লগইন রেজিস্ট্রেশন

শাফায়াত বা সুপারিশ সম্বন্ধে আল্লাহর নির্দেশ

লিখেছেন: ' মামুন' @ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৭, ২০১০ (৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

পাক কুরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
০১) এমন কে আছে যে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করবে? (সূরা বাকারা, ২ঃ২৫৫)
০২) সেদিন শাফায়াত কার্যকর হবে না, অবশ্য স্বয়ং রহমান কাউকে উহার অনুমতি দিলে এবং তার কথা শুনতে পছন্দ করলে অন্য কথা। (সূরা ত্বাহা, ২০ঃ১০৯)
০৩) সুপারিশ বা শাফায়াতকারী কেউ নেই, তবে যদি আল্লাহর অনুমতির পর শাফায়াত করে (তাহলে অন্য কথা) (সূরা ইউনুস, ১০ঃ৩)
০৪) তিনি (আল্লাহ) ছাড়া তোমাদের না কেহ অলি আছে, আর না আছে কেহ তাঁর নিকট সুপারিশকারী। তবুও কি তোমাদের হুশ হবে না? (সূরা আস সিজদা, ৩২ঃ৪)
০৫) বল! সকল প্রকার শাফায়াতের একমাত্র মালিক আল্লাহ। (সূরা আয যুমার, ৩৯ঃ৪৪)
০৬) তিনি যার উপর সন্তুষ্ট তিনি ছাড়া আর কেউ তাঁর নিকট সুপারিশ করতে সক্ষম নয়। (সূরা, আম্বিয়া, ২১ঃ২৮)
০৭) যেদিন ‘রূহ’ ও ফিরিস্তারা কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়াবে, কেহই কোন কথা বলবে না- সে ব্যতীত, যাকে পরম দয়াময় অনুমতি দিবেন এবং যে যথাযথ কথা বলবে। (সূরা, নাবা, ৭৮ঃ৩৮)
০৮) আল্লাহ তা’আলা যাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত আর কারো সুপারিশ কোন উপকারে আসবে না। (সূরা, আস সাবা, ৩৪ঃ২৩)
০৯) যালিমদের জন্য কোন খাঁটি বন্ধুও হবে না এবং সুপারিশ গ্রহণযোগ্য কোন সুপারিশকারীও হবে না। (সূরা মু’মিন, ৪০ঃ১৮)

উপরোক্ত কুরআনের বাণী মোতাবেক শাফায়াতের সর্বস্বত্ব আল্লাহ দ্বারা সংরক্ষিত। হে মুসলিম ভাই-বোনেরা! এখন চিন্তার বিষয়, শাফায়াত পাবার জন্য আল্লাহর অনুমতি কারা পেতে পারেন।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ

০১) তারপর আমার নিকট হতে যে জীবন-বিধান তোমাদের নিকট পৌঁছবে, যারা ঐ জীবন বিধান মেনে চলবে তাদের জন্য ভয় ও চিন্তার কারণ নেই। (সূরা, বাকারা, ২ঃ৩৮)

০২) এই আনুগত্য ছাড়া যে ব্যক্তি অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করতে চায় তার সেই পন্থা একেবারেই কবুল করা হবে না এবং পরকালে সে ব্যর্থ ও বঞ্চিত হবে। (সূরা আল ইমরান, ৩ঃ৮৫)

এই জীবন-বিধানের প্রতি আনুগত্যই হল ইসলাম। এই জীবন-বিধান বিভিন্ন সময়ে আমাদের রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও অন্যান্য নবীগণের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন এবং যা আল্লাহর কিতাব আকারে আমাদের নিকট বর্তমান আছে। এই মহিমাম্বিত কিতাবের আদেশ ও নিষেধ মানা এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে অনুসরণ করতে পারলেই শুধু আমাদের ভয় ও চিন্তার কোন কারণ থাকতে পারে না। যদি তা না পারি তা হলে শাফায়াত বা শাফায়াতের অনুমতি পাওয়ার আশা বৃথা।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর প্রতি আল্লাহ তা’আলা যা নাযিল করেছেন এবং যা আল্লাহ তা’আলা অধিকার দিয়েছেন উহার জন্য কোন অবস্থাতেই শাফায়াতের জন্য রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে সরাসরি ডাকা যাবে না। তাই আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত “হে আল্লাহ! আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে আমাদের জন্য সুপারিশের অনুমতি দিও” ইত্যাদি।

