লগইন রেজিস্ট্রেশন

সন্তানের লিঙ্গ ও নারীর বীর্য – হাদিসের ব্যাখ্যা

লিখেছেন: ' Mahir' @ শুক্রবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২০ (৩:৫১ অপরাহ্ণ)


ভূমিকা


লিঙ্গ সংক্রান্ত


আকৃতি সংক্রান্ত


নারীর বীর্য নেই?


শব্দের মারপ্যাচ


অনুবাদের ভুল


বিভ্রান্তি


হাদিসের ব্যাখ্যা


পুরুষের ভূমিকা


আবার বিভ্রান্তি


আমার প্রস্তাবনা


নারীর ভূমিকা


শেষ কথা

 

ভূমিকা

আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ-র ইচ্ছায় বহুদিন পর একটা জটিল সমস্যা নিয়ে পোস্ট লিখছি। প্রতিবারের মত এবারও নাস্তিকরা ইসলামের ভুল ধরতে গিয়ে, ইসলামের অলৌকিকত্ব খুঁজে বের করতে সাহায্য করেছে। যাই হোক, মূল আলোচনায় আসি।

লিঙ্গ সংক্রান্ত

হাদিস –

সে বলল, আমি আপনাকে সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি তিনি বললেন, পুরুষের বীর্য সাদা এবং মেয়েলোকের বীর্য হলুদ যখন উভয়টি একত্রিত হয়ে যায় এবং পুরুষের বীর্য মেয়েলোকের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে পুত্র সন্তান হয় আর যখন মেয়েলোকের বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে কন্যা সন্তান হয় [এখানে]

  

[উল্লেখ্য, কেউ কেউ বলতে পারেন যে, শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিলনের সাথে সাথেই লিঙ্গ নির্দিষ্ট হয়ে যায়। মূলত, এই ধারণা কিছুটা ভুল। বিস্তারিত আশরাফুল আলম রচিত 'এন্টিডোট' বইয়ে পাবেন।]

আকৃতি সংক্রান্ত

ঘটনা – ১]

তিনি [আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)] নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন,… সন্তান কখন পিতার মত হয় আর কখন মাতার মত হয়? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে জিব্রীল (‘আ.) এখনই এসব ব্যাপারে জানিয়ে গেলেন,… যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান পিতার আকৃতি পায় এবং যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান মাতার আকৃতি পায় [দেখুন

]

ঘটনা – ২]

উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সেই মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে ঘূমে পুরুষ যা দেখে তাই দেখতে পায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মেয়ে লোক যখন ঐরুপ দেখবে তখন সে গোসল করবে উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, এ কথায় আমি লজ্জাবোধ করলাম তিনি বললেন, এ রকমও কি হয়? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তা না হলে ছেলে মেয়ে তার সদৃশ কোত্থেকে হয়? পুরুষের বীর্য গাড় সাদা আর মেয়েলোকের বীর্য পাতলা, হলুদ উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয় [হাদিস – ৬০৩]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, “সন্তানের মধ্যে মা-বাপের সা’দৃশ এর কারণেই হয়ে থাকে যে, যখন স্ত্রীলোকের বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে, তখন সন্তানের আকৃতি তার মাতৃকুলের অনুরুপ হয় আর যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীলোকের বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তখন তার আকৃতি পিতৃকুলের অনুরূপ হয় [হাদিস – ৬০৮]
[সকল হাদিস]

নারীর বীর্য নেই?

শব্দের মারপ্যাচ

নাস্তিকদের সবসময় দেখা যায় যে, তারা exact শব্দ উল্লেখ থাকতে হবে দাবি করে। যেমনঃ আপনি যদি বলেন যে, ‘কুরআনে বিগ ব্যাং তত্ত্বের কথা আছে। আল্লাহ বলেছেন যে, আকাশ ও পৃথিবী একত্রে মিশে ছিল’। তাহলে, তারা বলবে, ‘তখন তো আকাশ ও পৃথিবীর অস্তিত্ব-ই ছিল না’। মানে, তারা কুরআনে হুবহু ‘বিগ ব্যাং’ শব্দের উল্লেখ দেখতে চায়। প্রশ্নটা এরকম যে, আল্লাহ ছয় দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু তখন তো সূর্য ছিল না, তাহলে দিন-রাতের কথা কিভাবে আসছে? এগুলো ফালতু প্রশ্ন। কোন না কোন ভাবে সত্য অস্বীকার করতে-ই হবে, একারনে মুখে যা আসছে সেটাই বলছে।

