লগইন রেজিস্ট্রেশন

মিথ্যা চেনার মূলনীতি [প্রসঙ্গ বিবর্তনবাদ]

লিখেছেন: ' Mahir' @ শুক্রবার, মে ৫, ২০১৭ (১০:৪৪ অপরাহ্ণ)

ভূমিকাঃ
সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতের স্রষ্টা, পরিচালক, সুবিজ্ঞ, অসীম কুশলী মহিয়ান আল্লাহর যিনি জ্ঞানের অধার , তিনি অতি সুক্ষ্মদর্শী এবং সব কিছুর খবর রাখেন। তিনিই মানুষকে সে সব বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে তাদের ইহ ও পরকাল উভয় জগতে রয়েছে কল্যাণ ।
আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই। তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর কোন শরীক নাই। আরও স্বাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর প্রতি, তার পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের প্রতি অবারিত ধারায় রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অত:পর,

আল্লাহ্‌ বলেন, “ বল,অন্ধ ও দৃষ্টিসম্পন্ন কি সমান অথবা অন্ধকার ও আলো কি সমান?”[সূরা রা’দ ১৬]

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেন,

    আছেন সত্য মাথার’পর
    বেপরোয়া তুই সত্য বল,
    বুক ঠুকে তুই সত্য বল।
    (তখন) তোর পথেরই মশাল হয়ে
    জ্বলবে বিধির রুদ্র চোখ,
    বিধির বিধান সত্য হোক।
    বিধির বিধান সত্য হোক।

ইন্টারনেটে science আর anti-science এর যুক্তি-তর্কের গভীর প্যাঁচ খুলতে না পেরে, আজকাল কিছু মুসলিম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে যে, আল্লাহ্‌ নেই। এই জটিল, নিয়মবদ্ধ মহাবিশ্ব একটা অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিকল্পিত পথ ধরে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছে গেছে।আমাদের আলোচনার বিষয়, “Evolution কি science, নাকি anti-science”? by chance theory সত্য ,নাকি anti-chance?
উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, একজন লোক সে ইউটিউবে flat earth society এর কিছু ভিডিও দেখল, যা প্রমান করে যে, পৃথিবী সমতল[???] অতপর,সে ভাবল-‘ নিজেদের ধর্মকে সত্য বলার জন্য আস্তিকরা কত কিছু করে…।
সে আরও কিছু ভিডিও দেখল যা প্রমান করে যে, বিবর্তন আছে আর ডারউইন সত্য বলেছে। এবার সে ভাবল-‘ আচ্ছা, মুসলিম হিসাবে আমি যে বলি-বিবর্তন নেই;এটা কি ঠিক ?’
লোকটা অনেক ভাবল, এরপর সে বলল-‘ পাঠ্যবইয়ে যা আছে সেটাই ঠিক, অন্ধ ধার্মিকরা নিজেদের সঠিক প্রমান করার জন্য বৈধ-অবৈধ সকল উপায়ে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করছে। আজ থেকে আমি সেটাই বিশ্বাস করব যা বিজ্ঞানীরা বলবে।’
মোট কথা, সে তাদের অনুসরন করবে যাদের প্রচার সবচেয়ে বেশি। কারন এটা যেকোন বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ জানে যে খোদ-বিজ্ঞানীরাই দুইটি আলাদা ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে; স্রষ্টার উপস্থিতির প্রশ্নে। সে তাদের অনুসরন করবে,যাদের অনুসরন করলে পার্থিব ভোগ তার জন্য সহজ হবে;কিছু কথা তার মনে আসবে –“এক ধর্মের লোক আরেক ধর্মের কাউকে বিয়ে করে না, এমনকি ধর্মান্ধ এটা ভাবে না –সবাই মানুষ।“ তার বুদ্ধি যখন এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না,সে তখন নাস্তিকতাকে সঠিক মনে করে।।এই মুসলমানেরা,জ্ঞানপাপী বিজ্ঞানীদের দ্বারা মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছে।

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নাবুয়্যাত প্রাপ্তির প্রায় বিশ বছর পর – তখন খালিদ [রাঃ] কে তাঁর কিছু বন্ধু জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমার মন কোথায় ছিল হে খালিদ, যে তুমি এই [ইসলামের ] আলো গত বিশ বছরে দেখতে পাও নি?”ফলে তিনি (রাযিআল্লাহু আনহু) জবাব দিলেন, [আর তার কথা সকল অন্ধ-অনুসরণকারীদের এক মুহুর্ত হলেও মনযোগ সহকারে শোনা ও এর উপর চিন্তা করা উচিত।] তিনি বললেনঃ “আমরা আমাদের সামনে কিছু ব্যক্তিত্বকে দেখেছিলাম [আবু জাহেল,আবু লাহাব ইত্যাদি] যাদের চিন্তা-ভাবনাকে আমরা পাহাড়সম (তাৎপর্যপূর্ণ) মনে করতাম।”

নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি সাহীহ হাদীসে এ সম্পর্কে তিনি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “অন্ধ-অনুসরণকারী হয়ো না, একথা বলে যেঃ ‘যদি মানুষ ভালো কাজ করে, তবে আমরাও ভালো কাজ করবো, আর যদি মানুষ অন্যায় কাজ করে, তবে আমরাও অন্যায় কাজ করবো,’ বরং নিজেদেরকে সুদৃঢ় করো, যেন যদি মানুষ ভালো কাজ করে, তোমরা ভালো কাজ করবে, কিন্তু যদি তারা অন্যায় কাজ করে, তবে তোমরা অবিচারকে পরিণত হবে না।” [আত্*-তিরমিযি-এর দ্বারা বর্ণিত, যিনি এটিকে হাসান বলেছেন]

    সমাধান কিভাবে করব?

