লগইন রেজিস্ট্রেশন

সততা: স্বাধীনতার শিল্পবোধ

লিখেছেন: ' halimsyl' @ শুক্রবার, জুন ২৫, ২০১০ (১০:১৭ পূর্বাহ্ণ)

গত কয়েক শতাব্দির বিচ্ছৃংখল শোষণের উত্তরাধিকারী আমরা। তিরস্কার , নাক সিঁটকানো, রাজ প্রাসাদের রাজদণ্ড অথবা সঙ্গগুণের মাঝে মুক্তির পথ যখন খুঁজছি তখন বর্তমানের সাধনায় শৈথিল্য। পরিদৃষ্ট পুরাতন চশমার আবরণে আচ্ছন্ন। অনাবশ্যক দ্রুততাই আমাদের সম্বল। বাতুলের দিবাস্বপ্ন অথবা মানসিক বিবস্ত্র কিংবা বিবর্ণ করার অভিপ্রায়ে মননের দৈন্যতার কথা নাইবা বললাম।

থাকগে, মূল কথায় আসি।

শিল্প স্বাধীন। কারণ, চিত্তের সমভাবিতা, অকুণ্ঠিত জীবনদর্শন, সংহত শিল্পসৃষ্টের বিস্তৃত প্রাঙ্গনের অনুষঙে দাড় করায়। অনুভূতির তীব্রতায় প্রতিষ্টিত সত্যই হচ্ছে শিল্প। মনের ভেতের মৃত্তিকার সম্মোহনে সুবিশাল জলমগ্ন ঘুড়ি ওড়া বিকেলে মুগ্ধমিশিলের চুম্বিত আবহের সৃষ্টির নামই শিল্প। একসময় ছিলাম অক্ষরজ্ঞানহীন। ক্রমাগত, চিন্তার প্রস্ফুরনে যোজন পথ পাড়ি দিয়ে র্ব্তমানে। পেছনে আছে মানসিকভাবে উত্থিত নানা জিজ্ঞাসিত প্রশ্নর প্রক্ষেপ। শিল্প অথবা মানুষের অন্তরতর বোধ খুবই স্বাধীনতা প্রিয়। চিন্তা কিংবা স্বপ্ন অথবা কল্পনার কোন আয়তন নেই। অসীম আকাশের নীলিমায় গোল্লাছুঁট খেলা যায় ঘরে বসে।

আমি শিল্পের কথা বলছি। হাঁ শিল্প স্বাধীন। শিল্পকে স্বাধীন করতে যারা নিত্য ঘাম ঝরায় তারা কি স্বাধীন ? একজন শিল্পী ততটুকু স্বাধীন যতটুকু স্বাধীনতা দেশ অথবা সমাজ দিয়ে থাকে। শিল্পীর স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ। তাও আয়াসে অর্জিত। শিল্পের পূর্ণতার ক্ষেত্রে শিল্পীর স্বাধীনতার বিকল্প নেই। নইলে মারখাবে সার্বজনীন শিল্পবোধ। কতক নিমজ্জ হবে অন্ধকারে। অন্ধকূপে আবদ্ধ সত্যকে উদ্ধার করার দায়ীত্ব কার ?

জীবন একটা ভাসমান তুষারশৈল। ঝাপসা অবলোকনে বালুকাবেলার কাঠামোতে জীবনকে নৈশাব্দিক শূণ্যতার ভেতর থেকে বের করে আনার নাম শিল্পীর স্বাধীনতা। অগ্নুৎপাতের লকলকে স্রোতের একপক্ষীয় যুদ্ধের ঘোরতর অভ্যন্তরে সততার কথা বলার নামই হচ্ছে শিল্পীর স্বাধীনতা। সাগরের বিশালতায় দৃশ্যমান শুধু চূঁড়া। এ মুহুর্তে শিল্পীকে বলতে হবে এ তুষারশৈলের দৃশ্যমান অংশটুকুই মাত্র জীবন নয়। খুলাখুলি বলতে হবে। সবটাই বলতে হবে। শিল্পীর স্বাধীন শিল্পবোধের আয়নায় সমাজ আপন ক্লান্তির ভাঁজ দেখে শিউরে ওঠবে। পতনের রাশ টেনে ধরে খাদে পড়ে যাওয়া থেক দাড়ানোর চেষ্টা করবে। বলবে” আমার ক্লান্তিগুলো ক্ষমা কর প্রভু”। অন্তত, শিল্পীকে সতর্ক করার স্বাধীনতা দিতে হবে।

