লগইন রেজিস্ট্রেশন

তাওবা সম্পর্কে যা জানা জরুরি

লিখেছেন: ' Mahir' @ শুক্রবার, মে ৫, ২০১৭ (২:১৫ পূর্বাহ্ণ)

তাওবা (توبة) হলো মাসদার। অর্থ পাপ থেকে ফিরে আসা।
খারাপ কাজ-গুনাহ, পাপচার, অন্যায় অবিচার ও আল্লাহর নাফরমানি হতে ফিরে এসে, বান্দা নেক কাজ করার মাধ্যমে তার প্রভুর দিকে ফিরে আসাকে তাওবা বলা হয়।
তাওবা কবুলের শর্ত সমূহ ঃ
1.ভুল ক্রুটি আল্লাহর কাছে স্বীকার করতে হবে।
২.গুনার জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া
3.গুনাহ করা বন্ধ করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে
4.গুনাহ না করার ওয়াদা করা
৫.গুনাহ অন্তর থেকে ঘৃনা করা
6.কারো হক্ক নষ্ট করে থাকলে তাকে তার হক্ক ফিরিয়ে দিতে হবে
৭.অন্তরে আশা রাখা :তিনি আমার তাওবা কবুল করবেন।
৮.ওয়াদার ওপর টিকে থাকার জন্য আল্লাহ সাহায্য প্রার্থনা করা
9.এইভাবে যখনই কোনো পাপ হবে সাথে সাথেই তাওবা করতে হবে
10.আন্তুরিকতার সাথে তাওবা করা
তাওবার শর্ত তিনটি। তাৎক্ষণিকভাবে গোনাহ ছেড়ে দেওয়া, ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করা, অতীত কর্মে অনুশোচনা করা। এ জাতীয় তাওবাই মূলত ‘তাওবাতুন নাসূহ’।আর এটাই কবুল হয়।

তাওবার সময় ঃ
ইস্তেগফার ও তাওবা সব সময় করা যায়, কিন্ত গুনার পর ইস্তেগফার ও তাওবা করা ওয়াজিব এবং নেক আমল করার পর মুস্তাহাব। যেমন সালাত শেষে তিনবার ইস্তেগফার করা, হজ্ব শেষে ইস্তেগফার করা, বিশেষ করে পবিত্র রমযান মাসে বেশি বেশি করে ইস্তেগফার ও তাওবা করা ইত্যাদি। তবে ক্ষমা প্রার্থনার উত্তম সময় হলো ফরজ নামাজ শেষে ও শেষ রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। তখন চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার ও তাওবা করাই উত্তম। কারণ ওই চোখের পানি আল্লাহর কাছে অত্যান্ত প্রিয়। রমযান মাসে ইফতারী ও সেহরীর সময় ইস্তেগফার ও তাওবা করা ফজীলত বেশী। কারণ এ সময় আল্লাহ ইস্তেগফার ও তাওবা কবুুল করেন। তাদের ফরিয়াদ শুনেন। মনের আশা আঙ্খাংকা পুরণ করে দেন।
ইস্তেগফার ও তাওবার পার্থক্য ঃ
ইস্তেগফার ঃ ইস্তগেফার’ শব্দরে র্অথ কৃত পাপর্কমরে জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা র্প্রাথনা করা । ক্ষমা চাওয়ার
উদ্দেশ্য বান্দার আসতাগফিরুল্লাহ বলা।
তাওবা ঃ আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আশা, গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ না করার
ওয়াদা করা, ওয়াদার ওপর টিকে থাকা ও তার প্রতি মনোনিবেশ করা।
“মহান আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।” (সূরা আল বাকারা: ২২২)
হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّمَا مَثَلُ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ كَقَوْمٍ نَزَلُوا فِي بَطْنِ وَادٍ، فَجَاءَ ذَا بِعُودٍ، وَجَاءَ ذَا بِعُودٍ حَتَّى أَنْضَجُوا خُبْزَتَهُمْ، وَإِنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَتَى يُؤْخَذْ بِهَا صَاحِبُهَا تُهْلِكْهُ».

