লগইন রেজিস্ট্রেশন

ওশর ও খারাজের বিধান – প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

লিখেছেন: ' লুৎফর ফরাজী' @ শুক্রবার, জুন ৩, ২০১১ (১১:৩৯ অপরাহ্ণ)

ওশরের পরিচয় :

عشر শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো جزء واحد من العشرة বা এক দশমাংশ। (হাশিয়ায়ে হিদায়া-আব্দুল হাই লাখনবি রহ.: ২/৫৭০)

পরিভাষায় عشر বলা হয় – احد اجزاء العشرة او نصفه يؤخذ من الارض العشرية (قواعد الفقه لعميم الاحسان/379)

সহজ ভাষায় ওশরী জমিনে উৎপাদিত শস্যের এক দশমাংস বা তার অর্ধেক গ্রহণ করাকে عشر বলা হয়।

عشر এর প্রমাণ :

কুরআন, হাদীস ও ইজমা ও আকলী দলীল দ্বারা ওশর প্রমাণিত।

কুরআনের দলীল :

قوله تعالى { وآتوا حقه يوم حصاده } قال عامة أهل التأويل : إن الحق المذكور هو العشر ، أو نصف العشر (بدائع الصنائع:2/169)

অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, “কর্তনের দিবসেই এর হক আদায় করে দাও। আম ভাবে ফুকাহায়ে কেরাম আয়াতের দ্বারা উদ্দেশ্য عشر বা نصف عشر বলেছেন।

و قال ابن عباس حقه الزكاة المفروضة و قال مرة العشر و نصف العشر (المغنى لابن قدامة 2/547

অর্থাৎ, ইবনে আব্বাস রা. বলেন, হকটি হলো ফরজ যাকাত। আবার বলেন, ওশর ও নিসফে ওশর ।

وقوله تعالى { يا أيها الذين آمنوا أنفقوا من طيبات ما كسبتم ومما أخرجنا لكم من الأرض } وفي الآية دلالة على أن للفقراء حقا في المخرج من الأرض حيث أضاف المخرج إلى الكل فدل على أن للفقراء في ذلك حقا كما أن للأغنياء فيدل على كون العشر حق الفقراء (بدائع الصنائع:2/17)

অর্থাৎ, আয়াতে কারীমা বুঝাচ্ছে জমিনে উৎপাদিত ফসলে গরীবের হক আছে। এমনকি পূর্ণ উৎপাদনের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সুতরাং বুঝা গেল এতে ধনীদের মতো গরীবদেরও হক আছে। তাই এ কথা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়, ওশরটা গরীবদের জন্য।

হাদীসের দলীল :

عن سالم بن عبد الله عن أبيه رضي الله عنه : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( فيما سقت السماء والعيون أو كان عثريا العشر وما سقي بالنضح نصف العشر ) (صحيح البخارى : كتاب الزكوة : باب العشر فيما يسقي من ماء السماء وبالماء الجاري : 1/201 برقم : 1453

অর্থাৎ,আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজী স. বলেন, আসমানী বা নদীনালা অথবা অন্যান্য প্রাকৃতিক পানি সিঞ্চনে যা উৎপাদিত হয় তাতে ওশর আসবে। আর যা কৃত্রিম উপায়ের পানি দ্বারা সিঞ্চিত হবে তাতে অর্ধেক ওশর লাযেম হবে।

وعن جابر أنه سمع رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : [ فيما سقت الأنهار والغيم العشر وفيما سقي بالسانية نصف العشر ] أخرجه مسلم و أبو داود (المغنى 2/547

অর্থাৎ, হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন, নবী স. বলেছেন, যা নদীনালা ও বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চনে উৎপাদিত, তাতে আসবে ওশর। আর যা কৃত্রিম উপায়ের পানি দ্বারা সিঞ্চিত, তাতে আসবে অর্ধেক ওশর।

وأما السنة فما روينا وهو قوله صلى الله عليه وسلم { ما سقته السماء ففيه العشر وما سقي بغرب ، أو دالية ففيه نصف العشر } (بدائع الصنائع:2/170)

অর্থাৎ নবীজী সা: বলেন, আসমানী পানিতে সিঞ্চিত হলে তাতে ওশর, আর বড় বালতি বা সেচ যন্ত্র দ্বারা উঠানো পানি দ্বারা সিঞ্চিত হলে অর্ধেক ওশর আসবে।