উল্লেখ্য, কুরআন ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বকে সমর্থন করে না। বরং, বিগ ব্যাং তত্ত্বের ২টি প্রধান অনুসিদ্ধান্তকে সমর্থন করে মাত্র। কিন্তু যেহেতু, এই তত্ত্ব ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাই অনেকে সরাসরি তত্ত্বের সাথে কুরআনকে জুড়ে দেয়, যা অনুচিত।

প্রাচীন আরবে যেমন ‘বিগ ব্যাং’ শব্দের ব্যবহার ছিল না, তেমনি ‘ডিম্বাণু’ শব্দের কোন ব্যবহার ছিল না। মূলত, সন্তান জন্মদানে নারীর কোন ভূমিকা আছে বলে বিশ্বাস করা হত না। একারনে, উম্মু সালামা [রাঃ] অবাক হয়ে বললেন, এ রকমও কি হয়? আর রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বললেন যে, হ্যা, যদি বীর্য না থাকত কিংবা নারীর ভূমিকা শূণ্য হত, তাহলে সন্তান মায়ের বৈশিষ্ট্য পেত না

এমনকি গ্রীকরা পর্যন্ত বিশ্বাস করত না যে, সন্তান জন্মদানে নারীদের কোন অবদান আছে এরিস্টটল মনে করত যে, পুরুষের বীর্য নারীর ঋতুস্রাবের রক্তের সাথে মিশে একসময় ভ্রূণ গঠন করে। ভারতীয় বিজ্ঞানী চরক ও মহর্ষি সুশ্রুত নারীর বীর্য বলতে ‘আর্তযা রক্ত’ বুঝাতো। বিস্তারিত জাকির নায়েকের সাথে উইলিয়াম ক্যাম্পবেলের বক্তব্যে পাবেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বললেন যে, নারীর রক্ত নয়, নারীর বীর্য তথা ডিম্বাণু ভ্রূণ গঠন করেন। অবশ্য, গ্যালেন মনে করতেন যে, নারীর শুক্রাণু আছে। কিন্তু তিনি মূলত নারীর যোনি রসকে বীর্য ভেবেছিলেন, যা কিনা স্বচ্ছ বা সাদা।[i] অন্যদিকে, রাসূল [সাঃ] বলছেন যে, নারীর বীর্য [ডিম্বাণু] হলুদ।

তখন পর্যন্ত ডিম্বাণু শব্দের ব্যবহার কেউ করে নি। তাই প্রচলিত যে শব্দ ব্যবহার করে মনের ভাব অপরকে বুঝানো যাবে, সেটা করা-ই যৌক্তিক। কুরআনেও মেয়েদের ডিম্বাণু না বলে ‘শুক্রাণু’ উল্লেখ করা আছে। আল্লাহ বলেন, 

‘আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি (পিতা-মাতার) মিশ্রিত শুক্রবিন্দু হতে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য অতঃপর আমরা তাকে করেছি শ্রবণশক্তিসম্পন্ন ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন’ (দাহর ৭৬/২)

অনুবাদের ভুল

‘নারীর পানি’ বলতে ডিম্বাণু বুঝানো হয়, তাহলে অন্য হাদিসে বলা আছে যে, “যখন সে বীর্য দেখবে”, তখন গোসল করবে। তাহলে কি ডিম্বাণু দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে? জবাব হল, না। এখানে, হাদিসের আক্ষরিক অনুবাদ করতে হবে, ‘যখন সে পানি [দাগ] দেখবে’।

হাদিসে নারীর বীর্যের ২টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা আছে- হলুদ ও পাতলা। ‘রাক্বীক’ শব্দের অনুবাদ করা হয়েছে ‘পাতলা’। সঠিক অনুবাদ হবে ‘সূক্ষ্ম’[ii] আপনি গুগল অনুবাদেও পাবেন superfine, fine, subtle, delicate

