হিসাবে – কারণ ইসলাম “মুক্তাঙ্গনের” বিষয়বস্তু নয়। এছাড়া আমার দু’টো পোস্টে আমাকে বাধ্য হয়ে কিছু বাক-বিতন্ডা করতে হয়, কারণ কেউ কেউ আমার কিছু বক্তব্যে গায়ে পড়ে নিজেদের উপর টেনে নেন।

    আপনাকে আমি একধরনের পছন্দ করি – কিন্তু ইসলাম সম্বন্ধে আপনার প্রচুর ভ্রান্ত ধারণা আছে – আমি সেগুলো সরাসরি পয়েন্ট আউট করতে চাইনি। দোয়া করেছি এবং চেয়েছি যে, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র – আমি যদি আপনাকে বলি যে, “আমার মনে হয় তাপশক্তি কম তাপমাত্রার বস্তু থেকে, বেশী তাপমাত্রার বস্তুতে প্রবাহিত হয়” – আপনার হয়তো আমাকে কষে একটা চড় মারতে ইচ্ছা করবে, “আমার মনে হয়” দিয়ে আমি তো কিছু বলতে পারিনা – আমাকে অবশ্যই বিজ্ঞানের জ্ঞানের ভিত্তিতে কথা বলতে হবে! অথচ, ইসলামের বেলায়, “আমি মনে করি”, “আমার মতে”, “আমার ধারণা” ইত্যাদি বলে আমরা কত সিরিয়াস ব্যাপারে – এমন কি “ইতিক্বাদি” বিষয়ে মতামত দিয়ে যাচ্ছি। এখান থেকেই সমস্যার উৎপত্তি – জ্ঞান-পিপাসু যেমন খুব ভয়ঙ্কর “ইসলাম ইসলাম” খেলায় মেতে উঠেছিলেন! সেজন্যই আমার একটা পোস্টে আমি লিখেছি:

    “ইসলাম” এমনই অভাগা কোন বিষয়-
    যা নিয়ে কথা বলতে কোন জ্ঞান লাগেনা।
    বেশ্যার দালাল থেকে বলিউডের নায়ক -
    রাজনৈতিক নেতা কিংবা কোন গায়ক;
    আউল বাউল কোন ফাউল চরিত্র -
    যে কেউ ইসলাম নিয়ে কথা বলে, ফোড়ন কাটে।
    ইসলাম যেন আজ গরীবের বৌ -
    সকলের ভাবী, সবার মন্তব্যের জন্য উন্মুক্ত!

    এই ব্লগে “মুসলিম৫৫” বেসিক দ্বীন শিক্ষার একটা কষ্টসাধ্য পর্যায়ক্রমিক আর্কাইভ গড়ে তুলেছেন – কিন্তু আপনি দেখুন কোনটা ১০ বার পড়া হয়েছে, কোনটা ১৫ বার – অথচ ইসলামে প্রেম করা যাবে কি না বা রজম ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে বিতর্কে হয়তো ১০০ টা মন্তব্যই রয়েছে। ব্যাপারটা “ঘোড়ার আগে গাড়ী” হয়ে গেলো না? আমরা কি বিতর্কে জিততে ব্লগে আসি?

    যাহোক আপনি পড়াশোনা করুন এবং আল্লাহর কাছে দিক-নির্দেশনা প্রার্থনা করুন – ইনশা’আল্লাহ্, আপনি বিশ্বস্ততার সাথে দ্বীন শিখতে চাইলে আল্লাহ্ আপনাকে পথ দেখাবেন । আপনি তো বাইরে থাকেন – তবু পাঠ্য বিষয়াদি কিভাবে বা কোথায় খোঁজ করবেন সে ব্যাপারে হয়তো আমি আপনাকে কিছু সাহায্য করতে পারবো – প্রয়োজনে ই-মেইল করবেন।

    আল্লাহ্ হাফিজ!

