লগইন রেজিস্ট্রেশন

গান বাজনার ভয়াবহ পরিনতি

লিখেছেন: ' jaran' @ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১১ (৯:১০ পূর্বাহ্ণ)

গান বাজনার ভয়াবহ পরিনতি
গান বাজনার সর্ম্পকে কোরআন কি বলে:
(1) যারা না জেনে খেল তামাসাকে ক্রয় করে আল্লাহর রাস্তা থেকে দুরে সরে যায় এবং এগুলা নিয়ে বিদ্রোপ ও ঠাট্টা করে তাদের জন্য লাঞ্চনা দায়ক শাস্তি রয়েছে (সুরা লুকমান)
গান বাজনার ভয়াবহ পরিনতি সর্ম্পকে হাদিসে পাকে (রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন হযরত আবদুর রহমান ইবনে গনম আল আশআরি (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমাকে আবু আমের আল
আশআরি (রাহমাতুল্লাহু আল্লাইহি) বলেছেন তিনি মিথ্যা বলেননি তিনি রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন আমার উম্মতের মধ্যে এমন কতগুলু সম্প্রদায় হবে তারা আজাদ মানুষকে গোলাম, রেশমি কাপড়,মদ পান করা ও বাদ্যযন্তকে হালাল করে দিবে এবং এমন কতগুলি মানুষ পাহাড়ের পাশে থাকবে যখন তাদের জীবজন্তু নিয়ে সন্ধ্যা বেলায় ঘরে ফিরে আসবে।তখন আল্লাহ্ তা’আলা পাহাড় ধ্বসে তাদেরকে ধ্বংস করে দিবে। অন্য সম্প্রদায়কে চেহরা পাল্টিয়ে বানর ও শুকরের চেহরায় পরিণত করে দিবেন, কিয়ামত আসার পূর্ব পর্যন্ত এ শাস্তি বলবৎ থাকবে।
(বোখারী শরিফ ২য় খন্ড)
উপরোক্ত হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানর ও শুকর হয়ে যাওয়া শাস্তি শুনাইয়াছেন যারা বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করে, এবং তাতে লিপ্ত থাকবে।

হযরত আবু উমামা (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলে খোদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন তোমরা বাদ্যযন্ত্র ক্রয় বিক্রয় কর না এবং কাউকে শিক্ষা দিও না এই বাদ্যযন্ত্র ব্যবসার মধ্যে কোন ধরণের কল্যাণ নেই এবং এগুলোর মূল্যও হারাম। এ কারণে আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেছে (উল্লেখিত আয়াত)
(তিরমিজি পৃষ্টা নং ২০৫)
উপরোক্ত হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, বাদ্যযন্ত্রেও বাণিজ্য ও শিক্ষা দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম।
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহু রাববুল আলামিন হারাম করে দিয়েছেন আমার উম্মতের উপর মদপান করা, জুয়া খেলা,বাশিঁ বাজানো,তবলা ও বাদ্যযন্ত্র। আমার জন্য বৃদ্ধি করে দিয়েছেন বিতিরের নামাজ। বিখ্যাত মুহদ্দিস ইয়াজিদ বলেন, হাদিসে কাইনান বলতে বাদ্যযন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে।
(মস্নদে আহমদ ২য় খন্ড পৃ:১৬৫)
হযরত আবু মালেক আল আশজারী (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি) বর্ণনা করেছেন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমার উম্মত মদ পান করে। মদের নাম, বদলিয়ে নতুন নাম করণ কওে গ্রহণ করবে এবং তাদেও মাথার পাশে বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্র থাকবে তদেও কিছু মানুষকে বানর ও শুকরের চেহারায় পরিণত করে দিবে।
(মোসান্নেফে আুব শাইবা ৮ খন্ড,পৃ: ১৮)
উপরোক্ত হাদিস দ্বারা বুঝা যায় অনেকে মদের নাম পাল্টিয়ে পান করবে অথচ এগুলো হারাম।
হযরত আবদুর রহমান ইবনে ছাবেত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন আমার উম্মতে ‘ষুসুফ’তথা জমিন ফেটে ঢুকাই ফেলা ‘ক্বুযুফ’ তথা পাথর বর্ষন মুসান্নাহ তথা চেহারা পাল্টানো হবে সাহাবারা জি…সা করলেন তা কখন হবে ইয়া রাসুলুল্লাহ ? রাসুল (সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন বাদ্যযন্ত্র প্রকাশ্য করবে এবং মদকে হালাল করে দেবে।(আবু দাউদ ২য় খন্ড পৃষ্ঠা-১৬৩)
হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসুলে খোদা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এরশাদ করেন আমি প্রেরিত হয়েছি বাদ্যযন্ত্রকে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য।অতঃপর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, গায়ক গায়িকার জীবিকা (গানের মাধ্যমে) হারাম এবং ব্যাবিচারের জীবিকা হারাম। যে শরীর হারাম দ্বার গঠিত তাকে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।
(কানজুল উম্মাল ১৫তম খন্ড পৃষ্ঠা ২২৬)
উপরোক্ত হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, গান বাজনার মাধ্যমে যে টাকা পয়সা অর্জন কওে এবং যারা গান বাজনার অনুষ্ঠান করায় এবং তাতে যে টাকা ব্যয় করে তা হারাম।