তাহলে, আমরা নারীর বীর্য তথা ডিম্বাণুর দুটি বৈশিষ্ট্য পেলাম। সূক্ষ্ম ও হলুদ। গুগলে একটু সার্চ দিলেই পাবেন যে, ডিম্বাণু মানবদেহের সর্ববৃহৎ কোষ, যার ব্যাস ০.১ মি.মি.। যদিও খালি চোখে এই সূক্ষ্ম ডিম্বাণু দৃশ্যমান, তবুও প্রাচীন বিজ্ঞানীরা ডিম্বাণু সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেখবর ছিলেন। তাছাড়া ডিম্বাণুর রঙ হলুদ। বিশ্বাস না হলে নিজের চোখে দেখে নিন।


https://www.newscientist.com/article/mg19826604-200-human-egg-makes-accidental-debut-on-camera/

বিভ্রান্তি

আপনি যদি বলেন যে, ‘উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়, বলতে এখানে X-Y ক্রোমোসোম উদ্দেশ্য। তাহলে, হাদিসের বাহ্যিক অর্থ, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য নারীর অবদান অস্বীকার করলেন।

আবার, যদি বলেন যে, নারী-পুরুষ উভয়ের অবদান আছে, এবং হাদিসে ‘উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়’, বলতে প্রকট জিন-সুপ্ত জিন উদ্দেশ্য। তাহলে, মাথা মোটা নাস্তিকরা আপনাকে বলবে, ‘জিনের রঙ কি হলুদ’?

হাদিসের ব্যাখ্যা

‘উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়’

হাফেয ইবনে হাজার [রাহঃ] বলেন,

যখন পুরুষের বীর্য প্রাধান্য পায়, সন্তান চাচাদের সদৃশ হয় এবং ছেলে হবে, মেয়ে নয়। অথবা এর উলটো। অথচ, পর্যবেক্ষণ ভিন্ন কথা বলে। কারন, কখনো ছেলে হয়, কিন্তু সাদৃশ্য মামাদের সাথে হয়, চাচাদের সাথে হয় না। আবার, এর বিপরীতও ঘটে”।[iii]

[অতঃপর, তিনি [রাহঃ] তার বর্ণিত পর্যবেক্ষণের সাথে সমসাময়িক বিজ্ঞান ও হাদিসের সমতার চেষ্টা করেন।]

ইমাম ইবনুল কায়্যিম [রাহঃ] বলেনঃ 

“নিশ্চয়ই উভয় পানির একটির অগ্রবর্তীতা, ঐ অগ্রবর্তী পানির সাদৃশ্যের কারণ। এবং উভয়ের কোনটার উচ্চতা হল, উঁচু পানির সমজাতীয় হওয়ার কারণ। এখানে দুটি বিষয়ঃ অগ্রবর্তীতা এবং উচ্চতা। আর এ দুটো কখনো এক সাথেও হতে পারে, আবার আলাদা আলাদা ও হতে পারে”।[iv]


তৎকালীন শব্দভান্ডারের অপ্রতুলতার কারনে ইবনে হাজার ও ইবনুল কায়্যিম [রাহঃ] সঠিকভাবে ব্যক্ত করতে পারেন নি। কিন্তু, তিনি অন্তত এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, বীর্য ও ডিম্বাণু উভয়েই লিঙ্গ নির্ধারণ ও অবয়বের গুনাগুণ ধারণ করে। [আধুনিক বিজ্ঞানে আমরা এগুলোকে ‘জিন’ বলে অবিহিত করি। ] এই গুনাগুণের রঙ হলুদ, নাকি সাদা-এই প্রশ্ন করা বোকামি। তাদের বক্তব্য হল, পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যসমূহ সন্তানের মাঝে ভাগাভাগি হয়ে যায়। কিছু বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পায়, আবার কিছু বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পায় না। 

পুরুষের ভূমিকা

আল্লাহ বলেন,

“আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল—পুরুষ ও নারী এক ফোঁটা শুক্র হতে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয় [সূরা নাজম ৪৫-৪৬]

তাফসীরে ফী যিলাযিল কুরআনঃ এই তুচ্ছ বস্তুটি [শুক্রাণু] রূপ নেয় মানুষের। কেউ হয় পুরুষ, কেউ হয় নারী।…এক ফোটা শুক্র-কীটের মাঝে লুকিয়েছিল আজকের পূর্ণাংগ মানুষ… সেই সব কোষের মধ্যে পুরুষ ও নারী বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোথায় লুকিয়ে ছিল, কোন সে গোপন আবাস-স্থলে?

