লগইন রেজিস্ট্রেশন

মহিলাদের নামাজ নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন: ' মামুন' @ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০০৯ (১০:৩২ পূর্বাহ্ণ)

মহিলাদের ও পুরুষদের নামাজ আলাদা এ ব্যপারে দ্বিমতের কি আছে? বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি মেয়েরা বুকের উপরে আর ছেলেরা নাভীর নিচে হাত বাধবে, মেয়েরা তাশহুদে বসেব কুকুরের মত আর ছেলেরা তাদের মত নয়; আর এখন সব নতুন নতুন নিয়ম শুনছি!! যত্তো সব নয়া আবিষ্কার!!
তবে খটকাটা কখন লেগেছে জানেন? যখন ডঃ জাকির নায়েক কথাটা বললেন, যে মেয়েদের নাময এবং পুরুষদের নামায একই। এ ব্যপারে অন্য যারা মন্তব্য করেছেন তারা নিঃসন্দেহে জ্ঞানী লোক তবে আমাদের মাযহাবেও জ্ঞানী আলেম আছেন ইনশাআল্লাহ। তবে ভাই হাফিজ দলিল লিখার পর রেফারেন্স না দিলে আমরাতো ওনাদের যুক্তি খন্ডাতে পারবনা। যেমন দলীল ১ এর রেফারেন্স দেন নাই, ২ এর রেফারেন্স থাকলেও হাদীসটি কোন পর্যায়ের তা উল্লেখ করেন নাই। এভাবে আমরা ওদের সাথে পেরে উঠব না। লা-মাজহাবীরা বড়ই ডেঞ্জারাস!

যেমন একজন লা মাজহাবী আমাকে একটা বই পড়তে দিয়েছেন মহিলাদের নামাজ সম্পর্কে, তার কিছু অংশ নিচে তুলে দিচ্ছি। আমি কম জানি বলে উত্তর দিতে পারি নাই। আপনি যদি এ ব্যপারে লিখতেন তাহলে যিনি আমাকে বইটা দিয়েছেন তাকে ডেকে এনে দেখাতে পারতাম। আমি মোকছেদুল মু’মিনিনে পড়েছি চার মাযহাব চার ফরজ। লা-মাযহাবীরাতো এখানেই ফরজ ত্বরক করেছে, ওদের সাথে আর কি কথা বলব?

ভাই হাফিজ, বিষয়টা মনযোগ দিয়ে দেখবেন এবং আশা করি উচিত জবাব দিবেনঃ
মহিলাদের সালাত আদায় (সংকলনঃ মোহাম্মদ আবু হেনা)

সালাত আদায় করার জন্য নারী পুরুষ কারোর জন্য স্বতন্ত্র নিয়ম করা হয়নি। জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহর নির্দেশক্রমে দুই দফায় রাসূল (সঃ) কে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নিয়ম পদ্ধতি ইমামতি করে বাস্তবভাবে শিখিয়ে গেছেন। এসময় জিবরাঈল (আঃ) নারীদের সালাতের জন্য আলাদা কোন নিয়ম পদ্ধতির বর্ণনা দেন নাই। রাসূল (সঃ) বহু সাহাবীদের উপস্থিতিতে বাস্তবভাবে রুকু, সাজদাহ ইত্যাদি করে দেখিয়ে সালাত শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেনঃ “তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ ঠিক সেভাবেই সালাত আদায় কর”।
যেহেতু আল্লাহ বা রাসূল (সঃ) যে কাজকে নারী পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট করে পার্থক্য করার বর্ণনা বা নির্দেশ দেননি সেহেতু সে কাজ নারী পুরুষ সকলের জন্যই সমান ভাবে অনুসরণ ও অনু করণযোগ্য। সালাতের ব্যপারে এ সত্য পালনীয়। তবে মহিলাদের সালাত আদায়ে যে পার্থক্যগুলি দেখা যায় সেগুলি বাহ্যিক এবং সালাতের বাইরে বিবেচিত। এগুলি নিন্মরূপঃ
১) সালাতের জন্য পুরুষ আযান দিবে কিন্তু মহিলা আযান দিবে না।
২) সালাতে মহিলা মাথা ঢেকে রাখবে; কিন্তু পুরুষের না ঢাকলেও সালাত হয়ে যাবে।
৩) মহিলাদের পায়ের গোড়ালী ঢেকে রাখতে হবে তা নাহলে সালাত সিদ্ধ হবে না। অপরদিকে পুরুষদের পায়ের গোড়ালী খোলা রাখতে হবে।
৪) কোন মহিলা পুরুষদের ইমামতি করতে পারবে না; কিন্তু পুরুষরা নারী পুরুষ উভয়েরই ইমামতি করতে পারবে।
৫) জামাআতে সর্বাবস্থায় মহিলাদের কাতার পুরুষদের কাতারের পিছনে হবে।
৬) পুরুষ ইমামতি করলে কাতারের আগে একাকী দাঁড়াতে হবে (যদি ওজর না থাকে)। কিন্তু মহিলা ইমাম হলে তাকে মহিলাদের কাতারের মাঝখানে দাঁড়াতে হবে। বর্ণিত আছে যে, আয়েশা (রাঃ) এবং উম্মে সালমা (রাঃ) যখন মেয়েদের ফরয সালাত অথবা তারাবীহ এর সালাতে জামা’আতে ইমামতি করতেন তখন তাদের মাঝখানে দাঁড়াতেন।
৭) স্বরব কির’আত বিশিষ্ট সালাতে স্বরবে কির’আত পড়া সুন্নত।
মহিলা ইমাম ঘরে সালাত পড়ালে পুরুষদের মত স্বরবে কিরাআত পড়বে যাতে মহিলা মুক্তাদীরা শনতে পারে। তবে যদি কোন অমহরম (যে পুরুষকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ নয়) পুরুষেরা মহিলা কন্ঠ শোনার আশঙ্কা থাকে, তখন মহিলা ইমাম নীরবে কিরআত পড়বে। একদা আয়েশা (রাঃ) মাগরিবের সালাতে মেয়েদের ইমামতি করেন। তখন তিনি তাদের মাঝখানে দাঁড়ান এবং স্বরবে কিরআত পড়েন। (আইনী তুহফা সালাতে মোস্তফা, ৩১ পৃঃ)
৮) যদি ইমাম ভুল করে তাহলে মহিলাদেরকে হাত তালি দিয়ি বা উরুর উপর হাত মেরে সংকেত দিতে হবে। আর পুরুষেরা উচ্চঃস্বরে সুবহানল্লাহ বলবে।
৯) তাকবীরে তাহরীমার সময় পুরুষদের চাদর বা কম্বল ইত্যাদি হতে হাত বের করে কাঁধ বা কান পর্যন্ত উঠাতে হবে (অবশ্য ওজর না থাকলে)। কিন্তু মহিলাদের চাদরের বা ওড়নার ভিতরে হাত রেখেই কাঁধ বা কান পর্যন্ত হাত উঠাতে হবে; তাকবীরের সময়ও এভাবে করতে হবে।
১০) মসজিদ হতে মহিলারা সালাত শেষ হলেই বের হয়ে যাবে। আর পুরুষরা পরে বের হবে।

উপরোক্ত বাহ্যিক করনীয় বিষয়গুলো ব্যতীত অন্য কোন পার্থক্য পুরুষ মহিলাদের সালাতে নেই। পুরুষ মহিলাদের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমা, হাত বাঁধা, রুকু, সিজদাহ, উঠা-বসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই। মহিলাদের সালাত আদায়ে আমাদের দেশে যে পার্থক্য প্রচলিত আছে তা সহীহ হাদীস ভিত্তিক তো নয়ই, দলীল ভিত্তিকও নয় বরং কতকগুলো যঈফ নিতান্ত দুর্বল বাতিল হাদীস এবং অসমর্থিত ও মনগড়া লেখা বই হতে প্রচলিত হয়েছে।

