লগইন রেজিস্ট্রেশন

পাঞ্জেরী -৬ই এপ্রিলের লং মার্চ

লিখেছেন: ' এম_আহমদ' @ বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৩ (১:০৩ পূর্বাহ্ণ)

গত ৬ই এপ্রিলের (২০১৩) হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ এক বিপুল সংখ্যক মানুষের মনে বিপুল আশার আলো জ্বালিয়েছে, অনেক আবেগ ও চেতনা সঞ্চার করেছে। এটা যেন কবি ফররুখ আহমদের পাঞ্জেরী কবিতার বাস্তব জওয়াবের মত। শতাব্দী ব্যাপী ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও আদর্শের সয়লাবের পর এটা যেন আশার প্রদীপ। লক্ষ লক্ষ লোকের মহড়া, মিলিত কণ্ঠের ঐকান্তিক সুর।

যারা বিগত ৩ শতাব্দীর ইউরোপীয় আগ্রাসন, তাদের সামাজিক দর্শন, সংস্কৃতি ও আদর্শের সম্প্রসারণ এবং দ্রুত গতিতে চলা বিশ্বায়নের পিছনের ঐতিহাসিকতা এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত তাদের কাছে আজ মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রয়োজনের চেয়ে বড় কিছু নেই আর মুসলিম বিশ্বের সকল অঞ্চলের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলিমদের ঐক্যের দিকে তাদের দৃষ্টি কালের পাঞ্জেরীতে নিবদ্ধ দৃষ্টির মত।

ইউরোপীয় যে শক্তি আগে বন্দুক দিয়ে কলোনাইজ করত এবং সভ্যতার আওয়াজ তুলত সেই শক্তি আজ অন্যভাবে তাদের শিক্ষায় শিক্ষিত লোক দিয়ে সেই কাজটি ‘সভ্যতার’ নামে, এবং বন্দুক হাতে রেখেই চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের বাংলাদেশে নাস্তিক্যবাদের উত্থান, ফ্যাসিষ্ট জাতীয়তাদের উত্থান, চরম ইসলাম বিদ্বেষের উত্থান –এগুলোর সাথে বাইরের নানান সূত্রাদি জড়িত রয়েছে। এই উত্থানগুলো তাদের আপন উদ্দেশ্য সাধনের করার জন্য সর্বসাধারণের দৃষ্টি প্রতারিত করতে গান জুড়েছে রাজাকারের, যুদ্ধাপরাধের, মৌলবাদের, সন্ত্রাসের। বিগত বছরগুলো ধরে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু, ইসলাম বিদ্বেষী ব্রাহ্মণ্য-চক্র ও ইসলাম পরিত্যাক্ত মুরতাদ পক্ষ (ঘোষিত/অঘোষিত) যে সব কথা বলে আসছে সেগুলোর দিকে তাকালে বুঝা যাবে তারা তাদের বৃহত্তর কাজের আঞ্জাম কীভাবে দিচ্ছে। তাদের বক্তব্যের মৌলবাদ, সন্ত্রাস, জিহাদি বই-পুস্তক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাময়ী বাঙালিত্ব , মাদ্রাসার পাঠ্য-পুস্তক পরিবর্তন এবং কোরান, হাদিস ও নবীকে (সা.) নিয়ে মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা ইত্যাদির দিকে তাকালে দেখা যাবে যে এগুলোর উৎস কেবল বাংলায় নয়, এগুলো আসছে আরব ও ইংরেজ যৌডো-খৃষ্টীয়ান উৎস থেকে, ইসলাম বিদ্বেষী বৈশ্বিক উৎস থেকে। এত দিন জামাতে ইসলামকে নিয়ে চালাত তাদের figurative master code. এই বিদ্বেষীদের বিপক্ষে যে’ই কথা বলতে আসত সে’ই হত জামাতী, তার সাথে জামাত জুড়ে দিত। এই চক্রান্তকারী বেঈমানদের master strategy এখন চরমভাবে নগ্ন হয়ে পড়েছে। গত মাসে (এপ্রিল, ২০১৩) চক্রান্তকারী পক্ষ (নাস্তিক, কাফির ও মুনাফিকগণ) আল্লামা শফি ছাহেবের সাথেও জামাতী জুড়ে দিয়েছে, তাঁকেও রাজাকারীর খেতাব দিয়েছে, কেউ কেউ এক পা বাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধের খেতাবও দিয়েছে! শাহরিয়ার কবীর ধৃষ্টতা সহকারে বলেছে, “হেফাজত ইসলাম একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এরা বিএনপি-জামায়াতের ভাড়াটিয়া গুণ্ডা।” [১] ৬ই এপ্রিল টিভিতে দেখেছি ডা. ইমরান সরকার হেফাজতে ইসলামকে একটি ‘কুখ্যাত’ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। এখন এই নাস্তিক, মুরতাদ ও মুনাফিক পক্ষের ব্যাপারে চোখ খোলা দরকার।