স্বাধীনতার সাথে সততার আবশ্যকতা দৃশ্যপটকে করে তুলে আলোকিত। সততার ব্যাপকতা কালান্তরের সমৃদ্ধতর সারসত্তা। শেখ সা’দীর কথা বলতে পারি। তিন স্ভাধীনতার সাথে সততা প্রিয় ছিলেন। উপমার সেই সারল্যগুলো অতীত। সম্যবাদ নাশীয় শ্রেণীহীন সমাজে সততার কথা গাল ফুলিয়ে দেয়। এজন্যই স্বাধীনতা এবং সততা পৃথকভাবে কিংবা একসঙ্গে সম্মুখিন বৈপ্লবিক রূপান্তরের প্রেক্ষতি সম্ভাবনায়। ‘জন হাওয়ার্ড লসন’ বলেছিলেন; “এখানে স্বাধীনতা ও সততার ডানা আছে, কিন্তু পায়ে শিকল”।

আশ্চর্যজনক দূরে সততার অবস্থান। স্বাধীনতার কথা বলতে বলেত সততার কথা ভুলেই গেলাম। শিল্পীনা অসৎ স্বাধীনতার কাঁটা বুকের পাঁজরে নিয়ে হাস্যোল্লাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন টিকই । কিন্তু, রাতের গভীরে যখন অসত্যের বীষফোঙড়ায় ঘুম ভেঙ্গে যায় তখন আক্রান্ত উৎকন্টায় শিল্পীর বোধ শক্তি। তখন শিল্পী পেছনে ফিরে যেতে চান আদীম যুগে। কারণ, সামনে বীষের পেয়ালা। কখনো ভবিষ্যৎবাদি হয়ে পার পেতে চান। স্বাধীনতার কল্পলোকের ঘোড়ায় চড়ে। এযে বড্ড অসম্ভব !

প্রাচীন গ্রীকের দিকে তাকাই। স্বাধিনতা আর সততার যোজন যোজন দুরত্ব। বীষপানে মৃত্যু হলো সক্রেটিসের। হয়তোবা অনুশোচনায়। সবেমাত্র স্বাধীনতা আর সততার সম্মিলনে চিন্তার বৈচিত্র অঙ্কুর জন্মাতে শুরু করেছে। শিল্পী সত্ত্বায় চিত্তের স্বাধীনতা ও সততার অন্তর্ঘাত প্রতিফলন সখ্রেটিসের সামগ্রিকতায়। এজন্যে স্বাধীনচেতা সততা পিয়াসী শিল্পী বিবেকের রক্তাক্ত সংগ্রামের প্রতিকী দৃশ্য। স্বাধীনতা অপরিহার্য কিন্তু সততা ছাড়া অন্তসার।

