লগইন রেজিস্ট্রেশন

আদিম পরিবেশে আরএনএ তৈরি ও নাস্তিকদের স্বপ্ন

লিখেছেন: ' Mahir' @ মঙ্গলবার, অগাষ্ট ২২, ২০১৭ (১১:৪১ অপরাহ্ণ)

আজকে অজীবজনি নিয়ে কথা বলব। ২০০৯ সালে ন্যাচার ম্যাগাজিন দাবি করে যে,ল্যাবে প্রাণ সঞ্চারী প্রথম উপাদান তৈরি করা গেছে,তাও আবার কৃত্তিমভাবে; আদিম পরিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে। সাদারল্যান্ড আদিম পরিবেশে কিভাবে আরএনএ প্রথম এলো, সেটার পথ আবিষ্কার করেছেন।

বিক্রিয়ার শুরুতে ঘাপলা

উক্ত বিক্রিয়াটি সংঘটিত হতে অ্যাসিটিলিন ও ফরমাল্ডিহাইড থাকা জরুরি। কিন্তু উভয় পদার্থ আদিম পরিবেশে যথেষ্ট পরিমাণে ছিল বলে মনে করা হয় না। [বিস্তারিত]

সাইন্স ম্যাগাজিন বলছে,

Critics, though, pointed out that acetylene and formaldehyde are still somewhat complex molecules themselves. That begged the question of where they came from. [এখানে]

বিক্রিয়ার মাঝে ঘাপলা

পুরো বিক্রিয়া ধূর্ততার সাথে হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। [যেমন- ph আর তাপমাত্রা বিক্রিয়ার উপযোগী ছিল।কিন্তু বাস্তবে প্রাক-পৃথিবী একটা 5 star hotel ছিল না।সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রার ইউভি রে দেয়া হয়েছে। যা বাস্তবে পরিবেশ থেকে আশা করা যায় না]

বিক্রিয়াটি নিয়ে মার্শাল লিখেছেনঃ

Sutherland stuck on the phosphate last, though he found that it needed to be present in the mixture for the earlier reactions to work (Nature, vol. 459, p. 239).
সাদারল্যান্ড ফসফেটকে শেষে যুক্ত করে, যদিও সে বুঝেছিল যে ফসফেটকে মিশ্রণে শুরুতেই উপস্থিত রাখা প্রয়োজন ছিল।

organic chemist Dr. Charles Garner বলেনঃ

Then Sutherland ran these reactions as any organic chemist would, with pure materials under carefully controlled conditions. In general, he purified the desired products after each step, and adjusted the conditions (pH, temperature, etc.) to maximum advantage along the way. Not at all what one would expect from a lagoon of organic soup. He recognized that making of a lot of biologically problematic side products was inevitable, but found that UV light applied at the right time and for the right duration could destroy much (?) of the junk without too much damage to the desired material. Meaning, of course, that without great care little of the desired chemistry would plausibly occur. But it is more than enough for true believers in OOL to rejoice over, and, predictably, to way overstate in the press.

মানে, সাদারল্যান্ড এই বিক্রিয়াটি সেভাবেই পরিচালিত করেছে, যেভাবে যেকোন জৈব-রসায়নবিদ বিশুদ্ধ বিক্রিয়ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করত। সহজ ভাষায়, সে প্রত্যেক ধাপে তার উদ্দিষ্ট উৎপাদ বিশুদ্ধ করেছে। আর তাপমাত্রা ও ph এর মাত্রা ঠিক রেখেছে, যেন তার অনুমিত পথের সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারে। যা একটি ‘অরগানিক স্যুপ’ বা জৈব মিশ্রণের পুকুরের ক্ষেত্রে ঘটা সম্ভব বলে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না। সে স্বীকার করেছে যে, অনিবার্যভাবেই অনেক জীববৈজ্ঞানিকভাবে সমস্যা সৃষ্টিকারী উপজাত তৈরি হত, কিন্তু দেখা গেল যে, সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে অতিবেগুনী রশ্মি উৎপাদের কোন ক্ষতি না করেই উপজাতসমূহ ধ্বংস করে দিতে পারে। অর্থাৎ, অবশ্যই, এতো যত্ন ছাড়াই সামান্য হলেও বিক্রিয়াটি সম্ভবত ঘটত। এবং এটাই প্রাণের জাগরণের সত্যিকারের বিশ্বাসীদের জন্য আনন্দকর, এবং পত্রিকায় অত্যুক্তি করার জন্য যথেষ্ট”।

