লগইন রেজিস্ট্রেশন

কুরআনের গাণিতিক মু’জিযা

লিখেছেন: ' jaran' @ রবিবার, নভেম্বর ৬, ২০১১ (১:০৯ অপরাহ্ণ)

লেখাটি মূলত এই http://www.discoveringislam.org/mathematical_miracles.htm ওয়েবসাইট এর আমার এক বড় ভাই অনুবাদ করতেছেন। যতটুকু করা হয়েছে তা উনার ফেইসবুকে দেয়া হয়েছে । লেখাটি পড়ে আমার খুব ভাল লাগল । তাই peaceinislam এর পাঠকদের জন্য উনার অনুমতি সাপেক্ষে এখানে দেওয়া হল ।

কুরআনের গাণিতিক বিশ্লেষণ-১

কুরানে দিন (ইয়াউম) শব্দটি এসেছে মোট ৩৬৫ বার। ৩৬৫ সংখ্যাটি শুধুই ক্যালেন্ডারের দিন সংখ্যা নয়…এটি পৃথিবী ও সূর্যের এস্ট্রোনমিক্যাল সম্পর্কের ব্যাপার। ব্যাপারটা একটু ক্লিয়ার করি।

আগে বলুন, ১ কেজি = কত?…১০০০ গ্রাম…তাইতো?
১ কেজি = ১০০০ গ্রাম

সবাই জানেন, কেজি বা গ্রাম ভরের একক।

১ কেজি আলু দিতে বললে আমেরিকায় যে পরিমান আলু দিবে…রাশিয়ায় ও সেই পরিমান আলু দিবে; সৌদিআরব কিংবা ইসরাইলেও একই পরিমান আলু পাবেন।

এখন বলেন…এই ভরের আলুই যে ১ কেজি হবে এইটা কোথায় পাইলেন ?
উত্তর- আমরা বিশ্বের সবাই মিলে এটা ঠিক করে নিয়েছি।

সবাই মিলে যদি…আরেকটু বেশি ভর কে ১ কেজি ধরত…তাহলে, সেটাই ১ কেজি হতো।
সেই অনুযায়ী..১ গ্রাম হতো ঐ ১ কেজির ১০০০ ভাগের ১ ভাগ।

এখন বলুন…বছর বা দিন কিসের একক? … টাস্কি খাইলেন নাকি?
সহজ উত্তর- বছর বা দিন সময়ের একক।

১ বছর = ৩৬৫ দিন = ৩৬৫*২৪ ঘণ্টা = ৩৬৫*২৪*৬০ মিনিট

এইটা কি আমরা বিশ্বের সবাই মিলে ঠিক করে নিয়েছি?…আমরা
কি চাইলেই…১ বছর = ৩৬৫ দিন না ধরে ৩০০ দিন ধরতে পারব?

নাহ…পারব না। কারণ, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসতে ১ বছর সময় নিবেই। আপনি চাইলেই এটা পরিবর্তন করতে পারবেন না।

বলতে পারেন…১ বছর সময়কে সমান ৩০০ ভাগে ভাগ করে নিলেই তো
১ বছর = ৩০০ দিন পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু, ভাইরে…এই নতুন হিসাবের ৩০০ দিনে সূর্য উদয়-অস্ত হবে ৩৬৫ বার। কারণ, এই এক বছরে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর ৩৬৫ বার আবর্তিত হবে।

অতএব, ১ বছর = ৩৬৫ দিন…এটা জাস্ট আমরা ধরে নেই নাই। এইটা প্রাকৃতিক নিয়মেই হইছে। এইটা solar system এর বৈশিষ্ট্য।

যে সময়ে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসে…সে সময়ে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর ৩৬৫ বার ঘুরে। পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর একবার ঘুরলে আমরা দিন-রাত্রির একটি কমপ্লিট সাইকেল পাই। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে এক চক্কর মেরে আসতে-আসতে…আমরা এরকম ৩৬৫ টি সাইকেল পাই…অর্থাৎ, ৩৬৫ টি দিন পাই এবং ৩৬৫ টি রাত পাই…এই ফাঁকে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে আবার আগের জায়গায় চলে আসে।

অতএব, ১ বছর = ৩৬৫ দিন…এটি arbitrarily ধরে নেওয়া হয়নি…এটা astronomically fixed সংখ্যা।

The Word Number of occurrence

day 365

The number of the days it takes
the Earth to complete one rotation 365
around the sun

এটা কি কাকতালীয়?…চলুন আরেকটু আগাই।

১.২ দিনগুলি

কুরআন শরীফে যেখানে singular দিন(ইয়াউম) শব্দটি ৩৬৫ বার এসেছে…সেখানে plural দিনগুলি(আইয়াম বা ইয়াউমাইন) শব্দটি এসেছে…৩০ বার। তবে কি ‘দিনগুলি’ শব্দটি ১ মাসে ৩০ দিনের কথা মিন করছে?

