লগইন রেজিস্ট্রেশন

বিশুদ্ধ হাদীসের বিপরীতে অন্ধভাবে মাযহাব পালনের বাস্তব উদাহরণঃ পর্ব-০২

লিখেছেন: ' মামুন' @ বুধবার, জানুয়ারি ৬, ২০১০ (৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম

পর্ব-০২
আগের আলোচনায় আমরা দেখলাম আসরের নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে আমাদের যে ভ্রান্ত ধারনা আছে তাহা সঠিক নয়। আমাদের অবশ্যই ছায়া এক মিছিল পার হওয়া থেকে দু’মিছিল পর্যন্ত নামায পড়া উচিত। তবে যদি কেহ ঘুমিয়ে পড়ে বা নামাজের কথা স্মরণ না থাকে তা হলে সে যেন সূর্য্য ডুবে যাওয়ার পূর্বে হলেও আসরের নামাজ পড়ে নেয় এবং সূর্য্য ওঠার পূর্বে যেন ফজরের নামাজ পড়ে নেয়। এবার আসুন আরেকটি উদাহরণ দেই।

০২) নামাযের কাতারে পরস্পর কাঁধ ও পা মিলিয়ে দাঁড়ানোঃ

সহীহ বুখারী শরীফে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি রাসূল (সঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূল (সঃ) বলেছেন, “তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করো, কেননা, আমি তোমাদিগকে আমার পিঠের পিছন থেকে (বাঁকা অবস্থায়) দেখতে পাই। আনাস (রাঃ) বলেন: (রাসূল (সঃ) এর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে) আমাদের একজন তাঁর কাঁধ ও পা তাঁর পার্শ্বের জনের কাঁধ ও পায়ের সাথে মিলিয়ে রাখতো।” (বুখারী, প্রাগুক্ত; কিতাবুল আ-যান, বাব নং ৪৭, হাদীস নং ৬৯২, ১/২৫৪; ইবনে হাজার, ফতহুল বারী; কিতাবুল আ-যান, বাব নং ৭৬, হাদীস নং ৭২৫, ২/২১১)

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর সাহাবীগণকে নামাযে কাতার সোজা করার ব্যাপারে নির্দেশ করেছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবীগণকে এজন্য পরস্পরের সাথে কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা লাগিয়ে দাঁড়াতে না বললেও তাঁরা কাতার সোজা করার জন্য এমনটি করেছিলেন। তবে ইবনে ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাঁরা রাসূল (সঃ) এর এ সংক্রান্ত অপর একটি নির্দেশ পালন করতে যেয়েই এমনটি করেছিলেন। রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ

“কাতার সোজা করো, কাঁধের সাথে কাঁধ বরাবর করো, ফাঁক বন্ধ করো, শয়তানের জন্য কোন ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের সংযোগ স্থাপন করে আল্লাহও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করেন, আর যে কাতার ছিন্ন করে, আল্লাহও তার সাথে সংযোগ ছিন্ন করেন।” (আবু দাউদ, প্রগুক্ত, কিতাবুস সালাত, বাব নং ৯৫, হাদীস নং ৬৬৬, ১/১৭৮)
এই হাদীসটি ইমাম ইবনে খুযায়মাঃ ও ইমাম হাকিম সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন। (ইবনে হাজার আসক্বলানী, ফাতহুল বারী; প্রগুক্ত; ২/২১১)

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর নির্দেশ করার পাশাপাশি দু’জনের পায়ের মধ্যখানে কোন ফাঁক না রাখার ব্যাপারেও তাঁর সাহাবীদের প্রতি নির্দেশ করেছিলেন। আর সে জন্যেই তাঁরা পরস্পরের সাথে কাঁধে কাঁধ বরাবর করার পাশাপাশি পায়ের সাথে পা ও মিলিয়ে দাঁড়াতেন। এত প্রমাণিত হয় যে, নামাযের কাতারে পরস্পরের সাধে কাঁধ ও পা যথাসম্ভব লাগিয়ে দাঁড়ানো সুন্নাত। এ বিষয়টি অন্যান্য মাযহাব দ্বারা সমর্থিত হলেও হানাফী মাযহাবে শুধু পরস্পর মিলিয়ে ও কাঁধের সাথে কাঁধ বরাবর করে দাঁড়ানোর বিষয়টি সমর্থিত হয়েছে। পায়ের সাথে পা মিলানোর বিষয়টি সমর্থিত হয়নি। যেমন, হানাফী মাযহাবের ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘বাদাই’উস সানাএ’-তে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছেঃ
“আর যখন কাতারে দাঁড়াবে তখন পরস্পর মিলে দাঁড়াবে এবং কাঁধের সাথে কাঁধ বরাবর করবে কেননা; রাসূল (সঃ) বলেছেন: তোমরা পরস্পর মিলে দাঁড়াও এবং কাঁধের সাধে কাঁধ মিলাও।”
(আল-কা-সানী, ‘আলাউদ্দীন আবু বকর ইবন মাস’উদ, বাদই’উস সানাএ; (করাচী: এস.এম.সাঈদ কমআপনী, ১ম সংস্করণ, ১৯১০ ইং), ১/১৫৯)