রসূলুল্লাহ (সঃ) এর নামাজ (মোঃ নাসেরউদ্দীন আলবাণী)
ইবরাহীম নাখঈ এইমত পোষন করেন, তিনি বলেছেনঃ পুরুষরা নামাযে যা করে মহিলারাও তাই করবে। (ইবনে শায়বাহ- সনদ সহীহ)
বোখারী আত্ তারীখ আস্ সাগীর গ্রন্থের ৯৫ পৃষ্ঠায় সহীহ সনদ সহকারে প্রখ্যাত মহিলা সাহাবী উম্মুদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘তিনি নামাযে পুরুষের মত বসতেন এবং তিনি ছিলেন ফকীহ্ ।’ অর্থাৎ ফিক্হ সম্পর্কিত জ্ঞনের অধিকারীণী।

আবু দাউদ ‘আল-মারাসীল’ গ্রন্থে ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘সাজদায় পাঁজরের সাথে হাত মিলিয়ে রাখবে এবং এ ক্ষেত্রে তারা পুরুষদের মত নয়’ এটি মোরসাল হাদীস এবং এটি সহীহ নয়।

*** মুরসাল হাদীসঃ যে হাদীসের সানাদের শেষ ভাগে বর্ণনাকরী বাদ পড়েছে অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাবিঈর মাঝে ঘাটতি পড়ে গেছে তাকে মুরসাল বলা হয়।
মুরসাল হাদীসকে প্রত্যাখ্যাত শ্রেণীর মধ্যে উল্লেখ করার কারণ হলো উহা বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে না জানা। কেননা, উক্ত উহ্য ব্যক্তি সাহাবীও হতে পারেন, তাবিঈও হতে পারেন। দ্বিতীয় অবস্থায় তিনি দুর্বলও হতে পারেন, আবার নির্ভরযোগ্যও হতে পারেন ইত্যাদি।
ইমাম আবূ হানীফা (রঃ) ও ইমাম মারিক (রঃ) মুরসাল হাদীস সন্দেহাতীতভাবে গ্রহণের মত দিয়েছেন। পক্ষান্তরে ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমাদ (রঃ) তা অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। ***(সুনান আবূ দাউদ, ১ম খন্ড, পৃঃ ৩)

হাত কোথায় বাঁধতে হবেঃ (মহিলাদের নামাজ, মুহাম্মদ জহুল হক্ব (জায়েদ)

সহীহ হাদীস অনুযায়ী হাত বুকে বাঁধতে হবে। নারী হোক বা পুরুষ। ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সঃ) এর সাথে নামায পড়েছি। তিনি তাঁর ডান হাতটি বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর হাত বাঁধেন। (ইবনে খুযাইমাহ ১ম খন্ড, ২৪৩পৃঃ, বুলুগুল মারাম ২০ পৃঃ)

এ ছাড়া বুকের উপর হাত বাঁধার চারটি হাদীস পাওয়া যায়। হানাফী মাযহাবের মাহাবিদ্বান আল্লামা আইনী বলেন, নাভীর নীচে হাত বাঁধার হাদীসটির সনদ রাসূলুল্লাহ (সঃ) পর্যন্ত বিশুদ্ধ নয়। এটা আলী (রাঃ) এর উক্তি এবং আলী থেকে ঐ বর্ণনার সুত্রের মধ্যেও গোলমাল রয়েছে। কারন ঐ সনদে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক্ক কুফী রয়েছে, যাকে ইমাম আহমদ বলেন, লোকটি একেবারে বাজে, এবং অস্বীকৃত। (ওমদাতুল ক্বরী, ২৭৯পৃঃ)

হেদায়ার ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনুল হুমাম হানাফী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমাম নবভী বলেছেন, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদীসটি যঈফ হবার ব্যাপারে সবাই একমত। (ফতহুল ক্বদীল ১ম খন্ড ১১৭পৃৎ)

ঐ হেদায়ারই আরেক ব্যাখ্যাকারী আল্লামা আব্দুল হাঈ লখনভী হানাফী বলেন, ‘ঐ হাদীসটি দোষে পরিপূর্ণ যা যঈফ হবার কারণে ওয়ায়েল ইবনে হুজর বর্ণিত (বুকে হাত বাঁধা) হাদীসের মোকাবেলায় প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (হেদায়া ১/৮৬পৃঃ)

যে সমস্ত ভাইয়েরা নাভীর নীচে হাত বাঁধেন এবং বাঁধতে নির্দেশ দেন তাদের কাছে হেদায়ার মূল্য কতটুকু বা তারা হেদায়াকে কতটুকু সম্মান করেন। হেদায়ার প্রথমেই লেখা আছে, ‘নিশ্চয়ই হেদায়া কুরআনের মত।’

নামাযে দাঁড়িয়ে নাভীর উপরে হাত বাঁধার আরো কিছু দলিলঃ মিশকাতঃ মাওলানা নূর মোহাম্মদ আযমী- ২য় খন্ড, হাঃ নং- ৭৪১, ৭৪২, মিশকাত (মাদরাসার পাঠ্য) ঃ ২য় খন্ড, হাঃ নং- ৭৪১, ৭৪২, বাংলা অনুবাদঃ বুখারী শরীফ (মাওলানা আজীজুল হক)ঃ ১ম খন্ড, হাঃ নং- ৪৩৫, সহীহ আল বুখারী (ইঃ ফাঃ)ঃ ২য় খন্ড, হাঃ নং- ৭০২, মুসলিম শরীফ (ইঃ ফাঃ)ঃ ২য় খন্ড, হাঃ নং- ৮৫১, আবূ দাউদ শরীফ (ইঃ ফাঃ)ঃ ১ম খন্ড, হাঃ নং- ৭৫৯, তিরমিযী শরীফ (ইঃ ফাঃ)ঃ ১ম খন্ড, হাঃ নং- ২৫২, জামে তিরমিযী (মাওলানা আব্দু নূর সালাফী)ঃ ১ম খন্ড, হাঃ নং- ২৪৪)

রুকুঃ
রুকুতে ঘাড়, পিঠ ও কোমর সমান্তরাল রাখতে হবে, মাথা উচুঁতে রাখবেন না নীচুও রাখবেন না বরং মাঝামাঝি রাখবেন, রুকু সিজদায় পিঠকে সোজা সমান্তরাল রাখা জরুরী। আবু মাসউদ (রাঃ) বর্ণিত রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাযের রুকু ও সিজদার সময় পিঠকে সোজা (সমান্তরাল) রাখবে না তার নামায হবে না। (সুনানে ইবনে মাযাহ ১/২৬৩ পৃঃ হাঃ নং- ৭১৭)
যখন রুকু করবেন তখন দু’হাতের দ্বারা সোজা পায়ের হাঁটুদ্বয়কে হাতের মুঠোয় খোলা আঙ্গুল দিয়ে ধারণ করতে হবে, সম্পূর্ণ হাতকে তীরের মত সোজা রাখতে হবে এবং হাতকে অন্য অংশে লাগতে দেয়া যাবে না। এ হলো রুকূর পূর্ণতা।

*** বেহেশতী জেওর ৯ম মুদ্রণ ২য় খন্ড পুরুষ ও স্ত্রীলোকের নামাযের পার্থক্য অনুচ্ছেদে ১৫৪ পৃষ্ঠায় লেখা….স্ত্রীলোক (রুকু অবস্থায়) কুনুই পাঁজরের সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবে- মারাকী। এক সম্পর্কে পরে আরও বর্ণনা আছে।

**** বেহেশতী জেওর যে মারকী গ্রন্থের উদ্বৃতি দিয়েছে, এ মারাকী কিতাবখানা নিতান্তই নিম্নমানের বই। পথভ্রষ্ট লেখকের- বা ব্যক্তি বিশেষের স্বেচ্ছা উক্তি বিশিষ্ট লেখা এ বই। এ বই কোন দলীল গ্রন্থ হিসাবে গণ্য করাও ঠিক নয়। স্ত্রী লোক (রুকু অবস্থায় কনুই পাঁজরের সাথে মিলায়ে রাখা) এ নিয়ম সুন্নাত পরিপন্থী। নামাযের সময় রুকু অবস্থায় কুনুই পাঁজরের সাথে মিলায়ে রাখা মাকরূহ, রসূলুল্লাহ (সৎ) এর নির্দেশ বহির্ভূত কাজ বিধায় বিদায়াতের পর্যায়ভূক্ত।

সিজদাহঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, ‘ রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ সিজদা করবে তখন এমনভাবে বসবে না যেভাবে উট বেস, বরং দু’হাতকে হাঁটুর পূর্বে রাখবে। (আবু দাউদ ১ম খন্ড, হাদীস নং- ৮৪০)

উম্মুল মু’মিনিন মায়মুনা (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন সিজদাহ করতেন তখন কোন মেষ শাবক ইচ্ছা করলে তার দু’হাতের মধ্যে দিয়ে চলে যেতে পারত। (বোখারী, মুসলিম ২য় খন্ড, হাঃ নং- ৯৮৮, ইঃ ফাঃ)
সিজদায় পা দ্বয় খাড়া রাখা, পায়ের গোড়ালী মিলিয়ে রাখা এবং আঙ্গুলগুলি কিবলামুখী করে মুড়িয়ে রাখা সুন্নত।
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সঃ) একদা আমার সাথে বিছানায় ছিলেন। রাত্রে তাঁকে বিছানায় না পেয়ে হাত দিয়ে তালাশ করছিলাম। তখন আমার হাত রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর পায়ের সাথে লাগলো। তিনি সিজদারত ছিলেন এং পা দু’খানা খাড়া ছিল। (মুসলিম, হাঃ নং- ৯৮৮)

একদা এক বেদুঈন মহিলা উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ) সাক্ষাত করতে এসে তাঁকে না পেয়ে ফেরার পথে উম্মুল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ) এর কাছে গিয়ে মহিলাদের নামায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেনঃ নামায আদায়ের নিয়ম পদ্ধতি ব্যাপারে মহিলাদের পৃথক কোন নিয়মের কথা আমাদিগকে বলা হতো না তবে রুকুতে, রুকু বাদ দাঁড়িয়ু দু’সিজদার মাঝে বসে একটু সময় অবস্থান করতে বলা হতো। নামাযে তাড়াহুড়া না করে ধীর স্থীর শান্তভাবে আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ), হাফসা বিনতে উমার (রাঃ), মায়মুনা (রাঃ) ও দ্বীন সম্পর্কে বিশেষ উম্মু দারদা (রাঃ) (বুখারী ভাষ্যানুযায়ী) এরা পুরুষদের মত নামায আদায় করতেন সুন্নাতী নির্দেশ মোতাবেক। অতএব এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে, মহিলাদের নামাযও পুরুষদের মতই আদায় করতে হবে।

মক্কা মদীনায় মসজিদুল হারাম ও মসজিদুন্নবীতেও বহুবার বিশেষ খেয়াল করে দেখেছি। আরাফাতের ময়দানেও লক্ষ্য করেছি আরবী মহিলারা পুরুষের মতই স্বাভাবিকভাবে নামায আদায় করে থকেন, আমাদের দেশের মহিলাদের মত অদ্ভুত ভঙ্গিতে নামায পড়েন না। মহিলাদেরকে অবমূল্যায়ন করা আমার উদ্দেশ্য নয়, যদিও আমাদের অনেক দাদী, নানী, মা, খালাগণ অদ্ভূত ভঙ্গিতে নামায পড়েন বা কখনও তা সহীস সুন্নাত না জেনে শিক্ষা দিয়েছেন। ২/৪ খানা নিতান্ত নিম্ন মানের বই পড়ে ও ডজন খানেক ফার্সী বয়ান কন্ঠস্থ করে সমাজের কোন কোন লোক জবরদস্ত আলেম সেজেছেন, মৌলভী সাহেব বলে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন তাদের সুন্নাত পরিপন্থী নামায শিক্ষা দেয়ার ধারণাটাই ত্রুটিযুক্ত।

এমন নিম্নমানের একখানা কিতাব হলো মারাকী। বহু লোক এ অসমর্থিত বই ‘মারাকীর’ উদ্বৃতি দিয়ে বেশ কিছু অনাচার বা সুন্নাত পরিপন্থী ইবাদত, আমল সংক্রান্ত বিদা’য়াত সমাজে প্রচলন ঘটিয়েছে। বেহেশতী জেওর নবম শুদ্রণ ২য় খন্ড ১৫৪ পৃষ্ঠায় উক্ত মারাকী বইয়ের উদ্বৃতি দিয়ে অনুবাদক লিখেছেন- (নামাযের সময় মহিলারা) [রুকুর অবস্থায় স্ত্রীলোক কনুই পাঁজরের সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবে- সিজদায় স্ত্রীলোক পেট রানের সঙ্গে এবং বাজু বগলের সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবে, কনুই মাটির সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবে, উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বাহির করিয়া মাটিতে বিছাইয়া রাখিবে। বসার সময় স্ত্রীলোক-উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বাহির করিয়া দিবে এবং ডান রান বাম রানের উপর এবং ডান নলা বাম নলার উপর রাখিবে।']

বেহেশতী জেওরে বর্ণিত নিয়মে মহিলাদের নামায পড়া বিষয়ে বেহেশতী জেওর এর লেখকের এবং তা সমর্থনকারী মোল্লাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি- যদি তারা (তুতীয় বন্ধনীর মধ্যে মধ্যস্ত কমা অনুযায়ী) মহিলাদের এ অদ্ভূত নামায পড়ার সহীহ হাদীস দেখাতে পারেন তা হলে যে কোন শাস্তি নির্বিবাদে মেনে নিব।

এমন কোন সহীহ হাদীস কোন সাহাবী বর্ণনা করেন নাই য নিজে হাদীস অনুযায়ী আমল বা কাজ করেন নাই। যেরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন তদ্রূপই আমল করেছেন। উম্মুল মু’মিনীন মায়মুনা (রঃ) ও আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত সহীহ হাদীস কয়টি একটু নিগুঢ়ভাবে চিন্তা করলে এ সত্য প্রতিভাত হবে যে– মহিলাদের নামাযের সিজদার সময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবস্থান পুরুষের সিজদাহর মতই- মহিলা-পুরুষদের সিজদায় কোন পার্থক্য করা হয় নাই। উক্ত হাদীস পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্য সমভাবে অনুসরণীয়।
মহিলাদের নিতম্বের উপর বসার কথা কোন সহীহ হাদীসে নাই, বরং এ সম্পর্কিত একটি হাদীস আছে যাহা নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ
হযরত আবু হুমাইদ সায়েদী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর একদল সাহাবীর মধ্যে বলিলেন, আমি আপনাদের অপেক্ষা রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর নামায অধিক স্মরণ রাখিয়াছি। আমি তাঁহাকে দেখিয়াছি- তিনি যখন তাকবীরে তাহ্ রীমা বলিতেন, দুই হাত দুই কাঁধের বরাবর উঠাইতেন এবং যখন রুকু করিতেন দুই হাত দ্বারা দুই হাঁটুতে শক্ত করিয়া ধরিতেন এবং পিঠকে নত করিয়া (নিতম্ব ও ঘাড় বরাবর সোজা) রাখিতেন, আর যখন মাথা উঠাইতেন ঠিক সোজা হইয়া দাঁড়াতেন- যাহাতে (পিঠের) প্রত্যেক গিঁট আপন স্থানে পৌঁছাইয়া যাইত। অতঃপর যখন সাজদা করিতেন, রাখিতেন দুই হাত জমিনে না বিছাইয়া ও পেটের সাথে না মিশাইয়া এবং দুই পায়ের আঙ্গুলীসমূহের মাথাকে রাখিতেন কেবলামূখী করিয়া। অতঃপর যখন দুই রাকআতের পরে বসিতেন–বসিতেন নিজের বাম পায়ের উপর এবং খাড়া রাখিতেন ডান পা। তৎপর যখন শেষ রাকআতে বসিতেন বাড়াইয়া দিতেন বাম পা (ডান দিকে) এবং খাড়া রাখিতেন অপর পা, আর বসিতেন নিতম্বের উপরে। (বুখারী)

সুতরাং এই হাদীস বলছে, শেষ বৈঠকে নিতম্বের উপর বসার কথা। এখানে পুরুষ মহিলা উল্লেখ করা নাই সতরাং ইহা সকলেরই আমল যোগ্য।

