লগইন রেজিস্ট্রেশন

আর না লেখে পারলাম না

লিখেছেন: ' রাতদিন' @ মঙ্গলবার, মে ৪, ২০১০ (১০:৪১ অপরাহ্ণ)

আগে একটি বিষয় লিখে ছিলাম হঠাত ভাইরাসে ধরে লেখা সব আজগুবি হয়ে গেল। কেউ পড়তে পারল না (ঐ লেখাতে অনেক অনেক বিষয় ছিল)। আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন।

যারা কথায় কথায় যারে তারে কাফির ফতোয়া দিতে চান, (পি এইচ ডি গবেষণায় আরবের ১০০শত বিশেষজ্ঞ কে কাফির ফতোয়া দেওয়া এমন সাব্জেক্ট ও কেউ একজন নিয়েছে)

তাদের সাথে কিছু কথা বলি, আসুন।
“তাদের অধিকাংশই ঈমানের দাবী করা সত্ত্বেও মুশরিক” (সুরা ইউসুফ-১০৬) মনপবন সাহেবের অনুবাদ।

অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে (সুরা ইউসুফ আয়াত ১০৬) অওয়ার হলি কুরান সাইটের অনুবাদ, সম্ভবত মওলানা মহুউদ্দিন খানের অনুবাদ।

চলুন বাংলা অনুবাদ তো দেখা হল, এবার ইংলিশে যাই, কাহিনি ব্যাতীক্রম পাবেন।

012.106
YUSUFALI: And most of them believe not in Allah without associating (other as partners) with Him!
PICKTHAL: And most of them believe not in Allah except that they attribute partners (unto Him).
SHAKIR: And most of them do not believe in Allah without associating others (with Him).

কি বুঝলেন ভাই? ইংলিশ অনুবাদ গুলি লক্ষ্য করুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন আসলে মুশরিকদের বলা হয়েছে।

ইংলিশ অনুবাদ থেকে যা আসে, তাদের বেশীর ভাগই বিশ্বাস করে না আল্লাহ কে, তার সাথে কাউকে শরিক না করে।

এখন কি বুঝতে পেরেছেন, বুঝার চেষ্টা করুন।

ক্লিয়ার পয়েন্টঃ প্রকৃত মুশরিক দের বলা হয়েছে। এখানে মুসলিমদের কই বলা হল?

পয়েন্ট ক্লিয়ার না হলে নিচে আসুন।

তারা কি নির্ভীক হয়ে গেছে এ বিষয়ে যে, আল্লাহর আযাবের কোন বিপদ তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে অথবা তাদের কাছে হঠাৎ কেয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা টেরও পাবে না?
বলে দিনঃ এই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে বুঝে সুঝে দাওয়াত দেই আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই। {একই সূরার আয়াত, ১০৭-১০৮}

রাসূল সঃ এর অনুষারীদের সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলা হয়েছে। মানে সহজ উপরের আয়াতে মুশরিক(যেমনঃ আরবের মুশরিক) দের বলা হয়েছে। এটা মুসলমানদের উপর কিভাবে প্রয়োগ করা যায়।

যুক্তিদিয়ে কাফির ফতোয়া দেওয়া,
কোন সাহাবী কি যুক্তি দিয়ে কাউকে কাফির ফতোয়া দিয়েছেন? আমি একদম ক্লিয়ার জানতে চাই।

আবার ভূল করে ভাবিয়েন না, যে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রঃ এর বিরুদ্ধী। প্রকৃত পক্ষে আমি উনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি।

মুসলমানদের অবস্থা, এই ব্লগে যা দেখলেন, তা পুরো মুসলিম দুনিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই হচ্ছে আসল অবস্থা। নিজেরা নিজেরা মাইর, যদি বাস্তবে ডাইরেক্ট হত, তাহলে সত্য সত্য ই মনে হয় মারা মারি হয়ে যেত। আমি এ ব্যাপারে আগেই বলেছিলাম।

আল্লাহ পাকের ফতোয়া, সূরা বাকারা,
এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য
যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে
এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।
তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।

এখানে সব বলা হয়ে গেছে।
যুক্তি দিয়ে কাউকে কাফির ফতোয়া দিবার কি কোন অপশন এখানে রাখা হয়েছে? ক্লিয়ার আল কুরান থেকে জবাব দিতে হবে। কেউ যদি এ রূপ বলে আমি আল কুরান বিশ্বাস করি না, তাহলে তাকে কাফির ফতোয়া দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু, কেউ যদি কোন আয়াতের মানে আপনার মত ধরে না নেয়, কিন্তু আল কুরান কে বিশ্বাস করে, তাহলে যুক্তি দিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে,কাফির প্রমান করা যায় নাকি? এর অনুমতি কি আছে?