হযরত আবু মুছা আল আশইয়ারী (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি )থেকে বর্ণিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন যার দুনিয়ার মধ্যে গান বাজনা শুনবে তাদেরকে জান্নাতে গানের অনুষ্ঠান শুনার অনুমতি দেওয় হবে না অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
(কানজুল উম্মাল ১৫তম খন্ড)

হযরত ইবনে আববাস থেকে বর্ণিত রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন যখন কিয়ামত কায়েম হবে আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমরা কোথায়? যারা দুনিয়াতে শয়তানের গান বাজনা্ থেকে দুরে সরে ছিলে? তাদেরকে পৃথক করবেন, তারা পৃথক হয়ে মিশক অম্বরের সুগন্ধি যুক্ত এশটি টিলার পাশে দাঁড়াবে,অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তার ফিরিস্তাদের বলবেন তাদেরকে আমার তাসবিহ ও প্রশংসা শুনাও,তারা এমনভাবে শুনবেন,এরকম সুন্দও আওয়াজ দুনিয়াতে কেউ কখনো শুনেনি।
(দাইলামী)
হযরত ইবনে মাসউদ থেকে বণিৃত তিনি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন ‘তোমাদের উচিত বাদ্যযন্ত্র ও গান থেকে বিরত থাক, কারণ দুটি ক্বলবের মধ্যে এমনভাবে নাফাকত তথা কপটতা সৃষ্টি করে যেমনভাবে পানি শস্য জন্মায়। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, গন ও খেলাধুলা মানুষের ক্বলবে এমন ভাবে কপটতা সৃষ্টি করে যেমনভাবে পানি ঘাষ জন্মায়। রাসুলে করিম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন দুনিয়া ও আখিরাতে দুইটি অভীশপ্ত আওয়াজ রয়েছে (১)উৎসবের সময় বাদ্যযন্ত্র (২)মছিবতের সময় অধৈর্য হয়ে চিৎকার করা

হযরত নাফে (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি) থেকে বর্নিত তিনি বলেন আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের সাথে ছিলাম রাস্তায় অতপর তিনি কানে হাত ঢুকাইয়া দিলেন এবং রাস্তা থেকে সরে অনেক দুরে চলে যান তারপর আমাকে বললেন হে নাফে তুমি কি কিছু শুনতে পাচ্ছ? আমি বললাম না, তারপর আঙ্গুলকান থেকে উঠাইয়া নিলেন। তিনি বলেন ,আমি রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম।রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এা রাখালের বাদ্যেও আওয়াজ শুনার সাথে সাথে আমি যেভাবে করেছি ঠিক সেভাবে করেছিলেন। হযরত নাফে বলেন তভন আমি ছোট ছিলাম।
(মসনদে আহমদ)

