লগইন রেজিস্ট্রেশন

ড: তাহির উল কাদরির কিছু প্রশ্নবিদ্ধ কার্যধারা

লিখেছেন: ' হাফিজ' @ বুধবার, মে ৮, ২০১৯ (৫:৪২ পূর্বাহ্ণ)

ড: তাহির-উল-কাদরী একজন পাকিস্তানী-কানাডিয়ান রাজনীতিবিদ এবং ইসলামিক স্কলার। তিনি মিনহাজ-উল-কোরান ইন্টারন্যাশনাল এর একজন প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামি তাহরিক এর প্রতিষ্ঠাতা । তিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে অগণিত লেকচার দিয়েছেন এবং সারা পৃথিবীতে তার অসংখ ভক্ত/মুরিদ রয়েছে। ড: তাহির-উল-কাদরীর কিছু বিষয় স্পষ্টত শরীয়ত বিরোধী যেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

১। ড: তাহির-উল-কাদরী বাদ্যযন্ত্র/গান বাজনা কে জায়েজ মনে করেন যেটা স্পষ্টত শরিয়তবিরোধী:

ড: তাহির-উল-কাদরীর প্রতিষ্ঠান মিনহাজ উল কোরান এ music/গানবাজনা বিষয়ে যা উল্লেখ আছে সংক্ষেপে হলো:

In the light of Quranic injunctions and the sayings of the Holy Prophet (saw), it is amply clear that singing good songs, reciting healthy poetry, playing musical instruments and beating drums on the occasions of marriage and rejoicings over happy festivals do not contravene the Islamic injunctions and this has been the Sunnah of the Holy Prophet (saw) and the practice of the Companions all along.
অনুবাদ: “কোরানের ভাষ্য এবং রাসূলুল্লাহ (সা) এর হাদিস অনুযায়ী ইহা পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় ভালো গান, কবিতা, বাদ্যযন্ত্র এবং ড্রাম বাজানো বিয়ের সময় এবং বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তদুপুরি এটা সুন্নাহ এবং সাহাবীদের আমল ছিল। ” দেখুন:

https://www.minhaj.org/english/tid/11459/Music-in-Islam.html
https://www.youtube.com/watch?v=hMiM6OEoni0
অথচ উপরোক্ত বিষয় সম্পূর্ণ কোরান, হাদিস এবং এযাবৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আলেমদের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। এ সংক্রান্ত দলিল নিম্নে উল্লেখ করা হল:
হাদীসের দলীল:
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন , আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পাল্টিয়ে তা পান করবে এবং বাদ্যযন্ত্র সহকারে গান করবে । আল্লাহ তাআলা তাদের ভুগর্ভে বিলীন করে দিবেন এবং কতকের আকৃতি বিকৃত করে বানর ও শুকরে পরিনত করে দিবেন ।
[ সুনানে ইবনে মাজাহ , সহীহ ইবনে হিব্বান , জামিহ আল কাবির বুখারী কৃত , সুনানে বায়হাকী , মুসান্নাফে ইবনে শায়বা , আল মুজাম তাবরানী কৃত , বগভী সহ আরো অনেক ]
সাহাবীদের থেকে দলীল:
হযরত নাফে(রহ:) বলেন , একবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) রাস্তা দিয়ে চলার সময় বাশীর আওয়াজ শুনে কানে আংগুল ঢুকিয়ে দেন এবং বার বার আমাকে জিজ্ঞেস করেন হে নাফে এখনও আওয়াজ শোনা যায় ? আমি বললাম জ্বী এখনও শোনা যায় । কিছু দুর যাওয়ার পর আর শোনা যাচ্ছে না বলাতে উনি হাত নামিয়ে নেলেন এবং রাস্তার দিকে ফিরে আসলেন । তারপরে বললেন আমি রসুলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) কে একদা এমন করতে দেখেছি ।

মাজহাবের দলীল

১। ইমাম আবু ইউসুফ , ইমাম মুহাম্মদ , ইমাম শাফী , ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ মত দিয়েছেন যে কেউ যদি কারো বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলে তাহলে সে দায়ী হবে না ( যেহেতু গান বাজনা নিষেধ ) এবং কারো জন্য বাদ্যযন্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েজ নয় । [ উমদাতুল কারী ]

২। ৭৭ জন বিজ্ঞ আলেম গান হারাম হওয়া সম্বন্ধে একমত হয়েছেন । [ ফতোয়ায়ে আজিজিয়া ]

৩। গান সমস্ত মানুষকে কবিরা গোনায় লিপ্ত করে [ বাহরোর রায়েক ]