১ কোন বিষয় কুফরি মনে হলে, বলবেন তা কুফরি কিন্তু ওই মুসলিম কে কাফির বলবেন না।
২ কোন বিষয় শিরক মনে হলে বলবেন তা শিরক হতে পারে, সাবধান করে দিবেন, কাউকে মুশরিক বলবেন না।
৩ কাউরো কোন কাজ কে শিরক প্রমান করতে যেয়ে এমন আয়াত কোট করে ইন্ডাইরক্টলি তাকে মুশরিক ইংগিত করবেন না, এটাই ভয়ংকর খারাপ। এতেই মারা মারি লাগে।
৪ ধৈর্য ধরতে শিখুন। সবাই, মাহজাবী, সালাফি, কুরান আনলি, কুরান নট আনলি।
৫ সবাই সবাই কে বুঝতে চেষ্টা করুন। নিজেদের মধ্যে অজানা কে শেয়ার করুন।

বুঝুন দেশে ইসলামি আইন হলে কি পরিনতি হবে, একজন আরেক জনের কল্লা ফালানোর ব্যাবস্থা হবে নাকি? এ কাফির তো ও কাফির। হায় আল্লাহ পাক।
সবশেষে আল্লাহ পাকই সব থেকে ভাল জানেন।

It is an illusion when we think that all the world is against us, and [an] illusion when we think that there will not be any existence for us without the perishing of the others. It is illusion when we have either to get the best for ourselves or we have to die. According to this logic either we possess all the rain or let the rain to be stopped if we were thirsty. It is also an illusion if we think that the past is the route to the future and it is illusion if we think that the world without us will not be able to survive; for this reason they compete against each other to exploit us like hyenas struggling for their prey. The greater illusion is that we are God’s angels on His land and all the rest of the world are devils.

-Turki al-Hamad (একজন সৌদি যিনি নিজেই কাফির ফতোয়া খাইছেন, পরে অবশ্য-ই একটি কাফির ফতোয়া(২০০৩ তে Sheikh Ali Al-Khudair,) তুলে নেওয়া হয়েছে। লেখা বার্তা মধ্যে একটি লেখা সংদ্ধেহজনক,) উপরের লেখা ভাল লাগল দিলাম।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৭৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

৪ টি মন্তব্য

  1. ১ কোন বিষয় কুফরি মনে হলে, বলবেন তা কুফরি কিন্তু ওই মুসলিম কে কাফির বলবেন না।
    ২ কোন বিষয় শিরক মনে হলে বলবেন তা শিরক হতে পারে, সাবধান করে দিবেন, কাউকে মুশরিক বলবেন না।
    ৩ কাউরো কোন কাজ কে শিরক প্রমান করতে যেয়ে এমন আয়াত কোট করে ইন্ডাইরক্টলি তাকে মুশরিক ইংগিত করবেন না, এটাই ভয়ংকর খারাপ। এতেই মারা মারি লাগে।
    ৪ ধৈর্য ধরতে শিখুন। সবাই, মাহজাবী, সালাফি, কুরান আনলি, কুরান নট আনলি।
    ৫ সবাই সবাই কে বুঝতে চেষ্টা করুন। নিজেদের মধ্যে অজানা কে শেয়ার করুন।

    সহমত!

  2. আস-সালামু আলাইকুম, ফুয়াদ ভাই আমি ভাবানুবাদ করেছি, আরবির শাব্দিক অনুবাদ করিনি। তবে আমি এটা স্বীকার করে নিচ্ছি যে আমার অনুবাদটা ““তাদের অধিকাংশই ঈমানের দাবী করা সত্ত্বেও মুশরিক” এমন না হয়ে ““তাদের অধিকাংশই ঈমান আনা সত্ত্বেও শিরক করে ” – এমন হলে ভাল হত।