ভাই হাফিজ, এমই একাধিক বই আমাকে পড়তে দিয়েছে আমার মহল্লার বড় ভাই (সৌদি থেকে আগত) এবং আমার সাথে তার চলছে ঠান্ডা লড়াই। পর্যাপ্ত দলীলের অভাবে আমি পেরে উঠছি না। আপনি আমাকে একটু সাহায্য করুন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৬,৩৩২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৩৭ টি মন্তব্য

  1. আমি মোকছেদুল মু’মিনিনে পড়েছি চার মাযহাব চার ফরজ। লা-মাযহাবীরাতো এখানেই ফরজ ত্বরক করেছে, ওদের সাথে আর কি কথা বলব?</blockquote

    কথাটি অনেকেই বলে থাকে। তবে কথাটির সাথে আমি একমত নই। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতিত কারো প্রণিত কোন বিধান বা নীতিমালা চাই সেটা সুন্নাহর আলোকে হোক না কেন তা ফরজ হতে পারেনা।

  2. হেদায়ার প্রথমেই লেখা আছে, ‘নিশ্চয়ই হেদায়া কুরআনের মত।’</blockquote

    এটা কিভাবে সম্ভব?????????//

    জ্ঞান পিপাষু

    @দ্য মুসলিম,

    সহমত। তবে মামুন ভায়ের কাছে প্রথমে জনতে চাই, আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন?

    ১-হেদায়ার প্রথমেই লেখা আছে, ‘নিশ্চয়ই হেদায়া কুরআনের মত। মত অর্থ মতামত বুঝিয়েছেন?
    নাকি বলেছেনঃ
    ২-হেদায়ার প্রথমেই লেখা আছে, ‘নিশ্চয়ই হেদায়া কুরআনের মত। মত অর্থ আল-কুরানের সমতুল্য?

    উপরে কোনটা বুঝিয়েছেন, দয়াকরে বলবেন কি? :)

  3. @ mamun, আলহামদুলিল্লাহ সুন্দর আলোচনা হচ্ছে। আশা করি আমরা আল-কুরান এবং সহিহ হাদীসের আলোকে সত্য বিষয়টি জানতে পারবো। কোন জামানায় কি হইছে তার চেয়ে বড় আল-কুরান এবং সহিহ হাদীসে কি আছে, আমরাতো আর আগের জামানায় ফিরে যেতে পারবোনা, তাই আল-কুরান এবং সহিহ হাদীসই আমাদের একমাত্র ভরসা।

    এখানকার আলেম ভাইরা যথাযত যুক্তি দেখাবেন ও আল-কুরান এবং সহিহ হাদীসের আলোকে যদি কোন উদ্রিতি দেন, তা অবশ্যই যাতে রেফারেন্স সহ ১০০% প্রমানিত হয়। আর কত নং হাদীস এবং কত নং আয়াত তা সরাসরি উল্যেখ করলে আমার মত আম পাবলিকদের জন্যে খুবই উপকারি হয় এবং হাদীস গুলি খুবই সহজে যাচাই করতে পারি, তাই সবাই এ বিষয়টি একটু খেয়াল রাখবেন।

    মামুন ভাইকে ধন্যবাদ আপনার লিখাটির জন্যে। আপনার লিখাটির ধারা আমার বিষয়টি আরো গ্রহন যগ্য হয়েছে বলে আমার বিশাস, এখানে আলোচনা হবে এবং যাদের যুক্তি প্রমান ধারা গ্রহনযোগ্য হয় আমরা তা মেনে নেব এটাই কাম্য। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ । :)

  4. পুরুষ এবং মহিলাদের নামাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম পুরুষ মহিলাদের দৈহিক অবকাঠামোর পার্থক্যটা কেন্দ্র করেই বর্ণিত হয়েছে।
    যেমনটি দৈহিক সৃষ্টিগত কারনে মহিলাদের মাসিক রিতুকালীন সময়ের নামাজকে মাফ করা হয়েছে অথচ এটা ফরজ বিষয়। ঠিক সুন্নত ও মুস্তাহাবের ক্ষেত্রেও অনেকগুলো ব্যতিক্রম থাকাই স্বাভাবিক।

    জ্ঞান পিপাষু

    @বাংলা মৌলভী, পুরুষ এবং মহিলাদের নামাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম পুরুষ মহিলাদের দৈহিক অবকাঠামোর পার্থক্যটা কেন্দ্র করেই বর্ণিত হয়েছে।
    যেমনটি দৈহিক সৃষ্টিগত কারনে মহিলাদের মাসিক রিতুকালীন সময়ের নামাজকে মাফ করা হয়েছে অথচ এটা ফরজ বিষয়। ঠিক সুন্নত ও মুস্তাহাবের ক্ষেত্রেও অনেকগুলো ব্যতিক্রম থাকাই স্বাভাবিক।

    সাধারনত মহিলাদের মাসিক রিতুকালীন সময়ে অনেক কাজই অনায়াসে করে থাকে, যেমন হাটাচলা ইত্যাদি।
    আর সুন্নত ও মুস্তাহাবের ক্ষেত্রেও অনেকগুলো ব্যতিক্রম থাকাই স্বাভাবিক বুঝলাম, তবে তা ১০০% প্রমানিত কুরান ও সহিহ হাদীস সাপেক্ষে হতে হবে বলে আমার মত।

    আমি যতটুকো জানি, আলহামদুলিল্লাহ আপনি কুরান এবং হাদীস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন। তাই আমরা আপনার কাছে কুরান হাদীস সম্মত বিস্তারিত আলোচনা আশা করি এবং যথাযুক্ত যুক্তি প্রমান, আর যা ১০০% প্রমানিত কুরান ও সহিহ হাদীস
    দারা তা আমাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে আশা রাখি। আলেমগন যেমন বলেছেনঃ মহিলাদের ও পুরুষদের নামাজের মধ্যে পার্থক্য আছে, আবার অনেক আলেমগন বলেছেনঃ মহিলাদের ও পুরুষদের নামাজের মধ্যে পার্থক্য নাই। তাই আমরা দুই দিকেই মত পাই।
    এখন কুরান ও সহিহ হাদীস যা বলে, আর তা যে আলেমগনদের সাথে মিলেযায়, তাই আমাদের মেনে নেওয়া উচিত।

    উল্ল্যেখঃ মহিলাদের ও পুরুষদের নামাজের যে পার্থক্য তা হিজাব সম্পর্কিত , আমার যদি ভূল না হয়। তবে হিজাব মানতে গিয়ে নামাজের নিয়ম পরিবর্তন করা কতটুকু কুরান ও সহিহ হাদীস সম্মত তা আমাদের ভেবে দেখা উচিত। ধন্যবাদ। :)

  5. মামুন ভাই,

    ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্য । আপনার লেখায় অনেকগুলো মুল্যবান পয়েন্ট এসেছে যেগুলোর সব কটাই আলোচনার দাবী রাখে । আমি এক এক করে শেয়ার করছি ।

    দলীল ১: হযরত খালীদ বিন আল লাহলাজ (রা:) বলেন “মহিলাদের সালাতে তারাব্বু করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে” । “তারাব্বু” হলো ডান দিকের পা ডান দিকে হেলিয়ে দেয়া এবং তারপর বাম দিকের পা তার নীচে রাখা । যেটা মহিলারা তাশাহুদে বসার সময় করে থাকেন ।

    আমি উপরের হাদিসটির রেফারেন্স দিতে ভুলে গেছি । এটা “ইবনে আবি শায়বা” কিতাব থেকে গৃহিত ।

    mamun

    @হাফিজ,তাবেয়ী হযরত আলকামা (রঃ) বলেন, একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) আমাদিগকে বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) নামায পড়িয়া দেখাইব না? অতঃপর তিনি নামায পড়িলেন, অথচ তাঁর হাত উঠাইলেন না কেবল একবার তাকবীরে তাহরীমার সময় ব্যতীত। (তিরমিযী, আবু দাউদ ও নাসায়ী)

