লগইন রেজিস্ট্রেশন

৩। মাজহাব ও আনুষংগিক বিষয় [ আল্লাহ এবং রসুলকে অনুসরন করার পদ্ধতি ]

লিখেছেন: ' হাফিজ' @ সোমবার, এপ্রিল ২৬, ২০১০ (৩:০০ অপরাহ্ণ)

ﺑﺴﻢ اﷲ اﻟﺮ ﺣﻤﻦ اﻟﺮ ﺣﻴﻢ

মুসলমান মাত্রই আমরা বিশ্বাস করি “আল্লাহ এবং রসুলের আনুগত্য/অনুসরন করতে হবে” । আল্লাহর অনুসরন বলতে বুঝায় তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা , যেগুলো কোরআন শরীফে বলা আছে । আর রসুলের আনুগত্য/অনুসরন বলতে বুঝায় তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা যেটা কোরআন এবং হাদিস উভয়টিতে আছে ।

মুসলমান মাত্রই একথা একবাক্যে স্বীকার করবে আল্লাহ এবং রসুলকে অনুসরন করতে হবে । কিন্তু কিভাবে ?

সেটাই আজকের আলোচনার বিষয় । অনেকের মধ্যেই ধারনা আছে “কোরআন” এবং “হাদিস” পড়ে নিজে নিজে যেটা বুঝলাম সেটাই হচ্ছে সর্বোত্তম পন্হা । সহীহ হাদিস শরীফ থেকে সরাসরি অনুসরন করতে গেলে কি সমস্যায় আপনি পড়তে পারেন সেটা আমরা দেখিয়েছি । এবং কোরআন এর ক্ষেত্রেও এটা সত্য । সুতরাং সরাসরি “কোরআন” , “হাদিস” থেকে হুকুম আহকাম বের করা যেকারো জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে । আসুন এই বিষয়টি এখন পর্যালোচনা করে দেখি ।

প্রথমে আমরা দেখব একজন “কোরআন” , “হাদিস” থেকে সরাসরি অনুসরন করতে গেলে তার কি কি জানতে হবে ? মনে করুন আপনি নামাজ পড়ার নিয়ম কানুন জানতে চান । তাহলে যেটা করতে হবে সেটা হোলো :

১) প্রথমে আপনার “আরবী ভাষার” ওপরে অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে হবে
২) সমগ্র কোরআন শরীফ তাহকীক করে বের করতে হবে নামাজ বিষয়ে কত জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে ।
৩) তারপর সমগ্র আয়াতের মধ্যে থেকে জানতে হবে কোনটা নাসেখ , কোনটা মনসুখ ।
৪) নামাজ সংক্রান্ত প্রতিটি আয়াতের শানে নজুল জানতে হবে ।
৫) নামাজ সংক্রান্ত পৃথিবীতে যত হাদিস শরীফ আছে , সেগুলো আপনার প্রথমে এক জায়গায় করতে হবে ।
৬) তারপর এই সংক্রান্ত সকল হাদিস থেকে দেখতে হবে “কোনটি সহীহ, কোনটি হাসান , কোনটি জঈফ, কোনটি জাল” ইত্যাদি ।
৭) সাহাবীরা হাদিস বিষয়ে কি বলে গেছেন , নামাজ বিষয়ে ওনাদের আমল কি ছিল , তাবেয়ীন , তাবে-তাবেয়ীন সবার আমল ইত্যাদি পর্যালোচনা করতে হবে ।
৮) পরস্পরবিরোধী হাদিস শরীফের মধ্যে সামন্জস্য বিধান করতে হবে । অর্থ্যাৎ দুটি সহীহ হাদিস পরস্পরবিরোধি হলে কেনো একটিকে গ্রহন করে আপনি অন্যটি বাদ দিয়েছেন সেটার সুস্পস্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে ।
৯) হাদিসের নাসেখ মানসুখ জানতে হবে ।
১০) সাহাবীরা , তাবেয়ীনগন , ছলফে সালেহীনগন কি পদ্ধতিতে মাসআলা বের করেছেন সেটা জানতে হবে ।
১১ ) উসুলে কোরআন , উসুলে হাদিস , উসুলে ফিকাহতে অসাধারন বুৎপত্তি থাকতে হবে ।
১২) কোরআন হাদিস উভয়ের ক্ষেত্রে “সাধারন” এবং “বিশেষ” হুকুম এর মধ্যে পার্থক্য নির্নয় করার দক্ষতা থাকতে হবে
১৩) নামাজে “ফরজ” , “ওয়াজিব” , “সুন্নত” “নফল” “মোবাহ” ইত্যাদি কেনো হয় , সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য জানতে হবে ।
১৪) নামাজের ক্ষেত্রে রসুলের (সা:) আমল কি ছিল , সাহাবীদের আমল কি ছিল , দুটোর মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল কিনা ? থাকলে কেনো ? আমরা কোনটা অনুসরন করব? ইত্যাদি ।
১৫) নামাজ সংক্রান্ত রসুলের (সা:) কোনো আমল কি সে সময়ের জন্য প্রযোজ্য নাকি চিরন্তন সেটার পার্থক্য বোঝার মতো দক্ষতা থাকতে হবে
১৬) রসুল (সা:) যে আমল করেছেন সেটা কি শধুমাত্র ওনার জন্য নির্দিষ্ট কিনা ? ( যেমন ঘুমালে ওনার অজু ভাংতো না )

উপরে অনেকগুলো দক্ষতার মধ্যে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হোলো , যেটা একজনের “কোরআন” “হাদিস” থেকে শুধু নামাজের মাসআলা বের করতে চাইলে অবশ্যই অবশ্যই থাকতে হবে । সেটা কি আমাদের আছে ? না নেই । তাহলে আমরা বুঝতে পারছি , আমাদের যেহেতু এই দক্ষতা নেই, তাই যারা এই কাজে দক্ষ তাদের অনুসরন করতে হবে । দলীল ? দেখুন :

فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ

অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; (সুরাহ নাহল : ৪৩ )

আরো একটি আয়াত শরীফের মাধ্যমে ফকীহ , মুজতাহিদের অনুসরন করতে বলা হয়েছে :

আয়াতটি হচ্ছে সূরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াত:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا

“হে মু’মিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর, তবে আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তাদের, যারা তোমাদের মধ্যে উলিল আমর । কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে, তা আল্লাহ ও রাসূলের কাছে উপস্থিত কর । এটাই শ্রেয় এবং পরিণাম এটাই প্রকৃষ্টতর ।” (সূরা নিসা ৪:৫৯)

কোনো কোনো তফসীরকারক “উলিল আমর” বলতে “শাসক বর্গকে” আবার কেউ কেউ “মুজতাহিদ”দেরকে বুঝিয়েছেন । হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) , হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) , হযরত মুজাহিদ (রহ:) , আতা বিন রবীহ (রহ:) , হাসান বসরী (রহ:) প্রমুখ জগৎবিখ্যাত তফসীরকারকগন উলিল আমর বলতে “ফকীহ এবং মুজতাহিদগনকে” বুঝিয়েছেন । ইমাম আবু বকর জাসসাস (রহ:) এর মতে “রাজনীতি ও প্রসাশনের” ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ন শাসককে এবং মাসআলা মাসায়েলের ক্ষেত্রে “ফকীহ ও মুজতাহিদগনকে” অনুসরন করার কথা বলা হয়েছে । এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে দুই ব্যাখ্যার মধ্যে সামন্জস্য বিধান হয় ।

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম , আমাদের জানা না থাকলে , যারা জানে বা আলেম তাদের জিজ্ঞেস করে জানতে হবে বা তাদের অনুসরন করতে হবে । এটাই তকলীদ ।

সাহাবা এবং তকলীদ :

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন “জাবিয়া নামক স্হানে হযরত ওমর (রা:) খুৎবা দিতে গিয়ে বললেন লোক সকল ! কোরআন (ইলমুল কিরাত) সম্পর্কে তোমাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে উবাই ইবনে কাব (রা:) কাছে এবং ফারায়েজ সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে যায়েদ ইবনে সাবেত (রা:) এর কাছে আর ফিকাহ সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে মুআজ ইবনে জাবাল (রা:) এর কাছে যাবে । তবে অর্থ সম্পদ সংক্রান্ত কিছু জানার থাকলে আমার কাছে আসবে । কেননা আল্লাহ আমাকে এর বন্টন এবং তত্বাবধানের কাজে নিযুক্ত করেছেন ।

দেখুন ওমর (রা:) নির্দেশ দিচ্ছেন সাহাবাদের অন্য সাহাবাদের তকলীদ করার জন্য । কেননা যে সাহাবারা মুজতাহিদ ছিলেন না তারাও মুজতাহিদ সাহাবাগনকে অনুসরন বা তকলীদ করতেন ।

সুতরাং আমরা এই দলীলের মাধ্যমে জানতে পারলাম “আল্লাহ এবং রসুলকে” কেউ যদি অনুসরন করতে চায় , তবে “কোরআন” “হাদিস” পড়ে নিজের মনমতো বুঝলে বা ব্যাখ্যা দাড় করালে হবে না । এটা সুন্নত পদ্ধতি নয় । সুন্নত হোলো তাই যেটা উপরে আলোচনা করা হোলো । ফকীহ বা মুজতাহিদ আলেমেকে অনুসরন করতে হবে ।

এখন আমরা এ সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করব :

১ম অভিযোগ খন্ডন: [ আলেমদের মধ্যে মতভেদ হলে কোরআন হাদিস অনুসরন করাই ভালো ]

কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে, তা আল্লাহ ও রাসূলের কাছে উপস্থিত কর । এটাই শ্রেয় এবং পরিণাম এটাই প্রকৃষ্টতর ।” (সূরা নিসা ৪:৫৯)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অনেকে বলেন , যেহেতু মতভেদ হলে আল্লাহ এবং রসুলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে বলা হয়েছে , তাই মতভেদ দেখা দিলে কোনো আলেমের বক্তব্য না মেনে সরাসরি “কোরআন” এবং “হাদিস” থেকে আমরা যেটা বুঝি সেটাই অনুসরন করার চেষ্টা করবো । আপনি যদি এভাবে চিন্তা করেন তাহলে সম্পূর্ন ভুল করলেন ।

কেননা এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা আবু বকর জাসসাস তার বিখ্যাত তফসীর “আহকামুল কোরআনে” বলেছেন “তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর” এই আদেশ সাধারন মুসলমানদের দেয়া হয়নি, এই আয়াত আদেশ করা হয়েছে “ফকীহ মুজতাহিদ”দের । অর্থ্যাৎ কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে “ফকীহ মুজতাহিদ”দের দায়িত্ব আল্লাহর কিতাব এবং রসুলের সুন্নাহর মাধ্যমে ফয়সালা দেয়া । সাধারন মুসলমানের দায়িত্ব নয় নিজ কাধে দায়িত্ব নিয়ে যোগ্যতা না থাকা সত্বেও “কোরআন হাদিসের” নিজস্ব ব্যাখ্যা দেয়া ।

