লগইন রেজিস্ট্রেশন

আদম(আ) এর উচ্চতা সংক্রান্ত বিভ্রান্তির জবাব

লিখেছেন: ' Mahir' @ শুক্রবার, অগাষ্ট ১৭, ২০১৮ (৭:৪৩ অপরাহ্ণ)

মূল লেখক- আব্দুল মা’বুদ পাবেল

মুক্তমনা ব্লগসহ প্রায়ই নাস্তিকদের গ্রুপে একটি কমন প্রশ্ন ছুড়ে দিতে দেখা যায়,
আদম (আ) এর উচ্চতা ৬০ হাত হওয়া সম্ভব না। এবং এর পিছনে তারা “ফসিল রেকর্ড”,”স্কেল ল” দিয়ে প্রমাণ দিয়ে থাকে।

এবার আমরা আলোচিত হাদিসটি দেখব যে সেটি এসব প্রমাণের কতটুকু বিরোধী।

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، ثُمَّ قَالَ اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ، فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ، تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ‏. فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ‏. فَقَالُوا السَّلاَمُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ‏. فَزَادُوهُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ‏. فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ، فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ حَتَّى الآنَ ‏‏

আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেন…… আবূ হোরাইরা(রা) থেকে বর্ণিত নবী(সা) থেকে
,তিনি(সা) বলেন” আল্লাহ তায়ালা আদম(আ) সৃষ্টি করেছেন এই অবস্থায় যে তার উচ্চতা ছিল ষাট হাত………… অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তি যে জান্নাতে প্রবেশ করবে আদমের আকৃতিতেই হবে।অতঃপর সৃষ্টি এভাবেই খাটোই হচ্ছে এখন পর্যন্ত।
(সহীহ বুখারী ইফাঃ হাদিস নং ৩০৯১)

এখানে দুটি পয়েন্টঃ

  1.  আদম(আ) এর উচ্চতা কত ছিল?
  2.  আদম(আ) থেকে নিয়ে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত কি উচ্চতা সম্পর্কিত কোন বিবর্তন ঘটেছে কি?

আদম(আ) এর উচ্চতাঃ


উপরের হাদিস থেকে যদিও বুঝা যায় আদম(আ) এর উচ্চতা ৬০ গজ ছিল।কিন্তু এরপরের হাদিস থেকেই বুঝা যায় এই উচ্চতা শুধু জান্নাতেই ছিল।পৃথিবীতে নয়।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً، لاَ يَبُولُونَ وَلاَ يَتَغَوَّطُونَ وَلاَ يَتْفِلُونَ وَلاَ يَمْتَخِطُونَ، أَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ، وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ، وَمَجَامِرُهُمُ الأَلُوَّةُ الأَنْجُوجُ عُودُ الطِّيبِ، وَأَزْوَاجُهُمُ الْحُورُ الْعِينُ، عَلَى خَلْقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ، سِتُّونَ ذِرَاعًا فِي السَّمَاءِ ‏‏

কুতায়বা ইবনে সায়ীদ বর্ণনা করেন….. আবু হোরাইরা(রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল(সা) বলেছেন “……….. তাদের (অর্থাৎ
জান্নাতিদের) স্ত্রীরা হবে দীর্ঘনয়নবিশিষ্ট হুর, একজন পুরুষের আকৃতির সমান অর্থাৎ তাদের পিতা আদম() এর আকৃতিতে, যার উচ্চতা ছিল ষাট হাত ‘আসমানে
(সহীহ বুখারী ইফাঃ হাদিস নং ৩০৯২)

ইমাম কুরতুবী (র) (1), শায়খ আনওয়ার শাহ আল কাশ্মিরী (র) (2) বলেন,
এর অর্থ হল জান্নাতীদের স্ত্রীদের উচ্চতা হবে তাদের পিতা আদম(আ) এরমত যার উচ্চতা আসমানে ষাটগজ ছিল।
সুতরাং এই হাদিসটি থেকে প্রথম পয়েন্ট একেবারেই ক্লিয়ার যে আদম(আ) এর উচ্চতা আসমানেই ৬০ গজ ছিল। পৃথিবীতে নয়। ইবনে খালদূন থেকেও অনুরূপ মত পাওয়া যায়

উচ্চতা সংশ্লিষ্ট কোন বিবর্তন ঘটেছে কি?