ইজমার দলীল :

وأما الإجماع فلأن الأمة أجمعت على فرضية العشر . (بدائع الصنائع:2/170)

অর্থাৎ, উম্মত ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে যে, ওশর হল ফরয।

وأجمع أهل العلم على أن الصدقة واجبة في الحنطة والشعير والتمر والزبيب قاله ابن المنذر و ابن عبد البر المغنى 2/547)

অর্থাৎ, আহলে ইলমরা একমত এ ব্যাপারে যে, নিশ্চয়ই গম, যব, খেজুর ও কিশমিশে সদকা (ওশর) ওয়াজীব।

আকলী দলীল :

وأما المعقول فعلى نحو ما ذكرنا في النوع الأول ؛ لأن إخراج العشر إلى الفقير من باب شكر النعمة وإقدار العاجز وتقويته على القيام بالفرائض ومن باب تطهير النفس عن الذنوب وتزكيتها ، وكل ذلك لازم عقلا وشرعا والله أعلم . (بدائع الصنائع:2/170)

অর্থাৎ, গরীবদের ওশর দেয়াটা নেয়ামতের শুকরিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এবং আবশ্যকভাবে দুর্বলকে সবল ও শক্তিশালী করা। এ ছাড়া এর দ্বারা মন পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়। আর এর প্রতিটি বিষয়ই ইসলামী দৃষ্টিতে ও যুক্তির নিরিখে আবশ্যকীয় বিষয়।

ওশরের শরয়ী বিধান :

উল্লিখিত আয়াত, হাদীস, ইজমা ও আকলী দলীলের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে যে, ওশরী ভূমি থেকে ওশর আদায় করা ফরয। যেমন যাকাত আদায় করা ফরয।

وأما الإجماع فلأن الأمة أجمعت على فرضية العشر . (بدائع الصنائع:2/170)

অর্থাৎ, উম্মত ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে যে, ওশর হল ফরয।

ওশর এর নিসাব :

ওশর এর নিসাব আছে কী নেই, এ ব্যাপারে দুটি মত আছে। ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতে ওশর ফরয হবার জন্য নির্ধারিত কোনো নিসাব নেই। দলীল হলো, নবীজী স. এর হাদীস ও পবিত্র কুরআনের আয়াতের আম বর্ণনা কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করছে না। আর এতে গরীবদের উপকারও রয়েছে। তাই ওশর ফরয হবার জন্য কোনো পরিমাণ নেই। যেমনটি বলা হয়েছে হিদায়ায়।

فى قليل ما اخرجته الارض و كثيره العشر (هداية مع فتح القدير 2/242)

অর্থাৎ, জমীনে কম বেশি যা-ই উৎপাদিত হবে, তাতে ওশর আসবে।

তবে, সাহেবাইন ও আইম্মায়ে সালাসার মতে পাঁচ ওয়াসাক থেকে কম পরিমাণ হলে, তার উপরে ওশর আসবে না। দলীল হলো, নবীজী স. এর হাদীস:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ليس فيما أقل من خمسة أوسق صدقة (صحيح البخارى : كتاب الزكوة : باب ليس فيما دون خمسة أوسق صدقة : 1/201)

অর্থাৎ, নবী স. বলেন, পাঁচ ওয়াসাকের নিচে কোনো সদকা (ওশর) নেই।

উক্ত হাদীসের জবাবে ফুকাহায়ে আহনাফ বলেন,

১. পাঁচ ওয়াসাকের নিচে সদকা নেই মানে হল, পাঁচ ওয়াসাকের কম হলে তা বায়তুল মালে জমা দেয়া জরুরী নয়। কিন্তু আয়াত ও হাদীসের আম অর্থ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, ঐ সম্পদের মালিক এমনিতে গরীবদের সদকা করে দিবে। বায়তুল মালে দিবে না।

সুতরাং হাদীসের অর্থ দাঁড়ায়,

ليس فيما أقل من خمسة أوسق صدقة تؤدى الى بيت المال (معارف السنن : 5/212)

২. এ হাদীসে ওশরের কথা আলোচনাই করা হয় নি। বরং, ব্যবসায়ীদের লভ্যাংশের উপর কখন যাকাত ফরয হবে, তা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমনটি বলা হয়েছে আল বাহরুর রায়েকে।