অনেকে এই আয়াতের মাধ্যমে প্রমান করতে চায় “৪ মাজহাবে” যেহেতু অনেক বিরোধ দেখা যায় , তাই সেইক্ষেত্রে কোনোটি অনুসরন না করে , “কোরআন” “হাদিস” থেকে সরাসরি অনুসরন করাই ভালো হয় । তাদের এই কথা যে সম্পূর্ন ভুল সেটা আমরা উপরের আলোচনা দ্বারা বুঝলাম ।

এছাড়া এইসব ক্ষেত্রে সাহাবীরা কি করতেন আসুন আমরা দেখি :

হাদিস শরীফ: সহীহ বুখারীসহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্হে হযরত হুযাইল ইবনে শুরাহবীল ( রহ:) এর সূত্রে একটি ঘটনা বর্নিত আছে । ঘটনাটি হোলো “একবার কিছু লোক হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) কে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করল । তিনি সংগে সংগেই তার মাসআলা বলে দেন । সাথে এও বলে দেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) জিজ্ঞেস করে নিও । কথামতো তারা ইবনে মাসউদ (রা:) এর দরবারে গেলো । মাসআলাটি তাকেও জিজ্ঞেস করা হোলো । সেই সাথে আবু মুসা আশআরী (রা:) এর ফয়সালাও জানানো হোলো । তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) যে ফতোয়া দেন তা ছিল হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) এর ফতোয়া থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন । তখন তারা গিয়ে হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) কে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) যে ফতোয়া দেন তা শোনান । এই ফতোয়া শোনার পর হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) বলেন :
“যতদিন পর্যন্ত তোমাদের মাঝে এই বিজ্ঞ আলেম বেচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাকে কোনো মাসআলা জিজ্ঞেস করো না ” ।

উপরের ঘটনা দ্বারা আমরা জানতে পারলাম , মতভেদ হলেও হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) সাহাবীদের বলেননি “যেহেতু আমাদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে তাই তোমরা কোরআন হাদিস থেকে যা বোঝো তাই অনুসরন কর । বরং উনি বলেছিলেন সবসময় তোমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) কে জিজ্ঞেস কর । কেননা সেই ছিল অধিক বিজ্ঞ এবং অনুসরন করার যোগ্য ।

এই ঘটনার দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম , মতভেদ হলে নিজে নিজে কোরআন হাদিস থেকে মাসআলা বের না করে , যে বেশী যোগ্য তার মাসআলা অনুসরন করতে হবে । এটাই সাহাবীদের সুন্নত ।

২য় অভিযোগ খন্ডন : [ অনুসরন করতে হবে তাই বলে অন্ধ অনুসরন নয় ]

অনেকে বলে থাকে অনুসরন করতে হবে তাই বলে অন্ধ অনুসরন ? ইদানিং এই টার্মটা প্রচুর শোনা যায় কিন্তু কেউ সাধারনত ব্যাখ্যা করে না । এবার আমরা দেখব অন্ধ অনুকরন কি ? অনেকে মনে করে দলীল ছাড়া কারো কথা মেনে চলাই হোলো অন্ধ অনুকরন । নীচের ঘটনা দ্বারা আমরা দেখব কথাটা সম্পূর্ন ভুল :

হযরত সহল বিন মোআজ তার বাবার কাছ থেকে রেওয়ায়েত করেছেন : জনৈক মহিলা সাহাবী রসুলুল্লাহ (সা:) এর খিদমতে হাজির হয়ে বললেন “ইয়া রসুলুল্লাহ (সা:) আমার স্বামী জিহাদে গিয়েছেন । তিনি থাকতে আমি তার সালাত ও অন্যান্য কাজ অনুসরন করতাম । এখন তার ফিরে আসা পর্যন্ত এমন কোনো আমল আমাকে বাতলে দিন যা তার আমলের সমমর্যাদায় আমাকে পৌছিয়ে দিবে । (মুসনাদে আহমদ )

দেখুন মহিলা সাহাবী সালাতসহ অন্যান্য সমস্ত আমলে তার স্বামীর তাকলীদ করতেন দলীল খোজা ব্যতীত অথচ রসুলুল্লাহ (সা:) নিষেধ বা অসম্মতি প্রকাশ করেননি । সুতরাং দলীল ছাড়াও অনসুরন করা যায় কিন্তু শর্ত হোলো যাকে অনসুরন করা হচ্ছে সে “মুজতাহিদ” বা যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে ।

সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যথাসাধ্য চেষ্টা করে ফকীহ মুজতাহিদ খুজে বের করা , এবং একবার খুজে বের করার পর সব কাজে দলীল খোজার দরকার নেই । যেমন ধরুন আপনি জানেন আপনার পিতা মাতা কে ? এখন তারা কোনো আদেশ দিলে আপনি যদি প্রতিবারই প্রমান করেতে চান দলীল সহ আপনার পিতা মাতা আসলেই সঠিক আপনার পিতা মাতা কিনা , তাহলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে । এভাবে আপনি কোনো কাজেই আগ্রহ পাবেন না , এবং ক্রমশ সর্বক্ষেত্রে অগ্রগতীর পরিবরর্তে আরো পিছিয়ে পড়বেন ।

সব মাসআলার ক্ষেত্রে দলীল বের করতে চাইলে “মুজতাহিদ” আর তার মধ্যে পার্থক্য থাকলো কোথায় ? এবং এ কাজ করতে যেয়ে একজনের চাকরী , ব্যবসা সবকিছু বন্ধ করে শুধু এই কাজই করতে হবে । যেটা মুলত পৃথিবীকে অচল করে দেবার মতো অবস্হা । অনেকে হয়ত এই কথায় হতাশ হবেন কিন্তু একটু বাস্তব পরিস্হিতি বিচার বিশ্লেষন করলে আপনারা বুঝতে পারবেন আমরা কেউ আমাদের প্রাত্যহিক সব আমলের দলীল জানি না । কিন্তু নিজের অজান্তে হোক বা অনিচ্ছায় হোক এটা স্বীকার করি না ।

নিজেকে এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করুন তাহলেই উত্তর পেয়ে যাবেন ।

আপনি মাজহাব অনুসরন করুন বা আলবানী (রহ:) কে অনুসরন করুন যেটাই হোক আপনি কি এই এই প্রশ্নগুলোর দলীল ভিত্তিক সমাধান দিতে পারবেন ?
ক) জোহর নামাজে কয় রাকাত ? সুন্নত , ফরজ কয় রাকাত ? কেউ যদি ভুলে জোহের ফরজ ৩ রাকাআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে বাকী নামাজ কিভাবে আদায় করবে ?
খ) নামাজে রুকু না করে কেউ যদি সরাসরি সেজদায় চলে যায় , তাহলে তার ক্ষেত্রে হুকুম কি ?
গ) বিতের কখন পড়তে হয় ? বিতর পড়ার সম্পূর্ন নিয়ম কি ?
ঘ) মুসাফির অবস্হায় কিভাবে নামাজ পড়তে হবে ?
ঙ) সুরাহ ফাতিহা বাংলায় পড়লে হবে কিনা ?

উপরে আমি মাত্র ৫ টি প্রশ্ন করলাম , এগুলোর কোরআন হাদিস ভিত্তিক দলীল কি আমাদের কারো জানা আছে ? নেই । আর মনে রাখতে হবে “দলীল জানা শর্ত নয় , শর্ত হোলো ইসলামের সহীহ আহকাম, আকীদা জানা” । এইজন্য কবরে আমাদের জিজ্ঞেস করা হবে “তোমার রব কে ? ধর্ম কি ? রসুল কে ? ” আমাদের কিন্তু জিজ্ঞেস করা হবে না “কোরআন হাদিসের কোথায় কত নম্বর সুরায় আছে “রব কে” ? “কোন হাদিসে আছে রসুল কে? ” বরং সঠিক বিষয়টি জানলেই হোলো । বরং দলীল খুজতে যেয়ে সে যদি সঠিক আমল না করতে পারে তার জন্য তার জবাবদিহি করতে হবে । তাই যেসব সাহাবী মুজতাহিদ ছিলেন না তারাও দলীল খুজতেন না , মাসআলা জানার জন্য মুজতাহিদ সাহাবীদের কাছে যেতেন এবং জেনে আমল করতেন ।

এই ব্যাখ্যায় কেউ যেন মনে না করে “দলীল খোজা যাবে না” । দলীল অবশ্যই খোজা যাবে , তবে এটা শর্ত নয় । দলীল খোজার দায়িত্ব মুজতাহিদের , আর সাধারনের দায়িত্ব যোগ্যতাসম্পন্ন মুজতাহিদ খুজে বের করা ।

৩য় অভিযোগ খন্ডন : [ পূর্ব পূরুষদের অনুসরন করা ]

অনেকে তকলীদ করাকে নীচের আয়াতের সাথে মিলিয়ে ফেলে :

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللّهُ قَالُواْ بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لاَ يَعْقِلُونَ شَيْئاً وَلاَ يَهْتَدُونَ

আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব। যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও। ( সুরাহ বাকারা : ১৭০ )

এই উদাহরন যারা দেয় তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এই হাদিস শরীফ :

রসুলুল্লাহ (সা:) বলেন “যে ব্যক্তি পবিত্র কোরানের ব্যাপারে মনগড়া কিছু বলে সেটা ঠিক হলেও সে ভুল করেছে” ।

মুশরিকরা যেটা করতো তাহোলো , তাদের পূর্ব পুরুষ শরীয়তবিরোধী মূর্তপূজা করত আর তারা সেটাই অনুসরন করত । শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজ যদি কেউ করে তাহলে তাকে কস্মিনকালেও অনুসরন করা যাবে না । হক তার সামনে উদ্ভাসিত হবার পর না-হক অনুসরন করা জায়েজ নেই । কিন্তু এখানে তা বলা হচ্ছে না । আয়াতে বলা হয়েছে তাদের বাপ দাদারা কিছু জানত না । আর আমরা বলছি অবশ্যই যাকে অনুসরন করবে সে ফকীহ মুজতাহিদ হতে হবে , শরীয়তের উপর তার থাকতে হবে

