লগইন রেজিস্ট্রেশন

বেহেশতি জেওর ও “রসুলুল্লাহর নামাজ” বই দুটোর তুলনামুলক আলোচনা

লিখেছেন: ' হাফিজ' @ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৮, ২০১০ (১১:২১ অপরাহ্ণ)

বেহেশতি জেওর ( আশরাফ আলী থানভী রহ:) ও “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) কিতাব দুটির মধ্যে একটি পর্যালোচনা

কারো প্রতি আক্রমন না করে আমি শুধু বই দুটোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করব :

ফিকাহ সংক্রান্ত বই :

দুটো বইকেই আমরা ফিকাহ বা মাসআলার বই বলতে পারি । “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইটি শধুমাত্র নামাজের মাসআলা সংকলন করা হয়েছে । তবে বেহেশতি জেওরে “নামাজ” , “রোজা” , “যাকাত” , অজু” ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সংকলন করা হয়েছে । “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইতে অজু সংক্রান্ত কোনো বিষয় নেই । অর্্থ্যাৎ এই বইটি পড়লে আপনি জানতেই পারবেন না নামাজ পড়ার জন্য অজু করতে হবে কি হবে না ?

লেখকদ্বয়ের গুনাবলী

বেহেশতি জেওর এর লেখক মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ:) একাধারে এলমে হাদিস , এলমে তফসীর , আরবী সাহিত্য , অলংকার শাস্ত্র , দর্শন , আখলাক শাস্ত্রে , উসুলে ফিকাহ , উদ্ভিদ ও প্রানি বিজ্ঞান , ইতিহাস , মানতেক ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন । পক্ষান্তের “রসুলুল্লাহর নামাজ” বই এর লেখক শুধুমাত্র মুহাদ্দিস । মুহাদ্দিস বলা হয় , যাদের হাদিস বিষয়ক পড়াশুনা থাকে । কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তার ফেকাহর মাসআলার জটিল বিষয়গুলো বোঝার ক্ষমতা থাকবে । সুতরাং এটা চিন্তার বিষয় একজন মুহাদ্দিসের “নামাজ” সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে বই লেখার যোগ্যতা কতটুকু ?

শিক্ষা ব্যবস্হা :

আশরাফ আলি থানভী (রহ:) বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে লেখা পড়া করা ছাড়াও বিস্ববিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান “দেওবন্দ” থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে ২২ টি বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করেন । পক্ষান্তের নাসিরুদ্দিন আলবানী কোনো দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইলম অর্জন করেননি , বরং তার পিতা যিনি ছিলেন কাঠমিস্ত্রি তার থেকে শিক্ষা করেন । এবং তার পিতা কোথার থেকে শিক্ষা করেন সে বিষয়ে কিছু জানা নেই । ( দ্রষ্টব্য : “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) বই এর ভূমিকা )

রেফারেন্স :

অনেকে বলে থাকেন বেহেশতি জেওর ( আশরাফ আলী থানভী রহ:) বই -এ হাদিসের রেফারেন্স দেয়া নেই পক্ষান্তরে “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) বই এ সব রেফারেন্স দেয়া আছে।
এখানে একটি বিষয় প্রনিধানযোগ্য , বেহেশতি জেওর লেখা হয়েছিল শুধুমাত্র মহিলাদের মাসআলা মাসাএল বা আমলের নিয়ম কানুন জানাবার জন্য । রেফারেন্স দেবার জন্য নয় । কেননা তাতে সাধারন মুসলমানদের বুঝতে কষ্ট হতো । কিন্তু যারা রেফারেন্স পেতে আগ্রহী তাদের জন্য হযরত আশরাফ আলি থানভী (রহ:) ওনার ভাগিনা হযরত জাফর আহমদ ওসমানি (রহ:) কে সমস্ত মাসআলার হাদিসের রেফারেন্স একটি বই আকারে বের করতে বলেন । এর পরিপ্রেক্ষিতে “ইলাউস সুনান” নামে ৬ খন্ডে বিশাল কিতাব রচনা করা হয় , যেটাতে হানাফী মাজহাবের আমলের সমস্ত হাদিসের রেফারেন্স দেয়া আছে । ( ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ৬ খন্ড অনুবাদ বের হয়েছে )

ভুল-ভ্রান্তি

আজ পর্যন্ত বেহেশতি জেওর এ মাসআলার ভুল আছে এ নিয়ে আলাদা কোনো বই বের হয়নি ( আমার জানা মতে , আপনারা কেউ জেনে থাকলে জানাবেন ) পক্ষান্তরে নাসিরুদ্দিন আলবানীর বই এবং তার হাদিস যাচাই বাছাই এর ভুল ভ্রান্তি নিয়ে আরব বিশ্বে এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক বই বের হচ্ছে । যতই দিন যাচ্ছে ততই এসব বিষয় নিয়ে আরো তথ্য মুসলমানগন জানতে পারবে ।