বিক্রিয়ার শেষে ঘাপলা

- সে শুধু পাইরিমিডিন আরএনএ বানিয়েছিল।[পিউরিন ভিত্তিক কিছু বানাতে পারে নি। ৪টি নিউক্লিওবেজের মাত্র ২টি বানানো সম্ভব হয়েছে।]
- এতে করে sequence-specificity সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না।
- Chirality সমস্যাটাও থেকেই যাচ্ছে।
- তাদের আরএনএ নন-ফাংশনাল,যার কোন বায়োলজিকাল গুরুত্ব নেই।
- প্রস্তুতকৃত আরএনএ-এর আনবিক ভর ছিল খুব কম। [কেউ বলতে পারেন, অনেক আরএনএ একসাথে থাকলে পলিমারেইজেশন হয়ে আরএনএর আনবিক ভর বেড়ে যেতে পারে।
আসলে আদিম দুনিয়ার পৃথিবীতে উচ্চ তাপমাত্রায় জৈব যৌগ টিকে থেক না।
আর যখন আরএনএ এর পরিমাণ বেড়ে যাবে,তখন লা-শাতেলীয়ের নীতি অনুযায়ী আরএনএ কমে যাবে।]

দর্শকের চোখে সম্ভব

এরকম অনেক সমস্যায় পেপারটি জর্জরিত, কিন্তু তবুও তারা শিরোনাম দিয়েছে “prebiotically plausible conditions.” আর তারা এরকমের শিরোনাম দিলেও পত্রিকার ভিতরে ঠিকই লিখেছে যে,

“Although the issue of temporally separated supplies of glycolaldehyde and glyceraldehyde remains a problem, a number of situations could have arisen that would result in the conditions of heating and progressive dehydration followed by cooling, rehydration and ultraviolet irradiation.”

মানে, সাময়িকভাবে glycolaldehyde এবং glyceraldehyde এর আলাদাভাবে সরবরাহ একটা সমস্যা হলেও, বেশ কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারত যার জন্য শীতলীকরণ, পুনঃজলনিষ্কাশন এবং অতিবেগুনী বিকিরণ দ্বারা তাপ প্রয়োগ ও ঘটমান জলবিয়োজন করতে হত”।

তাহলে, আদিম-পৃথিবীর কৃত্তিম পরিবেশ সৃষ্টির অনর্থক দাবি করার উদ্দেশ্য কি? তারা তো স্বীকার করেছেই যে, এই বিক্রিয়া ঘটার জন্য এমন পরিবেশ দরকার যেখানে আগ্নেয়গিরি পাশে পুনঃপুনঃ তাপপ্রয়োগ ও শুষ্ককরণ করা সম্ভব। কিন্তু জগতের কোন আগ্নেয়গিরি পরিমিত তাপ সরবরাহ করবে? খুব সহজেই আন্দাজ করা যায় যে, একটু বেশি তাপ দিলেই উদ্দিষ্ট উৎপাদ নষ্ট হয়ে যাবে।

রয়েল সোসাইটি কি বলে?
২০০৯ সালে Royal Society তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে,

However, Robert Shapiro, professor emeritus of chemistry at New York University disagrees. ‘Although as an exercise in chemistry this represents some very elegant work, this has nothing to do with the origin of life on Earth whatsoever,’ he says. According to Shapiro, it is hard to imagine RNA forming in a prebiotic world along the lines of Sutherland’s synthesis.
‘The chances that blind, undirected, inanimate chemistry would go out of its way in multiple steps and use of reagents in just the right sequence to form RNA is highly unlikely,’ argues Shapiro. Instead, he advocates the metabolism-first argument: that early self-sustaining autocatalytic chemosynthetic systems associated with amino acids predated RNA.[ (Robert Shapiro quoted in James Urquhart, Insight into RNA origins, Royal Society of Chemistry (May 13, 2009).)]

