লগইন রেজিস্ট্রেশন

স্বাগতম মাহে রমযান

লিখেছেন: ' mamunipc' @ বুধবার, জুলাই ২৭, ২০১১ (১:১৯ অপরাহ্ণ)

রমজান হিজরী বছরের নবম মাস। এই মাসটি বারো মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত মাস। যারা সারা বছর আরবি মাসের হিসাব রাখেন না এমন সব মুসলমানগণও এই মাসটির হিসাব রাখেন। রমজান মাস আগমনে অধিকাংশ মুসলমানের হৃদয়ে স্পন্দন জাগ্রত হয়, তারা আনন্দিত হন এই ভেবে যে, রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবার এসেছে মাহে রমজান। তারা রমজানকে স্বাগতম জানায়।
পক্ষান্তরে এমন কিছু মুসলমান রয়েছে, তাদের নিকট রমজান বিপদের মাস। তারা এই মাসকে স্বাগতম জানায় না। বরং খোব প্রকাশ করে, মনে মনে ঘৃণা করে ইসলামের এই চতুর্থ বিধানটিকে। তারা রমজান মাসকে শাস্তি মনে করে। অনেকে রোগের বাহানা দেখিয়ে রমজানের রোজা রাখা থেকে বিরত থাকে। এই ক্ষেত্রে কথা হলো একজন মুসলিম চিকিৎক যদি মনে করেন যে, রোজা রাখলে তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে, তখন তিনি রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতে পারবে। আমাদের উচিত হবে এই বরকত পূর্ণ মাসটিকে যথার্থ গুরুত্ব দিয়ে বরণ করা। এই মাসের সম্মান রক্ষা করা। এ মাসটি প্রতি বছরই সুন্দর, সংযত জীবনযাপনের বার্তা নিয়ে আসে আমাদের মাঝে। আমরা এ পবিত্র মাসের আগমনকে স্বাগত জানাই। বিশ্বমুসলিম অশেষ শ্রদ্ধা এবং প্রাণের অফুরন্ত আবেগ নিয়ে পবিত্র এ মাসকে বরণ করে নেয়। মুসলিম নারী ও পুরুষের জীবনে খুবই আকাঙ্খিত এ মাস। পুতপবিত্র এ মহান মাসের মধ্যে রয়েছে অশেষ কল্যাণ, মহামুক্তির শাশ্বত বার্তা। মহামহিম, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা এ মাসের প্রতিটি দিন-মুহূর্তকে সিয়াম বা সংযম সাধনার জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার যৌন সঙ্গম এবং যাবতীয় অপবিত্র, অশোভন, অমার্জিত অন্যায় কর্ম হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকার বিধান দেয়া হয়েছে। অবিচ্ছিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে, সংযম সাধনা অর্থাৎ ‘নফ্সকে নিয়ন্ত্রণ করে স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয় মাহে রমজান। একান্তভাবে অবনমিত, সমর্পিত হওয়ার এ শিক্ষা। পবিত্র রমজানের সংযম সাধনার মধ্যে রয়েছে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য সিয়াম এক মহা নিয়ামত। রমজানের এ সংযম সাধনার মধ্যে মানুষের জন্য রয়েছে অশেষ কল্যাণ ও উপকার। স্বাস্থ্যগতভাবে এবং মানসিক উৎকর্ষের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। সিয়ামের মাধ্যমে আত্মিক-নৈতিক উন্নতি ঘটে। হিংসা-ঈর্ষা, প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত হয়ে আপন আপন অবস্থান থেকে বিশ্বমানব সমাজ ও সম্প্রদায়কে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য পবিত্র রমজান এক নিয়ামক শক্তি। পবিত্র এ মাসে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। আর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণেই এই মাসের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মর্মে মহান আল্লাহ বলেন: রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ্ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। (সূরা বাকারা: ১৮৫)
এ মাসের মধ্যেই রয়েছে লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন,
১ ) আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।
২ ) শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?
৩ ) শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেন্ঠ।
৪ ) এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
৫ ) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কদর)
বিশ্বনবী, রাসূল (সা.) বিশ রোজার পর প্রতিটি বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অন্বেষণের তাগিদ দিয়েছেন। সূর্যোদয়ের পূর্ব মুহূর্ত হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা, ইফতার এবং সেহরির মধ্যেই কেবল মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সীমাবদ্ধ নয়। সারাদিন রোজা রাখা, সময়মতো ইফতার করা, সেহরি গ্রহণ করা, তারাবীর নামায আদায় করা- এ গুলোতো পালন করতেই হবে। এসবের কোনো কোনোটি বাধ্যতামূলক, কোনো কোনোটি বিধেয়। মিথ্যা এবং সকল অন্যায়-অনাচার হতে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। অন্যের ওপর জুলুম করা হতে, অপচয় হতে বিরত থাকা সিয়াম সাধনার অন্যতম প্রধান দাবি। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, আমাদের সমাজে প্রায় প্রতিবছরই দেখা যায়, রোজার মাসে অন্যায়ভাবে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করা হয়। অধিক মুনাফা লাভের সুযোগ খোঁজেন একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। যা ঘোরতর অন্যায়। মুসলমানের জন্য হারাম, একেবারেই গর্হিত কাজ। কালোবাজারি, মজুদদারি করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে আরও বেশি কিভাবে লোটা যায়- আমরা সেই প্রতিযোগিতা করি। বাহারি ইফতারি খেয়ে কিভাবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারি কেউ কেউ সেই প্রতিযোগিতাও করে থাকি। রমজানের রোজার শিক্ষার মধ্যে রয়েছে গরীব দুঃখিদের ক্ষুধার জ্বালা অনুভূত হওয়া, আর আমাদের মধ্যে চলে বেশি মূল্যে ইফতারি খাওয়ার প্রতিযোগিতা। রমজান আসে রহমত-বরকত আর মুক্তির বার্তা নিয়ে কিন্তু দুঃখের বিষয় সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তির জন্য রমজান হয়ে যায় সাধারণের জন্য কষ্টের। রমজান হয় দুঃখ ও আজাবের। এ সংস্কৃতি থেকে যদি আমরা বের না হতে পারি তা হলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে সার্থকতা খুঁজে পেলেও প্রকৃত অর্থে সার্থকতা বলতে আমাদের এ ধরনের ইবাদত বন্দেগি কোন কিছুই সামান্যতম কাজে আসবে না।