যে প্রশ্ন-এর উত্তর “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) বই এ নেই :
অনেকে এই বইটিকে বিশুদ্ধ নামাজের একমাত্র বই বলে থাকেন । কিন্তু সমগ্র বই তালাশ করে আমি অনেকগুলো মাসআলার সমাধান পাই নি । ভক্তদের অনুরোধ এই বই এর আলোকে আমাকে নিচের প্রশ্নগুলোর সমাধান দিন:

১) জানাজার নামাজ কখন পড়তে হয় , কেউ মারা গেলে , নাকি কেউ জন্মগ্রহন করলে ?
২) জুমআর নামাজ কখন পড়তে হয় ? সকালে নাকি রাত্রে ?
৩) ফজর , জোহর , মাগরিব , এশা , বিতের কখন পড়তে হয় ?
৪) মাগরিব নামাজের আগে আমি এশা নামাজ পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে কিনা ?
৫) অজু ছাড়া নামাজ হয় কিনা ?
৬) নামাজের মধ্যে অজু চলে গেলে বাকি নামাজ অজু ছাড়া পড়লে হবে কিনা ?
৭) ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার সময় যদি ৩টি সিজদা মিস হয় তাহলে নামাজ হবে কিনা ?
৮) মহিলাদের শরীর নাপাক থাকলে নামাজ পড়তে পারবে কিনা ?
৯) মুসাফির অবস্হায় কিভাবে নামাজ পড়তে হবে ?
১০) সুরাহ ফাতিহা বাংলায় পড়লে হবে কিনা ?

এই বই এর আলোচনা আসলে প্রথমেই বলা হয় , সমস্ত সহীহ হাদিস থেকে রেফারেন্স দিয়ে বিশুদ্ধ নামাজের বই বাংলা ভাষায় মাত্র একটি । যারা এটা বিশ্বাস করেন তাদের কাছে আমার দুটি আর্জি
১) উপরের ১০টি প্রশ্নের উত্তর সেই বই এর থেকে আমাকে জোগাড় করে দিন
২) আর যদি এর উত্তর আপনারা না পান , তাহলে এই বিষয়গুলো আপনারা সমাধান করেন কিভাবে ? যারা মাজহাব মানে তাদের ফেকাহর বই এর থেকে ?

ওয়াসসালাম

( বিদ্র: উপরের লেখায় কোনো ভুল থাকলে আমাকে বলুন , আমি সেটা এডিট করে দিব )

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৫৪৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.৫০)

৮ টি মন্তব্য

  1. ভাল প্রশ্ন। দেখি আহলে “হাদিস বই” জামাতি ভাইরা কি উত্তর দেয়।

    হাফিজ

    @তামীম, আমাকে একজন বলেছিলেন , লা-মাজহাবীরাও তাকলীদ বা অনুসরন করে , কিন্তু তাদের ইমামদের অন্য কারো নয় । আজ তার প্রমান পেলাম ।

    দেখুন সমগ্র দেওবন্দের আলেমদের “সর্বেশ্বরবাদী” বলতে যাদের ১ মিনিট লাগে না , তাদেরই যদি আপনি নাসিরুদ্দিন আলবানী সম্বন্ধে বলেন দেখবেন কেমন গোস্বা করে । নীচের লিংক দেখুন ।

    http://www.peaceinislam.com/mariner/5557/

    তবে একটি কথা , আমি যে প্রশ্নগুলো করেছি সেগুলোর উত্তর কিন্তু আপনি সেখানে পাবেন না ।

  2. সবাইকে সব জানতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমরা যারা এই ব্লগে আসার আগে হয়তো কখনো নাসিরুদ্দিন আলবানীর (রহ.) নামই শুনি নি, তারা তাঁর সম্বন্ধে কিছু বলার আগে অন্তত জেনে নিই তিনি কে ছিলেন!

    এই কমেন্টটি মাঝে মাঝেই শোনা যায় , নিজের সম্বন্ধে অগাধ আত্নবিশ্বাস থেকে সাধারনত এটা বেরিয়ে আসে । যারা ধারনা করে আছেন “নাসিরুদ্দিন আলবানী” সম্বন্ধে আমার কোন ধারনাই নাই , তাদের জন্য নীচের লিংক গুলো দিলাম ।
    যারা এক কূপ থেকে বেরিয়ে আর এক কূপে পড়েছেন তাদের কাজে লাগবে বৈকি !!!!