৪। যাবতীয় প্রকার গান-বাজনা হারাম এমনকি কাঠের ওপর আংগুল দিয়ে আঘাত করে গান গাওয়াও হারাম [ হেদায়া ]

আরো অসংখ দলিল রয়েছে যার দ্বারা প্রমাণিত হয় বাদ্যযন্ত্র সর্বাবস্থায় হারাম এবং এর সাথে সংগীত মিশ্রিত করা হলে সেটাও সর্বাবস্থায় হারাম। বিস্তারিত জানতে হলে দেখুন:
http://www.peaceinislam.com/hafiz/1234/
প্রথমদিকে সাময়িকভাবে রাসূলুল্লাহ (সা) দফ বাজানোর অনুমতি দিয়েছিলেন যেগুলো পরবর্তীতে নিষেধ হয়ে যায়। যে আমলগুলো পরবর্তীতে মনসুখ বা রহিত হয়ে যায় সেগুলোর দলিল উল্লেখ না করে প্রথমদিকে যেগুলোর অনুমতি ছিল সেগুলোর মাধ্যমে জায়েজ প্রমান করা নিতান্তই বিভ্রান্তি। যে কাজটাই তাহিরুল কাদরী এবং তার সমর্থকগণ করেছেন।

এছাড়া তাদের প্রোগ্রাম এ ফান্ড rise করার জন্য কাওয়ালি অনুষ্ঠানের অয়োজন করা হয়ে থাকে। দেখুন:
https://www.facebook.com/minhajulquran/

২। বিধর্মীদের ধর্মীয় প্রোগ্রাম বা মেরি খ্রীষ্টমাস এর আয়োজন করা

খ্রিস্টানদের সাথে সম্মিলিতভাবে মিনহাজ-উল-কোরান এর অফিস-এ মেরি খ্রীষ্টমাস উদযাপন করা, কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালানো, খ্রিস্টানদের সামনে তথা গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে মেয়েদের দিয়ে বক্তব্য দেয়া ইত্যাদি ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কর্মকান্ড যেগুলো ড: তাহির-উল-কাদরী দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। মডারেট মুসলিম বা মানবতা দেখাতে যেয়ে ইসলামকে বিকৃত করার শামিল। দেখুন:
https://www.minhaj.org/english/tid/3204/Merry-Christmas-Program-at-Minhaj-ul-Quran.html?tid=3714

৩। নারী পুরুষ সম্মিলিত ভাবে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা এবং বেপর্দা নারীদের সেই সকল ছবি ফেইসবুক এ পোস্ট করা।

মিনহাজ-উল-কোরান তাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় নারী-পুরুষের ফ্রি মিক্সিং, মেয়েদের দিয়ে ব্যানার বা এড ছাপানো, মেয়েদের ভিডিও ফেইসবুক এ নিত্য প্রকাশ করা, সম্মিলিতভাবে বেপর্দার সাথে বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করা ইত্যাদি করে থাকে যার সবগুলোই স্পষ্টত পর্দার লঙ্ঘন, যা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
https://www.facebook.com/minhajulquran/
https://www.facebook.com/minhajulquran/photos/a.197966073547267/2444133465597172/?type=3&theater
https://www.facebook.com/MinhajIndia/photos/a.1973865815982709/2201145216588100/?type=3&theater

একজন মুসলিমের জন্য অবশ্যিই কার থেকে দ্বীন শিক্ষা করছেন সেটা জানা এবং তথ্য অনুসন্ধান করা জরুরি। ইমাম ইবনে শিরীন (রহঃ) বলেন – নিশ্চয়ই এই দ্বীনি জ্ঞান তুমি কার থেকে গ্রহণ করছো সে বিষয়ে সাবধান থাকো। (মুসলিম শরীফ)
ইব্রাহিম নাখয়ী (রহঃ) তার যুগের আলেমদের বৈশিষ্ট বলতে যেয়ে বলেন- “যখন তারা কারো থেকে দ্বীনি ইলম গ্রহণ করতেন, তখন তার ব্যবহার, আদব, তার নামাজ এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন। (যখন সেটা মানসম্মত হত ) তখন তার থেকে দ্বীন গ্রহণ করতেন।

তথ্যসূত্র:
১। https://www.minhaj.org/english/tid/11459/Music-in-Islam.html
২। https://www.youtube.com/watch?v=hMiM6OEoni0
৩। https://www.minhaj.org/english/tid/3204/Merry-Christmas-Program-at-Minhaj-ul-Quran.html?tid=3714
৪। http://www.peaceinislam.com/hafiz/1234/
৫। http://askimam.org/public/question_detail/28838

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪১ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)