মানে, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের অধ্যাপক একমত নন। তিনি [শাপিরো] বলেন, “রসায়নের অনুশীলন হিসাবে এই কাজটি খুবই চমৎকার। কিন্তু প্রাণের জাগরণ বা এ সম্পর্কীয় কিছুর সাথেই পরীক্ষাটির সম্পর্ক নেই”। শাপিরো বলেন যে, সাদারল্যান্ডের রেখা অনুযায়ী আদিম-পরিবেশে আরএনএ গঠিত হয়েছে এটা বিশ্বাস করা কষ্টকর।
শাপিরো বলেন, “অনেকগুলো ধাপে অন্ধ, অপরিচালিত ও নিষ্প্রাণ রসায়ন এই পথের বাইরে চলে যাবে এবং সঠিক সময়ে সঠিক বিকারকের ব্যবহার করা একদমই অসম্ভব“। উল্টো তিনি প্রাথমিক স্বনির্ভর স্বপ্রভাবকীয় chemosynthetic systemকে অ্যামিনো এসিডের সাথে সংযুক্ত বলে দাবি করেন।

যাই হোক, শাপিরো যে মেটাবলিজম ভিত্তিক তত্ত্বের কথা বললেন সেটা আজ আলোচনা করব না।

সাদারল্যান্ডের স্বীকারোক্তি

If the starting materials were irrefutably primordial and the end result happened to bear an uncanny resemblance to extant biology — for what turned out to be purely chemical reasons, albeit elegantly subtle ones — then it could be a recapitulation of the way that natural life originated. We are not yet close to achieving this end, but recent results suggest that we may have nearly finished the first phase: the beginning. [Emphasis added.]

(John D. Sutherland, “Studies on the origin of life — the end of the beginning,” Nature Reviews Chemistry, Vol. 1:12 (2017))
যদি প্রারম্ভের বস্তুগুলো নিশ্চিতরূপে প্রাক-পৃথিবীর হয় এবং অদ্ভূতভাবে শুধু রাসায়নিক কারণেই সুন্দর সূক্ষ্মবেশী ফলাফল আজকের জীববিজ্ঞানের সাথে সদৃশ হয়, তাহলে এটা প্রকৃতিতে প্রাণ যেভাবে তৈরি হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আমরা এখনো এই পরিসমাপ্তি অর্জনের নিকটবর্তী নই, কিন্তু সাম্প্রতিক ফলাফল ইংগিত দেয় যে আমরা প্রারম্ভের প্রথম ধাপের প্রায় সমাপ্তিতে এসেছি।

Stephen Benner লিখেছেনঃ

Reviewing Sutherland’s proposed route, Shapiro noted that it resembled a golfer, having played an 18 hole course, claiming that he had shown that the golf ball could have, through some combination of wind, rain, heating, cooling, dehydration, and ultraviolet irradiation played itself around the course without the golfer’s presence….In Shapiro’s view, the need for “temporally separated supplies of glycolaldehyde and glyceraldehyde” is more than “a problem…beyond the scope” of this work. It is a fatal flaw.