এ হাদীসে পায়ের সাথে পা মিলাও, এ কথাটি না থাকায় আমাদের মাযহাবে পায়ের সাথে পা মিলানোর বিষয়টি কোন গুরুত্ব পায়নি। যদিও তা উপর্যুক্ত আনাস ও ইবনে ‘উমার (রাঃ) এর হাদীসদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মাযহাবে যেটুকু করার নির্দেশ রয়েছে আমাদের সমাজে সেটুকু করারও প্রচলন নেই। নামাযে দাঁড়ালে প্রতি দু’জন নামাযীর মাঝখানে বিস্তর ফাঁক পরিলক্ষিত হয়। কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো তো দূরের কথা একটু কাছে আসতে বললেও তারা আসতে চান না। উল্লেখ্য যে, ‘সাহাবীগণ পায়ের সাথে পা লাগাতেন’ এ-কথাটিকে আমাদের মাযহাবের কোন কোন বিদ্বান ‘পায়ের গোড়ালির সাথে গোড়ালি মিলাতেন’ মর্মে ব্যাখ্যা করেছেন। সে-কারণেই আমরা পায়ের সাথে পা মিলাতে চাই না। যদিও ইমাম ইবনে হাজার ‘আসক্বলানী এ বর্ণনানুযায়ী এ-ব্যাখ্যাটি একটি অনুল্লেখযোগ্য মত, যা মাযহাবের মুহাক্কিক বিদ্বানদের দ্বারা সমর্থিত নয়।
(ইবনে হাজার আসক্বলানী, ফতহুলবারী; ২/২১১)

উপর্যুক্ত হাদীস সমূহের বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যের প্রতি লক্ষ্য করলে পায়ের সাথে পা মিলানোর কথাই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। কেননা, রাসূল (সঃ) দু’জনের মধ্যে শয়তানের দাঁড়ানোর স্থান রাখতে নিষেধ করেছেন। কাঁধের সাথে কাঁধ বরাবর বরে দাঁড়ালে রাসূল (সঃ) এর উক্ত নির্দেশটি আংশিকভাবে পালিত হলেও পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দাঁড়ালে তা পূর্ণভাবে পালিত হয়। এছাড়া সহীহ বুখারী শরীফে নু’মান ইবনে বশীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন:

“আমি আমাদের একজনকে তাঁর পাশের জনের র গ্রন্থির সাথে তাঁর পায়ের গ্রন্থি মিলাতে দেখেছি।” (বুখারী, প্রগুক্ত; কিতাবুল আযান, বাব নং ৪৭; ১/১৫৪)

বস্তুত পায়ের সাথে পা মিলানো কথাটি হাদীসে সুস্পষ্টভাবে থাকা সত্বেও গোড়ালির সাথে গোড়ালি মিলানোর দ্বারা এর ব্যাখ্যা করা আদৌ সমীচীন নয়। কেননা, ‘কা’ব শব্দটির আভিধানিক অর্থ: টাখনু বা গ্রন্থি। তা পায়ের গোড়ালির অর্থ প্রকাশ করার কথা কোন অভিধানে পাওয়া যায়না। তা ছাড়া এর দ্বারা যদি গোড়ালির অর্থই উদ্দেশ্য হয়ে থাকতো, হা হলে আনাস (রাঃ) ও নু’মান ইবনে বশীর এর হাদীসে বর্ণিত ‘ক্বাদাম’ ও ‘কা’ব শব্দের পূর্বের ক্রিয়াপদটি ‘ইয়ালঝিকা’ না হয়ে ‘ইউছাও-ওয়াই” ব্যবহ্রত হতো। অর্থাৎ কথাটি এভাবে হতো: ‘আমাদের একজন তাঁর পায়ের গোড়ালী অপরজনের গোড়ালির বরাবর করতো।” কিন্তু কথাটি এভাবে না হয়ে হয়েছে: ‘আমাদের একজন তাঁর পা অপরজনের পায়ের সাথে লাগাতেন’। এতে প্রমাণিত হয় যে, সাহাবীগণ আসলে পায়ের সাথেই পা মিলাতেন। কেননা, এদে দু’জনের মাঝে ফাঁক না রাখা সংক্রান্ত রাসূল (সঃ) এর নির্দেশ পূর্ণভাবে পালিত হয়; যা গোড়ালির সাথে গোড়ালি বরাবর করলে সঠিকভাবে পালিত হয়না। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, এক ব্যাখ্যাটি হাদীস বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও এবং মাযহাবের সকলের দ্বারা সমর্থিত না হয়ে কারো কারো দ্বারা সমর্থিত হওয়া সত্ত্বেও এটাই আমাদের নিকট অনুসরণীয় হয়ে রয়েছে। যা আদৌ উচিত নয়।