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হোলো “তওহীদ” তথা আকীদা সংক্রান্ত বিষয়ে মক্কার মুশরিকরা পূর্ব পুরুষদের অনুসরন করত । কিন্তু কোনো মুসলমান “আল্লাহ এক, রসুলুল্লাহ (সা:) শেষ নবী , পরকাল , কবর , দোজখ ” ইত্যাদি বুনিয়াদি আকীদাসমূহের জন্য কারো তকলীদ করে না । এগুলোতে কারো অনুসরন করার প্রয়োজন নেই । মুজতাহিদ আলেমদের অনুসরন করতে হয় “ইসলামিক জুরিসপ্রডেন্স” বা ফিকাহ সংক্রান্ত বিষয় । তদুপুরি ইসলামের হুকুম আহকাম প্রাকটিস করার বিষয়ে ।

৪র্থ অভিযোগ খন্ডন : [ আলেমদের না মুজতাহিদের অনুসরন করব ? ]

কোরআন হাদিস থেকে মাসআলা বের করবেন “মুজতাহিদগন” আর এগুলো আমাদের বুঝিয়ে দিবেন আলেম বা মুফতীগন । অর্থ্যাৎ মুজতাহিদগন কিভাবে মাসআলা বের করেছেন সেটা বোঝার যোগ্যতাও আমাদের নেই বললেই চলবে । সেটাই বুঝাবেন ১০/২০/৩০ বছর ধরে যারা প্রাতিষ্ঠানিক ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম/মুফতী/মাওলানা গন তারা ।

তকলীদ করেছেন এমন কিছু বিখ্যাত আলেমদের উদাহরন
বিশ্ববিখ্যাত কয়েকজন আলেমের উদাহরন দেয়া হোলো যারা অসামান্য পন্ডিত হওয়া সত্বেও তকলীদ করতেন :

১। মোল্লা আলী কারী – > হানাফী
২। ইমাম তাহাবী -> হানাফী
৩। ইবনে কাসির -> আশ শাফেয়ী
৪। ইমাম যাহাবী -> আশ শাফেয়ী
৫। ইবনে হাজার আসকালানী -> আশ শাফেয়ী
৬। জালালুদ্দিন সুয়ুতী -> আশ শাফেয়ী
৭। ইবনে রজব -> হাম্বলী
৮। ইবনে আব্দুল বার -> মালেকী
৯। শাহ ওয়ালীউল্লাহ -> শাফেয়ী /হানাফী
১০। ইমাম নাসাঈ -> হাম্বলী

আরো অনেকের নাম পরবর্তিতে আলাদা পোস্টে দেয়া হবে ইনশাল্লাহ ।

এই আলোচনায় যেটা শিখতে পারলাম :

এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা শিখতে পারলাম “আল্লাহ এবং রসুলকে” অনুসরন করা অর্থ এই নয় “কোরআন” , “হাদিস” পড়ে সরাসরি নিজে যেটা বুঝলাম , নিজের মনমতো সেটাই মানতে হবে । “কোরআন হাদিসের নিজস্ব ব্যাখ্যা দেয়াই হোলো স্পষ্ট গোমরাহীর লক্ষন যাদের জিন্দিক বলা হয়” । কোরআন হাদিসের অনুসরন করার পদ্ধতি হোলো , যেসকল ফকীহ মুজতাহিদ কোরআন হাদিস বুঝে গেছেন , নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন তাদের ব্যাখ্যা গ্রহন করা । অর্থ্যাৎ “ফকীহ, মুজতাহিদ”কে শুধুমাত্র কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যাকার মনে করা , অন্য কিছু নয় । তাদেরকে অনুসরন করা বলতে তারা কোরআন হাদিসের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা মেনে চলা । এটাই সুন্নত পদ্ধতি যা আমরা সাহাবীদের জীবন পর্যালোচনা করে দেখতে পেলাম।

এই আলোচনায় যেটা বলা হয়নি :

আজকের আলোচনায় আমরা শুধু দেখলাম নিজে নিজে কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা না দিয়ে “ফকীহ” , “মুজতাহিদ”দের ব্যাখ্যা বা তাদের তকলীদ করতে হয় । তবে এই “ফকীহ” , “মুজতাহিদ” কারা বা তাদের যোগ্যতা কি ? দুইজন মুজতাহিদ থাকলে তাদের মধ্য থেকে কাকে অনুসরন করতে হবে ? নামাজের ক্ষেত্রে এক মুজতাহিদ এবং রোজার ক্ষেত্রে এক মুজতাহিদকে অনুসরন করা যাবে কিনা ? আমার মুজতাহিদ ছাড়া আর সকলে “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের বাহিরে কিনা ? এই সকল বিষয় আজকের পোস্টে আলোচনা করা হয়নি ।

“মুজতাহিদ” হবার যোগ্যতা কি এবং দুইজন মুজতাহিদ থাকলে কে বেশী অধিকতরে যোগ্য সেটা বের করার পদ্ধতি নিয়ে পরবর্তিতে আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ ।

[ এই লেখার সময় যে সকল বই এর সাহায্য নেয়া হয়েছে ]

১। তফসীরে ইবনে কাসীর – আল্লামা ইবনে কাসির (রহ:)
২। আহকামুল কোরআন – আবু বকর ইবনে জাসসাস (রহ:)
৩। মাআরেফুল কোরআন – মুফতী মো: শফী ( রহ:)
৪। উলুমুল কোরআন – হুজ্জাতুল ইসলাম তকী ওসমানী
৫। মাজহাব ও তকলীদ কি ও কেনো – হুজ্জাতুল ইসলাম তকী ওসমানী
৬। মাজহাব মানবো কেনো ? – মুফতী রফীকুল ইসলাম

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,১০০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ২.৩৩)

৩৩ টি মন্তব্য

  1. আসসালামু আলাইকুম

    দ্বীনের ব্যাপারে জ্ঞানীদেরকে অনুসরণের ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরার জন্য হাফিজ ভাইকে ধন্যবাদ। এই নিবন্ধ থেকে কিছু বিষয়ে ভুল ধারণার জন্ম হতে পারে বিধায় সে সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:

    ১> আপনি কুরআন ও হাদীসের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, লক্ষণীয় যে এই সমস্ত যোগ্যতা পূর্ণমাত্রায় থাকা আবশ্যক হবে তার জন্য যিনি প্রথমবারের মত কুরআন ও হাদীস থেকে সকল সিদ্ধান্ত বের করতে চাচ্ছেন। কিন্তু যখন আমাদের সামনে কুরআন ও হাদীস থেকে সিদ্ধান্ত বের করার প্রক্রিয়ায় ১৪০০ বছরেরও অধিক সময়ব্যাপী সম্মানিত আলেমগণের গবেষণার ফসল রয়েছে, তখন একজন সাধারণ দ্বীনশিক্ষার্থী শরীয়তের জ্ঞানের এ সকল শাখায় পূর্ণ যোগ্যতা ছাড়াও কুরআন ও হাদীসের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারে, সে বিভিন্ন মাসআলায় নিজে ইজতিহাদ করতে না পারলেও বিভিন্ন মাযহাবের কিংবা আলেমগণের মতভেদের ক্ষেত্রে “দলীল” এর ভিত্তিতে সঠিক মত কোনটি – সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যদিও বা সে সকল মাসআলায় ইজতিহাদ করার যোগ্য সে নাও হয়। আর এই প্রচেষ্টায় কাউকে বাধা দেয়া ঠিক নয় যদি তার যোগ্যতা থাকে, কেননা তা দলীল না জেনেই কাউকে অনুসরণ করার চেয়ে উত্তম। অব্শ্য হাফিজ ভাইও তাঁর লেখায় এ বিষয়টির কোন বিরোধিতা করেননি, তবে কেউ ভুল বুঝতে পারে তাই মনোযোগ আকর্ষণ করলাম।

    ২> হাফিজ ভাইয়ের লেখা থেকে ২য় যে ভুল ধারণার জন্ম হতে পারে তা হল: তাক্বলীদ ও পরম ইজতিহাদের মাঝামাঝি কোন স্তর নেই। বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমগণকে “মাযহাবের মুকাল্লিদ” হিসেবে উল্লেখ করায় সাধারণ পাঠকরা এ বিষয়টি ভুল বুঝতে পারেন, তাই একটু স্পষ্ট করা দরকার। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ঐ সকল মাযহাবের সকল মতই অনুসরণ করেছেন। বরং বিভিন্ন মাসআলায় তাঁদের নিজস্ব ইজতিহাদ রয়েছে। তাই তাঁদের পর্যায়ের কোন একজন ব্যক্তিকে হানাফী বা শাফিঈ বা মালিকী বা হাম্বলী বলার অর্থ এই যে তাঁরা ঐ সকল মাযহাবের আওতায় প্রাথমিক ফিকহ এবং উসূল শিক্ষা করেছেন।

    ৩> অন্যত্র হাফিজ ভাই বলেছেন যে “মুজতাহিদগন কিভাবে মাসআলা বের করেছেন সেটা বোঝার যোগ্যতাও আমাদের নেই বললেই চলবে” এক্ষেত্রেও পাঠকগণ ভুল বুঝতে পারেন যে এ সম্পর্কে কোন ধারণা করাই আমাদের সাধ্যের বাইরে। বরং এটা বললে বোধহয় আরও ভাল হয় যে মুজতাহিদগণের মতভেদের ক্ষেত্রে যদি কেউ সঠিক মতে উপনীত হতে চায় তবে তাকে পদ্ধতিগতভাবে দ্বীনশিক্ষা করতে হবে, আর সেটা না করা পর্যন্ত সে মুজতাহিদগণ কিভাবে মাসআলা বের করছেন তা বোঝার যোগ্যতার অধিকারী হয় না।

    এক্ষেত্রে কেউ প্রশ্ন করে বসতে পারে যে হাফিজ ভাই যে অনেক ক্ষেত্রে কুরআন, হাদীস এবং সাহাবীগণের উদ্ধৃতি থেকে দলীল দিয়েছেন, তা বোঝার যোগ্যতা আমাদের আছে কিনা? যদি বলা হয় আছে, তবে প্রশ্ন হবে যে অন্যান্য মাসআলায় সেই যোগ্যতা আমাদের নেই কেন? আর যদি বলা হয় নেই, তবে বলতে হবে যে এই নিবন্ধ পড়াই আমাদের জন্য অর্থহীন।

    আরও প্রশ্ন আসতে পারে যে হাফিজ ভাই নিজে কি মুজতাহিদ না মুকাল্লিদ? যদি তিনি মুজতাহিদ হন তবে কিছু বলার থাকে না। যদি তিনি নিজেকে মুকাল্লিদ দাবী করে থাকেন, তবে এই নিবন্ধের লেখনী তিনি দলীল ও যুক্তির আলোকে সাজালেন কেন? কেননা মুকাল্লিদ তো তার আমলের পেছনে দলীল বা যুক্তি খুঁজবে না।

    আমি যে বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম তার কোনটাই হাফিজ ভাইয়ের বিরোধিতা হিসেবে নয়, বরং তাঁর নিবন্ধ থেকে সম্ভাব্য যে ভুল ধারণার জন্ম হতে পারে তা রোধ করতে।