ফাতহুল মাজীদঃ তুচ্ছ ও দুর্বল এক ফোঁটা বীর্য থেকে আল্লাহ বিশাল বিশাল প্রাণী সৃষ্টি করছেন। ঐ একটু ও একই প্রকার বীর্য দ্বারা একই মায়ের গর্ভে কখনো ছেলে সন্তান দিচ্ছেন, আবার কখনো মেয়ে সন্তান দিচ্ছেন।

তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনঃ যে আল্লাহ শুক্রের ক্ষুদ্র বিন্দু দ্বারা নারী ও পুরুষ সৃষ্টি করার জন্য তার ভেতরে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেন…।

এছাড়া, শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ উপরের অনুরূপ তাফসীর তার ১৭৫১০০ নং ফাতওয়ায় সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ, তার মতে, শুক্রাণুতে সন্তান ছেলে বা মেয়ে হওয়ার গুণ লুকানো আছে।

আবার বিভ্রান্তি

কুরআন অনুযায়ী, পিতার বীর্যে সন্তান ছেলে বা মেয়ে উভয়-ই হওয়ার জন্য দায়ী। কিন্তু, হাদিসে বলা হয়েছে, পুত্র সন্তান জন্মের জন্য এককভাবে পুরুষের বীর্য দায়ী। এখানে সমতা কিভাবে আনবো?

আমার প্রস্তাবনা

ছেলেদের বীর্যে সন্তান পুত্র বা কন্যা উভয় জন্মদানের ক্ষমতা থাকলেও, Y ক্রোমোসোম বাহক শুক্রাণু শক্তিশালী হবে। অর্থাৎ, পিতার বীর্যে এমন কিছু গুণাগুণ থাকে, যা কন্যা সন্তান অপেক্ষা পুত্র সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়। পুরুষের বীর্যে আদৌ এমন গুণ থাকে কিনা তা আগামীতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ছাড়া জানা যাবে না।

একইভাবে, নারীর ডিম্বাণুতে পুত্র বা কন্যা উভয় জন্মদানের ক্ষমতা থাকলেও, এতে এমন কিছু গুণাগুণ থাকে, যা পুত্র সন্তান অপেক্ষা কন্যা সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়। নারীর ডিম্বাণুতে আদৌ এমন গুণ থাকে কিনা তা আগামীতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ছাড়া জানা যাবে না।

নারীর ভূমিকা

উপরের হাদিসে আমরা দেখছি যে, লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের ভূমিকাও উপেক্ষণীয় নয়। আর এখানেই নাস্তিকরা ঝাপিয়ে পড়ে। তাদের দাবি, পুরুষ X-Y ক্রোমোসোম সাপ্লাই দেয়, নারী শুধু X ক্রোমোসোম দেয়। তাই সন্তানের লিঙ্গের জন্য পুরুষ এককভাবে দায়ী। এরপর তারা ক্লাস নাইনের একটা বই থেকে ছবি তুলে দিয়ে meme তৈরি করবে যে, ‘স্কুলে পড়ানো হয় এটা, মাদ্রাসায় পড়ানো হয় এটা’। আমি এখন কিছু পেপারের কথা বলব, আর দেখাব যে, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম।

উল্লেখ্য, পুরুষের বীর্যে সমপরিমাণ X ও Y গ্যামেট থাকে। তাই পুরুষের কারনে সন্তান ছেলে বা মেয়ে হবার সম্ভাব্যতা সমান। কিন্তু মায়ের শরীরে প্রবেশের পর বিভিন্ন কারনে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের দ্বারা নিষেকের সম্ভাবনা সমান থাকে না। এজন্য অনেক সময়েই দেখা যায়, নির্দিষ্ট নারী একই লিঙ্গের সন্তান-ই বেশি প্রসব করছে। তাছাড়া, সবার আগে পৌঁছানো শুক্রাণুর দ্বারা-ই অনেক ক্ষেত্রে নিষেক হচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা সেই কারন খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন।

শুক্রাণু নারীর সারভাইক্যালের মিউকাস ভেদ করে যায়। এই মিউকাসের সান্দ্রতা বিভিন্ন নারীর দেহে বিভিন্ন রকম। সান্দ্রতা বেশি হলে নারী শুক্রাণু পিছিয়ে পড়ে।[v] এভাবে কোন কোন জননী ছেলে সন্তান গ্রহণের সম্ভাব্যতা বাড়িয়ে দেয়।

