লগইন রেজিস্ট্রেশন

সারা পৃথিবীতে একই সময়ে ঈদ: দাবী ও বাস্তবতা

লিখেছেন: ' লুৎফর ফরাজী' @ মঙ্গলবার, মে ৩১, ২০১১ (১:৩৮ অপরাহ্ণ)

ভুমিকা

চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলী। রোজা, ঈদ, কুরবানীসহ হজ্বের মত ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী। সুতরাং চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে পরিস্কার ধারণা না থাকলে এই সকল বিষয়ে সমস্যা হতে বাধ্য। সুতরাং প্রতিটি মুসলমানের এ বিষয়ে পরিচ্ছন্ন জ্ঞান থাকা আবশ্যক। ইসলাম একটি সার্বজনীন ধর্ম। গোটা পৃথিবীর সকল অঞ্চলের বিগত-আগত ও অনাগত সকল মানুষের জন্য কার্যকরী “স্রষ্টা” কর্তৃক নির্ধারিত একটি জীবন ব্যবস্থা।

ইসলাম কোন ভৌগলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ ধর্ম নয়, ইসলাম ধর্মকে সার্বজনীন আখ্যা দিয়ে পবিত্র কুর’আনে ইরশাদ হচ্ছে- { وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ (سبأ: 28) } অর্থাৎ আমি (আল্লাহ তা’য়ালা) তোমাকে (রাসূল সা.) সকল মানুষের জন্য সুসংবাদ দাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি, যদিও অধিকাংশ লোক তা জানেনা। অন্য আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা হয়েছে-[" إن الدين عند الله الاسلام " [ آل عمران: 19 অর্থাৎ আল্লাহ তা’য়ালার কাছে মনোনিত দ্বীন হলো ইসলাম। আর এই দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য সকলের উপর আবশ্যক। যেমন পবিত্র কুর’আনে ইরশাদ হচ্ছে -{ ياأيها الذين ءَامَنُواْ ادخلوا فِي السلم كَافَّةً } [ البقرة : 208 ] অর্থাৎ তোমরা ইসলাম ধর্মে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবিষ্ট হও।

উল্লেখিত আয়াতে কারীমার মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে, সকল মানুষের জন্য আল্লাহ তা’য়ালার মনোনিত দ্বীন হলো ইসলাম, আর রাসূল কারীম সা. কে সকল মানুষের জন্য পথ প্রদর্শক হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য বা নির্দিষ্ট মানুষের জন্য নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই এর বিধানাবলী ও সার্বজনীন হবে, কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল বা নির্দিষ্ট মানুষের নির্ধারিত সময় ভিত্তিক হবেনা এটাই যৌক্তিক। আর একারণেই ইসলামী শরীয়তের সকল বিধান আমভাবে বর্ণিত হয়েছে। সময়ের সীমা নির্ধারিত করে দিয়েছে, কিন্তু প্রচলিত নির্ধারিত সময় নির্ধারিত করে দেয়নি, কিংবা কোন অঞ্চলের সময়ের অনুস্বরণ করার কথাও কুর’আন হাদীসের কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিধানের প্রতি আমরা দৃষ্টি বুলালেই এর বাস্তবতা আমাদের চোখে ধরা পড়বে। যেমন-আল্লাহ তা’য়ালা রোজা রাখার বিধানে সময়ের সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে ইরশাদ করেন-

وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آَيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ (سورة البقرة-187)

-“সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্য অস্ত যাবার আগ পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস থেকে মুক্ত থাকতে হবে।” গোটা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য একই বিধান। এখন প্রশ্ন হলো-আল্লাহ তা’য়ালার এই বিধান পৃথিবীর সব মানুষ একই সময়ে আদায় করতে সক্ষম হবে? অবশ্যই না, কারণ পৃথিবীর সকল স্থানে এক সময়ে সুবহে সাদিক ও সূর্যাস্ত যাওয়া অসম্ভব, তাই এক সময়ে এ বিধান সবার আদায় করা সম্ভব নয়, কিন্তু একই গুন সম্পন্ন সীমায় এই বিধান পৃথিবীর সকল মুসলমানের জন্য পালন করা সম্ভব। কারণ পৃথিবীর সকল স্থানেই সুবহে সাদিক যেমন আসে, ঠিক সূর্যাস্ত ও যায়, যদিও এক সময়ে নয়। সুতরাং পৃথিবীর সব মুসলমান রোযা রাখার বিধান আল্লাহ তা’য়ালার বেঁধে দেয়া গুন বিশিষ্ট (সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকা) সীমার মধ্যে আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। যদিও এক সময়ে আদায় করা সম্ভব নয়, কারণ পৃথিবীর এক স্থানে যখন সূর্য উঠে অন্য স্থানে তখন অস্ত যায়, বা এক স্থানে যখন দুপুর অন্য স্থানে তখন বিকাল বা রাত। এমনিভাবে নামাযের সময়ের ক্ষেত্রে ও একই পদ্ধতী প্রযোজ্য। অর্থাৎ কুর’আন ও হাদীসে আমাল আদায়ের যেই গুন বিশিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে তা যে এলাকায় পাওয়া যাবে, সে এলাকার বাসিন্দাদের উপর সেই আমাল তখন আদায় করা আবশ্যক। যে এলাকায় সেই গুন বিশিষ্ট সীমা আসেনি তাদের উপর আবশ্যক নয়, কারণ তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা আদেশ মানা হবেনা বরং তা মনের পূজা বা যেই এলাকার সময় হিসেবে ইবাদাত আদায় করা হচ্ছে সেই এলাকা পূজা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারেনা।

চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে শরয়ী দৃষ্টিকোণ

মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন

هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاء وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُواْ عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلاَّ بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ (سورة يونس-5)

তিনি ঐ সত্বা! যিনি সুর্যকে সৃষ্টি করেছেন দীপ্তিশালী ও চন্দ্রকে আলোকময়, এবং তার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন তার কক্ষপথ,যাতে তোমরা তার সাহায্যে বছর গণনা ও তারিখ হিসেব করতে পার। এগুলোকে তিনি যথার্থ কারণেই সৃষ্টি করেছেন,তিনি তার নিদর্শনাবলী বিশদভাবে ব্যাক্ষা করেছেন জ্ঞানীদের জন্য।(সুরা ইউনুস, আয়াত-৫)