হযরত আলী ইবনে তালিব (রাহমাতুল্লাহু আলাইহি) থেকে বর্ণিত তিনে বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন, আমার উম্মত যখন পনেরটা কাজ স্বভাব হিসেবে গ্রহণ করবে তাদের জন্য ঐ কাজগুলোর কারণে বিভিন্ন ধরণের বালা মছিবত আসবে।কেউ কেউ জি…সা করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), সে গুলি কি? রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন যখন গণিমহের মালকে নিজের মাল মনে করবে এবং যাকাতকে জরিমানা মনে করবে,পুরুষ তার স্ত্রীর বাধ্য হবে এবং মায়ের নাফরমানি করবে, তার বন্ধুর সাথে ভাল ব্যবহার করবে নিজের পিতাকে কষ্ট দেবে।মসজিদে উচ্ছস্বওে আওয়াজ করবে অর্থাৎ আল্লাহর ঘরের আদব রক্ষা করবে না,সমাজের মধ্যে একেবারে নিকৃষ্ঠ মানুষ সরদার হবে,মানুষ তার বেইজ্জতকে ভয় পেয়ে তাকে সম্মান করবে বেশি করে মদ পান করবে, রেশমী কাপড় পরিধান করবে, বাদ্যবজনা প্রকাশ করবে এবং তাকে মডেল মনে করবে, প্রথম যুগের উম্মতকে লালন করবে।
এ কাজদুলো যখন বেশি হবে, তারা লাল বাতাস বা অগ্নিবায়ুর জন্য অপেক্ষা করবে আর বাতাস এসে তাদেও কিছুটা জমিনে ঢুকাই দিবে আর বাকীগুলো চোহরা বানর ও শুকরের চেহারায় পরিণত করবে।
(তিরমিজি ৩২২-২৩)

হযরত আমের ইবনে সা’দ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি প্রবেশ করলাম হযরত কুরজা ইবনে কা’ব ও আবু মসউদ আনসারীর কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সেখানে ছোট ছোট মহিলারা গান করছিল, আমি বললাম আপনারা দু’জনই রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাহাবী সাথে সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আর আপনাদের সামনে এগুলো কি হচ্ছে ? তাদের একজন বলেন হে আমের তুমি চাইলে শুনতে পার বা চলে যেতে পার। আমাদেরকে রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

৬বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে চার মাযহাবের ইমামদের অভিমত:
মালেকি ফকিহগণের: অভিমত
আল্লামা ওয়াশাতানি মালেকি (রঃ) বলেন,
বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে গান নিষিদ্ধ এবং বাদ্যযন্ত্র ছাড়া ও গান ইমাম মালেক(রঃ) এর মতে মাকরুহ।
ইমাম কুরতুবী মালেকী (রঃ) অনেক হাদিস ও ইমামের বাণী পেশ করার পরে বলেন,
গায়ক ও নর্তক বা নৃত্য শিল্পীর স্বাক্ষী গ্রহণ যোগ্য নহে।
[তফসিরে কুরতুবী]

