লগইন রেজিস্ট্রেশন

***জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত: ইসলাম***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ শনিবার, নভেম্বর ৩, ২০১২ (১০:০৫ পূর্বাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্সালাতু ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহ।
আল্লাহ তা‘আলা অবিশ্বাসী (কাফিরদের) জান্নাতে প্রবেশ করা হারাম করে দিয়েছেন আর এতেই প্রমাণিত হয় আমাদের জীবনে আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত যত নিয়ামত রয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়ামত হচ্ছে ইসলাম। যখন আল্লাহ তা’আলা কোন বান্দাহকে ভালবাসেন/পছন্দ করেন তখন তিনি সেই বান্দাহকে ইসলামের উপর মৃত্যু দান করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক দোয়ায় বলেছিলেন, “হে হৃদয় পরিবর্তনের মালিক! তোমার দ্বীনের(ইসলাম) প্রতি আমাদের হৃদয়কে দৃঢ়(মজবুত করে বেধে দাও) করে দাও।”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বের একটি লক্ষণ হিসেবে আমাদের জানিয়েছেন যে, “একজন ব্যক্তি সকাল বেলায় মুসলিম হিসেবে ঘুম থেকে জাগ্রত হবে আবার সন্ধ্যার সময় কাফির হয়ে যাবে অথবা সকাল বেলায় সে কাফির থাকবে আর সন্ধ্যায় মুসলিম হয়ে যাবে।”
যার প্রমাণ আজ আমরা আমাদের চারপাশে দেখতে পাচ্ছি, যা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, শুবুহাত (সন্দেহ, নিন্দা ও মিথ্যা) এবং শাহাওয়াত ( অন্যায়ভাবে কোন কিছু পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা) এর উপর ভিত্তি করে মানুষ প্রতিনিয়ত দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমাদের জীবনে যাবতীয় বিষয় সমূহ একবার নষ্ট/ধ্বংস হয়ে গেলে কোন না কোন উপায়ে তার বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কিন্তু ‘দ্বীন ইসলাম’ এর কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই।

আল্লাহ তা‘আলা তার প্রিয় বান্দাহদের ইসলামের উপর মৃত্যু দান করবেন, আর আল্লাহর এই প্রিয় বান্দাহদের প্রধানতম লক্ষণ হচ্ছে, তারা আল্লাহর আনুগত্য করাতেই আনন্দিত হয়, যখনই তারা আল্লাহ তা‘আলার একটি আদেশ পালন করে তখনই তারা আনন্দিত হয়। আজকে আমাদের অনেকই কোন কনসার্ট বা কোন প্রিয় দলের খেলা স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে উপভোগ করাতে চরম আনন্দিত হয় কিন্তু এই আনন্দ হওয়া তার কোন উপকারে আসছে? এই আনন্দিত হওয়ার মাধ্যমে সে তো বুঝতে পারছে না যে সে ইসলামের ভিতর আছে কিনা। ইসলামের ভিতরে থাকার একটি প্রমাণ হচ্ছে যে, যখনই আল্লাহর একটি আদেশ পালন করা হবে তখনই হৃদয় আনন্দে ভরে উঠবে।
কখনই ইবাদতকে শুধু দায়সারা ভাবে করা উচিত নয়, বরং তার এমনভাবে পালন করা উচিত যা একজনকে আরো আল্লাহ তা‘আলার নিকটবর্তী করে দিবে, আল্লাহর আনুগত্য করতে তাকে আরো বেশী প্ররোচিত করবে। আমরা যতই নাফরমানি করি না কেন এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার কোন কিছুই যায় আসে না, বরং নাফরমানি করার মাধ্যমে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হই। যে কোনভাবে ইসলামের ভিতর থেকে মৃত্যু বরণ করা কুফ্ফারদের থেকে উত্তম। পূর্ববর্তী সৎকর্মশীলদের অনেকেই এভাবে দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ! আপনার প্রতি আমার অবাধ্যতা সত্ত্বেও আপনাকে আমি ভালবাসি”। সাহাবী আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু তার মৃত্যুর পূর্বে এভাবে বলেছিলেন, “হে আল্লাহ! আমি সেই ব্যক্তি নই, যে গুণাহ থেকে মুক্ত তাই আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করছি এবং আমি সে ব্যক্তি নই, যে তোমার আনুগত্য করার ক্ষেত্রে দৃঢ় কাজেই আমি আন্তরিকভাবে তোমার সাহায্য চাইছি এবং আল্লাহর সাহায্য ও শক্তি ব্যতীত আর কোন সাহায্য ও শক্তি নেই।”

একজন ব্যক্তি যখন ফযরে বিছানা ত্যাগ করে মসজিদের দিকে ধাবিত হয়, ফযরের সালাত আদায় করে আনন্দের সাথে মসজিদ থেকে বের হয়। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ তা‘আলার দয়া ও রহমত যিনি ফযরে ঘুম থেকে উঠার তৌফিক দিয়েছেন এবং ফযরের সালাত মসজিদে আদায় করার তৌফিক দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তা’আলা যেসব বান্দাহর ভালো চান তিনি তাদেরকে ইসলামের উপর মৃত্যু দান করেন।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ দয়া ও রহমতে তিনি আমাদের মুসলিম হিসেবে পৃথিবীতে আসার সুযোগ দিয়েছেন যা এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কাজেই না চাইতেই আল্লাহ তা’আলা আমাদের যেহেতু এই সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত দান করেছেন তাই আমরা আশা করি যে আল্লাহর তা‘আলার নিকট জান্নাতের আশা করলে তিনি তা আমাদের দান করবেন।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হক কথা বুঝার তৌফিক দান করুন, আমীন।

الشيخ صالح المغامسي এর একটি লেকচার থেকে সংগৃহীত

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১১০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)