    ফিকহের বিভিন্ন মাসআলায় একজন সাধারণ দ্বীনশিক্ষার্থীও যে কুরআন হাদীসের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করতে পারে তার কিছু নমুনা আমার “ধারাবাহিক ফিকহ অধ্যয়ন” সিরিজে আসবে ইনশা আল্লাহ।

    সকলের প্রতি ঈমানী ভালবাসা নিয়ে মন্তব্য শেষ করছি।

    হাফিজ

    @Abu Ibrahim,

    ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য ।


    ১> আপনি কুরআন ও হাদীসের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, লক্ষণীয় যে এই সমস্ত যোগ্যতা পূর্ণমাত্রায় থাকা আবশ্যক হবে তার জন্য যিনি প্রথমবারের মত কুরআন ও হাদীস থেকে সকল সিদ্ধান্ত বের করতে চাচ্ছেন।

    ইজতিহাদের দরজা কিয়ামত পর্যন্ত খোলা থাকবে সে ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই । যদি নাই হবে তাহলে বর্তমান সমস্যাগুলোর মাসআলা আসবে কি করে । আমি যে যোগ্যতা বলেছি সেটা একজন মুজতাহিদের ক্ষেত্রে । এবার আসি আপনার দ্বিতীয় পয়েন্টে ।


    কিন্তু যখন আমাদের সামনে কুরআন ও হাদীস থেকে সিদ্ধান্ত বের করার প্রক্রিয়ায় ১৪০০ বছরেরও অধিক সময়ব্যাপী সম্মানিত আলেমগণের গবেষণার ফসল রয়েছে, তখন একজন সাধারণ দ্বীনশিক্ষার্থী শরীয়তের জ্ঞানের এ সকল শাখায় পূর্ণ যোগ্যতা ছাড়াও কুরআন ও হাদীসের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারে, সে বিভিন্ন মাসআলায় নিজে ইজতিহাদ করতে না পারলেও বিভিন্ন মাযহাবের কিংবা আলেমগণের মতভেদের ক্ষেত্রে “দলীল” এর ভিত্তিতে সঠিক মত কোনটি – সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যদিও বা সে সকল মাসআলায় ইজতিহাদ করার যোগ্য সে নাও হয়।

    “মাসআল বের করা এক জিনিস আর দুইজন মুজতাহিদের মধ্যে কে যোগ্য সেটা ভিন্ন জিনিস” । প্রথমে আমি আসি “মাসাআলা” বের করা যোগ্যতা সম্পর্কে । আগেকার মুজতাহিদের উসুলের ভিত্তিতে কেউ যদি মাসআলা বের করতে চায় শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলোভি (রহ:) এর ভাষ্য অনুযায়ী তিনি হবেন “মুতাহবাহহির ফিল মাজহাব” । তাকে মুজতাহিদের মতো যোগ্যতাসম্পন্ন না হলেও তাকে যেটা হতে হবে মুজতাহিদরা কিভাবে মাসআলা বের করেছেন সে বিষয়ে পরিপূর্ন জ্ঞান থাকতে হবে , আরবী ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে , ইমামদের বিভিন্ন কওলের মাঝে ব্যবধানগুলো বুঝতে হবে, উসুলে ফিকাহ সহ আরো অনেক বিষয়ে যোগ্যতা থাকতে হবে । সর্বোপরী মাজহাব নিয়ন্ত্রিত উসুলের ভিত্তিতে তাকে মাসআলা বের করার যোগ্যতা থাকতে হবে । এই দরজা কিয়ামত পর্যন্ত খোলা । এবং এরই ভিত্তিতে এযাবৎ মাসআলা বের করা হয়ে থাকে । সুতরাং বাধা দেয়ার প্রশ্নই আসে না । কিন্ত যেটা দেখতে হবে “তার সে যোগ্যতা আছে কি নেই ? ” ।

    হাফিজ

    @Abu Ibrahim,

    হাফিজ ভাইয়ের লেখা থেকে ২য় যে ভুল ধারণার জন্ম হতে পারে তা হল: তাক্বলীদ ও পরম ইজতিহাদের মাঝামাঝি কোন স্তর নেই। বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমগণকে “মাযহাবের মুকাল্লিদ” হিসেবে উল্লেখ করায় সাধারণ পাঠকরা এ বিষয়টি ভুল বুঝতে পারেন, তাই একটু স্পষ্ট করা দরকার। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ঐ সকল মাযহাবের সকল মতই অনুসরণ করেছেন। বরং বিভিন্ন মাসআলায় তাঁদের নিজস্ব ইজতিহাদ রয়েছে। তাই তাঁদের পর্যায়ের কোন একজন ব্যক্তিকে হানাফী বা শাফিঈ বা মালিকী বা হাম্বলী বলার অর্থ এই যে তাঁরা ঐ সকল মাযহাবের আওতায় প্রাথমিক ফিকহ এবং উসূল শিক্ষা করেছেন।

    জ্বী সহমত । “মুজতাহিদের যোগ্যতা” বিষয়ে পোস্ট দেয়া হলে তখন এই আলোচনা আসবে ।

    তবে তখনই তারা এমন দ্বীমত পোষন করতে পারবে যখন একজন “মুতাবাহহির ফিল মাজহাব” অর্থ্যাৎ মাসআলা বের করার মতো ইজতিহাদি যোগ্যতা তাদের থাকবে । ( নতুন মাজহাব তৈরী করার মতো ইমামদের ন্যায় যোগ্যতা নয় , মাসআলা বের করার মতো যোগ্যতা ) ।

    অর্থ্যাৎ ওনারা তখনই নিজস্ব ইজতিহাদ করেছেন , যখন তাদের সে ইজতিহাদি যোগ্যতা ছিল । এটাও তো আপনিও নিশ্চয়ই বলবেন তাদের সে যোগ্যতা ছিল , যেটা অন্তত আমার নেই বা আমাদের অনেকের নেই ।

    এবং একজন “মুতাবাহহির ফিল মাজহাব” যোগ্যতাসম্পন্ন আলেম উসুলের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ইমামদের অনুসারী , শুধুমাত্রে কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে নিজস্ব ইজতিহাদ আছেন ।

    হাফিজ

    @Abu Ibrahim,

    ৩> অন্যত্র হাফিজ ভাই বলেছেন যে “মুজতাহিদগন কিভাবে মাসআলা বের করেছেন সেটা বোঝার যোগ্যতাও আমাদের নেই বললেই চলবে” এক্ষেত্রেও পাঠকগণ ভুল বুঝতে পারেন যে এ সম্পর্কে কোন ধারণা করাই আমাদের সাধ্যের বাইরে। বরং এটা বললে বোধহয় আরও ভাল হয় যে মুজতাহিদগণের মতভেদের ক্ষেত্রে যদি কেউ সঠিক মতে উপনীত হতে চায় তবে তাকে পদ্ধতিগতভাবে দ্বীনশিক্ষা করতে হবে, আর সেটা না করা পর্যন্ত সে মুজতাহিদগণ কিভাবে মাসআলা বের করছেন তা বোঝার যোগ্যতার অধিকারী হয় না।


    “মুজতাহিদগন কিভাবে মাসআলা বের করেছেন সেটা বোঝার যোগ্যতাও আমাদের নেই বললেই চলবে”

    যারা কথায় কথায় ৪ মাজহাবের ভুল করতে আগ্রহী , হানাফী মাজহাব দুর্বল হাদিসের ওপর ভিত্তি করে রচিত তাদের বুঝিয়েছি, সবাইকে নয় ।

    সিস্টেমেটিক ওয়েতে দ্বীনশিক্ষা করে একজন বুঝতেই পারে , তাতে কোনো সমস্যা নেই ।

    হাফিজ

    @Abu Ibrahim,

    আরও প্রশ্ন আসতে পারে যে হাফিজ ভাই নিজে কি মুজতাহিদ না মুকাল্লিদ? যদি তিনি মুজতাহিদ হন তবে কিছু বলার থাকে না। যদি তিনি নিজেকে মুকাল্লিদ দাবী করে থাকেন, তবে এই নিবন্ধের লেখনী তিনি দলীল ও যুক্তির আলোকে সাজালেন কেন? কেননা মুকাল্লিদ তো তার আমলের পেছনে দলীল বা যুক্তি খুঁজবে না।

    আপনি কি আমার এই অংশটি পড়েন নি :)

    এই ব্যাখ্যায় কেউ যেন মনে না করে “দলীল খোজা যাবে না” । দলীল অবশ্যই খোজা যাবে , তবে এটা শর্ত নয় । দলীল খোজার দায়িত্ব মুজতাহিদের , আর সাধারনের দায়িত্ব যোগ্যতাসম্পন্ন মুজতাহিদ খুজে বের করা ।

    হাফিজ

    @Abu Ibrahim,

    এক্ষেত্রে কেউ প্রশ্ন করে বসতে পারে যে হাফিজ ভাই যে অনেক ক্ষেত্রে কুরআন, হাদীস এবং সাহাবীগণের উদ্ধৃতি থেকে দলীল দিয়েছেন, তা বোঝার যোগ্যতা আমাদের আছে কিনা? যদি বলা হয় আছে, তবে প্রশ্ন হবে যে অন্যান্য মাসআলায় সেই যোগ্যতা আমাদের নেই কেন? আর যদি বলা হয় নেই, তবে বলতে হবে যে এই নিবন্ধ পড়াই আমাদের জন্য অর্থহীন।

    মাসআলা ইস্তিম্বাত করার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন , অন্য বিষয় আলোচনার জন্য সেই যোগ্যতা প্রয়োজন নেই । আমি খুবই সহজ একটি বিষয় আলোচনা করেছি যার মুল বক্তব্য হোলো :

    “আল্লাহ এবং রসুলকে” অনুসরন করা অর্থ এই নয় “কোরআন” , “হাদিস” পড়ে সরাসরি নিজে যেটা বুঝলাম , নিজের মনমতো সেটাই মানতে হবে । কোরআন হাদিসের অনুসরন করার পদ্ধতি হোলো , যেসকল ফকীহ মুজতাহিদ কোরআন হাদিস বুঝে গেছেন , নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন তাদের ব্যাখ্যা গ্রহন করা । অর্থ্যাৎ “ফকীহ, মুজতাহিদ”কে শুধুমাত্র কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যাকার মনে করা , অন্য কিছু নয় । তাদেরকে অনুসরন করা বলতে তারা কোরআন হাদিসের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা মেনে চলা । এটাই সুন্নত পদ্ধতি যা আমরা সাহাবীদের জীবন পর্যালোচনা করে দেখতে পেলাম।