‘সাবধান! গোনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা গোনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করা ঠিক তেমন, যেমন কোনো কওম কোনো উপত্যকায় যাত্রাবিরতি করলো। এ সময় ছোট ছোট ভাগ হয়ে লোকেরা কাঠি নিয়ে আসল, ফলে তারা তাদের রুটি পাকাতে পারল। এমনিভাবে গোনাহকে যে তুচ্ছজ্ঞান করে এই গোনাহই এক সময় তাকে ধ্বংস করে ফেলবে।’ [মুসনাদ আহমাদ ৫/৩৩১। সহীহুল জামে‘, নাসিরুদ্দিন আলবানী, আল মাকতাবুল ইসলামী, ৩য় প্রকাশ, হাদীস নং: ২৬৮৬।]

গোনাহ মানুষের কাছে প্রকাশ করা নিষেধ। কাউকে বলা যাবে না।
আল্লাহ বলেন:
﴿ قَالَ وَمَن يَقۡنَطُ مِن رَّحۡمَةِ رَبِّهِۦٓ إِلَّا ٱلضَّآلُّونَ ٥٦ ﴾ [الحجر: ٥٦]

‘বিভ্রান্তরাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়।’[সূরা হিজর:৫৬।]


পাপ মোচন করার উপায়ঃ

    ১ ও ২. খাটি নিয়তে বেশি বেশি করে ভাল কাজ করা।
    ৩. গোনাহর অনিষ্টতা উপলব্ধি, এর দ্বারা দুনিয়া আখিরাতের ক্ষতি অনুধাবন করা।
    ৪. যেখানে গোনাহ-চর্চা হয়, সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলা, যাতে ওইস্থানে গোনাহে লিপ্ত হবার সমূহ সম্ভাবনাটুকুও না থাকে।
    ৫. গোনাহর উপকরণটি তছনছ করে ফেলা, যেমন: মাদক ও খেলাধুলার সরঞ্জামাদি ভেঙ্গে ফেলা।
    ৬. নিজের আত্মিক উন্নতি সাধনকল্পে কোনও আলেমের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। কোনো দুষ্ট বন্ধুর সংমিশ্রণে না যাওয়া।
    ৭. কুরআন-হাদীসে বর্ণিত পাপীদের আযাব-গযবে ফেলা ভীতিকর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা।
    ৮. দ্রুত আগুয়ান শাস্তিসমূহ স্মরণ করা। যেমন আল্লাহ বলেন: “তোমরা প্রভুর দিকে ধাবিত হও এবং আজ্ঞাবহ হও আযাব আসার পূর্বেই, যখন তোমাদের কোনও সাহায্য করা হবে না।”[59]
    ৯. সর্বদা আল্লাহর যিকর করতে থাকা। শয়তানকে দমন করার মহৌষধ হল যিকরুল্লাহ।

    কিভাবে তাওবা করব?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«ما من رجل يذنب ذنبا ثم يقوم، فيتطهر ثم يصلى ركعتين ثم يستغفر الله. إلاغفر الله له».

কোনো লোক গোনাহ করে যদি ওযু করে দু’রাকাত নামায পড়ে ইস্তেগফার করে তাহলে তার গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। [জামে‘ তিরমিযি,খ ,পৃ.৪০৬। আলবানি এটিকে হাসান বলেছেন]

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একটি বদ কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি নেক কাজ করে ফেল। তাহলে কৃত গোনাহটি বিদুরিত হবে।
পাপ মোচনকারী কিছু আমল

    . সুন্দর ও যথাযথভাবে ওযু করা ও মসসিদে যাওয়া
    . কৃত গোনাহর মোকাবেলায় নেক কাজ করা
    . সালাম ও সুন্দর কথা বিনিময়
    ঋণগ্রস্তকে সময় দেওয়া
    «عن ابى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: ” كَانَ تَاجِرٌ يُدَايِنُ النَّاسَ، فَإِذَا رَأَى مُعْسِرًا قَالَ لِفِتْيَانِهِ: تَجَاوَزُوا عَنْهُ، لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنَّا، فَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهُ ”

    “আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: জনৈক ব্যবসায়ী মানুষের কাছে ঋণ দিত, যখনই সে কোনো ঋণদাতাকে অভাবগ্রস্ত দেখত তখনই তার লোকদের বলত, তাকে একটু সুযোগ দাও। হয়ত আল্লাহ আমাদের গোনাহ মাফ করবেন। পরে আল্লাহ তা‘আলা তার গোনাহ মাফ করেছিলেন।”[ সহীহ বুখারী,খ ৩,পৃ:৫৮,হাদীস নং: ২০৭৮।]