(Stephen Benner, Hyo-Joong Kim, and Matthew A. Carrigan, “Asphalt, Water, and the Prebiotic Synthesis of Ribose, Ribonucleosides, and RNA,” Accounts of Chemical Research, Vol. 45:2025-2034 (2012))
সাদারল্যান্ড প্রস্তাবিত পথের পর্যালোচনা করে শাপিরো লিখেছেন যে, এটা একজন গলফ খেলোয়ারের মত, যে ১৮ টি গর্তের কোর্স খেলছে, আর দাবি করছে যে সে প্রমাণ করেছে যে, গলফ বল খেলোয়ারের অনুপস্থিতিতে একা একাই বাতাস, বৃষ্টি, তাপ, শীতলীকরণ, জল নিষ্কাশন এবং অতিবেগুনী রশ্মির বিকিরন দ্বারা পুরো কোর্স জুড়ে পরিচালিত হয়েছে… শাপিরোর দৃষ্টিতে, “সাময়িকভাবে glycolaldehyde এবং glyceraldehyde এর আলাদাভাবে সরবরাহ” এই গবেষণার “সুযোগের উর্ধে …সমস্যার” চাইতে বেশি।

নাস্তিকের স্বীকারোক্তি-

Albert Eschenmoser:
‘Of course, it is referring to an event of the past and therefore conclusions will never achieve a level of certainty as in other scientific fields,’ says renowned synthetic organic chemist Albert Eschenmoser.
(Albert Eschenmoser quoted in James Urquhart, Insight into RNA origins, Royal Society of Chemistry (May 13, 2009).)

জৈব রসায়নবিদ আলবার্ট বলেনঃ ” অবশ্যই এটা অতীতের একটি ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সিদ্ধান্ত কখনই অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের মত নিশ্চয়তা লাভ করবে না”।

যাক, কিছু নাস্তিক বিজ্ঞানী স্বীকার করেছে যে, এই গবেষণা যথেষ্ট না। কিন্তু এদেশের মাস্তিকরা তা স্বীকার করছে না।

যাই হোক, যারা উপরের কথা বুঝেন নি, তাদের জন্য সহজ কিছু স্বীকারোক্তি দিচ্ছি। এগুলো একদমই সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি।

২০১৫ সালে সাইন্স ম্যাগাজিন বলেছে,

The origin of life on Earth is a set of paradoxes. In order for life to have gotten started, there must have been a genetic molecule — something like DNA or RNA — capable of passing along blueprints for making proteins, the workhorse molecules of life. But modern cells can’t copy DNA and RNA without the help of proteins themselves. To make matters more vexing, none of these molecules can do their jobs without fatty lipids, which provide the membranes that cells need to hold their contents inside. And in yet another chicken-and-egg complication, protein-based enzymes (encoded by genetic molecules) are needed to synthesize lipids.
পৃথিবীতে প্রাণের জাগরণ হল বিভ্রান্তির ঝাঁক। প্রাণের আরম্ভের জন্য, অবশ্যই কোন জেনেটিক অনু- যেমন ডিএনএ বা আরএনএ-কে প্রোটিন তৈরির নীলনকশা পাস করানোর যোগ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু আজকের কোষ ডিএনএ এবং আরএনএ-র প্রতিলিপি প্রোটিনের সাহায্য ছাড়া তৈরি করতে পারে না। বিষয়টা আরও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে যখন উভয় অনুর কোনটিই ফ্যাটি লিপিড ছাড়া নিজেদের কাজ করতে পারে না। আর কোষ প্রাচীরের অভ্যন্তরে এই বস্তুগুলো থাকা জরুরি। এবং এখন পর্যন্ত আরেকটি ডিম এবং মুরগি জটিলতা হল, লিপিড সংশ্লেষণের জন্য প্রোটিন ভিত্তিক এনজাইম দরকার।

biochemist Franklin Harold লিখেছেন:

But unlike more conventional fields of biological research, the study of life’s origins has failed to generate a coherent and persuasive framework that gives meaning to the growing heap of data and speculation; and this suggests that we may still be missing some essential insight.