وتأويل مرويهما أن المنقى زكاة التجارة ؛ لأنهم كانوا يتبايعون بالأوساق ، وقيمة الوسق أربعون درهما (البحر الرائق : كتاب الزكوة : باب العشر : 2/415)

৩. এ হাদীসটি তৎকালীন আরবে প্রচলিত عرية (বিশেষ এক প্রকার সদকা, যাতে কোনো বৃক্ষের শুধু ফল খাবার জন্য গরীবদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হয়) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, عرية তথা عطية কৃত বৃক্ষ থেকে যাকাত আদায়কারী যাকাত উসুল করবে না যদি তা পাঁচ ওয়াসাক থেকে কম হয়। আর যদি বেশি হয় তবে যাকাত আদায় করবে। (معارف السنن 5-212)

বিস্তারিত জানতে দেখুন تحفة الالمعى لسعيد احمد بالنبورى 2-532-534

বিদগ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরী দা.বা. আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন এ কথার উপর যে, ওশর ফরয হবার জন্য যদি পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকত, তাহলে তারাবীর নামায বিশ রাকাত –এটা যেমন মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়ে এল, এ বিষয়টিও কেন মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হলো না? অথচ, আরব রাষ্ট্র থেকে নিয়ে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন রাষ্ট্রে মুসলিম শাসকরা শাসন করেছেন। সুতরাং বুঝা গেল যে, ওশর ফরয হওয়ার জন্য কোনো নিসাব নেই।

পাঁচ ওয়াসাক এর পরিমাণ কী?

বর্তমান সময়ে পাঁচ ওয়াসাক এর পরিমাণ কী এ ব্যাপারে বেশ কিছু মতভেদ আছে।কয়েকটি মত হলো এই যে,

১. আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরী দা.বা. এর মতে ৯৭৬ কিলো ৮০০ গ্রাম। (তুহফাতুল আলমায়ী ২/৫৩৩)

২. ডক্টর হিবাতুজ জুহাইলী এর মতে ৬৫৩ কেজি।

৩. ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ তাইয়্যার এর মতে ৬৭৫ কেজি। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ২/৬১-৬২)

৪. মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া এর মতে তিনটি : ক. ২১ মণ ৮ ছটাক খ. ২৫ মণ ৫ ছটাক গ. ২৭ মণ

উল্লিখিত পরিমাণের দিকে তাকালে আমরা সর্বোচ্চ পরিমাণ দেখি ১০৮০ কেজি, আর সর্বনিম্ন পরিমাণ দেখি ৬৫৩ কেজি।

انفع للفقراء হিসেবে আমরা ৬৫৩ কেজির বর্ণনাটির উপর আমল করতে পারি। কিংবা মুহাক্কিক পালনপুরী দ.বা এর তাহকীকের উপর নির্ভর করে ৯৭৬ কিলো ৮০০ গ্রামের উপর ফতোয়া দেয়া যায়।

খারাজের পরিচয় :

الخراج ما يخرج من الارض – و سمى به ما يأخذه السلطان من وظيفة الارض و الرأس (হাশিয়ায়ে হিদায়া-আব্দুল হাই লাখনবি রহ.) 2/570

অর্থাৎ, খারাজ বলা হয় যমিনের উৎপাদন থেকে যা বের করা হয়। মূলত খারাজ নামকরণ করা হয় যা বাদশা কর্তৃক জমীন বা ব্যক্তির উপর নির্ধারিত ফি গ্রহণ করাকে। এটা মূলত অমুসলিমদের উপর ধার্য করা হয়।

এক কথায়, খারাজ বলা হয়, বাদশা কৃর্তক ধার্যকৃত ভূমি রাজস্বকে। এজন্যই বাদশা ইচ্ছে করলে একে মাফও করে দিতে পারে। কিন্তু ওশর মাফ করার কোনো অধিকার বাদশার নেই। কেননা এটা ইবাদাত। যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

و فى الدر: (ترك السلطان) أو نائبه (الخراج لرب الأرض) أو وهبه ولو بشفاعة (جاز) عند الثاني وحل له لو مصرفا وإلا تصدق به به يفتى … (ولو ترك العشر لا) يجوز إجماعا ويخرجه بنفسه للفقراء (الدر المختار مع رد المحتار 6/313)

খারাজের বিধান :

মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের কাছে খারাজ উসুল করে দেয়া ওয়াজীব। ইসলামী আইন অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে খারাজের বিধান কার্যকর হবে না। কারণ মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান খারাজ উসুল করে বায়তুল মালে জমা করে। এবং এর দ্বারা اعلاء كلمة الله এর জন্যে। এ কাজ মুসলিম আইনে পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া সম্ভব নয়। সুতরাং, সঙ্গত কারণেই এটা উসুল করার আবশ্যকতা থাকে না। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ২/৫৫-৫৬)

ফুকাহাদের ভাষায় ওশরী ও খারাজী ভূমি :

قال فى الدر : ( وما أسلم أهله ) طوعا ( أو فتح عنوة وقسم بين جيشنا…) … ( عشرية ) لأنه أليق بالمسلم وكذا بستان مسلم أو كرمه كان داره – قال ابن عابدين : وحاصله : أنه سيأتي أن ما أحياه مسلم يعتبر قربة عند أبي يوسف وعند محمد يعتبر الماء والمعتمد الأول (الدر المختار مع رد المحتار: كتاب الجهاد: باب العشر والخراج والجزية 6/290)

و قال ابن عابدين ايضا: و قدمنا عن الدر المنتقى أن المفتى به قول ابى يوسف – أنه يعتبر القرب (6/302)

و فيه ايضا: ( وما فتح عنوة و ) لم يقسم بين جيشنا إلا مكة سواء ( أقر أهله عليه ) أو نقل إليه كفار أخر ( أو فتح صلحا خراجية ) لأنه أليق بالكافر

و فى البدائع: الإسلام وأنه شرط ابتداء هذا الحق فلا يبتدأ بهذا الحق إلا على مسلم بلا خلاف ؛ لأن فيه معنى العبادة والكافر ليس من أهل وجوبها ابتداء فلا يبتدأ به عليه . وكذا لا يجوز أن يتحول إليه في قول أبي حنيفة (بدائع : 2/171)

و فيه ايضا: أما شرائط المحلية فأنواع منها أن تكون الأرض عشرية فإن كانت خراجية يجب فيها الخراج ولا يجب في الخارج منها العشر فالعشر مع الخراج لا يجتمعان في أرض واحدة عندنا . (بدائع : 2/175)

و فى الهندية : من أحيا أرضا مواتا فإن كانت من حيز أرض الخراج فهي خراجية وإن كانت من حيز أرض العشر ، فهي عشرية ، وهذا إذا كان المحيي لها مسلما أما إذا كان ذميا ، فعليه الخراج ، وإن كانت من حيز أرض العشر . (هندية: 2/237)

و فيه ايضا: من أسلم من أهل الخراج أخذ منه الخراج على حاله ، ويجوز أن يشتري المسلم أرض الخراج من الذمي ، ويؤخذ منه الخراج كذا في الهداية… الذمي إذا اشترى أرضا عشرية قال أبو حنيفة وزفر رحمهما الله تعالى يؤخذ منه الخراج كذا في الزاد . (هندية: 2/240)

ফিকহী কিতাবে বিধৃত উক্ত ইবারতগুলোর দিকে গভীর দৃষ্টি দিলে ওশরী ও খারাজী ভূমি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ওশরী ভূমি :

১. কোনো জমিনের মালিকেরা স্বেচ্ছায় মুসলমান হয়ে গেলে তাদের ভূমি ওশরী হয়ে যাবে।

২. মুসলিম সেনাপতি কোনো কাফের রাষ্ট্র বিজয়ের পর সে এলাকার জমি মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দিলে।

৩. কোনো অনাবাদী জমি মুসলমান আবাদ করলে তার পাশের জমি ওশরী থাকলে তাও ওশরী বলে সাব্যস্ত হবে।

৩. মুসলমান থেকে ওশরী জমি কিনলে তা ওশরী হিসেবেই বাকি থাকবে।

৪. যে ভূমির অবস্থা জানা নেই তাও ওশরী বলে ধর্তব্য হবে।

খারাজী ভূমি :

১. কোনো ভূমি মুসলিম সেনাপতি বিজয়ের পর মুসলমানদের মাঝে বন্টন না করে কাফেরদের কাছেই রেখে দিলে