    ফট করে লা-মাযহাবী ভাই আমাকে আবু দাউদ শরীফখানা খুলে হাদীসটা দেখালেন, সেখানে আবু দাউদ বলেন হাদীসটি সহীহ নহে। আরোএকটা বই দেখালেন যেখানে লেখা, হাদীসটি ঈমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন এবং ইবনু হাযাম বলেছেন সহীহ। পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামগণ এটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইমাম নাববী, ইমাম শাওকানী (রহঃ) প্রমূখ ইমামগণ হাদীসটিকে দূর্বল বলেছেন। (আল-মাজু’আহ ফী আহাদীসিল মাওযু’আহ ২০ পৃঃ)

    লা-মাযহাবী ভাইয়ের বক্তব্য হলো, যে হাদীসটা নিয়ে মতভেদ আছে তা না পালন করলে ক্ষতি কি? বরং অসংখ্য সহীহ হাদীস আছে রফ’উল ইয়াদাইন সম্পর্কে যা সকল হাদীসে সহীহ সনদে উল্লেখ আছে। বরং মাযহাব ঠিক রাখার জন্য কেন সহীহ হাদীস আমাল করছেন না। আপনাদের ঈমাম আবু হানিফা বলেছেন সহীহ হাদীসই হলো আমার মাযহাব আরো বলেছেন আমার কোন ফতোয়া যদি সহীহ হাদীসের বিপক্ষে যায় তাহলে আমার ফতোয়াকে বাদ দিয়ে সহীহ হাদীসই আমল করবে।
    ওনার যুক্তি আমি খন্ডাতে পারি নাই। চুপ চার হু হু করে চলে এসেছি। তার পর মসজিদের হুজুরকে জিজ্ঞেসা করলাম, উনি বললেন আমরা মাযহাবের বাইরে যেতে পারব না। হাদীসে যা-ই থাকুক না কেন তা যদি মাযহাবের কোন ফতোয়ার বিপক্ষে যায় তাহলে আমাদের ফতোয়াকেই আমল করতে হবে। কেননা যারা ফতোয়া দিয়েছেন তার এর ফয়সালা অনেক আগেই করে গেছেন।
    তখন মনে হল আমরা হানাফী মাযহাবের অনুসারীরা সত্যিই কি ঈমাম আবু হানিফা (রঃ) এর আদর্শ অনুযায়ী চলছি?

    হাফিজ ভাই সিয়া সিত্তার কোন হাদীসে মহিলাদের নামজের পার্থক্যের কথা নাই? লা-মাযহাবী ভাইরা কথায় কথায় বোখারী, মুসলিম এর রেফারেন্স দেয় আর বলে আমাদের হাদীসগুলো না-কি পঞ্চম শ্রেণীর হাদীসের বইতে উল্লেখ থাকে। আমরা নাকি ভুল পথে চলেছি। হালার এই লা-মাযহাবীগুলোর কথা শুনলে গায়ে জ্বালা ধরে যায়।
    আপনি সিহাহ-সিত্তার একটা রেফারেন্স দিয়েনতো, হালার মুখের উপর ছুড়ে মারব। তখন দেখব হালারা যায় কোথায়;

    জ্ঞান পিপাষু

    @mamun,

    আপনি সিহাহ-সিত্তার একটা রেফারেন্স দিয়েনতো, হালার মুখের উপর ছুড়ে মারব। তখন দেখব হালারা যায় কোথায়;

    সহমত। কেউ যদি এই সিহাহ-সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়টি হাদীস থেকে রেফারেন্স দিতে পারেন, তাহলে আমরা মেনে নেবো মহিলাদের ও পুরুষদের নামাজএর মধ্যে পার্থক্য আছে। আর যদি কেউ প্রমান করতে না পারেন, তাহলে মেনে নিন মহিলাদের ও পুরুষদের নামাজএর মধ্যে পার্থক্য পার্থক্য নেই। (Y)

    দ্য মুসলিম

    @জ্ঞান পিপাষু,

    কেউ যদি এই সিহাহ-সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়টি হাদীস থেকে রেফারেন্স দিতে পারেন, তাহলে আমরা মেনে নেবো মহিলাদের ও পুরুষদের নামাজএর মধ্যে পার্থক্য আছে।

    সিয়াহ সিত্তাহ ছাড়াও অনেক সহিহ হাদীসের গ্রন্হ আছে সেগুলোর ব্যপারে আপনার মতামত কি? আপনি কি সেগুলো মানবেন না?

    জ্ঞান পিপাষু

    @জ্ঞান পিপাষু,

    সুন্নী বিশ্বাস মতে ছয় জন প্রসিদ্ধ হাদিস শাস্ত্র বিশারদ এবং ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রায় সকল হাদীস সংকলন করেন।
    এই ছয়টি গ্রন্থকে সিহাহ্‌ সিত্তাহ্‌ বলা হয় যার অর্থ বিশুদ্ধ ছয়। আবার এই ছয়টি গ্রন্থএর মধ্যে বুখারি শরীফ কে সবচে গ্রহনযোগ্য বলা হয়ে থাকে। সুত্র

    এখন বুঝতেই পারছেন বিষয়টা, আর অনেক আলেমগন একমত হবেন উপরের কথাটির সাথে।যারা সরাসরি সুন্নাহর অনুশরন করে থাকেন। তবে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে যারা এর পক্ষে নয়, যেমনঃ শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি, ইবাদি দৃষ্টিভঙ্গি, অমুসলিম দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি।
    তবে সুন্নী বিশ্বাস মতে আমরা বিশ্বাস করি সিহাহ্‌ সিত্তাহ্‌ বা ঐ বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থকে। আর বিশুদ্ধ বা সহিহ হাদীস সবার মেনে চলা উচিত।

    কিন্তু আমি আমার নিজের কথা বলতে পারি, আমি সহিহ হাদীছের পক্ষে এবং সহিহ হাদীছের বাহিরে কোন হাদীস আমার কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। ধন্যবাদ। :)

    জ্ঞান পিপাষু

    @ দ্য মুসলিম ,
    দুখিঃত। উপরের লিখাটি তে নামটি ভুল হয়ে গেছে। লিখাটিতে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।

    প্রশ্নটি ছিলোঃ সিয়াহ সিত্তাহ ছাড়াও অনেক সহিহ হাদীসের গ্রন্হ আছে সেগুলোর ব্যপারে আপনার মতামত কি? আপনি কি সেগুলো মানবেন না?

    ধন্যবাদ। :)

    হাফিজ

    @mamun,

    ফট করে লা-মাযহাবী ভাই আমাকে আবু দাউদ শরীফখানা খুলে হাদীসটা দেখালেন, সেখানে আবু দাউদ বলেন হাদীসটি সহীহ নহে। আরোএকটা বই দেখালেন যেখানে লেখা, হাদীসটি ঈমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন এবং ইবনু হাযাম বলেছেন সহীহ।

    এখানে হাদিস বিষয়ে তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা যেটা দিয়ে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে । আমি আপনাকে একটি উদাহরন দিচ্ছি । অনেক সহীহ হাদিসকে কেউ কেউ “সহিহ” বলেছেন আবার অনেক মুহাদ্দিস “জইফ” বলেছেন । কারন যার কাছে যে সনদ ছিল তার ভিত্তিতে তারা সহিহ কিংবা জইফ বলেছেন । কিন্তু এটা সমস্ত মুহাদ্দিস কিংবা ফকীহদের অভিমত যে “কেউ যদি কোনো হাদিস সহিহ বলেন” এবং তার কাছে সনদ থাকে , তাহলে অন্য কেউ জইফ বললেও সেটা জইফ হবে না । কোনো হাদিস সহিহ হবার জন্য কোন এক চেইন এ সেটা সহীহ হলেই হয় । এর জন্য এই শর্ত নয় যে সমস্ত মুহাদ্দিসগন তাকে সহীহ বলতে হবে ।

    ইমাম তিরমিজী হাসন এবং ইবনু হাযাম সহীহ বলার পর অন্য কেউ সেটাকে জইফ বললেই সেটা বাতিল বলে গন্য হবে না । আশাকরি বুঝতে পেরেছেন ।

    হাফিজ

    @mamun ভাই,

    লা-মাযহাবী ভাইয়ের বক্তব্য হলো, যে হাদীসটা নিয়ে মতভেদ আছে তা না পালন করলে ক্ষতি কি? বরং অসংখ্য সহীহ হাদীস আছে রফ’উল ইয়াদাইন সম্পর্কে যা সকল হাদীসে সহীহ সনদে উল্লেখ আছে।