আমি বলব, এই রকম সিদ্ধান্ত আসলে আবেগের বশে নেয়া। কারন সে যাচাই করে নি। শুধু অনুসন্ধানের খাটুনি থেকে বাঁচতে ,সে কয়েন দিয়ে টস করার মত নাস্তিক বিজ্ঞানীদের অনুসরন করা যৌক্তিক মনে করেছে।

আবার, এক দিক থেকে তার অন্য কোন উপায় ছিল না। সে তো ফিজিক্স বা বায়োলজির
বিশেষজ্ঞ না,যে পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে যাচাই করবে?

তাই, এই অবস্থায় সহজ হল- দুই পক্ষের কথা শোনা। মিথ্যাবাদীরা কোন না কোন জায়গায় গিয়ে জবাব খুঁজে পাবে না। অবশ্য, এটাও শ্রমসাপেক্ষ কাজ।

আমাদের ইমাম ‘আলী (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যেখানে তিনি বলেছেনঃ “ও হারিস! বিষয়টি তোমার কাছে জটিল রূপ ধারণ করেছে। মানুষ সত্যের উৎস নয়। সত্যকে জানো, আর তখনই তুমি এর অনুসারী মানুষদেরকে চিনতে পারবে।”
মানুষের মাঝে হাক্বের (সত্য) অনুসন্ধানের ফলে অন্ধ-অনুসরণ ছড়িয়ে পড়েছে।

1

ইমাম আহ্*মাদ (রহিমুল্লাহ) বলেছেনঃ “যে সকল বিষয় মানুষের ফিক্ব্হী (প্রজ্ঞার) অভাবকে নির্দেশ করে, তার মাঝে একটি হল সে দ্বীনের বিষয়াদিতে অপর কোন মানুষের অন্ধ-অনুসরণ করে।” [ই’লামুল মুওয়াক্ব্*ক্বইন, ২/২১১]

তাই, এই ক্ষুদ্র পুস্তিকার অবতারনা। সত্য আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করব কিভাবে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।

    সমাধানের পথে……

আগে আমাদের জানতে হবে এই প্রশ্নের সমাধান কোন শাস্ত্রে আছে। কেউ যদি বিজ্ঞান দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমান করতে চায়, এটা খুব কঠিন কাজ হবে।
আমার দৃষ্টিতে এই সমস্যার সমাধান রয়েছে, দর্শনশাস্ত্রে। Mother of all sciences নামে পরিচিত এই বিদ্যা ছাড়া আর কোন শাস্ত্র ,’ সত্য আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার মূলনীতি আমাদের বলতে পারে?
দর্শনের আদর্শ বই হিসাবে আমি বাছাই করেছি কুরআন মাজীদ। কারন দর্শন হল সেই শাস্ত্র যা আমাদের এই প্রশ্নের উত্তর দেয় যে- কে আমি? কি আমার উদ্দেশ্য? [ সোফির জগত ]
আর কুরআন মাজীদে সেই উত্তর দেয়া হয়েছে। তাই এটা নিঃসন্দেহে দর্শনের বই।
1

    প্রশ্ন হল, অন্য কোন দর্শনের বই থেকে কেন কিছু নিলাম না?

প্রথম কারন, এটা আল্লাহর বানী। বিস্তারিত জানতে পড়ুন – ডঃ জাকির নায়েকের বই “কোরআন কি আল্লাহর বানী?” ।

হযরত আব্বাস[রাঃ] বলেন, “নিশ্চয়ই সে কথাই সবচাইতে উত্তম, যে কথা সবচাইতে সত্য”। ]মুসনাদে আহমাদ]

[আর আল্লাহ্‌ বলেন, “ সত্য এসেছে তোমার রবের পক্ষ থেকে”।[আল-কুরআন- সূরা ইউনুস ১০৮]

দ্বিতীয় কারন, এটার প্রশংসা অনেক মহান মনীষী করেছেন। যার উদ্ধৃতি দিয়ে আমি আলোচনা বড় করতে চাই না।
তৃতীয় কারন,অন্য কোন বই খুঁজতে কেন যাব, যদি এক বইতেই সব পেয়ে যাই?
আশা করছি একজন নাস্তিকও আমার লেখাটি সম্পূর্ণ পড়া শেষ করলে, আমার সাথে একমত হবে।
1

    মিথ্যা কি?মিথ্যুক কে?