২. সন্ধির মাধ্যমে বিজিত এলাকার ভূমি

৩. কাফের কোনো অনাবাদি ভূমি আবাদ করলে, চাই তা ওশরী ভূমির পাশে হোক বা খারাজী ভূমির পাশে হোক।

৪. মুসলমান খারাজী ভূমির পাশের অনাবাদী ভূমি আবাদ করলে

৫. কাফের থেকে ভূমি ক্রয় করলে

৬. খারাজী ভূমি কখনো ওশরীতে পরিণত হবে না। তবে ওশরী ভূমি খারাজীতে পরিণত হতে পারে। যেমন মুসলমান থেকে জিম্মি ওশরী ভূমি ক্রয় করলে তা খারাজী ভূমিতে পরিণত হয়ে যায়।

কোন কোন ফসল থেকে ওশর উসুল করা হবে:

কোনো ফসলে ওশর আসবে এ ক্ষেত্রে কুরআনের ভাষায় وآتوا حقه يوم حصاده তথা কর্তিত ফসল বলেছে। এবং ومما اخرجنا لكم من الارض তথা জমীন থেকে যা উৎপন্ন হয় বলেছে। ঠিক হাদীসেও একই কথা বলেছে। ما اخرجت الارض ففيه العشر বলে জমীন থেকে উৎপাদিত ফসলের উপর যাকাত ফরয বলে সাব্যস্ত করেছে। জমীন থেকে উৎপাদিত হয় এমন যে সকল ফসল মানুষ উৎপাদন করে সব গুলোর উপরই ওশর আসবে।

এ ক্ষেত্রে আবশ্যকভাবেই একটি শর্ত চলে আসে আর তা হলো, যা প্রয়োজনীয় মূল্যবান সামগ্রী তাতে ওশর আসবে, অন্য কিছুতে নয়। এটা বলাই বাহুল্য। সে হিসেবে ধান, পাট, গম, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাচা মাল ইত্যাদি, এমনকি যেই বাঁশ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে উৎপন্ন করা হয়, তাতেও ওশর আসবে।

فى الخانية على هامش الهندية : فى كل ما تخرجه الارض من الحنطة و الشعير و الدخن و الارز و اصناف الحبوب و البقول و الرياحين و الاوراد و الرطاب و قصب السكر و الذيرة و البطيخ و العناء و الخيار و الباذنجان و العصفر و اشباه ذلك لها ثمرة باقية يجب فيها العشر فى قول ابى حنيفة رحمه الله تعالى … و لو جعل ارضه مشجرة او مقصبة يقطعها و يبيعها فى كل سنة كان فيه العشر و كذا لو جعل فيها القت للدواب (خانية على هامش الهندية 1/276)

বাংলাদেশের ভূমি ওশরী না খারাজী ?

বাংলাদেশের ভূমি ওশরী না খারাজী এ ব্যাপারে একদল ওলামা বলেন খারাজী। তাদের যুক্তি হলো, বাংলাদেশ ছিল পৌত্তলিকদের দেশ। এখানে সর্বপ্রথম মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান কুতুবুদ্দীন আইবেক এর সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী ১২০৩ খ্রীষ্টাব্দে বাংলা বিজয় করেন। বিজয়ের পর তিনি বাংলাদেশের ভূমি মুসলমানদের মাঝে গণিমতের মাল হিসেবে বন্টন করেছিলেন কিনা একথা ইতিহাসে পাওয়া যায় না।

তবে স্বাভাবিক যুক্তিতে এ কথাই বুঝে আসে যে, এ বিশাল বাংলা যেমন পূর্বে হিন্দুদের হাতে ছিল, এমন জমীন ছিল রাষ্ট্রের অধীন, তেমনি রেখে দিয়েছিলেন বখতিয়ার খিলজী। তাদের সাথে খারাজের চুক্তি সাধন । করেন, ওশরের নয়। কারণ ওশর কাফেরদের সাথে হয় না। যা তার নিযুক্ত গভর্নরের মাধ্যমে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত পৌঁছত। আর আমরা জানি, মুসলিম বাহিনী কর্তৃক বিজিত এলাকা মুসলমানদের মাঝে বন্টন না করলে তা খারাজী ভূমি হিসেবেই বাকি থাকে। আর যে ভূমিতে একবার খারাজ সাব্যস্ত হয়, তা চিরকাল খারাজীই থাকে। সুতরাং, এ সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় যে, বাংলাদেশের ভূমি খারাজী। ওশরী নয়। (ইসলামী অর্থনীতির আধুনিক রূপায়ন: ৩০৭-৩০৮)