মুফাসসিরীনে কিরাম উক্ত আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে বলেন-মহান রাব্বুল আলামীন সুর্য দ্বারা দিনের সময় আর চন্দ্র দ্বারা মাস ও বছরের হিসেব নির্ধারণ করেছেন।

وقال في هذه الآية الكريمة: { وقدره } أي: القمر { وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ } فبالشمس تعرف الأيام، وبسير القمر تعرف الشهور والأعوام(. تفسير ابن كثير – 4 / 247)

উক্ত আয়াত ও তার তাফসীর দ্বারা একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, কোন মাস শেষ হয়েছে কী না? তা নির্ধারিত হবে চন্দ্রের দ্বারা। অর্থাৎ চাঁদের উদয় ও অস্ত দেখে নিরূপিত হবে মাস শুরু হয়েছে ও শেষ হয়েছে কী না? আর এদিকেই ইংগিত করে আল্লাহর নবী সা: বলেন

محمد بن زياد قال سمعت أبا هريرة رضي الله عنه يقول : قال النبي صلى الله عليه و سلم أو قال قال أبو القاسم صلى الله عليه و سلم ( صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته فإن غبي عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلاثين ) )كتاب الصوم- باب قول النبي صلى الله عليه و سلم ( إذا رأيتم الهلال فصوموا وإذا رأيتموه فأفطروا – صحيح البخاري – 2 / 674)

وبإسناده سمعت أبا القاسم صلى الله عليه وسلم يقول صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته فإن غم عليكم فعدوا ثلاثين (مسند أحمد – الجزء السادس العشر-16 / 91)

অনুবাদ-(১) আবু হুরায়রা রা: বলেন, আল্লাহর নবী সা: বলেছেন-তোমরা (চাঁদ) দেখে রোযা রাখ ও (চাঁদ) দেখে রোযা ভাঙ্গো,(বুখারী শরীফ-২/৬৭৪)

(২) নবী সা: বলেছেন-তোমরা (চাঁদ) দেখে রোযা রাখ ও (চাঁদ) দেখে রোযা ভাঙ্গো, আর যদি তোমাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা ৩০ দিন পূর্ণ কর। ( মুসনাদে আহমাদ-১৬ /৯১)

উক্ত হাদিসে নববীতে আল্লাহর নবী আমাদের মূলনীতি নির্ধারিত করে দিলেন যে চাঁদ দেখা গেলে বুঝা যাবে মাস শেষ, নতুন মাস শুরু হয়েছে। তাই রমযানের চাঁদ দেখা গেলে রোযা রাখবে আর শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে রোযা ভেঙ্গে ফেলবে। আর দ্বিতীয় হাদিসটির দ্বারা বুঝা গেল ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ দিন পূর্ণ হলে মাস শেষ হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। এর কোন ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য নয়।

সুতরাং যে এলাকায় রোযা বা ঈদের চাঁদ দেখা যাবে সেই এলাকা ও তার পাশের এলাকা যার উদয়াচল এক (তথা উক্ত এলাকার সাথে সময়ের এত পার্থক্য নয় যে, সেখানে কখনো এ এলাকার মাসের হিসেবে কখনো ২৮ বা ৩১ তারিখ হয়ে যায়)তাদের জন্যই কেবল রোযা ও ঈদ আবশ্যক হবে। উদায়াচল ভিন্ন অন্য এলাকার জন্য উক্ত চাঁদ দেখার দ্বারা শরয়ী হুকুমের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব পড়বেনা।

اختلاف مطالع তথা উদায়াচলের ভিন্নতা

উদায়াচলের ভিন্নতা বলা হয় সুর্যাস্ত ও সুর্যোদয়ের সময়ের ভিন্নতার কারণে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকার সময়ের মাঝে একদিন বা তারচে’ বেশি দিনের পার্থক্য হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ এক এলাকায় যখন মাসের ৩০ বা ২৯ তারিখ হয়ে চাঁদ উঠছে তথা মাস শেষ হচ্ছে দূরবর্তী অন্য দেশে তখন মাসের ২৮ বা ৩১ দিন হয়ে যাচ্ছে। এরকম যদি কোন দেশের সাথে অন্য দেশের দূরত্ব হয়, বুঝা যাবে যে, এ দুই দেশের উদয়াচল ভিন্ন, এক নয়। সুতরাং এ দুই দেশের মাঝে এক দেশে চাঁদ উঠলে অন্য দেশেও চাঁদ উঠেছে বলে শরয়ী বিধান কার্যকর হবেনা।

যেমন সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের উদায়াচলের পার্থক্য আছে, অর্থাৎ সৌদির মাস আমাদের একদিন আগে বা পড়ে শেষ হয়, সুতরাং সে দেশে রোযা বা ঈদের চাঁদ উঠলে বাংলাদেশে রোযা বা ঈদ করা যাবেনা। বরং বাংলাদেশ বা পার্শবর্তী দেশে যদি চাঁদ উঠে, যাদের সাথে বাংলাদেশের উদায়াচলের পার্থক্য নেই (ভারত, পাকিস্তান, বার্মা ইত্যাদী) তবে সে দেশের চাঁদ উঠার সংবাদ যদি আমাদের কাছে শরয়ী মানদন্ডে নির্ভরযোগ্য সুত্রে পৌঁছে, তবে আমাদের দেশের হেলাল কমিটি তা গ্রহণ করে সারা দেশে প্রচার করবে। ফিক্বহী কিতাবে উক্ত বক্তব্যের পক্ষে নিম্নের ইবারত পাওয়া যায়-

هذا إذا كانت المسافة بين البلدين قريبة لا تختلف فيها المطالع فأما إذا كانت بعيدة فلا يلزم أحد البلدين حكم الآخر لأن مطالع البلاد عند المسافة الفاحشة تختلف فيعتبر في أهل كل بلد مطالع بلدهم دون البلد الآخر بدائع الصنائع -2/224-225كتاب الصوم / فصل وأما شرائطها)

أنه ليس بين تلك البلاد بعد كثير بحيث تختلف به المطالع لكن ظاهر الاطلاق يقتضي لزوم عامة البلاد ما ثبت عند بلدة أخرى فكل من استفاض عندهم خبر تلك البلدة يلزمهم اتباع أهلها ويدل عليه قوله فيلزمهم اهل المشرق برؤية اهل المغرب ” (منحة الخالق على البحر الرائق 2/271)