সৌর ক্যালেন্ডারে ১ মাসে দিন সংখ্যা ৩০ বা ৩১। চন্দ্র ক্যালেন্ডারে ১ মাসে দিন সংখ্যা ২৯ বা ৩০। অতএব, ১ মাস = ৩০ দিন…এটা সব হিসাবেই আসে।

এছাড়া, চন্দ্র মোটামুটি ২৯.৫৩ দিনে পৃথিবীকে ১ বার প্রদক্ষিণ করে। তাই বলা যায়, ১ মাস = ৩০ দিন এটাও arbitrarily ধরা হয় নাই। চন্দ্র বিষয় টা পরবর্তীতে আসবে।

মজার বিষয় হল, কোরআন শরীফে ‘দিন’ শব্দটি আছে…৩৬৫ বার;
দিনগুলো শব্দটি আছে…৩০ বার।

The word Number of occurrence

Days 30

Number of days in a month 30

কাকতালীয়?…হতে পারে। কারণ, কোরআন কোন astronomical or astrological or numerological কোন গ্রন্থ নয়।

According to Muslims,
The holy Qur’an is a briefing to the Human Being by Almighty God.

চলুন আরেকটু আগাই।

১.৩- দিন এর derivative

‘দিন’ এর derivative হচ্ছে- ‘দিন’ থেকে উদ্ভূত শব্দগুলো…যেমন- দিন, দিনগুলো, দৈনিক…ইত্যাদি। আগেই বলা হয়েছে- কোরআন শরীফে- দিন (ইয়াউম) শব্দটি আছে-৩৬৫ বার, ‘দিনগুলো (আইয়াম অথবা ইয়াওমাইন) শব্দটি আছে-৩০ বার। এছাড়া- আরও কিছু- দিন এর derivative শব্দ আছে। দিন এবং দিন এর derivative সব মিলে মোট আছে- ৪৭৫ বার।

৪৭৫ = ২৫*১৯

মজার ব্যাপার হল- ১ বছর অর্থাৎ ৩৬৫ দিনে সূর্য নিজ অক্ষের উপর ২৫ বার ঘুরে।
আরো মজার ব্যাপার হল- প্রতি ১৯ বছরে… একবার করে metonic cycle হয়।

গ্রীক পণ্ডিত মেটন আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে Metonic cycleবের করেন…যেটা বুঝতে আজকের দিনের আমার মাথার ঘাম বের হয়ে গেল। Google search দিয়ে Metonic cycle কি- তা বুঝার চেষ্টা করতে পারেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমি যেটা বুঝেছি…চাঁদের গতি, পৃথিবীর গতি, সূর্যের গতি- এগুলোর মধ্যে সব-সময় কিছু ভাংতি হিসাবের lagging থাকে। পূর্ণ সংখ্যায় হিসাব করতে গিয়ে যেগুলো আমরা ignore করি।
প্রতি ১৯ বছরে চাঁদ, পৃথিবী, সূর্যের অবস্থান আগের পর্যায়ে ফিরে আসে; এসময় ক্যালেন্ডার এডজাস্টমেন্ট করা হয় (অনেকটা আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের লিপ ইয়ারের মত)। প্রাচীন কাল থেকেই চন্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রচলন। চায়নিজ, হিন্দু, হিব্রু, হিজরি ক্যালেন্ডার চন্দ্র ভিত্তিক। এরা সবাই Metonic Cycle বিবেচনায় রাখে।

এখন আগের কথায় ফিরে আসি।
বলেছিলাম…কুরআন শরীফে দিন কিংবা দিন এর Derivative শব্দ আছে- মোট
৪৭৫ বার।

৪৭৫=২৫*১৯

এখন দেখতে পাচ্ছি, প্রতি ১৯ বছরে একবার Metonic cycle হয়।

১ বছরে সূর্য নিজ অক্ষের উপর ঘুরে = ২৫ বার
১৯ বছরে সূর্য নিজ অক্ষের উপর ঘুরে = ২৫*১৯ বার
= ৪৭৫ বার।

অর্থাৎ, প্রতি Metonic Cycle- এ সূর্য নিজ অক্ষের উপর ৪৭৫ বার আবর্তিত হয়।
প্রতি ১৯ বছরে সূর্য, পৃথিবী, চন্দ্রের তথা সৌরজগতের গতির হিসাবের Correction হয়।

The word Number of occurrence

All the derivatives of the word “day” 475 (19×25)

How many times does the sun revolves around itself within a year? 25

How many times does the sun revolve around its own axis in a Meton cycle? 475 (19 x 25)

মনে মনে একটু ভাবা যাক- ১৯, ২৫, ৪৭৫ সংখ্যাগুলোর সাথে সূর্যের কি সম্পর্ক।
সৌর-জগত, পৃথিবী বা চাঁদেরই বা কি ভুমিকা?

পৃথিবী, চাঁদ বা সূর্যের সাথে – ৩৬৫ বা ৩০ এরই বা কি সম্পর্ক?

কুরআন শরীফে দিন বা দিন এর ডেরিভেটিভ শব্দগুলো CATEGORICALLY…৩৬৫, ৩০ কিংবা ৪৭৫ সংখ্যক বার এলো কেন? আবার, ৪৭৫ এর FACTOR ১৯*২৫ কেন?

জোড়াতালি দিয়ে কিছু বিশ্লেষণ দেখালাম বলে মনে হল?
যাচাই করতে চাইলে… পরবর্তী লেখার জন্য অপেক্ষা করুন।

আজকের বিশ্লেষণ এখানে শেষ হবে।
সম্মানিত পাঠক…যেকোনো ধরনের ভুল দেখতে পেলে জানাতে দ্বিধা করবেন না।

facebook লিঙ্ক নিচে দেয়া হলhttp://www.facebook.com/notes/mohammad-anisuzzaman/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A6%A3-%E0%A7%A7/2631914639434?from_close_friend=1

তথ্যসূত্রঃ http://www.discoveringislam.org/mathematical_miracles.htm

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৫০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)