সহজ কথায়, মিথ্যা হল সত্যের বিপরীত; সত্যকে আচ্ছাদনকারী; বাস্তবতাবিরোধী। আর মিথ্যা যে বলে বা যে তার সমর্থন করে বা তা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে ,সে হল মিথ্যুক।
বিশ্বাসীদের জন্য এই ব্যাখ্যা যথেষঠ যে- যা কিছু কুরআন মাজীদের বিরুদ্ধে যায় তার সবই মিথ্যা। আর মিথ্যুকের সংজ্ঞায় আল্লাহ্‌ বলেন,

“নিজের পক্ষ থেকে কথা বানানো হচ্ছে তাদের কাজ যারা বিশ্বাস করে না,[আসলে] এরাই হচ্ছে মিথ্যাবাদী।“[সূরা নাহল ১০৫]

    মিথ্যা নিয়ে কিছু কথা

এখানে আমরা আলোচনা করব ৫ টি বিষয় নিয়ে। [যদিও আমি তা আলাদা করে উল্লেখ করি নি]

১- মিথ্যার গুনাবলি
২- মিথ্যুকের কর্মপদ্ধতি
৩- মিথ্যুকের চরিত্র
৪- মিথ্যা বলার কারন
৫- সত্যের কতিপয় গুন
আমি দেখেছি যে, প্রত্যেক যুগের মিথ্যাবাদীরা কিছু নির্দিষ্ট পথ ধরে কাজ করেছে। আর উস্তাদ নুমান আলি খান প্রায়ই বলেন যে, কুরআন আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান দেয়। তাই আমি কুরআন থেকে উত্তর খুঁজেছি।

    মিথ্যা বলার কারন
    অহংকারঃ

মানুষ তার মতবাদের অনুপ্রেরণায় এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে মিথ্যা বলে।

আল্লাহ্‌ বলেন, “শয়তান অহংকার করল ও অস্বীকার করল।“[সূরা বাকারাহ ৩৪]

    উদাহরনঃ-

আমাদের বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা তাদের মতবাদের পক্ষে প্রমান খোঁজা বাদ দিয়ে কিছু convincing এবং অহমিকাপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে সাধারন মানুষদের সন্দেহের মাঝে ফেলে দেবার কাজে লিপ্ত হচ্ছে। যেমনঃ
তারা বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরন করে না,বরং বিজ্ঞানকে তাদের প্রস্তাবিত মতবাদের দিকে

ধাবিত করে। একজন বিশিষ্ট ডারউইনবাদী Pierre Teilhard de Chardin, তিনি বিবর্তনবাদীদের দৃষ্টিতে ‘বিজ্ঞানের’ অবস্থান এইভাবে তুলে ধরছেন,

“Is evolution a theory, a system, or a hypothesis? It

is much more. It is a general postulate to which
all theories, all hypotheses, all systems must

henceforward bow and which they must satisfy
in order to be thinkable and true. Evolution is a
light which illuminates all facts, a trajectory
which all lines of thought must follow. This is what evolution is. [ Francisco Ayala, "Nothing in Biology
Makes Sense Except in the Light of
Evolution: Theodosius Dobzhansky,
1900-1975," Journal of Heredity, vol.
68, no. 3, 1977, p. 3.]

অর্থাৎ, বিবর্তন কি একটি তত্ত্ব, একটি প্রক্রিয়া, নাকি অনুমান? এটা আরও বেশি কিছু। একারনে, সকল তত্ত্ব, অনুমান, প্রক্রিয়াকে অবশ্যই এই সাধারন প্রস্তাবনাকে[ ডারউইনবাদকে] কুর্নিশ করতে হবে এবং ভাবযুক্ত ও সত্য হতে হলে অবশ্যই ডারউইনবাদকে তুষ্ট বা সিদ্ধ করতে হবে। বিবর্তন হল আলো, যা সকল কারন বা সত্যকে আলোকিত করে ;একটি সঞ্চারপথ যাকে সকল চিন্তাধারাকে অবশ্যই অনুসরন করতে হবে। এটাই হল বিবর্তন।

    প্রশ্ন হল, “যা কিছু কুরআন মাজীদের বিরুদ্ধে যায় তার সবই মিথ্যা”।কথাটি বলা অহংকার কিনা?

বিবর্তনবাদীরা এটা প্রমান করতে পারেনি যে,তারা যা বলছে তা সত্য। কিন্তু কুরআন প্রমান করে দিয়েছে ১৪০০ বছর পূর্বেই । কুরআন হল একটি চ্যালেঞ্জ, যার মুখোমুখি হয়ে কেউ জিততে পারে নি-

আল্লাহ্‌ বলেন, “তবে কি তারা বলে যে, “তুমি[মুহাম্মাদ] এটি রচনা করেছ?” তুমি[মুহাম্মাদ] বলে দাওঃতবে তোমরাও অনুরূপ রচিত ১০ টি সূরা আনয়ন কর, আর যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে[সাহায্যের জন্য] আল্লাহ্‌ ছাড়া যাকে পার আহ্বান কর”। [সূরা হুদ ১৩]