সারা পৃথিবীতে একই সময়ে ঈদ করার দাবী হাস্যকর

পৃথিবীর ভৌগলিক অবস্থা সম্পর্কে যার সাধারণ জ্ঞান রয়েছে সে কখনো একথা বলতে পারেনা যে, সারা পৃথিবীতে এক সময়ে ঈদ করা সম্ভব। কারণ আমরা জানি পৃথিবীতে রাত দিনের পার্থক্য কেন হয়? পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, নিজ অক্ষের উপর ও আবর্তিত হয়। পৃথিবী তার মেরু রেখার উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে। পৃথিবী তার মেরু রেখার চারদিকে এভাবে ঘুরে আসতে প্রায় ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। এ চব্বিশ ঘন্টাকে বলা হয় এক দিন। পৃথিবীর এ দৈনিক গতির নাম আহ্নিক গতি। এ আবর্তের সময় পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের দিকে থাকে সে অংশে তখন দিন এবং অপর অংশে রাত হয়। আর একারণেই বাংলাদেশে যখন দিন তখন আমেরিকাতে রাত হয়। সুতরাং বাংলাদেশে চাঁদ উঠলে আমেরিকাতে ঈদ করতে হলে ঈদের জামাত গভীর রাতে করা ছাড়া কোন পথ আছে কী? আর ঈদের নামায দিনের বেলা না পড়ে রাতে পড়ার বিধান আল্লাহ প্রদত্ব না নিজে বানানো? সৌদিতে বাংলাদেশে অফিস টাইম হয়েছে বলে যে সকল রাষ্ট্রে এখনো রাত বা অফিসের সময় হয়নি তাদের ও অফিসে যেতে হবে’ এ দাবী যেমন পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয়, ঠিক তেমনি সৌদিতে বা বাংলাদেশে আল্লাহ তা’য়ালার নির্দিষ্ট কোন ইবাদতের সময় হয়েছে বলে তা যে রাষ্ট্রে এর সময় হয়নি তাদের ও তা “পালন করতে হবে” বলার কথা মানসিকভাবে সুস্থ্য মানুষ বলতে পারে? সুতরাং শুধু আবেগ নয় বাস্তবতার নিরিখে চিন্তা করলে এ অদ্ভূত দাবীটি হাস্যকর ছাড়া অন্য কিছু বলে মনে হয়না।
একতার ভূয়া ধোঁয়া

যারা পৃথিবীতে একই সময়ে ঈদ করার দাবী উত্থাপন করেন, তাদের একটি যুক্তি হলো, ইসলাম একতার ধর্ম, একতার মাঝেই প্রভূত কল্যাণ নিহিত। সকল মুসলমানরা এক সময়ে ঈদ বা অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় একসাথে পালন করলে মুসলমানদের মাঝে একতার বন্ধন দৃঢ় হবে, তাই এ হিসেবে হলেও আমাদের এক সময়ে ঈদ বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজ করা উচিত, তাছাড়া সারা পৃথিবীতে এক ঈদের চাঁদ একবারই উঠে, একাধিকবার নয় সুতরাং এক অনুষ্ঠানের জন্য উদিত চাঁদ একবারের জন্য উঠে থাকলে সবার একসাথেই অনুষ্ঠান পালন করা উচিত।

যারা এতো সুন্দর করে এ চটকদার যুক্তিটি পেশ করেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন হলো, একতার অর্থ শুধু এক সময়ে কোন কাজ করা? নাকি একই কাজ একই গুনে সবাই পালন করলেও একথার অর্থ থাকে? আপনারা কী বলতে চান-বাংলাদেশে মাগরীবের সময় হলেও সৌদিতে এখনো সময় হয়নি বলে আমরা ৪ ঘন্টা অপেক্ষা করব, আর আমেরিকার মুসলমানরা সকালবেলা পড়বে মাগরীবের নামায! একসাথে নামায পড়ে একতা প্রতিষ্ঠার জন্য?

একটি কথা যদি ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করা হয় তবেই আমরা বুঝতে পারব যে, সারা পৃথিবীর মুসলমান একতাবদ্ধ হয়ে একই আমল করছে, ভিন্নভাবে নয়, এক কথায় সারা পৃথিবীর মুসলমানদের মাঝে ধর্মীয় বিষয় পালন করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত একতা রয়েছে। বিষয়টি আমরা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝতে পারি-আমরা জানি হাসনাহেনা আর রজনীগন্ধা ফুল কেবল রাতে ফুটে, সুতরাং একথা নির্ধারিত হলো যে, সারা পৃথিবীর রজনীগন্ধা আর হাসনাহেনা এক নির্ধারিত সময় তথা রাতে ফুটে দিনে নয়, এ হিসেবে তাদের মধ্যে একতা রয়েছে,সৌদিতে রাত বলে এ ফুল ফুটলো, কিন্তু আমেরিকায় দিন বলে এ ফুলটি সেখানে ফুটলোনা, এ ব্যপারে একথা কী বলা যাবে যে, আমেরিকায় হাসনাহেনা ফুল তাদের মূল গুন (রাতে ফুটার ক্ষেত্রে একতা) থেকে বিচ্যুত হয়েছে? নাকি তার অবস্থানস্থল দিন না হওয়ায় সে না ফুটে সে তার স্বমহিমায় একতাবদ্ধ রয়েছে বলা হবে? আশা করি বিজ্ঞ পাঠক সবাই একথা বলবে যে, ফুলটি আমেরিকায় দিনের বেলায় ফুটলে বরং সে তার আদর্শচ্যুত বা একতা ভঙ্গের দোষে দোষি হতো। আমেরিকায় ও একই গুনবাচক সময়ে এই ফুলটি ফুটবে, কিন্তু সৌদির সময় অনুস্বরণ করে নয় বরং তার নিজের এলাকার সময় অনুস্বরণ করে, আর তার একতার নিদর্শন এটাই।