    -পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জুমআ ও রমযানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা
    -যিকর-আযকার গোনাহ বিদূরক
    -যিকর-আযকার গোনাহ বিদূরক
    -নামাযে হেটে যাওয়া
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
    « إذا قال الإمام غير المغضوب عليهم ولا الضالين- فقولوا أمين- فمن وافق تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه. »

    ‘ইমাম গাইরিল মাগদূবী আলাইহিম ওয়ালাদ দ্বাল্লীন বললে, তোমরা আমীন বল। যার আমীন ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে যাবে তার পেছনের সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’[সহীহ বুখারী,ফতহুল বারী, খ.২, পৃ.২৬৬।]

    -কিয়ামুল লাইল
    আবু উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলেন:
    «عليكم بقيام الليل ، فإنه داب الصالحين قبلكم ، وهو قربة لكم إلى ربكم ومكفرة للسيئات ومنهاة عن الإثم».

    ‘তোমরা কিয়ামুল লাইল করবে, কেননা এটি তোমাদের পূর্ববর্তী সালেহীনের প্রতীক এবং এটি তোমাদের প্রভুর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম, গোনাহ বিদূরক ও পাপ নিরোধক।’[এরওয়াউল গালীল,আলবানী, খ.২, পৃ.৩৩।]

    -আল্লাহর রাহে সংগ্রাম করে শহীদ হওয়া
    রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
    «يغفرللشهيد كل ذنب إلا الدين»

    ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’[সহীহ মুসলিম, শরহে ইমাম নববী, খ.১৩,পৃ.৩৩।]

    -দান-সাদাকাহ করা
    তাওবার দু’আঃ

      যেই দোয়া পড়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাওবা করতেন ও আমাদেরকে পড়তে বলছেনঃ

      أَسْتَغْفِرُ اللهَ العَظِيْمَ الَّذِىْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

      উচ্চারণঃ আসতাগফিরুল্লা-হাল আ’যীমাল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হা’ইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
      অর্থঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ছাড়া ইবাদতের আর কোন যোগ্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তাঁর কাছে তাওবা করছি।
      রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
      “যেই ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলাতক আসামী হয়”।
      (অর্থাৎ, সে যদি বড় রকমের গুনাহগার হয়, তবুও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন।)
      তিরমিযী ৪/৬৯, আবুদাঊদ ২/৮৫, মিশকাত হা/২৩৫৩, হাদীসটি সহীহঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭২৭।

      . হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ আর আমি হচ্ছি তোমার বান্দা এবং আমি আমার সাধ্য-মত তোমার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে তোমার আশ্রয় ভিক্ষা করি। আমার প্রতি তোমার নিয়ামতের স্বীকৃতি প্রদান করছি, আর আমি আমার গুনাহ-খাতা স্বীকৃতি করছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও নিশ্চয়ই তুমি ভিন্ন আর কেউ গুনাহ মার্জনাকারী নেই। (সহীহ মুসলিম)
      . আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মা‘বুদ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা প্রদান কর তা বাধা দেয়ার কেহই নেই, আর তুমি যা দেবেনা তা দেয়ার মত কেহ নেই। তোমার গজব হতে কোন বিত্তশালী বা পদমর্যাদার অধিকারীকে তার ধন-সম্পদ বা পদমর্যাদা রক্ষা করতে পারে না। (সহীহ আল বুখারী)
      . হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাচ্ছি কৃপণতা থেকে এবং আশ্রয় চাচ্ছি কাপুরুষতা থেকে। আর আশ্রয় চাচ্ছি বার্ধক্যের চরম পর্যায় থেকে। দুনিয়ার ফিতনা-ফাসাদ ও কবরের আজাব হতে। (সহীহ মুসলিম]
      . হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর অনেক বেশি জুলুম করেছি আর তুমি ছাড়া গুনাহসমূহ কেহই মাফ করতে পারে না। সুতরাং তুমি তোমার নিজ গুনে মার্জনা করে দাও এবং আমার প্রতি তুমি রহম কর। তুমি তো মার্জনাকারী ও দয়ালু। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমার অন্তরে তাকওয়া প্রদান কর, তাকে পবিত্র কর। তুমি তার উত্তম পবিত্রকারী, তার অভিভাবক ও মনিব। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! তুমিই প্রথম, তোমার পূর্বে কিছু নেই। তুমিই সর্বশেষ, তোমার পরে কিছু নেই। তুমি প্রকাশ্য, তোমার উপরে কিছুই নেই। তুমি অপ্রকাশ্য, তোমার চেয়ে নিকটবর্তী কিছুই নেই; তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করে দাও, আমাকে দারিদ্র্যমুক্ত করে সম্পদশালী বানাও। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য। তুমি আকাশম-লী-পৃথিবী ও এর মধ্যকার সকল কিছুর নূর। সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্যই। তুমি আকাশম-লী-পৃথিবী ও এর মধ্যকার সকল কিছুর রক্ষক। সকল প্রশংসা তোমার, তুমি আকাশম-লী-পৃথিবী ও এর মধ্যকার সকল কিছুর প্রতিপালক। তুমি সত্য, তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য। তোমার বাণী সত্য। তোমার দর্শন লাভ সত্য। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। নবীগণ সত্য। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য। কেয়ামত সত্য। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। তোমার উপর ভরসা করলাম। তোমার প্রতি ঈমান আনলাম। তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তোমাকে কেন্দ্র করে বিবাদে লিপ্ত হলাম। তোমার নিকট বিচার ফয়সালা সোপর্দ করলাম। অতঃপর আমাকে ক্ষমা কর, যা আগে করেছি এবং যা পরে করব, যা প্রকাশ্যে করেছি এবং যা গোপনে করেছি। তুমিই আমার মা‘বুদ। তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা‘বুদ নেই। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের আজাব হতে, কবরের আজাব হতে, মসিহ দজ্জালের ফিতনা হতে এবং জীবন মৃত্যুর ফেৎনা হতে। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিপদের কষ্ট, নিয়তির অমঙ্গল, দুর্ভাগ্যের স্পর্শ ও বিপদে শক্রর উপহাস হতে। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমি সকল বিরোধ, মুনাফেকি এবং বদ চরিত্র হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। তোমার প্রতি ঈমান আনলাম। তোমার উপর ভরসা করলাম। তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম। তোমার উদ্দেশ্যে বিবাদে লিপ্ত হলাম। তোমার নিকট বিচার ফয়সালার ভার সোপর্দ করলাম। অতঃপর তুমি আমাকে ক্ষমা কর, যা আগে করেছি ও পরে করব, যা প্রকাশ্যে করেছি ও যা গোপনে করেছি। এবং যে বিষয়ে আমার থেকেও তুমি অধিক অবহিত আছ। তুমিই আমার মা’বুদ তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তর আলোকময় কর। আমার কর্ণ আলোকময় কর। আমার চোখ জ্যোতির্ময় কর। আমার সম্মুখ আলোকময় কর। আমার পশ্চাৎ আলোকময় কর। আমার ডানে, আমার বামে, আমার সামনে, আমার পিছনে জ্যোতি ছড়িয়ে দাও। আমার নূরকে তুমি বৃহদাকার করে দাও। হে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় কামনা করছি অসার জ্ঞান হতে, অশ্রুত দো’আ হতে, এবং এমন প্রবৃত্তি হতে যা পরিতৃপ্ত হয় না, এমন অন্তর হতে যা বিগলিত হয় না। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা, সম্পদের প্রাচুর্য এবং সে কাজ করার সামর্থ্য কামনা করি যা তুমি পছন্দ কর ও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও। (সহীহ মুসলিম)
      . হে আল্লাহ! আমাকে ইসলাম সহকারে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং বসা অবস্থায় তথা সর্বাবস্থায় হেফাজত কর। আমার ক্ষেত্রে আমার কোন শত্রু, আমার কোন নিন্দুক বা হিংসুক খুশি হয়ে উপহাস করতে পারে এমন কোন কাজ আমার দ্বারা করায়েনা। (সহীহ জামেউস সগীর)
      . হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কামনা করছি সেসব কল্যাণ ও মঙ্গল যার ভা-ার তোমার হাতে। আর তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করছি সেসব অনিষ্ট ও ক্ষতি হতে, যার ভা-ারও তোমার হাতে। (সহীহ মুসলিম)

      Processing your request, Please wait....
      • Print this article!
      • Digg
      • Sphinn
      • del.icio.us
      • Facebook
      • Mixx
      • Google Bookmarks
      • LinkaGoGo
      • MSN Reporter
      • Twitter
      ২৭১ বার পঠিত
      1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)