উল্লেখিত শক্তি সেক্যুলারিজমের নামে আবেগ-তাড়িত জাতিকে ইসলাম থেকে বের করে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে একাত্তরকে ব্যবহার করে আসছে। অতীতকে (একাত্তরের যুদ্ধকে) তাদের ইচ্ছামত reinterpret করছে। তাদের কেউ কেউ নাকি সেদিন লা ইলাহার বিপক্ষে –বাঙালিয়ানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করেছিলেন! তাদের এইসব মিথ্যাচার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করে: নৃত্যে, সংগীতে, নাট্যে, পদ্যে-গদ্যে নাটকে, ছবিতে ঢেলে যুব সম্প্রদায়ের মাথা ধোলাই করে আসছে। দেশকে এখন তারা বিপর্যয়ের মুখোমুখি করে দিয়েছে। সরকারের ৪৫/৫০ জন (?) মন্ত্রীর মধ্যে ১৫ জনই নাকি নাস্তিক! [২] আরও তো থাকতে পারে। এর মধ্যে ৫ জন নাকি পাগল!

৬ই এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের মঞ্চ থেকে বর্তমান সরকারকে নাস্তিকদের সরকার বলা হয়েছে; সেক্যুলারিজমের বিপক্ষে কথা বলা হয়েছে; মুরতাদদের ষড়যন্ত্রের নানান পায়তারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আজ আলেম-ওলামাগণ ইসলামী হুকুমতের কথা বলছেন। বলিষ্ঠ ভাষায় বলছেন। তারা বলছেন, এদেশ চলবে আলেম-ওলামাদের কথায়, নাস্তিকদের কথায় নয়, এবং এই মর্মের আরও অনেক কথা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আলেমদের উত্তান দেখে মুনতাসীর মামুন বলেছে, ‘ইসলামের ইজারা কাউকে দেয়া হয় নি’। তার জানা উচিৎ ছিল যে এই ইজারার চেয়েও বেশি কিছু আলেম-ওলামাদেরকে দেয়া হয়েছে। কোরান এবং হাদিস এই আলেম-ওলামাগণকে ধর্মের ‘ওয়ারিশ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। মুনতাসীরদের কথায় ইসলাম ব্যাখ্যা লাভ করবে না, ব্যাখ্যা লাভ করবে ধর্মের ‘ওয়ারিশদের’ কাছ থেকে।

আজকে ওলামাদের বক্তব্য লক্ষ-কোটি প্রাণে আশার সঞ্চার করছে। কিন্তু বনি ইসরাইলের কিছু আলেম তাদের গোটা ইতিহাসে যেভাবে সব সময় সরকারী পক্ষে থাকত, সেই ভাবে আমাদের ধর্মেও একদল ছিল এবং আজও আছে –এরা ওলামায়ে-ছূ (বিভ্রান্ত-ওলামা), পূর্বকালে এরা ফিরাউনের পক্ষে ছিল এবং আজও নব্য ফিরাউনদের সাথেই আছে। আল্লাহ মু’মিনদেরকে হেদায়াত দিন।
_______________
নোটস:

[১] আরটিএন প্রতিবেদন. (২০১৩). হেফাজতকে শাহরিয়ার কবিরের চ্যালেঞ্জ, আরটিএনএন, ৬ এপ্রিল [অনলাইন] শেষ প্রবেশ ০১/০৫/২০১৩, প্রাপ্তব্যস্থান: http://www.rtnn.net//newsdetail/detail/1/1/61703#.UX-5OrVwrp6

[২] ডেস্ক রিপোর্ট. (২০১৩). মন্ত্রীদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো পাগল ৫ জন, নাস্তিক ১৩: ফিরোজ রশিদ, আমাদের সময় [অনলাইন], ২৬ এপ্রিল. শেষ প্রবেশ ০১/০৫/২০১৩ প্রাপ্তব্যস্থান: http://www.amadershomoy2.com/content/2013/04/26/middle0100.htm#.UXqHPX6yrNg.facebook

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৩২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. আমার এই লেখাটি এক ব্যক্তি ফেসবুকে নকল করেছেন। আমার নাম ও লেখার উৎস উল্লেখ না করে এমন কাজ করা অন্যায়। এলখাটি এখানে নেয়া হয়েছে।

    ফেসবুক লিঙ্ক
    https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=452660431483577&id=404402536309367

    কেউ যদি আমার লেখা এভাবে অন্য কোথাও দেখেন তবে মেহেরবাণী করে জানাবেন। ধন্যবাদ