আসুন আমরা জাম’আত সহকারে নামায আদায় করার সময় আমাদের পার্শ্ববর্তী মুক্তাদীর সাথে কাঁধে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলিয়ে ফাঁকা জায়গা বন্ধ করে দাঁড়াই।

অনেকে বলেন, পাশের ব্যক্তি বয়সে বড়; ওনার পায়ের সাথে পা লাগলে আদবের খেলাফ হবে। একবার ভাবুনতো; সাহাবীগণ কিভাবে একজনের পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দাঁড়াতেন? নামাজে কোন ছোট -বড়, ধনী-গরীব নাই, এখানে আমরা সবাই আল্লাহর দাস; এখানে কোন অহংকার নিয়ে দাঁড়ানো যাবে না; পাশের ব্যক্তি ভিখারী হলেও তার সাথে মিলে মিশে দাঁড়াতে হবে। কাল কেয়ামতের মাঠে কারো গায়েই দামী পোশাক বা গলায় দামী নেকলেস থাকবে না, যা দ্বারা আভিজাত্য প্রকাশ পাবে। সবাই আল্লাহর সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকব। ভয়ে সবার অবস্থা এমন হবে যে, কেউ কারো দিকে তাকানোর সময় পাবে না। ইয়অ নফসী, ইয়া নফসী করতে করতে গলা কাঠ হয়ে যাবে!!!

আসুন আমরা মাযহাবের অন্ধ গোঁড়ামি থেকে নিজেদের মুক্ত করে এক ইসলামের পতাকার নীচে মাথা নত করি।

পরবর্তী আলোচনায় আর একটি উদাহরণ দিয়ে আমার আলোচনা শেষ করব, আশা করি আপনারা আমার সংগেই থাকবেন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,১২০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. পড়ে মনে হলো মাজহাবীরা না। বরং আপনি আপনার ঐ ভাইয়ের অন্ধ অনুসরণ করছেন। আরে ভাই মানুষের উপর কেন? নিজে একবার মাজহাবের কিতাব গুলো দলিল সহ পড়েন না।

    মামুন

    @দ্য মুসলিম, ভাইজান আমরা মাযহাব মাযহাব করতে করতে গলা শুকিয়ে ফেলছি কেন? ইমাম হাজার আসকলানী, ইমাম বুখারী তাঁদের যে সকল সহীহ দলিল পেশ করেছেন আপনার যদি তার বিপরীত দলিল থাকে পেশ করুন। আমি বড় ভাইকে দেখাই। বড় ভাই বলেন,
    ভাই আমি অন্ধ অনুসরণ করিনা, যদি করতাম ব্লগে আসতাম না। এখানে এসেছি দেখতে যে আমার পক্ষে সহীহ দলীল আছে কি না।
    মাযহাবি কিতাব আমার কাছে সহীহ দলীল নয়, যদি তা-ই হতো তা’হলে আমি মাযহাব না মানার কিতাবকেও সহীহ দলিল মনে করতাম। আবার আটরশির পীর সাহেবের লেখা বই পড়ে তার ভক্ত হয়ে যেতাম। ইসলামে আজ যে দলাদলি, তাদের প্রত্যেকের সাপক্ষে অত্যন্ত শক্তিশালী দলিল রয়েছে। সবাই তাদের নিজেরটা নিয়ে খুশী। আমি মাযহাবী ঝগড়া পরিহার করে সঠিক ও ভুল নিয়ে আলোচনা করতে চাই। যদি কেউ মনে করে আমাদের মাযহাবে কোন ভুল নাই তা’হলে সে অবশ্যই দলীল পেশ করবে। অহেতুক কথা বলা ঠিক নয়।

    আমাদের দলিল বলতে ফতোয়ার বইকেই প্রাধান্য দেই, যেমন আপনি বললেন ‘মাযহাবের কিতাব’ যেখানে আমি আশা করছিলাম ‘সহীহ হাদীস’। সহীহ হাদীসের মুকাবেলায় ফতোয়া বাতিল একথা ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) নিজ মুখে বলেছেন। আমি ওনার এই কথাটাকে শ্রদ্ধা করি। আর যারা মাযহাব মাযহাব বলে কপাল টাকায় তারা ইসলামকে ভাগাভাগির পক্ষে। সহীহ হাদীস অস্বীকার করে নিজেদের কেন আমরা আহলে সুন্নাত বলে পরিচয় দিব?