প্রথমে উল্লেখিত হাদিসের শেষ লাইন থেকে অনেকে বুঝে থাকেন আদম(আ) এর উচ্চতা ৬০ হাত ছিল পৃথিবীতেও। সেখান থেকে কমতে কমতেই আছে আজ পর্যন্ত।অথচ এটি ভুল।এবং হাদিসের উদ্দেশ্যের দিকেও খেয়াল করলেও এটি ভুল।আমরা জানি জান্নাতেই আমাদের শরীরের পূর্ণাংগতা থাকবে।দুনিয়াবি ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকবে।এবং অন্য হাদিস দ্বারা জানা যায় জান্নাতিদের উচ্চতা ৬০ হাত হবে।

সুতরাং হাদিসের অর্থ হল আদম(আ) এর পৃথিবীতে অবতরণের পর উচ্চতার যে হ্রাস ঘটেছে তখন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত এভাবেই খাটো করেই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে,হচ্ছে।

মুফতি ত্বকী উসমানী [হাফিঃ] বলেন,

ليس معناه أن قامات الناس لم تزل تنقص في كل قرن، بل المراد أن الجسم الإنسان لم يزل ناقصاً بعده. ويؤخذ هذا مما قدمناه عن شيخ مشايخنا الكشميري رحمه الله أن ستين ذراعاً إنما كانت مقدار قامة آدم عليه السلام في الجنّة، فلما نزل عنها عاد إلى القصر، ولم يزل أبناؤه يولدون بقرب من هذه القامة إلى يومنا الآن، وإنما يرجعون إلى أصل قامتهم حينما يعودون إلى الجنّة. فقوله عليه السلام: “لم يزل ينقص”: معناه: أنه لم يزل يولد ناقصاً، والله سبحانه وتعالى أعلم

“এর অর্থ এই নয় যে, জনগণের উচ্চতা প্রতি প্রজন্মের সাথে হ্রাস পাওয়া থামে নি, বরং এর মানে হল যে মানব দেহ তারপরে অসম্পূর্ণ হওয়া [ক্ষুদ্র উচ্চতার হওয়া] থামে নি। আমাদের শিক্ষক (আনোয়ার শাহ) আল-কাশ্মীরের [আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষণ করেছেন] কাছ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছানো হয়েছে তা হল ,  জান্নাতে আদম (আঃ) -এর উচ্চতা ৬0 হাত ছিল এবং যখন তিনি জান্নাত থেকে পড়েছিলেন তখন তিনি ক্ষুদ্র হয়ে যান এবং আমাদের আজকের এই দিন পর্যন্ত তার [আঃ] সন্তানরা প্রায় একই (ছোট) উচ্চতায় এসে থামে নি। আর তারা তাদের আসল উচ্চতা জান্নাতে গেলে ফিরে পাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘তারা ছোট হওয়া থামায় নি’। এর অর্থ এই যে, তারা এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় [ক্ষুদ্র উচ্চতায়] জন্ম নেয়া থামায় নি। পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ ভাল জানেন! “[3]

স্পষ্টত, হাদিসের ’তারা ছোট হওয়া থামায় নি’ অংশের সঠিক অনুবাদ হবে- ‘তারা ছোট থাকা থামায় নি’। এটা সঠিক যে, হাফেয ইবনে হাজার আসক্বালানী [রাহঃ] প্রতি প্রজন্মে ধীরে ধীরে উচ্চতা হ্রাস পাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু তার রায় আধুনিক ফসিল রেকর্ডের সাথে মিলে না। সুতরাং, এক্ষেত্রে ইবনে খালদুন, ইমাম কুরতুবী, আনওয়ার শাহ আল কাশ্মিরী(র)-এর মত সঠিক ও গ্রহণযোগ্য।

——————————-

1/কুরতুবী (র) -আল মুফহিম লিমা আশকালা ফি তালখিসি কিতাবি মুসলিম ২৩/৪৫
2/ আনওয়ার শাহ আল কাশ্মিরী(র) -ফায়জুল বারী খন্ড ৬ পৃষ্ঠা ৫
3/ তাক্বী উসমানী (হা ফি) -তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম খন্ড ৬ পৃষ্ঠা ১৫৮

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৮২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ, ভাই।
    কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ কিচ্ছা-কাহিনী মার্কা ওয়াজে বলা হয়, আদম (আ:) ৬০ হাত ছিলেন।

    Mahir

    @johebsharear, আসলে , মূল আরবি ইবারত দ্বারা কিছুই প্রমাণিত হয় না। ইবনে হাজার [রাহঃ] দুনিয়াতেও ৬০ হাত হওয়ার পক্ষে ছিলেন। আর তার মতামত-ই ওয়াজ করা হয়। কিন্তু উলামা :) র অনেকে ইখতিলাফও করেছেন। আর যেহেতু ইখতিলাফ হয়েছে, সেহেতু বিজ্ঞানের সাথে তুলনামূলক সামঞ্জস্যপূর্ণ মতামত অধিক গ্রহণীয়। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।