ঠিক তেমনি আল্লাহ তা’য়ালার নবী আদেশ দিয়েছেন “চাঁদ দেখে রোজা রাখতে আর চাঁদ দেখে রোজা ভাঙ্গতে” নতুবা তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ কর (মুসলিম শরীফ)। সুতরাং এই আদেশ সারা পৃথিবীর মুসলমানদের জন্য এক। সুতরাং যে এলাকায় চাঁদ দেখা যাবে, তারা রোজা রাখবে এবং ঈদ করবে, আর যে এলাকায় তা দেখা না যাবে,তারা তা পালন করবেনা। যখন তারা চাঁদ দেখবে তখন তারা রোজা রাখবে ও ঈদ করবে। সেক্ষেত্রে সারা পৃথিবীর মুসলমানরা একই গুন বিশিষ্ট সময়ে আল্লাহর আদেশ পালন করে একতাবদ্ধ রইলো, অর্থাৎ সারা পৃথিবীর মুসলমানরা নবীর আদেশ একই ভাবে একই গুন বিশিষ্ট সময়ে পালন করেছে, তাহলো চাঁদ দেখে রোজা রাখলো আর চাঁদ দেখে ঈদ করলো। পক্ষান্তরে এক দেশের চাঁদ দেখার ফলে অন্য দেশে চাঁদ না দেখেও রোজা বা ঈদ করলে তারা বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। কারণ তখন বলা যাবে যে, কিছু মুসলমান চাঁদ উঠেছে তাই রোজা রাখলো কিছু মুসলমান তাদের দেশে চাঁদ উঠে নাই তারপরও রোজা বা ঈদ করলো। সুতরাং একতা রইলো কোথায়?

আরো সহজভাবে বললে বলা যায় যে, সূর্য উঠলে সবাই অফিসে যাবে, সুতরাং বাংলাদেশে যখন সূর্য উঠে তখন বাংলাদেশীরা অফিসে যায়, আমেরিকায় যখন সূর্য উঠবে তখন তারা অফিসে যাবে, অন্য দেশে যখন সূর্য উঠে তখন তারা অফিসে যায়, সুতরাং একথা কী বলা সঠিক নয় যে, সারা পৃথিবীর সবাই এক গুনবাচক সময়ে অফিসে যাবার ক্ষেত্রে এক। তাদের মধ্যে কোন মতভেদ নেই। নাকি আমেরিকায় রাতে আর বাংলাদেশে দিনের বেলায় অফিস একই সময়ে করলে বলা হবে যে তারা অফিসের সময়ের ক্ষেত্রে এক! নাকি ভিন্ন বলা হবে?
সারকথা

সৌদি আরবের মত উদয়াচল ভিন্ন রাষ্ট্রের চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশেও রোযা ও ঈদ করার দাবী মৌলিকভাবে মুসলমানদের মাঝে বিশৃংখলা সৃষ্টির পায়তারা, তাছাড়া নিষিদ্ধ দিনে (রজবের ২৯ তারিখ) রোযা রাখতে হবে, আবার যে দিন রোযা রাখা ফরয (রমযানের ৩০ তারিখ) সেদিন রোযা ভাঙ্গার গোনাহে পতিত হবার জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোন মুখরোচক স্লোগানে প্ররোচিত হয়ে সুস্পষ্ট ফায়সালাকৃত দ্বীনি বিষয়ে অযথা সন্দিহান হয়ে ফেৎনায় না জড়িয়ে পড়ি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

***

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
ইমেইল-lutforfarazi@yahoo.com

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৫৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১৬ টি মন্তব্য

  1. ভাল লিখেছেন ধন্যবাদ। ইসলামের পক্ষে আপনার এই লেখাগুলিকে মহান আল্লাহ যেন কবুল করেন। (F)

    lutforfarazi

    @মুসাফির আমীন। আপনাদের উৎসাহকেও আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। আমীন।

  2. সুন্দর লিখেছেন ধন্যবাদ।

    lutforfarazi

    @রাসেল আহমেদ, আপনাকে ও ধন্যবাদ। আল্লাহ তায়ালা উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

  3. লিখাটা খুব ভাল লাগল । আসলে অনেকে ইসলামের নাম দিয়ে, ইসলামের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। এদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে।

    lutforfarazi

    @সত্যের সন্ধানী ১০০%আল্লাহ আমাদের পূর্ণঙ্গ সচেতন হবার তৌফিক দান করুন।

    Fiqriyatu Fiddin

    @সত্যের সন্ধানী ১০০%,Who are these Muslims who confuses? OR is it U who is confused?

  4. (Y) (Y) (Y)

    lutforfarazi

    @anamul haq, আপনাকেও.. সুন্দর মন্তব্য করার জন্য (Y) (Y) (Y)

  5. @lutforfarazi, Assalam Brother in Islam. Dont claim what you understood is the only “Right” in Islam. In this issue, the Ulemas are divided into two schools of thoughts. Look at the history of Islam and get the fact.

    lutforfarazi

    # Dont claim what you understood is the only “Right” in Islam.

    Salam Brother! What r u wanting to say about this thing? I don’t know, but u listen- maybe u don’t ‎read properly my article, if u read u can’t say this comment, as I have said just only “fukahas” lecture ‎by reference of “badae us sanae” book‏ ‏‎(‎‏( بدائع الصنائع‎, and “al bahrur raek”(‎البحر الرائق‎ ‎‏(‏no my lecture, ‎so your comment is fully rung, kindly read my article properly and thanking, then comment,‎
    ‎ # Look at the history of Islam and get the fact

    U also brother!!!!

    Fiqriyatu Fiddin

    @lutforfarazi,
    চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্কের অবসান হোক

    আসসালামুআলাইকুম,

    আশা করি সবাই ভালো আছেন।রমজানের এই দিনে সবাই আল্লাহর আদেশে , তার করুনা লাভের আশায় রোযা রাখছেন। আল্লাহ আপনাদের সাহায্য করবেন, ইনসাল্লাহ।

    এই ব্লগে আমি ইসলামের আলোকে চাঁদ দেখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে , বিভিন্ন এলাকায় , এমনকি বিভিন্ন শহরেও আলাদা ও ভিন্ন সময়ে রোযা শুরু হয়, ঈদ পালন করা হয়। কিন্তু ইসলামের আলোকে তা শরিআহ বিরোধি। ইসলামি শরিআর নিয়মে একই দিনে (তারিখে) সকল দেশের মুসলমান রোযা শুরু করবে ও রোযা শেষ করবে ও ঈদ পালন করবে।