    ফুয়াদ

    @মেরিনার,

    আসালামুয়ালাইকুম,

    আমি আপনার কথা অর্থ কিছুটা বুঝতে পেরেছি, আমি জাস্ট অপেক্ষা করব, এখন আর ঐ বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সহজে লিখব না, পড়তেও যাব না। সব বিষয় তো আর আমার দায়িত্বের মধ্যে পরে না। বিজ্ঞান টা বুঝি, ঐ বিষয় নিয়েয় থাকব। আর আপনাদের লেখায় ভাল লাগলে মন্তব্য করব। আর অন্য বিষয় গুলি আপাত বাদ।

    ফুয়াদ

    @মেরিনার,

    আপনাকে ধন্যবাদ। দরকার হলে ইমেইল দিব, আপনার ইমেইল আমার কাছে আছে।

  2. আল্লাহ আমাদের কোরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান ও তা মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।

    ফুয়াদ

    @মালেক_০০১,
    ধন্যবাদ।

  3. আসসালামু আলাইকুম ভাই,
    ভাই ধৈর্য্য ধরেন। আমরা সবাই কত জনেই তো কত কত বই-ই তো পড়ি কিন্তু সঠিক বুঝ কি সবাই পায়? দেখা গেল পড়তে পড়তে মাওলানা, আল্লামা পর্যন্ত টাইটেল পেয়ে গেল কিন্তু তবুও সঠিক বুঝ তার মাঝে আসে নি! কেন জানেন? কারণ, সবাই নিজের পড়ার উপর নির্ভর করে! আমি এত এত পড়েছি, অমুক অমুক বই পড়ে শেষ করে ফেলেছি, অমুকের তমুক ব্যাখ্যা পড়েছি…..। আমি বই পড়াকে নিরুৎসাহিত করছি না তবে হিদায়াতের মালিক আল্লাহ, সঠিক পথ দেখানোর মালিক আল্লাহ, সহীহ বুঝ দেওয়ার মালিক আল্লাহ তাই সব সময়ই আল্লাহর নিকট দোয়া করতে হয়,
    হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক বুঝ দান কর। আমাকে বিভ্রান্তকারীদের হাত থেকে রক্ষা কর। আমাকে সহীহ ইলম ও হিকমা দান কর। আমাকে পথভ্রষ্টদের দলে শামিল করে দিও না। আমাকে তোমার কৃতজ্ঞ ও পূর্ণ আনুগত্যশীল বান্দাহদের দলে শামিল কর।

    ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, এতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন,পরিবর্ধন বা কোন কিছু বাদ দেওয়ার নেই। ইসলাম ইহুদী ও খ্রিস্টানদের মতো নয় যেখানে প্রায় প্রতিদিনই তাদের ধর্মে কোন না কোন পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের যেভাবে ইসলাম শিখিয়েছেন, সাহাবীরা যেভাবে বুঝেছে ঠিক সেইভাবেই বুঝতে হবে অন্য কোন ভাবে বুঝলে হবে না চাই তা যতই ভাল হোক বা কোটি কোটি লোক সেই মত সমর্থন করুক না কেন।
    কাজেই ইসলামের আকীদা, কোন আইন, কোন নিয়ম প্রথম জেনারেশন* তাদের থেকে দ্বিতীয় জেনারেশন* তাদের থেকে তৃতীয় জেনারেশন* যেভাবে আমাদের নিকট পৌছে দিয়েছেন সেটাই ইসলাম।

    *প্রথম জেনারেশন= যে জেনারেশনে আল্লাহর রাসূল এবং সাহাবীরা ছিলেন
    *দ্বিতীয় জেনারেশন= তাবেয়ী
    *তৃতীয় জেনারেশন= তাবে-তাবেয়ী

    http://www.peaceinislam.com/manwithamission/5333/

    ফুয়াদ

    @manwithamission,

    ধন্যবাদ,
    তাদের সাথেই আছি। (F)
    এখন আর বেশী চিন্তা করব না। আস্তে আস্তে সব চলুক। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এটাই সত্য।

    আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।

  4. ইসলাম নিয়ে কথা বলা বলে এই ব্লগে প্রকাশিত আমার একটা পোস্টের একাংশ তুলে দিচ্ছি আপনার অবগতির জন্য:


    …….কিন্তু আমরা বিশ্বাসীরা যখন ইসলাম নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা কি ভেবে দেখি যে, আমরা যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলছি সেটা সম্বন্ধে আমরা আসলেই কোন জ্ঞান অর্জন করেছি কিনা? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও, অন্তত methodologically বা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে, অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে, আমরা কি কখনো আমাদের দ্বীন শিক্ষা করেছি কি না?? না করে থাকলে, আমরা কিসের ভিত্তিতে ইসলাম নিয়ে কথা বলছি বা মত প্রকাশ করছি??? আগেও বলেছি এবং আবারো আপনাদের এবং নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, অনুমানবশত আল্লাহ্ তথা তাঁর দ্বীন নিয়ে কথা বলা মু’মিন বা মুসলিমদের জন্য মহা পাপ। দেখুন কুর’আনে আল্লাহ্ কি বলছেন:

    Say: The things that my Lord hath indeed forbidden are: shameful deeds, whether open or secret; sins and trespasses against truth or reason; assigning of partners to Allah, for which He hath given no authority; and saying things about Allah of which ye have no knowledge. (Qur’an, 7:33)
    বল, আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ – যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের শরীক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না। (কুর’আন, ৭:৩৩)

    লক্ষ্য করুন, পর্যায়ক্রিমকভাবে আল্লাহ্ এই পাপকে শিরকেরও উপর স্থান দিয়েছেন – কারণ এই পাপ হচ্ছে অগণিত পাপের উৎস।

    সবশেষে, ইসলামী স্কলার মহলে “দ্বীন-শিক্ষা” সম্বন্ধীয় একটা প্রবাদ বাক্য রয়েছে: Aqeedah comes first – “সবকিছুর আগে বিশ্বাস”! সেজন্যই ইসলাম নিয়ে লিখতে গিয়ে সবার আগে, “আমরা কি বিশ্বাস করবো?” – সেই আলোচনাটাই চলে আসে।

    আমাদের সকল সমস্যার মূলে রয়েছে “জ্ঞানের অভাব” – নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পড়াশোনা করুন – ইনশা’আল্লাহ্ ভালো বোধ করবেন। শয়তান আপনাকে/আমাকে নিরাশ করতে চায় – তাকে জয়ী হতে দেবেন না। তবে কার বই পড়বেন সে ব্যাপারে আপনার একটা choice থাকবে। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি। আমরা যখন বড় হচ্ছি তখন “বেহেশতী জেওর” আমাদের পরিবারে একটা code book-এর মত ছিল। যে কোন কিছু জানার প্রয়োজন হলে, প্রথমেই ঐ বইটার শরণাপন্ন হতাম আমরা। ঐ বইয়ে দেখবেন ফজরের নামাযের আগে পড়ার জন্য নামাযের নিয়ত দেয়া আছে: “নাওয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া……”। একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে, এই নিয়ত লেখক কোথায় পেলেন তার কোন সূত্র বা দলিল নেই। এখন আরেকটা বইয়ের প্রসঙ্গে আসি – নাসিরুদ্দিন আলবানীর “সালাতুন নাবী” বা বাংলায় যেটা “রাসূলুল্লাহর নামায” নামে পাওয়া যায় – ঐ বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় দেখবেন একটা কুর’আনের আয়াত ও একটা হাদীস রেফরেন্স হিসাবে এসেছে। এর পরে গোটা বইতে দেখবেন কোন একটা মাসালা দলিল ছাড়া উল্লেখ করা নেই। একজন স্বল্প মেধার মুসলিমেরও এই লাইনে চিন্তা করে বুঝতে পারা উচিত যে, আল্লাহর দ্বীন শেখার জন্য যে কোন দুইটি বই বা সূত্রের ভিতর তার কোনটা বেছে নেয়া উচিত।
    একটু কষ্ট তো করতেই হবে। আমার বাড়ী সিলেট। সিলেটিরা দ্বীন-ধর্মের ব্যাপারে সিরিয়াস – ছোট বেলায় এই বোধ থেকে একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুলতাম। বড় হয়ে বুঝেছি – সিলেটের ধর্ম-কর্ম আকন্ঠ শিরক ও কুফরে নিমজ্জিত। সেখান থেকে আজকের এই জায়গায় আসতে অনেক কঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে আমাদেরও।

    শেষ কথা: ওয়ামা তৌফিক্বী ইল্লা বিল্লআহ্!