শুক্রাণু কতটা সক্রিয় হবে ও ডিম্বাণুর প্রতি আকৃষ্ট হবে তা নির্ভর করে ডিম্বাণু থেকে নির্গত ক্যালসিয়াম আয়নের উপর।[vi]

ডিম্বাণুর প্রাচীর ভেদ করার জন্য শুক্রাণু অ্যাক্রোসোম বিক্রিয়া ব্যবহার করে। অ্যাক্রোসোম বিক্রিয়া ডিম্বাণু ঘিরে রাখা জোনা পেলুসিডা দ্বারা প্রভাবিত হয়।[vii] এরই অংশ হিসেবে, ক্যালসিয়াম আয়ন ডিম্বাণু থেকে বেরিয়ে আসে।[viii] ডিম্বাণুর প্লাজমা মেমব্রেন ও অ্যাক্রোসোম মেমব্রেনে অনেক ক্যালসিয়াম চ্যানেল থাকে।[ix] এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রজেস্টেরন দরকার।[x] এই প্রজেস্টেরন ফ্যালোপিয়ান নালীতে ডিম্বাণু নিকটে অসমোলার ঘনমাত্রায় উপস্থিত থাকে।[xi]

শুক্রাণুর সাথে ফলিকুলার তরলের কেমোট্যাক্সিক ক্রিয়া থাকে।[xii] ডিম্বাণুর নিকটস্থ প্রজেস্টেরন শুক্রাণুকে রাসায়নিকভাবে আকর্ষণ করে।[xiii] সম্ভবত, প্রজেস্টেরন শুক্রাণুকে আকর্ষণ করে ও ফাঁদে আবদ্ধ করে।[xiv] একটি নির্দিষ্ট প্রকারের শুক্রাণুর প্রতি রাসায়নিক আকর্ষণ কিংবা কেমোট্যাক্সিস হওয়ার ঘটনা মোটেও বিরল নয়। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে তা কাজ করে কিনা, এব্যাপারে গবেষণা চলছে।

শেষ কথা

হাদিসে এটা স্পষ্ট যে, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতা-মাতা উভয়ে ভূমিকা রাখে। আজকাল অনেক বিজ্ঞানী-ই এমন প্রস্তাবনা পেশ করে থাকেন।[xv]

এরিক ভিলেইন লিখেছেন,

“The idea is instead of having a simplistic mechanism by which you have pro-male genes going all the way to make a male, in fact there is a solid balance between pro-male genes and anti-male genes and if there is a little too much of anti-male genes, there may be a female born and if there is a little too much of pro-male genes then there will be a male born.

We [are] entering this new era in molecular biology of sex determination where it’s a more subtle dosage of genes, some pro-males, some pro-females, some anti-males, some anti-females that all interplay with each other rather than a simple linear pathway of genes going one after the other, which makes it very fascinating but very complicated to study.”

“ছেলে জন্মদানের জন্য কট্টর-পুরুষ জিনের সরল প্রক্রিয়ার ধারনার পরিবর্তে, বস্তুত কট্টর-পুরুষ জিন ও পুরুষবিদ্বেষী জিনের ভারসম্য রয়েছে। যদি পুরুষবিদ্বেষী জিনের পরিমাণ একটু বেশি হয়, তাহলে সন্তান মেয়ে হবে এবং যদি কট্টর-পুরুষ জিন একটু বেশি হয়, তাহলে সন্তান ছেলে হবে।

আমরা লিঙ্গ নির্ধারণের আণবিক জীববিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে জিনের একটু বেশি সূক্ষ্ম ডোজ, কিছু কট্টর-পুরুষ, কিছু কট্টর-নারী, কিছু পুরুষবিদ্বেষী, কিছু নারীবিদ্বেষী, সকলে কোন সরল পথে যাত্রা না করে পারস্পারিক ক্রিয়ায় লিপ্ত হয়। এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়, তবে অধ্যয়ন [গবেষণা] খুব জটিল করে তোলে[xvi]


ড. মুহাম্মাদ আলী আল বার [রাহঃ] বলেন,

But up until now, we do not know the extent of the impact that the woman’s water has on the activity of the sperm that determine maleness or femaleness. It is essential to carry out careful research to determine the extent of the impact that these secretions have on the sperm that determine maleness or femaleness, and whether or not they have an impact on the activity of these sperm.