    এখানে আমি শরিআর নিয়ম , কোরআনের আয়াত ,হাদিস , মাযহাব ও রাসুল (সা:) এর বিভিন্ন ঘটনা বর্ননা করবো, যা থেকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে একই দিনে (তারিখে) রোযা রাখা , রোযা শেষ করা , ঈদ পালন ও অন্যান্য সব ধর্মীয় অনুশাসন পালন করার ব্যাপারে সব মুসলমানের জন্য একই তারিখ ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতার/ফরজ হওয়ার বিষয়টি পরিস্কার হবে। এখানে আমি হাদিস ও রেফারেন্স গুলো ইংরেজিতে লিখেছি। সম্মানিত পাঠকগন একটু কষ্ট করে বুঝে নিবেন। এটা আমার প্রথম ব্লগ তাই শব্দগত বা বানানের ভুলগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করছি। আর মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে বলে রাখি কেউ আমাকে নোয়াখালি , ভোলা বা বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোযা ও ঈদ পালনকারিদের প্রতিনিধি হিসাবে গন্য করবেন না। আমি এখানে শরিআহর আলোকে ও ইসলামের সত্য ও সঠিক ইতিহাসের আলোকেই বিষয়টি বিশ্লেষন করবো।

    এবার মূল আলোচনায় আসি।

    আল্লাহ তাআলা কুরআন শরিফের সুরা বাকারাহ এর ১৮৯ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেছেন

    يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ مَنِ” “اتَّقَى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ

    “They ask you about the crescents. Say: They are but signs to mark fixed periods of time in the affairs of men and for pilgrimage.” [TMQ 2:189]

    তিনি আরো এরশাদ করেছেন

    فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ

    “Whoever witnesses the crescent of the month, he must fast the month.” [TMQ 2:185]

    উপরোক্ত আয়াত দুটিতে CRESCENT শব্দটি বলা হয়েছে, যার সাথে রোযা শুরু ও অন্যান্য সকল ধর্মীয় কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়া আছে। CRESCENT শব্দের অর্থ অমাবশ্যা পরবর্তী নতুন চাঁদ , যা পৃথিবীতে প্রথম বার ও একবারই দেখা যায় , সেটা যে কোনো দেশ হতে দেখা যাক না কেন। সেটা হতে পারে ( বিশ্বের যে কোনো স্থান) মালয়শিয়া , আমেরিকা , সুদান বা বাংলাদেশের পটুয়াখালি জেলার দশমিনা উপজেলায়। একবার পৃথিবীর আকাশে নতুন চাঁদ দেখা গেলে পরেরদিন তা আর CRESCENT চাঁদ থাকেনা ।
    পরের আয়াতের Whoever শব্দ , যা সকল বিশ্বাসি মুসলমানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে , অর্থাৎ আল্লাহ ও তার রাসুলকে বিশ্বাসী মুসলমানের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। উপরোক্ত আয়াত দুটি দ্বারা এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে , নতুন চাঁদ দেখে সকল মুসলমানের উপর হজ্ব ( pilgrimage) বা রোযা শুরু করা ফরজ ।

    সহীহ হাদিস বুখারি ও মুসলিম শরিফ হতে বর্নিত আছে যে,
    Bukhari and Muslim reported on the authority of Abdullah Ibnu Omar (may Allah be pleased with them) that the Messenger of Allah (saw) mentioned Ramadhan and said: “Do not fast till you see the new moon, and do not break fast till you see it; but if the weather is cloudy complete it (thirty days).”

    যার অর্থ

    আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন ” রাসুল (সা:) বলেছেন , তোমরা নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রেখনা ,নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা ভংগ করোনা এবং বৃষ্টি বা আবহাওয়ার কারনে চাঁদ না দেখা না গেলে ত্রিশ রোযা পুর্ণ কর।

    “Do not fast till you see it and do not break fast till you see it.” – “Do fast when you it is sighted and break fast when it is sighted.”

    উপরক্ত বাক্যে Do not fast ও Do fast একটি Plural form , যা কিনা (আরবি ভাযায়) সব মুসলমানের জন্য একই সাথে আদেশ হিসাবে প্রযোজ্য ।
    এখানে পাঠককে একটি বিষয় জানিয়ে রাখি যে , [sb]যে আরবি ভাষার অর্থ বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষিতে ও প্রয়োগের উপর উপর নির্ভর করে , শাব্দিক অনুবাদের উপর নয়[/sb]।

    মুসলিম শরিফ হতে আরো বর্নিত , আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন ” রাসুল (সা:) বলেছেন ,
    “The month is thus and thus. (He then withdrew His thumb at the third time indicating 29). He then said: Fast when you see it, and break your fast when you see it, and if the weather is cloudy do calculate it (the months of Shaban and Shawwal) as thirty days.”

    বুখারি শরিফ হতে বর্নিত , ইবনে উমর বলেছেন রাসুল (সা:) বলেছেন “The month consists of 29 nights, so do not fast till you have sighted it (i.e. the new moon), and if the weather were cloudy, then complete it as thirty days.”

    মুসলিম শরিফ হতে আরো বর্নিত , আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন ” রাসুল (সা:) বলেছেন ,

    “The month of Ramadan may consist of twenty-nine days; so when you see the new moon observe fast and when you see (the new moon again at the commencement of the month of Shawwal) then break it, and if the sky is cloudy for you, then calculate it (and complete thirty days).”

    উপরক্ত হাদিস গুলোর বক্তব্য পরিস্কার ও সহীহ এবং আমরা জানি যে মুসলিম ও বুখারি শরিফ ছয়টি সহীহ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।
    সুতরাং উপরোক্ত হাদিসের (সুন্নাহ) নির্দেশগুলো দ্বারা সুস্পস্ট ভাবে বলা হয়েছে যে , নতুন চাঁদ দেখা মাত্র সকল মুসলমানের উপর সময় অনুযায়ি আমল করতে হবে।

    কোথাও কোনো হাদিসে বলা নেই যে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে যখন চাঁদ দেখবে , সে বা সেই এলাকার মানুষ রোযা তখন রোযা শুরু করবে।

    আবু দাউদ ও হাকিম হতে আরো বর্নিত , ইবনে উমার বলেছেন “During the time of the Prophet (saas), the companions went looking for the new crescent. So I told the Prophet (saw) that I saw it. So he fasted and told the companions to fast.”
    উপরোক্ত হাদিস এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে , রাসুল (সা:) নিজে চাঁদ না দেখলেও তার সাহাবিদের কথায় বিশ্বাস করে রোযা শুরু করেছিলেন । এবং একই সাথে “told the companions to fast.” দ্বারা সবার প্রতি রোযা শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর তিনি এই নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালিন রাস্ট্রের প্রধান হিসাবে। অর্থাৎ খলিফা চাঁদ দেখতে পাওয়ার বিষয়টি সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে নিজ দায়িত্বে জানাবেন এবং পরবর্তী আমল করার নির্দেশ দিবেন।

    এবার মাযহাবের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করবো। (মাযহাব কি বিষয় তা আশা করি সকল পাঠক জানেন। কেউ না জানলে মসজিদের ঈমামকে প্রশ্ন করে জেনে নিবেন ) আমাদের এই দক্ষিণ এশিয়ায় হানাফি মাযহাবের অনুসারির সংখ্যা বেশি। Imam Juzair হানাফি মাযহাবের সুত্রানুসারে তার Fiqh al Madhahib al Arba’a (The Fiqh of the four schools of thought) Volume 1 বইতে উল্লেখ করেছেন যে,
    1) The sighting of the moon by any Muslim should be accepted whether slave, free, man or woman without inquiring whether they are just or not, 2) The justness should be verified by a Qadi.