    ফুয়াদ

    @মুসলিম৫৫,

    আসালামুয়ালাইকুম,

    বুঝতে পেরেছি। কিন্তু সব বিষয় না পড়লে সঠিক টি কিভাবে চিনব? রেফারেন্স ছাড়া বক্তব্য গুলি তেমন গ্রহন যোগ্য নয়। তাই, সাবধানেই চলতে হবে।

    আমি ধৈর্য ধরাকেই , ভাল দেখতেছি। তাই এতেই আছি। আপনাকে অবশ্যই ধন্যবাদ।

  5. আসসালামু অলাইকুম,
    আমি আপনাদের ব্লগের নতুন সাথী, সবসময় বসতে পারি না মাঝে মাঝে বসি, চেষ্টা করি সঠিক তথ্য সংগ্রহের, বোঝার এবং আমল করার কিন্তু মাঝে মাঝে কেউ কেউ মনগড়া উক্তি লিখে থাকেন , আপনারা যারা ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ের উপর লিখে থাকেন তাদের কাছে অনুরোধ ইসলাম ধর্ম ভিত্তিক কোন পোষ্ট লিখলে অবশ্যই কুরআন এবং হাদিসের দলিলসহ লিখবেন তাহলে আমার মতো সাধারন মানুষের কোন বিষয়ে সন্দিহান হতে হবে না। ধন্যবাদ

  6. ব্যক্তিগত ভাবে একথা বলতে পারি যে, পিস ইন ইসলামে আসার পর থেকে, আলহামদুলিল্লাহ অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। অনেক ভুল ধারণা ভেঙ্গেছে। একথা বলবোনা যে, শুধু দেওবন্দী, সালাফী, তাবলীগি ইত্যাদি ভাবধারার ব্লগারের কাছ থেকে শিখেছি। আলহামদুলিল্লাহ সবার কাছ থেকেই কিছু না কিছু পেয়েছি। যা কিছু আগে থেকেই জানতাম, বারবার আলোচনা করার কারণে সেগুলো অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছে। ফারুক-তুষার নিকের কাছ থেকেও যথেষ্ট শিখেছি। শিখেছি কাদের কাছ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এসব দিক থেকে চিন্তা করলে বাংলা ব্লগ থেকে আমার অর্জন অনেক।

    হাতের কাছে এহইয়াউ উলুমুদ্দীন পেলাম, তাই সেখান থেকে কিছু অংশ তুলে দিচ্ছিঃ
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহকে চেন এবং পরস্পর একে অপরকে বিবেকের উপদেশ দাও। এতে সিদ্ধ ও নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ জানতে পারবে। জেনে রাখ, বিবেক তোমাদেরকে তোমাদের পরওয়ারদেগারের কাছে মাহাত্ম্য দান করবে। জেনে রাখ, সে-ই বিবেকবান যে আল্লাহর আনুগত্য করে, যদিও সে দেখতে কুশ্রী, মান্যতায় নিকৃষ্ট এবং মর্যাদায় কম হয়। আর জাহেল সে ব্যক্তি, যে আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী করে। তার মূকর ও বানর অধিক বিবেকবান। দুনিয়াদার তোমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তুমি বিভ্রান্ত হয়ো না, তা হলে ক্ষতিগ্রস্হদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তিনি বলেনঃ সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালা বিবেক সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বলেছেন- সামনে এস। সে সামনে এলে বললেনঃ পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর। সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল। এরপর আল্লাহ তায়ালা বললেনঃ আমার ইযযত ও মাহাত্ম্যের কসম, আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোন কিছু সৃষ্টি করিনি। আমার তোমার মাধ্যমেই সম্মান ছিনিয়ে নেব, তোমার মাধ্যমেই সম্মান দেব, তোমার কারণেই সওয়াব দেব এবং তোমার কারণেই শাস্তি দেব।

    হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণনা করেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মুখে জনৈক ব্যক্তির অতিরঞ্জিত প্রশংসা হলে তিনি বললেনঃ লোকটির বিবেক কেমন? লোকেরা বললঃ আমরা এবাদত ও বিভিন্ন প্রকার সৎকর্মের ব্যাপারে তার অধ্যবসায়ের কথা আপনার কাছে উল্লেখ করছি, আর আপনি তার বিবেকের অবস্হা জানতে চাইছেন, এটা কেন? তিনি বললেনঃ বিবেকহীন ব্যক্তি মূর্খতার কারণে পাপাচারীর চেয়ে বেশী পাপ করে ফেলে। আসন্ন কেয়ামতে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্যশীল হওয়ার স্তর বিবেক অনুযায়ী উচ্চতর হবে।

    হযরত ওমর রাঃ এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মানুষের উপার্জের মধ্যে বিবেক বুদ্ধির সমান কোন কিছু নেই। বিবেক-বুদ্ধি মানুষকে হেদায়াতের দিকে পথ প্রদর্শন করে এবং ধ্বংসের কবল থেকে বাঁচিয়ে রাখে। মানুষের বিবেক পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ঈমান পূর্ণ হয় না এবং দ্বীন সঠিক হয় না।

    হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক বস্তুর একটি ভরসা আছে। ঈমানদারের ভরসা হল বিবেক। অতএব তার এবাদত তার বিবেক অনুযায়ীই হবে। তুমি কি শুননি, দোযখে কাফেররা বলবে- “যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক খাটাতাম তবে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।”

    ইবনে আযেব রাঃ বর্ণনা করেন- একদিন লোকেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অত্যাধিক প্রশ্ন করলে তিনি বললেনঃ লোকসকল, প্রত্যেক বস্তুর একটি বাহন আছে, মানুষের বাহন হচ্ছে বিবেক।

    বিবেকের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সেখানে আরো অনেকগুলো উদৃতি দেয়া আছে।

    আল্লাহ তায়ালা পরম করুনাময়, তিনি কখনো চাইবেননা যে গোলকধাঁধায় পড়ে আমরা আমাদের ঈমান হারিয়ে ফেলি। তিনি আমাদের উপর এমন কোন সমস্যা চাপিয়ে দেন না যার সমাধান আমাদের সাধ্যের বাহিরে। এপ্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কোরানে কারীমে বলেনঃ
    আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর। (286)

    সাধ্যমতো বিবেকের পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত আমাদের। নিয়ত ঠিক থাকলে আল্লাহ পাক অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন। শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা যেন নফসের প্রবৃত্তির অনুসারী না হয়ে পড়ি। এপ্রসঙ্গে একটি উদাহরণ পেশ করিঃ
    দাঁড়ি প্রসঙ্গে সেই ছোট থাকতেই অনেক তর্ক-বিতর্ক শুনে এসেছি। জামাত-শিবিরের মতে দাঁড়ি এমন ভাবে রাখলেই চলবে যাতে ৪০গজ দুর থেকে দেখে বোঝা য়ায়। হুজুরদের কাছ থেকে শুনেছি দাড়ি রাখা ওয়াজীব এবং তা এক মুষ্ঠি হতে হবে। ড.জাকির নায়েক এর মতে দাঁড়ি রাখা ফরজ। এভাবে অনেকের অনেক মত শুনেছিলাম। এখন প্রশ্ন হলো আমি কার কথা মানবো? যারা এসব পেশ করে থাকেন তারা সকলেই আলেম এবং আমার চাইতে প্রচুর জানেন। তাদের প্রত্যেকেরই শক্ত দলিল রয়েছে। এখন কেউ যদি এভাবে চিন্তা করেন যে, ওমুক আলেমের কথা শুনলে আমার কষ্ট কমে যাবে বা দাঁড়ি রাখতে হবে না ইত্যাদি, তখনই এটা হবে নফসের অনুসরণ। নিজের বিবেকের ব্যবহার যদি না করি তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই আমাদের পাকড়াও করবেন।

    আল্লাহ পাক আমাদের সরল সঠিক পথের দিশা দান করুন। আমিন।