হাম্মবলী মাযহাবের ইমাম গণের অভিমতঃ

আল্লামা ইবনে কুদামা হাম্মবলী (রঃ) বলেন,
বিনোদন ৩প্রকার(১) হারামঃ- ধনুকে তার সংযোজন করা, বাঁশী এবং মুখের মাধ্যমে বাজানো সব যন্ত্র,বীণা ঢাক বাজায় তার স্বাক্ষী গ্রহণ যোগ্য নয়। (২) মোবাহ্ঃ ছোট শিশুদের জন্য সর্ব অবস্তায় দফ বাজানো জায়েয। (৩) মকরুহঃপুরুষদের জন্য সর্ব অবস্তায় দফ বাজানো মকরুহ, কেননা মহিলা ও খুনসারা দফ বাজায়। পুরুষ যখন দফ বাজাবে তাদের সাথে সাদৃশ হয়ে যাবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ পুরুষকে অভিশাপ দিয়েছেন যারা মহিলার সাথে সাদৃশ রাখে।
মকরুহের অন্য প্রকারঃ লাঠি দিয়ে মারা এটা তখন মকরুহ হবে যখন তার সাথে হারাম বা মকরুহ জিনিস মিলবে,যেমন তালি বাজানো,গান গাওয়া, বা নৃত্য ইত্যাদি। কেননা লাঠির আঘাতের শব্দ গানের যন্ত্র নয় এটা দিয়ে গান গায়না, এবং এটা একা একি শুনা ও যায় না।কিন্তু গানের বাদ্যযন্ত্র হারাম। এ কথার উপর আলেমরা একমত।
[আল-মুগনি ১০ম খন্ড পৃ;১৭৪]
শাফেয়ী মাযহাবের ইমামগণের অভিমত
আল্লামা ইমামে নববী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,
বাঁশী ও বীণার মত বাদ্যযন্ত্র যত আছে, ক্রয় বিক্রয় ভেঙ্গে যাওয়ার পর ও শুদ্ধ নয়। কেননা উক্ত বাদ্যযন্ত্রে শরয়ী কোন উপকার নাই।
[শরহে মহায্যব]
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী শাফেয়ী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,

বিয়ে শাদীর অনুষ্টানে দফ বাজানো জায়েয বলে অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র জায়েয বলা যাবে না।
[ফতহুল বারী ২য় খন্ড পৃ: ৪৪৩]
হানাফী মাযহাবের ইমামগণের অভিমতঃ
আল্লামা শমসুদ্দীন ছরখাসী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,
ঐ গায়কের স্বাক্ষী গস্খহণ যোগ্য নয় , যে তাঁর গানের মাধমে, মানুষ কে একত্রিত করে এবং মানুষ তাঁর দিকে ছুটে আসে।
১৬তম খন্ড পৃষ্টা নং ১৩২[মসবুত]
আল্লামা কাসানী হানফী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,
যে ব্যক্তি এমন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে লিপ্ত থাকে যা নিন্দিত বা তিরস্কৃত নয় যেমন লাঠির শব্দ ও দফ এর মাধ্যমে তাঁর ন্যায়পরায়ণতা বিলুপ্ত হবে না।আর যদি বাদ্যযন্ত্র গুলি নিন্দিত হয় যেমন বীনা বা এই জাতীয় তাহলে তার আদালত বা ন্যায়পরায়ণতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কারণ এ বাদ্যযন্ত্র গুলি কোন অবস্থায় জায়েয নাই। [বাদায়ে আস্ সানায়ে ]