    Darra-Mukhtar তার Darra-Mukhtar, (Volume 1, page 149) বইতে উল্লেখ করেছেন যে, “If people living in the West sight the moon, it becomes obligatory for the people living in the East to act on that.

    মাওলানা আহমেদ রেজা খান , তার Fatawa Rizwi (Vol 4 page 568, Urdu edition]) বইতে উল্লেখ করেছেন “In the correct and authentic mazhab of our Imams, with regard to the sighting of moon for Ramdhan and eid, distance of the place of sighting is of no consideration. The sighting of the east is binding upon west and vice versa i.e. the sighting of west is similarly binding on east.”

    Dar al-Uloom Deoband এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা Maulana Rasheed Ahmad Gangohi বলেছেন If the people of Calcutta sighted the moon in Friday, whereas it was sighted in Makkah on Thursday itself, but the people of Calcutta did not know of it (the sighting on Thursday); then whenever they come to know of this, it will be obligatory for them to celebrate eid with the people of Makkah and make up (Qada’) for the first fasting.” [Maulana Rasheed Ahmad Gangohi, Sharh Tirmizi (Explanation of Tirmizi), Kaukab un Durri, pg 336 Urdu edition].

    এবার উপরোক্ত সকল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কিছু টেকনিকাল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যাতে করে সমগ্র বিষয়ে আরো পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায় এবং কোনো দ্বিধা-দ্বন্দের অবকাশ না থাকে।

    ধরা যাক, মরক্কোর রাবাতে শুক্র বারে চাঁদ দেখা গেল।এক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার মুসলমানের (একই সাথে বিশ্বের সকল মুসলমানের) উপর রাবাতে দেখা শুক্রবারের চাঁদের উপর ভিত্তি করে রোযা ,হজ্ব ও অন্যান্য ধর্মীয় কাজ পালন করা ফরজ , যদিও বা হতে পারে ইন্দোনেশিয়ায় শুক্র বারে চাঁদ দেখা যায়নি , শনিবারে চাঁদ দেখা গেছে।

    আর আগে থেকেই ইন্দোনেশিয়ায় তথা বিশ্বের সব মুসলমান শুক্রবারে চাঁদ দেখার জন্য বা চাঁদ দেখতে পাওয়ার খবরের জন্য অপেক্ষা করবে , বিশ্বের কোথাও শুক্রবারে চাঁদ না দেখা শনিবারে দেখা চাঁদের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আমল করবে।

    আর যদি কোনো কারনে শুক্রবারের চাঁদ দেখার সংবাদ ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানেরা না পায় , এবং শনিবারে দুপুরে রোযা রাখা অবস্থায় পায় , সেক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষনিক ভাবে রোযা ভংগ করতে হবে এবং ঈদের নামাযটি রবিবারে সকালে পড়ে নিতে হবে। আর যদি শনিবার সকাল বেলা সংবাদটি পায় , তাহলে সকালেই রোযা ভংগ করে ঈদের নামায পরে নিতে হবে ও শনিবারেই ঈদ পালন করতে হবে (যদি তা শাওআল মাসের চাঁদ দেখার বিষয় হয়)।
    যা নিম্নোক্ত হাদিসেই বলা হয়েছে
    Abu ‘Umayr ibn Anas reported from his paternal uncles among the Ansaar who said: “It was cloudy and we could not see the new moon of Shawwaal, so we started the day fasting, then a caravan came at the end of the day and told the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) that they had seen the new moon of Shawwaal the day before, so he told the people to stop fasting, and they went out to pray the Eid prayer the next day.” [Reported by the five. It is sahih; al-Irwaa’, 3/102, Abu Dawud 1153]

    তার পরেও যদি কোনোও কারনে চাঁদ দেখার সংবাদ ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানেরা শনিবারেও না পায়, সেক্ষেত্রে তারা ঈদের পরদিন একটি রোযা রাখবে , যেহেতু তারা ১টি রোযা কম রেখেছে।

    আর রোযা শুরুর ক্ষেত্রে যদি এ রকম হয় যে,শুক্রবারের চাঁদ দেখার সংবাদ ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানেরা শনিবারে রোযা না রাখা অবস্থায় পায় , সেক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষনিক ভাবে রোযা শুরু করতে হবে। আবু দাউদ শরিফেরএই হাদিসটি দ্বারা বিষয়টি পরিস্কার হবে।
    The famous Hanafi scholar Imam Sarkhasi (died 483 A.H.) in Al-Mabsoot quotes the narration from Abu Dawud (2333, 2334) that the Muslims did not begin fasting since they did not see the moon. Then a man, from out of Madinah, came and told the Prophet (saaw) that he had seen it (the moon). The Prophet (saaw) asked him if he was a Muslim to which the man answered in the affirmative. The Prophet (saaw) then said: “Allahu-Akbar! one is enough for all Muslims” The Prophet (saaw) fasted and asked the people to stop eating and start fasting. [Al-Mabsout by Imam Sarkhasi; 3-52]

    তবে বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় যে, Crescent Moon অর্থাৎ অমাবশ্যা পরবর্তি প্রথমবার ওঠা চাঁদটি পূর্ব ইউরোপ , মধ্য প্রাচ্য ,পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাতে বেশি দেখা যায়। আর তাই বেশির ভাগ সময়ই সৌদি আরব আমাদের চেয়ে একদিন আগে রোযা শুরু বা ঈদ পালন করে। যা নিতান্তই ভুল ও শরিআহ বিরোধি।