  2. জাজাকাল্লাহ!
    গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে তুলে ধরার জন্য। আসলেই ‘ইসলাম ইসলাম খেলা’ শুরু হয়েছে। কিন্তু যারা খেলছেন, তারাও বুঝছেন না।

    হাফিজ

    @সাদাত, জ্বী এখনকার ট্রেন্ড হোলো দলীল খোজা এবং জ্ঞান অর্জন করা । সমস্যা সেটা না । সমস্যা হোলো সম্পূর্নভাবে উসুলে ফিকাহ তাহকীক না করে মুজতাহিদের ভুল বের করা ।
    কিন্তু কাউকেই দেখবেন না এই বিষয়ে আলোচনা করতে “অযোগ্য ব্যক্তি যদি ফতোয়া দেয় , তাহলে সেটা কতবড় গোনাহ” । আমার মুল লক্ষ ছিল এটাই বুঝানো “অযোগ্য ব্যক্তির থেকে ফতোয়া নেয়া যাবে না ” । ইজতিহাদের দরজা বন্ধ এটা বুঝানো নয় ।

    “আল্লাহ এবং রসুলকে” অনুসরন করা অর্থ এই নয় “কোরআন” , “হাদিস” পড়ে সরাসরি নিজে যেটা বুঝলাম , নিজের মনমতো সেটাই মানতে হবে । “কোরআন হাদিসের নিজস্ব ব্যাখ্যা দেয়াই হোলো স্পষ্ট গোমরাহীর লক্ষন যাদের জিন্দিক বলা হয়” । কোরআন হাদিসের অনুসরন করার পদ্ধতি হোলো , যেসকল ফকীহ মুজতাহিদ কোরআন হাদিস বুঝে গেছেন , নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন তাদের ব্যাখ্যা গ্রহন করা । অর্থ্যাৎ “ফকীহ, মুজতাহিদ”কে শুধুমাত্র কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যাকার মনে করা , অন্য কিছু নয় । তাদেরকে অনুসরন করা বলতে তারা কোরআন হাদিসের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা মেনে চলা । এটাই সুন্নত পদ্ধতি যা আমরা সাহাবীদের জীবন পর্যালোচনা করে দেখতে পেলাম।

  3. আসসালামু আলাইকুম ভাই, কেমন আছেন?
    জাজাকাল্লাহ, আপনাকে এই লেখাটির পেছনে অনেক মেহনত করতে হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহ তাআলা আপনার পরিশ্রমকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে পরিচালিত করুন, আমিন।

    আমি কিছু কথা বলতে চাই, নীচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরলাম,
    প্রথমত, //হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন “জাবিয়া নামক স্হানে হযরত ওমর (রা:) খুৎবা দিতে গিয়ে বললেন লোক সকল ! কোরআন (ইলমুল কিরাত) সম্পর্কে তোমাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে উবাই ইবনে কাব (রা:) কাছে এবং ফারায়েজ সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে যায়েদ ইবনে সাবেত (রা:) এর কাছে আর ফিকাহ সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে মুআজ ইবনে জাবাল (রা:) এর কাছে যাবে । তবে অর্থ সম্পদ সংক্রান্ত কিছু জানার থাকলে আমার কাছে আসবে । কেননা আল্লাহ আমাকে এর বন্টন এবং তত্বাবধানের কাজে নিযুক্ত করেছেন । //

    কি চমৎকার দেখুন, উমর (রা) কিন্তু কোন এক সাহাবীকে অন্ধভাবে অনুসরণ করার কথা বলেন নি, তিনি বাতলে দিয়েছেন কার কাছে কোন বিষয়ে সহীহ ফয়সালা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ যার কাছে সহীহ ফয়সালা পাওয়া যাবে সেটাই মানতে হবে। আমার বক্তব্যও এটাই, কোন মাযহাবকে অন্ধভাবে আকড়ে ধরে বলে যাব আমার মাযহাবই নির্ভুল ও সঠিক বা যে কোন একটা মাযহাব মানতে হবে তাহলে কিন্তু সাহাবীদের কর্মপন্থা অনুসরণ করা হলো না। তারা বিভিন্ন বিষয় জানার জন্যে বিভিন্ন সাহাবীদের কাছে গিয়েছেন।

    দ্বিতীয়ত, //সহীহ বুখারীসহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্হে হযরত হুযাইল ইবনে শুরাহবীল ( রহ:) এর সূত্রে একটি ঘটনা বর্নিত আছে । ঘটনাটি হোলো “একবার কিছু লোক হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) কে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করল । তিনি সংগে সংগেই তার মাসআলা বলে দেন । সাথে এও বলে দেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) জিজ্ঞেস করে নিও । কথামতো তারা ইবনে মাসউদ (রা:) এর দরবারে গেলো । মাসআলাটি তাকেও জিজ্ঞেস করা হোলো । সেই সাথে আবু মুসা আশআরী (রা:) এর ফয়সালাও জানানো হোলো । তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) যে ফতোয়া দেন তা ছিল হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) এর ফতোয়া থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন । তখন তারা গিয়ে হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) কে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) যে ফতোয়া দেন তা শোনান । এই ফতোয়া শোনার পর হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) বলেন :
    “যতদিন পর্যন্ত তোমাদের মাঝে এই বিজ্ঞ আলেম বেচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাকে কোনো মাসআলা জিজ্ঞেস করো না ” । //

    সাহাবীরা আমাদের জন্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, আবু মুসা আশআরী (রা) বলেন নি ইবনে মাসউদ (রা) এরটা মানা যাবে না, বরং তিনি সানন্দে গ্রহণ করে নিয়েছেন আমরাও যদি মুজাতাহিদগণের মধ্যে যিনি আকীদাগতভাবে সহীহ, যার ফয়সালা কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক সহীহ সেটা মেনে নিই তাতে আপত্তি কোথায়?

    তৃতীয়ত, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ(১৬৪-২৪১হিজরী) প্রায় বারশ বছর পূর্বে বলেছিলেন, “আমি একশত মসজিদে নামায পড়েছি কিন্তু কোন মসজিদওয়ালাদের দেখেনি যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এবং তার সাহাবাদের বর্ণনা মোতাবেক নামাজ প্রতিষ্ঠা করে থাকে!!!” তাহলে আজকের অবস্থা চিন্তা করুন, হাদীসের বর্ণনায় এসেছে এমন যুগ আসবে যে সময় মানুষ (বাহ্যতঃ) নামায পড়বে কিন্তু তারা আল্লাহর নিকট নামায আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে না
    তিনি আরো বলেছেন, “হে আল্লাহর বান্দাহ! তুমি নিজেকে চিনো। আর জেনে রেখো যে, নামাযের যে পরিমাণ গুরুত্ব তোমার হৃদয়ে বিদ্যমান আছে, ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব তোমার কাছে ঐ পরিমাণই। তুমি অতি সাবধান হও আল্লাহর সাথে তোমার সাক্ষাৎ এমন অবস্থায় হওয়া থেকে যে, তোমার কাছে ইসলামের কোনই মূল্য নেই। এরুপ অবস্থায় মৃত্যু হওয়া হতে মনে মনে ভয় কর। কেননা তোমার অন্তরে ইসলামের ঐ পরিমাণই অংশ আছে বলে গণ্য, যে পরিমাণ তোমার নামাযে অংশ রয়েছে“। তথ্যসূত্রঃ নামায ও উহার অপরিহার্য করণীয় – ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ

    চতুর্থত, আপনার হয়তো নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ’র প্রতি আস্থা নেই বা হয়তো আপনি উনাকে কোন কারণে পছন্দ করেন না। যাই হোক, আল্লাহর রাসূল কিভাবে নামায পড়তেন লিখেছেন আল্লাম হাফিজ ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ
    এই বইটি কি আপনার পড়া আছে? যদি সংগ্রহে না থাকে তাহলে সংগ্রহ করতে পারেন। বায়তুল মোকাররম, কাটাবনে বইটি পাওয়া যায়। ইবনে কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ ছিলেন একাধারে,
    -কুরআন ও হাদীসের হাফিজ
    -শ্রেষ্ঠ মুফাসসির
    -শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশ্লেষক
    -শ্রেষ্ঠ সীরাত বিশ্লেষক
    -শ্রেষ্ঠ ফকীহ এবং সর্বোপরি তিনি ছিলেন ‘মুজতাহিদে মতলক’(স্বাধীন স্বয়ংস্পূর্ণ মুজাতাহিদ)

    এই বইটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাজের একটি অনবদ্য বই।

    পঞ্চমত, মানুষ ভুল করে আল্লাহর নিকট সহীহ নিয়তে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেন। শয়তান দেখলো আরে এতো বেশ অসুবিধা তাই সে এমন চাল চাললো যে আজকে মুসলামানরা এমনসব কাজ করে যেগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মপদ্ধতী নয় অথচ তারা মনে করে আরে এটাতো ভাল উত্তম কাজেই তারা তাদের কৃতকর্মের জন্যে তওবা করারও অবকাশ পায় না।
    “(ইবলীশ) বললোঃ আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন এ কারণে আমিও শপথ করে বলছিঃ আমি তাদের (বিভ্রান্ত করার) জন্যে সরল পথের (মাথায়) অবশ্যই ওৎ পেতে বসে থাকব” (সূরা আ’রাফঃ ১৬) আজকে শয়তান আমাদের সরল পথে ওৎ পেতে বসে থেকে এমন ঘোল খাইয়েছে যে আমরা তা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল মুসলিম ভাইদের শয়তানের চক্রান্ত থেকে হিফাজত করুন। আমিন।

    হাফিজ

    @manwithamission,
    আসসালামু আলাইকুম ভাই, কেমন আছেন?