ইমরুল কায়েসের মত দক্ষ কবি পর্যন্ত গলদঘর্ম হয়েছিল,এই চ্যালেঞ্জের সামনে। ২০০৫ সালে এক ইয়াহুদির কথা জানি যে সর্বশেষ সূরা তৈরির চেষ্টা করেছে। আর তৈরি করেছেও বটে [???] যার উদাহরণ পেশ করলে হাসতে হাসতে আপনি মরে যেতে পারেন। আমি চাই না লেখাটি পড়ার আগেই আপনি একবার মৃত্যুর দুয়ার ঘুরে আসুন।
একজন নিরক্ষর লোক জীবনের প্রথম ৪০ বছর কোন কবিতা লিখল না। হঠাৎ সে কবিতা লিখতে শুরু করল? আশ্চর্যজনক বটে। সামনে আরও প্রমাণ পেশ করা হবে, কুরআন সত্য হওয়ার পক্ষে, ইনশাল্লাহ।

    অভ্যাসবশতঃ

- অভ্যাসবশত যে মিথ্যা বলে সে জাহান্নামী ।

আবু হুরায়রা[রাঃ] থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ[সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, “শেষ বিচারের দিন তিন প্রকারের লোকের সাথে আল্লাহ্‌ কথা বলবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি । তারা হলঃ বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যুক রাজা, অহংকারী ফকির। [সহিহ মুসলিম,কিতাবুল ঈলম।]

    উদাহরনঃ-

বিবর্তনবাদীদের অভ্যাসবশত মিথ্যা বলার একটি নমুনা হল বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী Ernst Haeckel । তিনি তার সমসাময়িক বিজ্ঞানীদের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন। তার তত্ত্ব “Ontogeny Recapitulates Phylogeny” এর ভিত শক্ত করতে তিনি ভ্রমাত্মক কিছু ছবি অংকন করেন । যাতে দেখানো হয় যে, মানব ভ্রূণ এবং মাছের ভ্রূণ সদৃশ। আর যখন তিনি ধরা পরে গেলেন,তখন বললেন,

“After this compromising confession of “forgery” I should be obliged
to consider myself condemned and annihilated if I had not the
consolation of seeing side by side with me in the prisoners’ dock
hundreds of fellow culprits, among them many of the most trusted
observers and most esteemed biologists. The great majority of all
the diagrams in the best biological textbooks, treatises and journals
would incur in the same degree the charge of “forgery,” for all of
them are inexact, and are more or less doctored, schematized and
constructed.” [The Neck of the Giraffe: Where
Darwin Went Wrong, p. 204.
]

এটা অনুবাদ না করলেই ভাল, ইংরেজিতে এর সাহিত্যমান বেশ ভাল… এছাড়া আরও আলোচনা সামনে আসবে ইনশাল্লাহ।

    মানুষকে লজ্জা দেওয়ার জন্যঃ-

কিছু লোক মানুষকে হেয় করার জন্য মিথ্যা বলে।

আল্লাহ্‌ বলেন, “হে মানুষ, তোমরা যারা বিশ্বাস করেছ, এক সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায় নিয়ে উপহাস কর না”।[ সূরা হুজুরাত ১১]

অবিশ্বাসীরা প্রিয় নবী[সাঃ] কে পাগল বলত,যদিও সে তা ছিল না। তারা মিথ্যা বলত, রাসুলকে নিয়ে উপহাস করার জন্য।
উদাহরনঃ- বিবর্তনবাদী গবেষক Samuel Verner , কঙ্গো থেকে Ota Benga কে বন্দী করে আমেরিকায় পাঠান। Ota Benga ছিল বিবাহিত,তার ২ টি সন্তান ছিল। আমেরিকায় বিবর্তনবাদীরা St Louies World Fair এ তাকে বিভিন্ন বানরের সাথে খাঁচায় প্রদর্শন করে,এটা প্রমান করতে যে মানুষ বানর থেকে এসেছে।
1

    কঠিন কাজ থেকে বাঁচতে মিথ্যা বলেঃ-

সাহাবীদের সময় বদরের যুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরে রাখার জন্য কিছু মুনাফিক মিথ্যার আশ্রয় নেয়।
উদাহরনঃ- নাস্তিকরা মিথ্যা বলে যেন স্রষ্টার আদেশ-নিশেধ মানতে না হয় ।
1

স্যার আরথার কীথ বলেন, “ evolution is unproved and improvable. We believe it only because the only alternative is special creation and that is unthinkable”.