(Franklin M. Harold, In Search of Cell History: The Evolution of Life’s Building Blocks (Chicago: University of Chicago Press, 2014), p. 164 (emphasis added).)
কিন্তু জীববিজ্ঞানের অন্যান্য গবেষণাক্ষেত্রগুলোর মত, প্রাণের জাগরণের গবেষণা সুসংগত ও বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো জন্ম দিতে পারে নি যা ক্রমবর্ধমান তত্ত্ব ও তথ্যের ব্যাখ্যা দিতে পারে; এবং এটা ইংগিত দেয় যে, আমরা সম্ভবত এখনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপলব্ধি করতে পারি নি।

২০১১ সালে Eugene Koonin লিখেছেনঃ

This attitude is understandable and, in a sense, perhaps justified, given the “dirty” rarely mentioned secret: Despite many interesting results to its credit, when judged by the straightforward criterion of reaching (or even approaching) the ultimate goal, the origin of life field is a failure – we still do not have even a plausible coherent model, let alone a validated scenario, for the emergence of life on Earth. Certainly, this is due not to a lack of experimental and theoretical effort, but to the extraordinary intrinsic difficulty and complexity of the problem. A succession of exceedingly unlikely steps is essential for the origin of life, from the synthesis and accumulation of nucleotides to the origin of translation; through the multiplication of probabilities, these make the final outcome seem almost like a miracle.
(Eugene V. Koonin, The Logic of Chance: The Nature and Origin of Biological Evolution (Upper Saddle River, NJ: FT Press, 2011), p. 391 (emphasis added).)

এবং একদিক থেকে সম্ভবত সমর্থনযোগ্য যে, এই মনোভাব বোধগম্য এবং কদাচিৎ উল্লেখ করা “নোংরা” গুপ্ত কথা প্রকাশ করেছে যেঃ এর ঝুলিতে অনেক আকর্ষণীয় ফলাফল থাকা সত্ত্বেও, যখন চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রাপ্তিকে সহজবোধ্য মানদন্ডে বিচার করা হয়, প্রাণের জাগরণের ক্ষেত্রটি হল ব্যর্থতা- বৈধ দৃশ্যকল্পের কথা বাদই দিলাম, আমাদের এখনো
পৃথিবীতে প্রাণের জাগরণ নিয়ে কোন সম্ভাব্য সুসংগত মডেল নেই। নিশ্চিতভাবেই এটা তাত্ত্বিক বা পরীক্ষাগত চেষ্টার অভাবের জন্য নয়, বরং সমস্যাটির সহজাত অসাধারণ জটিলতা ও দুঃসাধ্যতার জন্য। প্রাণের জাগরণের জন্য নিউক্লিওটাইডের জড়ো হওয়া ও সংশ্লেষণ থেকে ট্রান্সলেশন পর্যন্ত অত্যধিক অসদৃশ অনুক্রমিক ধাপের প্রয়োজন। সম্ভাব্যতার সংখ্যাবৃদ্ধির দ্বারা, শেষ ফলাফলকে প্রায় অলৌকিক মনে হয়।

আরো অনেক কথা আমি বলি নি। শুধু নাস্তিক বিজ্ঞানীদের কথাই উল্লেখ করলাম। বাড়তি ব্যাখ্যা দিতে গেলাম না। কারন আস্তিকের যুক্তি আবার নাস্তিক মানে না। সত্য হলেও মানে না।

নাস্তিকদের সম্ভাব্য অনুভূতি

১)যারা উনার বিরোধিতা করেছেন তারা শুধুমাত্র উনার পদ্ধতিগত দিক নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

- যারা উনার বিরোধিতা করেছেন, তারা পরীক্ষার ভুলগুলোও চিহ্নিত করেছেন। আর এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, উক্ত পরীক্ষা এখনও নাস্তিকতার পক্ষে দলিল হিসাবে গ্রহণ করা অযৌক্তিক।

২) প্রাণের উৎপত্তি যে রাসায়নিকভাবে হয়েছে সেটা নিয়ে কারো দ্বিমত নেই। কারন মানুষের শরীর কার্বন দ্বারা গঠিত।

