লগইন রেজিস্ট্রেশন

“সকল প্রকার বিদ’আতই গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক প্রকার ভ্রষ্টতার পরিনামই জাহান্নাম।”

লিখেছেন: ' মামুন' @ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০১০ (১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ)

    বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম

    বিদ’আত কাকে বলে এ বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। অনেকের ধারণা যা আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর যুগে ছিল না তা-ই বিদ’আত। আবার অনেকে মনে করেন বর্তমান নিয়মতান্ত্রিক মাদ্রাসা শিক্ষা পদ্ধতি একটি বিদ’আত, বিমানে হজ্জে যাওয়া বিদ’আত, মাইকে আজান দেয়া বিদ’আত ইত্যাদি। এ সকল দিক থেকে বিবেচনা করে তারা বিদ’আতকে নিজেদের খেয়াল খুশি কত দুই ভাগে ভাগ করে কোনটাকে হাসানাহ (ভাল বিদ’আত) আবার কোনটাকে সাইয়্যেআহ (মন্দ বিদ’আত) বলে চালিয়ে দেন। আসলে বিদ’আত সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে এ বিভ্রান্তি।

    ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় বিদ’আতের সংজ্ঞা হলঃ</strong
    'যা কিছু আল্লাহর দ্বীনে নতুন সৃষ্টি করা হয় অথচ এর সমর্থনে কোন ব্যাপক বা বিশেষ দলীল প্রমাণ নেই।"
    অর্থাৎ নব সৃষ্ঠ বিষয়টি অবশ্যই ধর্মীয় ব্যাপারে হতে হবে। যদি ধর্মীয় ব্যাপার ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে নব-আবিস্কৃত কিছু দেখা যায় তা শরীয়তের পরিভাষায় বিদ'আত বলে গণ্য হবে না, যদিও শাব্দিক অর্থে তা বিদ'আত ।"

    এ প্রসঙ্গে আবুল হাসান আলী নদভী (রহঃ) তার 'শিরক ও বিদ'আত' কিতাবে বিদ'আতের পরিচ্ছন্ন সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। তা হলঃ যে বিশ্বাস বা কাজ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেননি কিংবা পালন করার নির্দেশ দেননি সেই ধরনের বিশ্বাস বা কাজকে দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত করা, এর অঙ্গ বলে সাব্যস্ত করা, সাওয়াব বা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করে এই ধরনের কাজ করার নাম বিদ'আত।

    হাদীস উল্লেখ আছে, “আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল কারীম (সাঃ) বলেছেনঃ যে আমাদের ধর্মে এমন কোন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে যা ধর্মে অন্তর্ভূক্ত ছিল না তা প্রত্যাখ্যাত হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

    রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেছেনঃ “সকল নব-আবিস্কৃত (দীনের মধ্যে) বিষয় হতে সাবধান! কেননা প্রত্যেকটি নব-আবিস্কৃত বিষয় বিদ’আত, আর প্রত্যেকটি বিদ’আত হল পথভ্রষ্টতা। (আবূদাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও বাইহাকী)

    এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হল যে, নতুন আবিস্কৃত বিষয়টি যদি ধর্মের অন্তর্ভূক্ত বলে ধরে নেয়া হয় তাহলে তা বিদ’আত ও প্রত্যাখ্যাত।

      “যে ব্যক্তি এমন কাজ করল যার প্রতি আমাদের (ইসলামের) নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” (মুসলিম)

    এ হাদীসে “যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই” বাক্যটি দ্বারা এ কথা বুঝানো হয়েছে যে, বিষয়টি ধর্মীয় হতে হবে। ধর্মীয় বিষয় হিসাবে নতুন ‘আমল করলেই বিদ’আত হবে। যারা মাইকে আজান দেন তারা জানেন যে, মাইকে আজান দেয়ার কোন মর্যাদা নেই বা আজানে মাইক ব্যবহার করা সাওয়াবের কাজ বলে তারা মনে করনে না। এমনি ভাবে বিমানে হজ্জে যাওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসার প্রচলন, নাহু সরফের শিক্ষা গ্রহণ প্রভৃতি বিষয় ধর্মীয় বিষয় বলে মনে করা হয় না, তাই তা বিদ’আত হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

    অনেকেই বিদ’আতকে এড়িয়ে যাবার জন্য বিদ’আতকে দু’ভাগে ভাগ করার চেষ্টা করেন। বিদ’আতে হাসানাহ ও বিদ’আতে সাইয়্যেআহ। সত্যি কথা হল বিদ’আতকে এভাবে ভাগ করাটা হল আরেকটি বিদ’আত এবং তা হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পরিপন্থী।

    যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “সকল নব-আবিস্কৃত (দ্বীনের মধ্যে) বিষয় হতে সাবধান! কেননা প্রত্যেকটি নব-আবিস্কৃত বিষয় বিদ’আত আর প্রত্যেকটি বিদ’আত হল পথভ্রষ্টতা।” (আবূদাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও বাইহাকী)
    এখন যদি বলা হয়ে কোন কোন বিদ’আত আছে যা হাসানাহ বা উত্তম, তাহলে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ হাদীসবিরোধী হয়ে যায়।