1966 সনের এক রিপোর্টে Confession of professed atheist শীর্ষক প্রবন্ধে Aldous Huxley বলেন,

“ we objected to the morality because it interfered with our sexual freedom”.[page-19]

অজ্ঞতা ঢাকতে মিথ্যা বলাঃ-

আল্লাহ্‌ বলেন, “ যে বিষয়ে তমাদের জ্ঞান নেই সেসব বিষয়ে তোমরা বিতর্ক করছ কেন? আল্লাহ্‌ জানেন , তোমরা কিছুই জান না”। [সূরা মায়িদাহ ৬৬]

উদাহরনঃ-

ডারউইন বলেন, “If my theory be true, numberless intermediate varieties, linking
most closely all of the species of the same group together must
assuredly have existed… Consequently, evidence of their former
existence could be found only amongst fossil remains.” [The Origin of Species: A Facsimile of
the First Edition, p. 179.
]

কিন্তু, অন্তর্বর্তী প্রজাতি তো পাওয়া যায় নি। তাই তারা কিছু মিথ্যা অপপ্রচার
চালাচ্ছে। তুর্কির বিখ্যাত বিবর্তনবাদী ম্যাগাজিন Bilim ve Utopya (Science and Utopia) – এ চতুর বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানী Dr. Umit Sayin বলেন,

“The fact that Archaeopteryx was a flying dinosaur has little
importance with regard to the correctness or validity of the theory
of evolution. Even if no transitional fossil were found, the theory
of evolution would not be affected… suppose that we have found
no fossil yet; this shows that all intermediate forms have been lost
and dispersed in nature. Let’s say that every fossil is a hoax! Even
this would not affect the theory
of evolution, because fossils,
Archaeopteryx and other
transitional forms are necessary
only to explain the process”. [Umit Sayin, "Uçtu Uçtu Dinozor Uçtu"
("The Dinosaur is Just About to Fly"),
Bilim ve Utopya, November, 1998.
]

1

    মানে ডারউইনের কাছে যা তার তত্ত্বের সঠিক হবার মানদণ্ড ছিল,তাতে তার আসে-যায় না। সে তার ধর্মবিশ্বাস বহাল রাখবে সকল ফসিল ভুয়া হলেও। আর নিজেদের অজ্ঞতা ঢাকার জন্য একটা মিথ্যার অবতারনাও করেছে।
      জেগে যারা ঘুমিয়ে থাকে,তাদের ঘুম যেমন ভাঙ্গে না,
      বুঝেও যারা বুঝ মানে না,তাদের তেমনি বুঝ আসে না।
      যারা অন্তরে অন্দরে থাকে অন্ধ রে,
      ফিরে নাকো দৃষ্টি তাদের কোন মন্তরে।

বাড়িয়ে বলাঃ-
মিথ্যুকরা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সত্যকে ফুলিয়ে- ফাপিয়ে বলে। রাসুলুল্লাহ [সাঃ] যুদ্ধে আহত হলে, তারা প্রচার করল যে তিনি মারা গেছেন।
উদাহরনঃ-
আমাদের মুক্তমনা অভিজিৎ রায় তার ‘মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধানে’ বইয়ে লিখেছেন যে, মঙ্গল গ্রহে নাকি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। আমি এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে কোন তথ্য পাই নি। নাসা-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট যা জানতে পেরেছি তাহলো, নাসা ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে, পেয়েছে এই কথা তিনি কোথায় পেলেন আমি জানি না। বারাক ওবামা নাসা-র বিজ্ঞানীদের সাথে হাসিঠাট্টা করে বলেছেন যে,তিনি তার খাবারের মেনুতে মঙ্গল গ্রহের অনুজীব চান। [ বাংলাদেশ প্রতিদিন ] তবে তিনি তা খেয়েছেন বলে শুনি নি।

মানুষ ঠকাতেঃ-

1
উদাহরনঃ-
যদিও এটা প্রমানিত যে, ইউরি-মিলারের পরীক্ষা ভুল, তবুও বিবর্তনবাদীরা আজও এই ঘটনা প্রচার করে। দেখুন অভিজিৎ রায় এর ‘মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধানে’ বইটি।

জাঁকালো প্রচারনার জন্যঃ-

Know that the life of this world is merely a game and a diversion, ostentation, and a cause of boasting among yourselves, and trying to outdo one another in wealth and children: like the plant-growth after rain that delights the cultivators, but then it withers and you see it turning yellow, and then it becomes broken stubble. In the Hereafter there is terrible punishment but also forgiveness from Allah and His good pleasure. The life of this world is nothing but the enjoyment of delusion. (Surat al-Hadid, 57:20)

উদাহরনঃ-
উল্লিখিত আলোচনায় কিছুটা হলেও বোঝা হয়ে গেছে যে, বিবর্তনবাদীরা তাদের মিথ্যা প্রচার করে। আর এই প্রচারনা অনেক জাঁকালো ভাবেই করছে।evolution,creation and science বই বলছে,
1

লাভ করার জন্যঃ-
Woe to those who defraud [when measuring]! Those who, when they take a measure from people, exact full measure, but when they give them a measure or weight, hand over less than is due. Do such people not realize that they will be raised up on a Terrible Day, the Day mankind will stand before the Lord of all the worlds? (Surat al-Mutaffifin, 83:1-6)

উদাহরনঃ-
বিবর্তনবাদীদের শিক্ষা হল এটাই যে, অর্থনীতিতে লাভ করার জন্য প্রতারনা কর।
Evolution or creation বইতে H Enoch লিখেছেন,

“prof.j.holmes বলেন, “ চতুরতা, নিষ্ঠুরতা, কাপুরুষতা , প্রতারণা যাই হক না কেন, ব্যক্তির সমাজে টিকে থাকার জন্য এটাই ভাল”।