- এটা নিয়ে মুসলিমদের দ্বিমত নেই। আমরাও বলি যে, মানুষ মাটির তৈরি। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তাছাড়া কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন”। [সূরা ইউনুছ ৩১] আল্লাহ তা’আলা বলেন, ” আমি প্রতিটি জীবন্ত জিনিস সৃষ্টি করেছি পানি থেকে, তারপরেও কি তারা ঈমান আনবে না?’ (সূরা আম্বিয়া, ৩০) কিন্তু আমরা মনে করি, একমাত্র আল্লাহর হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রাণের জাগরণ প্রায় অসম্ভব। যদিও আমার জানা মতে, বানরা জাতীয় কিছু থেকে মানুষ এসেছে এই অংশ ছাড়া বিবর্তনবাদের অন্য কিছু ইসলামের বিরুদ্ধে যায় না। কাজেই অজীবজনি নাস্তিকতা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত দলিল নয়। এখানে সাদারল্যান্ডের অনুপস্থিতিতেও নামমাত্র আরএনএ তৈরি হতে পারত না, যেমনিভাবে একমাত্র আল্লাহর হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রাণের জাগরণ প্রায় অসম্ভব।

যাই হোক, এমনটা হলে হতেও পারে যে, একদিন মানুষ প্রাণের জাগরণ নিয়ে জ্ঞান লাভ করবে। কারন আল্লাহ তা’আলা বলেন,”এদেরকে বলো, পৃথিবীর বুকে চলাফেরা করো এবং দেখো তিনি কিভাবে সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর আল্লাহ‌ দ্বিতীয়বারও জীবন দান করবেন। অবশ্যই আল্লাহ‌ সব জিনিসের ওপর শক্তিশালী।” [সূরা আনকাবূত ২০] যেহেতু আল্লাহ সৃষ্টির শুরু নিয়ে ভাবতে বলেছেন, হতেও পারে তিনি চান যেন আমরা জানতে পারি কি আশ্চর্য উপায়ে আমাদের বানানো হয়েছে, আর বিনীতভাবে সিজদাহ করি।

৩) এর থেকে ঢেঁড় বেশি সমর্থনকারীও পাওয়া যাবে, এমনকি আপনার উল্লেখিত সায়েন্স ম্যাগাজিনও উনার বিপক্ষে লিখেন নাই, আসলে মাঝখান থেকে একটা লাইন কোট করে কিছুই বুঝা যায়না।

- এর অনেক সমর্থক রয়েছে, কিন্তু সমর্থক থাকলেই মিথ্যা সত্য হয়ে যায় না। সমর্থক থাকলেই পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা দূর হয়ে যায় না। যারা এই বিক্রিয়ার প্রশংসা করেছে তারা এজন্যই প্রশংসা করেছে যে, তার আইডিয়া নতুন ছিল। সে অভিনব পন্থায় আরএনএ তৈরির pathway দেখিয়েছে মাত্র। আর এই নতুন সম্ভাব্য pathway আবিষ্কারের জন্য অনেকে তার প্রশংসা করেছে। কিন্তু সবশেষে লাভ কি হয়েছে? সাদারল্যান্ড নিজেই বলেছে, আমরা এখনো এই পরিসমাপ্তি অর্জনের নিকটবর্তী নই। ন্যাচার বলেছে- এবং এখন পর্যন্ত আরেকটি ডিম এবং মুরগি জটিলতা হল, লিপিড সংশ্লেষণের জন্য প্রোটিন ভিত্তিক এনজাইম দরকার।

৪) অনেকগুলো যুক্তি একত্রে উল্লেখ করলে এমনিতেও convince করা যায়।
- আমি যদি পরীক্ষার সকল ত্রুটি একত্রে উল্লেখ না করি, তাহলে এর পিছনে কি ফাঁক রয়েছে তা বুঝবেন কি করে? আমি যদি কিছু তথ্য গোপন করি, তবে কি আপনি আমাকে সৎ বলবেন? আসল কথা হল, এখানে যা বলা হয়েছে ইনশাল্লাহ তার কিছুই মিথ্যা নয়। আর হতে পারে এজন্য লেখাটা আপনার নিকট convincing লেগেছে।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৫৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)