    প্রথম কথা হলো , কোনো হাদিস নিয়ে মতভেদ থাকার অর্থ এই নয় যে সেটা আমল করা যাবে না । এটা সম্পুর্ন ভুল কথা । পৃথিবীর সব বিষয় নিয়ে মতভেদ আছে । আল্লাহ রসুল নিয়েও মতভেদ আছে তার অর্থ এই নয় তাদেরকে বিশ্বাস করা ছেড়ে দিতে হবে ।


    বরং অসংখ্য সহীহ হাদীস আছে রফ’উল ইয়াদাইন সম্পর্কে যা সকল হাদীসে সহীহ সনদে উল্লেখ আছে।

    রফে ইয়াদাইন সম্বন্ধে যেমন সহীহ হাদিস আছে তেমনি এটা না করা সম্বন্ধে সহীহ হাদিস আছে । হযরত ওমর (রা:) , আব্দু্ল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা;) ওনারা কেউ রফে ইয়াদাইন করতেন না । এখন যারা রফে ইয়াদাইন না করাকে সমালোচনা করে থাকেন তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন “ওমর (রা:) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) ওনারা কি ভুল পথে ছিলেন । রসুলুল্লাহ (সা;) এর হাদিস শরীফ দ্বারাই প্রমানিত উনি দুটোই করেছেন । তবে কিছু বিশেষ যুক্তিতে ইমাম হানিফা(রা;) রফে ইয়াদাইন না করার পিছনে যুক্তি দ্যান । সেটা হলো আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) ছিলেন মুজতাহিদ এবং উনি সবসময় রসুলুল্লাহ (সা:) এর পিছনে নামাজ পড়ার সময় প্রথম কাতারে থাকতেন । তাই উনি ভালো করেই খেয়াল করতেন রসুলুল্লাহ (সা:) কিভাবে নামাজ পড়তেন । রসুলুল্লাহ (সা:) প্রথম দিকে রফে ইয়াদাইন করতেন আর পরের দিকে করতেন না । ইবনে মাসউদ (রা:) সবসময় রসুলুললাহ (সা:) এর শেষের দিককার আমল গ্রহন করেছেন । আর ইমাম আবু হানিফা (রহ:) সেই কারনে ইবনে মাসউদ (রা:) এর আমলগুলো গ্রহন করেছেন ।

    আরও একটি ব্যাপার দুটোই সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত , তাই কোনোটারই সমালোচনা করা ঠিক না ।

    [ বিস্তারিত জানতে গেলে দেখুন মুফতী মনসুরুল হকের "হানাফিদের নামাজের দলীল" ]

    হাফিজ

    @mamun ভাই,

    হাফিজ ভাই সিয়া সিত্তার কোন হাদীসে মহিলাদের নামজের পার্থক্যের কথা নাই? লা-মাযহাবী ভাইরা কথায় কথায় বোখারী, মু

    সিহাহ সিত্তাহ ছাড়া আরো বহু “সহীহ” হাদিসের কিতাব আছে । তারা সব সময় বলে তারা সহীহ হাদিস কে অনুসরন করে , তাহলে অন্য কিতাবের সহীহ হাদিস তারা অনুসরন করে না কেনো ?

    হাফিজ

    @mamun ভাই, শব্দগুলো একটু বেছে বেছে লিখুন । গালাগালির দরকার নেই :)

  6. ২ এর রেফারেন্স থাকলেও হাদীসটি কোন পর্যায়ের তা উল্লেখ করেন নাই। এভাবে আমরা ওদের সাথে পেরে উঠব না। লা-মাজহাবীরা বড়ই ডেঞ্জারাস!

    আমি যে সাইটগুলোরে থেকে পড়েছি সেটা খুবই গ্রহনযোগ্য এবং যোগ্যতাসম্পন্ন আলেমদের দ্বারা লিখিত, কিন্তু সেখানে হাদিসগুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত দেয়া হয়নি । এইজন্য আপাতত আপনার এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই । তবে আমি ইসলামিক স্কলারদের সাথে যোগাযোগ করেছি । অতি শীঘ্রই আমি এ সম্বন্ধে বিস্তারিত লেখা প্রকাশ করব । সুতরাং “হাদিসগুলো সহীহ কিনা” এই বিষয়ে আলোচনা আপাতত মুলতবী রাখছি ।

  7. যেহেতু আল্লাহ বা রাসূল (সঃ) যে কাজকে নারী পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট করে পার্থক্য করার বর্ণনা বা নির্দেশ দেননি সেহেতু সে কাজ নারী পুরুষ সকলের জন্যই সমান ভাবে অনুসরণ ও অনু করণযোগ্য।

    পার্থক্য যে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর হাদীস শরীফ দ্বারাই প্রমানিত । এখন আমার কাজ হলো সেই হাদিস শরীফ আপনাদের সামনে উপস্হাপন করা । যেটার জন্য আপনাদের কাছে ৭/৮ দিন সময় চাচ্ছি ।
    ধন্যবাদ

  8. এসময় জিবরাঈল (আঃ) নারীদের সালাতের জন্য আলাদা কোন নিয়ম পদ্ধতির বর্ণনা দেন নাই।

    এখানে একবার তারা বলছে কোনো আলাদা পদ্ধতি বর্নিত নেই, আবার বলছে প্রকৃত পর্দা ছাড়া নামাজ হবে না মহিলাদের । এখন ইদানিং অন্তত এটা তারা স্বীকার করছে আযান, ইমামত, পর্দা এইসব ক্ষেত্রে পার্থক্য সুস্পষ্ট । এটাও আগে তারা বলত না । যাহোক আমাদের এখন শুধু প্রমান করতে হবে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রেও পার্থক্যের দলীল আছে । যেটা ইনশাল্লাহ করা হবে ।

  9. মহিলাদের সালাত আদায়ে আমাদের দেশে যে পার্থক্য প্রচলিত আছে তা সহীহ হাদীস ভিত্তিক তো নয়ই, দলীল ভিত্তিকও নয় বরং কতকগুলো যঈফ নিতান্ত দুর্বল বাতিল হাদীস এবং অসমর্থিত ও মনগড়া লেখা বই হতে প্রচলিত হয়েছে।

    এটা ঠিক নয় , ইনশাল্লাহ এর উত্তর দেয়া হবে । প্রচলিত যে পদ্ধতি আছে সেটা মাজহাব থেকে এসেছে । আর মাজহাব সুস্পষ্ট দলীলের উপর প্রতিষ্ঠিত । যেটা নিয়ে পড়ে ইনশাল্লাহ লেখা দেয়া যাবে ।

  10. ভাই হাফিজ, এমই একাধিক বই আমাকে পড়তে দিয়েছে আমার মহল্লার বড় ভাই (সৌদি থেকে আগত) এবং আমার সাথে তার চলছে ঠান্ডা লড়াই। পর্যাপ্ত দলীলের অভাবে আমি পেরে উঠছি না। আপনি আমাকে একটু সাহায্য করুন।

    মামুন ভাই, আপনি একটু কষ্ট করে সমস্ত বই এর নামগুলো এখানে উল্লেখ করুন যাতে এগুলো সংগ্রহ করে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা যায় । আর লা মাজহাবিদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই কষ্ট করে কয়েকটি বই পড়ে নিতে হবে । আমি এখানে উল্লেখ করছি
    ১) মাজহাব মানবো কেনো – মাওলানা তকী ওসমানি ।
    ২) মাজহাব কি ও কেন – মুফতি রফিকুল ইসলাম
    ৩) আহলে হাদিসদের আসল পরিচয় – মুফতি রফিকুল ইসলাম।

    আর হানাফী মাজহাব হাদিস থেকে যে সব দলীল নিয়েছে সেগুলো বিস্তারিত জানতে গেলে প্রচুর পড়াশুনা করা দরকার। একটি বই এর হেল্প নিতে পারেন ।

    ইলাউস সুনান – জাফর আহমদ ওসমানি ( ৬ খন্ড ) . ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশ হয়েছে ।