বিতর্কে জয় লাভের জন্যঃ-

আল্লাহ্‌ বলেন, “তারা মিথ্যা দ্বারা বিতর্ক করে”। [সূরা কাহাফ]

উদাহরনঃ-
বিবরতনবাদীরা বিতর্কে জয় লাভের জন্য যেসব মিথ্যা বলেছে, তার মধ্যে The Piltdown Man Scandal এবং The Nebraska Man Scandal অন্যতম।
1

শ্বেত মিথ্যাঃ-

ইহুদিরা জনসংখ্যা কমে যাবার ভয়ে ব্যভিচারের মিথ্যা শাস্তির প্রচলন করে। যেন তারা এক অর্থে ভাল কাজই করছে।

উদাহরনঃ-
আমাদের সমাজের নাস্তিকরা সমকামীতাকে এই জন্য পছন্দ করছে যেন তারা মানুষের ভালবাসাকে মুক্তি দিচ্ছে। তাদের দাবি- “ প্রেম যে কারো সাথে হতে পারে,প্রেম তো প্রেমই।এর কি সীমারেখা আছে? একে তো বন্দী করা যায় না”।
সমস্যা হল কাকে কোন জায়গায় রেখে ভালবাসতে হবে এটা তাদের জানা নেই। কাজেই তারা বাবাকেও ভালবাসে আবার মাকেও ভালবাসে। ভালবাসা তো ভালবাসাই। তাদের সাথে বিছানায় যেতে সমস্যা নেই।

কোন কাজের অপারগতা ঢাকতে মিথ্যা বলাঃ-

O you who believe! Why do you say that which you do not do? It is deeply abhorrent to Allah that you should say that which you do not do. (Surat as-Saff, 61:2-3)

উদাহরনঃ-
জাতীয় নাস্তিকেরা নিঃসন্দেহে পরিবার সংরক্ষণের পক্ষে। কিন্তু তারা সমকামীতার পক্ষে। যা কিনা পরিবার ধ্বংস করে। বিস্তারিত জানতে national geography এর taboo দেখতে পারেন।

মিঃ শেপার্ড বলেন,” ইউরোপে বর্তমানে এক নতুন প্রজন্মের জন্ম হচ্ছে, যারা পারিবারিক জীবনের অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ”।

আরও ভাল উদাহরণ হল এই উক্তি-

The heart of the problem is how the mitochondria have acquired this feature,
because attaining this feature by chance even by one individual, requires
extreme probabilities that are incomprehensible… The enzymes providing
respiration and functioning as a catalyst in each step in a different form make
up the core of the mechanism. A cell has to contain this enzyme sequence
completely, otherwise it is meaningless. Here, despite being contrary to
biological thought, in order to avoid a more dogmatic explanation or
speculation, we have to accept, though reluctantly, that all the respiration
enzymes completely existed in the cell before the cell first came in contact
with oxygen[Ali Demirsoy, Kalitim ve Evrim
(Inheritance and Evolution), Meteksan
Publishing Co., Ankara, 1984, p. 94-95.
(emphasis added)]

ভয়ে মিথ্যা বলেঃ-

That was only Satan who intimidated his adherents. But do not fear them—fear Me if you are believers. (Surah Al `Imran. 3:175)

উদাহরনঃ-
মানুষ তার সম্মান হারানোর ভয় করে। নাস্তিকতা বর্তমানে একটি fashion হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিবর্তনকে সমর্থন না করলে নিজেকে অনেকে বিজ্ঞানী বলে দাবী করতে লজ্জা পান।

The resulting realization that life was designed by an intelligence is a shock
to us in the twentieth century who have gotten used to thinking of life as the
result of simple natural laws. But other centuries have had their shocks, and
there is no reason to suppose that we should escape them।[Michael J. Behe, Darwin's Black Box, The
Free Press, New York, 1996, pp. 252-53.
397 Orhan Hançerlio¤lu, Düflünce Tarihi
(History of Idea), Remzi Kitabevi, ‹stanbul:
1987, p.432.
]

কবি বলেন,

    করিতে পারি না কাজ, সদা ভয়,সদা লাজ,
    সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
    পাছে লোকে কিছু বলে।

1

মিথ্যুকদের চরিত্র-

বারবার শপথ করাঃ-

they say: “We bear witness that you are indeed the Messenger of Allah.” Allah knows that you are indeed His Messenger, and Allah bears witness that the hypocrites are certainly liars. They have made their oaths into a cloak and barred the Way of Allah. What they have done is truly evil. That is because they have believed and then returned to unbelief. So their hearts have been sealed up, and they cannot understand. (Surat al-Munafiqun, 63:1-3)

উদাহরনঃ-
যদিও নাস্তিকরা শপথ করে না। এটা মূলত আমাদের দেশের নেতাদের চরিত্র।

প্ররোচনামুলক কথা বলাঃ-
বিশ্বাস করানোর জন্য মুনাফিকরা বিভিন্ন কথা বলত। যেমন- আমি সাক্ষী দিচ্ছি… আমরা আপনাকে ভালবাসি… ইত্যাদি।