    এখানে উল্লেক্ষ্য যে , চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে পৃথিবীর দূরতম দুটি বিন্দুর বা স্থানের সময়ের পার্থক্য বারো ঘন্টার বেশি হয়না। অর্থাৎ উপরে উল্লেখিত উদাহরণ অনুযায়ী ,মরক্কোর কোনো মুসলমান চাঁদ যদি শুক্রবারে সন্ধায় চাঁদ দেখে , তবে ইন্দোনেশিয়ার মুসলমনেরা বড়জোর রাত দুইটা বা তিনটায় সংবাদ পাবে, অর্থাৎ সেহরি শুরু করা বা রোযা না রাখার ব্যাপারে Preparation নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এখানে একটি কথা বলাই বাহুল্য যে , সকল মুসলমান (উপরোক্ত উদাহরন অনুযায়ী) শুক্রবারের সন্ধায় চাঁদ দেখার জন্য বা তা দেখার সংবাদ শোনার জন্য অপেক্ষা করবে। কোথাও চাঁদ না দেখা গেলে শনিবারে দেখা চাঁদের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তি আমল করবে।অর্থাৎ রোযা শুরুর দিনের ক্ষেত্রে ভেরিয়েশন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
    অর্থাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের সময়ের ভিন্নতার কারনে আমলের সময়ের ভিন্নতা হবার সম্ভাবনা নেই। আর তাই আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন

    “And eat and drink until the white thread of dawn appears to you distinct from its black thread; Then complete your fast until the night appears” [TMQ 2:187]

    উপরোক্ত আয়াত সব মুসলমানকে উদ্দেশ্য করে নাযিল হয়েছে , আলাদা ভাবে Area based Segment করা হয়নি।

    এখানে একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় উল্লেখ্য যে, যেহেতু বর্তমান বিশ্বে ইসলামি শরীয়াহ পরিচালিত রাস্ট্রের উপস্থিতি অবর্তমান , সেহেতু যখনই এ বিষয়টি নিশ্চিত হবে যে , বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেছে , তাৎক্ষনিক ভাবে সেই সংবাদের ভিত্তি করে পরবর্তি আমল করা সকল মুসলমানের উপর ফরজ । এখানে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের চাঁদ দেখা কমিটির মিটিং এর সিদ্বান্ত বা মধ্য প্রাচ্যের কোনো দেশের সাথে মিল রেখে আমল করা শরীয়াহ বিরোধী।

    সাদ বিন মুয়াদ বর্ননা করেছেন যে ,I said: O Messenger of Allah. What do you think if we had leaders who do not follow your Sunnah and do not adopt your order; in what do you order regarding their affair? The Messenger of Allah (saw) said: There is no obedience to the one who does not obey Allah ‘azza wa jall.’

    একটি হাদিস আছে ,যার কারনে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আলাদা সময়ে রোযা পালনের প্রশ্ন ওঠে। হাদিসটি নিম্নরূপ
    narration reported by Muslim on the authority of Kurayb who reported that Umm-ul-Fadhl Bintu-l-Harith sent him to Mu’awiya in Al-Sham; he said: “I arrived in Al-Sham and did business for her (Umm-ul-Fadhl Bintu-l-Harith). It was there in Al-Sham that the month of Ramadhan commenced. I saw the new moon of Ramadhan on Friday. I then came back to Madina at the end of the month, Abdullah Ibnu Abbas (R) asked me about the new moon of Ramadhan and said: “When did you see it? I said: We saw it on the night of Friday, He said: Did you see it yourself? I said: Yes, and the people also saw it and observed the fast and Mu’awiya also observed the fast; whereupon he said: But we saw it on Saturday night. Some would continue to observe fast till we complete thirty (fasts) or we see it (the new moon of Shawwal). I said: Is the sighting of the moon by Mu’awiya not valid for you? He said: No, this is how the Messenger of Allah (saw) has commanded us.”

    যারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আলাদা সময়ে রোযা পালনের কথা বলে তারা এই হাদিসটির কথা বলে। মূলত , এটি একটি ইজতিহাদ , কোনো হাদিস নয়। উপরন্তু এই হাদিসটি সহীহ হওয়ার যথাযথ নিয়ম পালন করেনি। আর ইজতিহাদ সবসময় শরীআর নিয়ম ও কুরআনের আয়াত দ্বারা সিদ্ব হতে হবে , যা উপরোক্ত ইজতিহাদের বেলায় হয়নি।

    প্রশ্ন উঠতে পারে যে , বর্তমানে তো সারা বিশ্বেই ভিন্ন দিনে রোযা ও ঈদ পালন হচ্ছে। এক্ষেত্রে কি করতে হবে তাও রাসুল (সা:) বলে দিয়েছেন, যা নিম্নরুপ ,Al-Bukhari narrated about Bisr ibn Obaydellah al-Hadhrami that he heard Abu Idrees al-Khoolani say that he heard Huthaifah ibn al-Yaman saying: “The people used to ask the Prophet of Allah (saw) about the good and I used to ask him about the bad in fear that it might catch me. So I said: O Prophet of Allah! We were in times of jahilliyah and mischief then Allah brought us this good, so is there any mischief after this good? He (saw) said: Yes. I said: Will there be any good after that mischief? He said: Yes, and it has smoke. I said: What is its smoke? He said: (Some) people guide without any guidance, you recognise some (from them) and deny some. I said: Will there be a mischief after that good? He said: Yes, (some) people who invite at the doors of hell, whoever accepted their invitation they throw him in it (hell). I said: O Prophet of Allah, describe them to us. He said: They are of our own skin (of our people) and talk our language. I said: What do you order me to do if that (matter) caught me? He said: Adhere to the jama’ah of Muslims and their Imam. I said: What if the Muslims have no jama’ah nor an Imam? He said: Then you abandon all those groups, even if you have to grab with your teeth the trunk of a tree till death comes to you as such.”