    শাহরিয়ার

    @হাফিজ, আপনাদের আলোচনা মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর। এভাবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারি কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা। যা সাধারনত কোন হুজুরের কাছে গেলে সম্ভব নয়। আবার এতগুলো বই কেনার ক্ষমতাও অনেকের নাই। তাই রেফারেন্সের গুরুত্ব অনেক বেশী, রেফারেন্স না থাকলে বুঝতে হবে কথাটা বানোয়াট, ভিত্তিহীন। মামুন ভাই, আপনার জানার আগ্রহ এবং হাফিজ ভাইয়ের চমৎকার জবাব বেশ প্রশংসার দাবীদার। বোঝা যায় হাফিজ ভাই অনেক পড়াশুনা করেন। তবে আমার একটা ব্যক্তিগত অভিমত হাফিজ ভাইয়ের উদ্দেশ্যে।
    আমরা এমন আলোচনা করব না যেখানে আমাদের কোন মুসলিম ভাই আঘাত প্রাপ্ত হয় বা এমন কোন পরামর্শ দিব না যেখানে কোন মাযহাবী বা লা-মাযহাবীদের সম্পর্কে পারষ্পারিক বিরোধপূর্ণ কথা লেখা আছে। এটাই আমাদের ইসলামকে খন্ড খন্ড করেছে। যার সুযোগ অমুসলিমরা নিচ্ছে। আমরা সবাই মুসলমান এটাই আমাদের পরিচয়। কেহ হতে পারে হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলী বা আহলে-সুন্নত/হাদীসের অনুসারী। আমাদের সবার উদ্দেশ্য এক এবং আমরা সবাই সহীহ হাদীস বিশ্বাস করি। কারো ব্যক্তিগত মত বা পথের বিশ্বাস করা ঠিক নয়। যেমন ঈমাম শাফেয়ী যা বলেছেন, ঈমাম আবু হানীফা (রঃ) তার বিপরীত কথা বলেছেন, আবার ঈমাম মালেক অন্য কথা বলেছেন এভাবে ঈমাম হাম্বল দেখা যাচ্ছে দুজনের সাথে একমত অন্যের সাথে দ্বিমত পোষন করেছেন। ওনারা সবাই বিখ্যাত ঈমাম তাই আমাদের উচিত ওনাদের কথাকে সহীহ হাদীসের সাথে মিলিয়ে দেখা। যার কথা সহীহ হাদীসের পক্ষে তার কথাই মেনে নিতে দোষ নেই। ওনারা কেউই একথা বলেননি যে, “আমাদের রায়ই চুড়ান্ত” আমরা আসলে সঠিক পথে আছি কি-না তাহা জানার বিষয়। আহলে-সুন্নত/হাদীস’রা কেমন, তাহা “আহলে হাদীসের আসল পরিচয়” বইটা পড়ে জেনেছি। এখানে পারষ্পারিক বিরোধী কথা আছে, এটা হীনমণ্যতার পরিচয়। আবার এমন একটা বই হাতে এসেছে যার নাম “মাযহাবীদের গুপ্ত ধন” যেখানে হানাফী মাযহাবকে হেয় করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিত এরকম কাদা ছোড়াছুড়ি না করে আমাদের ঈমাম গণের নির্দেশ পালন করা। যদি তাদের নির্দেশ কোরআন ও হাদীসের সাথে মিলে যায় আলহামদুলিল্লাহ আমরা মেনে নিব, আর যদি না মেলে তাহলে মানব না। আমাদের কখনো উচিত হবেনা মিথ্যাটাকে সত্যরূপে দাঁড় করানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা।
    যেমন আমরা (হানাফী মাযহাবীরা) শবে’বরাত পালন করি যার কোন শক্ত ভিত্তি নাই। আমাদের উচিত সহীহ হাদীস মোতাবেক শবে’ক্কদরকে পালন করা যেখানে কারো কোন দ্বিমত নাই। অথচ আমাদের আলেমগণ শবে বার’আতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যত প্রকার দুর্বল হাদীস আছে তাহা যোগাড় করে আমাদের সমাজের রীতিনীতিকে ধরে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমরাও দীর্ঘদিনের অভ্যাসকে টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। অথচ এটা ইসলামে নতুন আবিষ্কার!! অর্থাৎ বিদ’আত!!
    কি দরকার সওয়াবের আশায় বিদ’আত কাজ করা? ঐ রাত সম্পর্কে সহীহ হাদীসে যতটুকু করার কথা বলা আছে শুধু সেই টুকু পালন করতে দোষ কোথায়?
    ঈমাম আবু হানিফা (রাঃ) নিশ্চয়ই শবে বার’আত পালন করতে নির্দেশ দেন নাই। যদিও দিয়ে থাকেন হয়তো ওনার কাছে সহীহ হাদীস বর্ণনাকারী তখনও পৌঁছান নাই। আমরা ভাল ভাবে জানি তখনও সহীহ হাদীস সংকলন এবং যাচাই বাচাই করা হয় নাই। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন হাদীস বর্ণনাকারী ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। আর যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল দুর্গম তাই ওনারা যেটুকু সংগ্রহ করেছিলেন তার মধ্য থেকে বেঁছে বেছেঁ রায় দিয়েছিলেন। সে রায় কখনো সত্য আবার কখনো মিথ্যাও হয়েছিল। তার প্রমান ঈমাম আবু হানীফা (রাঃ) এর সবথেকে প্রিয় ছাত্র ঈমাম মুহাম্মদ এবং ঈমাম আবূ ইউসূফ এর মধ্যে অনেক মাসলায়ের মতবিরোধ। তাই তারা সকলেই বলে গেছেন আমরা যেন তাদের অন্ধ অনুসরন না করি বরং তাঁরা যে উৎস থেকে হাদীস সংগ্রহ করেছে আমরা যেন সেই উৎসের সন্ধান করি। ঈমামগণ এ-ও বলেছেন, আমরা আমাদের রায়কে পরিবর্তন করি, আজ এক কথা বলি পরক্ষণে অন্য কথা বলি সুতরাং আমাদের রায়কে দলিল রূপে গ্রহণ করো না।

    ওনাদের উদ্দেশ্য কত মহৎ ছিল তাহা ওনাদের এই কথার দ্বারই বোঝা যায়। আর আজ আমরা তাদের নামে মাযহাব তৈরী করে তাদের সকল ফতোয়াকে দলীল রূপে পেষ করছি। সহীহ হাদীস বিরোধী হলেও মানছি না। আমাদের মাযহাবের মধ্যে অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে। এসকল ভুল ভ্রান্তি ছেড়ে সঠিক আমল করলেও আমরা ঈমাম আবু হানিফার মাযহাব থেকে বের হব না। কারন উনি বলেছেন, সহীহ হাদীই আমার মাযহাব।

    আমি মাযহাব নিয়ে ছোট্ট একটা পোষ্ট এই ব্লগে দিতে চাই। সেখানে আমার উদ্দেশ্য থাকবে “আমরা আমাদের পরিচয় দিব একজন মুসলমান হিসাবে, কোন মাযহাবী হিসাবে নয়”

    সুতরাং আমার মনে হয় মাযহাবটাকে বড় করে না দেখে প্রত্যেকের আমল ও আকীদাকেই বড় করে দেখা উচিত। যারা সঠিক আমল করছে তারাই সফলকাম, যারা ভুল আমল করছে তারা বিপথগামী।

    আমার নিজের কাছে মাযহাব নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল, যেমন ধরুন সব ঈমামগণের অনুসারিরাই বলছে আমাদেরটাই ঠিক আবার দেখা যাচ্ছে চার ঈমামের অনুসারিদের আমল চার রকম। তাহলে আমার প্রশ্ন, নবীকি কখনো এমন আবার কখনো সেমন করতেন? অর্থাৎ দ্বীন সম্পর্কে আল্লাহ কি এখন এক কথা আবার একটু পরে অন্য কথা বলতেন? নাউযুবিল্লাহ!!
    তাহলে সবারটা ঠিক হয় কি করে? আমরা কেন এই অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছি? কেন আমাদের সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, চার মাযহাবই ঠিক;

    আমরা কি পারি না এক ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে? সবাই এক হয়ে যেতে? দলাদলি না করতে?