    ওয়ালাইকুম সালাম, আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি ।


    আমি কিছু কথা বলতে চাই, নীচে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরলাম,
    প্রথমত, //হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন “জাবিয়া নামক স্হানে হযরত ওমর (রা:) খুৎবা দিতে গিয়ে বললেন লোক সকল ! কোরআন (ইলমুল কিরাত) সম্পর্কে তোমাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে উবাই ইবনে কাব (রা:) কাছে এবং ফারায়েজ সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে যায়েদ ইবনে সাবেত (রা:) এর কাছে আর ফিকাহ সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে মুআজ ইবনে জাবাল (রা:) এর কাছে যাবে । তবে অর্থ সম্পদ সংক্রান্ত কিছু জানার থাকলে আমার কাছে আসবে । কেননা আল্লাহ আমাকে এর বন্টন এবং তত্বাবধানের কাজে নিযুক্ত করেছেন । //

    কি চমৎকার দেখুন, উমর (রা) কিন্তু কোন এক সাহাবীকে অন্ধভাবে অনুসরণ করার কথা বলেন নি, তিনি বাতলে দিয়েছেন কার কাছে কোন বিষয়ে সহীহ ফয়সালা পাওয়া যাবে।

    ভাই , আমি তো এখানে বলিনি শুধু একজনকেই অনুসরন করতে হবে ( এ বিষয়ে আমার বক্তব্য কি সেটা অন্য পোস্টে আলোচনা করা যাবে ) । আমি এখানে প্রধানত যেটা বুঝাতে চেয়েছি সেটা হোলো “যোগ্য মুজতাহিদ”কে অনুসরন করতে হবে । সে ব্যাপারে বোঝাই যাচ্ছে আপনার কোনো আপত্তি নেই ।

    কি চমৎকার দেখুন, উমর (রা) কিন্তু কোন এক সাহাবীকে অন্ধভাবে অনুসরণ করার কথা বলেন নি, তিনি বাতলে দিয়েছেন কার কাছে কোন বিষয়ে সহীহ ফয়সালা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ যার কাছে সহীহ ফয়সালা পাওয়া যাবে সেটাই মানতে হবে। আমার বক্তব্যও এটাই, কোন মাযহাবকে অন্ধভাবে আকড়ে ধরে বলে যাব আমার মাযহাবই নির্ভুল ও সঠিক বা যে কোন একটা মাযহাব মানতে হবে তাহলে কিন্তু সাহাবীদের কর্মপন্থা অনুসরণ করা হলো না। তারা বিভিন্ন বিষয় জানার জন্যে বিভিন্ন সাহাবীদের কাছে গিয়েছেন।

    আবার বলছি আমি এখানে এই বিষয়টি আনিনি যে শুধু একজনকে অনুসরন করতে হবে নাকি কয়েকজনকে অনুসরন করতে হবে । আমি শুধু বুঝাতে চেয়েছি “যোগ্য মুজতাহিদ”কে অনুসরন করতে হবে । যেহেতু আপনি বিষয়টি আনলেন সেই প্রসংগে বলছি , ওমর (রা:) যেমন বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্নজনের কাছে যেতে বলেছেন , আবার সাহাবীদের মধ্যে এমনও অনেকে ছিলেন যারা শুধু মাত্র একজনকে অনুসরন করতেন । সুতরাং সেই সময় দুটোই প্রচলিত ছিল , যেটাকে আরবীতে “তাকলীদে শাখস” ও “তাকলীদের মতলক” বলা হয় ।

    সুতরাং দেখা যাচ্ছহে সাহাবীদের তারতম্য যোগ্যতার অনুযায়ী দুইধরনের তকলীদ প্রচলিত ছিল।

    হাফিজ

    @manwithamission,

    সাহাবীরা আমাদের জন্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, আবু মুসা আশআরী (রা) বলেন নি ইবনে মাসউদ (রা) এরটা মানা যাবে না, বরং তিনি সানন্দে গ্রহণ করে নিয়েছেন আমরাও যদি মুজাতাহিদগণের মধ্যে যিনি আকীদাগতভাবে সহীহ, যার ফয়সালা কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক সহীহ সেটা মেনে নিই তাতে আপত্তি কোথায়?

    কোনো আপত্তি নেই । আমিতো সেটাই বলছি যে নিজে নিজে “কোরআন হাদিস” এর ভুল ব্যাখ্য বা মনগড়া ব্যাখ্যা না করে আমাদের যোগ্য মুজতাহিদের অনুসরন করতে হবে । আর যোগ্য মুজতাহিদ কারা সেটা এই পোস্টের বিষয় না ।

    হাফিজ

    @manwithamission,
    যাই হোক, আল্লাহর রাসূল কিভাবে নামায পড়তেন লিখেছেন আল্লাম হাফিজ ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ
    এই বইটি কি আপনার পড়া আছে? যদি সংগ্রহে না থাকে তাহলে সংগ্রহ করতে পারেন। বায়তুল মোকাররম, কাটাবনে বইটি পাওয়া যায়। ইবনে কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ ছিলেন একাধারে,
    -কুরআন ও হাদীসের হাফিজ
    -শ্রেষ্ঠ মুফাসসির
    -শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশ্লেষক
    -শ্রেষ্ঠ সীরাত বিশ্লেষক
    -শ্রেষ্ঠ ফকীহ এবং সর্বোপরি তিনি ছিলেন ‘মুজতাহিদে মতলক’(স্বাধীন স্বয়ংস্পূর্ণ মুজাতাহিদ)
    এই বইটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাজের একটি অনবদ্য বই।

    ভাই , আমি আবারো বলছি আমি কিন্তু এখানে একবারো বলিনি নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ:) বা ইবনুল কাইয়্যুম (রহ:) তাদের অনুসরন করা যাবে না । কাকে অনুসরন করা যাবে এবং কাকে যাবে না এটা আমার এই পোস্টের বিষয় না । আমার এই পোস্টের বিষয় “যোগ্য মুজতাহিদ”দের অনুসরন করতে হবে । সে বিষয়ে বোঝা গেলো আপনার এবং আমার মত এক ( যতটুকু আপনার কথা আমি বুঝতে পেরেছি ) ।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,

    ভাই , আমি আবারো বলছি আমি কিন্তু এখানে একবারো বলিনি নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ:) বা ইবনুল কাইয়্যুম (রহ:) তাদের অনুসরন করা যাবে না ।

    সহমত। কেউ যদি মনে করে থাকেন যে, উনারা অনুসরণযোগ্য যোগ্য মুজতাহিদ তখন যে কেউ তাঁদের অনুসরণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা সংরক্ষন করেন।

    manwithamission

    আমি তো ভাই নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ বা ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহকে অনুসরণ করার কথা বলিনি, আমি বলেছি তাদের বইয়ের কথা যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায বর্ণনা করা হয়েছে, আর তাদের বর্ণনার দলীল আছে যেগুলো সহীহ। এই দুইজনের কেউ যদি কোন বিষয়ে ভুল জিনিস উল্লেখ করে তাহলেও কি তাদের অনুসরণ করতে হবে? অবশ্যই না। অন্ধ অনুসরণ করার একমাত্র ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্য কেউ নয়, আমি এটাই বুঝাতে চেয়েছি। শরীয়ত প্রণেতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্য কেউ নয়, আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে আমাদের নিকট ইসলামী শরীয়াহ জানিয়ে দিয়েছেন । কেউ যদি কোন মুজাতাহিদগণকে অন্ধ অনুসরণ করে তারা কিসের ভিত্তিতে সেই মতামত ব্যক্ত করলেন তা জানা ছাড়াই তাহলে প্রকারন্তরে তারা সেই মুজাতাহিদগণকে শরীয়ত প্রণেতার আসনে বাসিয়ে দেন। আমাদের পূর্ববর্তী জাতীদের মাঝে এর উদাহরণ রয়েছে। ইহুদী ও খ্রিস্টানগণ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
    “তারা আল্লাহ ব্যতীত তাদের পন্ডিতগণকে(আলেমগণ) ও সংসার-বিরাগীগণকে তাদের প্রভুরুপে গ্রহণ করেছে।” (সূরা আত-তাওবাহঃ ৩১)
    ইহুদী ও খ্রিস্টানগণ পরখ করেও দেখেনি বর্তমানেও দেখেনা(যদিও কিতাবসমূহ বিকৃত হয়ে গেছে) তাদের কিতাবাদীতে কি রয়েছে, তারা শুধু তাদের রাবাই, যাজকদের অন্ধ অনুকরণ করে যার কারণে তারা আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে। ইহুদী আলেমগণ সত্য জানতেন কিন্তু তারা সত্য জানা সত্যেও গোপন করতেন, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এতটাই চিনতনে যেভাবে নিজ সন্তানকে চিনতেন, আর এ সম্পর্কে তাওরাতে উল্লেখ ছিল অথচ তারা সত্য গ্রহণ করেন নি যার কারণে তারা গাইরিল মাগদুবি আলাইহিমের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। চার্চে ক্রশকে পবিত্র জিনিস বলা হয়, অথচ এই ক্রশের ইসা (আ) এর সময় কোন অস্তিত্বই ছিল না, খ্রিস্টান আলেমগণের নিকট সত্য মজুদ ছিল না তারা মনগড়া কথা বলে আল্লাহর নামে চালিয়ে দেন যার কারণেই তারা ওলাদ-দ’লিন এর অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।
    ঠিক তেমনি কোন মুসলিম আলেম সত্য জানা সত্যেও যদি বলে না অমুক ব্যক্তির অনুসরণ করতে হবে আর এই বলে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে তাহলে প্রকারন্তরে তারা ইহুদীদের মতোই আচরণ করবে আর গাইরিল মাগদুবি আলাইহিমের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে তাতে কোনই সন্দেহ নেই। আবার কোন আলেম কিংবা সাধারণ ব্যক্তি সত্য জানেন না কিন্তু কথা বলে তা আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বলে চালিয়ে দিচ্ছে তারা ওলাদ-দ’লিনের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে তাতেও কোন সন্দেহ নেই।
    আমাদের ইমাম(নেতা), অন্ধ অনুকরণের একমাত্র ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ সুন্নাহ আমাদের নিকট মওজুদ রয়েছে। আমাদের পূর্ববর্তী আলেমগণ অনেক মেহনত করে সহীহ, যঈফ ও মওজু হাদীস আমদের জন্যে সংগ্রহ করে গেছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের মেহনতকে কবুল করে নিন এবং তাদের জান্নাত দান করুন। আমিন। কাজেই এখন একথা বলার উপায় নেই যে, কারো একজনের অন্ধ আনুগত্য করলেই হলো যেহেতু তিনি এত বড় ফকীহ! এত বড় আলেম তিনি কি আর ভুল করতে পারেন!!