    অন্ধ অনুসরণ হচ্ছে, শালিস বিচার মানার পরেও তালগাছটাকে নিজের দাবী করা। হাদীসের সনদ মতন সবই দেখতে হবে। এছাড়া হাদীসের স্তর গুলোকেও প্রাধান্য দিতে হবে। এক হাদীসে আছে বললেই সেটা দলীল হবে না। দেখতে হবে সটা সহীহ কি-না। এসব আমাদের মতো লোক কিছুতেই নির্ণয় করতে পারবে না। যারা যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীসগণ রয়েছেন তাঁরাই প্রমাণ করে দিবেন। আমরা শুধু তাদের বই পড়লেই জানতে পারব এবং ডিসিশন নিতে পারব।

    আমরা যখনই সহীহ হাদীসের সাথে পেরে উঠি না তখনই মাযহাবকে টেনে সামনে আনি। আল্লাহ আমাদের বলেছেন কুরআন এবং সুন্নাহকে আকড়ে ধরতে মাযহাবকে নয়। কারন মাযহাবে মাযহাবে মত পার্থক্য রয়ে গেছে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, তোমাদের নেতাদের অনুসরণ কর, আর যদি তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয় তবে ফিরে আস আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে। আমি দেখতে পাচ্ছি মাযহাবে মাযহাবে বড়ই গ্যাঞ্জাম রয়েছে। যদি হাম্বলী মাযহাব বলে ইমামের পিছনে সুরা ফাতিহা ছাড়া নামায হবে না, আমরা বলি সুরা ফাতিহা পড়া নাজায়েজ। সম্পূর্ণ কন্টাডেক্টরী অথচ আমরা একথাও বলি ‘চার মাযহাবের’ একটা মানলেই হবে। মুখে এক আর কাজে আরেক হলে তো আমরা সত্যই গোমরাহীর মধ্যে দিনাতিপাত করছি।

    উপরোক্ত হাদীসগুলির বিপক্ষে যদি কোন সহীহ দলিল থাকে তা পেশ করুন। আর যদি না থাকে স্বীকার করুন যে সহীহ দলীল নাই তবে মাযহাবের আইনে এটা বাতিল।

    আমি এসেছি সঠিক পথের সন্ধানে। কারো অন্ধ অনুসরণ করা আমার পূর্বের স্বভাব ছিল, এখন আল্লাহর অশেষ কৃপায় ধর্মীয় বই পড়ি এবং ভাল মন্দ বুঝতেও পারি। যুক্তি মানার চেষ্টা করি, অযৌক্তিক কথা পরিহার করতে চেষ্টা করি। এবং একথাও মানি যে, নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) যেখানে জন্ম গ্রহণ করেছেন তাদের আমল আর আমাদের মাযহাবীয় আমলের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ব্যাবধান।

    দ্য মুসলিম

    @মামুন, সমস্যা হলো ইসলাম সম্পর্কে যতটুকুই জানি, কিন্তু মাযহাবের বই গুলো এখন পর্যন্ত একবারও ঘেটে দেখা হয়নি। তবে জানি, আর আলিমরাও বলে থাকেন যে মাযহাবের প্রতিটি মাসআলা দলিল ভিত্তিক। এর ব্যপারে নিম্নোক্ত লিংক থেকে জানতে পারবেন। ফিকহে হানাফী। কষ্ট করে পুরোটা পড়বেন। এর বেশী যদি কিছু বলতে হয় বা পুরোপুরি দলিল পেশ করতে হয় তাহলে অনেক কিতাব ঘাটতে হবে।

    আরেকটা কথা হলোযে, আপনি আপনারঐ ভাইয়ের কাছ থেকে এসব শুনেছেন এবং বিশ্বাসও করেছেন। তেমনি আমিও আমাদের দেশের যারা নির্ভরযোগ্য আলেমদের কথা শুনি তখন তাদের উপর আস্হা রাখি। কারো না কারো উপরতো আস্হা রাখতেই হবে, তাইনা? যদি ভবিষ্যতে আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দেন তখন হানাফী মাজহাবের দলিল গুলো নিয়ে পড়াশোনা করবো।
    আমরা সকলেই জান্নাতে যেতে চাই, চাই বিদআত থেকে বেঁচে থাকতে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মনের সকল ভালো আশা গুলোকে পুরণকরে দিন। আমিন।