    দ্য মুসলিম

    @শাহরিয়ার,
    ধন্যবাদ। একদম খাটি কথা বলেছেন। এগুলো সবাই আমরা বলে থাকি এবং বিশ্বাস করে থাকি। কিন্তু মানতে গেলে পেছনে হটে যাই। আমাদের আসলে বেশী বেশী করে কোরান ও হাদীস পড়া উচিৎ। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশী বেশী সাহায্য চাওয়া উচিৎ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের অবশ্যই পথ ভ্রষ্ট করবেন না। আপনার পোষ্টের অপেক্ষায় রইলাম।

    জ্ঞান পিপাষু

    @শাহরিয়ার,

    যার কথা সহীহ হাদীসের পক্ষে তার কথাই মেনে নিতে দোষ নেই। ওনারা কেউই একথা বলেননি যে, “আমাদের রায়ই চুড়ান্ত” আমরা আসলে সঠিক পথে আছি কি-না তাহা জানার বিষয়।

    সুন্দর বলেছেন। যার কথা সহীহ হাদীসের পক্ষে তার কথাই মেনে নিতে দোষ নেই। কিন্তু এদানিং অনেক হাদিসের কথা শুনা যায়, যার গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্নের শেষ নেই। তবে যারা হাদীস লিখেছেন ওনারা কেউই একথা বলেননি যে, “আমাদের রায়ই চুড়ান্ত” এটা খুবই গুরুর্তপুর্ন কথা। যদি কারো কথার নির্ভর যোগ্য প্রমান পাওয়া না যায় এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের বিরুধে যায়, তাহলে আমাদের উচিত তা বর্জন করা, আর হওকনা তা যে কোন মানুষের কথা। ধন্যবাদ। :)

  11. মামুন ভাই,

    আর একটি বিষয় আপনার সাথে শেয়ার করছি । আমরা মাজহাব এই জন্য মানি যে সেটা কোরান হাদিসের দলীল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত । সুতরাং আমাদের কাছে মাজহাবের যে “মাসআলা” গুলো এসেছে যেটা আমরা অনুসরন করি সেটা অবশ্যই “কোরান” , “হাদিস” এবং তার সাথে সাহাবীদের , তাবেয়িনদের আমল থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । সেইজন্য প্রতিবার কোনো মাসআলা অনুসরন করার সময় আমরা কোরান হাদিস এর রেফারেন্স চাই না । কেননা এটা অলরেডি দলীলের উপর প্রতিষ্ঠিত । সাহাবীদের মধ্যেও যারা মুজতাহিদ ছিলেন না তারাও মুজতাহিদ সাহাবীদের অনুসরন করতেন । মহিলা সাহাবী যারা ছিলেন তারা তাদের স্বামী যারা সাহাবী ছিলেন তাদেরকে অনুসরন করতেন বিনা দ্বিধায় । সুতরাং যাদের পক্ষে রেফারেন্স কালেক্ট করার সামর্থ্য নেই , তাদের পক্ষে মাজহাব অনুসরন করাই উত্তম এবং আবশ্যকীয় । এবং এটাই সাহাবীদের সুন্নত ।

    আর যার সাথে আপনার আলাপ হয়েছে , তাকে উত্তর দেবার আগে আপনি তাকে কিছু প্রশ্ন করুন ।

    ১) তারা বলছে শুধুমাত্র হাদিসে যা আছে তাই অনুসরন করবে , তার বাহিরে কিছু তারা করবে না । এখন তাদের শুধুমাত্র নামাজ নিয়ে বই আছে যেগুলোতে তারা হাদিস এর রেফারেন্স দিয়েছে । তাহলে “হজ্ব” , “যাকাত” , “আকিদা” , “রোজা” এগুলো তারা এখন কিভাবে পালন করে ? এই সংক্রান্ত তাদের কোনো বই আছে কি ? থাকলে নাম দিতে বলুন ।

    এই একটি প্রশ্নের উত্তর তাদের থেকে কালেক্ট করার চেষ্টা করুন ।

    mamun

    @হাফিজ, আমি জিজ্ঞেসা করেছি। বড় ভাই বলেছে, সব কিছুরই বই আছে, প্রথমে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের সবথেকে প্রধান স্তম্ভ নামাজ নিয়ে তিনি আমার সাথে আলোচনা করছে। তার পর রোজা, হ্জ্জ, যাকাত ইত্যাদি। একসাথে সব আলোচনা করতে গেলে না-কি কিছুই হবে না খিচুড়ী ছাড়া। তাদের কথা নামাজের নিয়ম একটাই বাহাত্তরটা নয়। ড. জাকির নায়েকেরও নাকি একই কথা। মাযহাব নিয়েও কথা হয়েছে অনেক, আমি আপনাকে পরে জানাব। এক সাথে এতগুলো আলোচনা করলে আমারই সমস্যা হবে, যেহেতু আমি কম বুঝি। আগে নামাজ নিয়ে সমুচিত জবাবতো দেই।

    হাফিজ

    @mamun ভাই, জি আমিও একসাথে এত আলোচনা পছন্দ করি না , তাহলে কোনোটাই সাব্যস্হ হয় না । এখন অন্য বিষয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছি না , কিন্তু আমি শুধু তাদের থেকে জানতে চাচ্ছি বাংলা ভাষায় নামাজ ছাড়া অন্য কোনো বই আছে কিনা ? তাকে বলুন আমরা এখন আলোচনা করব না শুধু বই এর নামটা দরকার ।

  12. হাফিজ ভাই,
    এখানে প্রবেশ করেছিলাম একটা পোষ্ট নিয়ে মনে অাছে কিনা জানিনা।
    একটু মনে করিয়ে দেই, পোষ্টটির নাম ছিলো
    “নামায কিভাবে পড়বো?”।
    তো মাশঅাল্লাহ, এ কদিন অাপনাদের লেখা পড়ছি অার প্রশ্ন মাথার ভিতর কিলিবিলি
    করছে। তো অাপনার কাছে অাপাতত একটা বিষয় জানতে চাচ্ছি। তাহলো অাপনি
    বলেছেন মাযহাব কুরঅান এবং হাদীস দ্বারা প্রমানিত একটু রেফারেন্স চাচ্ছি। কারন এ প্রশ্নটা
    মাথায় নিয়ে অামিতো অনেক থেকেই ঘুরছি। দয়া করে মাথার বোঝাটা একটু হালকা করুন।

    হাফিজ

    @বাগেরহাট, আমি বুঝাতে চেয়েছি “মাজহাবের” যে দলীল গুলো প্রতিষ্ঠিত বা তারা যে মাসআলা বের করেন তা “কোরান” , “হাদিস” এর দলীল থেকে বের করেন । আপনি কি এটাই জিজ্ঞেস করেছেন ?

  13. হাফিজ ভাই, এ ব্যপারে কোন কুল কিনারা করতে পারলেন? এক সপ্তাহতো হয়ে গেল।

    হাফিজ

    @মামুন ভাই , কাজ চলছে । একটু ধৈর্য ধরতে ধরুন । ইনশাল্লাহ পরের সপ্তাহে পেয়ে যাবেন ।

    shovoon

    @হাফিজ ভাই,২ বৎসর হয়ে গেল,কাজ কি এখনও শেষ হয়নাই?

    হাফিজ

    @shovoon,

    পিস ইন ইসলামে যেহেতু প্রশ্ন-উত্তর বিভাবে এর উত্তর দেয়া হয়ে গেছে, তাই আমার নতুন করে লিখার কোনো প্রয়োজন দেখছি না।

    shovoon

    @হাফিজ ভাই,উত্তরের লিঙ্ক টা দিলে ভাল হত।

    হাফিজ

    @shovoon ভাই,

    http://www.peaceinislam.com/faq/#

    এই লিংকের ৫ নাম্বার প্রশ্ন উত্তর।

    shovoon

    @মামুন ভাই, ২ বৎসর হয়ে গেল,হাফিয ভাই এর কাজ কি এখনও শেষ হয়নাই?

  14. সুন্দর একটি post এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।