    //হযরত সহল বিন মোআজ তার বাবার কাছ থেকে রেওয়ায়েত করেছেন : জনৈক মহিলা সাহাবী রসুলুল্লাহ (সা:) এর খিদমতে হাজির হয়ে বললেন “ইয়া রসুলুল্লাহ (সা:) আমার স্বামী জিহাদে গিয়েছেন । তিনি থাকতে আমি তার সালাত ও অন্যান্য কাজ অনুসরন করতাম । এখন তার ফিরে আসা পর্যন্ত এমন কোনো আমল আমাকে বাতলে দিন যা তার আমলের সমমর্যাদায় আমাকে পৌছিয়ে দিবে । (মুসনাদে আহমদ )

    দেখুন মহিলা সাহাবী সালাতসহ অন্যান্য সমস্ত আমলে তার স্বামীর তাকলীদ করতেন দলীল খোজা ব্যতীত অথচ রসুলুল্লাহ (সা:) নিষেধ বা অসম্মতি প্রকাশ করেননি । সুতরাং দলীল ছাড়াও অনসুরন করা যায় কিন্তু শর্ত হোলো যাকে অনসুরন করা হচ্ছে সে “মুজতাহিদ” বা যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে । //

    মহিলা সাহাবী (রা) জিজ্ঞেস করেছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কারণ তিনি জীবিত ছিলেন আর যাকে তাকলীদ করতেন সেই ব্যক্তিও জীবিত ছিল। বর্তমানে যাদের তাকলীধ করতে বলা হয় তারা আমাদের নিকট অনুপস্থিত কাজেই আমাদের এখন যাকে অনুসরণ করতে হবে সেই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ সুন্নাহ’র খোজ করতে হবে যেমনটি মহিলা সাহাবীটি (রা) করেছিলেন, কারণ তার স্বামী জীবিত থেকে উপস্থিত ছিল না। মহিলা সাহাবী (রা) কিন্তু আগে যেমন স্বামীকে তাকলীদ করতেন তেমনি তাকলীদ করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেন নি তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আমল বাতলে দেওয়ার কথা বলেছেন। সাহাবীগণ (রা) আমাদের জন্যে কতই না উৎকৃষ্ট উদাহরণ স্থাপন করে গেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সাহাবীদের মতো করে ইসলামকে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

    হাফিজ

    @manwithamission,


    কেউ যদি কোন মুজাতাহিদগণকে অন্ধ অনুসরণ করে তারা কিসের ভিত্তিতে সেই মতামত ব্যক্ত করলেন তা জানা ছাড়াই তাহলে প্রকারন্তরে তারা সেই মুজাতাহিদগণকে শরীয়ত প্রণেতার আসনে বাসিয়ে দেন।

    এর অর্থ কোনো মুজতাহিদের কোনো মাসআলা অনুযায়ী আমল করার আগে পরখ করে দেখতে হবে সেই মাসআলা কিভাবে উনি ইস্তিম্বাত করেছেন বা সেই মাসআলা সঠিক কিনা ? আপনি কি এটাই বুঝাচ্ছেন ?

    manwithamission

    @হাফিজ, ইবাদতের ক্ষেত্রে দুইটি শর্তঃ
    প্রথমত, ইবাদতটি উৎস হতে হবে কুরআন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে।
    দ্বিতীয়ত, ইবাদতটি শুধুমাত্র করতে হবে ইখলাসের সাথে আল্লাহর জন্যে।

    এই দুইটি শর্তের দুইটিই পূরণ হতে হবে না হলে সেই ইবাদত মারদূত বা প্রত্যাখ্যাত।
    আপনি একটি মাসআলা জানলেন কিন্তু উৎস জানলেন না, যিনি মাসআলা জানিয়েছেন তাকে বিনা দ্বিধায় মেনে নিলেন তাহলে এটা স্বয়ং ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ’র কর্মপদ্ধতীর বিপরীত। ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমরা কোথা থেকে মাসআলা গ্রহণ করেছি, তা জানার আগ পর্যন্ত আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করা কারোর জন্য জায়েয নয়”। তথ্যসূত্রঃ ইবনু আবদিল বার, ইবনু আবেদীন, আশ-শ’রানী।

    হাফিজ

    @manwithamission,
    ভাই আপনার নিকট আমার কিছু প্রশ্ন :

    ১)
    দুই মুজাতাহিদের মধ্যে কার মাসআলা ঠিক সেটা বোঝার জন্য নিশ্চয়ই যোগ্যতা দরকার ? এখন মনে করুন আমি বা অন্য কেউ যার পড়ালেখার যোগ্যতা নেই , সেইক্ষেত্রে সে কি করবে ? সে কি সে যোগ্যতা অর্জন করার জন্য ১০/২০ বছর পড়াশুনা করবে ? তারপর মাসআলা যাচাই বাছাই করবে ? এখন যতদিন তার সে যোগ্যতা না হয় ততদিন সে কিভাবে নামাজ,রোজা করবে ?

    ২)
    এখন মনে করুন একব্যক্তি যার দ্বীন সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান নেই , কিন্তু অর্থ সম্পদ আছে । এমন যদি হয় সে একজন আলেমকে ( যে যোগ্যসম্পন্ন স্কলার ) মাসিক বেতন দিয়ে রেখে দিলেন এবং গবেষনা করে দেখতে বললেন “মাসআলার ক্ষেত্রে কোন বইটি সঠিক” । এখন মনে করুন সেই আলেম ২ বছর গবেষনা করে তাকে নামাজ , রোজা , হজ্ব , যাকাত তদুপরি সব বিষয়ের মাসআলার লিস্ট বের করে দিল । এখন কি সে আলেমের কথা অনুযায়ী সেই বইগুলোকে অনুসরন করতে পারবে ?

    ৩) আপনি সব মাসআলার ক্ষেত্রে কোন মুজতাহিদের মাসআলা অনুসরন করেন ? নামাজ , রোজা , হজ্ব এবং যাকাত ? এই চারটি বিষয়ে আপনি কাদের অনুসরন করেন এবং কি পদ্ধতিতে আপনি তাদের মাসআলা যাচাই বাছাই করেন সেটা জানতে চাই ।

    আমি খুবই খুশী হবো এটাকে আপনি তর্ক হিসেবে না নিয়ে , আলোচনা হিসেবে যদি নেন ।

    manwithamission

    @হাফিজ, ভাই এ বিষয়ে আবু ইব্রাহিম ভাই একটা পোস্ট দিয়েছেন, আমি সেই পোস্টের সাথে সহমত।

    হাফিজ

    @manwithamission, সেই পোস্টে আমার এই প্রশ্নের জবাব পাইনি । আমি চেয়েছিলাম আপনি এর উত্তর দিবেন । আপনার মধ্যে সহনশীলতা এবং ক্রোধবিহীন আলোচনা করার মতো গুন পেয়েছি । তাই আপনার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করতে আমার দ্বিধা নেই ।

    হাফিজ

    @manwithamission,


    ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমরা কোথা থেকে মাসআলা গ্রহণ করেছি, তা জানার আগ পর্যন্ত আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করা কারোর জন্য জায়েয নয়”।

    আপনি কি তাহকিক করে দেখেছেন ইমাম আবু হানিফা (রহ:) কাদের উদ্দেশ্যে এটা বলেছেন ? এখন আপনার কাছে প্রশ্ন যে আরবীর আলিফ জানে না , উসুলে ফিকাহ , উসুলে হাদিস , উসুলে কোরআন , দলীল বের করার পদ্ধতি কিছুই জানে না সে কি পারবে কোন মাসআলা ঠিক কোনটা ভুল , কোনটার দলীল বেশী সেগুলো যাচাই করতে ?

    আলেমরা এর ব্যাখ্যায় বলেছেন ইমাম আবু হানিফার (রহ:) মুজতাহিদ এবং মুতাবাহহির ফিল মাজহাব যারা তাদের উদ্দেশ্য করে
    এই কথা বলেছেন । সারকথা যাদের মাসআলা যাচাই বাছাই করার মতো যোগ্যতা আছে যেমন অন্যান্য মুজতাহিদগন তাদের উদ্দেশ্য করে ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এ কথা বলেছেন ।
    ইমাম আবু হানিফার (রহ:) মাসআলার দলীল ঠিক কি ভুল সেটাও বের করতে পারেন একমাত্র অন্য মুজতাহিদ । এবং এটা অনেকে করেছেনও । এইজন্য দেখুন ইমাম আবু হানিফার (রহ:) অনেক মাসআলাও যেটার চেয়ে আরো শক্তিশালী দলীল থাকার কারনে হানাফি মাজহাবের আলেমগন তার মাসআলা গ্রহন না করে , আবু ইউসুফ , মুহম্মদ (রহ:) ওনাদের মাসআলা গ্রহন করেছেন । যদি হানাফী মাজহাব মানা অন্ধ অনুসরন হোতো তাহলে কি আলেমগন ইমাম আবু হানিফা(রহ:) এর মাসআলা পরিত্যাগ করে আবু ইউসুফ এবং ওন্যান্য মুজতাহিদের আলেমদের মাসআলা গ্রহন করতেন । কখনও নয় । কিন্তু আমরা তখনই গ্রহন করি যখন অন্য “মুজতাহিদ” আলেম এর ফয়সালা দেন ।

    অর্থ্যাৎ অযোগ্য ব্যক্তিকে মাসআলা বের করার দায়িত্ব না দিয়ে আলেমগন যোগ্য ব্যক্তিকে সে দায়িত্ব দেন ।

    সাদাত

    @manwithamission,

    ভাই, আমার ব্যর্থতা, আপনাদের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারি না। আপনাদের বক্তব্যগুলো সংক্ষিপ্তভাবে একটা পোস্টে পয়েন্ট আকারে দেবেন কি? একটু বুঝে দেখি আসলে আপনাদের বক্তব্যটা কী?

    manwithamission

    @সাদাত,
    আসসালামু আলাইকুম ভাই, জাজাকাল্লাহ, আপনি ভাই বলে সম্বোধন করেছেন এবং আল্লাহর নির্দেশ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক আমল করেছেন।
    “মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে-যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও। ” (সূরা হুজুরাতঃ ১০)
    “মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।” (সূরা হুজুরাতঃ ১১)

    ভাই, একটু ধৈর্য্য ধরেন, একটু সময় নেন। আমরা কতকষ্ট করে ছোটবেলা থেকে বর্ণমালা শিখেছি, তারপর ধীরে ধীরে পড়তে শিখেছি। হুট করে কিন্তু সবকিছু বুঝতে পারিনি। সময় লেগেছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন আমাদের সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে রাখেন। আমীন।

    সাদাত

    @manwithamission,

    কিবলাওয়ালা, কালেমাওয়ালা সবাই আমার ভাই।

    আমি আপনাদের বক্তব্যটা বুঝতে চাচ্ছি। আপনারা যেমন অনেক বুঝে শুনে আজকের অবস্হানে এসেছেন, আমরাও কিন্তু ঠিক একইভাবে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই আজকের অবস্থানে এসেছি। শুধু বাপদাদার অনুসরণের কারণে আজকের অবস্থানে আসি নাই। আমার যেটা মনে হয়, আপনাদের সাথে আমাদের বিরোধটা বোঝাপড়ায়। আপনাদের আমাদের পযেন্টটা বুঝাতে পারছি না, আর আমরাও আপনাদের পয়েন্টটা বুঝতে পারছি না।

    আমাদের সমাজে যে আহলে হাদিস ভাইরা আছেন, তাদের কথা বুঝি, অবস্থানও বুঝি। কিন্তু ব্লগে আপনারা যারা সালাফি ( পরিচয় হিসেবে বলছি না), তাদের বক্তব্যটা আমার কাছে পরিষ্কার না।
    ——————————————————————
    মাযহাব মানার ব্যাপারে আপনাদের পজিশন কী?
    সব আমলের দলিল জানা সবার জন্য আবশ্যকীয় কি?
    ইজতিহাদের মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে, নিজেরটা ১০০% সঠিক, এবং অন্যগুলো ১০০% ভুল বলে মনে করেন কি?
    ইজতিহাদের মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে, ভিন্ন আমলওয়ালাকে নিষেধ করাকে ঠিক মনে করেন কি?
    নাসিখ, মানসুখ কুরআন এবং হাদিস উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে কি না?
    অধিকাংশ সাহাবি(রা.) এর আমল কোন একটা সহি হাদিসের বিপরীত হলে সে ক্ষেত্রেও কি সহিহ হাদিসের ওপরই আমল করতে হবে?