রমজানের রোজার শিক্ষার মধ্যে রয়েছে গরীব দুঃখিদের ক্ষুধার জ্বালা অনুভূত হওয়া, আমাদের মধ্যে সামর্থ্যবান, বিত্তশালীদের অনেকেই অপচয় করতে পছন্দ করেন। তারা বেশি মূল্যে ইফতারি খাওয়ার প্রতিযোগিতা করে থাকেন। সিয়াম সাধনার নামে ভোজনবিলাসে মেতে ওঠেন। যা সমীচীন নয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে পবিত্র রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয়। মানবতা উপকৃত হয়।

সংযমী জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যেকের জীবন পরিশুদ্ধ হউক। হউক পুণ্যস্নাত, পবিত্র। আল্লাহ পাক আমাদের সেই তওফিক দিন। এ আন্তরিক প্রার্থনা ব্যক্ত করে আমরা খোশ আমদেদ জানাই মাহে রমজানকে । স্বাগতম মাহে রমজান।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১১৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৪ টি মন্তব্য

  1. খুব সুন্দর হয়েছে, ধন্যবাদ আপনাকে।

    mamunipc

    @মুসাফির, আপনাকেও ধন্যবাদ, সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

  2. খুভ ভাল লিখেছেন মাশা আল্লাহ। অনেক ধন্যবাদ জাযাকাল্লাহু খায়রান। (F)

    mamunipc

    @habib008, আল্লাহ আপনাকেও উত্তম যাজা প্রদান করুন। আমীন