    ** আল বানীর শিক্ষা পদ্ধতি সম্বন্ধে । দেখুন তার যে কোনো শিক্ষক ছিল না তার দলীল :

    Nasir al-Albani is the arch-innovator of the Wahhabis and “Salafis” in our time. A watch repairman by trade, al-Albani is a self-taught claimant to hadith scholarship who has no known teacher in any of the Islamic sciences and has admitted not to have memorized the Book of Allah nor any book of hadith, fiqh, `aqîda, usûl, or grammar.

    http://ahlussunnahwaljamah.blogspot.com/2008/04/moving-fingers-in-prayers-albanis.html

    ** হাদিস বাছাই এ তার যে অসংখ্য ভুল সে সম্বন্ধে :

    http://www.ummah.net/Al_adaab/al50errs.html

    http://www.masud.co.uk/ISLAM/misc/albintro.htm

  3. গুগলে শুধুমাত্র এই keyWord search করুন ।

    albani mistake

    মনপবন

    @হাফিজ ভাই, আল্লাহু আকবার! এই না হলে মুসলিম ভাই। আলবানির ভুল খুঁজতে গুগল সার্চ করলে ১,৩১,০০০ ভুল পাওয়া যায়। আলবানির জায়গায় “আল্লাহ” বসান – ২,২২০,০০০ টা এন্ট্রি আসে! আপনাদের মহান থিওরি অনুসারে আল্লাহর ভুলের সংখ্যা আলবানির দ্বিগুণ (নাউযুবিল্লাহ)।
    এই শেষ। আমি আপনাদের সাথে আর কোন তর্কে নাই। যারা ব্লগস্পটের একটা সাইটকে (যেটা একটা ইহুদিও বানাতে পারে) দলিল হিসেবে আনেন তাদের কাছ থেকে কি সত্য পাওয়া যাবে বুঝেছি।

    Anonymous

    @মনপবন,এইটা তো কোন যুক্তি হল না ভাই। আলবানীর ভুল থাকলে তা বলা যাবে না? যারা লিখেছেন তারাতো রেফারেন্স ছাড়া কিছু লিখেন নি। আপনারা মাওলানা থানভী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর কাল্পনিক ভুলের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলে থাকেন যে মানুষ মাত্রই ভুল করে। আলবানীকে ভুলে উর্ধে রাখছেন কেন? উনি যে ভুল গুলো করেছেন তা ইচ্ছে করে করেছেন বলেতো মনে হয়না বরং ইস্তেহাদী ভুল। আল্লহ তায়া’লা ইস্তেহাদী ভুল মাফ করবেন ইনশাআল্লহ। আলবানী ভুল করেছেন এটা স্বীকার করলে কি উনার মর্যাদা কমে যাবে বলে মনে করেন নাকি? মোটেই না। এটা মহত্ত্বের লক্ষণ। তবে প্রতিষ্ঠিত ভুল গুলোর উপর আমাল না করা ভালো হবে। কিন্তু অসম্মান মোটেই করা যাবে না।

    আল্লহ তায়া’লা সঠিক জিনিসের উপর আমাল করার তৌফিক দান করেন।

  4. উনাদের শায়েখকে নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছা আমার ছিল না। কিন্তু এখন ভাবছি নীরব থেকে “ব্যক্তি বন্দনার সীমারেখা” আবার লঙ্ঘন না কে ফেলি!

  5. নবীর (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর) যদি কিছু ইলমে গায়েব থেকেও থাকে তাহলে এতে তাঁর বিশেষত্ব কী ? এমন ইলমে গায়েব তো সকল চতুষ্পদ জন্তু, পাগল ও শিশুরও আছে। (নাঊযুবিল্লাহ)
    আশরাফ আলী থানভী, হিফজুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৭।
    কলেমা শরীফ-এ “লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহমাদুর রসূলুল্লাহ্‌” এর পরিবর্তে “লা ইলাহা ইল্লালাহু আশরাফ আলী রসূলুল্লাহ্‌” এবং দরূদ শরীফ-এ “আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা সাইয়্যিদিনা নাবিয়ানা মুহম্মদ” এর পরিবর্তে “আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা সাইয়্যিদিনা নাবিয়ানা আশরাফ আলী” পড়লে কোন ক্ষতি হবে না। (নাঊযুবিল্লাহ)
    আশরাফ আলী থানভী, রিসালা আল ইমদাদ, পৃষ্ঠা ৩৪-৩৫।
    এটাই হচ্ছে আশরাফ আলী থানভী এর আকীদা, কেউ মুসলমান হলে আশরাফ আলী থানভী এর মত জালেমের সাথে নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ) এর তুলনা করতে পারে না।
    নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ) কে সারা বিশ্বের ওলামায় কেরাম হাদিস গ্রহন বর্জনের জন্য মাপকাঠি বিবেচনা করেন।
    তার বাবা প্রখ্যাত হানাফী আলেম ছিলেন।
    নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ) এর রসুলুল্লাহ(স) এর নামাজ বইতে সহিহ হাদিস ছাড়া আর কিছুই নেই।