    ——————————————————————–

    আলেমদের তত্ত্বাবধানে আপনারা যদি ৪ মাযহাব অথবা আরো বেশি মুজতাহিদদের মত হতে কোন একটা মত, যা আপনাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়, অনুসরণ করেন, তাতে আমি কোন অসুবিধা দেখি না; বরং সেটা আমার কাছে হবে ৫ম মাযহাব। কিন্তু আপনারা যদি সাধারণ জনগণকে নিজে নিজে মাসআলা চুজ করার পরামর্শ দেন, তবে সেটা হবে একটা বিরাট বিশৃঙ্খলা তথা প্রবৃত্তি পূজার দ্বার উন্মুক্ত করা।

    হাফিজ

    @সাদাত,


    মাযহাব মানার ব্যাপারে আপনাদের পজিশন কী?
    সব আমলের দলিল জানা সবার জন্য আবশ্যকীয় কি?
    ইজতিহাদের মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে, নিজেরটা ১০০% সঠিক, এবং অন্যগুলো ১০০% ভুল বলে মনে করেন কি?
    ইজতিহাদের মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে, ভিন্ন আমলওয়ালাকে নিষেধ করাকে ঠিক মনে করেন কি?
    নাসিখ, মানসুখ কুরআন এবং হাদিস উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে কি না?
    অধিকাংশ সাহাবি(রা.) এর আমল কোন একটা সহি হাদিসের বিপরীত হলে সে ক্ষেত্রেও কি সহিহ হাদিসের ওপরই আমল করতে হবে?

    আমি আশা করি কোনসময়ই আপনি এর উত্তর পাবেন না । আপনি শুধু একটি কথাই শুনতে পাবেন “অন্ধ অনুসরন করা জায়েজ নেই” যেটা আমরাও মানি তারাও মানে । কিন্তু কিভাবে অনুসরন করতে হবে সেটা সম্বন্ধে কোনো Concrete ধারনা তাদের নেই , তাই এতো গন্ডগোল ।

    manwithamission

    @সাদাত, ভাই আমি কিছু লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু আবু ইব্রাহিম ভাই একটা পোস্ট দিয়েছেন ইজতিহাদ, তাক্বলীদ এবং সাধারণ মানুষের করণীয় সেই পোস্টের সাথে আমি একমত। আপনি যে প্রশ্নগুলো করেছেন সেই প্রশ্নগুলোর জবাব উক্ত পোস্টে রয়েছে।

    হাফিজ

    @manwithamission,

    ভাই আমার পোস্টের মুল বক্তব্য সেটা সম্বন্ধে আপনার মতামত জানতে চাই , আপনি তো শাখা প্রশাখা নিয়ে কমেন্ট করেছেন যে বিষয়ে আমি পরবর্তিতে পোস্ট দিবো বলেছি ।

    কোরআন হাদিসের অনুসরন করার পদ্ধতি হোলো , যেসকল ফকীহ মুজতাহিদ কোরআন হাদিস বুঝে গেছেন , নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন তাদের ব্যাখ্যা গ্রহন করা । অর্থ্যাৎ “ফকীহ, মুজতাহিদ”কে শুধুমাত্র কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যাকার মনে করা , অন্য কিছু নয় । তাদেরকে অনুসরন করা বলতে তারা কোরআন হাদিসের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা মেনে চলা । এটাই সুন্নত পদ্ধতি যা আমরা সাহাবীদের জীবন পর্যালোচনা করে দেখতে পেলাম।

    এ বিষয়ে আপনার মত জানতে আগ্রহী ।

    হাফিজ

    @manwithamission,


    //হযরত সহল বিন মোআজ তার বাবার কাছ থেকে রেওয়ায়েত করেছেন : জনৈক মহিলা সাহাবী রসুলুল্লাহ (সা:) এর খিদমতে হাজির হয়ে বললেন “ইয়া রসুলুল্লাহ (সা:) আমার স্বামী জিহাদে গিয়েছেন । তিনি থাকতে আমি তার সালাত ও অন্যান্য কাজ অনুসরন করতাম । এখন তার ফিরে আসা পর্যন্ত এমন কোনো আমল আমাকে বাতলে দিন যা তার আমলের সমমর্যাদায় আমাকে পৌছিয়ে দিবে । (মুসনাদে আহমদ )

    দেখুন মহিলা সাহাবী সালাতসহ অন্যান্য সমস্ত আমলে তার স্বামীর তাকলীদ করতেন দলীল খোজা ব্যতীত অথচ রসুলুল্লাহ (সা:) নিষেধ বা অসম্মতি প্রকাশ করেননি । সুতরাং দলীল ছাড়াও অনসুরন করা যায় কিন্তু শর্ত হোলো যাকে অনসুরন করা হচ্ছে সে “মুজতাহিদ” বা যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে । //

    মহিলা সাহাবী (রা) জিজ্ঞেস করেছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কারণ তিনি জীবিত ছিলেন আর যাকে তাকলীদ করতেন সেই ব্যক্তিও জীবিত ছিল। বর্তমানে যাদের তাকলীধ করতে বলা হয় তারা আমাদের নিকট অনুপস্থিত কাজেই আমাদের এখন যাকে অনুসরণ করতে হবে সেই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ সুন্নাহ’র খোজ করতে হবে যেমনটি মহিলা সাহাবীটি (রা) করেছিলেন, কারণ তার স্বামী জীবিত থেকে উপস্থিত ছিল না। মহিলা সাহাবী (রা) কিন্তু আগে যেমন স্বামীকে তাকলীদ করতেন তেমনি তাকলীদ করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেন নি তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আমল বাতলে দেওয়ার কথা বলেছেন। সাহাবীগণ (রা) আমাদের জন্যে কতই না উৎকৃষ্ট উদাহরণ স্থাপন করে গেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সাহাবীদের মতো করে ইসলামকে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

    ব্রাদার , আপনি যেটা বলেছেন :

    মহিলা সাহাবী (রা) কিন্তু আগে যেমন স্বামীকে তাকলীদ করতেন তেমনি তাকলীদ করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেন নি তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আমল বাতলে দেওয়ার কথা বলেছেন।

    ব্যাপারটা সেরকম নয় । মহিলা সাহাবী (রা:) নামাজ , রোজা এগুলোর মাসআলা জিজ্ঞেস করার জন্য আসেননি । উনি আগের মতোই এই আমলগুলো তার স্বামী যিনি সাহাবি ছিলেন তাকে অনুসরন করতেন । উনি সব আমলে তার স্বামীকে অনুসরন করতেন , কিন্তু জেহাদে যাবার কারনে “জেহাদ” যেহেতু মহিলাদের জন্য ফরজ নয় , তাই রসুলের (সা:) এর কাছে জানতে এসেছিলেন এই আমলের (জেহাদ) পরিবর্তে উনি কোন আমল করতে পারবেন ? উনি যেহেতু সব আমলে তার স্বামীর অনুসরন করতেন তাই উনি চাচ্ছিলেন এমন একটি আমল রসুলুল্লাহ (সা:) বলে দিক যেটা করলে জেহাদের সমান সওয়াব পাবে ।

    আশাকরি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন ।


    কারণ তিনি জীবিত ছিলেন আর যাকে তাকলীদ করতেন সেই ব্যক্তিও জীবিত ছিল। বর্তমানে যাদের তাকলীধ করতে বলা হয় তারা আমাদের নিকট অনুপস্থিত কাজেই আমাদের এখন যাকে অনুসরণ করতে হবে সেই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ সুন্নাহ’র খোজ করতে হবে যেমনটি মহিলা সাহাবীটি (রা) করেছিলেন

    একথা আপনি কোথায় পেলেন তকলীদের ক্ষেত্রে জীবিত কি মৃত সেটা দেখতে হয় । সমগ্র ক্ষেত্রেই তকলীদ করা যায় যদি সেটা শরীয়ত সম্মত হয় । আপনার এই ব্যাখ্যায় অনেকে বলবে জীবিত মানুষ শরীয়তবিরোধী কাজ করলে সেটাও তকলীদ করা যায় । কখনই নয় ।
    মাপকাঠি হোলো শরীয়ত । জীবিত কি মৃত সেটা শর্ত নয় ।

    manwithamission

    @হাফিজ, ভাই, আমি পিস ইন ইসলামের উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি! এই সাইট শিরকের প্রশ্রয়দানকারী। তারা যা করেছে এর উপযুক্ত প্রতিদান আল্লাহর নিকট পাবে।

    হাফিজ

    @manwithamission, আপনার অভিযোগ থাকলে তাদের সাপোর্টে মেইল করেন । আপনার মতামত এবং যে বিষয়ে আপনার সংশয় তাদের জানান ।

    হাফিজ

    @manwithamission,

    তৃতীয়ত, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ(১৬৪-২৪১হিজরী) প্রায় বারশ বছর পূর্বে বলেছিলেন, “আমি একশত মসজিদে নামায পড়েছি কিন্তু কোন মসজিদওয়ালাদের দেখেনি যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এবং তার সাহাবাদের বর্ণনা মোতাবেক নামাজ প্রতিষ্ঠা করে থাকে!!!”

    এ বিষয়ে আমার জানা নেই, কাইন্ডলি রেফারেন্স দেয়া যায় , কোথায় আপনি এটা পেলেন ?

    manwithamission

    @হাফিজ, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ’র বই “আর রিসালাতুস্ সানিয়াহ ফিস্ সালাত ওয়ামা ইয়ালযামু ফীহা” থেকে নেওয়া হয়েছে। বইটি বাংলায় অনুবাদ হয়েছে “নামায এবং উহার অপারিহার্য করণীয়”, আমি তথ্যসূত্রের মধ্যে এটা উল্লেখ করে দিয়েছি। বইটি কাটাবন, বংশালে পাবেন।

    হাফিজ

    @manwithamission,

    ইবনুল কাইয়্যুমের এর বই যেটা আপনি রেফার করেছেন সেটা কি “আবদুস শহীদ নাসিম” অনূদিত ?

  4. অনেক ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পোষ্টের জন্য।