    ইমাম মালিক (রঃ) বলেছেনঃ

      যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন বিদ’আতের প্রচলন করে আর ইহাকে হাসানাহ বা ভাল মনে করে, সে যেন প্রকারান্তরে এ বিশ্বাস পোষণ করে যে মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর পয়গাম পৌঁছাতে খিয়ানাত করেছেন। কারণ আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলেনঃ ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণ করে দিলাম।’ সুতরাং রাসূল (সাঃ) এর যুগে যা ধর্ম রূপে গণ্য ছিল না আজও তা ধর্ম বলে গণ্য হতে পারে না।

    তাই বিদ’আতে হাসানাহ বলে কিছু নেই। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “সকল প্রকার বিদ’আত গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা।”

    আবার অনেক উলামায়ে কিরাম বিদ’আতকে অন্যভাবে দু’ভাগে ভাগ করে থাকেন। তারা বলেন বিদ’আত দু’প্রকার। ০১) বিদ’আত ফিদ্দীন বা ধর্মের ভিতর বিদ’আত, ২) বিদ’আত লিদ্দীন অর্থাৎ ধর্মের জন্য বিদ’আত। প্রথমটি প্রত্যাখ্যাত আর অন্যটি গ্রহণযোগ্য।

    আমার মতে এ ধরণের ভাগ নিস্প্রয়োজন, বরং বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে সহায়ক। কারন আল্লাহ রাসূল (সাঃ) তো বলেই দিয়েছেন “সকল প্রকার” বিদ’আত পথভ্রষ্টতা বা গোমরাহী। এতে উভয় প্রকার বিদ’আতই শামীল।

    অনেকে বিদ’আত ফিদ্দীন করে বলবেন, আমি যা করেছি তা হল বিদ’আত লিদ্দীন। যেমন কেহ মীলাদ পড়লেন। অতঃপর যারা এর প্রতিবাদ করলেন তাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়ে অনেক দূরে যেয়ে বললেন, মীলাদ পড়া হল বিদ’আতে লিদ্দীন। এর দ্বারা মানুষকে ইসলামের পথে ডাকা যায়।

    আসলে যা বিদ’আতে লিদ্দীন বা দ্বীনের স্বার্থে বিদ’আত তা শরীয়তের পরিভাষায় বিদ’আতের মধ্যে গণ্য করা যায় না। সেগুলোকে সুন্নাতে হাসানাহ হিসাবে গণ্য করাটাই হাদীসে রাসূল দ্বারা সমর্থিত।

    সুতরাং বিদ’আত এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন ও প্রচলন নিষিদ্ধ।

    মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হক কথার পর আর সবই ভ্রান্তি।” (সূরা ইউনুসঃ ২২)

    তিনি আরো বলেন, “এ কিতাবে আমি কোন কিছু বাদ দেইনি।” (সূরা আল-আন’আমঃ ৩৮)

    “আর আমার এ পথ সরল ও মজবুত। কাজেই তোমরা এ পথেই চল। এছাড়া অন্য সব পথে চলো না, তোমাদেরকে তা আল্লাহর পথ থেকে বিচু্যত করে দিবে।” (সূরা আল-আন’আমঃ ১৫৩)

      “তোমরা যদি কোন ব্যাপারে পরস্পর মতবিরোধ করো তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ কর” (সূরা, আন-নিসাঃ ৫৯) অর্থাৎ কুরআন সুন্নাহের দিকে।

    জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন ভাষণ দিতেন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর কন্ঠস্বর উচ্চতর হয়ে যেত এবং তাঁর রাগ বৃদ্ধি পেত, যেন কোন সেনাবাহিনীকে তিনি সতর্ক করছেন। তিনি বলতেনঃ আল্লাহ তা’আলা তোমাদেকে সকাল-সন্ধ্যায় ভাল রাখুন। তিনি আরো বলতেনঃ কিয়ামাতসহ আমাকে এভাবে পাঠান হয়েছে। এ কথা বলে তিনি তাঁর মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল মিলাতেন। তিনি আরো বলতেনঃ তারপর সবচেয়ে উত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সবচেয়ে উত্তম পথ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাঃ) এর পথ। (ইসলামের ব্যাপারে) নতুন বিষয়গুলো (অর্থাৎ- নতুন বিষয় তৈরি করা) সবচেয়ে খারাপ এবং সকল বিদ’আতই পথভ্রষ্টতা। তারপর তিনি বলতেনঃ প্রত্যেক মু’মিনের জন্য আমি তার নিজের চেয়ে অধিক নিকটতম। যে লোক কোন মাল রেখে যায় তা তার পরিবারবর্গের জন্য। আর যে লোক ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে যায় তার দায়িত্ব আমারই উপার।” (মুসলিম হাঃ ৮৬৭)

    সুতরাং আসুন আমরা বিদ’আত পরিহার করি। যা ইসলামে নাই তার প্রচলন থেকে বিরত হই। যারা ইসলামের মধ্যে নব-পদ্ধতির প্রচলন করে তাকে বিদ’আতে হাসানাহ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন তাদের কাছ থেকে দূরে থাকি। বিদ’আতে হাসানা এবং বিদ’আতে সাইয়্যেয়াহ জাতীয় ফিতনা থেকে আল্লাহ আমাদের পরিত্রান করুন। আমীন

    Processing your request, Please wait....
    • Print this article!
    • Digg
    • Sphinn
    • del.icio.us
    • Facebook
    • Mixx
    • Google Bookmarks
    • LinkaGoGo
    • MSN Reporter
    • Twitter
    ২২১ বার পঠিত
    1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

    ১ টি মন্তব্য