    প্রশ্ন উঠতে পারে যে , কবে থেকে এই আলাদা ভাবে রোযা ও ঈদ পালন শুরু হয়েছে ?
    উত্তর হচ্ছে এই যে , ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মুসলিম পরাশক্তির ধ্বংস হওয়ার পর হতেই বিভিন্ন মুসলিম দেশ গুলোতে আলাদা দিনে রোযা ও ঈদ পালন শুরু হয়েছে। এবং একই সাথে ফরজ অমান্য করা হয়েছে।

    আর ১৯৭১ সালের পূর্বে তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানে একই দিনে নাকি আলাদা দিনে রোযা শুরু ও ঈদ পালন করা হতো , সেই বিষয়টি পাঠক নিজ উদ্যোগে ইচ্ছা করলে জেনে নিতে পারেন বাবা , নানা অথবা বয়োজোষ্ঠ কারো কাছ হতে।

    মূলত রাসুল (সা:) এর সময় ও তার পরবর্তি ইসলামি রাস্ট্রের খলিফাগণ চাঁদ দেখে (মুসলিম বিশ্বের যে কোনো স্থান হতে যে কোনো একজন বিশ্বাসী মুসলমানের দেখা) একই তারিখে শরিআহ অনুযায়ী কর্মকান্ড (রোযা শুরু, ঈদ পালন )চালু রেখেছিলেন শত শত বছর ধরে , কারন ইহা ছিল একটি ফরজ কাজ। প্রশ্ন হতে পারে কিভাবে তারা একই দিনে কাজটি করত ? তারা যেটি করত , তা হল মুসলমানরা বিভিন্ন পাহাড়ের উপরে মশাল বা আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা করতো। যেই এলাকায় প্রথম চাঁদ দেখা যেত , সেই এলাকার পাহাড়ের উপরে মশাল বা আগুন জ্বালানো হতো। সেই আগুন দেখে দূরবর্তি পাহাড়ও আগুন জ্বালানো হতো। এভাবে ধীরে ধীরে সকল এলাকায় , সব মুসলমান আগুন জ্বালানো দেখে চাঁদ দেখার খবর পেত। তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে (Mobile , Internet , Live telecast বা Twitter , Facebook, IM এর ব্যবহার !!!!!! ) আগুন জ্বালানোর আদৌ প্রয়োজন আছে কি না তা প্রযুক্তি সচেতন পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন।
    তার মানে দাড়াচ্ছে ,Information gap হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরেও যদি কোনোও কারনে Information gap হয়ই , সেক্ষেত্রে Formal Procedure হল ,প্রথমবার চাঁদ দেখা ব্যক্তি (আল্লাহ ও তার রাসুলের উপর বিশ্বাসি ) যদি পুরুষ হয় , তবে তা ইসলামি রাস্ট্রের কাজীর মাধ্যমে তা খলিফার কাছে পৌছবে এবং খলিফা নিজ দায়িত্বে সমগ্র উম্মাহকে তা জানাবেন। আর প্রথমবার চাঁদ দেখা ব্যক্তি মুসলমান মহিলা হলে আলাদা ভাবে একজন পুরুষের সাক্ষি লাগবে।

    আলোচনার শেষ পর্যায়ে প্রায় চলে এসেছি। সম্ভাব্য সকল বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কোনো প্রশ্ন থাকলে করবেন। উত্তর দিতে চেস্টা করব, ইনসাল্লাহ।
    রাসুল (সা:) বলেছেন
    “Whoever speaks about the Qur’an without knowledge, then let him prepare for himself his seat in the fire.” [Tirmidhi, Ahmad, Nisai & Ibn Jarir]

    সম্মানিত Pragmatic পাঠকগণ , মুসলমান হিসাবে চাঁদ দেখা-পরবর্তী করনীয় ফরজ কর্তব্য পালন করুন , উপরোক্ত বিষয়টি আপনার প্রিয়জনের সাথে আলোচনা করুন। এখন থেকে পরবর্তীতে সারা জীবন , যখন চাঁদ দেখবেন/দেখার সংবাদ শুনবেন , তখনই চাঁদ দেখা-পরবর্তী আমল পালন করুন। আমাদের Emotions, public opinion, the view of the majority, norms, customs, What people will say !!, shyness এগুলো এখানে কোনো ফ্যাক্টর নয়।

    মুসলিম শরিফ হতে বর্নিত আছে যে, আবু হুরায়রা বলেছেন “The Messenger of Allah (saw) forbade fasting on two days, the day of al-Adha and the day of al-Fitr”

    আল্লাহ তাআলা এক, কুরআন এক, রাসুল (সা:) এক, আল্লাহ প্রদত্ত নিয়মও এক। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ইসলামের সত্য ও সঠিক বাণি জানার ও প্রয়োগের তৌফিক দান করুন এবং কাল কিয়ামতের দিবসে তার অপার করুণায় আমাদের বেহেশত দান করুন।

    lutforfarazi

    @Fiqriyatu Fiddin, আপনার বিশাল ওয়াজটা পুরা পড়ার সময় আমার হয়নি। শুধু এতটুকু বলি-আঁতলামী না করে বলুন আমার লেখায়, উদৃত যুক্তি ও ফুক্বাহাদের সূত্রে কোথায় ভুল আছে সেটা বলুন। অযথা ফ্লাডিং করার অপচেষ্টা করবেনা। যুক্তি দিয়ে আমার বক্তব্য খন্ডন না করে শুধু শুধু প্যাচাল মেরে নিজেকে খাটো করবেন না। ভাল থাকুন।

    Fiqriyatu Fiddin

    @lutforfarazi, শুধু এতটুকু বলি-আঁতলামী না করে বলুন আমার লেখায়, উদৃত যুক্তি ও ফুক্বাহাদের সূত্রে কোথায় ভুল আছে সেটা বলুন। – আপনার উদৃত যুক্তি ও ফুক্বাহাদের সূত্রে – যুক্তি কি আপনার? সুবহানালাহ! একটু টাইম নিয়ে পড়েন, তারপর আবার লিখেন!

    আঁতলামী না করে বলুন – আমিওতো ফুক্বাহাদের সোস দিলাম। কষট পাইসেন ? মাফ করবেন !

    Fiqriyatu Fiddin

    @lutforfarazi, Wahdattul Matali / Ikhtilaf ul Mataali – নিয়ে উলামাদের মতভেদ আছে।

  6. এই বিষয়টি জটিল আকার ধারন করে নানা কারনে। মুসলিম ইতিহাসের গত 50 বছরে জটিল হয়েছে. অত্যন্ত speifically ভারতীয় উপমহাদেশে. Deoband এর প্রতিষ্ঠাতা Akabir দের পর, আমাদের Ulama গন আঞ্চলিক/প্রাদেষিক শাসক/ক্ষমতা র কাছে নতজানু. তাই এটি সুস্পষ্ট যে জনগন প্রতিটি ইসলামী বিষয়ই অরাজকতায় পাবেন নিজেদের.
    A detailed discussion, face to face, with historical facts can clarify the reasons infornt of us. Brothers in Islam, we should share all these issues within ourselves and then spread it to the mass; starting from your family first.

    Walaikum Assalam.