তাহকীকী ফায়সালা :

পৌত্তলিক অধ্যুষিত বাংলায় যেহেতু সর্বপ্রথম মুসলিম সেনাপতি হিসেবে বখতিয়ার খিলজি এ দেশ স্বাধীন করেন তাই তার কর্মকান্ডের উপর মূলত এ দেশের ভূমি ওশরী ও খারাজী হওয়া নির্ভরশীল। তিনি কী ফায়সালা করেছিলেন ইতিহাসে তা সংরক্ষিত নেই একথা সুস্পষ্টভাবে বলা যায়না, কেননা বিভিন্ন ইতিহাস সংকলন থেকে আমরা সে ব্যপারে একটি সামগ্রিক ধারণা লাভ করতে পারি। এছাড়াও ১২০৩ খ্রীষ্টাব্দে এ দেশ স্বাধীন হবার পূর্বে এ দেশের মুসলমানদের অবস্থা কী ছিল, এ বিষয়ে ও ইতিহাস থেকে জানা যায়।

ভারতের মুসলিম শাসনামলে (১২০১-১৭৫৭) প্রাচীন কালের ভূমির ওপর করারোপের পদ্ধতীর তেমন পরির্তন হয়নি। তবে করের পমিাণ কখনও উৎপাদিত পণ্যের এক – তৃতীয়াংশে, কখনওবা অর্ধাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনামলেও (১৭৫৭-১৯৪৭) ভারতীয় প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য বারতে সনাতনী ভূকমকর ব্যবস্থা বলবৎ রাকা হয়্ ব্রিটিশরা জমিদার সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে প্রত্যক প্রজার কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করে। সাধারণত উৎপাদিত পণ্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা হতো। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই করা আদায় ছিল দমনমূলক এবং অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্যের অর্ধেরেও বেশি কর হিসেবে আদায় করা হতো। ১৭৯৩ সনের

মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রচিত দেওবন্দ আন্দোলন : ইতিহাস ও ঐতিহ্য অবদান বইটি থেকে ১২০৩ খ্রীষ্টাব্দের পূর্বের বাংলাদেশী মুসলমানদের অবস্থার চিত্রটি হুবহু তুলে ধরছি।

“পূর্ব ভারত তথা বাংলাদেশীয় অঞ্চলে মুসলমানদের শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয় কুতুবুদ্দীন আইবেকের সেনাপতি ইখতিয়ারুদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক ১২০৩ খ্রীষ্টাব্দে। অবশ্য এর বহু পূর্বেই এ দেশে মুসলমানদের তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এমন কি চট্টগ্রাম অঞ্চলে তারা একটি ক্ষুদ্র শাসন ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছিল। পরে রোসাঙ্গরাজ সুলতৈং চন্দয় এর অভিযানে সেটি ভেঙ্গে পড়ে। এ থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুসলমানদের তৎপরতা কত প্রবল ছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়। মুসলিম ভৌগলিক ও পর্যটকটরা উল্লেখ করেছেন, খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতকের এ দিকে চট্টগ্রাম বন্দর আরব উপনিবেশে পরিণত হয়। এবং আরাকান থেকে মেঘনার পূর্ববর্তী এলাকা সমূহে আরব বনিকদের কর্মতৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। রংপুরে হিজরী ২০০ সালের এ দিকে মুসলিম সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে ৭৮৬-৮০৯ খ্রীষ্টাব্দের একটি মুসলিম আমলের মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। তা ছাড়া বহু প্রাচীন আউলিয়ে কিরামের খানকাহ ও মাজারের নিদর্শনাবলি সেকালে এ দেশে মুসলিম তৎপরতার বিষয়টিকে আরও সুষ্পষ্ট করে দেয়। সে সময় মুসলমানরা সুদূর সিংহলেও তাদের কর্মতৎপরতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এবং একই নিয়মে তারা সেখানেও বসতি গড়ে তোলে। বলতে গেলে মুসলিম শাসকদের আগমনের পূর্বেই সুফি সাধক ও ধর্ম প্রচারকদের তৎপরতায় এ দেশে মুসলিম শাসনের অনকূল ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। (প্রাগুক্ত : ২৬-২৭)

জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকার ১৪১৫-১৬ হিজরী সনের ফারেগীন ছাত্রদের সংকলিত ‘হাদীস শাস্ত্র ও তার ক্রমবিকাশ’ নামক ইতিহাস সংকলন বইটির ‘বাংলাদেশে ইলমে হাদীস’ শিরোনামে যে আলোচনা করা হয়েছে, তা হুবহু নিচে উদ্ধৃত হলো:

এ সময় আরব বনিকদের মাধ্যমে বাংলার দক্ষিণপূর্ব উপকুলে ইসলামের অমীয় বাণী প্রবেশ করে বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। সম্ভবত এ সময়ই বাংলাদেশে হাদীসের আলো পৌঁছেছিল।

ঐতিহাসিক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, খৃষ্টীয় সপ্তম শতকে হযরত ওমর রা. এর শাসনামলে কয়েক জন ধর্ম প্রচারক হযরত মামুন ও হযরত মুহাইমিনের নেতৃত্বে এ দেশে আগমন করেন। দ্বিতীয় বার হযরত হামেদুদ্দীন মুর্তজা, আব্দুল্লাহ ও আবু তালেব রহ. ইসলামের প্রচার অভিযানে এ দেশে আগমন করেন। খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে খলীফার নামাঙ্কিত মোহর প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কার্যে পাওয়া যাওয়ায় গবেষকগণ মনে করেন যে, সে সময় হয়তো এ দেশে মুসলিম বণিকদের সমাগম হয়েছিল।এরপর ৮৭৪ খৃষ্টাব্দে হযরত বাইজিদ বোস্তামী চট্টগ্রামে, ১০৪৭ খৃষ্টাব্দে সুলতান মাহমুদ মাহীসাওয়ার বগুড়ার মহাস্থানগড়ে, শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী ১০৫৩ খৃষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোণা এলাকায় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমণ করেন।

খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বল্লাল সেনের শাসনামলে বাবা আদম শহীদ র. এদেশে ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানা যায়। এ শতাব্দীতে হযরত ফরীদ উদ্দীন গঞ্জে শকর (১১৭৭-১২৬৯ ইং) চট্টগ্রামে হযরত শাহ মাখদুম রূপোস (১১৮৪ ইং) রাজশাহীতে ব্যাপক ভাবে ইসলাম প্রচার করেন। (হাদীস শাস্ত্র ও তার ক্রম বিকাশ : ১০৮-১০৯)

উল্লিখিত ঐতিহাসিক চিত্র এ কথাই প্রমাণ করছে যে, বখতিয়ার খিলজী এ দেশে আসার পূর্বেই বাংলাদেশে প্রচুর মুসলমান ছিল। আর এ কথাও ঐতিহাসিক সত্য যে, আগত মুসলিম মনীষীদের ব্যাপক হাদিয়া তোহফা দিত এদেশের সাধারণ জনগণ। সুতরাং কয়েকটি সঙ্গত কারণ বিবেচনা করে আমাদের দেশের ভূমি ওশরী, খারাজী নয়, বলেই সাব্যস্ত হয়। যথা:

ক.

বখতিয়ার খিলজীর ১২০৩ খৃষ্টাব্দের বাংলা বিজয়ের পূর্বেই প্রচুর পরিমাণ মুসলিম মনীষীদের সাহচর্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমানদের ভূমিকে খারাজী বলে সাব্যস্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং তা ওশরী হিসেবেই ছিল। সেই ভূমি কতখানি বা কতগুলি তা জানা নেই। কিন্তু তাদের ভূমি যে ওশরী ছিল এটা নিশ্চিত। কিন্তু বাকি হিন্দুদের অধিকৃত ভূমি খিলজী ভাগ করে দিয়েছিলেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। ঠিক তেমনি পূর্ব অবস্থায় বহাল রেখেছেন কিনা, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। তবে পূর্ব অবস্থায় রেখেছেন বলেই মনে হয়। কিন্তু মনে হওয়া এক জিনিস আর নিশ্চিত হওয়া ভিন্ন জিনিস।

সুতরাং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ভূমি খারাজী এ কথা দ্বিধাহীন ভাবে বলা যায় না। কিন্তু কিছু ভূমি যে ওশরী এ কথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায়।