উদাহরনঃ-
বিবর্তনকে তারা জোর গলায় নিম্মল্লিখিত শব্দে অভিহিত করছে- “evolutionary dogma!,” “scientific faith!,”
“a convincing faith!,” “man’s world view today!,” “method of
dissemination!,” “the whole of reality!,” “a light which illuminates all
facts!,” “metaphysical belief!,” “a metaphysical research program!,” “an
orbit that every system of thought must follow!”…

কিছু বাহ্যিক চরিত্রঃ-

আল্লাহ্‌ বলেন, “See how they wrap themselves around, trying to conceal their feelings from Him! No, indeed! When they wrap their garments around themselves, He knows what they keep secret and what they make public. He knows what their hearts contain. (Surah Hud, 11:5)

উদাহরনঃ-
Many liars give themselves away by particular actions, such as wandering eyes, staring at the ground, and continually shuffling one’s feet or shaking one’s head while speaking. এটা আপনি টিভিতে নাস্তিকদের লক্ষ্য করে কিছু বুঝতে পারবেন।

অনুমান করাঃ-
আল্লাহ্‌ বলেছেন যে, তারা ঈসা [আঃ] কে ক্রুশবিদ্ধ করে নি, এবং হত্যাও করে নি।তাদের অনুমান ছিল যে, ঈসা [আঃ ] মারা গেছেন।

উদাহরনঃ-
ডারউইন তার নিজের তত্ত্বে নিশ্চিত ছিল না। তাই ডারউইন তার origin of the species বইয়ের ৬ ষ্ঠ অধ্যায়ে difficulties of this theory নিয়ে আলোচনা করেছেন। Richard dawkins এখনও তার নিত্য-নতুন অনুমান তার বইতে লিখছে।

পার্থিব জ্ঞানে জ্ঞানীঃ-

আল্লাহ্‌ বলেন, “ওরা পার্থিব জীবনে জ্ঞানী, আর পরকাল নিয়ে উদাসীন”।[সূরা রুম ৭]

মিথ্যার কিছু গুনঃ-

অধিকাংশ মানুষ মিথ্যার অনুসারীঃ-

আল্লাহ্‌ বলেন, “ বরং ওদের অধিকাংশ সত্য জানে না”।[সূরা আম্বিয়া-২৪]

উদাহরনঃ-
বহুত্ববাদীদের সংখ্যাই বেশি। নাস্তিকদের সাদৃশ্য হল, তারা প্রবৃত্তির উপাসনা করে।

মিথ্যুকের কর্মপদ্ধতিঃ

প্রথম কৌশল – বল প্রয়োগ
সত্যের মুখ বন্ধ করতে মিথ্যুক নেতারা নমরুদের পথ ব্যবহার করে। যেভাবে, নমরুদ নবী হজরত ইবরাহীম [আঃ] কে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। [সূরা আম্বিয়াঃ৬৮]
উদাহরনঃ-
Mendel এর genetics যখন Lamark এর তত্তে আঘাত হানল ,রাশিয়ান বিজ্ঞানী Lysenko কথাটি স্ত্যালিনের [stalin] এর অগোচরে আনে। আর stalin জোরপূর্বক রাশিয়ায় genetics পড়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ।

দ্বিতীয় কৌশল হল চরিত্র হনন।
মুসা (আঃ) যখন সত্যের দাওয়াত নিয়ে আসলেন তখন ফিরাউন বলত, ও আর কী দাওয়াত দিতে আসছে? ও নিজেও একজনকে খুন করে পালিয়ে গিয়েছিল আর এখন যাদু করে বেড়ায়। কী আশা কর আর ওর থেকে?[সূরা কাছাছ-৩৬-৩৭]

উদাহরনঃ-
এটা কি আমাকে উদাহরণ দিয়ে বলতে হবে যে, মহানবী[সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর পবিত্র চরিত্র নিয়ে আমাদের মুক্তমনা দাবীদার লোকেরা খারাপ কথা বলে না?
তৃতীয় কৌশল হল বিশাল এক জনসমাগমের আয়োজন করা আবেগী মানুষদের নিয়ে।
এটি হল ফিরাউনের কৌশল। মুসা (আঃ) কে হেনেস্তা করার জন্য নিজের মানুষদের নিয়ে বিশাল এক জনসমাগম করেছিল। মুসা(আঃ) তার মোজেজা দেখাবেন আর ফিরাউনের যাদুকরেরা যাদু দেখাবে। মুসা (আঃ) যাই বলবেন আর যাই করবেন আর তখনই লোকেরা Boooooooooo করে উঠবে। সত্য কথা হলেও। মোটামুটি এই হল কৌশল।[সূরা আ’রাফ ১০৯-১১২]

উদাহরনঃ-
আপনি ইউটিউবে দেখবেন শ্রদ্ধেয় রিচার্ড ডকিন্স সাহেব এমন সব সাধারন মুসলিমকে জব্দ করার চেষ্টা করেন যারা বিবর্তন নিয়ে কোন ধারনাই রাখে না। এইরকমই একটা ভিডিও আমি দেখেছিলাম,সে একজন মুসলিম ছাত্রের পিতাকে রিমান্ডে নিয়েছেন;যার মুখভরতি দাঁড়ি; যাতে তিনি প্রমান করতে পারেন সব মুসলিমরাই আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অক্ষম।আপনার-আমার অনেকের পিতা-মাতাই ফেসবুক-ইউটিউব বুঝে না,এখন কি তাদের গ্রামে পাঠিয়ে দিবেন?