তবে এখন অবধি, আমরা জানি না যে, মহিলার জল শুক্রাণুর পুরুষত্ব বা মহিলাত্ব নির্ধারণকারী ক্রিয়াকলাপে কিভাবে প্রভাব ফেলে। এই নিঃসরণগুলি শুক্রাণুর পুরুষত্ব বা স্ত্রীত্ব নির্ধারণে কী পরিমাণ প্রভাব রাখে এবং শুক্রাণুর ক্রিয়াকলাপের উপর তাদের প্রভাব রয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য সতর্ক গবেষণা চালানো জরুরি”।[xvii]


[i] Bourke, A., Carpenter, A. and Deane, S. (2002). Irish women’s writing and traditions. Vol. 4. Cork: Cork Univ. Press in assoc. with Field Day, p.343.

[ii] আবু তাহের মেসবাহ, আল মানার, নিউ মোহাম্মাদী কুতুব খানা – ২০১৫, পৃ. ৮৮৯। ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, আল মু’জামুল ওয়াফী, রিয়াদ প্রকাশনী – ২০০৫,   পৃ. ৫১৯।

[iii] ফাতহুল বারী ৭/২৭৩।

[iv] তুহফাত আল মাওলুদ বি আহকামুল মাওলুদ, পৃ. ২৭৮।

[v] Isolation of fractions rich in human Y sperm. Ericsson RJ, Langevin CN, Nishino M Nature. 1973 Dec 14; 246(5433):421-4.

[vi] Yoshida, M., M. Ishikawa, H. Izumi, R. de Santis and M. Morisawa, 2003. Store operated calcium channel regulates the chemotactic behavior of ascidian sperm. Proc. Natl. Acad. Sci., 100: 149-154.

[vii] Jackson, C., B. Kirkman, L.P. Emma, L.R. Christopher, Barratt and J.P. Stephen, 2002. Zona pellucid and Progestrone-Induced Ca2+ signaling and acrosome reaction in human spermatozoa. Andrology, 12: 306-315.

[viii] Blas, D.G., M. Michaut, C.L. Trevino, C.N. Tomes, R. Yunes, A. Darszon and L.S. Mayorga, 2002. The intraacrosomal calcium pool plays a direct role in acrosomal exocytosis. J. Biol. Chem., 277: 49326-49331.

[ix] Felix, R., 2005. Molecular physiology and pathology of Ca2-conducting channels in the plasma membrane of mammalian sperm. Reporduction, 129: 251-262.

[x] Gonazalez- Martinez, M., 2003. Induction of a sodium dependent depolarization by external calcium removal in human sperm. J. Biol. Chem., 278: 36304-36310.

Jaiswal, B.S., H.T. Kaspa, J. Dor, S. Mashiach and M. Eisenbach, 1999. Human sperm chemotaxis: Is progesterone a chemoattractant?. Biol. Reprod., 60: 1314-1319.

[xi] Harper, C.V. and S. Publicover, 2005. Reassessing the role of progesterone in fertilization-compartmentalized calcium signaling in human spermatozoa?. Hum. Repord., 20: 2675-2680.

[xii] Eisenbach, M., 1999. Mammalian sperm chemotaxis and its association with cpacitation. Dev. Genet, 25: 87-94.

[xiii] Diaz, V.C., B.L. Martineza and V.L. Oretaga, 1995. Progesterone induces sperm chemotaxis. Fertil. Steril, 64: 1183-1188.

[xiv] Jaiswal, B.S., H.T. Kaspa, J. Dor, S. Mashiach and M. Eisenbach, 1999. Human sperm chemotaxis: Is progesterone a chemoattractant?. Biol. Reprod., 60: 1314-1319.

[xv] Shetty, N. (2018). Inheritance of Chromosomes, Sex Determination, and the Human Genome. Gender and the Genome, [online] 2(1), pp.16-26. Available at: https://doi.org/10.1177%2F2470289718787131.

[xvi] Rediscovering Biology, Unit 11 – Biology of Sex and Gender, Expert interview transcripts, 
Link
Archived
 2010-08-23 at the 
Wayback Machine

[xvii] Khalq al-Insaan bayna at-Tibb wa’l-Qur’an (p. 390, 391)

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৫০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. বেশ ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছেন। ধন্যবাদ। উন্নত প্রযুক্তি ও অনাগত জ্ঞানের উপর সমাধান ছেড়ে দিয়েছেন। এটা বেশী ভালো লাগছে।