আরেকটি কথা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ছাড়া অন্যদেরকেও আল্লাহ শাফায়াতের অধিকার দিয়েছেন, যেমন আল্লাহর অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে ফিরিশতারা সুপারিশ করবেন এবং মা’সুম বাচ্চার (তাদের পিতা মাতার ) জন্য সুপারিশ করবে। তাই বলে কি আমরা সুপারিশের জন্য তাদেরকে সরাসরি ডাকব?
যেহেতু কোন সুপারিশকারীই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নিজ হতে সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে না, সেহেতু আল্লাহকে ব্যতীত অন্য কাকেও তার ক্ষমতার বহির্ভুত কাজের জন্য প্রার্থনা করা শির্কী কার্যকলাপ।

শির্কী কার্যকলাপের জন্য আল্লাহ কাউকেই ক্ষমা করবেন না এবং এরূপ ব্যক্তিরা চিরকাল জাহান্নামের অধিবাসী হবে।”

এরূপ হুশিয়ারী কুরআনের বহু জায়গায় উল্লোখ আছে। আল্লাহ পাক পাপীদের হুশিয়ার করে বলেনঃ

০১) সেদিনের ভয় কর, যেদিন কেহ কারো কোন কাজে আসবে না, কারো সম্পর্কে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কোন কিছুর বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না এবং পাপীদের কোন দিক হতেই সাহায্য করা হবে না। (সূরা বাকারা, ২ঃ৪৮)

০২) হে নবী! তুমি এই লোকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না’ই কর, তুমি যদি সত্তর বারও তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য আবেদন কর, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না। কেননা, আল্লাহ ও তাঁর সাসূলের সাথে তারা কুফরী করেছে। (সূরা, তওবা, ৯ঃ৮০)

অতএব হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা! কুরআন ও সহীহ হাদীস মোতাবেক আমল না করলে শেষ বিচারের দিন কোন উপায় থাকবে না্

হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন কর, যে পথে তোমার সন্তুষ্টি ও নেয়ামত পাওয়া যায়। আমিন!

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৫৪৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. ০৪) তিনি (আল্লাহ) ছাড়া তোমাদের না কেহ অলি আছে, আর না আছে কেহ তাঁর নিকট সুপারিশকারী। তবুও কি তোমাদের হুশ হবে না? (সূরা আস সিজদা, ৩২ঃ৪)
    ০৫) বল! সকল প্রকার শাফায়াতের একমাত্র মালিক আল্লাহ। (সূরা আয যুমার, ৩৯ঃ৪৪)

    আরেকটি কথা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ছাড়া অন্যদেরকেও আল্লাহ শাফায়াতের অধিকার দিয়েছেন, যেমন আল্লাহর অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে ফিরিশতারা সুপারিশ করবেন এবং মা’সুম বাচ্চার (তাদের পিতা মাতার ) জন্য সুপারিশ করবে।

    পরস্পরবিরোধী হয়ে গেল না?

  2. পরষ্পর বিরোধী কি করে হয়?

    আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন সে তো অবশ্যই শাফায়াত করতে পারবেন। যেমন, মাসুম বাচ্চার ব্যাপারে বলা আছে এবং ফেরেশতাগণও আপনার জন্য শাফায়াত করতে পারবেন তবে আল্লাহ বিনা পারমিশনে নয়।

    আল্লাহ যাকে অধিক পছন্দ করেন তার কথাও বলা আছে।