আমরা একসময় জানতাম হিমযুগের পর থেকে এ ভূখণ্ড জনশূণ্য ছিলো। তারপর জানলাম দ্রিবড়দের কথা। অষ্ট্রকদের কথা জেনেছিলাম তারপর। অতঃপর, জানলাম পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার মতো বাঙলায়ও মানুষ ছিলো। আর তারা নিগ্রোবটু সম্প্রদায়। এটাই শিল্পবোধের স্বাধীনতার সারসংক্ষেপ। আমাদের ঘনিষ্টতর পরিবেশের কথা বলা প্রয়োজন। দৃষ্টান্ত কাজী নজরুল ইসলাম। স্বাধীনতা ও সততার অগ্নিসংগ্রামের অনন্য উদাহরণ। তার মাত্র তিনটে কবিতার কথা যদি বলি তাহলেই যথেষ্ট। কবির স্বাধীনতা প্রিয়তার সাথে সততার অদ্ভুত সম্মিলনের আকুলতার স্বাক্ষর আমাকে বিস্মিত করে তুলে। “বিদ্রোহ”, “ঝড়”, “কৈফিয়ত”। এই তিনটে কবিতায় আমরা স্বাধীনতার সাথে সততার প্রশ্ন তীব্রভাবে উত্থাপিত হতে দেখেছি। সততা এবং স্বাধীনতার রসায়নিক মিশ্রন অনুভব কির। সুতরাং স্বাধীনতার সংগ্রামী চেতনার নাম সততা। কপটতার আবরণ ছিড়ে নিজস্ব অহমের বিরোদ্ধেই সংগ্রাম। শিল্প নিছক সততার সারল্যের প্রতিচ্ছবি। তাপরও প্রশ্ন; আমাদের শিল্পবোধের স্বাধীনতা সততার তাকিদে আগুন ছড়াচ্ছে কি ? সততাহীন স্বাধীনতা কি আমাদের রক্তাক্ত করেনা ?

আজ এখানেই শেষ করতে চাই-তবে, কবি মায়স্কোভাস্কির এই কথাটা না বলে পারছিনা। তিনি বলেছিলেন; “আমার একটাই মুখ আছে; আমি হাওয়াই মোরগ নই যে, যেদিকে হাওয়া সেদিকে মুখ পাবে আমার ?” কিছুটা মেঘচ্ছন্ন কিংবা ঊষর ইতিহাসহীনতার এইদিনে আমার কথাগুলো কাগজের জাহাজে শূণ্যে পাঠিয়ে দিলাম। অনুভূতির গভীরে জলজ মানবীয় টানের অন্তর্নীহিত সত্য নিয়ে আসতে পারবে কি-না।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৪৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

৭ টি মন্তব্য

  1. সমালোচনাকে যদি সাদরে গ্রহণ করেন তবে বলি:
    ১। ভাষাটা সহজ হলে ভালো হত।
    ২। বানানের দিকে আরেকটু নজর দেওয়া দরকার ছিল।
    ৩। অনেকগুলো বাক্যতেই ভাব অসম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

    তবে লেখাটা যে অনেক চিন্তার ফসল সেটা অনস্বীকার্য।

    halimsyl

    @সাদাত, সমালোচনার জন্য ধন্যবাদ।

  2. মনে কিছু করবেন না। আমরা এই ব্লগে মুলতঃ ইসলাম ধর্ম শেখার নিয়ে কথা আশা করি। প্রথম আলো ব্লগে এই ধরনের লেখার অনেক পাঠক অপেক্ষা করছে।

    halimsyl

    @মুজিব৭, এটা কী ইসলাম বিরোধী কিছু ???

  3. থাকগে, মূল কথায় আসি।

    Average সিলেটিরা তো ভালো করে বাংলাই বলতে পারে না – আর আপনার বাড়ী যেখানে, সেই “বালিঙ্গা”র অবস্থা তো আরো খারাপ – সেই বাস্তবতার নিরিখে আপনার ওপার বাংলার রাবীন্দ্রিক বাংলায় “থাকগে” বলাতে, আমার একটা ইংরেজী প্রবাদ বাক্য মনে পড়ে গেল: (Being) more catholic than the pope!

    halimsyl

    @loner, ভাষা কী রবীন্দ্রনাথের পৈত্রিক সম্পদ ? আর সিলেটিরা ভালো বাংলা বলতে পারে না । কে বললো ! নিজের মানসিক আয়তন মাপবেন একটু ।

    হাফিজ

    @loner, সৈয়দ মুজতবা আলী , দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ এরা সবাই কিন্তু সিলেটের অধিবাসী ছিলেন । প্রতিভা অন্য জিনিস।