আর উসুল হলো যে ভূমি ওশরী নাকি খারাজী তাতে সন্দেহ হয়, তাকে ওশরী সাব্যস্ত করা হয়। সে হিসেবে এ দেশের ভূমি ওশরী হওয়াই সঙ্গত।

কেননা ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, ওশর হলো মুসলমানদের অনুকূল বিষয় কারণ তাতে ইবাদাতের অর্থ আছে। আর খারাজ হলো কাফেরদের অনুকূল বিষয়, কারণ তাতে শাস্তির ধাঁচ আছে।

তা ছাড়া প্রাথমিকভাবে মুসলমানদের উপর খারাজ কিছুতেই লাযেম হতে পারে না।

قال فى الدر : ( عشرية ) لأنه أليق بالمسلم – قال ابن عابدين : أي لما فيه من معنى العبادة وكذا هو أخف حيث يتعلق بنفس الخارج (الدر المختار مع رد المحتار: كتاب الجهاد: باب العشر والخراج والجزية 6/290)

و فيه ايضا : ( أو فتح صلحا خراجية ) لأنه أليق بالكافر – قال ابن عابدين : لأنه يشبه الجزية لما فيه من معنى العقوبة ولأن فيه تغليظا حيث يجب وإن لم يزرع (الدر المختار مع رد المحتار: كتاب الجهاد: باب العشر والخراج والجزية 6/292)

খ.

ফুকাহায়ে কিরামের কাছে স্বীকৃত একটি কায়দা হলো,

الاحتياط فى حقوق الله – لا فى حقوق العباد (قواعد الفقه : الرقم:10)

অর্থাৎ, হুকুকুল্লাহর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, বান্দার হকের ক্ষেত্রে নেয়।

আমরা জানি ওশর হলো حق الله এটা ফরয।এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট একটি ইবাদাত। একে زكوة الارض ও বলা হয়। এক কথায় এটি যাকাতের এক প্রকার। আর যাকাত অনাদায়কারী ব্যক্তির শাস্তি কী ভয়ংকর এবং এর প্রতি ভর্ৎসনামূলক হুশিয়ারি কুরআন ও হাদীস দ্বারা আমরা জানি। সে হিসেবেও সতর্কতা স্বরূপ বাংলাদেশের ভূমি ওশরী হবার দাবী রাখে। কারণ খারাজী হবার সুনির্দিষ্ট দলীল নেই। তাই সতর্কতা স্বরূপ ইবাদাত ওশরকে আবশ্যক করে নেয়াই যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়।

গ.

তাছাড়া انفع للفقراء হিসেবেও ওশর লাযেম হবে বলে প্রতীয়মান হয়। কেননা খারাজী ভূমিতে মুসলিম শাসক না থাকলে কিছুই কাউকে দিতে হয় না। পক্ষান্তরে ওশরী ভূমি থেকে ওশর শাসক না থাকলেও আদায় করতে হয়।

উল্লিখিত সঙ্গত কারণে বাংলাদেশের ভূমি খারাজী নয়, বরং ওশরী, এ সিদ্ধান্তে পৌঁছা যেতে পারে।

اللهم ارنا الحق حقا و ارزقنا اتباعه و ارنا الباطل باطلا و ارزقنا اجتنابه

والله اعلم بالصواب

সংকলনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
ইমেইল-lutforfarazi@yahoo.com

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৪৩৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.০০)

৮ টি মন্তব্য

  1. আল্লাহ তায়ালা আপনার প্রচেষ্ঠাকে কবুল করুন। ধন্যবাদ (F)

    lutforfarazi

    আমীন। আপনাদের মত সুন্দর মনের মানুষদের উৎসাহকেও আল্লাহ তা’য়ালা কবুল করেন।

    lutforfarazi

    @মুসাফির, আমীন। ছুম্মা আমীন। আপনাদের উৎসাহকেও।

  2. তথ্যবহুল লেখা। ধন্যবাদ অপনার লেখা গুলি আমার ভাল লাগে। (F) (F) (F) (F) (F) (F)

    lutforfarazi

    @রাসেল আহমেদ, جزاك الله خيرا

  3. আপনার কলম সেবা কে আল্লাহ কবুল করুন। (Y)

    lutforfarazi

    @সত্যের সন্ধানী ১০০%, আমীন। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের মত ভালো মানুষদেরও কবুল করুন।