লগইন রেজিস্ট্রেশন

***সাফল্য-ব্যর্থতার ঘেরাটোপে আবদ্ধ আমরা***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ বুধবার, মার্চ ১০, ২০১০ (১২:৩৮ অপরাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

সাফল্য-ব্যর্থতা বলতে আসলে কি বুঝায় তা আমরা অনেকেই জানিনা। কোন সাফল্যটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই সাফল্য অর্জনের জন্য কি করা দরকার তা নিয়ে আমরা খুব কমই চিন্তা করি কিংবা এতই ব্যস্ত থাকি যে তা নিয়ে ভাবার সময় হয়ে উঠে না।

টাকা, সম্পদ অর্জন, বাড়ি-গাড়ি, যশ-খ্যাতি মোটামুটিভাবে সাফল্য বলতে এই কতগুলো জিনিসই আমাদের সামনে রয়েছে আর এই জিনিসগুলোর পিছনেই আমাদের জীবনের অধিকাংশ সময় বা সবটুকু সময়ই দিয়ে দিই। কে কত টাকা উপার্জন করতে পারলো আর তাদিয়ে তার জীবনে কতটুকু উন্নতি করতে পারলো সাফল্যের মাপাকাঠি হিসেবে এটাই সবচেয়ে উচুতে। সম্পদ অর্জন নিয়ে আমরা যতটা চিন্তা-ভাবনা করি এবং এর পিছনে যতটা সময় আমরা ব্যয় করি তা আর কোন ক্ষেত্রে করি না। সম্পদ দিয়ে বাড়ি-গাড়ি এর ব্যবস্থা করা হয় আর অনেক সময়ই সম্পদ কিভাবে বা কোন উপায়ে অর্জিত হলো তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না।

অমুকের ছেলে তমুক বিদ্যা অর্জন করেছে, অমুকে অমুক জায়াগায় চাকরী করছে, অমুকে ডাক্তার(টাকাই টাকা), অমুকের সন্তান এত এত টাকা দিয়ে তার অভিভাবককে সাহায্য করছে, অমুকের খুব ভাল বিয়ে করেছে, অমুক গাড়ি কিনেছে…। তমুকের এই সাফল্য পেয়েছে সুতরাং সে সঠিক পথে আছে। এই ধরণের কথাগুলো আমাদের হতাশা বৃদ্ধি করে আর আমরা দোয়া করি যেন আমরাও এই গুণগুলো অর্জন করতে পারি, হুজুর একটু দোয়া কইরেন যেন তমুক কাজে সাফল্য পাই, মুরুব্বী একটু দোয়া করবেন যেন তমুক চাকরী পাই, দোয়া করবেন যেন তমুক কাজটা হয়। এই সব করতে করতে আমরা এক সময় দুনিয়া থেকে বিদাই নেই।

আমাদের চারপাশে এই ধরণের জীবন-যাপন দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি আর ভেবে নিয়েছি এভাবেই অতিক্রান্ত করাটাই জীবনের মানে। মুসলিম হিসেবে কি করা উচিত, মুসলিমের উপর আল্লাহ প্রদত্ত কি কি দায়িত্ব বর্তায় এবং কাজগুলো কিভাবে করা উচিত তা নিয়ে ভাবার সময় আমাদের হয়ে উঠে না। উন্নত জীবনের চাকচিক্য দেখতে দেখতে আমরা আমাদের স্বকীয়তা ভুলে গেছি। পশ্চিমা বিশ্ব তথা ফাস্ট ওয়ার্ল্ড দেশগুলোর মানুষের জীবন-যাপন আমাদের আকৃষ্ট করে আর অনেক সময় আমরা ভাবতে শুরু করি তারা কত সুখী, কই তারা তো আল্লাহর কথা মানে না; তারা তো ঠিকই উন্নতি করছে, সাফল্য পাচ্ছে তাহলে আমরা পাবো না কেন? এই জায়গাটাতেই আমরা ব্যর্থ হয়ে গেছি, আর সাফল্য অর্জনের মাপকাঠি নির্ধারণ করে ফেলেছি। জীবনের সকল দিক গুলো আমারা মনুষ্য রচিত অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করি এমনকি ইসলাম কি, তাও আমরা এই জ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ফেলি আর নিজের ব্যাখ্যার বিপরীত কোন কিছু সামনে এলে তার বিরুদ্ধে তর্ক করি, এভাবেই জীবন চলে যাচ্ছে। সত্য জানার ইচ্ছা নেই, যা কিছু জানছি তাও জানছি এমন উৎস থেকে যেখানে সেই উৎস নিজেই দিকভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট।

সাফল্য-ব্যর্থতার এই ঘেরাটোপ থেকে মুক্তির চিন্তা আমরা করি না কারণ আমাদের কাছে এটাই স্বাভাবিক। জীবন চলছে, চলবে এবং এক সময় থেমে যাবে। বিদ্যা অর্জন, সম্পদ অর্জন, সম্মান অর্জন, বিবাহ অর্জন, সন্তান অর্জন, সন্তানের সাফল্য অর্জন সবশেষে মৃত্যু অর্জন(অর্জন করতে হয় না অনিবার্যভাবেই আসে)।