আল্লামা কামাল উদ্দীন ইবনে হুমাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,
হ্যাঁ যে সমস্ত কছিদা বা গজল বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে পড়া হয় যদি ও বা ঐ গজলে নছিহত ও হিকতমত রয়েছে তবুও তা নিষেধ করা হবে। নিষেধ করাটা বাদ্যযন্ত্রের কারণে গজলের কারণে নয়। [ফত্হুল কদির ]
ফতোয়া-এ-আলমগীরী তে রয়েছে,
ইমাম শমসুল আয়িম্মা হালওয়ানী বলেন,গান শ্রবণ করা এবং আমাদের দেশের ভন্ড সুফিদের নাচ-গান সব হারাম। সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা করা ও বসা হারাম, কেননা গান ও বাদ্যযন্ত্র দুনোটা এক হুকুম। [ আলমগীরী ]
আসলে আমাদের দেশের অনেক ভন্ড যারা নিজেদের কে মারফতী দাবী করে শরীয়তের সিমা থেকে বের হয়ে, সাধারণ গান বাজনাতে যে সমস্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তারাও ‘‘সেমা মাহফিল’’বলে সে গুলি দিয়ে অনুষ্টান করে এবং বড় সওয়াবের কাজ মনে করে তারাই এ কালের বড় পথ ভ্রষ্ঠ ও মূর্খ। আর যখন নিষেধ করা হবে, বলে আলেমরা কি বুঝে ? উনারা শরীয়তের আলেম আমরা শরীয়তে নাই আমরা মারফতী। [ নাউযুবিল্লাহ্ ]
আল্লামা ইবনে নুজাইম মিশরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন,
ইমাম ফকিহ বযযাবী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁর মানাকেবে উল্লেখ করেন, গান যখন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে গাওয়া যাবে তখন হারাম হওয়ার ব্যাপারে আলেম সমাজ ঐক্য মতক পোষন করেছেন। বাদ্যযন্ত্র ছাড়া গাওয়ার মধ্য মতানৈক্য রয়েছে। ব্যাখ্যা কারীরা ব্যাখ্যা দেন নাই। হ্যাঁ ‘‘নেহায়া ’’ ও ‘‘ইনায়া’’ নামক কিতাবে রয়েছে বিনোদনের জন্য গান করা প্রত্যেক ধর্মে হারাম। এবং ইমাম মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহু আলাইহি তার প্রসিদ্ধ ‘‘যিয়াদাত’’ নামক কিতাবে বলেন, যেসমস্ত অছিয়ত আমরাও আহলে কিতাবদের মতে হারাম তার মধ্যে গায়ক ও গায়িকার গানের ব্যাপাওে অছিয়ত করাও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মারা যাওয়ার পর তার পাশে বা কবরে গান গাওয়ার অছিয়ত করা যাবে না। আর যখন গান গাওয়ার ব্যাপারে ইমাম মুহাম্মদ রাহ্মাতুল্লাহু আলাইহি এর স্পষ্ট ইবারত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে উনার মাযহাব অবলম্বিদের মতানৈক্যের কোন অবকাশ থাকে না।
খন্ড-৭ পৃষ্টা ৮৮-৮৯[ বাহরুর রায়েক ]

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,৫৩৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৫ টি মন্তব্য

  1. ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন আমার উম্মতের মধ্যে এমন কতগুলু সম্প্রদায় হবে তারা আজাদ মানুষকে গোলাম, রেশমি কাপড়,মদ পান করা ও বাদ্যযন্তকে হালাল করে দিবে এবং এমন কতগুলি মানুষ পাহাড়ের পাশে থাকবে যখন তাদের জীবজন্তু নিয়ে সন্ধ্যা বেলায় ঘরে ফিরে আসবে।তখন আল্লাহ্ তা’আলা পাহাড় ধ্বসে তাদেরকে ধ্বংস করে দিবে। অন্য সম্প্রদায়কে চেহরা পাল্টিয়ে বানর ও শুকরের চেহরায় পরিণত করে দিবেন, কিয়ামত আসার পূর্ব পর্যন্ত এ শাস্তি বলবৎ থাকবে।
    (বোখারী শরিফ ২য় খন্ড)
    আমি হাদিসের কথা অবশ্যই বিশ্বাস করি কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে যারা গান বাজনা করতেছে তাদের উপর এই আজাব আসতেছেনা কেন? বা উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা কি?
    জানালে উপকৃত হব।

    jaran

    @humaid, ভাই আপনাকে ধন্যবাদ হয়ত যখন আল্লাহকে ডাকার কোন মানুষ থাকবেনা এবং সবাই গান বাজনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে তখন তাদের উপর এই আজাব আসবে আল্লাহয় ভাল যানেন

  2. আল্লাহ তায়ালা আমাদের গাজ বাজনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন (Y) (Y) (Y) ধন্যবাদ আপনাকে।

  3. Akdin naki ayasha (radi:) Rasul (sm) er shamny gan gaya chilo. Kothata kototuku sotto? A bishoy-a kisu likhly khushi hobo.

  4. ভাল হয়েছে শুকরিয়া। আরও লেখা আশা করব। আপনাকে ধন্যবাদ।