চতুর্থ কৌশল – ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা।
নবীজী (সাঃ) কে উদ্দেশ্য করে কাফেররাও বলত যে সে নাকি শান্তি আনতে চাচ্ছে অথচ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসার পর অশান্তি আরও বেড়ে গেছ। ভাই-ভাই, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-ছেলে বন্ধন ভেঙ্গে যাচ্ছে… ইত্যাদি ইত্যাদি।[সূরা বাকারাহ – এর কিছু আয়াতের শানে নুযূল ]

আল্লাহ্‌ বলেন,এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কর না। তারা বলে-আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী । জেনে রাখ,তারাই শান্তি বিনষ্টকারী। যদিও তারা তা বুঝতে পারে না।[সূরা বাকারাহ-১১-১২]

উদাহরনঃ- আজকাল কিছু সাম্যবাদী এমনসব সিনেমা তৈরি করছে,যাতে দেখান হয়- কোন এক হিন্দু ছেলে আরেক মুসলিম মেয়ে প্রেমে পড়েছে । আর ছবির অদৃশ্য ভিলেন হচ্ছে ধর্ম। তারা বুঝাতে চায় ধর্ম মানুষের মাঝে বৈষম্যের সৃষ্টি করছে।
সাধারন মানুষ এটা বুঝতে পারে না যে, বাস্তবতার কাছে প্রেম-ভালবাসার মত স্বল্পস্থায়ী আবেগের কি মুল্য থাকতে পারে?
1
এক বিতর্কে Richard Dawkins বলছিলেন যে,ধর্ম মানুষকে জ্ঞানচর্চা থেকে দূরে ঠেলে দেয়। কিছু অজ্ঞ মুসলিম blackmail এর শিকার হয়ে এটা বিশ্বাসও করছে। অথচ এখন ১৪৩৮ হিজরী,আর ৬৭৬ হিজরীর আগেই ইমাম নাবাবী [রহ.] জনপ্রিয় “রিয়াযুস সালিহীন” গ্রন্থের ৯ নং অনুচ্ছেদ লিখেছেন- “আল্লাহর সৃষ্টি জগত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার গুরুত্ব”।

পঞ্চম কৌশল হল ভুলভাবে উদ্ধত করা।
সোজা বাংলায় “ত্যানা পেঁচানো”।মি’রাজের রাতের পরদিন কাফিররা আসল, আর বলল,”মসজিদুল আকসা তে জানালা কতগুলো? যদি কাল রাতে সেখানে গিয়ে থাক তবে তা জানার কথা।”

উদাহরনঃ-
আমার সাথে john lennox ছদ্মনামধারী অহংকারী নাস্তিকের কথা হয়েছিল ফেসবুকে। আমি তাকে একটা ভিডিওর লিঙ্ক দিলে,সে বলল- তুমি শুধু ভিডিওর লিঙ্কই দিতে পারবে, বিবর্তনের বিপক্ষে কোন প্রমান দিতে পারবে না। আজব ব্যাপার আমি তো প্রমাণই দিচ্ছি, ভিডিওটা না দেখেই একেবারে ধুয়ে দিল? মশাইয়ের ঝাঁজ আছে বলতে হবে,মাইরি।
আরেকটা ভাল উদাহরণ হল,
বিবর্তনবাদীরা প্রথমে বলত, প্রাণ এসেছে পানি থেকে; এর পর বলল- মহাকাশের ধমকেতু থেকে;the selfish gene বইতে প্রথম মতের কথা বললেও , ইদানীং Richard dawkins দ্বিতীয় মতের অনুসারী। আজকাল কেউ কেউ আবার বলছে- মানুষ নাকি বানর ও এলিয়েনের একটি সংকর প্রজাতি। ত্যানা পেঁচানো আর কাকে বলে?
তাছাড়া কিছু লোক এই কারনে এই লেখাটিকে তাচ্ছিল্য করবে যে,এখানে কুরআনের উদ্ধৃতি আছে।
এই আলোচনা থেকে দর্শনশাস্ত্র থেকে আমরা বুঝতে পারি, বিবর্তনবাদ আসলে science নয়। এটা anti-science।

    কাটুক, অসত্য-মিথ্যা-আঁধার-মেকির জরা।
    আসুক, শ্বেত-শুভ্রযুক্ত সত্যভীষনা ধরা।
    সেবিও সত্য, বাহুবল আর দিয়ে মন-প্রাণ।
    জানিও, সত্য তোমার রবের মহান দান।

সবশেষে সূরা ইসরা থেকে বলছি-

وَقُلْ جَاء الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا

বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)