“যারা পার্থিব জীবনকে পরকালীন জীবনের উপর প্রাধান্য দেয়, (মানুষদের) আল্লাহর (সহজ সরল) পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়, (সর্বোপরি) এ (পথ)-টাকে (নিজেদের খেয়াল খুশিমত) বাঁকা করতে চায়, এরাই হচ্ছে সেসব লোক যারা মারাত্মক গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে”। (সূরা ইব্রাহিম: ৩)

“তোমাদেরকে বেশী বেশী ও অপরের তুলনায় অধিক পার্থিব সুখ-সম্পদ লাভের চিন্তা চরম গাফিলতির মধ্যে নিমজ্জিত করে রেখেছে। এমনকি (এই চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে) তোমরা কবর পর্যন্ত গিয়ে উপনীত হও।” (সূরা আত-তাকাসুর:১-২)।

পার্থিব জীবনের এই চিন্তাগুলো আমাদের সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং আমরা চরম গাফিলতির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছি। জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন দর্শন, বিভিন্ন পন্থা আমরা আবিস্কার করে চলেছি। একটা বিষয় বুঝতে হবে এই পৃথিবীতে যে যেভাবে চলতে চাবে সে সেভাবেই চলতে পারবে আর এটাই নিয়ম। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:

“কোন ব্যক্তি দ্রুত (দুনিয়ার সুখ সম্ভোগ) পেতে চাইলে আমি তাকে এখানে তার জন্যে যতোটুকু দিতে চাই তা সত্বর দিয়ে দিই, (কিন্তু) পরিশেষে তার জন্যে জাহান্নামই নির্ধারন করে রাখি, যেখানে সে প্রবেশ করবে একান্ত নিন্দিত, অপমানিত ও বিতাড়িত অবস্থায়। (অপরদিকে) যারা আখিরাত (এ তার সাফল্য) কামনা করে এবং তা পাওয়ার জন্য যে পরিমাণ চেষ্টা করা উচিত তেমনভাবেই চেষ্টা করে (সর্বোপরি) যারা হয় (সত্যিকার) মুমিন, (মূলত) তারাই হচ্ছে এমন লোক যাদের চেষ্টা সাধনা (আল্লাহর দরবারে) স্বীকৃত হয়।(হে নবী) আমি এদের (যারা দুনিয়া চায়) এবং ওদের (যারা আখিরাত চায়) সবাইকে তোমার মালিকের দান থেকে সাহায্য করে যাচ্ছি এবং তোমার মালিকের দান কারো জন্যই বন্ধ নয়”। (সূরা বনী ইসরাঈল:১৮-২০)

অনেকগুলো মত ও পথের মধ্যে কোনটি সঠিক তা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত পথই হচ্ছে সঠিক পথ।
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র দ্বীন(জীবন ব্যবস্থা) হচ্ছে ইসলাম”। (সূরা ইমরান:১৯)

“যদি ইসলাম ছাড়া (নিজের জন্য) অন্য কোন জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (উদ্ভাবিত) ব্যবস্থা কখনো গ্রহণ করা হবে না, পরকালে সে চরম ব্যর্থ হবে”। (সূরা ইমরান:৮৫)

অর্থাৎ মুসলমানের সাফল্য নির্ভর করবে ইসলাম তার উপর আল্লাহ প্রদত্ত যে দায়িত্ব অর্পণ করে তা সে ঠিক মতো পালন করলো কিনা আর এ পালন করার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। দুনিয়াতে সে সর্বোচ্চ শিখরে আহরন করলো, উচ্চ মর্যাদায় আসীন হলো কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত বিধান মানলো না তাহলে সে ব্যর্থ হয়ে যাবে। পার্থিব জীবনে মানুষজন তাকে হয়তো বাহবা দিবে কিন্তু সে বাহবা তাকে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

মহান আল্লাহ শান্তি ও রহমত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার পরিবার, সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত তারা যাদের অনুসরণ করবে তাদের উপর অর্পিত হোক। আমীন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৫৮ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৫ টি মন্তব্য

  1. অর্থাৎ মুসলমানের সাফল্য নির্ভর করবে ইসলাম তার উপর আল্লাহ প্রদত্ত যে দায়িত্ব অর্পণ করে তা সে ঠিক মতো পালন করলো কিনা আর এ পালন করার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। দুনিয়াতে সে সর্বোচ্চ শিখরে আহরন করলো, উচ্চ মর্যাদায় আসীন হলো কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত বিধান মানলো না তাহলে সে ব্যর্থ হয়ে যাবে। পার্থিব জীবনে মানুষজন তাকে হয়তো বাহবা দিবে কিন্তু সে বাহবা তাকে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
    (F) (F) (F) (*) (*) (Y) (Y)

  2. আলহামদুলিল্লাহ চমৎকার

  3. [...] সাজিয়ে তোলেন। তা না হলে দুনিয়ায় বাহবা পেলেও, দুনিয়ায় কোটি সম্পত্তির মালিক [...]