    তবে মূল বক্তব্য কিন্তু একই, ইংলিশে কাহিনি অন্য না, আপনি সরাসরি আরবি বুঝলে খুব ভাল হত, তারপরেও চেষ্টা করে দেখি বোঝানো যায় কিনা –
    وَمَا يُؤۡمِنُ أَڪۡثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشۡرِكُونَ

    এখানে مَا negative particle যা إِلَّا restriction particle এর উপর নির্ভর করে।
    এর শাব্দিক অনুবাদ আসবে – অধিকাংশ মানুষ শিরক করা ব্যতিরেকে আল্লাহকে বিশ্বাস করেনা।
    এরকম বাকরীতি ক্বুরানে আরো এসেছে –
    وَمَا يَذۡكُرُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ‌ۚ
    But none will keep it in remembrance except as Allah wills
    ইংরেজিতে যদি আমি বলি I am nothing except a weak person.
    তাহলে এর মানে দাঁড়াবে -আমি একজন দুর্বল মানুষ ছাড়া আর কিছুই নই।
    এটা অনেকটা সেরকম যেমন দুটো ঋণাত্মক একটা ধনাত্মক অর্থ দেয়। যেমন “যদি সে না আসে তবে আমি যাবনা” এ কথাকে এভাবেও বলা যায় “যদি সে আসে তবে আমি যাব”
    “অধিকাংশ মানুষ শিরক করা ব্যতিরেকে আল্লাহকে বিশ্বাস করেনা” – একথাকে এভাবেও বলা যায় “অধিকাংশ মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করেও শিরক করে”

    আপনি যে অর্থ দাড়া করিয়েছেন তা ঠিক হত যদি إِلَّا ব্যবহ্রত না হয়ে وَ ব্যবহ্রত হত। সেক্ষেত্রে ইংরেজি অর্থ আসত And most of them believe not in Allah and associating (other as partners) with Him!
    আমি আপনার জন্য আরো কয়েকটা ইংরেজি অনুবাদ দিয়ে দিলাম। বাংলা ক্বুরান হাতের কাছে নেই, থাকলে কয়েকটি অনুবাদ দিয়ে দিতাম।

    Sahih International: And most of them believe not in Allah except while they associate others with Him.
    Pickthall: And most of them believe not in Allah except that they attribute partners (unto Him).
    Yusuf Ali: And most of them believe not in Allah without associating (other as partners) with Him!
    Shakir: And most of them do not believe in Allah without associating others (with Him).
    Muhammad Sarwar: Most of them do not believe in God; they are but pagans.
    Mohsin Khan: And most of them believe not in Allah except that they attribute partners unto Him [i.e. they are Mushrikun -polytheists - see Verse 6: 121].
    Arberry: And the most part of them believe not in God, but they associate other gods with Him.

    ফুয়াদ

    @মনপবন,

    মেন ওইথ মিশন’ ভাই আমাকে মেইল করেছেন এই ব্যাপারে। আপনার কষ্টের জন্য ধন্যবাদ। তবে এই ব্যাপারে আমার কোন সিদ্ধান্ত নেই। আপাত নিরোপেক্ষ অবস্থানে যেতে হইতেছে।

  3. আল্লাহ বনি -ইস্রাইলদের বলেছিলেন –
    Then do you believe in a part of the Scripture and reject the rest? Then what is the recompense of those who do so among you, except disgrace in the life of this world, and on the Day of Resurrection they shall be consigned to the most grievous torment. And Allâh is not unaware of what you do. (2:85)
    আমরা কাদিয়ানিদের মুসলিম মনে করিনা কারণ তারা ক্বুরান-হাদিস মানার পরেও মুহাম্মাদ (সাঃ) যে শেষ রসুল তা মনে করেননা। তারা ক্বুরানের ‘খাতাম’ শব্দটির অর্থ শেষ স্বীকার করেননা। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ বিশ্বাস করে কুর’আনের প্রতিটি অংশই সত্য, এতে কোন মিথ্যা নেই। যে এর একটি অংশকে অস্বীকার করল সে পুরোটাকেই অস্বীকার করল। কেউ যদি ভুল ব্যখ্যায় পড়ে যায় তার জন্য কখনোই আমরা তাকে কাফির বলিনা, আল্লাহ তার অন্তঃকরণ দেখে তাকে শাস্তি দেবেন অথবা ক্ষমা করবেন। কিন্তু তার মানে এই না যে যা ভুল তা ঠিক হয়ে যাবে।